দশম শ্রেণীর ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়: ভারত - সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন | Class 10 Geography Chapter 5
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় 'ভারত' থেকে গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর।
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন - পঞ্চম অধ্যায়: ভারত
মাধ্যমিক ভূগোল চূড়ান্ত সাজেশন: 'ভারত' (India)
*(প্রদত্ত পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠাগুলির ওপর ভিত্তি করে ১০০% কমন সাজেশন)*
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) - [মান: ১]
১. ভারতের বর্তমান অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা হলো—
ক) ২৮টি ও ৮টি খ) ২৯টি ও ৭টি গ) ২৮টি ও ৯টি ঘ) ২৯টি ও ৮টি
উত্তর: ক) ২৮টি ও ৮টি
২. ক্ষেত্রমানের ভিত্তিতে ভারতের বৃহত্তম রাজ্যটি হলো—
ক) মধ্যপ্রদেশ খ) মহারাষ্ট্র গ) উত্তরপ্রদেশ ঘ) রাজস্থান
উত্তর: ঘ) রাজস্থান
৩. ভারতের নবীনতম রাজ্য কোনটি?
ক) গোয়া খ) ছত্তিশগড় গ) তেলেঙ্গানা ঘ) ঝাড়খণ্ড
উত্তর: গ) তেলেঙ্গানা
৪. রাজ্য পুনর্গঠনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি কোনটি?
ক) ধর্ম খ) ভাষা গ) জাতি ঘ) ভূপ্রকৃতি
উত্তর: খ) ভাষা
৫. ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত আরাবল্লীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো—
ক) গুরুশিখর খ) দোদাবেতা গ) ধূপগড় ঘ) মানপুর
উত্তর: ক) গুরুশিখর (১৭৭২ মি.)
৬. পূর্বঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
ক) মহেন্দ্রগিরি খ) জিন্দাগাদা গ) কলসুবাই ঘ) মলয়াদ্রি
উত্তর: খ) জিন্দাগাদা (১৬৯৯ মি.)
৭. নীলগিরি পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো—
ক) আনামুদি খ) দোদাবেতা গ) অমরকণ্টক ঘ) পাঁচমারি
উত্তর: খ) দোদাবেতা (২৬৩৭ মি.)
৮. থলঘাট গিরিপথ কোন দুটি শহরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে?
ক) মুম্বই ও পুনে খ) নাসিক ও মুম্বই গ) কোয়েম্বাটুর ও কোচি ঘ) মুম্বই ও গোয়া
উত্তর: খ) নাসিক ও মুম্বই
৯. 'ডেকানট্র্যাপ' অঞ্চলের প্রধান মৃত্তিকা হলো—
ক) লোহিত মৃ্ত্তিকা খ) ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা গ) রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা ঘ) পলি মৃত্তিকা
উত্তর: গ) রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা
১০. মালাবার উপকূলে বালিয়াড়িগুলি স্থানীয় ভাষায় কী নামে পরিচিত?
ক) কয়াল খ) টেরিস গ) রান ঘ) ময়দান
উত্তর: খ) টেরিস
১১. ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ বা লেগুন কোনটি?
ক) চিলকা খ) পুলিকট গ) ভেম্বানাদ ঘ) কোলেরু
উত্তর: ক) চিলকা
১২. দক্ষিণ ভারতের শস্যাভাণ্ডার বলা হয়—
ক) কৃষ্ণা বদ্বীপকে খ) গোদাবরী বদ্বীপকে গ) কাবেরী নদীর বদ্বীপকে ঘ) মহানদী বদ্বীপকে
উত্তর: গ) কাবেরী নদীর বদ্বীপ অঞ্চলকে (করমণ্ডল উপকূল)
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer) - [মান: ১]
**১. ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য ও ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নাম লেখো।**
উত্তর: ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য গোয়া এবং ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপ।
**২. সার্ক (SAARC)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?**
উত্তর: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে (১৯৮৫ সালে গঠিত)।
**৩. ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় কত সালে কার্যকর হয়?**
উত্তর: ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে।
**৪. দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ কী নামে পরিচিত?**
উত্তর: ডেকানট্র্যাপ।
**৫. 'মালনাদ' ও 'ময়দান' শব্দের অর্থ কী?**
উত্তর: 'মালনাদ' শব্দের অর্থ উঁচুনিচু ভূভাগ এবং 'ময়দান' শব্দের অর্থ অনুচ্চ সমতল বা তরঙ্গায়িত ভূমি।
**৬. ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা কোন রাজ্যের?**
উত্তর: গুজরাট রাজ্যের।
**৭. 'কচ্ছের রান' শব্দের অর্থ কী?**
উত্তর: লবণাক্ত জলাভূমি।
**৮. কেরলের মালাবার উপকূলে দেখা যাওয়া অসংখ্য উপহ্রদ বা জলাভূমিগুলিকে কী বলে?**
উত্তর: কয়াল (যেমন— ভেম্বানাদ, অষ্টমুদি)।
**৯. পৃথিবীর একমাত্র 'Wild Ass Sanctuary' বা বন্য গাধার অভয়ারণ্য কোথায় অবস্থিত?**
উত্তর: গুজরাটের কচ্ছের রান অঞ্চলে।
**১০. ভারতের মূল ভূখণ্ডের উপকূলের মোট দৈর্ঘ্য কত?**
উত্তর: ৫৪২৩ কিমি (দ্বীপপুঞ্জসহ মোট ৭৫১৬.৬ কিমি)।
**১১. পশ্চিমঘাট পর্বতের দুটি গিরিপথের নাম লেখো।**
উত্তর: থলঘাট (নাসিক-মুম্বই) এবং ভোরঘাট (মুম্বই-পুনে)।
**১২. নীলগিরি পর্বতকে 'Blue Mountain' বলা হয় কেন?**
উত্তর: এই অঞ্চলে সোলা বাস্তুতন্ত্রে প্রতি ১২ বছর অন্তর নীল রঙের 'নীলকুরিঞ্জি' ফুল ফোটে বলে একে ব্লু-মাউন্টেন বা নীলগিরি বলা হয়।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer) - [মান: ২]
**১. রাজ্য পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তিগুলি কী কী?**
উত্তর: ভারতে রাজ্য পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তিগুলি হলো— ১) ভাষা (সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ), ২) প্রশাসনিক সুবিধা, ৩) সংস্কৃতি, ৪) অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ৫) প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সাদৃশ্য।
**২. 'ডেকানট্র্যাপ' কাকে বলে?**
উত্তর: দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ ৬-১৩ কোটি বছর পূর্বে বিদার অগ্ন্যুৎগমের ফলে ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত হয়েছে। ধাপযুক্ত বা সিঁড়ির মতো আকৃতিবিশিষ্ট এই অঞ্চলকে 'ডেকানট্র্যাপ' বলে। ('ডেকান' অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং 'ট্র্যাপ' অর্থ সিঁড়ি বা ধাপ)।
**৩. মালনাদ ও ময়দান কী?**
উত্তর: কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিম দিকের উঁচুনিচু ঢেউ খেলানো ভূভাগকে 'মালনাদ' বলা হয় এবং এর পূর্ব দিকের মৃদু তরঙ্গায়িত অনুচ্চ ভূমিভাগকে 'ময়দান' বলা হয়। এটি গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত।
**৪. কয়াল কী? উদাহরণ দাও।**
উত্তর: ভারতের পশ্চিম উপকূলের মালাবার অংশে (কেরল) অসংখ্য দীর্ঘাকৃতি উপহ্রদ বা জলাভূমি (Back water) দেখা যায়। বারবার ভূ-আলোড়নজনিত উত্থান-পতনের কারণে সৃষ্ট এই জলাভূমিগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলে। যেমন: ভেম্বানাদ (ভারতের বৃহত্তম ও গভীরতম কয়াল), অষ্টমুদি।
**৫. পাট (Pat) অঞ্চল বলতে কী বোঝো?**
উত্তর: ছোটোনাগপুর মালভূমির পশ্চিম অংশে চারদিক খাড়া ঢালযুক্ত ও উপরিভাগ চ্যাপটা বা সমতল প্রকৃতির উচ্চভূমি 'পাট' অঞ্চল নামে পরিচিত। এর গড় উচ্চতা ১০০০ মিটার এবং এগুলি নদী উপত্যকা দ্বারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন।
**৬. অপভূমি বা ব্যাডল্যান্ড (Badland) কী?**
উত্তর: বৃষ্টিহীন শুষ্ক বা স্বল্প শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলে কঠিন অনুর্বর মৃত্তিকার ওপর জলধারার ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট সংকীর্ণ নালা বা খোয়াই ও র্যাভাইন যুক্ত এবড়োখেবড়ো অঞ্চলকে অপভূমি বা ব্যাডল্যান্ড বলে। যেমন: ভারতের চম্বল উপত্যকা।
---
D. ব্যাখ্যামূলক ও পার্থক্যমূলক প্রশ্ন (Explanatory/Difference) - [মান: ৩]
**১. পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।**
উত্তর:
* **বিস্তার:** পশ্চিমঘাট ভারতের পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রায় ১৬০০ কিমি দীর্ঘ, অন্যদিকে পূর্বঘাট পূর্ব উপকূল বরাবর প্রায় ১১৩১ কিমি দীর্ঘ।
* **উচ্চতা ও প্রকৃতি:** পশ্চিমঘাটের গড় উচ্চতা বেশি (প্রায় ১২০০ মি.) এবং এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন বা অবিচ্ছিন্ন পর্বতমালা। পূর্বঘাটের গড় উচ্চতা কম (৪০০-৬০০ মি.) এবং এটি বিভিন্ন নদীর দ্বারা গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন।
* **সর্বোচ্চ শৃঙ্গ:** পশ্চিমঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভাউল মালা (২৩৩৯ মি.), আর পূর্বঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জিন্দাগাদা (১৬৯৯ মি.)।
**২. পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি ও পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।**
উত্তর:
* **প্রকৃতি:** পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি সংকীর্ণ (১০-৬০ কিমি), খাড়া ঢালযুক্ত এবং ভগ্ন প্রকৃতির। পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি অনেক বেশি প্রশস্ত (১০০-১২০ কিমি), মৃদু ঢালযুক্ত এবং অভগ্ন প্রকৃতির।
* **বদ্বীপ সৃষ্টি:** পশ্চিম উপকূলে নদীগুলির মোহানায় কোনো বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি (এসচুয়ারি বা খাঁড়ি দেখা যায়), কিন্তু পূর্ব উপকূলে মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী প্রভৃতি নদীর মোহানায় সুবিশাল বদ্বীপ গড়ে উঠেছে।
* **কৃষিকাজ ও বন্দর:** পূর্ব উপকূল পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ায় কৃষিকাজে অত্যন্ত উন্নত। অন্যদিকে, পশ্চিম উপকূল ভগ্ন প্রকৃতির হওয়ায় এখানে স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত বহু উন্নত বন্দর গড়ে উঠেছে।
**৩. ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের তিনটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো।**
উত্তর:
* **খনিজ সম্পদ:** ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমি খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে আকরিক লোহা, কয়লা, বক্সাইট, মাইকা, সোনা, তামা প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় (যেমন- কোলার, রানিগঞ্জ, ঝরিয়া)।
* **কৃষিকাজ:** এই অঞ্চলের ডেকানট্র্যাপ বা লাভা গঠিত রেগুর (কৃষ্ণ) মৃত্তিকা কার্পাস বা তুলো চাষের জন্য আদর্শ। এছাড়া বাজরা, ভুট্টা ইত্যাদিও ভালো হয়।
* **জলবিদ্যুৎ ও বনজ সম্পদ:** এই অঞ্চলের খরস্রোতা নদীগুলি থেকে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এছাড়া পশ্চিমঘাট ও নীলগিরির ঘন অরণ্য থেকে মূল্যবান কাঠ ও বনজ সম্পদ সংগৃহীত হয়।
---
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer) - [মান: ৫]
**১. ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দাও।**
উত্তর: ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূল বরাবর গুজরাটের কচ্ছের রান থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত সমভূমিকে পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি বলে। এটি প্রধানত ৪টি উপবিভাগে বিভক্ত:
* **ক) গুজরাট উপকূলীয় সমভূমি:** ভারতের দীর্ঘতম এই উপকূলটি গুজরাট রাজ্যে অবস্থিত। এর আবার চারটি ভাগ রয়েছে— কচ্ছের রান, কচ্ছ উপদ্বীপ, কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ এবং গুজরাট সমভূমি। কচ্ছের রান হলো লবণাক্ত জলাভূমি এবং এখানেই পৃথিবীর একমাত্র বন্য গাধার অভয়ারণ্য (Wild Ass Sanctuary) অবস্থিত।
* **খ) কোঙ্কন উপকূল:** উত্তরে সুরাট থেকে দক্ষিণে গোয়া পর্যন্ত প্রায় ৪৫-৭৫ কিমি প্রশস্ত এই উপকূল অবস্থিত। মহারাষ্ট্রের মুম্বই শহর এই উপকূলে অবস্থিত।
* **গ) কর্ণাটক উপকূল:** গোয়া সীমানা থেকে দক্ষিণে ম্যাঙ্গালোর পর্যন্ত প্রায় ২২৫ কিমি দীর্ঘ এই সমভূমি বিস্তৃত। এটি অত্যন্ত খাড়া ঢালে সমুদ্রে মিশেছে।
* **ঘ) মালাবার উপকূল:** ম্যাঙ্গালোর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত কেরল রাজ্যে এই উপকূল অবস্থিত। এই উপকূলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অসংখ্য উপহ্রদ বা 'কয়াল'-এর উপস্থিতি (যেমন- ভেম্বানাদ)। এছাড়া এখানকার বালিয়াড়িগুলিকে স্থানীয় ভাষায় 'টেরিস' বলা হয়।
**২. ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির শ্রেণিবিভাগ করো এবং এদের সম্পর্কে আলোচনা করো।**
উত্তর: ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি উত্তরে সুবর্ণরেখা নদী থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় ২৩৮৭ কিমি দীর্ঘ। এটি প্রশস্ত, উর্বর এবং অসংখ্য বদ্বীপ যুক্ত। একে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
* **ক) উত্তরের সরকার উপকূল:** ওড়িশার সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণা নদীর বদ্বীপের পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। এর দুটি অংশ—
* *ওড়িশা বা উৎকল উপকূল:* এখানে এশিয়ার বৃহত্তম লেগুন বা উপহ্রদ 'চিলকা' অবস্থিত।
* *অন্ধ্র উপকূল:* পুলিকট হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত এই অংশে কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর মাঝে বিখ্যাত 'কোলেরু' হ্রদ অবস্থিত।
* **খ) করমণ্ডল উপকূল:** তামিলনাডুর পুলিকট হ্রদ থেকে কন্যাকুমারী অন্তরীপ পর্যন্ত এই অংশটি বিস্তৃত। এই অঞ্চলে কাবেরী নদীর উর্বর বদ্বীপ অবস্থিত, যা 'দক্ষিণ ভারতের শস্যাভাণ্ডার' নামে পরিচিত। বছরে দুবার বৃষ্টিপাত এবং উর্বর পলিমৃত্তিকার জন্য এই অঞ্চল কৃষিকাজে অত্যন্ত উন্নত। চেন্নাই শহর এই উপকূলে অবস্থিত।
**৩. ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমির অন্তর্গত 'দাক্ষিণাত্য মালভূমি'-এর ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।**
উত্তর: তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত উপদ্বীপীয় দাক্ষিণাত্য মালভূমির আয়তন প্রায় ৭.৫ লক্ষ বর্গকিমি। ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে একে প্রধান কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা যায়:
* **পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা সহ্যাদ্রি:** আরব সাগরের উপকূল বরাবর উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬০০ কিমি দীর্ঘ একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতমালা। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভাউল মালা (২৩৩৯ মি.)। এর গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথগুলি হলো থলঘাট, ভোরঘাট এবং পালঘাট।
* **পূর্বঘাট পর্বতমালা বা মলয়াদ্রি:** পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থিত এই খণ্ডিত পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো জিন্দাগাদা (১৬৯৯ মি.)।
* **নীলগিরি পর্বত:** এটি তামিলনাড়ুতে অবস্থিত যেখানে পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা মিলিত হয়েছে। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দোদাবেতা (২৬৩৭ মি.)। একে 'Blue Mountain'-ও বলা হয়।
* **ডেকানট্র্যাপ ও অন্যান্য মালভূমি:** এই মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত ধাপযুক্ত অঞ্চল, যাকে ডেকানট্র্যাপ বলে। এছাড়া এর পূর্বে রয়েছে কর্ণাটক মালভূমি (মালনাদ ও ময়দান অংশ) এবং তেলেঙ্গানা মালভূমি।
---
*শিক্ষকের মন্তব্য: উপরের প্রতিটি প্রশ্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার মানবণ্টন ও কাঠামো অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে এবং প্রদত্ত পাঠ্যপুস্তকের প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।*
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন (১০০% কমন)
অধ্যায়: ভারত (প্রাকৃতিক ভূগোল - ভারতের ভূপ্রকৃতি ও জলসম্পদ)
প্রদত্ত পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠাগুলি (৮৬-৯০) সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এই পূর্ণাঙ্গ সাজেশনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
---
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) - মান: ১
১. ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু হলো—
ক) কন্যাকুমারিকা খ) ইন্দিরা পয়েন্ট গ) ইন্দিরা কল ঘ) কিবিথু
উত্তর: খ) ইন্দিরা পয়েন্ট
২. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো—
ক) মাউন্ট হ্যারিয়েট খ) ব্যারেন গ) স্যাডল পিক ঘ) নারকোন্ডাম
উত্তর: গ) স্যাডল পিক (৭৩৭ মি.)
৩. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে বিচ্ছিন্ন করেছে—
ক) ডানকান প্যাসেজ খ) ১০° চ্যানেল গ) পক প্রণালী ঘ) ৯° চ্যানেল
উত্তর: খ) ১০° চ্যানেল
৪. ভারতের একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির নাম হলো—
ক) ব্যারেন খ) নারকোন্ডাম গ) পাম্বান ঘ) মিনিকয়
উত্তর: ক) ব্যারেন
৫. ভারতের দীর্ঘতম নদী হলো—
ক) গঙ্গা খ) ব্রহ্মপুত্র গ) গোদাবরী ঘ) সিন্ধু
উত্তর: ক) গঙ্গা (মোট দৈর্ঘ্য ২৫১০ কিমি, ভারতে ২০৭১ কিমি)
৬. গোদাবরী নদীর উৎস হলো—
ক) অমরকণ্টক শৃঙ্গ খ) মহাবালেশ্বর গ) ত্রিম্বক উচ্চভূমি ঘ) মুলতাই উচ্চভূমি
উত্তর: গ) ত্রিম্বক উচ্চভূমি
৭. ভারতের বৃহত্তম নদীদ্বীপ হলো—
ক) সাগরদ্বীপ খ) মাজুলি গ) ভেনিস ঘ) ঘোড়ামারা
উত্তর: খ) মাজুলি (ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে)
৮. 'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' বলা হয়—
ক) কৃষ্ণাকে খ) কাবেরীকে গ) গোদাবরীকে ঘ) নর্মদাকে
উত্তর: গ) গোদাবরীকে
৯. ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের বা স্বাদুজলের হ্রদ হলো—
ক) উলার খ) লোকটাক গ) ডাল ঘ) নৈনিতাল
উত্তর: খ) লোকটাক (মণিপুর)
১০. ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ বা লেগুন হলো—
ক) চিল্কা খ) পুলিকট গ) ভেম্বানাদ ঘ) কোলেরু
উত্তর: ক) চিল্কা
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer Type) - মান: ১
**শূন্যস্থান পূরণ করো:**
১. ডানকান প্যাসেজ দক্ষিণ আন্দামান ও ______________ কে বিচ্ছিন্ন করেছে।
উত্তর: ক্ষুদ্র আন্দামান
২. লাক্ষা ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জ গঠনগতভাবে একটি ______________ দ্বীপ।
উত্তর: প্রবাল
৩. গঙ্গা নদী ______________ এর কাছে সমভূমিতে অবতরণ করেছে।
উত্তর: হরিদ্বার
৪. ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতে ______________ নামে পরিচিত।
উত্তর: সাংপো
৫. ভারতের উচ্চতম লবণাক্ত জলের হ্রদ হলো ______________।
উত্তর: প্যাংগং (লাদাখ)
৬. ভারতের বৃহত্তম এবং গভীরতম কয়াল হলো ______________।
উত্তর: ভেম্বানাদ (কেরল)
**শুদ্ধ / অশুদ্ধ নির্ণয় করো:**
১. নর্মদা এবং তাপ্তী হলো ভারতের দুটি উল্লেখযোগ্য পূর্ববাহিনী নদী।
উত্তর: অশুদ্ধ (এগুলি পশ্চিমবাহিনী নদী)।
২. নারকোন্ডাম হলো একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
উত্তর: শুদ্ধ।
৩. সিন্ধু নদের উৎপত্তি হয়েছে মানস সরোবরের নিকট চেমায়ুং দুং হিমবাহ থেকে।
উত্তর: অশুদ্ধ (ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি চেমায়ুং দুং থেকে, সিন্ধুর উৎপত্তি সিঞ্জি খাবাব বা মানস সরোবর থেকে)।
৪. মাজুলি দ্বীপটি অসমে অবস্থিত।
উত্তর: শুদ্ধ।
**একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও:**
১. ভারতের একটি অন্তর্বাহিনী নদীর নাম লেখো।
উত্তর: লুনি (৫৩০ কিমি)।
২. পৃথিবীর সর্বোচ্চ নদী কাকে বলা হয়?
