দশম শ্রেণীর ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়: ভারত - সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন | Class 10 Geography Chapter 5
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় 'ভারত' থেকে গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর।
মাধ্যমিক ভূগোল চূড়ান্ত সাজেশন: 'ভারত' (India)
*(প্রদত্ত পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠাগুলির ওপর ভিত্তি করে ১০০% কমন সাজেশন)*
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) MCQমান ১
ক) ২৮টি ও ৮টি
ঘ) রাজস্থান
গ) তেলেঙ্গানা
খ) ভাষা
ক) গুরুশিখর (১৭৭২ মি.)
খ) জিন্দাগাদা (১৬৯৯ মি.)
খ) দোদাবেতা (২৬৩৭ মি.)
খ) নাসিক ও মুম্বই
গ) রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা
খ) টেরিস
ক) চিলকা
গ) কাবেরী নদীর বদ্বীপ অঞ্চলকে (করমণ্ডল উপকূল)
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ) VSAQমান ১
ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য গোয়া এবং ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপ।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে (১৯৮৫ সালে গঠিত)।
২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে।
ডেকানট্র্যাপ।
'মালনাদ' শব্দের অর্থ উঁচুনিচু ভূভাগ এবং 'ময়দান' শব্দের অর্থ অনুচ্চ সমতল বা তরঙ্গায়িত ভূমি।
গুজরাট রাজ্যের।
লবণাক্ত জলাভূমি।
কয়াল (যেমন— ভেম্বানাদ, অষ্টমুদি)।
গুজরাটের কচ্ছের রান অঞ্চলে।
৫৪২৩ কিমি (দ্বীপপুঞ্জসহ মোট ৭৫১৬.৬ কিমি)।
থলঘাট (নাসিক-মুম্বই) এবং ভোরঘাট (মুম্বই-পুনে)।
এই অঞ্চলে সোলা বাস্তুতন্ত্রে প্রতি ১২ বছর অন্তর নীল রঙের 'নীলকুরিঞ্জি' ফুল ফোটে বলে একে ব্লু-মাউন্টেন বা নীলগিরি বলা হয়।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) SAQমান ২
ভারতে রাজ্য পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তিগুলি হলো— ১) ভাষা (সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ), ২) প্রশাসনিক সুবিধা, ৩) সংস্কৃতি, ৪) অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ৫) প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সাদৃশ্য।
দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ ৬-১৩ কোটি বছর পূর্বে বিদার অগ্ন্যুৎগমের ফলে ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত হয়েছে। ধাপযুক্ত বা সিঁড়ির মতো আকৃতিবিশিষ্ট এই অঞ্চলকে 'ডেকানট্র্যাপ' বলে। ('ডেকান' অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং 'ট্র্যাপ' অর্থ সিঁড়ি বা ধাপ)।
কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিম দিকের উঁচুনিচু ঢেউ খেলানো ভূভাগকে 'মালনাদ' বলা হয় এবং এর পূর্ব দিকের মৃদু তরঙ্গায়িত অনুচ্চ ভূমিভাগকে 'ময়দান' বলা হয়। এটি গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত।
ভারতের পশ্চিম উপকূলের মালাবার অংশে (কেরল) অসংখ্য দীর্ঘাকৃতি উপহ্রদ বা জলাভূমি (Back water) দেখা যায়। বারবার ভূ-আলোড়নজনিত উত্থান-পতনের কারণে সৃষ্ট এই জলাভূমিগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলে। যেমন: ভেম্বানাদ (ভারতের বৃহত্তম ও গভীরতম কয়াল), অষ্টমুদি।
ছোটোনাগপুর মালভূমির পশ্চিম অংশে চারদিক খাড়া ঢালযুক্ত ও উপরিভাগ চ্যাপটা বা সমতল প্রকৃতির উচ্চভূমি 'পাট' অঞ্চল নামে পরিচিত। এর গড় উচ্চতা ১০০০ মিটার এবং এগুলি নদী উপত্যকা দ্বারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন।
বৃষ্টিহীন শুষ্ক বা স্বল্প শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলে কঠিন অনুর্বর মৃত্তিকার ওপর জলধারার ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট সংকীর্ণ নালা বা খোয়াই ও র্যাভাইন যুক্ত এবড়োখেবড়ো অঞ্চলকে অপভূমি বা ব্যাডল্যান্ড বলে। যেমন: ভারতের চম্বল উপত্যকা।
ব্যাখ্যামূলক ও পার্থক্যমূলক প্রশ্ন (Analytical) Analyticalমান ৩
* বিস্তার: পশ্চিমঘাট ভারতের পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রায় ১৬০০ কিমি দীর্ঘ, অন্যদিকে পূর্বঘাট পূর্ব উপকূল বরাবর প্রায় ১১৩১ কিমি দীর্ঘ।
* উচ্চতা ও প্রকৃতি: পশ্চিমঘাটের গড় উচ্চতা বেশি (প্রায় ১২০০ মি.) এবং এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন বা অবিচ্ছিন্ন পর্বতমালা। পূর্বঘাটের গড় উচ্চতা কম (৪০০-৬০০ মি.) এবং এটি বিভিন্ন নদীর দ্বারা গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন।
* সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: পশ্চিমঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভাউল মালা (২৩৩৯ মি.), আর পূর্বঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জিন্দাগাদা (১৬৯৯ মি.)।
* প্রকৃতি: পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি সংকীর্ণ (১০-৬০ কিমি), খাড়া ঢালযুক্ত এবং ভগ্ন প্রকৃতির। পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি অনেক বেশি প্রশস্ত (১০০-১২০ কিমি), মৃদু ঢালযুক্ত এবং অভগ্ন প্রকৃতির।
* বদ্বীপ সৃষ্টি: পশ্চিম উপকূলে নদীগুলির মোহানায় কোনো বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি (এসচুয়ারি বা খাঁড়ি দেখা যায়), কিন্তু পূর্ব উপকূলে মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী প্রভৃতি নদীর মোহানায় সুবিশাল বদ্বীপ গড়ে উঠেছে।
* কৃষিকাজ ও বন্দর: পূর্ব উপকূল পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ায় কৃষিকাজে অত্যন্ত উন্নত। অন্যদিকে, পশ্চিম উপকূল ভগ্ন প্রকৃতির হওয়ায় এখানে স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত বহু উন্নত বন্দর গড়ে উঠেছে।
* খনিজ সম্পদ: ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমি খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে আকরিক লোহা, কয়লা, বক্সাইট, মাইকা, সোনা, তামা প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় (যেমন- কোলার, রানিগঞ্জ, ঝরিয়া)।
* কৃষিকাজ: এই অঞ্চলের ডেকানট্র্যাপ বা লাভা গঠিত রেগুর (কৃষ্ণ) মৃত্তিকা কার্পাস বা তুলো চাষের জন্য আদর্শ। এছাড়া বাজরা, ভুট্টা ইত্যাদিও ভালো হয়।
* জলবিদ্যুৎ ও বনজ সম্পদ: এই অঞ্চলের খরস্রোতা নদীগুলি থেকে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এছাড়া পশ্চিমঘাট ও নীলগিরির ঘন অরণ্য থেকে মূল্যবান কাঠ ও বনজ সম্পদ সংগৃহীত হয়।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (LAQ) LAQমান ৫
ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূল বরাবর গুজরাটের কচ্ছের রান থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত সমভূমিকে পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি বলে। এটি প্রধানত ৪টি উপবিভাগে বিভক্ত:
* ক) গুজরাট উপকূলীয় সমভূমি: ভারতের দীর্ঘতম এই উপকূলটি গুজরাট রাজ্যে অবস্থিত। এর আবার চারটি ভাগ রয়েছে— কচ্ছের রান, কচ্ছ উপদ্বীপ, কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ এবং গুজরাট সমভূমি। কচ্ছের রান হলো লবণাক্ত জলাভূমি এবং এখানেই পৃথিবীর একমাত্র বন্য গাধার অভয়ারণ্য (Wild Ass Sanctuary) অবস্থিত।
* খ) কোঙ্কন উপকূল: উত্তরে সুরাট থেকে দক্ষিণে গোয়া পর্যন্ত প্রায় ৪৫-৭৫ কিমি প্রশস্ত এই উপকূল অবস্থিত। মহারাষ্ট্রের মুম্বই শহর এই উপকূলে অবস্থিত।
* গ) কর্ণাটক উপকূল: গোয়া সীমানা থেকে দক্ষিণে ম্যাঙ্গালোর পর্যন্ত প্রায় ২২৫ কিমি দীর্ঘ এই সমভূমি বিস্তৃত। এটি অত্যন্ত খাড়া ঢালে সমুদ্রে মিশেছে।
* ঘ) মালাবার উপকূল: ম্যাঙ্গালোর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত কেরল রাজ্যে এই উপকূল অবস্থিত। এই উপকূলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অসংখ্য উপহ্রদ বা 'কয়াল'-এর উপস্থিতি (যেমন- ভেম্বানাদ)। এছাড়া এখানকার বালিয়াড়িগুলিকে স্থানীয় ভাষায় 'টেরিস' বলা হয়।
ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি উত্তরে সুবর্ণরেখা নদী থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় ২৩৮৭ কিমি দীর্ঘ। এটি প্রশস্ত, উর্বর এবং অসংখ্য বদ্বীপ যুক্ত। একে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
* ক) উত্তরের সরকার উপকূল: ওড়িশার সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণা নদীর বদ্বীপের পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। এর দুটি অংশ—
* *ওড়িশা বা উৎকল উপকূল:* এখানে এশিয়ার বৃহত্তম লেগুন বা উপহ্রদ 'চিলকা' অবস্থিত।
* *অন্ধ্র উপকূল:* পুলিকট হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত এই অংশে কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর মাঝে বিখ্যাত 'কোলেরু' হ্রদ অবস্থিত।
* খ) করমণ্ডল উপকূল: তামিলনাডুর পুলিকট হ্রদ থেকে কন্যাকুমারী অন্তরীপ পর্যন্ত এই অংশটি বিস্তৃত। এই অঞ্চলে কাবেরী নদীর উর্বর বদ্বীপ অবস্থিত, যা 'দক্ষিণ ভারতের শস্যাভাণ্ডার' নামে পরিচিত। বছরে দুবার বৃষ্টিপাত এবং উর্বর পলিমৃত্তিকার জন্য এই অঞ্চল কৃষিকাজে অত্যন্ত উন্নত। চেন্নাই শহর এই উপকূলে অবস্থিত।
তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত উপদ্বীপীয় দাক্ষিণাত্য মালভূমির আয়তন প্রায় ৭.৫ লক্ষ বর্গকিমি। ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে একে প্রধান কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা যায়:
* পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা সহ্যাদ্রি: আরব সাগরের উপকূল বরাবর উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬০০ কিমি দীর্ঘ একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতমালা। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভাউল মালা (২৩৩৯ মি.)। এর গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথগুলি হলো থলঘাট, ভোরঘাট এবং পালঘাট।
* পূর্বঘাট পর্বতমালা বা মলয়াদ্রি: পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থিত এই খণ্ডিত পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো জিন্দাগাদা (১৬৯৯ মি.)।
* নীলগিরি পর্বত: এটি তামিলনাড়ুতে অবস্থিত যেখানে পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা মিলিত হয়েছে। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দোদাবেতা (২৬৩৭ মি.)। একে 'Blue Mountain'-ও বলা হয়।
* ডেকানট্র্যাপ ও অন্যান্য মালভূমি: এই মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত ধাপযুক্ত অঞ্চল, যাকে ডেকানট্র্যাপ বলে। এছাড়া এর পূর্বে রয়েছে কর্ণাটক মালভূমি (মালনাদ ও ময়দান অংশ) এবং তেলেঙ্গানা মালভূমি।
*শিক্ষকের মন্তব্য: উপরের প্রতিটি প্রশ্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার মানবণ্টন ও কাঠামো অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে এবং প্রদত্ত পাঠ্যপুস্তকের প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।*
অধ্যায়: ভারত (প্রাকৃতিক ভূগোল - ভারতের ভূপ্রকৃতি ও জলসম্পদ)
প্রদত্ত পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠাগুলি (৮৬-৯০) সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এই পূর্ণাঙ্গ সাজেশনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
---
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) - মান: ১
খ) ইন্দিরা পয়েন্ট
গ) স্যাডল পিক (৭৩৭ মি.)
