পরিবেশের জন্য ভাবনা (Paribesher Jonno Vabna) Class 10 Physical Science Notes
মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ভৌতবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় 'পরিবেশের জন্য ভাবনা' এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সাজেশন ও সহজ ব্যাখ্যা। WBBSE Class 10 Physical Science Chapter 1 notes in Bengali.
পরিবেশের জন্য ভাবনা
পৃথিবী সৃষ্টির আদি লগ্নে পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত গ্যাসীয়পিণ্ড। গ্যাসীয় অবস্থা থেকে তাপ বিকিরণ করে প্রথমে তরল এবং পরে কঠিন পৃথিবীপৃষ্ঠ তৈরি হয়। যেসব পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় থেকে যায়, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে তারা পৃথিবীপৃষ্ঠে সংলগ্ন থাকে এবং বায়ুমণ্ডল সৃষ্টি করে।
বায়ুমণ্ডল : পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে করে কয়েক হাজার কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত যে অদৃশ্য মিশ্র গ্যাসীয় পদার্থের আবরণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে আকৃষ্ট হয়ে পৃথিবীকে বেষ্টন করে রয়েছে, তাঁকে বায়ুমণ্ডল বলে।
বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ : বায়ুমণ্ডলের প্রধান তিনটি উপাদান হল -
- 1. গ্যাসীয় উপাদান : তুলনামূলক আয়তন অনুযায়ী বায়ুর গ্যাসীয় উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে 78.05% নাইট্রোজেন, 20.95% অক্সিজেন, 0.93% আর্গন, 0.03% কার্বন ডাইঅক্সাইড। এ ছাড়া বিভিন্ন নিষ্ক্রিয় গ্যাস (He, Ne, Kr, Xe), হাইড্রোজেন (H₂), নাইট্রোজেনের অক্সাইড (NOx বা N₂O, NO, NO₂), মিথেন (CH₄), অ্যামোনিয়া (NH₃), ওজোন (O₃), কার্বন মনোক্সাইড (CO) খুব অল্প পরিমাণে থাকে।
- 2. জলীয় বাষ্প।
- 3. ধূলিকণা।
Q. রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়? প্রতিটি ভাগের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো।
Ans: রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়—
1. হোমোস্ফিয়ার বা সমমণ্ডল।
2. হেটেরোস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল।
1. হোমোস্ফিয়ার বা সমমণ্ডল : ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৪ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত যে স্তরের বায়ুর রাসায়নিক গঠন ও গ্যাসীয় উপাদানগুলির অনুপাত প্রায় একই থাকে, অর্থাৎ, সমসত্ত্ব হয়, তাকে হোমোস্ফিয়ার বা সমমণ্ডল বলে।
2. হেটেরোস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল : ভূপৃষ্ঠের উপরে ৪৪ কিলোমিটার থেকে 10,000 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত যে স্তরে বায়ুর উপাদানগুলির অনুপাত একইরকম থাকে না, তাকে হেটেরোস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল বলা হয়।
বিষমমণ্ডলে নীচ থেকে উপরের দিকে চারটি উপস্তর রয়েছে। যথা -
- A. নাইট্রোজেন স্তর।
- B. পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর।
- C. হিলিয়াম স্তর।
- D. হাইড্রোজেন স্তর।
বিষমমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদানগুলি তাদের ঘনত্ব অনুসারে পরপর অবস্থান করে। নাইট্রোজেনের ঘনত্ব বেশি বলে এই গ্যাস বিষমমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরে অবস্থান করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস হালকা বলে সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করে।
Q. চাপ ও উষ্ণতা প্রভৃতির তারতম্যের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস করো।
Ans: উষ্ণতা, চাপ, ঘনত্ব ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে বিজ্ঞানীরা বায়ুমণ্ডলকে মুখ্যত ছয়টি স্তরে ভাগ করেছেন। ক্রমবর্ধমান উচ্চতা অনুসারে স্তরগুলি হল—
1. ট্রপোস্ফিয়ার বা ঘনমণ্ডল,
2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল,
3. মেসোস্ফিয়ার বা মধ্যমণ্ডল,
4. থার্মোস্ফিয়ার বা তাপমণ্ডল,