উত্তর: সাংপো (Sky River নামে পরিচিত)।
৩. ভারতের একটি প্লাবন খালের নাম লেখো।
উত্তর: ইডেন খাল বা হিজলি খাল।
৪. গঙ্গা নদীর ডানতীরের একটি প্রধান উপনদীর নাম লেখো।
উত্তর: যমুনা (বা শোন)।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer Type) - মান: ২
**১. কয়াল বা লেগুন কী? উদাহরণ দাও।**
উত্তর: সমুদ্র উপকূলবর্তী অগভীর ও লবণাক্ত জলভাগ যখন তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত থাকে এবং একদিক সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তাকে লেগুন বা উপহ্রদ বলে। কেরলের মালাবার উপকূলে এগুলিকে 'কয়াল' বলা হয়। যেমন— ভেম্বানাদ (ভারতের বৃহত্তম কয়াল), চিল্কা (ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ)।
**২. অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।**
উত্তর: যে সকল নদী কোনো সাগর বা মহাসাগরে না মিশে দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে পতিত হয়, তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে। উদাহরণ: লুনি নদী (কচ্ছের রনে পতিত হয়েছে)।
**৩. 'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' কাকে বলে এবং কেন?**
উত্তর: গোদাবরী নদীকে 'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' বলা হয়। কারণ, গঙ্গা নদীর মতো গোদাবরী হলো দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী (১৪৬৫ কিমি) এবং দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৃষিকাজে ও জলসেচে এই নদী গঙ্গার মতোই গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
**৪. নর্মদা ও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী কেন?**
উত্তর: টারশিয়ারি যুগের মায়োসিনি উপযুগে হিমালয়ের উত্থানকালে প্রবল ভূ-আলোড়নের প্রভাবে উপদ্বীপীয় মালভূমির মধ্যভাগে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। এই প্রবল চাপে নর্মদা ও তাপ্তী নদীর গতিপথে যে গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়, তার ঢাল পশ্চিমদিকে। এই পশ্চিমমুখী ঢালু গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলেই নর্মদা ও তাপ্তী পশ্চিমবাহিনী হয়ে আরব সাগরে পড়েছে।
**৫. আন্তর্জাতিক নদী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।**
উত্তর: যে সকল নদী দুই বা তার বেশি দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগর বা মহাসাগরে পতিত হয়, তাদের আন্তর্জাতিক নদী বলে। উদাহরণ: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু।
---
D. ব্যাখ্যামূলক ও রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Type) - মান: ৩ / ৫
**১. উত্তর ভারতের নদনদী ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীদের মধ্যে তিনটি/পাঁচটি প্রধান পার্থক্য লেখো। (V.V.I - মান: ৩/৫)**
উত্তর:
* **উৎস:** উত্তর ভারতের অধিকাংশ নদী হিমালয় পর্বতমালা থেকে সৃষ্ট। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী উপদ্বীপীয় মালভূমি থেকে সৃষ্ট।
* **জলের জোগান:** উত্তর ভারতের নদীগুলি বরফগলা জল ও বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় নিত্যবহ (সারা বছর জল থাকে)। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি কেবলমাত্র বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় অনিত্যবহ (বর্ষাকাল ছাড়া জল থাকে না)।
* **দৈর্ঘ্য ও বয়স:** উত্তর ভারতের নদীগুলির দৈর্ঘ্য অনেক বেশি এবং এরা বয়সে অপেক্ষাকৃত নবীন। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে ছোটো এবং এরা বয়সে অপেক্ষাকৃত প্রাচীন।
* **অববাহিকার আয়তন:** উত্তর ভারতের নদীগুলির অববাহিকার আয়তন বিশাল। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির অববাহিকার আয়তন তুলনামূলকভাবে কম।
* **নৌ-পরিবহন ও মোহনা:** উত্তর ভারতের নদীগুলি সমভূমি প্রবাহে নৌ-পরিবহনের যোগ্য এবং এদের মোহনায় ব-দ্বীপ দেখা যায়। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় নৌ-পরিবহনের অনুপযোগী এবং মোহনায় ব-দ্বীপ গঠিত হলেও তা আকারে ছোটো (যেমন নর্মদা ও তাপ্তীর মোহনায় ব-দ্বীপ নেই)।
**২. পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম উপকূলের পার্থক্য আলোচনা করো। (মান: ৩/৫)**
উত্তর:
* **উৎপত্তি:** পূর্ব উপকূল সমুদ্র তরঙ্গের ক্ষয় ও সঞ্চয় এবং নদী বাহিত পলির সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট। পশ্চিম উপকূল একাধিকবার ভূ-আন্দোলনজনিত উত্থান-পতন, তরঙ্গের ক্ষয় ও সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট।
* **প্রস্থ:** পূর্ব উপকূল বেশ চওড়া (১০০-১২০ কিমি)। পশ্চিম উপকূল সংকীর্ণ (১০-৫০ কিমি চওড়া)।
* **বালিয়াড়ি ও কয়াল:** পূর্ব উপকূলে সর্বত্র বালিয়াড়ি দেখা যায়। পশ্চিম উপকূলে কিছু কিছু স্থানে বালিয়াড়ি দেখা যায় এবং অসংখ্য কয়াল (Kayal) দেখা যায়।
* **কৃষিকাজ ও বন্দর:** পূর্ব উপকূলের উর্বর মৃত্তিকার জন্য কৃষিকাজ ভালো হয় ও জনবসতি ঘন। কিন্তু অগভীর হওয়ায় বন্দর গঠনের সমস্যা রয়েছে। পশ্চিম উপকূল অনুর্বর বলে কৃষিকাজ ভালো হয় না, কিন্তু গভীর হওয়ায় স্বাভাবিক বন্দর গঠনের অনুকূল।
**৩. গঙ্গা নদীর গতিপথ সংক্ষেপে আলোচনা করো। (মান: ৫)**
উত্তর: গঙ্গা ভারতের দীর্ঘতম ও প্রধান নদী (মোট দৈর্ঘ্য ২৫১০ কিমি)। এর গতিপথকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
* **উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ (উৎস থেকে হরিদ্বার):** গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে ভাগীরথী নামে উৎপন্ন হয়ে দেবপ্রয়াগের কাছে অলকানন্দার সাথে মিলিত হয়েছে এবং গঙ্গা নামে শিবালিক পর্বত অতিক্রম করে হরিদ্বারে সমভূমিতে পড়েছে।
* **মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ (হরিদ্বার থেকে রাজমহল পাহাড়):** হরিদ্বার থেকে নদীটি উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে রাজমহল পাহাড়ের কাছে এসে দক্ষিণমুখী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। এই অংশে যমুনা, শোন (ডানতীর) এবং গোমতী, ঘর্ঘরা, কোশী (বামতীর) প্রভৃতি উপনদী গঙ্গায় মিশেছে।
* **নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ (রাজমহল পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর):** পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে ভগবানগোলায় নদীটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে। প্রধান শাখাটি 'পদ্মা' নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং অপ্রধান শাখাটি 'ভাগীরথী-হুগলি' নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মোহনার কাছে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
**৪. ভারতের দ্বীপপুঞ্জগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। (মান: ৩)**
উত্তর: ভারতের দ্বীপ অঞ্চল প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত:
* **আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:** বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এটি প্রায় ২৬৫টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ স্যাডল পিক (৭৩৭ মি.)। ব্যারেন ও নারকোন্ডাম নামক আগ্নেয়গিরি এখানে অবস্থিত। ১০° চ্যানেল দ্বারা আন্দামান ও নিকোবর পরস্পর বিচ্ছিন্ন। এর সর্বদক্ষিণ বিন্দু 'ইন্দিরা পয়েন্ট' হলো সমগ্র ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু।
* **লাক্ষা ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জ:** আরব সাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি ৩৬টি ছোটো-বড়ো প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্রধান তিনটি হলো আমিনদিভি, কান্নানোর ও মিনিকয়।
---
**ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ টিপস্:**
> 📌 *ম্যাপ পয়েন্টিং-এর জন্য গঙ্গা, নর্মদা, তাপ্তী, গোদাবরী, চিল্কা হ্রদ, ডানক্যান প্যাসেজ এবং ১০° চ্যানেল বিশেষভাবে অনুশীলন করবে।*
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: ভারতের জলবায়ু (১০০% কমন)
দশম শ্রেণির ভূগোল পাঠ্যবইয়ের 'ভারতের জলবায়ু' অংশ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলো নিচে অধ্যায়ভিত্তিক বিভিন্ন বিভাগে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) - মান ১
১. 'মৌসুমি' শব্দটি একটি -
(a) আরবি শব্দ (b) ফরাসি শব্দ (c) ল্যাটিন শব্দ (d) গ্রিক শব্দ
উত্তর: (a) আরবি শব্দ ('মৌসিম')
২. ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো -
(a) হিমালয় পর্বত (b) সমুদ্রের নৈকট্য (c) মৌসুমি বায়ু (d) অক্ষাংশ
উত্তর: (c) মৌসুমি বায়ু
৩. গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবাহিত শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ুকে বলে -
(a) আঁধি (b) লু (c) কালবৈশাখী (d) চিনুক
উত্তর: (b) লু
৪. ভারতের সর্বাধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানটি হলো -
(a) চেরাপুঞ্জি (b) মৌসিনরাম (c) শিলং (d) উটি
উত্তর: (b) মৌসিনরাম
৫. কালবৈশাখী অসমে কী নামে পরিচিত?
(a) বরদৈছিলা (b) আম্রবৃষ্টি (c) কফিবৃষ্টি (d) আঁধি
উত্তর: (a) বরদৈছিলা
৬. বছরে দু-বার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল হলো -
(a) মালাবার উপকূল (b) করমণ্ডল উপকূল (c) কঙ্কন উপকূল (d) ওড়িশা উপকূল
উত্তর: (b) করমণ্ডল উপকূল (তামিলনাড়ু)
৭. এল-নিনো দেখা যায় -
(a) আটলান্টিক মহাসাগরে (b) প্রশান্ত মহাসাগরে (c) ভারত মহাসাগরে (d) সুমেরু মহাসাগরে
উত্তর: (b) প্রশান্ত মহাসাগরে
৮. শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটে -
(a) মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে (b) পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে (c) কালবৈশাখীর প্রভাবে (d) প্রত্যাবর্তকারী মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে
উত্তর: (b) পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে
৯. ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের নাম হলো -
(a) শিলং (b) চেরাপুঞ্জি (c) মৌসিনরাম (d) কলকাতা
উত্তর: (a) শিলং
১০. আম্রবৃষ্টি দেখা যায় -
(a) দক্ষিণ ভারতে (কেরল ও কর্ণাটক) (b) উত্তর-পশ্চিম ভারতে (c) পূর্ব ভারতে (d) উত্তর-পূর্ব ভারতে
উত্তর: (a) দক্ষিণ ভারতে (কেরল ও কর্ণাটক)
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer) - মান ১
১. 'মৌসিম' বা 'মনসিন' কথার অর্থ কী?
উত্তর: ঋতু।
২. ভারতের জলবায়ু প্রধানত কোন্ প্রকৃতির?
উত্তর: ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির।
৩. কোন্ পর্বত ভারতের জলবায়ুকে চরমভাবাপন্ন হতে দেয় না?
উত্তর: উত্তরের হিমালয় পর্বত (শীতল বাতাস আসতে বাধা দেয়)।
৪. গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে সৃষ্ট প্রবল ধূলিঝড়কে কী বলে?
উত্তর: আঁধি।
৫. শরৎকালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গে কী নামে পরিচিত?
উত্তর: আশ্বিনের ঝড়।
৬. শূন্যস্থান পূরণ করো: কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে আম্রবৃষ্টি _________ বৃষ্টি নামেও পরিচিত।
উত্তর: কফি বা চেরি ব্লসমস (Cherry blossoms)।
৭. শূন্যস্থান পূরণ করো: শীতকালীন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় বিঘ্ন ঘটায় বলে পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে _________ বলে।
উত্তর: Western Disturbance বা পশ্চিমী গোলযোগ।
৮. শুদ্ধ না অশুদ্ধ লেখো: লা-নিনার প্রভাবে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
উত্তর: শুদ্ধ।
৯. শুদ্ধ না অশুদ্ধ লেখো: আবল্লী পর্বতের অবস্থানের কারণে রাজস্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
উত্তর: অশুদ্ধ (বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়)।
১০. পশ্চিমঘাট পর্বতের কোন্ ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর: পশ্চিম ঢালে।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer) - মান ২
১. লু (Loo) ও আঁধি (Aandhi) কী?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে যে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তাকে 'লু' বলে। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে (রাজস্থান অঞ্চলে) যে প্রবল ধূলিঝড় (৫০-৬০ কিমি/ঘণ্টা বেগে) সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'আঁধি' বলে।
২. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা Western Disturbance কী?
উত্তর: শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশে (পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ইত্যাদি) হালকা বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত ঘটে। শীতকালীন শান্ত আবহাওয়ায় এই বায়ুপ্রবাহ বিঘ্ন ঘটায় বা অস্থিরতা সৃষ্টি করে বলে একে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।
৩. আম্রবৃষ্টি (Mango Shower) কী?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ ভারতের কেরল ও কর্ণাটক উপকূলে যে প্রাক্-মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়, তা আমচাষের পক্ষে খুব উপকারী। তাই স্থানীয়ভাবে একে আম্রবৃষ্টি বলে।
৪. কালবৈশাখী কী?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে বিকেলে মাঝে মাঝে পশ্চিমবঙ্গ, অসম প্রভৃতি রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ যে প্রবল ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে। এটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে 'নরওয়েস্টার' (Norwester)-ও বলা হয়।
৫. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে প্রতিবাদ ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর, যখন পর্বত অতিক্রম করে অনুবাত ঢালে পৌঁছায়, তখন বায়ুতে জলীয় বাষ্প অনেক কমে যায়। ফলে সেখানে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়। এই অল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। উদাহরণ: মেঘালয়ের শিলং, পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল।
---
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical) - মান ৩
১. তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় কেন?
উত্তর: তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রধান কারণ হলো:
* **প্রথমত (গ্রীষ্মকাল):** বর্ষার শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা যখন এই উপকূলে প্রবেশ করে, তখন প্রথমবার বৃষ্টিপাত ঘটায়।
* **দ্বিতীয়ত (শরৎকাল/শীতকাল):** শরৎকালে বা শীতের শুরুতে প্রত্যাবর্তনকারী উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে। এই আর্দ্র বায়ু পূর্বঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে করমণ্ডল উপকূলে দ্বিতীয়বার ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়।
২. ভারতের জলবায়ুর ওপর হিমালয় পর্বতের প্রভাব লেখো।
উত্তর: ভারতের জলবায়ুর ওপর হিমালয় পর্বতের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
* **শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:** দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সুউচ্চ হিমালয় পর্বতে বাধা পেয়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা কৃষিকাজে সাহায্য করে।
* **শীতল বায়ু প্রবেশে বাধা:** শীতকালে মধ্য এশিয়ার অতি শীতল ও কনকনে বাতাস হিমালয় পর্বত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ভারত চরম শৈত্যের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং শীতকালে গড় তাপমাত্রা বেশি থাকে।
৩. রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর: রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:
* **আরাবল্লী পর্বতের অবস্থান:** দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা আরাবল্লী পর্বতের সমান্তরালে প্রবাহিত হওয়ায় বায়ু পর্বতে বাধা পায় না, ফলে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না (২৫ সেমির কম)।
* **জলীয় বাষ্পের অভাব:** বঙ্গোপসাগরীয় শাখাটি গাঙ্গেয় সমভূমি দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে যখন রাজস্থানে পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প প্রায় নিঃশেষিত হয়ে যায়। ফলে সেখানে বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়, যা থর মরুভূমি সৃষ্টিতে সাহায্য করেছে।
৪. এল-নিনো ও লা-নিনা কীভাবে ভারতের জলবায়ুকে প্রভাবিত করে?