খ) ১০° চ্যানেল
ক) ব্যারেন
ক) গঙ্গা (মোট দৈর্ঘ্য ২৫১০ কিমি, ভারতে ২০৭১ কিমি)
গ) ত্রিম্বক উচ্চভূমি
খ) মাজুলি (ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে)
গ) গোদাবরীকে
খ) লোকটাক (মণিপুর)
ক) চিল্কা
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer Type) - মান: ১
- শূন্যস্থান পূরণ করো:
ক্ষুদ্র আন্দামান
প্রবাল
হরিদ্বার
সাংপো
প্যাংগং (লাদাখ)
ভেম্বানাদ (কেরল)
অশুদ্ধ (এগুলি পশ্চিমবাহিনী নদী)।
শুদ্ধ।
অশুদ্ধ (ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি চেমায়ুং দুং থেকে, সিন্ধুর উৎপত্তি সিঞ্জি খাবাব বা মানস সরোবর থেকে)।
শুদ্ধ।
লুনি (৫৩০ কিমি)।
সাংপো (Sky River নামে পরিচিত)।
ইডেন খাল বা হিজলি খাল।
যমুনা (বা শোন)।
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer Type) - মান: ২
সমুদ্র উপকূলবর্তী অগভীর ও লবণাক্ত জলভাগ যখন তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত থাকে এবং একদিক সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তাকে লেগুন বা উপহ্রদ বলে। কেরলের মালাবার উপকূলে এগুলিকে 'কয়াল' বলা হয়। যেমন— ভেম্বানাদ (ভারতের বৃহত্তম কয়াল), চিল্কা (ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ)।
যে সকল নদী কোনো সাগর বা মহাসাগরে না মিশে দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে পতিত হয়, তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে। উদাহরণ: লুনি নদী (কচ্ছের রনে পতিত হয়েছে)।
গোদাবরী নদীকে 'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' বলা হয়। কারণ, গঙ্গা নদীর মতো গোদাবরী হলো দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী (১৪৬৫ কিমি) এবং দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৃষিকাজে ও জলসেচে এই নদী গঙ্গার মতোই গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
টারশিয়ারি যুগের মায়োসিনি উপযুগে হিমালয়ের উত্থানকালে প্রবল ভূ-আলোড়নের প্রভাবে উপদ্বীপীয় মালভূমির মধ্যভাগে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। এই প্রবল চাপে নর্মদা ও তাপ্তী নদীর গতিপথে যে গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়, তার ঢাল পশ্চিমদিকে। এই পশ্চিমমুখী ঢালু গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলেই নর্মদা ও তাপ্তী পশ্চিমবাহিনী হয়ে আরব সাগরে পড়েছে।
যে সকল নদী দুই বা তার বেশি দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগর বা মহাসাগরে পতিত হয়, তাদের আন্তর্জাতিক নদী বলে। উদাহরণ: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু।
D. ব্যাখ্যামূলক ও রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Type) - মান: ৩ / ৫
* উৎস: উত্তর ভারতের অধিকাংশ নদী হিমালয় পর্বতমালা থেকে সৃষ্ট। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী উপদ্বীপীয় মালভূমি থেকে সৃষ্ট।
* জলের জোগান: উত্তর ভারতের নদীগুলি বরফগলা জল ও বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় নিত্যবহ (সারা বছর জল থাকে)। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি কেবলমাত্র বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় অনিত্যবহ (বর্ষাকাল ছাড়া জল থাকে না)।
* দৈর্ঘ্য ও বয়স: উত্তর ভারতের নদীগুলির দৈর্ঘ্য অনেক বেশি এবং এরা বয়সে অপেক্ষাকৃত নবীন। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে ছোটো এবং এরা বয়সে অপেক্ষাকৃত প্রাচীন।
* অববাহিকার আয়তন: উত্তর ভারতের নদীগুলির অববাহিকার আয়তন বিশাল। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির অববাহিকার আয়তন তুলনামূলকভাবে কম।
* নৌ-পরিবহন ও মোহনা: উত্তর ভারতের নদীগুলি সমভূমি প্রবাহে নৌ-পরিবহনের যোগ্য এবং এদের মোহনায় ব-দ্বীপ দেখা যায়। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় নৌ-পরিবহনের অনুপযোগী এবং মোহনায় ব-দ্বীপ গঠিত হলেও তা আকারে ছোটো (যেমন নর্মদা ও তাপ্তীর মোহনায় ব-দ্বীপ নেই)।
* উৎপত্তি: পূর্ব উপকূল সমুদ্র তরঙ্গের ক্ষয় ও সঞ্চয় এবং নদী বাহিত পলির সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট। পশ্চিম উপকূল একাধিকবার ভূ-আন্দোলনজনিত উত্থান-পতন, তরঙ্গের ক্ষয় ও সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট।
* প্রস্থ: পূর্ব উপকূল বেশ চওড়া (১০০-১২০ কিমি)। পশ্চিম উপকূল সংকীর্ণ (১০-৫০ কিমি চওড়া)।
* বালিয়াড়ি ও কয়াল: পূর্ব উপকূলে সর্বত্র বালিয়াড়ি দেখা যায়। পশ্চিম উপকূলে কিছু কিছু স্থানে বালিয়াড়ি দেখা যায় এবং অসংখ্য কয়াল (Kayal) দেখা যায়।
* কৃষিকাজ ও বন্দর: পূর্ব উপকূলের উর্বর মৃত্তিকার জন্য কৃষিকাজ ভালো হয় ও জনবসতি ঘন। কিন্তু অগভীর হওয়ায় বন্দর গঠনের সমস্যা রয়েছে। পশ্চিম উপকূল অনুর্বর বলে কৃষিকাজ ভালো হয় না, কিন্তু গভীর হওয়ায় স্বাভাবিক বন্দর গঠনের অনুকূল।
গঙ্গা ভারতের দীর্ঘতম ও প্রধান নদী (মোট দৈর্ঘ্য ২৫১০ কিমি)। এর গতিপথকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
* উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ (উৎস থেকে হরিদ্বার): গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে ভাগীরথী নামে উৎপন্ন হয়ে দেবপ্রয়াগের কাছে অলকানন্দার সাথে মিলিত হয়েছে এবং গঙ্গা নামে শিবালিক পর্বত অতিক্রম করে হরিদ্বারে সমভূমিতে পড়েছে।
* মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ (হরিদ্বার থেকে রাজমহল পাহাড়): হরিদ্বার থেকে নদীটি উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে রাজমহল পাহাড়ের কাছে এসে দক্ষিণমুখী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। এই অংশে যমুনা, শোন (ডানতীর) এবং গোমতী, ঘর্ঘরা, কোশী (বামতীর) প্রভৃতি উপনদী গঙ্গায় মিশেছে।
* নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ (রাজমহল পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর): পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে ভগবানগোলায় নদীটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে। প্রধান শাখাটি 'পদ্মা' নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং অপ্রধান শাখাটি 'ভাগীরথী-হুগলি' নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মোহনার কাছে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
ভারতের দ্বীপ অঞ্চল প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত:
* আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ: বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এটি প্রায় ২৬৫টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ স্যাডল পিক (৭৩৭ মি.)। ব্যারেন ও নারকোন্ডাম নামক আগ্নেয়গিরি এখানে অবস্থিত। ১০° চ্যানেল দ্বারা আন্দামান ও নিকোবর পরস্পর বিচ্ছিন্ন। এর সর্বদক্ষিণ বিন্দু 'ইন্দিরা পয়েন্ট' হলো সমগ্র ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু।
* লাক্ষা ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জ: আরব সাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি ৩৬টি ছোটো-বড়ো প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্রধান তিনটি হলো আমিনদিভি, কান্নানোর ও মিনিকয়।
**ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ টিপস্:
> 📌 *ম্যাপ পয়েন্টিং-এর জন্য গঙ্গা, নর্মদা, তাপ্তী, গোদাবরী, চিল্কা হ্রদ, ডানক্যান প্যাসেজ এবং ১০° চ্যানেল বিশেষভাবে অনুশীলন করবে।*
দশম শ্রেণির ভূগোল পাঠ্যবইয়ের 'ভারতের জলবায়ু' অংশ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলো নিচে অধ্যায়ভিত্তিক বিভিন্ন বিভাগে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) MCQমান ১
(a) আরবি শব্দ ('মৌসিম')
(c) মৌসুমি বায়ু
(b) লু
(b) মৌসিনরাম
(a) বরদৈছিলা
(b) করমণ্ডল উপকূল (তামিলনাড়ু)
(b) প্রশান্ত মহাসাগরে
(b) পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে
(a) শিলং
(a) দক্ষিণ ভারতে (কেরল ও কর্ণাটক)
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ) VSAQমান ১
ঋতু।
ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির।
উত্তরের হিমালয় পর্বত (শীতল বাতাস আসতে বাধা দেয়)।
আঁধি।
আশ্বিনের ঝড়।
কফি বা চেরি ব্লসমস (Cherry blossoms)।
Western Disturbance বা পশ্চিমী গোলযোগ।
শুদ্ধ।
অশুদ্ধ (বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়)।
পশ্চিম ঢালে।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) SAQমান ২
গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে যে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তাকে 'লু' বলে। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে (রাজস্থান অঞ্চলে) যে প্রবল ধূলিঝড় (৫০-৬০ কিমি/ঘণ্টা বেগে) সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'আঁধি' বলে।
শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশে (পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ইত্যাদি) হালকা বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত ঘটে। শীতকালীন শান্ত আবহাওয়ায় এই বায়ুপ্রবাহ বিঘ্ন ঘটায় বা অস্থিরতা সৃষ্টি করে বলে একে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।
গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ ভারতের কেরল ও কর্ণাটক উপকূলে যে প্রাক্-মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়, তা আমচাষের পক্ষে খুব উপকারী। তাই স্থানীয়ভাবে একে আম্রবৃষ্টি বলে।
গ্রীষ্মকালে বিকেলে মাঝে মাঝে পশ্চিমবঙ্গ, অসম প্রভৃতি রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ যে প্রবল ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে। এটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে 'নরওয়েস্টার' (Norwester)-ও বলা হয়।
জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে প্রতিবাদ ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর, যখন পর্বত অতিক্রম করে অনুবাত ঢালে পৌঁছায়, তখন বায়ুতে জলীয় বাষ্প অনেক কমে যায়। ফলে সেখানে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়। এই অল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। উদাহরণ: মেঘালয়ের শিলং, পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল।
ব্যাখ্যামূলক ও পার্থক্যমূলক প্রশ্ন (Analytical) Analyticalমান ৩
তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রধান কারণ হলো:
ভারতের জলবায়ুর ওপর হিমালয় পর্বতের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:
এল-নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দক্ষিণমুখী অস্থায়ী উষ্ণ সমুদ্রস্রোত। এল-নিনো বছরগুলিতে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে মৌসুমি বায়ু দেরিতে আসে এবং বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, যা খরার সৃষ্টি করে।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (LAQ) LAQমান ৫
ভারতের জলবায়ু বৈচিত্র্যপূর্ণ হলেও তা মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি হলো:
ভারতের জলবায়ু, অর্থনীতি ও জনজীবনে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অপরিসীম:
অধ্যায়: ভারত (প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মৃত্তিকা)
পাঠ্যবইয়ের প্রদত্ত পৃষ্ঠাগুলি (৭৫, ১০০-১০৩) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ সাজেশন প্রস্তুত করা হলো।
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ - মান ১)
(ক) কলকাতা (খ) মুম্বাই (গ) নতুন দিল্লি (ঘ) চেন্নাই
উত্তর: (গ) নতুন দিল্লি (মৌসম ভবন)
**২. ভারতের তথা পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান কোনটি?
উত্তর: (খ) মৌসিনরাম
**৩. বছরে দু-বার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল কোনটি?
উত্তর: (খ) করমণ্ডল উপকূল
**৪. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহের নাম কী?
উত্তর: (ক) সিয়াচেন (৭৬ কিমি)
**৫. ভারতের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
উত্তর: (গ) গডউইন অস্টিন বা K2 (৮৬১১ মি.)
**৬. ভারতের উচ্চতম মালভূমি কোনটি?
উত্তর: (গ) লাদাক (৫০০০ মি.)
**৭. ভারতে সর্বাধিক স্থান জুড়ে কোন মৃত্তিকা রয়েছে?
উত্তর: (গ) পলি মৃত্তিকা (প্রায় ৪৫.৬%)
**৮. কৃষ্ণ মৃত্তিকার রং কালো হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: (খ) টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইট
**৯. মরু মৃত্তিকার স্থানীয় নাম কী?
উত্তর: (ক) সিরোজেম
**১০. ভারতের মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: (ক) ভোপাল
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSA - মান ১)
পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বঢাল বা মেঘালয়ের শিলং।
অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা।
অক্টোবর মাসে (শরৎকালে)।
মালাবার উপকূলে।
প্যাংগং এবং সো মোরিরি।
জাস্কর ও পিরপাঞ্জাল পর্বতের মাঝে।
জাস্কর পার্বত্য অঞ্চলে।
ব্যাসল্ট শিলা ও লাভা থেকে।
লোহা বা ফেরিক অক্সাইডের আধিক্য।
উদ্ভিদহীন অধিক ঢালু ভূমিতে জলধারার কারণে প্রণালী ক্ষয় দেখা যায়।
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SA - মান ২)
শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট দুর্বল ঘূর্ণবাতের প্রভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে (পাঞ্জাব সমভূমি এবং জম্মু-কাশ্মীরে) যে হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।
অক্টোবর মাসে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু এবং বঙ্গোপসাগরীয় আর্দ্র সামুদ্রিক বায়ু মিলিত হয়ে দুর্বল ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি করে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে ও পূর্ব উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হয়। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আশ্বিন মাসে এটি ঘটে বলে একে আশ্বিনের ঝড় বলে।
কারাকোরাম পর্বত ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পামীর গ্রন্থি থেকে উত্তর-পূর্বে কুনলুন পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দুটি উল্লেখযোগ্য হিমবাহ হলো - সিয়াচেন (ভারতের দীর্ঘতম, ৭৬ কিমি) এবং বিয়াফো।
লাদাকের দক্ষিণে সুরু নদী থেকে কর্নালী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৬৪০ কিমি দীর্ঘ পর্বতশ্রেণি হলো জাস্কর। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কামেট (৭৭৫৬ মি.)। বিখ্যাত কারগিল শহর এবং সিপকিলা, লিপুলেখ নামক গিরিপথগুলি এই অঞ্চলে অবস্থিত।
(১) এই মাটির প্রধান উপাদান পলি, নুড়ি ও কাদা, এর উর্বরতা অনেক বেশি। (২) এই মাটিতে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও চুন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম থাকে।
(১) টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইটের উপস্থিতির কারণে এর রং কালো হয়। (২) এই মৃত্তিকায় কাদা বা কর্দমের পরিমাণ বেশি (৩০-৮০%) হওয়ায় এর জলধারণ ক্ষমতা খুব ভালো, যা তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
সিরোজেম হলো মরু অঞ্চলের হালকা গ্রন্থনযুক্ত বালি-জাতীয় ধূসর রঙের অনুর্বর মৃত্তিকা। এটি ভারতের পশ্চিম রাজস্থান, দক্ষিণ হরিয়ানা, দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাব এবং গুজরাটের কিছু অঞ্চলে দেখা যায়।
* চাদর ক্ষয়: ঢালু ভূমির ওপর দিয়ে প্রবহমান জলধারা মৃত্তিকার ওপরের স্তরকে চাদরের মতো সমানভাবে অপসারণ করলে তাকে চাদর ক্ষয় বলে।
* নালি ক্ষয়: জলধারার মাধ্যমে অসংখ্য ক্ষুদ্র নালিকার মধ্য দিয়ে মাটির উপরিভাগ অপসারিত হলে তাকে নালি ক্ষয় বলে।
D. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (মান ৩)
* বৈশিষ্ট্য: (১) ব্যাসল্ট শিলা থেকে সৃষ্ট এই মাটির রং টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইটের কারণে কালো হয়। (২) কাদাকণার পরিমাণ বেশি থাকায় এর জলধারণ ক্ষমতা খুব ভালো। (৩) এই মাটি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ।
* বণ্টন: ভারতের প্রায় ১৬.৬% অঞ্চল জুড়ে এই মৃত্তিকা দেখা যায়। প্রধানত মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকে এর বিস্তার।
* ফসল: তুলা (সর্বশ্রেষ্ঠ), গম, জোয়ার, আখ, সূর্যমুখী প্রভৃতি।
* সৃষ্টি: প্রাচীন আর্কিয়ান যুগের গ্রানাইট ও নিস শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে লোহিত মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, লৌহসমৃদ্ধ শিলা (গ্রানাইট, নিস, সিস্ট) থেকে অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে ল্যাটেরাইট মাটির সৃষ্টি হয়।
* রং ও উপাদান: লৌহ বা ফেরিক অক্সাইডের আধিক্যে লোহিত মাটির রং লাল হয়। ল্যাটেরাইট মাটির রং ইটের মতো লাল হয় এবং এতে অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ বেশি থাকে।
* কৃষিকাজ: লোহিত মাটিতে জলসেচের সাহায্যে ধান, তামাক, চীনাবাদাম ইত্যাদি চাষ হয়। ল্যাটেরাইট মাটি অত্যন্ত অনুর্বর, তবে সার ও জলসেচের সাহায্যে চা, কফি, রাবার, কাজুবাদাম চাষ হয়।
মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান প্রাকৃতিক কারণগুলি হলো:
* প্রবহমান জলধারা: জলের প্রভাবে চাদর ক্ষয় (বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ওপরের স্তরের মাটি ক্ষয়), নালি ক্ষয় (ক্ষুদ্র নালিকার মাধ্যমে ক্ষয়) এবং প্রণালী ক্ষয় (অধিক ঢালু অংশে গভীর খাতের মাধ্যমে ক্ষয়) ঘটে।
* বায়ুপ্রবাহ: শুষ্ক ও প্রায়-শুষ্ক অঞ্চলে উদ্ভিদ আবরণের অভাবে প্রবল বায়ুপ্রবাহ লম্ফদান বা ভাসমান পদ্ধতিতে মাটিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়িয়ে নিয়ে যায়।
* বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি: প্রবল বর্ষণের সময় বৃষ্টির বড়ো বড়ো ফোঁটা সজোরে মাটিতে আঘাত করে মৃত্তিকার কণাগুলিকে আলগা করে দেয়, ফলে সহজে মৃত্তিকা ক্ষয় হয়।
