সপ্তম শ্রেণী
পঞ্চম অধ্যায়ঃ
মানুষের খাদ্য – প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্নঃ কাজ করতে গেলে কিসের প্রয়োজন হয়?
উত্তরঃ শক্তির প্রয়োজন।
প্রশ্নঃ দেহ গঠন, শক্তি উৎপাদক এবং রোগ প্রতিরোধক উপাদান এর উৎস হল __ ।
উত্তরঃ খাদ্য
প্রশ্নঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা বাড়াতে গেলে কি করা উচিত?
উত্তরঃ ভালো পুষ্টিকর ও ভিটামিন যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত এবং সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করা উচিত।
প্রশ্নঃ ঠোঁটের কোণে ও জিভে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
উত্তরঃ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
প্রশ্নঃ মাড়ি ফোলা ও রক্ত পড়া কোন ভিটামিন এর অভাবজনিত লক্ষণ?
উত্তরঃ ভিটামিন সি
প্রশ্নঃ কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয়?
উত্তরঃ ভিটামিন A
প্রশ্নঃ খাদ্যের উপাদান গুলিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কি কি?
উত্তরঃ খাদ্যের উপাদান গুলিকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন বা আমিষ, লিপিড, ভিটামিন, জল, খনিজ মৌল, খাদ্য তন্তু, উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক বা ফাইটোকেমিজ্যালস।
প্রশ্নঃ মধুমেহ বা ডায়াবেটিস কাকে বলে?
উত্তরঃ যদি রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ না করতে পারে তখন তা দেহের নানান অঙ্গ যেমন হৃৎপিণ্ড, বৃক্ক, চোখ ইত্যাদিতে জমা হয় এবং সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাকে বলা হয় মধুমেহ বা ডায়াবেটিস।
প্রশ্নঃ লোহিত রক্ত কণিকায় কোন প্রোটিন থাকে?
উত্তরঃ হিমোগ্লোবিন।
প্রশ্নঃ চুল ও নখে কোন প্রোটিন থাকে?
উত্তরঃ কেরাটিন।
প্রশ্নঃ পেশিতে কোন কোন প্রোটিন থাকে?
উত্তরঃ অ্যাক্টিন ও মায়োসিন
প্রশ্নঃ রক্ত রসে (রক্ত প্লাজমা) উপস্থিত একটি প্রোটিন এর নাম লেখ
উত্তরঃ গ্লোবিউলিন
প্রশ্নঃ দেহে অতিরিক্ত প্রোটিন জমা হলে কি সমস্যা হয়?
উত্তরঃ দেহে অতিরিক্ত প্রোটিন জমা হলে বাত, কিডনি স্টোন ও অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি হয়।
প্রশ্নঃ শর্করার কতগুলি উৎসের নাম লেখ।
উত্তরঃ
- উদ্ভিজ্জ উৎস: চাল, গম, লালশাক, নটে শাক।
- প্রাণিজ উৎস: মধু, দুধ, পাঁঠার যকৃত।
প্রশ্নঃ প্রোটিনের কতগুলি উৎকৃষ্ট উৎসের নাম লেখ
উত্তরঃ
- উদ্ভিজ্জ উৎস: চাল, ভুট্টা, লবঙ্গ, হলুদ।
- প্রাণিজ উৎস: মাছ ,মাংস , ডিম, দুধ, ছানা, কাঁকড়া, পনির ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ লিপিড এর উৎস ও কাজ লেখ।
উত্তরঃ
- উদ্ভিজ্জ উৎস : নারকেল ,কাঁঠাল, ডাল, আটা, গোলমরিচ।
- প্রাণিজ উৎস: মাছের তেল, দুধ, দই, মাংস।
- লিপিড এর কাজ : ১. লিপিড মানুষের দেহে শক্তির উৎস রূপে কাজ করে। ২. দেহকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং দেহ থেকে তাপ বেরিয়ে যাওয়া কমিয়ে দেয়।
প্রশ্নঃ শরীরে অতিরিক্ত লিপিড জমা হলে কি সমস্যা দেখা দেয়?