উত্তর: এল-নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দক্ষিণমুখী অস্থায়ী উষ্ণ সমুদ্রস্রোত। এল-নিনো বছরগুলিতে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে মৌসুমি বায়ু দেরিতে আসে এবং বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, যা খরার সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, লা-নিনা হলো একটি অতিশীতল সমুদ্রস্রোত। লা-নিনা বছরগুলিতে ভারতে মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় থাকে। এর প্রভাবে ভারত মহাসাগর থেকে প্রচুর আর্দ্র বায়ু ভারতে প্রবেশ করে, ফলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রাদুর্ভাব ঘটে।
---
E. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Long Answer) - মান ৫
১. ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের জলবায়ু বৈচিত্র্যপূর্ণ হলেও তা মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি হলো:
* **অক্ষাংশগত অবস্থান:** ভারতের প্রায় মাঝখান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩½° উত্তর) প্রসারিত হওয়ায় দেশের দক্ষিণাংশ উষ্ণ ক্রান্তীয় এবং উত্তরাংশ উপক্রান্তীয় বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর অন্তর্গত।
* **হিমালয় পর্বতের ভূমিকা:** উত্তরের সুউচ্চ হিমালয় পর্বত শীতকালে মধ্য এশিয়ার অতি শীতল বায়ুকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। আবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এই পর্বতে বাধা পেয়ে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
* **সমুদ্র সান্নিধ্য:** ভারতের দক্ষিণ দিক তিনদিক দিয়ে সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়। অন্যদিকে, সমুদ্র থেকে দূরে দেশের অভ্যন্তরভাগে (যেমন উত্তর ভারতে) চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে।
* **মৌসুমি বায়ু:** ভারতীয় জলবায়ুর সবচেয়ে বড়ো নিয়ন্ত্রক হলো মৌসুমি বায়ু। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু ভারতজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া সৃষ্টি করে।
* **ভূপ্রকৃতি বা উচ্চতা:** উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা কমে। তাই দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও অধিক উচ্চতার কারণে উটি বা নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চলের তাপমাত্রা সমভূমির তুলনায় অনেকটাই কম থাকে।
* **জেট বায়ুর প্রভাব:** শীতকালে উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট বায়ু তীব্র গতিতে প্রবাহিত হওয়ায় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার আগমন ঘটে এবং গ্রীষ্মকালে পুবালি জেট বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনকে ত্বরান্বিত করে।
২. ভারতের জলবায়ু বা জনজীবনে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের জলবায়ু, অর্থনীতি ও জনজীবনে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অপরিসীম:
* **বৃষ্টিপাত ও ঋতু পরিবর্তন:** ভারতে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫-৮০% দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঘটে। মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই ভারতে চারটি প্রধান ঋতু (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত) চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
* **কৃষিকাজের ওপর প্রভাব:** ভারতের কৃষিকাজ মূলত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। পরিমিত বৃষ্টিপাত হলে ধান, পাট ইত্যাদি ফসল ভালো হয়। আবার বৃষ্টিপাত কম হলে বা দেরিতে এলে খরা দেখা দেয়। অন্যদিকে শুষ্ক অঞ্চলে খরা-সহনশীল মিলেট জাতীয় শস্য উৎপাদিত হয়।
* **স্বাভাবিক উদ্ভিদের ওপর প্রভাব:** বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের বণ্টন নির্ভর করে। বেশি বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে চিরহরিৎ, মাঝারি বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে পর্ণমোচী এবং কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে সরলবর্গীয় বা কাঁটাঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়।
* **মৃত্তিকার ওপর প্রভাব:** অত্যধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে ধৌত প্রক্রিয়ার ফলে মাটি থেকে খনিজ অপসারিত হয়ে ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক অঞ্চলে অল্প বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায় এবং মৃত্তিকা আলগা ও অনুর্বর হয়।
* **অর্থনীতি ও জনজীবন:** ভারতের বাজেট এবং সামগ্রিক অর্থনীতি কৃষির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। মৌসুমি বৃষ্টির খামখেয়ালিপনার কারণে কখনো বন্যা আবার কখনো খরা দেখা দেয়, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে। তাই ভারতের অর্থনীতিকে অনেক সময় "মৌসুমি বায়ুর জুয়াখেলা" বলা হয়।
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন (১০০% কমন)
অধ্যায়: ভারত (প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মৃত্তিকা)
পাঠ্যবইয়ের প্রদত্ত পৃষ্ঠাগুলি (৭৫, ১০০-১০৩) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ সাজেশন প্রস্তুত করা হলো।
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ - মান ১)
**১. ভারতের আবহাওয়া অফিসের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?**
(ক) কলকাতা (খ) মুম্বাই (গ) নতুন দিল্লি (ঘ) চেন্নাই
উত্তর: (গ) নতুন দিল্লি (মৌসম ভবন)
**২. ভারতের তথা পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান কোনটি?**
(ক) চেরাপুঞ্জি (খ) মৌসিনরাম (গ) শিলং (ঘ) আগুম্বে
উত্তর: (খ) মৌসিনরাম
**৩. বছরে দু-বার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল কোনটি?**
(ক) মালাবার উপকূল (খ) করমণ্ডল উপকূল (গ) কোঙ্কন উপকূল (ঘ) গুজরাট উপকূল
উত্তর: (খ) করমণ্ডল উপকূল
**৪. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহের নাম কী?**
(ক) সিয়াচেন (খ) হিসপার (গ) জেমু (ঘ) বল্টারো
উত্তর: (ক) সিয়াচেন (৭৬ কিমি)
**৫. ভারতের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?**
(ক) কাঞ্চনজঙ্ঘা (খ) মাউন্ট এভারেস্ট (গ) গডউইন অস্টিন বা K2 (ঘ) নাঙ্গা পর্বত
উত্তর: (গ) গডউইন অস্টিন বা K2 (৮৬১১ মি.)
**৬. ভারতের উচ্চতম মালভূমি কোনটি?**
(ক) পামীর (খ) দাক্ষিণাত্য (গ) লাদাক (ঘ) ছোটোনাগপুর
উত্তর: (গ) লাদাক (৫০০০ মি.)
**৭. ভারতে সর্বাধিক স্থান জুড়ে কোন মৃত্তিকা রয়েছে?**
(ক) কৃষ্ণ মৃত্তিকা (খ) লোহিত মৃত্তিকা (গ) পলি মৃত্তিকা (ঘ) ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
উত্তর: (গ) পলি মৃত্তিকা (প্রায় ৪৫.৬%)
**৮. কৃষ্ণ মৃত্তিকার রং কালো হওয়ার কারণ কী?**
(ক) জৈব পদার্থ (খ) টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইট (গ) লৌহ অক্সাইড (ঘ) চুন
উত্তর: (খ) টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইট
**৯. মরু মৃত্তিকার স্থানীয় নাম কী?**
(ক) সিরোজেম (খ) খাদার (গ) রেগুর (ঘ) ভাঙর
উত্তর: (ক) সিরোজেম
**১০. ভারতের মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?**
(ক) ভোপাল (খ) দেরাদুন (গ) যোধপুর (ঘ) কলকাতা
উত্তর: (ক) ভোপাল
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSA - মান ১)
**১. ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের নাম লেখো।**
উত্তর: পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বঢাল বা মেঘালয়ের শিলং।
**২. ভারতের সর্বাধিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?**
উত্তর: অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা।
**৩. 'আশ্বিনের ঝড়' কোন মাসে দেখা যায়?**
উত্তর: অক্টোবর মাসে (শরৎকালে)।
**৪. 'মৌসুমি বিস্ফোরণ' ভারতের কোন উপকূলে প্রথম দেখা যায়?**
উত্তর: মালাবার উপকূলে।
**৫. লাদাক মালভূমির দুটি বিখ্যাত লবণাক্ত হ্রদের নাম লেখো।**
উত্তর: প্যাংগং এবং সো মোরিরি।
**৬. কাশ্মীর উপত্যকা কোন কোন পর্বতের মাঝে অবস্থিত?**
উত্তর: জাস্কর ও পিরপাঞ্জাল পর্বতের মাঝে।
**৭. কারগিল শহর কোন পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত?**
উত্তর: জাস্কর পার্বত্য অঞ্চলে।
**৮. কোন শিলা থেকে কৃষ্ণ মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়?**
উত্তর: ব্যাসল্ট শিলা ও লাভা থেকে।
**৯. লোহিত মৃত্তিকার রং লাল হওয়ার কারণ কী?**
উত্তর: লোহা বা ফেরিক অক্সাইডের আধিক্য।
**১০. 'প্রণালী ক্ষয়' (Gully Erosion) কোথায় দেখা যায়?**
উত্তর: উদ্ভিদহীন অধিক ঢালু ভূমিতে জলধারার কারণে প্রণালী ক্ষয় দেখা যায়।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SA - মান ২)
**১. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) কী?**
উত্তর: শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট দুর্বল ঘূর্ণবাতের প্রভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে (পাঞ্জাব সমভূমি এবং জম্মু-কাশ্মীরে) যে হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।
**২. আশ্বিনের ঝড় কী?**
উত্তর: অক্টোবর মাসে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু এবং বঙ্গোপসাগরীয় আর্দ্র সামুদ্রিক বায়ু মিলিত হয়ে দুর্বল ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি করে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে ও পূর্ব উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হয়। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আশ্বিন মাসে এটি ঘটে বলে একে আশ্বিনের ঝড় বলে।
**৩. কারাকোরাম পর্বতের অবস্থান লেখো। এর দুটি উল্লেখযোগ্য হিমবাহের নাম কী?**
উত্তর: কারাকোরাম পর্বত ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পামীর গ্রন্থি থেকে উত্তর-পূর্বে কুনলুন পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দুটি উল্লেখযোগ্য হিমবাহ হলো - সিয়াচেন (ভারতের দীর্ঘতম, ৭৬ কিমি) এবং বিয়াফো।
**৪. জাস্কর পর্বতশ্রেণির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।**
উত্তর: লাদাকের দক্ষিণে সুরু নদী থেকে কর্নালী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৬৪০ কিমি দীর্ঘ পর্বতশ্রেণি হলো জাস্কর। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কামেট (৭৭৫৬ মি.)। বিখ্যাত কারগিল শহর এবং সিপকিলা, লিপুলেখ নামক গিরিপথগুলি এই অঞ্চলে অবস্থিত।
**৫. পলি মৃত্তিকার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।**
উত্তর: (১) এই মাটির প্রধান উপাদান পলি, নুড়ি ও কাদা, এর উর্বরতা অনেক বেশি। (২) এই মাটিতে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও চুন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম থাকে।
**৬. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মাটির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।**
উত্তর: (১) টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইটের উপস্থিতির কারণে এর রং কালো হয়। (২) এই মৃত্তিকায় কাদা বা কর্দমের পরিমাণ বেশি (৩০-৮০%) হওয়ায় এর জলধারণ ক্ষমতা খুব ভালো, যা তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
**৭. সিরোজেম কী? এটি কোথায় দেখা যায়?**
উত্তর: সিরোজেম হলো মরু অঞ্চলের হালকা গ্রন্থনযুক্ত বালি-জাতীয় ধূসর রঙের অনুর্বর মৃত্তিকা। এটি ভারতের পশ্চিম রাজস্থান, দক্ষিণ হরিয়ানা, দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাব এবং গুজরাটের কিছু অঞ্চলে দেখা যায়।
**৮. চাদর ক্ষয় (Sheet Erosion) ও নালি ক্ষয় (Rill Erosion) বলতে কী বোঝো?**
উত্তর:
* **চাদর ক্ষয়:** ঢালু ভূমির ওপর দিয়ে প্রবহমান জলধারা মৃত্তিকার ওপরের স্তরকে চাদরের মতো সমানভাবে অপসারণ করলে তাকে চাদর ক্ষয় বলে।
* **নালি ক্ষয়:** জলধারার মাধ্যমে অসংখ্য ক্ষুদ্র নালিকার মধ্য দিয়ে মাটির উপরিভাগ অপসারিত হলে তাকে নালি ক্ষয় বলে।
---
D. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (মান ৩)
**১. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মাটির বৈশিষ্ট্য ও বণ্টন লেখো।**
উত্তর:
* **বৈশিষ্ট্য:** (১) ব্যাসল্ট শিলা থেকে সৃষ্ট এই মাটির রং টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইটের কারণে কালো হয়। (২) কাদাকণার পরিমাণ বেশি থাকায় এর জলধারণ ক্ষমতা খুব ভালো। (৩) এই মাটি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ।
* **বণ্টন:** ভারতের প্রায় ১৬.৬% অঞ্চল জুড়ে এই মৃত্তিকা দেখা যায়। প্রধানত মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকে এর বিস্তার।
* **ফসল:** তুলা (সর্বশ্রেষ্ঠ), গম, জোয়ার, আখ, সূর্যমুখী প্রভৃতি।
**২. লোহিত মৃত্তিকা ও ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।**
উত্তর:
* **সৃষ্টি:** প্রাচীন আর্কিয়ান যুগের গ্রানাইট ও নিস শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে লোহিত মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, লৌহসমৃদ্ধ শিলা (গ্রানাইট, নিস, সিস্ট) থেকে অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে ল্যাটেরাইট মাটির সৃষ্টি হয়।
* **রং ও উপাদান:** লৌহ বা ফেরিক অক্সাইডের আধিক্যে লোহিত মাটির রং লাল হয়। ল্যাটেরাইট মাটির রং ইটের মতো লাল হয় এবং এতে অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ বেশি থাকে।
* **কৃষিকাজ:** লোহিত মাটিতে জলসেচের সাহায্যে ধান, তামাক, চীনাবাদাম ইত্যাদি চাষ হয়। ল্যাটেরাইট মাটি অত্যন্ত অনুর্বর, তবে সার ও জলসেচের সাহায্যে চা, কফি, রাবার, কাজুবাদাম চাষ হয়।
**৩. মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রাকৃতিক কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।**
উত্তর: মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান প্রাকৃতিক কারণগুলি হলো:
* **প্রবহমান জলধারা:** জলের প্রভাবে চাদর ক্ষয় (বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ওপরের স্তরের মাটি ক্ষয়), নালি ক্ষয় (ক্ষুদ্র নালিকার মাধ্যমে ক্ষয়) এবং প্রণালী ক্ষয় (অধিক ঢালু অংশে গভীর খাতের মাধ্যমে ক্ষয়) ঘটে।
* **বায়ুপ্রবাহ:** শুষ্ক ও প্রায়-শুষ্ক অঞ্চলে উদ্ভিদ আবরণের অভাবে প্রবল বায়ুপ্রবাহ লম্ফদান বা ভাসমান পদ্ধতিতে মাটিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়িয়ে নিয়ে যায়।
* **বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি:** প্রবল বর্ষণের সময় বৃষ্টির বড়ো বড়ো ফোঁটা সজোরে মাটিতে আঘাত করে মৃত্তিকার কণাগুলিকে আলগা করে দেয়, ফলে সহজে মৃত্তিকা ক্ষয় হয়।
**৪. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক উপবিভাগগুলির নাম উল্লেখ করো এবং লাদাক মালভূমির পরিচয় দাও।**
উত্তর: ভারতের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলকে চারটি উপবিভাগে ভাগ করা হয়— কারাকোরাম, লাদাক, জাস্কর ও হিমালয় পর্বতশ্রেণি।
* **লাদাক মালভূমির পরিচয়:** কারাকোরাম পর্বতের দক্ষিণে ৩০০০-৬০০০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট এবং ৩৭০ কিমি দীর্ঘ এটি ভারতের উচ্চতম (৫০০০ মি.) এবং শীতলতম মালভূমি। এটি একাধিক পর্বত ও মালভূমি (যেমন- আকসাই চিন, সোডা সমভূমি) দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এখানকার বিখ্যাত দুটি লবণাক্ত হ্রদ হলো প্যাংগং ও সো মোরিরি।
---
E. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LA - মান ৫)
**১. ভারতের যেকোনো দুটি প্রধান মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য, বণ্টন এবং উৎপাদিত ফসল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো। (পলি ও কৃষ্ণ মৃত্তিকা)**
উত্তর:
**(ক) পলি মৃত্তিকা (Alluvial Soil):**
* **বৈশিষ্ট্য:** (১) নদী অববাহিকায় পলি, বালি ও কাদা সঞ্চিত হয়ে এই মাটি গড়ে ওঠে। (২) এই মাটিতে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ক্ষারীয় পদার্থ পর্যাপ্ত থাকলেও জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেন কম থাকে। (৩) জলধারণ ক্ষমতা কম হলেও এই মৃত্তিকা কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত উর্বর।
* **বণ্টন:** ভারতের প্রায় ৪৫.৬% অঞ্চল (১৫ লক্ষ বর্গকিমি) জুড়ে এটি বিস্তৃত। উত্তর ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা এবং দক্ষিণ ভারতের মহানদী-গোদাবরী-কৃষ্ণা-কাবেরীর বদ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।
* **ফসল:** ধান, গম, যব, ভুট্টা, পাট, আখ ও শাকসবজি।
**(খ) কৃষ্ণ মৃত্তিকা (Black Soil):**
* **বৈশিষ্ট্য:** (১) ব্যাসল্ট ও লাভা শিলা থেকে সৃষ্ট এই মাটির রং কালো হয়। (২) এতে কাদার ভাগ বেশি (৩০-৮০%) থাকায় এর জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। (৩) ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হলেও নাইট্রোজেন কম থাকে।
* **বণ্টন:** মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে (প্রায় ১৬.৬% বা ৫.৪৬ লক্ষ বর্গকিমি) এই মাটি দেখা যায়।
* **ফসল:** তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হওয়ায় একে 'ব্ল্যাক কটন সয়েল' বলা হয়। এছাড়া গম, জোয়ার, আখ, তিসি, বাদাম প্রভৃতি চাষ হয়।
**২. মৃত্তিকা ক্ষয় কাকে বলে? ভারতের মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান প্রাকৃতিক কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।**
উত্তর:
বৃষ্টিপাত, নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তিগুলির ক্রিয়ায় মৃত্তিকার উপরিস্তরের কণাগুলি অপসারিত হওয়ার ঘটনাকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
**মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান প্রাকৃতিক কারণ:**
* **১. প্রবহমান জলধারা:** জলধারার মাধ্যমে মৃত্তিকা ক্ষয় প্রধানত তিনভাবে ঘটে:
* *(i) চাদর ক্ষয়:* সমানভাবে ঢালু ভূমির ওপর দিয়ে প্রবহমান জলধারা মৃত্তিকার ওপরের স্তরকে চাদরের মতো সমভাবে অপসারণ করে।
* *(ii) নালি ক্ষয়:* ঢালু ভূমিতে জলধারার প্রভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য নালিকার সৃষ্টি হয় এবং মাটি অপসারিত হয়।
* *(iii) প্রণালী ক্ষয়:* উদ্ভিদহীন অধিক ঢালু অংশে নালিগুলি আরও বড় ও গভীর খাড়া খাতের সৃষ্টি করে, যা প্রণালী ক্ষয় নামে পরিচিত।
* **২. বায়ুপ্রবাহ:** শুষ্ক মরু ও প্রায়-শুষ্ক অঞ্চলে উদ্ভিদের আবরণ থাকে না। ফলে প্রবল বায়ুপ্রবাহ আলগা মৃত্তিকাকে ভাসিয়ে বা গড়িয়ে সহজেই অন্যত্র নিয়ে যায় এবং ভূমিরূপের অবনমন ঘটায়।
* **৩. বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি:** প্রবল বর্ষণের সময় বৃষ্টির বড়ো বড়ো ফোঁটা সজোরে মাটির ওপর আঘাত করে মাটির কণাগুলিকে আলগা ও শিথিল করে দেয়। পরবর্তীকালে সেই শিথিল মৃত্তিকা জলধারার সঙ্গে ধুয়ে গিয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
**৩. ভারতের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের কারাকোরাম ও জাস্কর পর্বতশ্রেণির ভূ-প্রকৃতির বিবরণ দাও।**
উত্তর:
**কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি:**
* **অবস্থান ও বিস্তার:** এটি ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পামীর গ্রন্থি থেকে উত্তর-পূর্বে কুনলুন পর্বত পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কিমি দীর্ঘ এবং ২৪০ কিমি প্রশস্ত এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
* **ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:** প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে সিনোজোয়িক যুগে এটি সৃষ্টি হয়। এখানকার পর্বতশৃঙ্গগুলি অত্যন্ত উচ্চ। গডউইন অস্টিন বা K2 (৮৬১১ মি.) হলো এই পর্বতের এবং ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম)। এছাড়া গ্যাসাব্রুম-১, গ্যাসাব্রুম-২, ব্রডপিক উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ।
* **হিমবাহ:** এর প্রায় ৫০% অংশ সারা বছর বরফাবৃত থাকে। এখানকার উল্লেখযোগ্য দীর্ঘ হিমবাহগুলি হলো সিয়াচেন (৭৬ কিমি, ভারতের দীর্ঘতম), বিয়াফো, বল্টারো, হিসপার ও বাতুরা।
**জাস্কর পর্বতশ্রেণি:**
* **অবস্থান ও বিস্তার:** লাদাক পর্বতের দক্ষিণে সুরু নদী থেকে কর্নালী নদী পর্যন্ত প্রায় ৬৪০ কিমি দীর্ঘ এলাকা জুড়ে জাস্কর পর্বতশ্রেণি বিস্তৃত।
* **শৃঙ্গ ও গিরিপথ:** এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো কামেট (৭৭৫৬ মি.)। সিপকিলা, লিপুলেখ এবং মানা হলো এখানকার বিখ্যাত গিরিপথ।
* **শহর:** কারগিল এই পার্বত্য অঞ্চলের একটি বিখ্যাত শহর।
এখানে মাধ্যমিক ভূগোল (অধ্যায়: ভারত - মৃত্তিকা ক্ষয় ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ) থেকে ১০০% কমনযোগ্য সম্পূর্ণ সাজেশন দেওয়া হলো:
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: ভারত (মৃত্তিকা ক্ষয় ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ)
পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠা নং ১০৪-১০৮ অবলম্বনে তৈরি।
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ - মান ১)
১. মৃত্তিকা ক্ষয়ের একটি অন্যতম প্রধান মনুষ্যসৃষ্ট কারণ হলো—
(ক) নদীর ক্ষয়কার্য (খ) অবৈজ্ঞানিক খনন ও বৃক্ষচ্ছেদন (গ) বায়ুপ্রবাহ (ঘ) হিমবাহের ক্ষয়কার্য
উত্তর: (খ) অবৈজ্ঞানিক খনন ও বৃক্ষচ্ছেদন
২. পাহাড়ের ঢাল বরাবর ধাপ সৃষ্টি করে কৃষিকাজ করাকে কী বলে?