ভারতের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলকে চারটি উপবিভাগে ভাগ করা হয়— কারাকোরাম, লাদাক, জাস্কর ও হিমালয় পর্বতশ্রেণি।
* লাদাক মালভূমির পরিচয়: কারাকোরাম পর্বতের দক্ষিণে ৩০০০-৬০০০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট এবং ৩৭০ কিমি দীর্ঘ এটি ভারতের উচ্চতম (৫০০০ মি.) এবং শীতলতম মালভূমি। এটি একাধিক পর্বত ও মালভূমি (যেমন- আকসাই চিন, সোডা সমভূমি) দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এখানকার বিখ্যাত দুটি লবণাক্ত হ্রদ হলো প্যাংগং ও সো মোরিরি।
E. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LA - মান ৫)
**(ক) পলি মৃত্তিকা (Alluvial Soil):
* বৈশিষ্ট্য: (১) নদী অববাহিকায় পলি, বালি ও কাদা সঞ্চিত হয়ে এই মাটি গড়ে ওঠে। (২) এই মাটিতে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ক্ষারীয় পদার্থ পর্যাপ্ত থাকলেও জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেন কম থাকে। (৩) জলধারণ ক্ষমতা কম হলেও এই মৃত্তিকা কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত উর্বর।
* বণ্টন: ভারতের প্রায় ৪৫.৬% অঞ্চল (১৫ লক্ষ বর্গকিমি) জুড়ে এটি বিস্তৃত। উত্তর ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা এবং দক্ষিণ ভারতের মহানদী-গোদাবরী-কৃষ্ণা-কাবেরীর বদ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।
* ফসল: ধান, গম, যব, ভুট্টা, পাট, আখ ও শাকসবজি।
**(খ) কৃষ্ণ মৃত্তিকা (Black Soil):
* বৈশিষ্ট্য: (১) ব্যাসল্ট ও লাভা শিলা থেকে সৃষ্ট এই মাটির রং কালো হয়। (২) এতে কাদার ভাগ বেশি (৩০-৮০%) থাকায় এর জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। (৩) ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হলেও নাইট্রোজেন কম থাকে।
* বণ্টন: মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে (প্রায় ১৬.৬% বা ৫.৪৬ লক্ষ বর্গকিমি) এই মাটি দেখা যায়।
* ফসল: তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হওয়ায় একে 'ব্ল্যাক কটন সয়েল' বলা হয়। এছাড়া গম, জোয়ার, আখ, তিসি, বাদাম প্রভৃতি চাষ হয়।
বৃষ্টিপাত, নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তিগুলির ক্রিয়ায় মৃত্তিকার উপরিস্তরের কণাগুলি অপসারিত হওয়ার ঘটনাকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
**মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান প্রাকৃতিক কারণ:
* *(i) চাদর ক্ষয়:* সমানভাবে ঢালু ভূমির ওপর দিয়ে প্রবহমান জলধারা মৃত্তিকার ওপরের স্তরকে চাদরের মতো সমভাবে অপসারণ করে।
* *(ii) নালি ক্ষয়:* ঢালু ভূমিতে জলধারার প্রভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য নালিকার সৃষ্টি হয় এবং মাটি অপসারিত হয়।
* *(iii) প্রণালী ক্ষয়:* উদ্ভিদহীন অধিক ঢালু অংশে নালিগুলি আরও বড় ও গভীর খাড়া খাতের সৃষ্টি করে, যা প্রণালী ক্ষয় নামে পরিচিত।
**কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি:
* অবস্থান ও বিস্তার: এটি ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পামীর গ্রন্থি থেকে উত্তর-পূর্বে কুনলুন পর্বত পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কিমি দীর্ঘ এবং ২৪০ কিমি প্রশস্ত এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
* ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে সিনোজোয়িক যুগে এটি সৃষ্টি হয়। এখানকার পর্বতশৃঙ্গগুলি অত্যন্ত উচ্চ। গডউইন অস্টিন বা K2 (৮৬১১ মি.) হলো এই পর্বতের এবং ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম)। এছাড়া গ্যাসাব্রুম-১, গ্যাসাব্রুম-২, ব্রডপিক উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ।
* হিমবাহ: এর প্রায় ৫০% অংশ সারা বছর বরফাবৃত থাকে। এখানকার উল্লেখযোগ্য দীর্ঘ হিমবাহগুলি হলো সিয়াচেন (৭৬ কিমি, ভারতের দীর্ঘতম), বিয়াফো, বল্টারো, হিসপার ও বাতুরা।
**জাস্কর পর্বতশ্রেণি:
* অবস্থান ও বিস্তার: লাদাক পর্বতের দক্ষিণে সুরু নদী থেকে কর্নালী নদী পর্যন্ত প্রায় ৬৪০ কিমি দীর্ঘ এলাকা জুড়ে জাস্কর পর্বতশ্রেণি বিস্তৃত।
* শৃঙ্গ ও গিরিপথ: এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো কামেট (৭৭৫৬ মি.)। সিপকিলা, লিপুলেখ এবং মানা হলো এখানকার বিখ্যাত গিরিপথ।
* শহর: কারগিল এই পার্বত্য অঞ্চলের একটি বিখ্যাত শহর।
এখানে মাধ্যমিক ভূগোল (অধ্যায়: ভারত - মৃত্তিকা ক্ষয় ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ) থেকে ১০০% কমনযোগ্য সম্পূর্ণ সাজেশন দেওয়া হলো:
পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠা নং ১০৪-১০৮ অবলম্বনে তৈরি।
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ - মান ১)
(খ) অবৈজ্ঞানিক খনন ও বৃক্ষচ্ছেদন
(গ) ধাপ চাষ
(খ) জুমচাষ
(খ) পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল
(ক) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী
(খ) শোলা বনভূমি
(গ) ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে
(গ) সুন্দরী
(ক) সুন্দরবন (বি.দ্র. পিচাভরম হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম)
(খ) দেরাদুন
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer - মান ১)
বৃক্ষরোপণ।
পাহাড়ি অঞ্চলে সমোন্নতি রেখা বরাবর জমিগুলিতে আল বা বাঁধ দিয়ে কৃষিজমি তৈরি করে চাষবাস করাকে সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ বলে।
ভূমির ঢাল সম্পন্ন অঞ্চলে ঢালের আড়াআড়ি দিক বরাবর ভূমিকে কিছুটা সমতল করে শস্য চাষ করাকে ফালি চাষ বলে।
মেহগনি, আবলুস (বা রোজউড, রবার)।
শুষ্ক জলবায়ুতে বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য।
সরলবর্গীয় অরণ্য (পাইন, ফার, স্প্রুস)।
উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে।
উত্তরাখণ্ডে (গাছ কাটার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য)।
মাত্র ২১.০৫% (৬৯২০২৭ বর্গ কিমি)।
জাতীয় বননীতি ১৯৫২ সালে এবং বন সংরক্ষণ আইন ১৯৮০ সালে প্রণয়ন করা হয়।
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer - মান ২)
প্রাকৃতিক শক্তি বা মনুষ্যসৃষ্ট কারণে উর্বর মৃত্তিকার উপরিস্তর অপসারিত হওয়াকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
পাহাড়ের ঢাল বরাবর ধাপ কেটে চাষ করলে জলপ্রবাহের গতি বাধা পায় এবং মৃত্তিকা ক্ষয় হ্রাস পায়। ফালি চাষের ক্ষেত্রে ঢালের আড়াআড়ি দিক বরাবর ভূমি সমতল করে চাষ করলেও জলের গতিবেগ কমে গিয়ে মৃত্তিকা ক্ষয় নিয়ন্ত্রিত হয়।
এই অরণ্য অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি এবং গড় উষ্ণতা (২৫°-২৭° সে.) বেশি থাকে। সারাবছর পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও উষ্ণতা থাকায় গাছগুলি একযোগে তাদের পাতা ঝরায় না, তাই এই বনভূমি চিরহরিৎ বা চিরসবুজ থাকে।
পতিত বা অনাবাদি জমি এবং জলাধারের পাড়ে নতুন করে উদ্ভিদ চারা রোপণ করে বনভূমি গড়ে তোলাকে বনসৃজন বলে।
D. ব্যাখ্যামূলক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (Explanatory Short Answer - মান ৩)
মৃত্তিকা ক্ষয় রোধের তিনটি প্রধান উপায় হলো—
ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদ সমুদ্র উপকূলীয় জোয়ার-ভাটা প্লাবিত কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত পরিবেশে জন্মায়।
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer - মান ৫)
সংকেত: (মনুষ্যসৃষ্ট কারণ হিসেবে জনসংখ্যার চাপ, অনিয়ন্ত্রিত পশুচারণ, অবৈজ্ঞানিক খনন, বৃক্ষচ্ছেদন, প্রথাগত কৃষিপদ্ধতি নিয়ে লিখতে হবে। ফলাফলের মধ্যে উর্বর উপরিস্তরের অপসারণ, ভৌমজলের স্তর হ্রাস, মরুভূমির প্রসার, বন্যা ও খরার বৃদ্ধি, নদীর নাব্যতা হ্রাসের কথা উল্লেখ করতে হবে।)
সংকেত: (স্বাভাবিক উদ্ভিদকে ৫টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়- চিরহরিৎ, পর্ণমোচী, মরু, পার্বত্য এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমি। এর মধ্যে যেকোনো দুটি অরণ্য যেমন ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে হবে।)
সংকেত: (উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উদ্ভিদ প্রকৃতির পরিবর্তন হয়। পূর্ব ও পশ্চিম হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ১০০০ মিটার পর্যন্ত চিরহরিৎ/পর্ণমোচী, ১০০০-৩০০০ মিটারে মিশ্র পর্ণমোচী, ৩০০০-৪০০০ মিটারে সরলবর্গীয় এবং ৪০০০-৫০০০ মিটার উচ্চতায় আল্পীয় উদ্ভিদের বিন্যাস, বৈশিষ্ট্য ও গাছের নাম আলোচনা করতে হবে।)
(১০০% কমন সাজেশন - নির্বাচিত প্রশ্নোত্তর)
আপনার দেওয়া দশম শ্রেণির ভূগোলের ৪টি পৃষ্ঠার উপর ভিত্তি করে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য একটি সম্পূর্ণ সাজেশন প্রস্তুত করা হলো। এখানে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লাইন থেকে প্রশ্ন বাছাই করা হয়েছে।
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) MCQমান ১
(b) গডউইন অস্টিন (K2) (৮৬১১ মিটার)
(a) সাগরমাথা
(b) মানা বা ডুংরিলা (৫৬১০ মি.)
