দশম শ্রেণি জীবন বিজ্ঞান: উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়া প্রদান (Master Suggestion)

Sensitivity and Response in Plants

দশম শ্রেণি জীবন বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায়: উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়া প্রদান - সম্পূর্ণ মাস্টার সাজেশন, MCQ, SAQ ও বড় প্রশ্ন। পরীক্ষায় ১০০% কমন পাওয়ার জন্য সেরা গাইড।

এই চ্যাপ্টার (জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় - প্রথম অংশ) থেকে এমনভাবে সমস্ত প্রশ্নোত্তর সাজানো হয়েছে যাতে আগামী মাধ্যমিক বা টেস্ট পরীক্ষায় এর বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা না থাকে। সমস্ত কনসেপ্ট কভার করে তৈরি করা এই মাস্টার গাইডটি ভালোভাবে পড়লে ১০০% কমন পাওয়া নিশ্চিত।

বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
মান ১

প্রতিটি কনসেপ্ট থেকে সম্ভাব্য সমস্ত প্রশ্ন

১.
লজ্জাবতী গাছের পাতায় স্পর্শ করলে পাতাগুলি তৎক্ষণাৎ মুড়ে যায়, এটি কী ধরনের চলন?
(ক) ফোটোন্যাস্টিক
(খ) সিসমোন্যাস্টিক
(গ) থার্মোন্যাস্টিক
(ঘ) কেমোন্যাস্টিক
উত্তর: (খ) সিসমোন্যাস্টিক
২.
বনচাঁড়াল (Desmodium gyrans) গাছের পাতার পার্শ্বীয় ফলক দুটির পর্যায়ক্রমিক ওঠানামা হলো একপ্রকার—
(ক) ট্যাকটিক চলন
(খ) ট্রপিক চলন
(গ) প্রকরণ চলন
(ঘ) ন্যাস্টিক চলন
উত্তর: (গ) প্রকরণ চলন (Turgor movement)
৩.
সূর্যমুখীর ফুল আলোর দিকে ফোটে এবং আলো কমলে বুজে যায়, এটি হলো—
(ক) ফোটোট্রপিক চলন
(খ) ফোটোন্যাস্টিক চলন
(গ) সিসমোন্যাস্টিক চলন
(ঘ) নিক্টিন্যাস্টিক চলন
উত্তর: (খ) ফোটোন্যাস্টিক চলন
৪.
উদ্ভিদের মূল সর্বদা অভিকর্ষের টানে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়, একে বলে—
(ক) প্রতিকূল জিওট্রপিক
(খ) অনুকূল জিওট্রপিক
(গ) তির্যক জিওট্রপিক
(ঘ) ডায়াজিওট্রপিক
উত্তর: (খ) অনুকূল জিওট্রপিক
৫.
ফোটোট্রপিক ও জিওট্রপিক চলন প্রধানত কোন হরমোনের প্রভাবে ঘটে?
(ক) জিব্বেরেলিন
(খ) সাইটোকাইনিন
(গ) অক্সিন
(ঘ) ইথিলিন
উত্তর: (গ) অক্সিন
৬.
ফার্নের শুক্রাণুর ম্যালিক অ্যাসিডের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হওয়া— এটি কোন ধরনের চলন?
(ক) কেমোট্রপিক
(খ) কেমোট্যাকটিক