উত্তরঃ দেহে অতিরিক্ত লিপিড জমা হলে হৃদপিণ্ড, রক্তনালী ও যকৃতের নানান সমস্যা তৈরি হয়।
প্রশ্নঃ কোন ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?
উত্তরঃ ভিটামিন C এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
প্রশ্নঃ ভিটামিন কয় প্রকার ও কি কি? প্রত্যেক প্রকারের উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ ভিটামিন দ্রবনীয়তার উপর নির্ভর করে দুই প্রকার- যথা
- (i) তেল বা ফ্যাটে দ্রবনীয় ভিটামিন: A,D,E,K
- (ii) জলে দ্রবনীয় ভিটামিন: B কমপ্লেক্স, C
প্রশ্নঃ কোন ভিটামিন কেটে যাওয়া জায়গা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে?
উত্তরঃ ভিটামিন K
প্রশ্নঃ নিচে দেওয়া ভিটামিন গুলির উৎস লেখো।
| ভিটামিন | উৎস |
| A | পালং শাক,গাজর, টমেটো, পাকা আম ,ডিম, দুধ |
| D | মাছ, মাংস, ডিম, দুধ |
| E | কাজুবাদাম, ফুলকপি, ডিম, ভুট্টা |
| K | ডিম, কাঁচা মটরশুঁটি, দুধ, পালং শাক, ফুলকপি |
| B | অঙ্কুরিত ছোলা, টমেটো, ফুলকপি, ছোট মাছ |
| C | কাঁচা লঙ্কা, পেয়ারা, কমলালেবু |
প্রশ্নঃ নিম্নোক্ত উপসর্গগুলি কোন ভিটামিনের অভাবে দেখা যায়?
| অভাবজনিত উপসর্গ | ভিটামিনের নাম |
| 1. ঠোঁট ফেটে যাওয়া | B কমপ্লেক্স |
| 2. চোখের নিচে ও নখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া | B কমপ্লেক্স |
| 3. স্নায়ুর দুর্বলতা | B কমপ্লেক্স |
| 4. অ্যানিমিয়া ও পাতলা পায়খানা | B কমপ্লেক্স |
| 5. মাড়ি থেকে রক্ত পড়া | C |
প্রশ্নঃ কোন খনিজ মৌলের অভাবে গলগন্ড রোগ হয়?
উত্তরঃ আয়োডিন।
প্রশ্নঃ কোন খনিজ মৌল দেহে জলের পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখে?
উত্তরঃ সোডিয়াম
প্রশ্নঃ কোন খনিজ মৌল পেশির সংকোচন স্বাভাবিক রাখে?
উত্তরঃ ক্যালসিয়াম
প্রশ্নঃ কোন খনিজ মৌল কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
উত্তরঃ ক্যালসিয়াম
প্রশ্নঃ কোন খনিজ মৌলের অভাবে মানসিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়?
উত্তরঃ আয়োডিন
প্রশ্নঃ মস্তিষ্কের গঠন ও রক্তের শর্করার পরিমাণ ঠিক রাখে কোন খনিজ মৌল?
উত্তরঃ জিঙ্ক
প্রশ্নঃ কোন মৌলের অভাবে বারবার হাড় ভেঙে যাওয়া, বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়?
উত্তরঃ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস।
প্রশ্নঃ কোন মৌলের অভাবে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা রোগ হয়?
উত্তরঃ আয়রন বা লৌহ।
প্রশ্নঃ খাদ্য তন্তুর উৎস লেখ।
উত্তরঃ খাদ্য তন্তুর উৎস হল সজনে ডাঁটা, বাঁধাকপি, চাল, আপেল, বীজের খোসা, ওট ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ ফাইটোকেমিজ্যালস বা উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক আমাদের শরীরে কি সাহায্য করে?