(c) জাফরান
(a) কয়াল
(b) উলার
(a) দুন (যেমন- দেরাদুন)
(b) সিঁড়ি বা ধাপ
(c) বানিহাল বা জওহর টানেল
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ) VSAQমান ১
গ্রামাঞ্চলের অনুন্নত ও দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট অরণ্য সীমার বাইরে পতিত, পরিত্যক্ত বা অনাবাদি জমিতে গাছ লাগিয়ে অরণ্যের বিকাশ ঘটানোকে সামাজিক বনসৃজন বলে।
শাল, মেহগনি, কলা, আম, জাম, সুপারি, নারকেল, নিম, তুলসী, বাসক ইত্যাদি।
শরৎকালে ভারত মহাসাগরের দিকে আগত উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণবাতকে পশ্চিমবঙ্গে 'আশ্বিনের ঝড়' বলে।
বৈচিত্র্যময় ও অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য কাশ্মীর উপত্যকাকে 'ভূস্বর্গ' বা 'Vale of Kashmir' বলা হয়।
চোমোলুংমা (Chomlungma)।
রাধানাথ শিকদার।
প্যাংগং এবং সো মোরিরি (Tso Moriri)।
দেরাদুন।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) SAQমান ২
(i) জমিতে জৈব সারের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, (ii) প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা, এবং (iii) ভূমিক্ষয় রোধ করা।
কাশ্মীর উপত্যকায় ১০০-২০০ মিটার উঁচু হ্রদের চারপাশে ধাপযুক্ত উর্বর পলিস্তরকে স্থানীয় কাশ্মীরি ভাষায় 'কারেওয়া' বলা হয়। কারেওয়া কথার অর্থ 'উচ্চ টেবিলভূমি'। এটি জাফরান ও আপেল চাষের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত।
'Decan' শব্দের অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং 'Trap' শব্দের অর্থ সিঁড়ি বা ধাপ। পশ্চিমঘাট পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ের ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে নেমে গেছে, একেই একত্রে 'ডেকানট্র্যাপ' বলা হয়।
ভূ-আন্দোলনজনিত কারণে মালাবার উপকূলে ভূভাগের উত্থান ও নিমজ্জনের ফলে যে অসংখ্য লবণাক্ত জলাভূমির সৃষ্টি হয়েছে, তাদের স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলা হয়।
উচ্চ হিমালয় ও পীরপঞ্জাল পর্বতশ্রেণির মাঝে অবস্থিত এই উপত্যকা প্রামথিকভাবে ভূ-আন্দোলন, ভূমিকম্প এবং পরবর্তীকালে নদী ও হিমবাহের মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যাখ্যামূলক ও পার্থক্যমূলক প্রশ্ন (Analytical) Analyticalমান ৩
হিমাদ্রি হিমালয় হলো হিমালয়ের প্রস্থ বরাবর সমান্তরাল চারটি বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ অংশ। এর গড় উচ্চতা ৬০০০ মিটার।
জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ অঞ্চলে বিস্তৃত কাশ্মীর হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (LAQ) LAQমান ৫
প্রস্থ বা উত্তর-দক্ষিণ বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে মূলত চারটি সমান্তরাল ভাগে ভাগ করা যায়: (i) টেথিস বা ট্রান্স হিমালয়, (ii) হিমাদ্রি বা প্রধান হিমালয়, (iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয়, এবং (iv) শিবালিক বা অবহিমালয়।
এস. পি. চ্যাটার্জি-র মতে দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতশ্রেণিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: (i) পশ্চিম হিমালয়, (ii) মধ্য হিমালয় এবং (iii) পূর্ব হিমালয়।
অধ্যায়: ভারত (প্রাকৃতিক পরিবেশ)
*(প্রদত্ত পৃষ্ঠাগুলি অবলম্বনে ১০০% কমন সাজেশন)*
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) - মান ১
(ক) কন্যাকুমারিকা (খ) ইন্দিরা কল (গ) ইন্দিরা পয়েন্ট (ঘ) গুহারমতি
উত্তর: (গ) ইন্দিরা পয়েন্ট
**২. ভারত ও চিনের মধ্যে অবস্থিত সীমারেখাটির নাম—
উত্তর: (খ) ম্যাকমোহন লাইন
**৩. ভারতের উচ্চতম গিরিপথ কোনটি?
উত্তর: (ঘ) মানা বা ডুংরিলা (৫,৬১১ মি.)
**৪. হিমাচল হিমালয় ও শিবালিক শ্রেণির মধ্যে অবস্থিত প্রায় সমতল উপত্যকাকে বলে—
উত্তর: (ক) দুন
**৫. পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল—
উত্তর: (খ) সান্দাকফু
**৬. মেঘালয় মালভূমির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
উত্তর: (ক) শিলং পাহাড়
**৭. রাজস্থানের মরু অঞ্চলে চলমান বালিয়াড়িকে কী বলা হয়?
উত্তর: (গ) ধ্রিয়ান
**৮. পাঞ্জাব সমভূমিতে নদী দ্বারা ক্ষয়িত হয়ে দু-দিক খাড়া পাড় যুক্ত প্রাচীন পলি সমৃদ্ধ অঞ্চলকে বলে—
উত্তর: (খ) ধায়া
**৯. শিবালিক পর্বতের পাদদেশ বরাবর নুড়ি, পাথর, বালি সমৃদ্ধ অনুর্বর ভূমিকে বলে—
উত্তর: (ক) ভাবর
**১০. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ কোনটি?
উত্তর: (ক) মাজুলি
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (এক কথায় উত্তর) - মান ১
৩২ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬৩ বর্গ কিমি।
সপ্তম।
৮২°৩০' পূর্ব।
বাংলাদেশ (৪,০৯৬.৭ কিমি)।
তাল (যেমন- নৈনিতাল)।
কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮৫৯৮ মি.)।
কারেওয়া মৃত্তিকা।
দেরাদুনে।
রাজস্থানের যোধপুরে (Central Arid Zone Research Institution)।
রোহি।
ধান্দ (যেমন- সম্বর হ্রদ)।
ভাঙ্গার।
খাদার।
ভুর।
C. শূন্যস্থান পূরণ করো - মান ১
মাঝ
র্যাডক্লিফ
আফগানিস্তানের
গঙ্গা
ভূস্বর্গ (বা 'প্রাচ্যের নন্দনকানন')
বাগার
বেট
তাল
D. শুদ্ধ বা অশুদ্ধ নিরূপণ করো - মান ১
অশুদ্ধ (সঠিক: ভারত ও চিন)
শুদ্ধ
শুদ্ধ
অশুদ্ধ (সঠিক: নবীন পলিকে বেট এবং প্রাচীন পলিকে ধায়া বলে)
শুদ্ধ
E. স্তম্ভ মেলানো - মান ১
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ |
| :--- | :--- |
| ১. ভারতের সর্ব উত্তরের বিন্দু | ক. সম্বর |
| ২. পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ | খ. ইন্দিরা কল |
| ৩. ভারতের বৃহত্তম লবণাক্ত হ্রদ | গ. মাজুলি |
| ৪. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ | ঘ. সান্দাকফু |
- সঠিক উত্তর:** ১-খ, ২-ঘ, ৩-ক, ৪-গ
F. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন - মান ২
কুমায়ুন হিমালয়ে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় 'তাল' বলে। উদাহরণ: নৈনিতাল, ভীমতাল, সাততাল ইত্যাদি।
হিমাচল হিমালয় ও শিবালিক শ্রেণির মধ্যে অবস্থিত প্রায় সমতল উপত্যকাকে 'দুন' বলা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে শিবালিক বা অবহিমালয়ের উত্থানের ফলে এই সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণ: দেরাদুন (বৃহত্তম দুন)।
রাজস্থানের থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বালুকাপূর্ণ, উদ্ভিদহীন শুষ্ক মরু অঞ্চলকে 'মরুস্থলী' বলে। 'মরুস্থলী' কথার অর্থ হল 'মৃতের দেশ'।
ফারসি শব্দ 'দো' কথার অর্থ দুই এবং 'আব' কথার অর্থ জল। পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদীর মধ্যবর্তী পলি সঞ্চিত উর্বর সমভূমিকে দোয়াব বলে। যেমন- গঙ্গা-যমুনার মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চল, বিস্ত জলন্ধর দোয়াব।
পাঞ্জাব সমভূমির উত্তরের অংশ অর্থাৎ শিবালিক পর্বতের পাদদেশ বরাবর অসংখ্য ছোটো ছোটো নদী বা জলধারা সৃষ্টি হয়ে যে ক্ষয়প্রাপ্ত অংশের সৃষ্টি করেছে, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'চোশ' (Chos) বলা হয়।
G. ব্যাখ্যামূলক ও রচনাধর্মী প্রশ্ন - মান ৩ এবং ৫
রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হল:
উত্তরের সমভূমি অঞ্চলকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়: (A) পশ্চিমের সমভূমি বা রাজস্থানের সমভূমি (B) সিন্ধু সমভূমি বা পাঞ্জাব সমভূমি (C) গাঙ্গেয় সমভূমি (উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি) (D) ব্রহ্মপুত্র সমভূমি।
Here is the comprehensive "100% Common Suggestion" generated from the provided Class 10 Geography textbook pages about India's agriculture (Millet, Sugarcane, Cotton, Tea, and Coffee).