(গ) কেমোন্যাস্টিক
(ঘ) ফোটোট্যাকটিক
উত্তর: (খ) কেমোট্যাকটিক
৭.
মস-এর শুক্রাণু কোন রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে ধাবিত হয়?
(ক) গ্লুকোজ
(খ) ম্যালিক অ্যাসিড
(গ) সুক্রোজ
(ঘ) প্রোটিন
উত্তর: (গ) সুক্রোজ (এটিও কেমোট্যাকটিক চলন)
৮.
টিউলিপ ফুল বেশি উষ্ণতায় ফোটে এবং কম উষ্ণতায় বুজে যায়— এটি হলো—
(ক) থার্মোন্যাস্টিক
(খ) ফোটোন্যাস্টিক
(গ) সিসমোন্যাস্টিক
(ঘ) কেমোন্যাস্টিক
উত্তর: (ক) থার্মোন্যাস্টিক
৯.
সূর্যশিশির ও কলসপত্রী নামক পতঙ্গভুক উদ্ভিদের পাতায় পতঙ্গ বসলে পাতাটি পতঙ্গকে ঘিরে ফেলে। এটি হলো—
(ক) ফোটোন্যাস্টিক
(খ) সিসমোন্যাস্টিক
(গ) কেমোন্যাস্টিক
(ঘ) থার্মোন্যাস্টিক
উত্তর: (গ) কেমোন্যাস্টিক (প্রোটিন বা রাসায়নিকের প্রভাবে)
১০.
আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের সাড়া পরিমাপের জন্য যে যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন তার নাম কী?
(ক) থার্মোমিটার
(খ) ক্রেস্কোগ্রাফ
(গ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
(ঘ) স্পাইরোমিটার
উত্তর: (খ) ক্রেস্কোগ্রাফ (ও রেজোন্যান্ট রেকর্ডার)
১১.
সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল মাটির উপরে উঠে আসে, এটি হলো—
(ক) অনুকূল অভিকর্ষবৃত্তীয় চলন
(খ) প্রতিকূল অভিকর্ষবৃত্তীয় (নেগেটিভ জিওট্রপিক) চলন
(গ) অনুকূল আলোকবৃত্তীয় চলন
(ঘ) খ এবং গ উভয়ই
উত্তর: (ঘ) খ এবং গ উভয়ই
১২.
পদ্ম ফুল দিনের বেলায় ফোটে এবং রাতে বুজে যায়— এটি কোন চলন?
(ক) ফোটোন্যাস্টিক
(খ) নিক্টিন্যাস্টিক
(গ) থার্মোন্যাস্টিক
(ঘ) সিসমোন্যাস্টিক
উত্তর: (ক) ফোটোন্যাস্টিক
১৩.
উদ্ভিদের কোন অঙ্গটি প্রতিকূল ফোটোট্রপিক চলন দেখায়?
(ক) কাণ্ড
(খ) মূল
(গ) পাতা
(ঘ) ফুল
উত্তর: (খ) মূল (আলোর বিপরীতে যায় বলে)
১৪.
যে চলন উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় কিন্তু গতিপথ দ্বারা নয়, তাকে বলে—
(ক) ট্যাকটিক
(খ) ট্রপিক
(গ) ন্যাস্টিক
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (গ) ন্যাস্টিক চলন
১৫.
ভলভক্স এবং ক্ল্যামাইডোমোনাস শৈবালের আলোর দিকে স্থান পরিবর্তন করা হলো—
(ক) ফোটোট্রপিক
(খ) ফোটোন্যাস্টিক
(গ) ফোটোট্যাকটিক
(ঘ) কেমোট্যাকটিক
উত্তর: (গ) ফোটোট্যাকটিক

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
মান ১

(শূন্যস্থান পূরণ / সত্য-মিথ্যা / এক কথায়)

১.
সংবেদনশীলতা কাকে বলে?
উত্তর: পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন বা উদ্দীপক শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী জীবদেহের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে।
২.
উদ্দীপক কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: দুই প্রকার। বাহ্যিক উদ্দীপক (আলো, তাপ, মাধ্যাকর্ষণ) এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক (হরমোন, উৎসেচক)।
৩.
ট্রপিক চলন বা দিকনির্ণীত চলন কাকে বলে?
উত্তর: উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদের বক্রচলনকে ট্রপিক চলন বলে।
৪.
পরাগনালীর ডিম্বকের দিকে অগ্রসর হওয়া কী প্রকার চলন?
উত্তর: কেমোট্রপিক চলন।
৫.
উদ্ভিদের কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকে যায়— এটি কী প্রকার চলন?
উত্তর: অনুকূল ফোটোট্রপিক (বা পজিটিভ ফোটোট্রপিজম)।
৬.
আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর পরীক্ষার জন্য প্রধানত কোন গাছ ব্যবহার করেছিলেন?
উত্তর: লজ্জাবতী (Mimosa pudica) এবং বনচাঁড়াল (Desmodium gyrans) গাছ।
৭.
ট্যাকটিক চলন কী?
উত্তর: বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাবে জীবদেহের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক বা আবিষ্ট চলন বলে।
৮.
শূন্যস্থান পূরণ করো: অক্সিন হরমোন উদ্ভিদের কাণ্ডের ________ চলন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
উত্তর: ফোটোট্রপিক এবং জিওট্রপিক।
৯.
সত্য না মিথ্যা নিরূপণ করো: ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতার ওপর নির্ভরশীল।
উত্তর: সত্য।
১০.
নিক্টিন্যাস্টিক চলন কী?
উত্তর: আলো ও তাপ উভয়ের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন ঘটে, তাকে নিক্টিন্যাস্টিক বা নিদ্রা চলন বলে। (যেমন— তেঁতুল পাতা রাতে বুজে যায়)।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
মান ২

এই প্রশ্নগুলো থেকে মাধ্যমিকে ১০০% কমন আসে

১.
চলন ও গমনের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: চলন: জীব এক জায়গায় স্থির থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে। এটি সাধারণত উদ্ভিদে দেখা যায় (ব্যতিক্রম: ক্ল্যামাইডোমোনাস)।
গমন: জীব সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে। এটি প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য (ব্যতিক্রম: স্পঞ্জ, প্রবাল)।
২.
ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের দুটি পার্থক্য লেখো। V.V.I
উত্তর:
বৈশিষ্ট্যট্রপিক চলনন্যাস্টিক চলন
উদ্দীপকের প্রভাবউদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।উদ্দীপকের তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
বৃদ্ধির সম্পর্কএটি একপ্রকার বৃদ্ধিজনিত চলন।প্রধানত রসস্ফীতিজনিত চলন, এটি বৃদ্ধিজনিত নয়।
৩.
ফোটোট্রপিক চলন বা আলোকবৃত্তীয় চলন বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।
উত্তর: আলোর উৎসের গতিপথের দিকে বা বিপরীত দিকে উদ্ভিদের অঙ্গের যে চলন ঘটে, তাকে ফোটোট্রপিক চলন বলে।
উদাহরণ: গাছের কাণ্ড সর্বদা আলোর দিকে বৃদ্ধি পায় (অনুকূল ফোটোট্রপিক), এবং মূল আলোর বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায় (প্রতিকূল ফোটোট্রপিক)।
৪.
প্রকরণ চলন (Turgor movement) কাকে বলে?
উত্তর: কোষের রসস্ফীতির (Turgor pressure) তারতম্যের কারণে উদ্ভিদের অঙ্গের যে স্বতঃস্ফূর্ত চলন ঘটে, তাকে প্রকরণ চলন বলে।
উদাহরণ: বনচাঁড়াল গাছের ত্রিফলকের পার্শ্বীয় ফলক দুটির ক্রমাগত ওঠানামা।
৫.
ট্যাকটিক চলন বা আবিষ্ট চলন কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: বাহ্যিক উদ্দীপকের (যেমন আলো, রাসায়নিক পদার্থ) প্রভাবে উদ্ভিদদেহ বা কোষের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বলে।
উদাহরণ: মসের শুক্রাণুর সুক্রোজের আকর্ষণে ডিম্বাণুর দিকে গমন (কেমোট্যাকটিক চলন)।
৬.
সিসমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?
উত্তর: স্পর্শ, আঘাত, বা বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উদ্দীপকের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদের যে ন্যাস্টিক চলন ঘটে, তাকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বলে।
উদাহরণ: লজ্জাবতী পাতা স্পর্শ করলে পাতার কোষের জল বেরিয়ে যায় (রসস্ফীতি কমে যায়) ফলে পাতা মুড়ে যায়।
৭.
কেমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?
উত্তর: কোনো রাসায়নিক পদার্থের (যেমন প্রোটিন বা ইথার) তীব্রতার সংস্পর্শে এলে উদ্ভিদ অঙ্গের যে চলন ঘটে, তাকে কেমোন্যাস্টিক চলন বলে।
উদাহরণ: সূর্যশিশির ও কলসপত্রী নামক পতঙ্গভুক উদ্ভিদের পাতায় পতঙ্গ (প্রোটিন) বসলে পাতাটি তৎক্ষণাৎ বেঁকে পতঙ্গকে আটকে ফেলে।
৮.
"উদ্ভিদের মূল অনুকূল অভিকর্ষবৃত্তীয় কিন্তু কাণ্ড প্রতিকূল অভিকর্ষবৃত্তীয়"— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অভিকর্ষ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে কাজ করে। উদ্ভিদের মূল সর্বদা অভিকর্ষ বলের টানে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে বৃদ্ধি পায়, তাই এটি অনুকূল জিওট্রপিক। অপরদিকে উদ্ভিদের কাণ্ড অভিকর্ষ বলের বিপরীত দিকে অর্থাৎ ওপরের দিকে বৃদ্ধি পায়, তাই এটি প্রতিকূল জিওট্রপিক।

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন
Long Questionsমান ৩ বা ৫

বিশ্লেষণমূলক ও প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্ন

১.
আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর পরীক্ষাগুলির সাহায্যে উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা কীভাবে প্রমাণিত হয় তা আলোচনা করো। V.V.I ৩/৫ মার্কস
উত্তর: বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু প্রমাণ করেছিলেন যে প্রাণীদের মতো উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে এবং তারা উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।
তিনি তাঁর আবিষ্কৃত ক্রেস্কোগ্রাফ এবং রেজোন্যান্ট রেকর্ডার (Resonant Recorder) যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করেন যে, উদ্ভিদ কোষে বাহ্যিক উদ্দীপক (যেমন তড়িৎ, তাপ, বা বিষাক্ত রাসায়নিক) প্রয়োগ করলে কোষে বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরি হয়।
লজ্জাবতীর পরীক্ষা: তিনি দেখান যে লজ্জাবতীর পাতায় বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা বা আঘাত দিলে পাতার কোষ থেকে জল বেরিয়ে যায়, ফলে রসস্ফীতি কমে পাতা নুইয়ে পড়ে।
বনচাঁড়ালের পরীক্ষা: বনচাঁড়াল গাছের পার্শ্বীয় পাতাগুলো কোনো উদ্দীপক ছাড়াই রসস্ফীতি পরিবর্তনের কারণে ওঠানামা করে, যা প্রমাণ করে উদ্ভিদে স্বতঃস্ফূর্ত চলন ঘটে।
২.
উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা একটি পরীক্ষার সাহায্যে বা রেখাচিত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করো। V.V.I ৫ মার্কস
উত্তর:
ফোটোট্রপিক চলনে ভূমিকা: অক্সিন হরমোন সর্বদা আলোর বিপরীত দিকে বা অন্ধকার অংশে বেশি মাত্রায় সঞ্চিত হয়। যখন কাণ্ডের একপাশে আলো পড়ে, তখন অক্সিন কাণ্ডের অন্ধকার দিকে চলে যায়। সেখানে কোষগুলোর দ্রুত বিভাজন ঘটিয়ে বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। ফলে কাণ্ডটি আলোর দিকে বেঁকে যায়।
জিওট্রপিক চলনে ভূমিকা: কাণ্ড ও মূলের ওপর অক্সিনের প্রভাব আলাদা। কাণ্ডের ক্ষেত্রে অক্সিনের বেশি ঘনত্ব কোষের বৃদ্ধি ঘটায়, কিন্তু মূলের ক্ষেত্রে অক্সিনের বেশি ঘনত্ব কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। মাটির সমান্তরালে রাখা একটি চারাগাছের মূলের নিচের দিকে অভিকর্ষের প্রভাবে বেশি অক্সিন জমা হয়। এর ফলে মূলের ওপরের দিকের কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে মূলকে মাটির দিকে (অনুকূল জিওট্রপিক) বাঁকিয়ে দেয়।
৩.
একটি ডালসহ টবকে মাটিতে অনুভূমিকভাবে (শুঁইয়ে) রেখে দিলে কয়েকদিন পর গাছে কী পরিবর্তন দেখা যাবে এবং কেন? (প্রয়োগমূলক প্রশ্ন) ৩ মার্কস
উত্তর: কয়েকদিন পর দেখা যাবে, উদ্ভিদের কাণ্ডটি বেঁকে ওপরের দিকে (আলোর দিকে) বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মূলটি বেঁকে নিচের দিকে (মাটির দিকে) অগ্রসর হচ্ছে।
কারণ:
কাণ্ডের এই চলনটি হলো প্রতিকূল জিওট্রপিক এবং অনুকূল ফোটোট্রপিক চলন।
মূলের এই চলনটি হলো অনুকূল জিওট্রপিক চলন। অভিকর্ষ বল এবং অক্সিন হরমোনের অসম বণ্টনের ফলেই এই বক্রচলন ঘটে।
৪.
ট্রপিক চলন, ট্যাকটিক চলন এবং ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো বা পার্থক্য লেখো। ৩/৫ মার্কস
উত্তর:
বৈশিষ্ট্যট্যাকটিক চলনট্রপিক চলনন্যাস্টিক চলন
উদ্দীপকের প্রভাবউদ্দীপকের তীব্রতা ও গতিপথ উভয়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
স্থান পরিবর্তনসমগ্র স্থান পরিবর্তন হয় (গমন)।স্থান পরিবর্তন হয় না, বক্রচলন ঘটে।স্থান পরিবর্তন হয় না, কেবল অঙ্গের চলন ঘটে।
বৃদ্ধির সম্পর্কএটি বৃদ্ধিজনিত চলন নয়।এটি বৃদ্ধিজনিত চলন।এটি রসস্ফীতিজনিত চলন (বৃদ্ধিজনিত নয়)।
উদাহরণক্ল্যামাইডোমোনাসের আলোর দিকে গমন।কাণ্ডের আলোর দিকে বেঁকে যাওয়া।লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শে বুজে যাওয়া।
৫.
উদ্ভিদের হাইড্রোট্রপিক (জলবৃত্তীয়) চলন প্রমাণের জন্য একটি সহজ পরীক্ষা বর্ণনা করো। ৩ মার্কস
উত্তর:
পরীক্ষা: একটি চালুনিতে ভিজে কাঠের গুঁড়ো বা করাতগুঁড়ো নিয়ে তার মধ্যে কয়েকটি ভিজে ছোলা বা মটর বীজ রেখে দেওয়া হলো। চালুনির নিচে কোনো মাটির পাত্র রাখা হলো না।
পর্যবেক্ষণ: কিছুদিন পর দেখা যাবে, বীজ থেকে মূল বেরিয়ে চালুনির ছিদ্র দিয়ে নিচের দিকে ঝুলে পড়েছে (জিওট্রপিক চলনের কারণে)। কিন্তু আরও কিছুদিন পর দেখা যাবে, মূলগুলো আবার ঘুরে চালুনির ভিজে কাঠের গুঁড়োর দিকে প্রবেশ করেছে।
সিদ্ধান্ত: এর থেকে প্রমাণিত হয়, উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষের (জিওট্রপিক) চেয়ে জলের (হাইড্রোট্রপিক) প্রতি বেশি সংবেদনশীল। জলের উৎসের দিকে মূলের এই বেঁকে যাওয়াকে অনুকূল হাইড্রোট্রপিক চলন বলে।

এই ফাইলটিতে দেওয়া প্রতিটি প্রশ্ন মাধ্যমিকের নতুন সিলেবাস ও প্যাটার্ন অনুযায়ী তৈরি। এর বাইরে আর কোনো কনসেপ্ট বাকি নেই।

Comments

You must be signed in to join the discussion.

Loading comments...

0
Share

Coming Soon!

We are working hard to bring you the best NCERT content. Stay tuned!