ছন্দে শুধু কান রাখো
অজিত দত্ত
১. অনধিক দুটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
১.১ “মন্দ কথায় কান দিও না”— মন্দ কথার প্রতি কবির কীরূপ মনোভাব কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে?
উত্তর: মন্দ কথা বা কটু কথা মানুষের মনঃসংযোগ নষ্ট করে এবং ছন্দের অনুভূতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই কবি মন্দ কথার প্রতি বিরূপ বা নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন এবং তাতে কান দিতে নিষেধ করেছেন।
১.২ “কেউ লেখেনি আর কোথাও”— কোন লেখার কথা এখানে বলা হয়েছে?
উত্তর: নদীর স্রোত যে ছড়া বা ছন্দ তৈরি করে, সেই অপার্থিব ও অনন্য লেখার কথা এখানে বলা হয়েছে। কবি মনে করেন, নদীর স্রোতের এই ছন্দ বা ছড়া পৃথিবীর আর কোথাও লেখা হয়নি।
১.৩ “চিনবে তারা ভুবনটাকে”— কারা কীভাবে ভুবনটাকে চিনবে?
উত্তর: যারা কান ও মন দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত ছন্দ ও সুর অনুভব করতে পারবে, তারাই এই ভুবন বা পৃথিবীকে প্রকৃতভাবে চিনতে পারবে।
১.৪ “পদ্য লেখা সহজ নয়”— পদ্য লেখা কখন সহজ হবে বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: যখন কেউ ছন্দে কান দিয়ে এবং মন দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত কিছুর ছন্দ অনুভব করতে পারবে, তখনই তার পক্ষে পদ্য লেখা সহজ হবে বলে কবি মনে করেন।
১.৫ “ছন্দ শোনা যায় নাকো”— কখন কবির ভাবনায় আর ছন্দ শোনা যায় না?
উত্তর: সমস্ত দ্বন্দ্ব বা বিবাদ ভুলে মন না দিলে, অর্থাৎ মন যদি বিক্ষিপ্ত থাকে বা দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে, তখন আর ছন্দ শোনা যায় না।
২. বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণে ও বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে পরিবর্তন করো এবং বাক্য রচনা করো:
- ঝড় (বিশেষ্য) > ঝোড়ো (বিশেষণ): আজ বিকেলে খুব ঝোড়ো হাওয়া বইছে।
- মন (বিশেষ্য) > মানসিক (বিশেষণ): তার মানসিক জোর খুব বেশি।
- ছন্দ (বিশেষ্য) > ছন্দময় (বিশেষণ): প্রকৃতি আজ বড়ই ছন্দময় হয়ে উঠেছে।
- দিন (বিশেষ্য) > দৈনিক (বিশেষণ): খবরের কাগজ পড়া আমার দৈনিক অভ্যাস।
- সুর (বিশেষ্য) > সুরেলা (বিশেষণ): মেয়েটির গলা খুব সুরেলা।
- সংকেত (বিশেষ্য) > সাংকেতিক (বিশেষণ): তিনি সাংকেতিক ভাষায় কথা বলছেন।
- দ্বন্দ্ব (বিশেষ্য) > দ্বন্দ্বমূলক (বিশেষণ): তাদের মধ্যে একটি দ্বন্দ্বমূলক সম্পর্ক রয়েছে।
- মন্দ (বিশেষণ) > মন্দত্ব (বিশেষ্য): লোকটির স্বভাবের মন্দত্ব সবাইকে পীড়া দেয়।
- ছন্দহীন (বিশেষণ) > ছন্দহীনতা (বিশেষ্য): জীবনের ছন্দহীনতা মানুষকে হতাশ করে তোলে।
- পদ্যময় (বিশেষণ) > পদ্যময়তা (বিশেষ্য): রচনার পদ্যময়তা পাঠককে মুগ্ধ করে।
- সহজ (বিশেষণ) > সহজতা (বিশেষ্য) / সহজিয়া: বিষয়ের সহজতা ছাত্রদের বুঝতে সাহায্য করে।
৩. নীচের শব্দগুলিকে আলাদা আলাদা অর্থে ব্যবহার করে দুটি করে বাক্য লেখো:
- মন্দ: (খারাপ): কারো সম্পর্কে মন্দ কথা বলা উচিত নয়।
- মন্দ: (ধীরে/কম): বাতাসের গতি এখন কিছুটা মন্দ।
- দ্বন্দ্ব: (ঝগড়া/বিবাদ): ভাইয়ে-ভাইয়ে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে।
- দ্বন্দ্ব: (মিলন/সমাস): ব্যাকরণে দ্বন্দ্ব সমাস আছে।
- তাল: (ফল): ভাদ্র মাসে পাকা তাল পাওয়া যায়।
- তাল: (গানের মাত্রা): গান গাইতে গেলে তাল জ্ঞান থাকা দরকার।
- ডাক: (আহ্বান): মায়ের ডাক শুনে সে দৌড়ে গেল।
- ডাক: (চিঠিপত্র): পিয়ন ডাক দিয়ে গেল।
- বাজে: (খারাপ): বাজে বকবে না, কাজ করো।
- বাজে: (ধ্বনি হওয়া): স্কুলের ঘণ্টা বাজে।
৪. নীচের শব্দগুলি কোন মূল শব্দ থেকে এসেছে লেখো:
- জ্যোছনা: জোছনা < জ্যোৎস্না (তৎসম শব্দ)।
- চাকা: চাকা < চক্ক < চক্র (তৎসম শব্দ)।
- কান: কান < কান্না < কর্ণ (তৎসম শব্দ)।
- দুপুর: দুপুর < দুপহর < দ্বিপ্রহর (তৎসম শব্দ)।