```markdown
- অধ্যায়:** ভারতের কৃষি (মিলেট, ইক্ষু, কার্পাস, চা ও কফি)
---
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) [মান - ১]
(গ) হায়দরাবাদ
(ক) লখনউ
(খ) কুম্বু
(গ) ২০০ দিন
(খ) নাগপুর
(ক) অসম (জোরহাট)
(ক) চিকমাগালুর
(খ) উত্তরপ্রদেশ
(গ) রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা
(ক) মারুয়া
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer) [মান - ১]
স্যাকারাম অফিসিনারাম (Saccharum officinarum)।
গসিপিয়াম হার্বেসিয়াম (Gossypium herbaceum)।
ক্যামেলিয়া সিনেনসিস (Camellia sinensis)।
ইক্ষু বা আখ চাষের সাথে।
গুজরাট।
দ্বিতীয় (প্রথম ব্রাজিল)।
কার্পাস আঁশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য সামুদ্রিক লবণাক্ত বাতাস উপযোগী।
জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পাহাড়ের ঢালু জমি।
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer) [মান - ২]
আখ কেটে নেওয়ার পর আখের মূল থেকে যে ছোটো ছোটো চারা বের হয়, তাকে রেটুন বলে। রেটুন থেকে আখ বড়ো হয় বা একে তুলে অন্যত্র চাষ করা যায়, এর ফলে কৃষকদের নতুন করে চারা রোপণের খরচ বাঁচে।
কার্পাস বা তুলো গাছ বৃদ্ধির সময় এবং কার্পাস আঁশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির প্রয়োজনে সামুদ্রিক লবণাক্ত বাতাস খুবই উপযোগী। তাই সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে তুলো চাষ ভালো হয়।
চা গাছ অধিক রৌদ্র বা প্রখর সূর্যালোক সহ্য করতে পারে না। তাই প্রখর রৌদ্রের হাত থেকে চা গাছকে রক্ষা করতে চা বাগানে ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ (যেমন- সিলভার ওক) লাগানো হয়।
আঁশের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তুলো তিন প্রকার: (i) দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলো (৩.৫ - ৬.৫ সেমি), (ii) মাঝারি আঁশযুক্ত তুলো (২.২ - ৩.৫ সেমি), (iii) ক্ষুদ্র আঁশযুক্ত তুলো (২.২ সেমির কম)। ভারতে মূলত ক্ষুদ্র আঁশযুক্ত তুলোর চাষ বেশি হয়।
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical) [মান - ৩]
চা চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টির প্রয়োজন হলেও, চা গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছের শেকড় পচে যায়। পাহাড়ের ঢালু জমিতে জলনিকাশি ব্যবস্থা ভালো থাকায় বৃষ্টির জল দ্রুত গড়িয়ে নেমে যায় এবং গাছের গোড়ায় দাঁড়াতে পারে না। এই কারণে পাহাড়ের ঢালু জমি চা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
কার্পাস চাষের জন্য চুন ও লবণ মিশ্রিত উর্বর দোআঁশ মৃত্তিকা এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম এমন মাটি প্রয়োজন। দাক্ষিণাত্য মালভূমির রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকার জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি এবং এই মাটি খনিজ সমৃদ্ধ, যা তুলো গাছের পুষ্টি ও আঁশের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই এই মৃত্তিকা কার্পাস চাষের পক্ষে আদর্শ।
ইক্ষু চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer) [মান - ৫]
- (১০০% কমন সাজেশন - অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর)
---
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ - 1 Mark)
(ক) পশ্চিমবঙ্গ (খ) অসম (গ) তামিলনাড়ু (ঘ) কেরালা
উত্তর: (খ) অসম
**২. ভারতে কোন প্রজাতির কফির চাষ সবথেকে বেশি হয়?
উত্তর: (খ) রোবাস্টা
**৩. 'সবুজ বিপ্লব' (Green Revolution) কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন—
উত্তর: (গ) উইলিয়াম এস. গাউড
**৪. বিশুদ্ধ কাঁচামালের পণ্যসূচক (Material Index বা MI) হল—
উত্তর: (গ) ১-এর সমান
**৫. ভারতের একমাত্র উপকূলীয় লোহা-ইস্পাত কেন্দ্রটি হল—
উত্তর: (গ) বিশাখাপত্তনম
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer - 1 Mark)
অসমের জোড়হাটে। ('টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া' কলকাতায় অবস্থিত)।
ড. এম. এস. স্বামীনাথন-কে। (বিশ্বে সবুজ বিপ্লবের জনক নরম্যান বোরল্যাগ)।
আলফ্রেড ওয়েবার (১৯০৯ সালে তাঁর 'Industrial Locational Theory'-তে)।
তামিলনাড়ুর পোটোনোভোতে (১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে)।
আকরিক লোহা (MI > 1)।
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer - 2 Marks)
কৃষিজ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতিকে সবুজ বিপ্লব আখ্যা দেওয়া হয়। ১৯৬০-এর দশকে ভারতে উচ্চফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে প্রধানত পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে গম উৎপাদনে যে বৈপ্লবিক বৃদ্ধি ঘটে, তাকেই সবুজ বিপ্লব বলে।
শিল্পে ব্যবহৃত যে সকল কাঁচামালের ওজন তার থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের অনুপাতের সমান, তাদের বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে (যেমন— কার্পাস)। অন্যদিকে, যে সকল কাঁচামালের ওজন তার থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের অনুপাতের চেয়ে বেশি হয়, তাদের অবিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে (যেমন— আকরিক লোহা)।
বিভিন্ন প্রকার খনিজ দ্রব্য কোনো শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হলে, তাকে খনিজভিত্তিক শিল্প বলে। একে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— ধাতব শিল্প (যেমন: লোহ-ইস্পাত শিল্প) এবং অধাতব শিল্প (যেমন: সিমেন্ট শিল্প)।
i) হেক্টর প্রতি শস্যের কম উৎপাদন। ii) জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ অত্যন্ত কম বা অপ্রতুলতা।
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical - 3 Marks)
* সুফল: i) তাৎক্ষণিকভাবে গম ও ধান উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ii) দেশের খাদ্যসংকটের সমাধান হয় ও কৃষকের আয় বাড়ে।
* কুফল: i) দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়। ii) অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পরিবেশের অবনমন ঘটে এবং মানুষের শরীরে ক্যানসারসহ অন্যান্য মারণরোগ বৃদ্ধি পায়।
* কাঁচামাল: শিল্পের অবস্থান কাঁচামালের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। বিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প (যেমন: কার্পাস বয়ন) বাজার বা অন্য যেকোনো স্থানে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু অবিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প (যেমন: লোহ-ইস্পাত) কাঁচামালের উৎসের কাছেই গড়ে ওঠে।
* জলবায়ু: নির্দিষ্ট কিছু শিল্প নির্দিষ্ট জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। যেমন— কার্পাস শিল্প আর্দ্র জলবায়ুতে সবচেয়ে ভালো গড়ে ওঠে।
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer - 5 Marks)
ভারতের কৃষি উন্নত অঞ্চলগুলির মধ্যে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা অন্যতম। এর প্রধান কারণগুলি হল:
* বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর মৃত্তিকা: সিন্ধুনদের পাঁচটি উপনদী বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজের পক্ষে অত্যন্ত অনুকূল।
* জলসেচ ও ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প: ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলে খাল কেটে জলসেচের ব্যাপক প্রসার ঘটানো হয়েছে, যা কৃষিতে সহায়ক।
* উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার: 'সোনারা-৬৪', 'কল্যাণ সোনা' প্রভৃতি উচ্চফলনশীল গমের বীজ ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
* আধুনিক কৃষি পদ্ধতি: লাঙলের পরিবর্তে উন্নতমানের ট্রাক্টর ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ করা হয়।
* রাসায়নিক সার ও কীটনাশক: কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফসফেট সারের জোগান এবং রোগ প্রতিরোধে কীটনাশকের ব্যবহার ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি করেছে।
* অন্যান্য কারণ: উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, সুলভ শ্রমিক, কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমী মনোভাব এবং নাবার্ড (NABARD)-এর আর্থিক সহায়তা কৃষির বিপুল উন্নতি ঘটিয়েছে।
ভারতে প্রধানত রোবাস্টা প্রজাতির কফি চাষ হয় এবং কর্ণাটক রাজ্য এতে প্রথম স্থান অধিকার করে। কফি চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশগুলি হল:
* উষ্মতা: কফি চাষের জন্য ২০° সে. থেকে ৩০° সে. উষ্মতা সর্বাপেক্ষা উপযোগী।
* বৃষ্টিপাত: ১৫০-২৫০ সেমি বৃষ্টিপাত কফি গাছের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। কফিগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। তবে তুহিন ও তুষারপাত কফি চাষের পক্ষে ক্ষতিকর।
* ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ: চা চাষের মতো কফি বাগানেও সরাসরি রৌদ্রতাপ এড়াতে এবং কফি গাছকে রক্ষা করতে ছায়াপ্রদানকারী বড় বৃক্ষের প্রয়োজন হয়।
* মৃত্তিকা: লাভা সৃষ্ট উর্বর মৃত্তিকা এবং লাল দোঁআঁশ মাটি কফি চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
* জমির প্রকৃতি: জল নিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পর্বতের পাদদেশে ঢালু জমি কফি চাষের পক্ষে আদর্শ, কারণ গাছের গোড়ায় জল দাঁড়ালে কফি গাছের ক্ষতি হয়।