(ক) গালি চাষ (খ) ফালি চাষ (গ) ধাপ চাষ (ঘ) স্থানান্তর কৃষি
উত্তর: (গ) ধাপ চাষ
৩. কোন কৃষিপদ্ধতি রোধ করলে মৃত্তিকা ক্ষয় বহুলাংশে কমানো যায়?
(ক) ফালি চাষ (খ) জুমচাষ (গ) ধাপ চাষ (ঘ) সমোন্নতি রেখা চাষ
উত্তর: (খ) জুমচাষ
৪. ভারতের কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি দেখা যায়?
(ক) গাঙ্গেয় সমভূমি (খ) পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল (গ) রাজস্থান (ঘ) মধ্যপ্রদেশ
উত্তর: (খ) পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল
৫. কোন অরণ্যের গাছ শুষ্ক ঋতুতে বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য পাতা ঝরিয়ে দেয়?
(ক) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী (খ) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ (গ) ম্যানগ্রোভ (ঘ) পার্বত্য
উত্তর: (ক) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী
৬. দক্ষিণ ভারতের পার্বত্য বনভূমি (যেমন- নীলগিরি, পালনি) কী নামে পরিচিত?
(ক) তৈগা (খ) শোলা বনভূমি (গ) সেলভা (ঘ) সাভানা
উত্তর: (খ) শোলা বনভূমি
৭. শ্বাসমূল (Pneumatophore) ও ঠেসমূল দেখা যায় কোন উদ্ভিদে?
(ক) ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদে (খ) সরলবর্গীয় উদ্ভিদে (গ) ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে (ঘ) পর্ণমোচী উদ্ভিদে
উত্তর: (গ) ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে
৮. জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম দেখা যায় না এমন একটি ম্যানগ্রোভ গাছ হলো—
(ক) গরান (খ) গেঁওয়া (গ) সুন্দরী (ঘ) কেওড়া
উত্তর: (গ) সুন্দরী
৯. পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য কোনটি?
(ক) সুন্দরবন (খ) তামিলনাড়ুর পিচাভরম (গ) ভিতরকণিকা (ঘ) কচ্ছের রান
উত্তর: (ক) সুন্দরবন (বি.দ্র. পিচাভরম হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম)
১০. ভারতের অরণ্য গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
(ক) এলাহাবাদ (খ) দেরাদুন (গ) কলকাতা (ঘ) যোধপুর
উত্তর: (খ) দেরাদুন
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer - মান ১)
১. প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয় প্রতিরোধের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় কী?
উত্তর: বৃক্ষরোপণ।
২. প্রশ্ন: সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ কাকে বলে?
উত্তর: পাহাড়ি অঞ্চলে সমোন্নতি রেখা বরাবর জমিগুলিতে আল বা বাঁধ দিয়ে কৃষিজমি তৈরি করে চাষবাস করাকে সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ বলে।
৩. প্রশ্ন: ফালি চাষ কী?
উত্তর: ভূমির ঢাল সম্পন্ন অঞ্চলে ঢালের আড়াআড়ি দিক বরাবর ভূমিকে কিছুটা সমতল করে শস্য চাষ করাকে ফালি চাষ বলে।
৪. প্রশ্ন: ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্যের দুটি গাছের নাম লেখো।
উত্তর: মেহগনি, আবলুস (বা রোজউড, রবার)।
৫. প্রশ্ন: ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় কেন?
উত্তর: শুষ্ক জলবায়ুতে বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য।
৬. প্রশ্ন: পূর্ব হিমালয়ের ৩০০০-৪০০০ মিটার উচ্চতায় কী ধরনের অরণ্য দেখা যায়?
উত্তর: সরলবর্গীয় অরণ্য (পাইন, ফার, স্প্রুস)।
৭. প্রশ্ন: ভারতের সামাজিক বনসৃজন গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে।
৮. প্রশ্ন: 'চিপকো আন্দোলন' ভারতের কোন রাজ্যে গড়ে উঠেছিল?
উত্তর: উত্তরাখণ্ডে (গাছ কাটার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য)।
৯. প্রশ্ন: ভারতের বনভূমির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কত শতাংশ?
উত্তর: মাত্র ২১.০৫% (৬৯২০২৭ বর্গ কিমি)।
১০. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় বননীতি ও বন সংরক্ষণ আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
উত্তর: জাতীয় বননীতি ১৯৫২ সালে এবং বন সংরক্ষণ আইন ১৯৮০ সালে প্রণয়ন করা হয়।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer - মান ২)
১. প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয় বলতে কী বোঝো? এর দুটি কারণ লেখো।
উত্তর: প্রাকৃতিক শক্তি বা মনুষ্যসৃষ্ট কারণে উর্বর মৃত্তিকার উপরিস্তর অপসারিত হওয়াকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
**দুটি কারণ:** অবৈজ্ঞানিক খননকার্য এবং অনিয়ন্ত্রিত বৃক্ষচ্ছেদন ও পশুচারণ।
২. প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয়ের দুটি ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করো।
উত্তর:
* উর্বর মৃত্তিকার উপরিস্তর অপসারিত হওয়ায় কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।
* খাল ও নদীতে পলি সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, ফলে নদীর নাব্যতা কমে গিয়ে বন্যা ও খরার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
৩. প্রশ্ন: ধাপ চাষ ও ফালি চাষের মাধ্যমে কীভাবে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করা যায়?
উত্তর: পাহাড়ের ঢাল বরাবর ধাপ কেটে চাষ করলে জলপ্রবাহের গতি বাধা পায় এবং মৃত্তিকা ক্ষয় হ্রাস পায়। ফালি চাষের ক্ষেত্রে ঢালের আড়াআড়ি দিক বরাবর ভূমি সমতল করে চাষ করলেও জলের গতিবেগ কমে গিয়ে মৃত্তিকা ক্ষয় নিয়ন্ত্রিত হয়।
৪. প্রশ্ন: ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্যের উদ্ভিদের পাতা চিরসবুজ থাকে কেন?
উত্তর: এই অরণ্য অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি এবং গড় উষ্ণতা (২৫°-২৭° সে.) বেশি থাকে। সারাবছর পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও উষ্ণতা থাকায় গাছগুলি একযোগে তাদের পাতা ঝরায় না, তাই এই বনভূমি চিরহরিৎ বা চিরসবুজ থাকে।
৫. প্রশ্ন: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের দুটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:
* কর্দমাক্ত মাটিতে গাছকে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখার জন্য এদের কাণ্ড থেকে ঠেসমূল ও স্তম্ভমূল বের হয়।
* মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় শ্বাসকার্যের সুবিধার্থে এদের শ্বাসমূল (Pneumatophore) থাকে।
৬. প্রশ্ন: বনসৃজন (Afforestation) ও পুনর্বনসৃজন (Reforestation) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পতিত বা অনাবাদি জমি এবং জলাধারের পাড়ে নতুন করে উদ্ভিদ চারা রোপণ করে বনভূমি গড়ে তোলাকে বনসৃজন বলে।
অন্যদিকে অরণ্যের পরিষ্কৃত, দাবানলে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা বৃক্ষশূন্য অঞ্চলে পুনরায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনভূমি তৈরি করাকে **পুনর্বনসৃজন** বলে।
---
D. ব্যাখ্যামূলক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (Explanatory Short Answer - মান ৩)
১. প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয় প্রতিরোধের তিনটি প্রধান উপায় আলোচনা করো।
উত্তর: মৃত্তিকা ক্ষয় রোধের তিনটি প্রধান উপায় হলো—
* **বৃক্ষরোপণ:** পতিত জমিতে বা পাহাড়ের ঢালে বৃক্ষরোপণ মৃত্তিকা ক্ষয় রোধের শ্রেষ্ঠ উপায়। গাছের শেকড় মাটিকে শক্ত করে আটকে রাখে।
* **ধাপ চাষ:** পাহাড়ি ঢালে ধাপ কেটে কৃষিকাজ করলে প্রবহমান জলের গতি বাধা পায় এবং মাটি ক্ষয় কমে।
* **ফালি ও গালি চাষ:** পাহাড়ি ঢালের আড়াআড়ি সমতল ফালি বা নালি তৈরি করে প্রবহমান জলধারাকে বাধা দিয়ে শস্য চাষ করলে মৃত্তিকা ক্ষয় বহুলাংশে হ্রাস পায়। এছাড়া জুমচাষ নিয়ন্ত্রণ করেও মৃত্তিকা ক্ষয় কমানো যায়।
২. প্রশ্ন: ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য এবং ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্যের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
* **বৃষ্টিপাত:** চিরহরিৎ অরণ্যে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি হয়। পর্ণমোচী অরণ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাঝারি (৬০-১৫০ সেমি)।
* **গাছের প্রকৃতি:** চিরহরিৎ অরণ্যের গাছ সারা বছর সবুজ থাকে। পর্ণমোচী অরণ্যের গাছ শীতের শেষে বা বসন্তে আর্দ্রতার অভাবে বাষ্পমোচন রোধ করতে পাতা ঝরিয়ে দেয়।
* **উদ্ভিদের উদাহরণ:** চিরহরিৎ অরণ্যের গাছ হলো মেহগনি, আবলুস, রবার। পর্ণমোচী অরণ্যের গাছ হলো শাল, সেগুন, শিমুল, মহুয়া।
৩. প্রশ্ন: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে এদের পরিবেশের সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর: ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদ সমুদ্র উপকূলীয় জোয়ার-ভাটা প্লাবিত কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত পরিবেশে জন্মায়।
* কর্দমাক্ত কাদামাটিতে অক্সিজেনের খুব অভাব থাকে, তাই শ্বাসকার্যের জন্য এদের মূল মাটি ফুঁড়ে ওপরে উঠে আসে (শ্বাসমূল)।
* কাদা-বালিযুক্ত আলগা মাটিতে গাছগুলি যাতে সহজে উপড়ে না যায়, সেজন্য কাণ্ড থেকে ঠেসমূল ও স্তম্ভমূল বের হয়।
* সমুদ্রের নোনা জলে বীজ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে, এদের বীজের অঙ্কুরোদ্গমের সুবিধার্থে ফলের ভেতরে থাকা অবস্থাতেই জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম ঘটে (ব্যতিক্রম সুন্দরী গাছ)।
৪. প্রশ্ন: অরণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বা ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের ব্যবহার সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর:
* **শিল্পজ কাঠ:** শাল, সেগুন, শিরীষ কাঠ আসবাবপত্র ও জাহাজ নির্মাণে এবং শিমুল, পাইন প্যাকিং বাক্স ও দেশলাই প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়।
* **উপজাত দ্রব্য ও ওষুধ:** বনভূমি থেকে রজন, আঠা (ধুনো), মধু, মোম পাওয়া যায়। বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ থেকে ওষুধ তৈরি হয়।
* **জ্বালানি ও পশুচারণ:** বাবলার শুকনো ডালপালা জ্বালানি হিসেবে এবং ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের পাতা পুষ্টিকর পশুখাদ্যরূপে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অরণ্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
---
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer - মান ৫)
১. প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয়ের মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলি এবং এর ফলাফল বিস্তারিত আলোচনা করো।
**সংকেত:** (মনুষ্যসৃষ্ট কারণ হিসেবে জনসংখ্যার চাপ, অনিয়ন্ত্রিত পশুচারণ, অবৈজ্ঞানিক খনন, বৃক্ষচ্ছেদন, প্রথাগত কৃষিপদ্ধতি নিয়ে লিখতে হবে। ফলাফলের মধ্যে উর্বর উপরিস্তরের অপসারণ, ভৌমজলের স্তর হ্রাস, মরুভূমির প্রসার, বন্যা ও খরার বৃদ্ধি, নদীর নাব্যতা হ্রাসের কথা উল্লেখ করতে হবে।)
২. প্রশ্ন: ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ করো এবং যেকোনো দুটি অরণ্যের বণ্টন, উদ্ভিদের নাম ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
**সংকেত:** (স্বাভাবিক উদ্ভিদকে ৫টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়- চিরহরিৎ, পর্ণমোচী, মরু, পার্বত্য এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমি। এর মধ্যে যেকোনো দুটি অরণ্য যেমন ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে হবে।)
৩. প্রশ্ন: হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চতাভেদে স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈচিত্র্য আলোচনা করো।
**সংকেত:** (উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উদ্ভিদ প্রকৃতির পরিবর্তন হয়। পূর্ব ও পশ্চিম হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ১০০০ মিটার পর্যন্ত চিরহরিৎ/পর্ণমোচী, ১০০০-৩০০০ মিটারে মিশ্র পর্ণমোচী, ৩০০০-৪০০০ মিটারে সরলবর্গীয় এবং ৪০০০-৫০০০ মিটার উচ্চতায় আল্পীয় উদ্ভিদের বিন্যাস, বৈশিষ্ট্য ও গাছের নাম আলোচনা করতে হবে।)
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: ভারত (India)
(১০০% কমন সাজেশন - নির্বাচিত প্রশ্নোত্তর)
আপনার দেওয়া দশম শ্রেণির ভূগোলের ৪টি পৃষ্ঠার উপর ভিত্তি করে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য একটি সম্পূর্ণ সাজেশন প্রস্তুত করা হলো। এখানে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লাইন থেকে প্রশ্ন বাছাই করা হয়েছে।
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) - মান ১
1. ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
(a) মাউন্ট এভারেস্ট (b) গডউইন অস্টিন (K2) (c) কাঞ্চনজঙ্ঘা (d) মাকালু
উত্তর: (b) গডউইন অস্টিন (K2) (৮৬১১ মিটার)
2. পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট নেপালিদের কাছে কী নামে পরিচিত?
(a) সাগরমাথা (b) চোমোলুংমা (c) গডউইন অস্টিন (d) কাঞ্চনজঙ্ঘা
উত্তর: (a) সাগরমাথা
3. ভারতের উচ্চতম গিরিপথ কোনটি?
(a) খারদুংলা (b) মানা বা ডুংরিলা (c) জোজিলা (d) নাথুলা
উত্তর: (b) মানা বা ডুংরিলা (৫৬১০ মি.)
4. কাশ্মীর উপত্যকার 'কারেওয়া' মৃত্তিকা কোন চাষের জন্য বিখ্যাত?
(a) চা (b) আপেল (c) জাফরান (d) কফি
উত্তর: (c) জাফরান
5. মালাবার উপকূলে অবস্থিত অসংখ্য জলাভূমিকে কী বলা হয়?
(a) কয়াল (b) রন (c) লেগুন (d) দুন
উত্তর: (a) কয়াল
6. ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ কোনটি?
(a) ডাল (b) উলার (c) প্যাংগং (d) সম্বর
উত্তর: (b) উলার
7. শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের থেকে বয়ে আনা নদী ও হিমবাহের ক্ষয়জাত নুড়ি-বালি সঞ্চিত হয়ে যে উপত্যকা গঠিত হয়েছে, তাকে কী বলে?
(a) দুন (b) কারেওয়া (c) তাল (d) কয়াল
উত্তর: (a) দুন (যেমন- দেরাদুন)
8. 'ডেকানট্র্যাপ' (Deccan Trap) কথাটিতে 'Trap' শব্দের অর্থ কী?
(a) মালভূমি (b) সিঁড়ি বা ধাপ (c) লাভা (d) দাক্ষিণাত্য
উত্তর: (b) সিঁড়ি বা ধাপ
9. জম্মু ও শ্রীনগরের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী গিরিপথ কোনটি?
(a) জোজিলা (b) জেলেপ লা (c) বানিহাল বা জওহর টানেল (d) নাথুলা
উত্তর: (c) বানিহাল বা জওহর টানেল
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer Type) - মান ১
1. সামাজিক বনসৃজন কাকে বলে?
উত্তর: গ্রামাঞ্চলের অনুন্নত ও দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট অরণ্য সীমার বাইরে পতিত, পরিত্যক্ত বা অনাবাদি জমিতে গাছ লাগিয়ে অরণ্যের বিকাশ ঘটানোকে সামাজিক বনসৃজন বলে।
2. কৃষি বনসৃজনের প্রধান গাছগুলির নাম লেখো।
উত্তর: শাল, মেহগনি, কলা, আম, জাম, সুপারি, নারকেল, নিম, তুলসী, বাসক ইত্যাদি।
3. আশ্বিনের ঝড় কাকে বলে?
উত্তর: শরৎকালে ভারত মহাসাগরের দিকে আগত উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণবাতকে পশ্চিমবঙ্গে 'আশ্বিনের ঝড়' বলে।
4. 'Vale of Kashmir' বা 'ভূস্বর্গ' কাকে বলা হয়?
উত্তর: বৈচিত্র্যময় ও অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য কাশ্মীর উপত্যকাকে 'ভূস্বর্গ' বা 'Vale of Kashmir' বলা হয়।
5. মাউন্ট এভারেস্ট তিব্বতীয়দের কাছে কী নামে পরিচিত?
উত্তর: চোমোলুংমা (Chomlungma)।
6. মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রথম কে মেপেছিলেন?
উত্তর: রাধানাথ শিকদার।
7. কাশ্মীর হিমালয়ের দুটি লবণাক্ত জলের হ্রদের নাম লেখো।
উত্তর: প্যাংগং এবং সো মোরিরি (Tso Moriri)।
8. ভারতের একটি বৃহত্তম দুন উপত্যকার নাম লেখো।
উত্তর: দেরাদুন।
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer Type) - মান ২
1. সামাজিক বনসৃজনের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য লেখো।
উত্তর:
(i) গ্রামীণ গরিব মানুষদের আয় বৃদ্ধি করে জনগণের সামগ্রিক উন্নতি ঘটানো।
(ii) মিশ্র বনভূমি তৈরির মাধ্যমে জ্বালানি কাঠ, ফলমূল, কাঠ ও পশুখাদ্য উৎপাদন করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।
2. কৃষি বনসৃজনের উদ্দেশ্যগুলি কী কী?
উত্তর: (i) জমিতে জৈব সারের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, (ii) প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা, এবং (iii) ভূমিক্ষয় রোধ করা।
3. কারেওয়া (Karewa) কী?
উত্তর: কাশ্মীর উপত্যকায় ১০০-২০০ মিটার উঁচু হ্রদের চারপাশে ধাপযুক্ত উর্বর পলিস্তরকে স্থানীয় কাশ্মীরি ভাষায় 'কারেওয়া' বলা হয়। কারেওয়া কথার অর্থ 'উচ্চ টেবিলভূমি'। এটি জাফরান ও আপেল চাষের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত।
4. ডেকানট্র্যাপ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: 'Decan' শব্দের অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং 'Trap' শব্দের অর্থ সিঁড়ি বা ধাপ। পশ্চিমঘাট পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ের ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে নেমে গেছে, একেই একত্রে 'ডেকানট্র্যাপ' বলা হয়।
5. কয়াল কী?