উত্তরঃ ফাইটোকেমিজ্যালস বা উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক মানুষের খাদ্যে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকে বাঁচায়। যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড নামে এক প্রকার ফাইটোকেমিজ্যালস মানব দেহকে তাড়াতাড়ি বুড়ো হয়ে যাওয়া থেকে আটকায়। হৃদপিন্ডের কাজ ঠিক-ঠাক রাখে। হাড়কে শক্ত রাখে। ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায়।
প্রশ্নঃ আপেলের বদলে নিচের যে খাবারটি খাওয়া যেতে পারে সেটি হল- পাকা পেঁপে/ পাকা পেয়ারা/ পাকা আমড়া / পাকা কুল।
উত্তরঃ পাকা পেয়ারা।
প্রশ্নঃ মাংস বা ডিমের বদলে যে খাবারটি খাওয়া যেতে পারে সেটি হল – ডাল / সিম / ছোলা বা মটর / মাশরুম / সয়াবিন।
উত্তরঃ সয়াবিন।
প্রশ্নঃ দুধ, ছানা আর হেলথ ড্রিংকস এর বদলে যেটি খাওয়া যেতে পারে সেটি হল – ছাতুর শরবত / লেবুর জল / বেলের শরবত / চিনির শরবত।
উত্তরঃ ছাতুর শরবত।
প্রশ্নঃ আয়রন টনিক এর বদলে যেটি খাওয়া যেতে পারে সেটি হল – নটে শাক / কাঁচা পেয়ারা / সজনে পাতা / কচু শাক।
উত্তরঃ নটে শাক
প্রশ্নঃ কোন খনিজ মৌলের অভাবে চোখ ট্যারা হয় ?
উত্তরঃ আয়োডিনের অভাবে।
প্রশ্নঃ ম্যারাসমাস রোগ কিসের অভাবে হয়?
উত্তরঃ প্রোটিন ও শক্তির অভাবে।
প্রশ্নঃ কোন ভিটামিনের অভাবে রিকেট রোগ হয়?
উত্তরঃ ভিটামিন D
প্রশ্নঃ কোন ভিটামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়?
উত্তরঃ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।
প্রশ্নঃ কোয়াশিওরকর রোগের লক্ষণ কি ?
উত্তরঃ কোয়াশিওরকর রোগ হলে শিশুদের গায়ের চামড়া গাঢ় বর্ণের ও পেট ফোলা হয়। দেখে মনে হয় যেন চোখ গুলো ঠিকরে বেরিয়ে আসছে।
প্রশ্নঃ কোয়াশিওরকর রোগ কিসের অভাবে ঘটে?
উত্তরঃ খাদ্যে উপযুক্ত পরিমাণ প্রোটিনের অভাব ঘটলে 1 থেকে 4 বছর বয়সের শিশুদের অপুষ্টিজনিত কোয়াশিওরকর রোগ হয়।
প্রশ্নঃ কোন বয়সের শিশুদের ম্যারাসমাস রোগ হয়?
উত্তরঃ এক বছর বয়সের কম বয়স্ক শিশুদের প্রোটিন ও শক্তির অভাবে ম্যারাসমাস রোগ হয়।
প্রশ্নঃ কোন ভিটামিনের অভাবে জিভে ও মুখের কোণে ও মাড়িতে ঘা হয়?
উত্তরঃ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।
প্রশ্নঃ কোন ভিটামিনের অভাবে গায়ের চামড়া খসখসে হয়?
উত্তরঃ ভিটামিন A
প্রশ্নঃ দেহের ওজন বেড়ে যাওয়ার ফলে কি কি সমস্যা হতে পারে?
উত্তরঃ
- ১. রক্তচাপ ক্রমাগত বাড়তে পারে।
- ২. রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস হতে পারে।
- ৩. রক্তনালীর গায়ে লিপিড জমে রক্তনালীর ব্যাস কমে যেতে পারে।
- ৪. অস্থিসন্ধিতে ব্যথা ও ক্যান্সার হতে পারে।
প্রশ্নঃ একজন স্বাভাবিক মানুষের BMI কত হওয়া উচিত?
উত্তরঃ 25 থেকে 30 এর মধ্যে।
প্রশ্নঃ BMI এর পুরো কথা কি?
উত্তরঃ বডি মাস ইনডেক্স।
প্রশ্নঃ প্রাকৃতিক খাদ্য কাকে বলে?