* শ্রমিক ও মূলধন: গাছ লাগানো, পরিচর্যা, ফসল তোলা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক এবং আধুনিক বাগান তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মূলধনের প্রয়োজন।
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ)
(খ) জামশেদপুর (সাকচি)
(ক) দুর্গাপুর
(খ) আমেদাবাদ
(খ) কোয়েম্বাটোর
(ক) কানপুর
(গ) কার্পাস বয়ন শিল্প
(গ) হাওড়ার ঘুঁসুড়িতে (১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে)
(ঘ) বিশাখাপত্তনম
(গ) ১৯৭৩
(খ) জার্মানি
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short)
১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার সাকচিতে (বর্তমান জামশেদপুর)।
ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের (UK) সহযোগিতায় (১৯৫৯ সালে)।
সোভিয়েত রাশিয়ার (বর্তমান রাশিয়া) সহযোগিতায়।
১ (এটি বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল)।
কার্পাস বয়ন শিল্প।
পশ্চিমবঙ্গের চিত্তরঞ্জন (CLW) এবং উত্তরপ্রদেশের বারাণসী (BLW/DCW)।
তামিলনাড়ুর পেরাম্বুর, পাঞ্জাবের কাপুরথালা এবং পশ্চিমবঙ্গের দমদম-এ।
হলদিয়া।
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer)
জার্মানির রাইন নদীর উপনদী রূঢ় উপত্যকার কয়লা ও লৌহ আকরিকের ওপর নির্ভর করে যেমন রূঢ় শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, ঠিক একইভাবে ভারতের দামোদর উপত্যকার দুর্গাপুর অঞ্চলে স্থানীয় রানিগঞ্জ ও ঝরিয়ার কয়লা এবং ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার লৌহ আকরিকের ওপর ভিত্তি করে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। তাই এই সাদৃশ্যের জন্য দুর্গাপুরকে 'ভারতের রূঢ়' বলা হয় (নামকরণ করেন ড. বিধানচন্দ্র রায়)।
ব্রিটেনের ম্যাঞ্চেস্টার শহর যেমন উন্নতমানের আমদানি করা তুলোর ওপর ভিত্তি করে বস্ত্রশিল্পে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিল, তেমনি ভারতের গুজরাটের আমেদাবাদ শহরও স্থানীয় এবং মিশর ও গ্রিস থেকে আমদানি করা তুলোর সাহায্যে কার্পাস বয়ন শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। ভারতে সর্বাধিক কাপড়ের কল (৭২টি) এখানেই থাকায় একে 'ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' বলা হয়।
যে সমস্ত শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং উৎপাদিত দ্রব্যের ওজন প্রায় সমান থাকে (পণ্যসূচক বা MI = ১), অর্থাৎ বিশুদ্ধ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, তাদের অস্থানু শিল্প বলে। এই ধরনের শিল্প কাঁচামালের উৎসস্থল, বাজার বা পরিবহণ পথের যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে গড়ে উঠতে পারে। উদাহরণ: কার্পাস বয়ন শিল্প।
SAIL-এর পুরো নাম Steel Authority of India Limited। এটি ভারত সরকারের ইস্পাত মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি সংস্থা, যা ১৯৭৩ সালে গঠিত হয়। ভারতের ৫টি সুসংহত ইস্পাত কেন্দ্র (ভিলাই, রাউরকেল্লা, দুর্গাপুর, বোকারো, বার্নপুর) এবং ৩টি সংকর ইস্পাত কেন্দ্র-এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে SAIL। এর সদর দপ্তর নতুন দিল্লিতে অবস্থিত।
বিভিন্ন ধাতব ও অধাতব কাঁচামাল, উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমিকের সাহায্যে ছোটো, মাঝারি ও বড়ো আকারের যন্ত্র, যন্ত্রাংশ, নাটবোল্ট ইত্যাদি তৈরির প্রক্রিয়াকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে।
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical)
ভারতের অধিকাংশ বৃহৎ লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র (যেমন- টিসকো, বোকারো, দুর্গাপুর, রাউরকেল্লা, ভিলাই) পূর্ব ও মধ্য ভারতে গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি হলো:
লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামালগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer)
ভারতের মোট কাপড়ের কলের বেশিরভাগই মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে (বিশেষত আমেদাবাদ ও মুম্বাই) অবস্থিত। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
ব্যবহৃত কাঁচামাল ও উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের ভিত্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়:
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) MCQমান ১
(খ) ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে
(ক) ১৭.৭%
(খ) ৩৮২ জন
(খ) বিহার
(খ) অরুণাচল প্রদেশ
(ক) ৩টি
(গ) ৫৩টি
(খ) ৫০০০ জন
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ) VSAQমান ১
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জি. এইচ. ব্রুন্ডটল্যান্ড (G. H. Brundtland) প্রথম ব্যবহার করেন।
জনঘনত্ব = কোনো দেশের মোট জনসংখ্যা ÷ ওই দেশের মোট ক্ষেত্রফল।
মোট কর্মক্ষম পুরুষ জনসংখ্যার অন্তত ৭৫% বা তার বেশি।
প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪০০ জন।
বৃহত্তর মুম্বাই।
৫০ লক্ষ বা তার বেশি।
শহরের জনসংখ্যা ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষের কম এবং নগরের জনসংখ্যা ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষের কম।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো গ্রাম ক্রমশ শহরে পরিণত হয় বা গ্রামীণ বসতি তার প্রকৃত চরিত্র হারিয়ে শহর বসতিতে পরিণত হয়, তাকে নগরায়ণ বলে।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) SAQমান ২
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে কোনো আপস না করে বা কোনোপ্রকার সমস্যা সৃষ্টি না করে বর্তমানের চাহিদা মেটানোর যে পরিকল্পনা বা উন্নয়ন, তাকেই ধারণযোগ্য উন্নয়ন বা Sustainable Development বলা হয়।
(i) উচ্চ জন্মহার ও মৃত্যুহার হ্রাস: চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে মৃত্যুর হার কমেছে, কিন্তু সেই অনুপাতে জন্মহার কমেনি।
(ii) দারিদ্র্য ও অশিক্ষা: দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও কুসংস্কারের কারণে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
* জলবায়ু: সমভাবাপন্ন বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু মানুষের বসবাস ও কাজের পক্ষে অনুকূল, তাই ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে বা আরামদায়ক জলবায়ু অঞ্চলে শহর বেশি গড়ে ওঠে।
* জলের প্রাপ্যতা: জীবনধারণ, শিল্প ও কৃষির জন্য জল অপরিহার্য। তাই নদী বা জলের উৎসের কাছাকাছি শহর গড়ে ওঠে (যেমন— প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা)।
* স্ট্যাটুটারি শহর: যে অঞ্চলটি পৌরসভা, কর্পোরেশন, নোটিফায়েড টাউন এরিয়া বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়, তাকে স্ট্যাটুটারি শহর বলে।
* সেনসাস শহর: যে বসতির ন্যূনতম জনসংখ্যা ৫০০০ জন, জনঘনত্ব ৪০০ জন/বর্গকিমি এবং ৭৫% পুরুষ অকৃষিকাজে যুক্ত, তাকে সেনসাস শহর বলে।
ব্যাখ্যামূলক ও পার্থক্যমূলক প্রশ্ন (Analytical) Analyticalমান ৩
ভারতে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে যে সমস্যাগুলি সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে প্রধান তিনটি হলো:
* পরিকাঠামোর অভাব: গ্রাম থেকে বিপুল মানুষ রোজগারের আশায় শহরে আসায় বাসস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে এবং বস্তি গড়ে উঠছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক পরিকাঠামোরও অভাব ঘটে।
* পরিবহণ ও যানজট সমস্যা: নগরায়ণের ফলে শহরে গাড়ির সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নিত্যদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে।
* নিকাশি ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা: ভারতের প্রায় ৩৬% শহরবাসী উপযুক্ত নিকাশি বা পয়ঃপ্রণালীর সুযোগ পায় না। ফলে দূষিত জল নিষ্কাশনের অভাবে জলজমা, পরিবেশ দূষণ এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
ভারতে দ্রুত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রধানত নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা যায়:
* প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট: কৃষি জমির ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বনভূমি বা অরণ্য সম্পদ সংকুচিত হচ্ছে।
* পরিবেশ দূষণ ও খাদ্যসংকট: মৃত্তিকা, জল ও বায়ু দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও অনাহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
* বেকারত্ব ও অনুন্নয়ন: কর্মসংস্থানের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় বেকারত্ব ও সামাজিক অপরাধ বাড়ছে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (LAQ) LAQমান ৫
ভারতের সর্বত্র জনসংখ্যা সমান নয়। এই জনবণ্টনের তারতম্যের পিছনে যে প্রাকৃতিক কারণগুলি দায়ী তা নীচে আলোচনা করা হলো:
* ভূপ্রকৃতি: পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলের এবড়োখেবড়ো ভূপ্রকৃতির তুলনায় সমভূমি অঞ্চলে কৃষিকাজ, শিল্প, এবং পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত হয়। তাই গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমভূমিতে লোকবসতি সবচেয়ে বেশি এবং হিমালয় বা পাহাড়ি অঞ্চলে জনবসতি বিরল।