5. এক্সোস্ফিয়ার বা বহিঃমণ্ডল,
6. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বা চুম্বকমণ্ডল।
উচ্চতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন স্তরের ক্ষেত্রে উষ্ণতার পরিবর্তন বিভিন্ন রকম হয় কিন্তু প্রতিটি স্তরের ক্ষেত্রে চাপ ক্রমশ কমতে থাকে।
বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বর্ণনা :
1. ট্রপোস্ফিয়ার বা ঘনমণ্ডল : বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচে অবস্থিত এই স্তরটি সবচেয়ে ঘন ও ভারি স্তর। এই স্তরে আমরা বসবাস করি।
বিস্তৃতি : ভূপৃষ্ঠ থেকে গড়ে 10 কিলোমিটার, নিরক্ষীয় অঞ্চলে 16-18 কিলোমিটার ও মেরু অঞ্চলে 7-8 কিলোমিটার।
গঠন : বায়ুমণ্ডল গঠনকারী বিভিন্ন উপাদান যেমন অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা ইত্যাদির 75% এই স্তরে অবস্থান করে।
বৈশিষ্ট্য :
(i) বায়ুপ্রবাহ, মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ইত্যাদি বায়বীয় গোলযোগ এই স্তরে ঘটে। তাই এই স্তরের অপর নাম ক্ষুব্ধমণ্ডল।
(ii) উষ্ণতা 15°C থেকে -56°C।
(iii) এই স্তরে প্রতি 1 km উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা প্রায় 6.5°C হ্রাস পায়। তাই এই স্তরকে “ক্রমহ্রাসমান উষ্ণতা স্তর” বলে। এই স্তরের সর্বনিম্ন উষ্ণতা প্রায় -56°C বা 217K হয়।
(iv) বায়ুদূষণকারী প্রায় সকল উপাদানই এই স্তরে উপস্থিত থাকে।
(v) বায়ুমণ্ডলের উপাদানের বেশিরভাগই এই স্তরে অবস্থান করায় বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ এই স্তরে সর্বোচ্চ।
(vi) এই স্তরে প্রপেলার বিমান চালানো হয়।
(vii) ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমায় প্রায় 3 কিলোমিটার অংশে উষ্ণতার হ্রাসবৃদ্ধি হয় না, এই অংশকে ট্রপোপজ বলে। ট্রপোপজ অংশে উষ্ণতা মোটামুটি -56°C স্থির থাকে।
Q. ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে উষ্ণতা_______। 2017
Q. বায়ুমণ্ডলের স্তর গুলির মধ্যে কোনটিতে চাপ সবথেকে বেশি কারণসহ লেখ। 2020
Ans: বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলির মধ্যে ট্রপোস্ফিয়ারে চাপ সবথেকে বেশি। কারণ - এটি বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তর। বায়ুমণ্ডলের প্রায় 75% গ্যাসীয় উপাদান, ধূলিকণা ও জলকণা এই স্তরে উপস্থিত থাকায় এই স্তরটি সবচেয়ে ঘন ও ভারী। ভূপৃষ্ঠে সমুদ্রতল বরাবর এই স্তর সবচেয়ে ভারী হওয়ায় বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় বায়ুর ঘনত্ব তত কমতে থাকে। ফলে, বায়ুর চাপও কমতে থাকে।
Q. বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরটির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি— 2022
a) ট্রপোস্ফিয়ার b) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার c) মেসোস্ফিয়ার d) থার্মোস্ফিয়ার
2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল : ট্রপোস্ফিয়ারের উপরে অবস্থিত বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হল স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
বিস্তৃতি : ট্রপোপজের ঊর্ধ্বে প্রায় 50 কিলোমিটার পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।
গঠন : স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উপাদানগুলি ট্রপোস্ফিয়ারের উপাদানগুলি থেকে অভিন্ন হলেও পরিমাণগতভাবে অনেকটাই কম থাকে।
বৈশিষ্ট্য :
(i) এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব খুবই কম হওয়ায় বায়ুচাপও কম হয়। এই স্তরের বায়ুর চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুর চাপের 1/1000 অংশ হয়।
(ii) বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম হওয়ায় এই স্তরে শ্বাসকার্য চালানো কষ্টকর।
(iii) এই স্তরে জলীয় বাষ্প, বায়ুপ্রবাহ, মেঘ বা ঝড়বৃষ্টি অনুপস্থিত। তাই একে শান্তমণ্ডল বলে। বায়ুমণ্ডল শান্ত থাকায় এই স্তরে জেটপ্লেন চলাচল করে।
(iv) উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই স্তরের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছে তা প্রায় 0°C হয়।
