(বিকল্প নাম: জীবনের আদর্শ / ছাত্রজীবনের লক্ষ্য)
তোমার জীবনের লক্ষ্য
“লক্ষ্যহীন জীবন, হালহীন নৌকার মতো।”
ভূমিকা:
সমুদ্রে ভাসমান নাবিকের যেমন দিকনির্ণয় যন্ত্রের প্রয়োজন হয়, তেমনি জীবনসমুদ্রে পাড়ি দিতে হলে প্রতিটি মানুষের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। লক্ষ্য ছাড়া সাফল্য অর্জন অসম্ভব। ছাত্রাবস্থাতেই ঠিক করে নিতে হয় ভবিষ্যতে আমি কী হতে চাই। আমার জীবনের লক্ষ্য হলো একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া।
কেন এই লক্ষ্য নির্বাচন:
অনেকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে চায়। কিন্তু আমি মনে করি, সমাজ গড়ার আসল কারিগর হলেন শিক্ষকরা। আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আর সেই ভবিষ্যৎকে সঠিক আকার দেন একজন শিক্ষক। আমাদের দেশে আজও শিক্ষার আলো সব ঘরে পৌঁছায়নি। কুসংস্কার আর অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে আছে অনেক গ্রাম। আমি শিক্ষকতার মহান পেশার মাধ্যমে সেই অন্ধকার দূর করতে চাই।
সমাজসেবা ও দেশ গঠন:
ডাক্তাররা মানুষের শরীর সারান, কিন্তু শিক্ষকরা মানুষের মন তৈরি করেন। আমি গ্রামের কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে চাই যেখানে ছাত্রছাত্রীরা সুযোগের অভাবে পিছিয়ে আছে। তাদের কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত করাই আমার কাজ হবে না, বরং তাদের চরিত্র গঠন করা, সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার ব্রত। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ আমার আদর্শ।
প্রস্তুতি:
স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু তা বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। আমার এই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমি এখন থেকেই কঠোর পরিশ্রম করছি। মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করে আমি উচ্চশিক্ষার জন্য ভালো কলেজে ভর্তি হতে চাই। এরপর শিক্ষকতা প্রশিক্ষণের (B.Ed) মাধ্যমে নিজেকে একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলব। আমি জানি পথ কঠিন, কিন্তু আমার সংকল্প অটুট।
উপসংহার:
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন— “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” আমি শিক্ষকতার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সেবা করে দেশের সেবা করতে চাই। আমার বিশ্বাস, একজন ভালো শিক্ষক হাজার হাজার ভালো মানুষ তৈরি করতে পারেন। আর এভাবেই আমি আমার জীবনকে সার্থক করে তুলতে চাই।