* জলবায়ু: মানুষের স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কৃষিকাজের জন্য অনুকূল জলবায়ু প্রয়োজন। ভারতের উষ্ণ-আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে কৃষিকাজ ভালো হয় বলে ঘন জনবসতি দেখা যায়। অন্যদিকে রাজস্থানের উষ্ণ-শুষ্ক মরু অঞ্চল বা হিমালয়ের অতি শীতল জলবায়ু অঞ্চলে জনবসতি অত্যন্ত বিরল।
* নদনদী: নদীর অববাহিকায় জলসেচ, পানীয় জল, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহণের সুবিধা থাকায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলি (যেমন গঙ্গা বা গোদাবরী অববাহিকা) ঘন বসতিপূর্ণ হয়।
* মৃত্তিকা: উর্বর দোআঁশ, পলি বা রেগুর মাটি কৃষিকাজের পক্ষে আদর্শ। তাই গঙ্গা-সিন্ধু সমভূমি, উপকূলীয় সমভূমি ও দাক্ষিণাত্যের লাভা অঞ্চলে জনঘনত্ব বেশি। অনুর্বর অঞ্চলে জনবসতি কম।
* ভৌগোলিক অবস্থান: সমুদ্র উপকূলবর্তী সমভাবাপন্ন জলবায়ু, বন্দর ও বহির্বাণিজ্যের সুবিধার কারণে উপকূল অঞ্চলে (যেমন—মুম্বই) প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে।
ভারতে জীবনযাপনের উপযোগী অনুকূল পরিবেশে শহর বা নগর গড়ে ওঠার পিছনে মূলত নিম্নলিখিত কারণগুলি কাজ করে:
* সমভূমির অবস্থান ও উন্নত পরিবহণ: সমতল ভূমিতে কৃষিকাজ, শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং উন্নত পরিবহণ (রেল, সড়ক) ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ। তাই গঙ্গা উপত্যকায় বহু শহর গড়ে উঠেছে।
* শিল্প ও ব্যবসার প্রসার: যেসব অঞ্চলে বৃহদায়তন শিল্প বা বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে ওঠে, সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকায় প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। যেমন— জামশেদপুর, দুর্গাপুর, সুরাট, মুম্বাই ইত্যাদি।
* জলের সহজলভ্যতা: সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য জলের প্রাচুর্য শহর গড়ে ওঠার অন্যতম শর্ত। এই কারণেই প্রাচীনকাল থেকে নদীকে কেন্দ্র করে শহর গড়ে ওঠে।
* পর্যটন কেন্দ্র: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মনোরম আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যকর জলবায়ুর কারণে অনেক জায়গায় শহর গড়ে ওঠে। যেমন— দার্জিলিং, নৈনিতাল, আগ্রা প্রভৃতি।
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) MCQমান ১
(ক) চেন্নাইকে
(খ) কলকাতাকে
(গ) মুম্বাইকে
(ঘ) দিল্লিকে
উত্তর: (গ) মুম্বাইকে
**২. ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়কপথটি হলো—
(ক) NH-19
(খ) NH-44
(গ) NH-16
(ঘ) NH-48
উত্তর: (খ) NH-44 (শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী)
**৩. 'সোনালি চতুর্ভুজ' (Golden Quadrilateral) যে পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, তা হলো—
(ক) রেলপথ
(খ) সড়কপথ
(গ) জলপথ
(ঘ) বিমানপথ
উত্তর: (খ) সড়কপথ
**৪. ভারতের জীবনরেখা বলা হয়—
(ক) সড়কপথকে
(খ) জলপথকে
(গ) রেলপথকে
(ঘ) রজ্জুপথকে
উত্তর: (গ) রেলপথকে
**৫. ভারতের একমাত্র করমুক্ত (Tax-free) বন্দর হলো—
(ক) কান্ডালা
(খ) কোচি
(গ) মুম্বাই
(ঘ) পারাদ্বীপ
উত্তর: (ক) কান্ডালা
**৬. ভারতের দীর্ঘতম অভ্যন্তরীণ জলপথ (NW 1) কোন্ নদীতে অবস্থিত?
(ক) ব্রহ্মপুত্র
(খ) গোদাবরী
(গ) গঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি
(ঘ) বরাক
উত্তর: (গ) গঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি (প্রয়াগরাজ থেকে হলদিয়া)
**৭. ভারতের প্রথম মেট্রো রেল কোথায় চালু হয়?
(ক) দিল্লি
(খ) মুম্বাই
(গ) বেঙ্গালুরু
(ঘ) কলকাতা
উত্তর: (ঘ) কলকাতা (১৯৮৪ সালে)
**৮. 'ডলফিন নোজ'-এর জন্য বিখ্যাত বন্দরটি হলো—
(ক) চেন্নাই
(খ) বিশাখাপত্তনম
(গ) তুতিকোরিন
(ঘ) মার্মাগাঁও
উত্তর: (খ) বিশাখাপত্তনম
---
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ) VSAQমান ১
বেঙ্গালুরুকে।
১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত (৩৪ কিমি)।
উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে।
লে-মানালি সড়ক (NH-3)।
জওহরলাল নেহরু বা নবসেবা বন্দর (মহারাষ্ট্র)।
মেট্রো শহরের মধ্যে উচ্চগতিসম্পন্ন রেলপথ বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত।
লাদাখের লেহ-তে অবস্থিত কুশক বাকুলা রিমপোচে এয়ারপোর্ট।
কোচি (কেরল)।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) SAQমান ২
ভারতের চারটি প্রধান মেগাসিটি—দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতাকে যুক্তকারী ৫৮৪৬ কিমি দীর্ঘ ৪-৬ লেনবিশিষ্ট অতি দ্রুতগামী জাতীয় সড়কপথ প্রকল্পকে সোনালি চতুর্ভুজ বলা হয়।
সমুদ্র বন্দরের যে অংশে জাহাজগুলিকে পুনরায় কোনো গন্তব্যে রওনা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করানো হয় বা মেরামতের জন্য রাখা হয় এবং ঝড়-ঝঞ্ঝা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা থাকে, তাকে পোতাশ্রয় বলে।
বন্দরের সংলগ্ন স্থলভাগের যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রপ্তানিযোগ্য পণ্য ওই বন্দর দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয় এবং আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বিতরণ করা হয়, সেই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে। বন্দরের উন্নতি এর ওপর নির্ভরশীল।
ভারতের উত্তরে শ্রীনগর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ৪১১২ কিমি দীর্ঘ সড়কপথ 'উত্তর-দক্ষিণ করিডর' এবং পশ্চিমে পোরবন্দর থেকে পূর্বে শিলচর পর্যন্ত ৩২৯৮ কিমি দীর্ঘ সড়কপথ 'পূর্ব-পশ্চিম করিডর' নামে পরিচিত।
ব্যাখ্যামূলক ও পার্থক্যমূলক প্রশ্ন (Analytical) Analyticalমান ৩
ভারতের মতো বিশাল দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেলপথের ভূমিকা অপরিসীম। অধিক পণ্য পরিবহণ, মাঝারি ও দূরপাল্লার যাতায়াত, কৃষিজ ও শিল্পজ কাঁচামাল আনানেওয়া, ভারী খনিজ দ্রব্য সরবরাহ, দ্রুত সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রেলপথই প্রধান মাধ্যম। এই অপরিহার্যতার কারণেই ভারতীয় রেলকে 'ভারতের জীবনরেখা' বলা হয়।
নদী, খাল বা সমুদ্রে নৌকা, স্টিমার ও জাহাজের সাহায্যে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণ হলো জলপথ। জলপথ নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষ খরচ নেই বলে এটি পরিবহণের সবচেয়ে সুলভ মাধ্যম। ভারী, বৃহৎ ও অতিমাত্রায় পণ্য সস্তায় আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায় বলে জলপথকে 'উন্নয়নের জীবনরেখা' বলা হয়।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (LAQ) LAQমান ৫
দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পরিবহণের গুরুত্ব অপরিসীম (মানবদেহের ধমনির মতো)।
* **অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
* কৃষি ও শিল্পের উন্নতি: কাঁচামাল সংগ্রহ এবং কৃষিজ ও শিল্পজাত দ্রব্য বাজারজাত করতে পরিবহণ আবশ্যিক।
* বাণিজ্যিক প্রসার: উন্নত পরিবহণ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়।
* কর্মসংস্থান: পরিবহণ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহুলোকের কর্মসংস্থান ঘটে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।
* **রাজনৈতিক গুরুত্ব:
* প্রতিরক্ষা ও সংহতি: দেশের সীমান্তে সৈন্য ও রসদ পাঠানো এবং দেশের নানা প্রান্তের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি স্থাপনে পরিবহণ অপরিহার্য।
* ত্রাণ কার্য: বন্যা বা খরার মতো দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে পরিবহণ কাজে লাগে।
* সামাজিক গুরুত্ব: শিক্ষা, সংস্কৃতির প্রসার এবং উন্নত জীবনযাত্রা ও নগরায়ণে পরিবহণ অগ্রণী ভূমিকা নেয়।
* **পশ্চিম উপকূলের উল্লেখযোগ্য বন্দর:
* কান্ডালা (গুজরাট) - ভারতের একমাত্র করমুক্ত বন্দর।
* মুম্বাই (মহারাষ্ট্র) - ভারতের বৃহত্তম স্বাভাবিক সমুদ্র বন্দর ও প্রবেশদ্বার।
* নবসেবা বা জওহরলাল নেহরু - সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কৃত্রিম বন্দর।
* কোচি (কেরল) - মসলা রপ্তানিকারক, আরব সাগরের রানি।
* **পূর্ব উপকূলের উল্লেখযোগ্য বন্দর:
* কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ) - প্রাচীনতম নদীবন্দর।
* পারাদ্বীপ (ওড়িশা) - লৌহ ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানিকারক।
* বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) - স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত ('ডলফিন নোজ' দ্বারা সুরক্ষিত) বন্দর।
* চেন্নাই (তামিলনাড়ু) - ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও পূর্ব উপকূলের বৃহত্তম বন্দর।
আপনার প্রদান করা পাঠ্যবইয়ের তিনটি পৃষ্ঠা (১৩৯, ১৪০, ১৪১) গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও "100% Common Suggestion" প্রস্তুত করা হলো। এই অংশে পরিবহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা থেকে সম্ভাব্য সমস্ত প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
---
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) MCQমান ১
(গ) ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দিল্লি)।
(ক) ১৯৮৪ সালে (কলকাতায়)।
(খ) দিল্লিতে।
(খ) নাম্মা মেট্রো।
(ক) ডিগবয় থেকে তিনসুকিয়া (১৯০৬ সালে)।
(খ) ইন্টারনেট ও ই-মেল।
(খ) শিকড় আলগা শিল্প।