(v) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিম্নাঞ্চলে, ভূপৃষ্ঠের সাপেক্ষে 20 থেকে 35 কিমি উচ্চতায় যে ওজোন গ্যাসের আবরণ পৃথিবীকে ঘিরে আছে তাকে ওজোন স্তর বা ওজোনোস্ফিয়ার বলে। বায়ুমণ্ডলের 90% ওজোন এই স্তরে বিদ্যমান। 20 কিমি উচ্চতায় 10° উত্তর অক্ষাংশে ওজোন স্তরের ঘনত্ব সর্বাধিক। এখানে ঘনত্ব 450 DU (DU= Dobson Unit, ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক হল ডবসন (DU)।
এই ওজোন গ্যাস সূর্য থেকে আসা তাপ ও অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে থাকে। ফলে, জীবজগৎ ধ্বংসের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে। অতিবেগুনি রশ্মি শোষণের কারণেই এই স্তরের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।
(vi) এই স্তরের শব্দ প্রতিফলিত করার ক্ষমতা আছে।
(vii) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমায় অবস্থিত যে অংশে উষ্ণতা অপরিবর্তিত থাকে, তাকে স্ট্র্যাটোপজ বলে।
3. মেসোস্ফিয়ার বা মধ্যমণ্ডল : স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উপরে অবস্থিত বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় তথা মধ্যভাগে অবস্থিত স্তরটিকে মেসোস্ফিয়ার বলে।
বিস্তৃতি : ভূপৃষ্ঠ থেকে 50-80 কিলোমিটার উচ্চতার পাল্লার মধ্যে স্তরটি অবস্থান করে।
গঠন : এই স্তরে সামান্য পরিমাণে উপস্থিত N₂, O₂ অথবা তড়িদাহিত অণু যেমন — O₂⁺, NO⁺ মূল উপাদান হিসেবে থাকে।
বৈশিষ্ট্য :
(i) এটি বায়ুমণ্ডলের শীতলতম অঞ্চল। উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে এই স্তরে উষ্ণতা ও চাপ দুই-ই কমে। 80 কিলোমিটার উচ্চতায় উষ্ণতা কমে প্রায় – 93°C হয়।
(ii) মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা উল্কাগুলি এই স্তরে এসে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
(iii) মেসোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমায় যে অংশে উষ্ণতার মান প্রায় স্থির হয়, সেই অংশকে মেসোপজ বলে।
4. থার্মোস্ফিয়ার বা তাপমণ্ডল : মেসোস্ফিয়ারের উপরে অবস্থিত বায়ুমণ্ডলের অতি তপ্ত স্তরটি হল থার্মোস্ফিয়ার বা তাপমণ্ডল।
বিস্তৃতি : ভূপৃষ্ঠ সাপেক্ষে ৪০ কিলোমিটার থেকে 500 কিলোমিটার উচ্চতার পাল্লায় এই স্তরটি অবস্থান করে।
গঠন : ছোটো ছোটো তড়িৎবাহী কণার সমন্বয়ে স্তরটি গঠিত। এর নীচের অংশে আণবিক নাইট্রোজেন ও উপরের অংশে পারমাণবিক অক্সিজেন থাকে। এই স্তরে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও ওজোন গ্যাসগুলি আয়নিত অবস্থায় থাকে।
বৈশিষ্ট্য :
(i) এই অংশে বাতাস প্রায় নেই। তাই আকাশকে কালো বর্ণের দেখায়।
(ii) এই স্তরের উপাদান নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন অণু ও পরমাণুগুলি সূর্য ও মহাবিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে আগত এক্স রশ্মি, গামা রশ্মি ও মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic ray) শোষণ করে। ফলে, উষ্ণতা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং স্তরটির ঊর্ধ্বসীমায় উষ্ণতা প্রায় 1200°C হয়ে থাকে।
(iii) থার্মোস্ফিয়ারের নীচের অংশে ভূপৃষ্ঠের সাপেক্ষে 80km থেকে 400 km উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত আধানযুক্ত কণা ও আয়নিত গ্যাস দ্বারা গঠিত স্তরকে আয়নোস্ফিয়ার বা আয়নমণ্ডল বলে।
[ সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন গামা রশ্মি, X-রশ্মি ও মহাজাগতিক রশ্মির (Cosmic ray) প্রভাবে এই অঞ্চলের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের অণুগুলি ভেঙে গিয়ে অসংখ্য ধনাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে (যেমন O₂⁺, O⁺, NO⁺ ইত্যাদি) সেই সঙ্গে অসংখ্য মুক্ত ইলেকট্রনও উৎপন্ন হয়। এইভাবে থার্মোস্ফিয়ারের নীচের অংশের বায়ু আয়নিত অবস্থায় থাকায় এই স্তরটিকে আয়নোস্ফিয়ার নামে অভিহিত করা হয়েছে। ]
অণু, পরমাণু ও আয়নগুলি সংমিশ্রিত হয়ে প্লাজমা অবস্থায় থাকে।
(iv) তড়িদাহিত থাকায় আয়নমণ্ডল পৃথিবী থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে। একে কাজে লাগিয়ে বেতার ও দূরদর্শন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে।
(v) মেরু অঞ্চলে এই স্তরে মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
(vi) থার্মোস্ফিয়ারের যে উচ্চতায় আর উষ্ণতা বৃদ্ধি হয় না সেই অঞ্চলটিকে থার্মোপজ বলা হয়।
Q. মেরুজ্যোতি কীভাবে সৃষ্টি হয় ?
Ans: আয়নমণ্ডল অঞ্চলে সূর্য ও মহাবিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে আগত X রশ্মি, γ রশ্মি, মহাজাগতিক রশ্মি ইত্যাদির প্রভাবে ওই অঞ্চলে থাকা N2 ও O2 গ্যাসের অণুগুলি বিয়োজিত হয়ে অসংখ্য তড়িদাহিত কণা (ধনাত্মক আয়ন) ও মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি করে। এই আয়নিত কণা ও মুক্ত ইলেকট্রনগুলি পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে বিক্ষেপিত হয়ে সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে যে উজ্জ্বল আলোক প্রভা গঠন করে তাকে মেরুজ্যোতি বা মেরুপ্রভা বলে।
এদেরকে উত্তর মেরুতে সুমেরু প্রভা ও দক্ষিণ মেরুতে কুমেরু প্রভা বলে।
5. এক্সোস্ফিয়ার বা বহিঃমণ্ডল : থার্মোস্ফিয়ারের উপরে প্রায় মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত পাতলা বায়ুস্তরকে এক্সোস্ফিয়ার বা বহিঃমণ্ডল বলে।
বিস্তৃতি : ভূপৃষ্ঠের উপরে 500-1500 কিলোমিটার পর্যন্ত এই স্তরটি বিস্তৃত থাকে।
গঠন : এই স্তরে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায় ও গ্যাসগুলি আয়নিত অবস্থায় থাকে।
বৈশিষ্ট্য :
(i) এই স্তরেও উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়, তবে এই বৃদ্ধি থার্মোস্ফিয়ারের মতো দ্রুত নয়।
(ii) এই স্তরের অন্তিম অংশে উষ্ণতা প্রায় 1600°C হয়।
(iii) কৃত্রিম উপগ্রহ, মহাকাশ কেন্দ্রগুলি এই স্তরে অবস্থান করে।
6. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বা চুম্বকমণ্ডল : এক্সোস্ফিয়ারের উপরে অবস্থিত মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলের সর্বশেষ স্তরকে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বলা হয়।
বিস্তৃতি : 1500 – 10,000 কিলোমিটার (বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমা) পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।
বৈশিষ্ট্য :
(i) স্তরটি প্রায় বায়ুশূন্য। এটি বিস্তৃত হয়ে সূর্যের আবহাওয়ামণ্ডলে গিয়ে মিশেছে।
(ii) এই স্তরে ইলেকট্রন ও প্রোটন দ্বারা গঠিত একটি স্থায়ী তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের অস্তিত্ব থাকে।
Q. কোনো স্থানের বায়ুর উষ্ণতার তারতম্যের কারণ হিসেবে উচ্চতার প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
Ans: উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে ট্রপোস্ফিয়ারের উষ্ণতা ক্রমশ হ্রাস পায়। এই স্তরে প্রতি কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রায় 6.5°C উষ্ণতা হ্রাস পায়। এই স্তরের উপরের দিকের উষ্ণতা প্রায় – 56°C। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। মেসোস্ফিয়ার বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর। এই স্তরের ক্ষেত্রে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা ক্রমশ কমতে থাকে। থার্মোস্ফিয়ারের ক্ষেত্রে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। সূর্য থেকে বিকিরিত কসমিক রশ্মি ও অন্যান্য রশ্মির প্রভাবে এই স্তরের উষ্ণতা বেড়ে প্রায় 1200°C হয়। এক্সোস্ফিয়ারের উষ্ণতা 1200°C অপেক্ষা বেশি হয়।
জেনে রেখো :
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠলে বায়ুর চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক কারণে বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, ফলে শ্বাসকষ্ট হয়। এ ছাড়া উঁচু জায়গায় বায়ুচাপ কম থাকায় জলের স্ফুটনাঙ্কও কম হয়। ফলে, রান্না করতে বেশি সময় লাগে।
