বিশ্ব উষ্ণায়ন: এক গভীর সংকট | অনুচ্ছেদ রচনা | মাধ্যমিক

বিশ্ব উষ্ণায়ন: এক গভীর সংকট

ভূমিকা:

বর্তমান যুগে পরিবেশের সবথেকে বড় সমস্যার নাম হলো ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন’ বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং। পৃথিবী আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল, কিন্তু আমাদেরই অসাবধানতায় এই সুন্দর পৃথিবী আজ জ্বরে আক্রান্ত রোগীর মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে দূষণ বাড়ছে, আর তার ফলেই দেখা দিয়েছে এই সংকট।

বিশ্ব উষ্ণায়ন কী?

সহজ কথায়, পৃথিবীর বাতাসের গড় তাপমাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকেই ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন’ বলা হয়। সূর্যের তাপ পৃথিবীতে আসে, কিন্তু বাতাসের দূষিত গ্যাসের চাদর সেই তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয়। ফলে পৃথিবী একটি ‘গ্রিনহাউস’ বা কাঁচের ঘরের মতো গরম হয়ে উঠছে।

উষ্ণায়নের কারণ

বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রাকৃতিকভাবে ঘটছে না, এর পেছনে মূল দায়ী মানুষ। এর প্রধান কারণগুলি হলো:

  • ১. গ্যাসের প্রভাব: বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন এবং ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC)-এর মতো বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এই গ্যাসগুলোই তাপ আটকে রাখে।
  • ২. গাছ পালা ধ্বংস: গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নেয়। কিন্তু মানুষ ঘরবাড়ি ও কলকারখানা তৈরির জন্য নির্বিচারে বনজঙ্গল কেটে ফেলছে। ফলে বাতাস গরম হচ্ছে।
  • ৩. কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া: কয়লা, পেট্রোল ও ডিজেল পোড়ানোর ফলে কলকারখানা ও গাড়ি থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হয়, যা বাতাসকে দূষিত ও উত্তপ্ত করছে।

পরিবেশের ওপর প্রভাব

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলাফল খুবই ভয়াবহ। এর প্রভাবে:

  • বরফ গলে যাওয়া: পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বিশাল বরফ এবং পাহাড়ের হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে।
  • সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি: বরফ গলার ফলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা বাড়ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এর ফলে আগামী দিনে মালদ্বীপ বা আমাদের সুন্দরবনের মতো নিচু এলাকাগুলো জলের তলায় তলিয়ে যেতে পারে।
  • আবহাওয়ার পরিবর্তন: ঋতুচক্র বদলে যাচ্ছে। যখন তখন বন্যা, খরা বা ‘আমফান’, ‘ইয়াস’-এর মতো ঘূর্ণিঝড় দেখা দিচ্ছে।
  • রোগব্যাধি: গরম বাড়ার সাথে সাথে নানা ধরণের অসুখ ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।

প্রতিকারের উপায়

এই বিপদ থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে:

  • ১. গাছ লাগানো: গাছই পারে পৃথিবীকে বাঁচাতে। তাই গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং ‘একটি গাছ, একটি প্রাণ’ মন্ত্র মেনে প্রচুর গাছ লাগাতে হবে।
  • ২. দূষণ কমানো: কয়লা বা তেলের ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি বা বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
  • ৩. সচেতনতা: শুধু আইন করে নয়, মানুষকে নিজের থেকেই সচেতন হতে হবে পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য।

উপসংহার

পৃথিবী আমাদের মায়ের মতো। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী রেখে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে শপথ নিই—দূষণ কমাবো, গাছ লাগাবো এবং পৃথিবীকে বাসের যোগ্য করে তুলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গুরুত্বপূর্ণ নোটস এবং সাজেশনের আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন।

সমস্ত বিষয়ের PDF নোটস এবং পরীক্ষার সাজেশন বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন।