মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপব্যবহার নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা

মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপব্যবহার নিয়ে সংলাপ

মাধ্যমিক পরীক্ষায় নির্মিতি অংশে (মান: ৫) প্রতিবেদন রচনার বিকল্প হিসেবে 'কাল্পনিক সংলাপ রচনা' আসে। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার নিয়ে পরীক্ষোপযোগী সম্পূর্ণ সংলাপের আদর্শ সমাধান।

প্রশ্ন: বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপব্যবহারের কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। (মান: ৫ • অনধিক ১৫০ শব্দ)

মোবাইল ফোনের অপব্যবহার নিয়ে দুই বন্ধু অনির্বাণ ও সৌভিকের সংলাপ

স্থান: বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের এক কোণে
পাত্র: দুই সহপাঠী—অনির্বাণ ও সৌভিক


অনির্বাণ: কিরে সৌভিক! আজ বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি তুই বিকেলে আর মাঠে ফুটবল খেলতে আসছিস না। কী ব্যাপার বল তো? শরীর খারাপ নাকি?

সৌভিক: আরে না রে অনির্বাণ! শরীর ঠিকই আছে। আসলে আজকাল বিকেলে সময়ই পাই না। ঘরে বসে মোবাইলে অনলাইন গেম খেলি আর ইউটিউবে শর্টস-রিলস দেখতে দেখতে কখন যে তিন-চার ঘণ্টা কেটে যায়, বুঝতেই পারি না!

অনির্বাণ: সত্যি বলছি সৌভিক, তোর কথা শুনে আমার খুব চিন্তা হচ্ছে। মোবাইল ফোন অবশ্যই দরকারি আবিষ্কার, কিন্তু তুই যেভাবে এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছিস, এটা কিন্তু মারাত্মক বিপদের লক্ষণ!

সৌভিক: বিপদের কী আছে রে? আজকাল তো প্রায় সব বন্ধুই মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। ক্লাসের পরেও তো কতকিছু জানা যায়!

অনির্বাণ: জানার চেয়ে অপচয়ই তো বেশি হচ্ছে! ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমছে, রাতে ভালো ঘুম হচ্ছে না। তাছাড়া তুই খেয়াল করেছিস কি—গত ক্লাসের ইউনিট টেস্টে তোর ফলাফল কতটা খারাপ হয়েছে? পড়ার সময় মন একাগ্র না থাকলে পড়া মনে থাকবে কী করে?

সৌভিক: ঠিকই বলেছিস অনির্বাণ... আজকাল সত্যি পড়ার টেবিলে বসলে একটু পর পরই মোবাইলের নোটিফিকেশন চেক করতে ইচ্ছে করে। মনোযোগ একদম বসাতে পারছি না। মাথাব্যথাও হচ্ছে প্রায়ই।

অনির্বাণ: শুধু তুই একা নোস, বর্তমান প্রজন্মের বহু ছাত্রছাত্রী ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ডুবে গিয়ে বাস্তব জগৎ আর খেলার মাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত গেম খেলা আর সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধ মোহে আত্মহত্যার ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। প্রযুক্তি আমাদের সেবা করার জন্য, আমাদের জীবন ধ্বংস করার জন্য নয়।

সৌভিক: তুই আমার চোখ খুলে দিলি অনির্বাণ। আমি বুঝতে পারছি, আমি একটা মরণফাঁদে পা বাড়াচ্ছিলাম। এখন থেকে আমি কী করব বল তো?

অনির্বাণ: প্রথমত, পড়ার সময় ফোন দূরে রাখবি। দিনে আধঘণ্টার বেশি কোনোভাবেই ফোন ঘাঁটবি না। আর দ্বিতীয়ত, রোজ বিকেলে মাঠে আসবি, দৌড়ঝাঁপ করবি। শরীর আর মন দুটোই সতেজ থাকবে।

সৌভিক: একদম ঠিক বলেছিস ভাই! আজ থেকেই আমি ফোনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ করব এবং কাল বিকেল থেকেই তোর সাথে মাঠে নামব। অনেক ধন্যবাদ আমাকে সতর্ক করার জন্য।

অনির্বাণ: চল তবে, ক্লাসের ঘণ্টা পড়ে গেল, একসঙ্গে ক্লাসে যাই!

মাধ্যমিক প্রস্তুতি ও ফ্রি স্টাডি মেটেরিয়াল
গুরুত্বপূর্ণ বাংলা নোটস, সাজেশন ও PDF আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের কমিউনিটিতে যুক্ত হও:

Comments

Loading comments...