উত্তরঃ সরাসরি প্রকৃতি থেকে পাওয়া খাদ্যকে কাকে বলে।
প্রশ্নঃ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য কাকে বলে?
উত্তরঃ এই ধরনের খাবার তৈরি করতে প্রকৃতি থেকে পাওয়া বিভিন্ন খাদ্য উপাদানগুলিকে নানা রকম প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রশ্নঃ সংশ্লেষিত খাদ্য কাকে বলে?
উত্তরঃ এই ধরনের খাবারের উপাদানগুলো সম্পূর্ণ কৃত্রিম। কিন্তু তৈরি খাবারটার রং, স্বাদ, গন্ধ ইত্যাদি অনেকটাই প্রাকৃতিক খাবারের মতো হয়।
প্রশ্নঃ হলুদ মিষ্টি ও সস্তা বিরিয়ানিতে গন্ধ ও স্বাদ তৈরির জন্য কি মেশানো হয়?
উত্তরঃ মেটানিল ইয়েলো
প্রশ্নঃ চকলেট, পেস্ট্রি আর কোল্ড্রিংস এ কৃত্রিম রং ও স্বাদের জন্য কি মেশানো হয়?
উত্তরঃ বাদামী রং-এর ক্যরামেল।
প্রশ্নঃ পটেটো চিপস ও পপকর্ন এ কোন কৃত্রিম পদার্থ মেশানো থাকে?
উত্তরঃ ট্রান্স ফ্যাট।
প্রশ্নঃ চাওমিন-এর গন্ধ ও স্বাদ সৃষ্টিকারী পদার্থের নাম কি?
উত্তরঃ আজিনোমোটো
প্রশ্নঃ আইসক্রিমের কৃত্রিম রং ও স্বাদ সৃষ্টিকারী কৃত্রিম পদার্থের নাম কি?
উত্তরঃ কারাজিনান ও ব্রোমিনেটেড ভেজিটেবিল অয়েল।
প্রশ্নঃ কফির স্বাদের জন্য কোন কৃত্রিম পদার্থ মেশানো হয়?
উত্তরঃ সাইক্লামেট।
প্রশ্নঃ কৃত্রিম রং মেশানো খাবার খেলে কি সমস্যা হয়?
উত্তরঃ কৃত্রিম রং মেশানো খাবার খেলে আমাদের নানান রকম শারীরিক অসুবিধা বা হৃদপিণ্ড, যকৃত ও মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।
প্রশ্নঃ পৃথিবীর মোট জলের শতকরা কত শতাংশ মিষ্টি জল?
উত্তরঃ 3 শতাংশ।
প্রশ্নঃ মানুষের শরীরে শতকরা কত শতাংশ জল?
উত্তরঃ 70 শতাংশ।
প্রশ্নঃ মানুষের চোখে জল কি হিসেবে সঞ্চিত থাকে?
উত্তরঃ অশ্রু হিসেবে।
প্রশ্নঃ মানুষের ফুসফুসের শতকরা কত শতাংশ জল?
উত্তরঃ 83 শতাংশ
প্রশ্নঃ মানুষের যকৃত বা মেটেতে শতকরা কত পরিমাণ জল?
উত্তরঃ 85 শতাংশ।
প্রশ্নঃ মানুষের রক্তে শতকরা কত শতাংশ জল?
উত্তরঃ 90 শতাংশ
প্রশ্নঃ মানুষের লালারসে শতকরা কত শতাংশ জল ?
উত্তরঃ 95%
প্রশ্নঃ মানবদেহে জলের ভূমিকা কি?
উত্তরঃ
- ১. জল সাধারণত কোন বস্তুকে দ্রবীভূত করে।
- ২. কোন বস্তুকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়।
- ৩. বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
- ৪. জল তাপ পরিবহক হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্নঃ ভাত তরকারির মধ্যে শতকরা কত শতাংশ জল থাকে?