উত্তর: ভূ-আন্দোলনজনিত কারণে মালাবার উপকূলে ভূভাগের উত্থান ও নিমজ্জনের ফলে যে অসংখ্য লবণাক্ত জলাভূমির সৃষ্টি হয়েছে, তাদের স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলা হয়।
6. কাশ্মীর উপত্যকা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: উচ্চ হিমালয় ও পীরপঞ্জাল পর্বতশ্রেণির মাঝে অবস্থিত এই উপত্যকা প্রামথিকভাবে ভূ-আন্দোলন, ভূমিকম্প এবং পরবর্তীকালে নদী ও হিমবাহের মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
D. বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন (Analytical Questions) - মান ৩
1. হিমাদ্রি বা প্রধান হিমালয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: হিমাদ্রি হিমালয় হলো হিমালয়ের প্রস্থ বরাবর সমান্তরাল চারটি বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ অংশ। এর গড় উচ্চতা ৬০০০ মিটার।
* **শৃঙ্গ:** পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৫০ মি., নেপালে অবস্থিত), ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮৫৮৬ মি.), এছাড়াও মাকালু, ধবলগিরি, নাঙ্গা পর্বত, অন্নপূর্ণা, নন্দাদেবী প্রভৃতি শৃঙ্গ এই অংশে অবস্থিত।
* **গিরিপথ:** নাথুলা, বুর্জিলা, ডুংরিলা এখানকার উল্লেখযোগ্য গিরিপথ।
2. কাশ্মীর হিমালয়ের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ অঞ্চলে বিস্তৃত কাশ্মীর হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।
* এর গড় উচ্চতা ৩০০০ মিটার। অসংখ্য হিমবাহ উপত্যকা, বরফে ঢাকা সুউচ্চ শৃঙ্গ ও গভীর উপত্যকা এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
* এখানে কারাকোরাম, লাডাক, জাস্কর, উচ্চ হিমালয় এবং পীরপঞ্জালের মতো ৫টি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণি বিস্তৃত।
* সিন্ধু ও তার উপনদী (যেমন- বিতস্তা বা ঝিলাম) এখানকার প্রধান নদী।
3. কারেওয়া উপত্যকা সৃষ্টির ইতিহাস ও তার অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।
উত্তর:
* **সৃষ্টির ইতিহাস:** প্লেইস্টোসিন (Pleistocene) যুগে পীরপঞ্জাল পর্বত সৃষ্টির সময় এই অঞ্চলের নদীগুলির গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে বিশাল হ্রদের সৃষ্টি করে। পরবর্তীকালে হ্রদের জল সরে গেলে পর্বতশ্রেণির মাঝে যে ধাপযুক্ত পলল সমভূমি উন্মুক্ত হয়, তা কারেওয়া উপত্যকা নামে পরিচিত।
* **গুরুত্ব:** এখানকার মৃত্তিকা বিশ্ববিখ্যাত জাফরান (Saffron) চাষের জন্য আদর্শ। এছাড়াও আলমন্ড, আপেলসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল এখানে প্রচুর পরিমাণে চাষ হয় যা স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Type Questions) - মান ৫
1. প্রস্থ বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? যে-কোনো দুটি ভাগের বিবরণ দাও।
উত্তর: প্রস্থ বা উত্তর-দক্ষিণ বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে মূলত চারটি সমান্তরাল ভাগে ভাগ করা যায়: (i) টেথিস বা ট্রান্স হিমালয়, (ii) হিমাদ্রি বা প্রধান হিমালয়, (iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয়, এবং (iv) শিবালিক বা অবহিমালয়।
* **টেথিস হিমালয়:** এটি হিমালয়ের সর্ব উত্তরে তিব্বত সংলগ্ন অংশে অবস্থিত। গড় উচ্চতা ৩০০০-৫০০০ মিটার। কারাকোরাম, লাডাক, জাস্কর এখানকার প্রধান পর্বত। কারাকোরামের K2 (৮৬১১ মি.) ভারতের সর্বোচ্চ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ।
* **শিবালিক হিমালয়:** এটি হিমালয়ের সর্ব দক্ষিণ অংশ। এর গড় উচ্চতা ৬০০-১৫০০ মি.। হিমাদ্রি ও হিমাচল হিমালয় থেকে নদী ও হিমবাহ বাহিত নুড়ি, বালি জমে এই অংশের সৃষ্টি। এর উত্তর ঢাল ক্রমশ ঢালু হয়ে বিভিন্ন উপত্যকা বা 'দুন'-এ পরিণত হয়েছে (যেমন- দেরাদুন)।
2. আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতশ্রেণির শ্রেণিবিভাগ করো এবং পশ্চিম হিমালয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: এস. পি. চ্যাটার্জি-র মতে দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতশ্রেণিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: (i) পশ্চিম হিমালয়, (ii) মধ্য হিমালয় এবং (iii) পূর্ব হিমালয়।
* **পশ্চিম হিমালয়ের বিবরণ:** পশ্চিমে সিন্ধু নদী থেকে পূর্বে কালী নদী পর্যন্ত প্রায় ৮৮০ কিমি দীর্ঘ এলাকা জুড়ে পশ্চিম হিমালয় বিস্তৃত। এটি জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত। একে তিনটি উপবিভাগে ভাগ করা যায়:
* **(a) কাশ্মীর হিমালয়:** গড় উচ্চতা ৩০০০ মি.। কারাকোরাম, লাডাক, জাস্কর ও পীরপঞ্জাল পর্বতশ্রেণি এখানে অবস্থিত। এটি সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, কারেওয়া উপত্যকা এবং ডাল, উলার, প্যাংগং-এর মতো হ্রদের জন্য বিখ্যাত।
* **(b) হিমাচল হিমালয়:** হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত এই অংশের গড় উচ্চতা ৩৭০০-৪৫০০ মি.। পীরপঞ্জাল, ধৌলাধর, নাগটিব্বা এখানকার প্রধান পর্বত। কুলু, কাংড়া, লাহুল এখানকার বিখ্যাত উপত্যকা।
* **(c) কুমায়ুন হিমালয়:** উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত।
সামগ্রিকভাবে পশ্চিম হিমালয় অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়, যেখানে সুউচ্চ বরফাবৃত শৃঙ্গ, গভীর উপত্যকা ও অসংখ্য হ্রদ দেখতে পাওয়া যায়।
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: দশম শ্রেণি
অধ্যায়: ভারত (প্রাকৃতিক পরিবেশ)
*(প্রদত্ত পৃষ্ঠাগুলি অবলম্বনে ১০০% কমন সাজেশন)*
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) - মান ১
**১. ভারতের সর্ব দক্ষিণ বিন্দুটি হল—**
(ক) কন্যাকুমারিকা (খ) ইন্দিরা কল (গ) ইন্দিরা পয়েন্ট (ঘ) গুহারমতি
উত্তর: (গ) ইন্দিরা পয়েন্ট
**২. ভারত ও চিনের মধ্যে অবস্থিত সীমারেখাটির নাম—**
(ক) র্যাডক্লিফ লাইন (খ) ম্যাকমোহন লাইন (গ) ডুরান্ড লাইন (ঘ) LOC
উত্তর: (খ) ম্যাকমোহন লাইন
**৩. ভারতের উচ্চতম গিরিপথ কোনটি?**
(ক) জোজিল (খ) সিপকিলা (গ) রোটাং (ঘ) মানা বা ডুংরিলা
উত্তর: (ঘ) মানা বা ডুংরিলা (৫,৬১১ মি.)
**৪. হিমাচল হিমালয় ও শিবালিক শ্রেণির মধ্যে অবস্থিত প্রায় সমতল উপত্যকাকে বলে—**
(ক) দুন (খ) তাল (গ) ভাবর (ঘ) তরাই
উত্তর: (ক) দুন
**৫. পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল—**
(ক) কাঞ্চনজঙ্ঘা (খ) সান্দাকফু (গ) ফালুট (ঘ) সবরগ্রাম
উত্তর: (খ) সান্দাকফু
**৬. মেঘালয় মালভূমির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?**
(ক) শিলং পাহাড় (খ) নকরেক (গ) সরামতী (ঘ) দাফাবুম
উত্তর: (ক) শিলং পাহাড়
**৭. রাজস্থানের মরু অঞ্চলে চলমান বালিয়াড়িকে কী বলা হয়?**
(ক) ধান্দ (খ) থালি (গ) ধ্রিয়ান (ঘ) হামাদা
উত্তর: (গ) ধ্রিয়ান
**৮. পাঞ্জাব সমভূমিতে নদী দ্বারা ক্ষয়িত হয়ে দু-দিক খাড়া পাড় যুক্ত প্রাচীন পলি সমৃদ্ধ অঞ্চলকে বলে—**
(ক) বেট (খ) ধায়া (গ) চোশ (ঘ) খাদার
উত্তর: (খ) ধায়া
**৯. শিবালিক পর্বতের পাদদেশ বরাবর নুড়ি, পাথর, বালি সমৃদ্ধ অনুর্বর ভূমিকে বলে—**
(ক) ভাবর (খ) তরাই (গ) ভুর (ঘ) খাদার
উত্তর: (ক) ভাবর
**১০. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ কোনটি?**
(ক) মাজুলি (খ) সাগর দ্বীপ (গ) বদ্বীপ (ঘ) আন্দামান
উত্তর: (ক) মাজুলি
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (এক কথায় উত্তর) - মান ১
১. ভারতের মোট আয়তন কত?
উত্তর: ৩২ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬৩ বর্গ কিমি।
২. আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীতে ভারতের স্থান কত?
উত্তর: সপ্তম।
৩. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মান কত?
উত্তর: ৮২°৩০' পূর্ব।
৪. কোন দেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তরেখা সবচেয়ে দীর্ঘ?
উত্তর: বাংলাদেশ (৪,০৯৬.৭ কিমি)।
৫. কুমায়ুন হিমালয়ে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে?
উত্তর: তাল (যেমন- নৈনিতাল)।
৬. ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
উত্তর: কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮৫৯৮ মি.)।
৭. কাশ্মীর উপত্যকায় কোন্ ধরনের মৃত্তিকা দেখা যায়?
উত্তর: কারেওয়া মৃত্তিকা।
৮. হিমালয় সংক্রান্ত গবেষণা কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: দেরাদুনে।
৯. ভারতের মরু গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: রাজস্থানের যোধপুরে (Central Arid Zone Research Institution)।
১০. আরাবল্লি পর্বতের পশ্চিমে ঋতুভিত্তিক ছোটো ছোটো নদী বিধৌত উর্বর প্লাবন ভূমিকে কী বলে?
উত্তর: রোহি।
১১. রাজস্থানের থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে বালুকাপূর্ণ শুষ্ক মরু অঞ্চলের লবণাক্ত হ্রদগুলিকে কী বলে?
উত্তর: ধান্দ (যেমন- সম্বর হ্রদ)।
১২. উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমিতে প্রাচীন পলি গঠিত অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
উত্তর: ভাঙ্গার।
১৩. উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমিতে প্লাবনের ফলে নবীন পলি সমৃদ্ধ উর্বর সমভূমিকে কী বলে?
উত্তর: খাদার।
১৪. গঙ্গা-যমুনা দোয়াব-এর উচ্চ অংশে বায়ু বাহিত বালি ও পলি সমৃদ্ধ তরঙ্গায়িত উচ্চভূমি কী নামে পরিচিত?
উত্তর: ভুর।
C. শূন্যস্থান পূরণ করো - মান ১
১. কর্কটক্রান্তিরেখা ভারতের প্রায় ________ বরাবর বিস্তৃত হওয়ায় এটি ভারতকে উত্তর ও দক্ষিণ দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত করেছে।
উত্তর: মাঝ
২. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমারেখা ________ লাইন নামে পরিচিত।
উত্তর: র্যাডক্লিফ
৩. ডুরান্ড লাইন ভারত ও ________ এর মধ্যে অবস্থিত।
উত্তর: আফগানিস্তানের
৪. কুমায়ুন হিমালয় থেকে ________ নদী উৎপন্ন হয়েছে।
উত্তর: গঙ্গা
৫. কাশ্মীর উপত্যকাকে ভারতের ________ বলা হয়।
উত্তর: ভূস্বর্গ (বা 'প্রাচ্যের নন্দনকানন')
৬. থর মরুভূমির পূর্ব প্রান্তে আরাবল্লি পর্বত পর্যন্ত মরুপ্রায় অঞ্চল হল ________।
উত্তর: বাগার
৭. পাঞ্জাব সমভূমিতে নবীন পলি গঠিত উর্বর ভূমি ________ নামে পরিচিত।
উত্তর: বেট
৮. মধ্য গাঙ্গেয় সমভূমির অন্তর্গত জলাভূমিগুলি উত্তর বিহারে 'চাউর' এবং দক্ষিণ বিহারে ________ নামে পরিচিত।
উত্তর: তাল
D. শুদ্ধ বা অশুদ্ধ নিরূপণ করো - মান ১
১. লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কনট্রোল (LAC) হল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমারেখা।
উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক: ভারত ও চিন)
২. নৈনিতাল, ভীমতাল প্রভৃতি হ্রদগুলি কুমায়ুন হিমালয়ে অবস্থিত।
উত্তর: শুদ্ধ
৩. থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে বালুকাপূর্ণ, উদ্ভিদহীন শুষ্ক মরু অঞ্চলকে মরুস্থলী বলে।
উত্তর: শুদ্ধ
৪. পাঞ্জাব সমভূমিতে প্রাচীন পলি সমৃদ্ধ অঞ্চলকে বেট বলে।
উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক: নবীন পলিকে বেট এবং প্রাচীন পলিকে ধায়া বলে)
৫. মাজুলি দ্বীপটি ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থিত।
উত্তর: শুদ্ধ
E. স্তম্ভ মেলানো - মান ১
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ |
| :--- | :--- |
| ১. ভারতের সর্ব উত্তরের বিন্দু | ক. সম্বর |
| ২. পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ | খ. ইন্দিরা কল |
| ৩. ভারতের বৃহত্তম লবণাক্ত হ্রদ | গ. মাজুলি |
| ৪. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ | ঘ. সান্দাকফু |
**সঠিক উত্তর:** ১-খ, ২-ঘ, ৩-ক, ৪-গ
F. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন - মান ২
১. 'তাল' কী?
উত্তর: কুমায়ুন হিমালয়ে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় 'তাল' বলে। উদাহরণ: নৈনিতাল, ভীমতাল, সাততাল ইত্যাদি।
২. 'দুন' কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: হিমাচল হিমালয় ও শিবালিক শ্রেণির মধ্যে অবস্থিত প্রায় সমতল উপত্যকাকে 'দুন' বলা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে শিবালিক বা অবহিমালয়ের উত্থানের ফলে এই সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণ: দেরাদুন (বৃহত্তম দুন)।
৩. 'মরুস্থলী' বলতে কী বোঝো?
উত্তর: রাজস্থানের থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বালুকাপূর্ণ, উদ্ভিদহীন শুষ্ক মরু অঞ্চলকে 'মরুস্থলী' বলে। 'মরুস্থলী' কথার অর্থ হল 'মৃতের দেশ'।
৪. 'দোয়াব' শব্দের অর্থ কী? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: ফারসি শব্দ 'দো' কথার অর্থ দুই এবং 'আব' কথার অর্থ জল। পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদীর মধ্যবর্তী পলি সঞ্চিত উর্বর সমভূমিকে দোয়াব বলে। যেমন- গঙ্গা-যমুনার মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চল, বিস্ত জলন্ধর দোয়াব।
৫. খাদার ও ভাঙ্গার কাকে বলে?
উত্তর:
* **খাদার:** উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমিতে নদীর প্লাবনের ফলে সৃষ্ট নবীন পলি সমৃদ্ধ উর্বর নিচু সমভূমি অঞ্চলকে খাদার বলে।
* **ভাঙ্গার:** উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমিতে নদী উপত্যকার দূরবর্তী প্রাচীন পলি গঠিত অপেক্ষাকৃত উচ্চ ও বন্যা হয় না এমন অনুর্বর অঞ্চলকে ভাঙ্গার বলে।
৬. ভাবর ও তরাই বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
* **ভাবর:** শিবালিক পর্বতের পাদদেশ বরাবর নুড়ি, পাথর, বালি সমৃদ্ধ অনুর্বর উচ্চভূমিকে ভাবর বলে।
* **তরাই:** ভাবর অঞ্চলের দক্ষিণ অংশ জুড়ে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নুড়ি ও বালি গঠিত স্যাঁতসেঁতে ভূমি তরাই নামে পরিচিত।
৭. 'ধ্রিয়ান' ও 'ধান্দ' কী?
উত্তর:
* **ধ্রিয়ান:** রাজস্থানের থর মরুভূমির চলমান বালিয়াড়িকে ধ্রিয়ান বলে।
* **ধান্দ:** থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে বালুকাপূর্ণ শুষ্ক মরু অঞ্চলে অবস্থিত লবণাক্ত হ্রদগুলিকে ধান্দ বলে (যেমন- সম্বর হ্রদ)।
৮. 'চোশ' কী?
উত্তর: পাঞ্জাব সমভূমির উত্তরের অংশ অর্থাৎ শিবালিক পর্বতের পাদদেশ বরাবর অসংখ্য ছোটো ছোটো নদী বা জলধারা সৃষ্টি হয়ে যে ক্ষয়প্রাপ্ত অংশের সৃষ্টি করেছে, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'চোশ' (Chos) বলা হয়।
G. ব্যাখ্যামূলক ও রচনাধর্মী প্রশ্ন - মান ৩ এবং ৫
১. রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির তিনটি প্রধান কারণ লেখো। (মান ৩)
উত্তর: রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হল:
* **আরাবল্লি পর্বতের অবস্থান:** আরাবল্লি পর্বত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতিপথের সঙ্গে সমান্তরালে অবস্থিত। ফলে কোনো বাধা ছাড়াই মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় এবং বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না।
* **জলীয় বাষ্পের স্বল্পতা:** দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই অঞ্চলে পৌঁছোনোর ফলে তাতে জলীয় বাষ্প প্রায় শেষ হয়ে যায়, তাই বৃষ্টিপাত কম হয়।
* **অত্যধিক উষ্ণতা:** সারাবছর মেঘমুক্ত থাকায় এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়। ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভবনে বিলম্ব হয় ও শুষ্ক অবস্থার সৃষ্টি হয়।
২. উত্তরের সমভূমি অঞ্চলকে ভূপ্রাকৃতিক ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কটি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? (মান ৩)
উত্তর: উত্তরের সমভূমি অঞ্চলকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়: (A) পশ্চিমের সমভূমি বা রাজস্থানের সমভূমি (B) সিন্ধু সমভূমি বা পাঞ্জাব সমভূমি (C) গাঙ্গেয় সমভূমি (উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি) (D) ব্রহ্মপুত্র সমভূমি।
৩. গাঙ্গেয় সমভূমির ভূপ্রাকৃতিক উপবিভাগগুলি (ভাঙ্গার, খাদার, ভাবর, তরাই) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো। (মান ৫)
৪. পাঞ্জাব সমভূমির ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও। (মান ৫)
৫. ভারতের অবস্থান ও সীমানার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও। (ম্যাকমোহন লাইন, র্যাডক্লিফ লাইন, LOC, LAC ইত্যাদির উল্লেখসহ)। (মান ৫)
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন - পঞ্চম অধ্যায়: ভারত (২য় খণ্ড)
Here is the comprehensive "100% Common Suggestion" generated from the provided Class 10 Geography textbook pages about India's agriculture (Millet, Sugarcane, Cotton, Tea, and Coffee).
```markdown
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: ভারত (কৃষিকাজ)
**অধ্যায়:** ভারতের কৃষি (মিলেট, ইক্ষু, কার্পাস, চা ও কফি)
---
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) [মান - ১]
১. জোয়ার গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
(ক) লখনউ (খ) নাগপুর (গ) হায়দরাবাদ (ঘ) জোরহাট
উত্তর: (গ) হায়দরাবাদ
২. ভারতের ইক্ষু বা আখ গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
(ক) লখনউ (খ) কানপুর (গ) কোয়েম্বাটোর (ঘ) নাগপুর
উত্তর: (ক) লখনউ
৩. দক্ষিণ ভারতে বাজরা কী নামে পরিচিত?
(ক) মারুয়া (খ) কুম্বু (গ) রাগি (ঘ) জওয়ার
উত্তর: (খ) কুম্বু
৪. কার্পাস বা তুলো চাষের জন্য কমপক্ষে কতদিন তুহিনমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন?
(ক) ১০০ দিন (খ) ১৫০ দিন (গ) ২০০ দিন (ঘ) ২৫০ দিন
উত্তর: (গ) ২০০ দিন
৫. ভারতের কার্পাস গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
(ক) সুরাট (খ) নাগপুর (গ) আমেদাবাদ (ঘ) মুম্বই
উত্তর: (খ) নাগপুর
৬. চা উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্যে চা গবেষণাগার অবস্থিত?
(ক) অসম (জোরহাট) (খ) কর্ণাটক (গ) তামিলনাড়ু (ঘ) পশ্চিমবঙ্গ
উত্তর: (ক) অসম (জোরহাট)
৭. কফি গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
(ক) চিকমাগালুর (খ) লখনউ (গ) নাগপুর (ঘ) হায়দরাবাদ
উত্তর: (ক) চিকমাগালুর
৮. ইক্ষু উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্য প্রথম স্থান অধিকার করে?
(ক) মহারাষ্ট্র (খ) উত্তরপ্রদেশ (গ) কর্ণাটক (ঘ) বিহার
উত্তর: (খ) উত্তরপ্রদেশ
৯. ভারতের কোন মৃত্তিকা কার্পাস চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী?