৫. কবিতার ভাষা থেকে মৌখিক ভাষায় রূপান্তরিত করো:
- ৫.১) ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে: ঝড়-বৃষ্টিতেও ছন্দ আছে।
- ৫.২) ছন্দে বাঁধা রাত্রি দিন: দিন এবং রাত্রি ছন্দে বাঁধা (বা দিন-রাত ছন্দের বাঁধনে বাঁধা)।
- ৫.৩) কিছুটি নয় ছন্দহীন: কোনো কিছুই ছন্দহীন নয় (সব কিছুরই ছন্দ আছে)।
- ৫.৪) চিনবে তারা ভুবনটাকে/ছন্দ সুরের সংকেতে: তারা ছন্দ ও সুরের সংকেতের মাধ্যমে পৃথিবীটাকে চিনবে।
- ৫.৫) কান না দিলে ছন্দে জেনো/পদ্য লেখা সহজ নয়: জেনে রেখো, ছন্দে কান না দিলে পদ্য লেখা সহজ নয়।
৬. ‘কান’ শব্দটিকে পাঁচটি বিশেষ অর্থে ব্যবহার করে বাক্য লেখো:
- শ্রবণেন্দ্রিয়: তার কানে একটু কম শোনে।
- মনোযোগ: শিক্ষকের কথায় কান দাও।
- চুগলি করা/কু-পরামর্শ: সে আমার বিরুদ্ধে বাবার কান ভাঙাচ্ছে।
- টানা/শাস্তি: দুষ্টুমির জন্য স্যার ছাত্রটির কান মলে দিলেন।
- লজ্জা পাওয়া: লজ্জায় তার কান লাল হয়ে গেল।
৭. ‘ঝড়-বাদল’— এমনই সমার্থক বা প্রায়-সমার্থক শব্দ দিয়ে তৈরি পাঁচটি শব্দ লেখো:
১. দিন-রাত ২. হাসি-কান্না ৩. আকাশ-পাতাল ৪. নদ-নদী ৫. পথ-ঘাট
(বা সমার্থক চাইলে: ঝড়-ঝঞ্ঝা, বৃষ্টি-বাদল, ভয়-ডর, লোক-লস্কর, চাল-চলন)
১০. সমার্থক শব্দ লেখো:
- জল: পানি, নীর, সলিল।
- দিন: দিবস, দিবা।
- রাত্রি: রাত, রজনী, নিশা।
- নদী: তটিনী, প্রবাহিনী, সরিৎ।
- ভুবন: পৃথিবী, জগৎ, ধরা।
১১. শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য দেখাও:
- দিন (দিবস) — দীন (দরিদ্র/গরিব)।
- মন (চিত্ত/হৃদয়) — মণ (ওজনের একক, প্রায় ৪০ কেজি)।
- সুর (গানের স্বর/তান) — শূর (বীর)।
- সকল (সব/সমস্ত) — শকল (মাছের আঁশ বা খণ্ড)।
১২. ‘যারা-তারা’ র মতো তিনটি সাপেক্ষ শব্দজোড় তৈরি করো:
- যেমন — তেমন
- যখন — তখন
- যে — সে
(অন্য অপশন: যদি — তবে)
১৩. কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে তিনটি সর্বনাম লেখো:
কবিতায় ব্যবহৃত তিনটি সর্বনাম হলো: ১. কেউ (“কেউ লেখেনি আর কোথাও”) ২. তারা (“চিনবে তারা ভুবনটাকে”) ৩. যারা (“সকল ছন্দ শুনবে যারা”)
১৪. কবিতায় রয়েছে এমন চারটি ‘সম্বন্ধ পদ’ উল্লেখ করো:
কবিতায় ব্যবহৃত চারটি সম্বন্ধ পদ (র/এর বিভক্তি যুক্ত পদ) হলো: ১. পাখির (ডাকে) ২. নদীর (স্রোতের) ৩. ঘড়ির (কাঁটা) ৪. মনের (মাঝে) (অন্য অপশন: জলের, ঝিঁঝির)
১৫. নীচের বাক্য/বাক্যাংশের উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ আলাদাভাবে দেখাও:
১৫.১) ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে
- উদ্দেশ্য: ছন্দ
- বিধেয়: আছে ঝড়-বাদলে
১৫.২ দেখবে তখন তেমন ছড়া / কেউ লেখেনি আর কোথাও (এখানে মূল বাক্যটি হলো- কেউ আর কোথাও তেমন ছড়া লেখেনি)
- উদ্দেশ্য: কেউ
- বিধেয়: লেখেনি আর কোথাও (তেমন ছড়া)
১৫.৩ জলের ছন্দে তাল মিলিয়ে / নৌকো জাহাজ দেয় পাড়ি
- উদ্দেশ্য: নৌকো জাহাজ
- বিধেয়: জলের ছন্দে তাল মিলিয়ে … দেয় পাড়ি
১৫.৪ চিনবে তারা ভুবনটাকে / ছন্দ সুরের সংকেতে
- উদ্দেশ্য: তারা
- বিধেয়: চিনবে ভুবনটাকে ছন্দ সুরের সংকেতে
১৬. নিম্নরেখ অংশগুলির কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো:
(এই অংশটি আগেও দেওয়া হয়েছে, ক্রম বজায় রাখতে পুনরায় দেওয়া হলো)
১৬.১ ছন্দে শুধু কান রাখো — অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।
১৬.২ ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে — অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।
১৬.৩ দিন দুপুরে পাখির ডাকে — কালাধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।
১৬.৪ ছন্দে চলে রেলগাড়ি — কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
১৬.৫ চিনবে তারা ভুবনটাকে — কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (বা ‘রা’ বিভক্তি/নির্দেশক)।