উত্তরঃ 40 থেকে 60 শতাংশ
প্রশ্নঃ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে জলের প্রয়োজনীয়তা বা ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তরঃ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে জলের প্রয়োজনীয়তা বা ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- i. বীজের অঙ্কুরোদগম এবং চারাগাছের বৃদ্ধিতে।
- ii. উদ্ভিদদেহে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াতে খাদ্য তৈরির জন্য কাঁচামাল হিসেবে জল একান্ত প্রয়োজনীয়।
- iii. মাটি থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ শোষণের জন্য উদ্ভিদের জলের প্রয়োজন হয়।
- iv. উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়া পরিচালনার জন্য জলের প্রয়োজন হয়।
- v. উদ্ভিদদেহে এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে খনিজ লবণ এবং খাদ্যবস্তু পরিবহণের জন্য জলের প্রয়োজন হয়।
- vi. উদ্ভিদদেহে প্রবেশের পর জল নানাভাবে উদ্ভিদকোষে রসস্ফীতিজনিত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে উদ্ভিদ দৃঢ় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
- vii. বিভিন্ন প্রকার জলজ উদ্ভিদ পুকুর, ডোবা, খালবিল বা নদীর জলেই বেঁচে থাকে।
প্রশ্নঃ মানবদেহে শর্করা জাতীয় খাদ্যের অভাবজনিত লক্ষণ ও প্রতিক্রিয়াগুলি লেখো।
উত্তরঃ
- i. শর্করাজাতীয় খাদ্যের অভাবে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্যের দহন ক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকে। এর ফলে দেহের রক্তে কিটোন বডি উৎপন্ন হয়, যার আধিক্যের ফলে দেহে কিটোসিস রোগ হয়।
- ii. দেহে ক্লান্তি, জলাভাব ও ইলেকট্রোলাইট-এর ঘাটতি হয়।
- iii. রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায় এবং এর ফলে মস্তিষ্কের কলার ক্ষতি হয়।
- iv. শর্করার অভাবে প্রোটিন দেহের প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দিলেও, কলাকোষ গঠনের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে না। ফলে কোশগঠন ও ক্ষয়পূরণের কাজ ব্যাহত হয়।
প্রশ্নঃ মানবদেহে প্রোটিনের অভাবজনিত লক্ষণ ও প্রতিক্রিয়াগুলি লেখো।
উত্তরঃ
- i. খাদ্যে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিলে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোটিন ক্যালোরি অপুষ্টিজনিত কোয়াশিওরকর এবং ম্যারাসমাস রোগ দেখা দেয়।
- ii. দেহে প্রোটিনের ঘাটতির ফলে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। মাংসপেশির ক্ষয় এবং রক্তাল্পতা রোগ দেখা দেয়।
- iii. প্রোটিনের অভাবে খাদ্য পরিপাককারী উৎসেচকের ক্ষরণ কম হয়। ফলে খাবার ভালোভাবে পাচিত না হয়ে পেটের রোগ দেখা দেয়।
- iv. প্রোটিনের অভাবে দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়া ব্যাহত হয়।
প্রশ্নঃ উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে এবং প্রাণীদের শক্তি উৎপাদনে আলোর ভূমিকা উল্লেখ করো।
উত্তরঃ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে গাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার দ্বারা খাদ্য উৎপাদন করে। সূর্যের আলোর শক্তির খুব সামান্য একটা অংশ গাছ শোষণ করে। এই আলোক শক্তি আর গাছের সবুজ কণা ক্লোরোফিল এর সাহায্যেই গাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ার পরের ধাপে জল আর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের প্রয়োজন হয়। সূর্যের আলো থেকে যে শক্তি গাছ শোষণ করে তার একটা অংশকে রুপান্তরিত করে গাছ তার তৈরি করা শর্করা জাতীয় খাবারে জমা রাখে। মানুষ এবং বিভিন্ন প্রাণীরা যখন উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ করে তখন তারা খাদ্যে জমিয়ে রাখা ওই রুপান্তরিত শক্তিটাই গ্রহণ করে। সূর্যের ওই শক্তিটাকে ব্যবহার করেই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীরা তাদের নানা কাজের শক্তির চাহিদা পূরণ করে।