(ক) পলি মৃত্তিকা (খ) ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা (গ) রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা (ঘ) লাল মৃত্তিকা
উত্তর: (গ) রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা
১০. দক্ষিণ ভারতে রাগিকে কী বলা হয়?
(ক) মারুয়া (খ) কুম্বু (গ) বাজরা (ঘ) জোয়ার
উত্তর: (ক) মারুয়া
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer) [মান - ১]
১. প্রশ্ন: ইক্ষুর বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?
উত্তর: স্যাকারাম অফিসিনারাম (Saccharum officinarum)।
২. প্রশ্ন: কার্পাস বা তুলোর বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?
উত্তর: গসিপিয়াম হার্বেসিয়াম (Gossypium herbaceum)।
৩. প্রশ্ন: চা-এর বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?
উত্তর: ক্যামেলিয়া সিনেনসিস (Camellia sinensis)।
৪. প্রশ্ন: রেটুন প্রথা কোন ফসলের চাষের সাথে যুক্ত?
উত্তর: ইক্ষু বা আখ চাষের সাথে।
৫. প্রশ্ন: কার্পাস উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্য প্রথম?
উত্তর: গুজরাট।
৬. প্রশ্ন: ইক্ষু রপ্তানিতে বিশ্বে ভারতের স্থান কত?
উত্তর: দ্বিতীয় (প্রথম ব্রাজিল)।
৭. প্রশ্ন: তুলো চাষের জন্য কী ধরনের সামুদ্রিক বাতাস প্রয়োজন?
উত্তর: কার্পাস আঁশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য সামুদ্রিক লবণাক্ত বাতাস উপযোগী।
৮. প্রশ্ন: চা চাষের জন্য কেমন জমির প্রয়োজন?
উত্তর: জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পাহাড়ের ঢালু জমি।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer) [মান - ২]
১. প্রশ্ন: রেটুন (Ratoon) কী?
উত্তর: আখ কেটে নেওয়ার পর আখের মূল থেকে যে ছোটো ছোটো চারা বের হয়, তাকে রেটুন বলে। রেটুন থেকে আখ বড়ো হয় বা একে তুলে অন্যত্র চাষ করা যায়, এর ফলে কৃষকদের নতুন করে চারা রোপণের খরচ বাঁচে।
২. প্রশ্ন: কার্পাস চাষে সামুদ্রিক বাতাসের ভূমিকা কী?
উত্তর: কার্পাস বা তুলো গাছ বৃদ্ধির সময় এবং কার্পাস আঁশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির প্রয়োজনে সামুদ্রিক লবণাক্ত বাতাস খুবই উপযোগী। তাই সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে তুলো চাষ ভালো হয়।
৩. প্রশ্ন: চা বাগিচায় ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ লাগানো হয় কেন?
উত্তর: চা গাছ অধিক রৌদ্র বা প্রখর সূর্যালোক সহ্য করতে পারে না। তাই প্রখর রৌদ্রের হাত থেকে চা গাছকে রক্ষা করতে চা বাগানে ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ (যেমন- সিলভার ওক) লাগানো হয়।
৪. প্রশ্ন: কার্পাস বা তুলো কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: আঁশের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তুলো তিন প্রকার: (i) দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলো (৩.৫ - ৬.৫ সেমি), (ii) মাঝারি আঁশযুক্ত তুলো (২.২ - ৩.৫ সেমি), (iii) ক্ষুদ্র আঁশযুক্ত তুলো (২.২ সেমির কম)। ভারতে মূলত ক্ষুদ্র আঁশযুক্ত তুলোর চাষ বেশি হয়।
---
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical) [মান - ৩]
১. প্রশ্ন: চা চাষের জন্য পাহাড়ের ঢালু জমি উপযুক্ত কেন?
উত্তর: চা চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টির প্রয়োজন হলেও, চা গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছের শেকড় পচে যায়। পাহাড়ের ঢালু জমিতে জলনিকাশি ব্যবস্থা ভালো থাকায় বৃষ্টির জল দ্রুত গড়িয়ে নেমে যায় এবং গাছের গোড়ায় দাঁড়াতে পারে না। এই কারণে পাহাড়ের ঢালু জমি চা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
২. প্রশ্ন: কার্পাস চাষের জন্য রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা উপযোগী কেন?
উত্তর: কার্পাস চাষের জন্য চুন ও লবণ মিশ্রিত উর্বর দোআঁশ মৃত্তিকা এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম এমন মাটি প্রয়োজন। দাক্ষিণাত্য মালভূমির রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকার জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি এবং এই মাটি খনিজ সমৃদ্ধ, যা তুলো গাছের পুষ্টি ও আঁশের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই এই মৃত্তিকা কার্পাস চাষের পক্ষে আদর্শ।
৩. প্রশ্ন: ইক্ষু বা আখ চাষে জলবায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ইক্ষু চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
* **উষ্ণতা:** গড়ে ২০°C - ২৭°C উষ্ণতায় ইক্ষুর চাষ ভালো হয়।
* **বৃষ্টিপাত:** ১০০-১৫০ সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
* **আর্দ্রতা ও তুহিন:** চারাগাছ বৃদ্ধির সময় আর্দ্র জলবায়ু এবং ফসল কাটার সময় শুষ্ক রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া প্রয়োজন। তুহিন ও কুয়াশা ইক্ষু চাষের পক্ষে ক্ষতিকর।
---
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer) [মান - ৫]
১. প্রশ্ন: ভারতে ইক্ষু (আখ) চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ দাও।
উত্তর:
ভারতে ইক্ষু চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশগুলি হলো:
* **জলবায়ু:** ইক্ষু মূলত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মণ্ডলের ফসল।
* *উষ্ণতা:* ২০°C থেকে ২৭°C উষ্ণতা ইক্ষু চাষের পক্ষে আদর্শ।
* *বৃষ্টিপাত:* বার্ষিক ১০০ থেকে ১৫০ সেমি বৃষ্টিপাত ইক্ষু চাষের জন্য প্রয়োজন। কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে জলসেচের মাধ্যমে এর চাষ করা হয়।
* *আর্দ্রতা:* চারা বৃদ্ধির সময় আর্দ্রতা এবং ফসল পাকার সময় শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া প্রয়োজন।
* **মৃত্তিকা:** চুন ও লবণ মিশ্রিত ভারী দোআঁশ মৃত্তিকা এবং কৃষ্ণমৃত্তিকা ইক্ষু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। নদীর অববাহিকার পলিমাটিতেও এর চাষ ভালো হয়।
* **ভূমির প্রকৃতি:** জমিতে জল দাঁড়ালে ইক্ষু গাছের ক্ষতি হয়, তাই উত্তম জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত ঈষৎ ঢালু বা সমতল জমি ইক্ষু চাষের পক্ষে আদর্শ।
* **সামুদ্রিক প্রভাব:** সমুদ্রের লবণাক্ত বাতাস ইক্ষু উৎপাদনের সহায়ক।
২. প্রশ্ন: ভারতে কার্পাস বা তুলো চাষের অনুকূল ভৌগোলিক (প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক) পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর:
ভারতে কার্পাস চাষের অনুকূল পরিবেশগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
**প্রাকৃতিক পরিবেশ:**
* **উষ্ণতা:** কার্পাস চাষের জন্য গড়ে ২০°C থেকে ২৭°C উষ্ণতার প্রয়োজন।
* **বৃষ্টিপাত:** ৫০ থেকে ১০০ সেমি বৃষ্টিপাত তুলো চাষের জন্য উপযুক্ত।
* **তুহিনমুক্ত অবস্থা:** বছরে কমপক্ষে ২০০ দিন তুহিনমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন, কারণ তুহিন তুলো চাষের চরম ক্ষতি করে। গুটি পাকার সময় শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া দরকার।
* **মৃত্তিকা:** দাক্ষিণাত্যের লাভা গঠিত কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মৃত্তিকা তুলো চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এছাড়া চুন ও লবণ মিশ্রিত উর্বর দোআঁশ মাটিতেও তুলো ভালো হয়।
**অর্থনৈতিক পরিবেশ:**
* **শ্রমিক:** গাছ লাগানো, পরিচর্যা করা, গুটি তোলা এবং গুটি থেকে আঁশ ছাড়ানোর জন্য প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
* **সার ও কীটনাশক:** জমিতে পরিমিত জৈব ও রাসায়নিক সার এবং 'বলউইভিল' নামক পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে প্রচুর কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়।
৩. প্রশ্ন: ভারতে চা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ আলোচনা করো।
উত্তর:
ভারতে চা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশগুলি হলো:
* **উষ্ণতা:** চা চাষের জন্য সাধারণত ২০°C থেকে ৩০°C উষ্ণতা আদর্শ। তবে শীতকালে ১৬°C-এর কম উষ্ণতা থাকলে ৩-৪ মাস উৎপাদন ব্যাহত হয়।
* **বৃষ্টিপাত:** চা চিরহরিৎ গাছ, তাই প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। বার্ষিক ১৫০ থেকে ২৫০ সেমি বৃষ্টিপাত চা চাষের পক্ষে উপযুক্ত।
* **ভূমির প্রকৃতি:** চা গাছের গোড়ায় জল জমলে শেকড় পচে যায়। তাই জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পাহাড়ের ঢালু জমি চা চাষের জন্য একান্ত অপরিহার্য।
* **মৃত্তিকা:** লৌহ ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মৃদু অম্লধর্মী উর্বর দোআঁশ মৃত্তিকা চা উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
* **ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ:** প্রখর সূর্যালোক চা গাছের ক্ষতি করে, তাই বাগানে ছায়াপ্রদানকারী বড়ো গাছ (যেমন- সিলভার ওক) লাগানো হয়।
* **তুষারপাত:** তুষারপাত চা চাষের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
---
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: ভারত (India)
**(১০০% কমন সাজেশন - অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর)**
---
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ - 1 Mark)
**১. ভারতে চা উৎপাদনে প্রথম স্থানাধিকারী রাজ্যটি হল—**
(ক) পশ্চিমবঙ্গ (খ) অসম (গ) তামিলনাড়ু (ঘ) কেরালা
উত্তর: (খ) অসম
**২. ভারতে কোন প্রজাতির কফির চাষ সবথেকে বেশি হয়?**
(ক) আরবীয় (খ) রোবাস্টা (গ) লাইবেরীয় (ঘ) জামাইকান
উত্তর: (খ) রোবাস্টা
**৩. 'সবুজ বিপ্লব' (Green Revolution) কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন—**
(ক) নরম্যান বোরল্যাগ (খ) এম এস স্বামীনাথন (গ) উইলিয়াম এস. গাউড (ঘ) আলফ্রেড ওয়েবার
উত্তর: (গ) উইলিয়াম এস. গাউড
**৪. বিশুদ্ধ কাঁচামালের পণ্যসূচক (Material Index বা MI) হল—**
(ক) ১-এর বেশি (খ) ১-এর কম (গ) ১-এর সমান (ঘ) ০
উত্তর: (গ) ১-এর সমান
**৫. ভারতের একমাত্র উপকূলীয় লোহা-ইস্পাত কেন্দ্রটি হল—**
(ক) ভিলাই (খ) দুর্গাপুর (গ) বিশাখাপত্তনম (ঘ) জামশেদপুর
উত্তর: (গ) বিশাখাপত্তনম
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer - 1 Mark)
**১. ভারতের চা গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?**
উত্তর: অসমের জোড়হাটে। ('টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া' কলকাতায় অবস্থিত)।
**২. ভারতের সবুজ বিপ্লবের জনক কাকে বলা হয়?**
উত্তর: ড. এম. এস. স্বামীনাথন-কে। (বিশ্বে সবুজ বিপ্লবের জনক নরম্যান বোরল্যাগ)।
**৩. পণ্যসূচক (Material Index) কে প্রবর্তন করেন?**
উত্তর: আলফ্রেড ওয়েবার (১৯০৯ সালে তাঁর 'Industrial Locational Theory'-তে)।
**৪. ভারতের কোথায় প্রথম লোহা-ইস্পাত কারখানা স্থাপিত হয়?**
উত্তর: তামিলনাড়ুর পোটোনোভোতে (১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে)।
**৫. অবিশুদ্ধ কাঁচামালের একটি উদাহরণ দাও।**
উত্তর: আকরিক লোহা (MI > 1)।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer - 2 Marks)
**১. সবুজ বিপ্লব বলতে কী বোঝো?**
উত্তর: কৃষিজ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতিকে সবুজ বিপ্লব আখ্যা দেওয়া হয়। ১৯৬০-এর দশকে ভারতে উচ্চফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে প্রধানত পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে গম উৎপাদনে যে বৈপ্লবিক বৃদ্ধি ঘটে, তাকেই সবুজ বিপ্লব বলে।
**২. বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ কাঁচামাল কাকে বলে?**
উত্তর: শিল্পে ব্যবহৃত যে সকল কাঁচামালের ওজন তার থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের অনুপাতের সমান, তাদের বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে (যেমন— কার্পাস)। অন্যদিকে, যে সকল কাঁচামালের ওজন তার থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের অনুপাতের চেয়ে বেশি হয়, তাদের অবিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে (যেমন— আকরিক লোহা)।
**৩. খনিজভিত্তিক শিল্প কাকে বলে? উদাহরণ দাও।**
উত্তর: বিভিন্ন প্রকার খনিজ দ্রব্য কোনো শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হলে, তাকে খনিজভিত্তিক শিল্প বলে। একে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— ধাতব শিল্প (যেমন: লোহ-ইস্পাত শিল্প) এবং অধাতব শিল্প (যেমন: সিমেন্ট শিল্প)।
**৪. ভারতীয় কৃষির দুটি প্রধান সমস্যা লেখো।**
উত্তর: i) হেক্টর প্রতি শস্যের কম উৎপাদন। ii) জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ অত্যন্ত কম বা অপ্রতুলতা।
---
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical - 3 Marks)
**১. সবুজ বিপ্লবের সুফল ও কুফলগুলি আলোচনা করো।**
উত্তর:
* **সুফল:** i) তাৎক্ষণিকভাবে গম ও ধান উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ii) দেশের খাদ্যসংকটের সমাধান হয় ও কৃষকের আয় বাড়ে।
* **কুফল:** i) দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়। ii) অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পরিবেশের অবনমন ঘটে এবং মানুষের শরীরে ক্যানসারসহ অন্যান্য মারণরোগ বৃদ্ধি পায়।
**২. শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও জলবায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।**
উত্তর:
* **কাঁচামাল:** শিল্পের অবস্থান কাঁচামালের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। বিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প (যেমন: কার্পাস বয়ন) বাজার বা অন্য যেকোনো স্থানে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু অবিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প (যেমন: লোহ-ইস্পাত) কাঁচামালের উৎসের কাছেই গড়ে ওঠে।
* **জলবায়ু:** নির্দিষ্ট কিছু শিল্প নির্দিষ্ট জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। যেমন— কার্পাস শিল্প আর্দ্র জলবায়ুতে সবচেয়ে ভালো গড়ে ওঠে।
---
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer - 5 Marks)
**১. পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষি উন্নতির প্রধান কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।**
উত্তর: ভারতের কৃষি উন্নত অঞ্চলগুলির মধ্যে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা অন্যতম। এর প্রধান কারণগুলি হল:
* **বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর মৃত্তিকা:** সিন্ধুনদের পাঁচটি উপনদী বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজের পক্ষে অত্যন্ত অনুকূল।
* **জলসেচ ও ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প:** ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলে খাল কেটে জলসেচের ব্যাপক প্রসার ঘটানো হয়েছে, যা কৃষিতে সহায়ক।
* **উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার:** 'সোনারা-৬৪', 'কল্যাণ সোনা' প্রভৃতি উচ্চফলনশীল গমের বীজ ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
* **আধুনিক কৃষি পদ্ধতি:** লাঙলের পরিবর্তে উন্নতমানের ট্রাক্টর ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ করা হয়।
* **রাসায়নিক সার ও কীটনাশক:** কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফসফেট সারের জোগান এবং রোগ প্রতিরোধে কীটনাশকের ব্যবহার ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি করেছে।
* **অন্যান্য কারণ:** উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, সুলভ শ্রমিক, কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমী মনোভাব এবং নাবার্ড (NABARD)-এর আর্থিক সহায়তা কৃষির বিপুল উন্নতি ঘটিয়েছে।
**২. ভারতে কফি চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশের বর্ণনা দাও।**
উত্তর: ভারতে প্রধানত রোবাস্টা প্রজাতির কফি চাষ হয় এবং কর্ণাটক রাজ্য এতে প্রথম স্থান অধিকার করে। কফি চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশগুলি হল:
* **উষ্মতা:** কফি চাষের জন্য ২০° সে. থেকে ৩০° সে. উষ্মতা সর্বাপেক্ষা উপযোগী।
* **বৃষ্টিপাত:** ১৫০-২৫০ সেমি বৃষ্টিপাত কফি গাছের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। কফিগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। তবে তুহিন ও তুষারপাত কফি চাষের পক্ষে ক্ষতিকর।
* **ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ:** চা চাষের মতো কফি বাগানেও সরাসরি রৌদ্রতাপ এড়াতে এবং কফি গাছকে রক্ষা করতে ছায়াপ্রদানকারী বড় বৃক্ষের প্রয়োজন হয়।
* **মৃত্তিকা:** লাভা সৃষ্ট উর্বর মৃত্তিকা এবং লাল দোঁআঁশ মাটি কফি চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
* **জমির প্রকৃতি:** জল নিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পর্বতের পাদদেশে ঢালু জমি কফি চাষের পক্ষে আদর্শ, কারণ গাছের গোড়ায় জল দাঁড়ালে কফি গাছের ক্ষতি হয়।
* **শ্রমিক ও মূলধন:** গাছ লাগানো, পরিচর্যা, ফসল তোলা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক এবং আধুনিক বাগান তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মূলধনের প্রয়োজন।
---
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ)
১. ভারতের প্রথম আধুনিক লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্রটি কোথায় গড়ে ওঠে?
(ক) দুর্গাপুর (খ) জামশেদপুর (সাকচি) (গ) ভিলাই (ঘ) বোকারো
উত্তর: (খ) জামশেদপুর (সাকচি)
২. 'ভারতের রূঢ়' (Ruhr of India) কাকে বলা হয়?
(ক) দুর্গাপুর (খ) আসানসোল (গ) ভিলাই (ঘ) রাউরকেল্লা
উত্তর: (ক) দুর্গাপুর
৩. 'ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' কাকে বলা হয়?
(ক) মুম্বাই (খ) আমেদাবাদ (গ) সুরাট (ঘ) কানপুর
উত্তর: (খ) আমেদাবাদ
৪. 'দক্ষিণ ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' কাকে বলা হয়?
(ক) চেন্নাই (খ) কোয়েম্বাটোর (গ) মাদুরাই (ঘ) বেঙ্গালুরু
উত্তর: (খ) কোয়েম্বাটোর
৫. 'উত্তর ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' কাকে বলা হয়?
(ক) কানপুর (খ) লখনউ (গ) আগ্রা (ঘ) দিল্লি
উত্তর: (ক) কানপুর
৬. ভারতের একক বৃহত্তম কৃষিভিত্তিক শিল্প কোনটি?
(ক) পাট শিল্প (খ) চা শিল্প (গ) কার্পাস বয়ন শিল্প (ঘ) চিনি শিল্প
উত্তর: (গ) কার্পাস বয়ন শিল্প
৭. ভারতের প্রথম কার্পাস বস্ত্রবয়ন কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হয়?
(ক) মুম্বাই (খ) আমেদাবাদ (গ) হাওড়ার ঘুঁসুড়িতে (ঘ) শ্রীরামপুরে
উত্তর: (গ) হাওড়ার ঘুঁসুড়িতে (১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে)
৮. হিন্দুস্থান শিপ ইয়ার্ড লিমিটেড (ভারতের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র) কোথায় অবস্থিত?
(ক) কোচি (খ) মুম্বাই (গ) কলকাতা (ঘ) বিশাখাপত্তনম
উত্তর: (ঘ) বিশাখাপত্তনম
৯. SAIL (Steel Authority of India Limited) কত সালে গঠিত হয়?
(ক) ১৯৫৯ (খ) ১৯৬৪ (গ) ১৯৭৩ (ঘ) ১৯৭২
উত্তর: (গ) ১৯৭৩
১০. রাউরকেল্লা লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্রটি কোন দেশের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে?
(ক) ব্রিটেন (খ) জার্মানি (গ) রাশিয়া (ঘ) ফ্রান্স
উত্তর: (খ) জার্মানি
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short)
১. TISCO (Tata Iron and Steel Company) কবে এবং কোথায় স্থাপিত হয়?
উত্তর: ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার সাকচিতে (বর্তমান জামশেদপুর)।
২. দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) কোন দেশের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে?
উত্তর: ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের (UK) সহযোগিতায় (১৯৫৯ সালে)।
৩. ভিলাই এবং বোকারো লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র দুটি কোন দেশের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে?
উত্তর: সোভিয়েত রাশিয়ার (বর্তমান রাশিয়া) সহযোগিতায়।
৪. কার্পাস বয়ন শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের পণ্যসূচক (Material Index) কত?
উত্তর: ১ (এটি বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল)।
৫. একটি 'অস্থানু শিল্প' বা 'শেকড় আলগা শিল্প' (Footloose Industry)-এর উদাহরণ দাও।
উত্তর: কার্পাস বয়ন শিল্প।
৬. ভারতের রেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ তৈরি হয় এমন দুটি জায়গার নাম লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের চিত্তরঞ্জন (CLW) এবং উত্তরপ্রদেশের বারাণসী (BLW/DCW)।
৭. রেলের বগি (Coach) কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর: তামিলনাড়ুর পেরাম্বুর, পাঞ্জাবের কাপুরথালা এবং পশ্চিমবঙ্গের দমদম-এ।
৮. পূর্ব ভারতের একটি পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্রের নাম লেখো।
উত্তর: হলদিয়া।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer)
১. দুর্গাপুরকে 'ভারতের রূঢ়' বলা হয় কেন?
উত্তর: জার্মানির রাইন নদীর উপনদী রূঢ় উপত্যকার কয়লা ও লৌহ আকরিকের ওপর নির্ভর করে যেমন রূঢ় শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, ঠিক একইভাবে ভারতের দামোদর উপত্যকার দুর্গাপুর অঞ্চলে স্থানীয় রানিগঞ্জ ও ঝরিয়ার কয়লা এবং ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার লৌহ আকরিকের ওপর ভিত্তি করে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। তাই এই সাদৃশ্যের জন্য দুর্গাপুরকে 'ভারতের রূঢ়' বলা হয় (নামকরণ করেন ড. বিধানচন্দ্র রায়)।
২. আমেদাবাদকে 'ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' বলা হয় কেন?
উত্তর: ব্রিটেনের ম্যাঞ্চেস্টার শহর যেমন উন্নতমানের আমদানি করা তুলোর ওপর ভিত্তি করে বস্ত্রশিল্পে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিল, তেমনি ভারতের গুজরাটের আমেদাবাদ শহরও স্থানীয় এবং মিশর ও গ্রিস থেকে আমদানি করা তুলোর সাহায্যে কার্পাস বয়ন শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। ভারতে সর্বাধিক কাপড়ের কল (৭২টি) এখানেই থাকায় একে 'ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' বলা হয়।
৩. অস্থানু শিল্প বা শেকড় আলগা শিল্প (Footloose Industry) কাকে বলে?
উত্তর: যে সমস্ত শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং উৎপাদিত দ্রব্যের ওজন প্রায় সমান থাকে (পণ্যসূচক বা MI = ১), অর্থাৎ বিশুদ্ধ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, তাদের অস্থানু শিল্প বলে। এই ধরনের শিল্প কাঁচামালের উৎসস্থল, বাজার বা পরিবহণ পথের যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে গড়ে উঠতে পারে। উদাহরণ: কার্পাস বয়ন শিল্প।
৪. SAIL কী?
উত্তর: SAIL-এর পুরো নাম Steel Authority of India Limited। এটি ভারত সরকারের ইস্পাত মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি সংস্থা, যা ১৯৭৩ সালে গঠিত হয়। ভারতের ৫টি সুসংহত ইস্পাত কেন্দ্র (ভিলাই, রাউরকেল্লা, দুর্গাপুর, বোকারো, বার্নপুর) এবং ৩টি সংকর ইস্পাত কেন্দ্র-এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে SAIL। এর সদর দপ্তর নতুন দিল্লিতে অবস্থিত।
৫. ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বা পূর্ত শিল্প কাকে বলে?
উত্তর: বিভিন্ন ধাতব ও অধাতব কাঁচামাল, উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমিকের সাহায্যে ছোটো, মাঝারি ও বড়ো আকারের যন্ত্র, যন্ত্রাংশ, নাটবোল্ট ইত্যাদি তৈরির প্রক্রিয়াকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে।
---
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical)
১. পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ভারতের অধিকাংশ বৃহৎ লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র (যেমন- টিসকো, বোকারো, দুর্গাপুর, রাউরকেল্লা, ভিলাই) পূর্ব ও মধ্য ভারতে গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি হলো:
* **কাঁচামালের সহজলভ্যতা:** লৌহ-ইস্পাত একটি ওজন হ্রাসকারী শিল্প। তাই কাঁচামালের উৎসের কাছেই এটি গড়ে ওঠে। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড় থেকে প্রচুর পরিমাণে উৎকৃষ্ট আকরিক লোহা, কয়লা (রানিগঞ্জ, ঝরিয়া), ম্যাঙ্গানিজ, চুনাপাথর ও ডলোমাইট পাওয়া যায়।
* **জলের জোগান:** দামোদর, সুবর্ণরেখা, ব্রাহ্মণী, মহানদী প্রভৃতি নদী এবং বিভিন্ন জলাধার থেকে শিল্পের প্রয়োজনীয় জল পাওয়া যায়।
* **বিদ্যুৎ:** ডিভিসি (DVC), হিরাকুদ প্রকল্প এবং স্থানীয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে সুলভে বিদ্যুৎ মেলে।
* **পরিবহণ:** দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব রেল এবং বিভিন্ন জাতীয় সড়কের মাধ্যমে কলকাতা, হলদিয়া, পারাদ্বীপ ও বিশাখাপত্তনম বন্দরের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
* **শ্রমিক ও বাজার:** পার্শ্ববর্তী ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল থেকে সস্তায় শ্রমিক মেলে এবং দেশে-বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
২. লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামালগুলি কী কী?
উত্তর: লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামালগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
* **খনিজ উপাদান:** আকরিক লোহা, চুনাপাথর, ডলোমাইট, স্ক্র্যাপ লোহা।
* **সংকর ধাতু:** ম্যাঙ্গানিজ, টাংস্টেন, ক্রোমিয়াম, ভ্যানাডিয়াম, নিকেল, সিলিকন প্রভৃতি (বিশেষত স্টেইনলেস স্টিল তৈরিতে)।
* **জ্বালানি ও অন্যান্য:** কোক কয়লা, বিদ্যুৎ, জল, অক্সিজেন এবং আর্গন গ্যাস।
---
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer)
১. পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের একদেশীভবন বা কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের মোট কাপড়ের কলের বেশিরভাগই মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে (বিশেষত আমেদাবাদ ও মুম্বাই) অবস্থিত। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
* **কাঁচামালের জোগান:** মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের রেগুর বা কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চল ভারতের শ্রেষ্ঠ কার্পাস উৎপাদক। এছাড়া মুম্বাই ও কান্ডালা বন্দর দিয়ে মিশর ও গ্রিস থেকে উন্নতমানের লম্বা আঁশযুক্ত তুলো আমদানি করা হয়।
* **আর্দ্র জলবায়ু:** আরব সাগরের নৈকট্যের কারণে এই অঞ্চলের জলবায়ু আর্দ্র, যা সুতো কাটার সময় সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
* **বিদ্যুৎ:** পশ্চিমঘাট পর্বতের টাটা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, গুজরাটের উকাই ও কাকড়াপাড়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তারাপুর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়।
* **বন্দর ও পরিবহণ:** মুম্বাই, নবসেবা (জওহরলাল নেহরু), কান্ডালা ও সুরাট বন্দরের মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত বস্ত্র বিদেশে রপ্তানি করা সহজ। এছাড়া উন্নত সড়ক ও রেলপথ দেশের অন্যান্য অংশের সাথে যুক্ত।
* **মূলধন ও প্রযুক্তি:** পারসি, ভাটিয়া এবং গুজরাটি ব্যবসায়ীদের প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই শিল্পের বিকাশে সাহায্য করেছে।
* **শ্রমিক ও চাহিদা:** স্থানীয় ও পরিযায়ী দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক সহজেই মেলে এবং সারা ভারত জুড়েই এখানকার সুতির পোশাকের বিশাল বাজার রয়েছে।
২. ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের শ্রেণিবিভাগ করো এবং কয়েকটি প্রধান কেন্দ্রের নাম লেখো।
উত্তর: ব্যবহৃত কাঁচামাল ও উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের ভিত্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়:
* **ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প:** বৃহদায়তন যন্ত্র, রেল ইঞ্জিন, জাহাজ, মোটরযান প্রভৃতি নির্মাণ। উদাহরণ: চিত্তরঞ্জন ও বারাণসী (রেল ইঞ্জিন), বিশাখাপত্তনম (জাহাজ নির্মাণ), বেঙ্গালুরু (বিমান নির্মাণ)।
* **হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প:** স্বল্প ওজনের ছোটো যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করা। যেমন— ঘড়ি, ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি, ক্যামেরা প্রভৃতি। উদাহরণ: হোসুর, দেরাদুন (ঘড়ি)।
* **বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প:** টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, এসি প্রভৃতি নির্মাণ। উদাহরণ: নয়ডা, শ্রীপেরামবুদুর (কম্পিউটার ও ল্যাপটপ)।
---
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: ভারত (জনসংখ্যা ও নগরায়ণ)
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) – মান: ১
১. 'Our Common Future' নামক রিপোর্টে 'Sustainable Development' বা ধারণযোগ্য উন্নয়নের কথা প্রথম বলা হয়—
(ক) ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে
২. ২০০১-২০১১ সালে ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল—
(ক) ১৭.৭% (খ) ২১.৫৪% (গ) ২৩.৮৭% (ঘ) ১৭.৬৪%
উত্তর: (ক) ১৭.৭%
৩. ভারতের জনঘনত্ব (২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী) প্রতি বর্গকিলোমিটারে—
(ক) ৩২৪ জন (খ) ৩৮২ জন (গ) ৪০২ জন (ঘ) ৪৩২ জন
উত্তর: (খ) ৩৮২ জন
৪. ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের সর্বাধিক জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্যটি হলো—
(ক) পশ্চিমবঙ্গ (খ) বিহার (গ) উত্তরপ্রদেশ (ঘ) কেরালা
উত্তর: (খ) বিহার
৫. ভারতের সর্বনিম্ন জনঘনত্বযুক্ত রাজ্য হলো—
(ক) সিকিম (খ) অরুণাচল প্রদেশ (গ) মিজোরাম (ঘ) মেঘালয়
উত্তর: (খ) অরুণাচল প্রদেশ
৬. ভারতের মেগাসিটির সংখ্যা (২০১১ অনুযায়ী)—
(ক) ৩টি (খ) ৫৩টি (গ) ১০টি (ঘ) ১৫টি
উত্তর: (ক) ৩টি
৭. ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতে মহানগরের (Metropolitan) সংখ্যা কয়টি?
(ক) ৩৫টি (খ) ৪০টি (গ) ৫৩টি (ঘ) ৫৫টি
উত্তর: (গ) ৫৩টি
৮. ভারতের একটি সেনসাস শহরের ন্যূনতম জনসংখ্যা হওয়া প্রয়োজন—
(ক) ৪০০০ জন (খ) ৫০০০ জন (গ) ১০০০০ জন (ঘ) ১ লক্ষ জন
উত্তর: (খ) ৫০০০ জন
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer) – মান: ১
**১. ধারণযোগ্য উন্নয়ন (Sustainable Development) কথাটি কে প্রথম ব্যবহার করেন?**
উত্তর: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জি. এইচ. ব্রুন্ডটল্যান্ড (G. H. Brundtland) প্রথম ব্যবহার করেন।
**২. জনঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি লেখো।**
উত্তর: জনঘনত্ব = কোনো দেশের মোট জনসংখ্যা ÷ ওই দেশের মোট ক্ষেত্রফল।
**৩. সেনসাস শহরের ক্ষেত্রে অকৃষিকাজে নিযুক্ত পুরুষ কর্মীর হার কত হওয়া উচিত?**
উত্তর: মোট কর্মক্ষম পুরুষ জনসংখ্যার অন্তত ৭৫% বা তার বেশি।
**৪. সেনসাস শহরের ন্যূনতম জনঘনত্ব কত হওয়া প্রয়োজন?**
উত্তর: প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪০০ জন।
**৫. ভারতের বৃহত্তম মেগাসিটির নাম কী?**
উত্তর: বৃহত্তর মুম্বাই।
**৬. মেগাসিটি বা অতিমহানগরের ন্যূনতম জনসংখ্যা কত হওয়া প্রয়োজন?**
উত্তর: ৫০ লক্ষ বা তার বেশি।
**৭. শহর (Town) ও নগর (City)-এর জনসংখ্যার মাপকাঠি কত?**
উত্তর: শহরের জনসংখ্যা ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষের কম এবং নগরের জনসংখ্যা ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষের কম।
**৮. নগরায়ণ (Urbanisation) কাকে বলে?**
উত্তর: যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো গ্রাম ক্রমশ শহরে পরিণত হয় বা গ্রামীণ বসতি তার প্রকৃত চরিত্র হারিয়ে শহর বসতিতে পরিণত হয়, তাকে নগরায়ণ বলে।
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer) – মান: ২
**১. ধারণযোগ্য উন্নয়ন বা স্থিতিশীল উন্নয়ন বলতে কী বোঝো?**
উত্তর: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে কোনো আপস না করে বা কোনোপ্রকার সমস্যা সৃষ্টি না করে বর্তমানের চাহিদা মেটানোর যে পরিকল্পনা বা উন্নয়ন, তাকেই ধারণযোগ্য উন্নয়ন বা Sustainable Development বলা হয়।
**২. ভারতের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো।**
উত্তর:
(i) **উচ্চ জন্মহার ও মৃত্যুহার হ্রাস:** চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে মৃত্যুর হার কমেছে, কিন্তু সেই অনুপাতে জন্মহার কমেনি।
(ii) **দারিদ্র্য ও অশিক্ষা:** দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও কুসংস্কারের কারণে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
**৩. শহর গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জলবায়ু ও জলের প্রাপ্যতার ভূমিকা কী?**
উত্তর:
* **জলবায়ু:** সমভাবাপন্ন বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু মানুষের বসবাস ও কাজের পক্ষে অনুকূল, তাই ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে বা আরামদায়ক জলবায়ু অঞ্চলে শহর বেশি গড়ে ওঠে।
* **জলের প্রাপ্যতা:** জীবনধারণ, শিল্প ও কৃষির জন্য জল অপরিহার্য। তাই নদী বা জলের উৎসের কাছাকাছি শহর গড়ে ওঠে (যেমন— প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা)।
**৪. স্ট্যাটুটারি শহর (Statutory Town) ও সেনসাস শহর (Census Town) কাকে বলে?**
উত্তর:
* **স্ট্যাটুটারি শহর:** যে অঞ্চলটি পৌরসভা, কর্পোরেশন, নোটিফায়েড টাউন এরিয়া বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়, তাকে স্ট্যাটুটারি শহর বলে।
* **সেনসাস শহর:** যে বসতির ন্যূনতম জনসংখ্যা ৫০০০ জন, জনঘনত্ব ৪০০ জন/বর্গকিমি এবং ৭৫% পুরুষ অকৃষিকাজে যুক্ত, তাকে সেনসাস শহর বলে।
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical Answer) – মান: ৩
**১. ভারতে নগরায়ণের প্রধান তিনটি সমস্যা আলোচনা করো।**
উত্তর:
ভারতে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে যে সমস্যাগুলি সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে প্রধান তিনটি হলো:
* **পরিকাঠামোর অভাব:** গ্রাম থেকে বিপুল মানুষ রোজগারের আশায় শহরে আসায় বাসস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে এবং বস্তি গড়ে উঠছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক পরিকাঠামোরও অভাব ঘটে।
* **পরিবহণ ও যানজট সমস্যা:** নগরায়ণের ফলে শহরে গাড়ির সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নিত্যদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে।
* **নিকাশি ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা:** ভারতের প্রায় ৩৬% শহরবাসী উপযুক্ত নিকাশি বা পয়ঃপ্রণালীর সুযোগ পায় না। ফলে দূষিত জল নিষ্কাশনের অভাবে জলজমা, পরিবেশ দূষণ এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
**২. ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলি কী কী?**
উত্তর: ভারতে দ্রুত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রধানত নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা যায়:
* **প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট:** কৃষি জমির ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বনভূমি বা অরণ্য সম্পদ সংকুচিত হচ্ছে।
* **পরিবেশ দূষণ ও খাদ্যসংকট:** মৃত্তিকা, জল ও বায়ু দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও অনাহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
* **বেকারত্ব ও অনুন্নয়ন:** কর্মসংস্থানের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় বেকারত্ব ও সামাজিক অপরাধ বাড়ছে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer) – মান: ৫
**১. ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জনবণ্টনের তারতম্যের প্রাকৃতিক কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।**
উত্তর: ভারতের সর্বত্র জনসংখ্যা সমান নয়। এই জনবণ্টনের তারতম্যের পিছনে যে প্রাকৃতিক কারণগুলি দায়ী তা নীচে আলোচনা করা হলো:
* **ভূপ্রকৃতি:** পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলের এবড়োখেবড়ো ভূপ্রকৃতির তুলনায় সমভূমি অঞ্চলে কৃষিকাজ, শিল্প, এবং পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত হয়। তাই গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমভূমিতে লোকবসতি সবচেয়ে বেশি এবং হিমালয় বা পাহাড়ি অঞ্চলে জনবসতি বিরল।
* **জলবায়ু:** মানুষের স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কৃষিকাজের জন্য অনুকূল জলবায়ু প্রয়োজন। ভারতের উষ্ণ-আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে কৃষিকাজ ভালো হয় বলে ঘন জনবসতি দেখা যায়। অন্যদিকে রাজস্থানের উষ্ণ-শুষ্ক মরু অঞ্চল বা হিমালয়ের অতি শীতল জলবায়ু অঞ্চলে জনবসতি অত্যন্ত বিরল।
* **নদনদী:** নদীর অববাহিকায় জলসেচ, পানীয় জল, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহণের সুবিধা থাকায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলি (যেমন গঙ্গা বা গোদাবরী অববাহিকা) ঘন বসতিপূর্ণ হয়।
* **মৃত্তিকা:** উর্বর দোআঁশ, পলি বা রেগুর মাটি কৃষিকাজের পক্ষে আদর্শ। তাই গঙ্গা-সিন্ধু সমভূমি, উপকূলীয় সমভূমি ও দাক্ষিণাত্যের লাভা অঞ্চলে জনঘনত্ব বেশি। অনুর্বর অঞ্চলে জনবসতি কম।
* **ভৌগোলিক অবস্থান:** সমুদ্র উপকূলবর্তী সমভাবাপন্ন জলবায়ু, বন্দর ও বহির্বাণিজ্যের সুবিধার কারণে উপকূল অঞ্চলে (যেমন—মুম্বই) প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে।
**২. ভারতে শহর বা নগর গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি বর্ণনা করো।**
উত্তর: ভারতে জীবনযাপনের উপযোগী অনুকূল পরিবেশে শহর বা নগর গড়ে ওঠার পিছনে মূলত নিম্নলিখিত কারণগুলি কাজ করে:
* **সমভূমির অবস্থান ও উন্নত পরিবহণ:** সমতল ভূমিতে কৃষিকাজ, শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং উন্নত পরিবহণ (রেল, সড়ক) ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ। তাই গঙ্গা উপত্যকায় বহু শহর গড়ে উঠেছে।
* **শিল্প ও ব্যবসার প্রসার:** যেসব অঞ্চলে বৃহদায়তন শিল্প বা বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে ওঠে, সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকায় প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। যেমন— জামশেদপুর, দুর্গাপুর, সুরাট, মুম্বাই ইত্যাদি।
* **জলের সহজলভ্যতা:** সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য জলের প্রাচুর্য শহর গড়ে ওঠার অন্যতম শর্ত। এই কারণেই প্রাচীনকাল থেকে নদীকে কেন্দ্র করে শহর গড়ে ওঠে।
* **পর্যটন কেন্দ্র:** প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মনোরম আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যকর জলবায়ুর কারণে অনেক জায়গায় শহর গড়ে ওঠে। যেমন— দার্জিলিং, নৈনিতাল, আগ্রা প্রভৃতি।
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: ভারত (পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা)
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) - মান: ১
**১. ভারতের 'প্রবেশদ্বার' (Gateway of India) বলা হয়—**
(ক) চেন্নাইকে
(খ) কলকাতাকে
(গ) মুম্বাইকে
(ঘ) দিল্লিকে
উত্তর: (গ) মুম্বাইকে
**২. ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়কপথটি হলো—**
(ক) NH-19
(খ) NH-44
(গ) NH-16
(ঘ) NH-48
উত্তর: (খ) NH-44 (শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী)
**৩. 'সোনালি চতুর্ভুজ' (Golden Quadrilateral) যে পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, তা হলো—**
(ক) রেলপথ
(খ) সড়কপথ
(গ) জলপথ
(ঘ) বিমানপথ
উত্তর: (খ) সড়কপথ
**৪. ভারতের জীবনরেখা বলা হয়—**
(ক) সড়কপথকে
(খ) জলপথকে
(গ) রেলপথকে
(ঘ) রজ্জুপথকে
উত্তর: (গ) রেলপথকে
**৫. ভারতের একমাত্র করমুক্ত (Tax-free) বন্দর হলো—**
(ক) কান্ডালা
(খ) কোচি
(গ) মুম্বাই
(ঘ) পারাদ্বীপ
উত্তর: (ক) কান্ডালা
**৬. ভারতের দীর্ঘতম অভ্যন্তরীণ জলপথ (NW 1) কোন্ নদীতে অবস্থিত?**
(ক) ব্রহ্মপুত্র
(খ) গোদাবরী
(গ) গঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি
(ঘ) বরাক
উত্তর: (গ) গঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি (প্রয়াগরাজ থেকে হলদিয়া)
**৭. ভারতের প্রথম মেট্রো রেল কোথায় চালু হয়?**
(ক) দিল্লি
(খ) মুম্বাই
(গ) বেঙ্গালুরু
(ঘ) কলকাতা
উত্তর: (ঘ) কলকাতা (১৯৮৪ সালে)
**৮. 'ডলফিন নোজ'-এর জন্য বিখ্যাত বন্দরটি হলো—**
(ক) চেন্নাই
(খ) বিশাখাপত্তনম
(গ) তুতিকোরিন
(ঘ) মার্মাগাঁও
উত্তর: (খ) বিশাখাপত্তনম
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer) - মান: ১
**১. ভারতের 'সিলিকন ভ্যালি' বা 'বিজ্ঞান নগরী' কাকে বলা হয়?**
উত্তর: বেঙ্গালুরুকে।
**২. ভারতের প্রথম রেলপথ কবে, কোথা থেকে কোথায় চালু হয়?**
উত্তর: ১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত (৩৪ কিমি)।
**৩. উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম করিডর পরস্পরকে কোথায় অতিক্রম করেছে?**
উত্তর: উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে।
**৪. ভারতের উচ্চতম জাতীয় সড়কপথ কোনটি?**
উত্তর: লে-মানালি সড়ক (NH-3)।
**৫. ভারতের বৃহত্তম কৃত্রিম ও আধুনিক প্রযুক্তিযুক্ত বন্দর কোনটি?**
উত্তর: জওহরলাল নেহরু বা নবসেবা বন্দর (মহারাষ্ট্র)।
**৬. 'হীরক চতুর্ভুজ' (Diamond Quadrilateral) কোন্ পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত?**
উত্তর: মেট্রো শহরের মধ্যে উচ্চগতিসম্পন্ন রেলপথ বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত।
**৭. ভারতের উচ্চতম বিমানবন্দরটির নাম কী?**
উত্তর: লাদাখের লেহ-তে অবস্থিত কুশক বাকুলা রিমপোচে এয়ারপোর্ট।
**৮. আরব সাগরের রানি কোন্ শহরকে বলা হয়?**
উত্তর: কোচি (কেরল)।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer) - মান: ২
**১. সোনালি চতুর্ভুজ (Golden Quadrilateral) কী?**
উত্তর: ভারতের চারটি প্রধান মেগাসিটি—দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতাকে যুক্তকারী ৫৮৪৬ কিমি দীর্ঘ ৪-৬ লেনবিশিষ্ট অতি দ্রুতগামী জাতীয় সড়কপথ প্রকল্পকে সোনালি চতুর্ভুজ বলা হয়।
**২. পোতাশ্রয় কাকে বলে?**
উত্তর: সমুদ্র বন্দরের যে অংশে জাহাজগুলিকে পুনরায় কোনো গন্তব্যে রওনা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করানো হয় বা মেরামতের জন্য রাখা হয় এবং ঝড়-ঝঞ্ঝা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা থাকে, তাকে পোতাশ্রয় বলে।
**৩. পশ্চাদভূমি (Hinterland) বলতে কী বোঝো?**
উত্তর: বন্দরের সংলগ্ন স্থলভাগের যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রপ্তানিযোগ্য পণ্য ওই বন্দর দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয় এবং আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বিতরণ করা হয়, সেই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে। বন্দরের উন্নতি এর ওপর নির্ভরশীল।
**৪. উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডর কী?**
উত্তর: ভারতের উত্তরে শ্রীনগর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ৪১১২ কিমি দীর্ঘ সড়কপথ 'উত্তর-দক্ষিণ করিডর' এবং পশ্চিমে পোরবন্দর থেকে পূর্বে শিলচর পর্যন্ত ৩২৯৮ কিমি দীর্ঘ সড়কপথ 'পূর্ব-পশ্চিম করিডর' নামে পরিচিত।
---
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical) - মান: ৩
**১. রেলপথকে 'ভারতের জীবনরেখা' বা 'জাতীয় জীবনরেখা' বলা হয় কেন?**
উত্তর: ভারতের মতো বিশাল দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেলপথের ভূমিকা অপরিসীম। অধিক পণ্য পরিবহণ, মাঝারি ও দূরপাল্লার যাতায়াত, কৃষিজ ও শিল্পজ কাঁচামাল আনানেওয়া, ভারী খনিজ দ্রব্য সরবরাহ, দ্রুত সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রেলপথই প্রধান মাধ্যম। এই অপরিহার্যতার কারণেই ভারতীয় রেলকে 'ভারতের জীবনরেখা' বলা হয়।
**২. জলপথকে 'উন্নয়নের জীবনরেখা' বলা হয় কেন?**
উত্তর: নদী, খাল বা সমুদ্রে নৌকা, স্টিমার ও জাহাজের সাহায্যে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণ হলো জলপথ। জলপথ নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষ খরচ নেই বলে এটি পরিবহণের সবচেয়ে সুলভ মাধ্যম। ভারী, বৃহৎ ও অতিমাত্রায় পণ্য সস্তায় আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায় বলে জলপথকে 'উন্নয়নের জীবনরেখা' বলা হয়।
---
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer) - মান: ৫
**১. ভারতের আর্থসামাজিক উন্নতিতে পরিবহণ ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা করো।**
উত্তর: দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পরিবহণের গুরুত্ব অপরিসীম (মানবদেহের ধমনির মতো)।
* **অর্থনৈতিক গুরুত্ব:**
* **কৃষি ও শিল্পের উন্নতি:** কাঁচামাল সংগ্রহ এবং কৃষিজ ও শিল্পজাত দ্রব্য বাজারজাত করতে পরিবহণ আবশ্যিক।
* **বাণিজ্যিক প্রসার:** উন্নত পরিবহণ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়।
* **কর্মসংস্থান:** পরিবহণ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহুলোকের কর্মসংস্থান ঘটে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।
* **রাজনৈতিক গুরুত্ব:**
* **প্রতিরক্ষা ও সংহতি:** দেশের সীমান্তে সৈন্য ও রসদ পাঠানো এবং দেশের নানা প্রান্তের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি স্থাপনে পরিবহণ অপরিহার্য।
* **ত্রাণ কার্য:** বন্যা বা খরার মতো দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে পরিবহণ কাজে লাগে।
* **সামাজিক গুরুত্ব:** শিক্ষা, সংস্কৃতির প্রসার এবং উন্নত জীবনযাত্রা ও নগরায়ণে পরিবহণ অগ্রণী ভূমিকা নেয়।
**২. ভারতের পশ্চিম উপকূল ও পূর্ব উপকূলের প্রধান বন্দরগুলির নাম ও বৈশিষ্ট্য লেখো।**
উত্তর:
* **পশ্চিম উপকূলের উল্লেখযোগ্য বন্দর:**
* কান্ডালা (গুজরাট) - ভারতের একমাত্র করমুক্ত বন্দর।
* মুম্বাই (মহারাষ্ট্র) - ভারতের বৃহত্তম স্বাভাবিক সমুদ্র বন্দর ও প্রবেশদ্বার।
* নবসেবা বা জওহরলাল নেহরু - সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কৃত্রিম বন্দর।
* কোচি (কেরল) - মসলা রপ্তানিকারক, আরব সাগরের রানি।
* **পূর্ব উপকূলের উল্লেখযোগ্য বন্দর:**
* কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ) - প্রাচীনতম নদীবন্দর।
* পারাদ্বীপ (ওড়িশা) - লৌহ ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানিকারক।
* বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) - স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত ('ডলফিন নোজ' দ্বারা সুরক্ষিত) বন্দর।
* চেন্নাই (তামিলনাড়ু) - ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও পূর্ব উপকূলের বৃহত্তম বন্দর।
---
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন: ভারত (পরিবহন, যোগাযোগ ও পরিভাষা)
আপনার প্রদান করা পাঠ্যবইয়ের তিনটি পৃষ্ঠা (১৩৯, ১৪০, ১৪১) গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও "100% Common Suggestion" প্রস্তুত করা হলো। এই অংশে পরিবহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা থেকে সম্ভাব্য সমস্ত প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
---
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) [মান - ১]
১. ভারতের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি হলো—
(ক) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (খ) ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (গ) ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঘ) আন্না আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
উত্তর: (গ) ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দিল্লি)।
২. ভারতে প্রথম পাতালরেল বা মেট্রো রেল চালু হয়—
(ক) ১৯৮৪ সালে (খ) ১৯৯৫ সালে (গ) ১৯৩২ সালে (ঘ) ১৯৭১ সালে
উত্তর: (ক) ১৯৮৪ সালে (কলকাতায়)।
৩. ভারতের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম মেট্রো রেল ব্যবস্থা রয়েছে—
(ক) কলকাতায় (খ) দিল্লিতে (গ) বেঙ্গালুরুতে (ঘ) মুম্বাইতে
উত্তর: (খ) দিল্লিতে।
৪. বেঙ্গালুরু মেট্রো কী নামে পরিচিত?
(ক) ইয়োলো লাইন (খ) নাম্মা মেট্রো (গ) গ্রিন মেট্রো (ঘ) সিলিকন মেট্রো
উত্তর: (খ) নাম্মা মেট্রো।
৫. ভারতের প্রথম খনিজ তেলবাহী পাইপলাইনটি স্থাপিত হয়—
(ক) ডিগবয় থেকে তিনসুকিয়া (খ) হলদিয়া থেকে বারাউনী (গ) আসানসোল থেকে দুর্গাপুর (ঘ) মুম্বাই থেকে পুনে
উত্তর: (ক) ডিগবয় থেকে তিনসুকিয়া (১৯০৬ সালে)।
৬. আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় 'বিশ্বপল্লি' (Global Village) ধারণার সৃষ্টি করেছে—
(ক) সংবাদপত্র (খ) ইন্টারনেট ও ই-মেল (গ) পাতালরেল (ঘ) রজ্জুপথ
উত্তর: (খ) ইন্টারনেট ও ই-মেল।
৭. বিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প যা যে-কোনো স্থানে গড়ে উঠতে পারে, তাকে বলে—
(ক) অনুসারী শিল্প (খ) শিকড় আলগা শিল্প (গ) বাগিচা শিল্প (ঘ) ভারী শিল্প
উত্তর: (খ) শিকড় আলগা শিল্প।
৮. পৃথিবীর দীর্ঘতম ও দ্রুততম রজ্জুপথটি (Ropeway) ভারতের কোথায় অবস্থিত?
(ক) দার্জিলিং-এ (খ) চেরাপুঞ্জিতে (গ) ঝরিয়া কয়লাখনি অঞ্চলে (ঘ) আন্নামালাই পাহাড়ে
উত্তর: (গ) ঝরিয়া কয়লাখনি অঞ্চলে (৩০ কিমি দীর্ঘ)।
---
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Very Short Answer) [মান - ১]
১. এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) কত সালে স্থাপিত হয়?
উত্তর: ১৯৩২ সালের ১৫ অক্টোবর।
২. ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সস্তা বিমান সংস্থাটির নাম কী?
উত্তর: ইন্ডিগো (Indigo)।
৩. GIS-এর সম্পূর্ণ রূপ কী?
উত্তর: Geographical Information System.
৪. WWW এবং SMS-এর সম্পূর্ণ কথাটি কী?
উত্তর: WWW = World Wide Web এবং SMS = Short Messaging Service.
৫. ইন্টারনেট (Internet) শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: ইন্টারনেট হলো 'Inter Connected Networks'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যার অর্থ 'অন্তর্জাল'।
৬. TISCO এবং IISCO-এর পুরো কথা কী?
উত্তর: TISCO = Tata Iron and Steel Company এবং IISCO = Indian Iron and Steel Company.
৭. তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিশ্ব রাজধানী বা 'সিলিকন ভ্যালি' কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: USA বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
৮. ভারতের একটি শিকড় আলগা শিল্পের নাম লেখো।
উত্তর: কার্পাস বয়ন শিল্প (যেহেতু এটি বিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প)।
---
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer) [মান - ২]
১. পাইপলাইন পরিবহনের দুটি সুবিধা লেখো।
উত্তর: (i) পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় অত্যন্ত কম এবং পণ্য অপচয়ের আশঙ্কা থাকে না। (ii) এটি পণ্য পরিবহন সময় ও শ্রম সাশ্রয়কারী এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করা সুবিধাজনক।
২. শিকড় আলগা শিল্প (Footloose Industry) কাকে বলে?
উত্তর: বিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক যে শিল্পগুলি নির্দিষ্ট কোনো কাঁচামালের উৎসের ওপর নির্ভর না করে যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে গড়ে উঠতে পারে, তাদের শিকড় আলগা শিল্প বা Footloose Industry বলে। (যেমন- কার্পাস বয়ন শিল্প)।
৩. বিশ্বপল্লি বা Global Village বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আধুনিক ইন্টারনেট ও ই-মেল ব্যবস্থার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে খুব দ্রুত ও সহজে তথ্যের আদানপ্রদান সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দূরত্বের বাধা ঘুচে গিয়ে গোটা বিশ্ব যেন একটি ছোটো গ্রামে বা 'বিশ্বপল্লিতে' পরিণত হয়েছে।
৪. বাগিচা কৃষি কাকে বলে?
উত্তর: ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপযোগী সম্পূর্ণ রপ্তানি নির্ভর যে বাণিজ্যিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে বাগিচা কৃষি বলে। (যেমন- চা, কফি, রবার চাষ)।
৫. সবুজ বিপ্লব ও নীল বিপ্লব কী?
উত্তর: স্বাধীনোত্তর ভারতে ৬০-এর দশকে কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে ফসল উৎপাদনের অভাবনীয় উন্নতির প্রচেষ্টাকে 'সবুজ বিপ্লব' বলে। অন্যদিকে, ভারতে মানবজাতির ব্যবহার্য জলজ জীব (যেমন- মাছ) উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জল সংরক্ষণ সংক্রান্ত বৈপ্লবিক পরিবর্তন হলো 'নীল বিপ্লব'।
৬. রজ্জুপথ বা রোপওয়ে পরিবহনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলে যেখানে অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম গড়ে তোলা কঠিন, সেখানে রজ্জুপথ অত্যন্ত উপযোগী। এটি শ্রম, সময় ও অর্থ—তিনটিরই সাশ্রয় করে।
---
D. ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical Answer) [মান - ৩]
১. রেলপথ ও সড়কপথ পরিবহনের সুবিধাগুলি তুলনামূলকভাবে আলোচনা করো।
উত্তর:
* **রেলপথের সুবিধা:** স্থলপথে অধিক পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের জন্য রেলপথ অত্যন্ত সুলভ ও দ্রুত মাধ্যম। এটি নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ সুনিশ্চিত করে।
* **সড়কপথের সুবিধা:** স্বল্প দূরত্বে যাত্রী বা পণ্য পরিবহনের জন্য সড়কপথ আদর্শ। এতে প্রয়োজন মতো যানবাহন পছন্দের সুযোগ থাকে এবং মানুষের একেবারে দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।
২. ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় পাতালরেল বা মেট্রো রেলের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ভারতের মতো জনবহুল দেশে পাতালরেলের গুরুত্ব অপরিসীম:
(i) এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যাকে যানজটমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থায় প্রতিদিন গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
(ii) এটি বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় পরিবেশদূষণের হাত থেকে শহরকে রক্ষা করা যায়।
(iii) মাটির নীচ দিয়ে যায় বলে আবহাওয়া জনিত প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত অবস্থায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব।
৩. আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বগুলি লেখো।
উত্তর:
(i) ইন্টারনেট ও ই-মেল ব্যবস্থায় সমগ্র বিশ্ব আজ 'বিশ্বপল্লিতে' (Global Village) রূপান্তরিত হয়েছে।
(ii) এর সাহায্যে বিশ্বব্যাপী দ্রুত ও সুলভে তথ্যের আদানপ্রদান করা যায়।
(iii) শিক্ষা, ব্যাংক, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে অর্থবিনিময় ও ব্যবসায়িক কাজ যেকোনো স্থানে বসেই করা সম্ভব হয়, ফলে শ্রম ও অর্থ উভয়েরই সাশ্রয় ঘটে।
---
E. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer) [মান - ৫]
১. ভারতের বিভিন্ন পরিবহন মাধ্যমের (আকাশপথ, জলপথ ও রেলপথ) সুবিধা ও অসুবিধাগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর:
* **আকাশপথ:**
* *সুবিধা:* অত্যন্ত আরামদায়ক ও দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা। দূরবর্তী স্থানে পচনশীল দ্রব্য পরিবহন এবং আপৎকালীন বা জরুরি অবস্থায় (বিপর্যয় মোকাবিলা) এটি সবচেয়ে কার্যকর।
* *অসুবিধা:* এটি ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যয়বহুল এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। ভারী পণ্য পরিবহনের জন্য এটি সুবিধাজনক নয়।
* **জলপথ:**
* *সুবিধা:* অত্যন্ত সুলভ পরিবহন ব্যবস্থা। দূরবর্তী স্থানে ভারী পণ্য পরিবহনের জন্য এটি আদর্শ। এর পরিকাঠামোগত ব্যয় অত্যন্ত কম।
* *অসুবিধা:* এই পথ ঝুঁকিপূর্ণ এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং যাত্রী পরিবহনে এতে স্বাচ্ছন্দ্য কম।
* **রেলপথ:**
* *সুবিধা:* অধিক পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের জন্য এটি সুলভ, দ্রুত এবং নিরাপদ।
* *অসুবিধা:* এর পরিকাঠামোগত ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং নির্দিষ্ট স্টেশন ছাড়া মাঝপথে যাত্রী বা পণ্য ওঠানো-নামানো যায় না।
---
Comments
You must be signed in to join the discussion.
Loading comments...