Q. পরিচলন স্রোত কী ?
Ans: তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ উত্তপ্ত হলে আয়তনে প্রসারিত হয়। ফলে, প্রবাহীর ঘনত্ব কমে ও সেটি হালকা হয়ে উপরের দিকে উঠে যায় এবং একইসঙ্গে উপরের ঠান্ডা ও ভারী অংশ নীচে নামে। এইভাবে তাপ পরিচলনের ফলে কোনো প্রবাহীতে মাধ্যমের কণাগুলির যে চক্রাকার গতিপথ সৃষ্টি হয়, তাকে পরিচলন স্রোত বলে।
Q. বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টিতে পরিচলন স্রোতের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
Ans: ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত কোনো স্থানের বায়ু প্রাকৃতিক কারণে উত্তপ্ত হলে আয়তনে প্রসারিত হয়। ফলে, বায়ুর ঘনত্ব হ্রাস পায় এবং ওই বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট স্থানে যে সাময়িক শূন্যতার সৃষ্টি হয় তা পূরণ করার জন্য ওই স্থান সংলগ্ন আশপাশ অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত শীতল ও ভারী বাতাস ওই স্থানের অভিমুখে ছুটে আসে। তাপ পরিচলনের ফলে প্রবাহীতে বায়ু মাধ্যমের কণাগুলি চক্রাকার গতিপথে আবর্তিত হয়। এই পদ্ধতিতে বায়ুতে যে প্রাকৃতিক পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়, তাকেই বায়ুপ্রবাহ বলে।
পরিচলন স্রোতের দুটি প্রাকৃতিক উদাহরণ হল—সমুদ্রবায়ু এবং স্থলবায়ু।
Q. ঝড় কী ?
Ans: ভূপৃষ্ঠের উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের অভিমুখে তীব্র গতিতে বায়ুপ্রবাহের ছুটে আসার ঘটনাকে ঝড় বলে।
Q. ঝড় কীভাবে সৃষ্টি হয় ?
Ans: ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানের এবং তার আশপাশের অঞ্চলের বায়ুচাপের তারতম্যের কারণেই বায়ুপ্রবাহ ঘটে। দুই অঞ্চলের বায়ুচাপের পার্থক্য যত বেশি হয় চাপের সমতা বজায় রাখার জন্য উচ্চ চাপযুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে বায়ু তত বেশি গতিবেগে ধাবিত হয়। এরূপ উচ্চ গতিশক্তির কারণে প্রবহমান বায়ু বিধ্বংসী চেহারায় আত্মপ্রকাশ করলে তাকেই ঝড় আখ্যা দেওয়া হয়। গতিবেগের তারতম্য অনুসারে এই ঝড় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে – সাইক্লোন, টাইফুন, হ্যারিকেন, টর্নেডো প্রভৃতি নামে পরিচিত।
ওজোন স্তর
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিম্নাঞ্চলে, ভূপৃষ্ঠের সাপেক্ষে 20 থেকে 35 কিমি উচ্চতায় যে ওজোন গ্যাসের আবরণ পৃথিবীকে ঘিরে আছে তাকে ওজোন স্তর বা ওজোনোস্ফিয়ার বলে।
বায়ুমণ্ডলের 90% ওজোন এই স্তরে বিদ্যমান। 20 কিমি উচ্চতায় 10° উত্তর অক্ষাংশে ওজোন স্তরের ঘনত্ব সর্বাধিক। ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক হল ডবসন (DU)।
Q. ওজোন স্তরকে ওজোনছত্র বলা হয় কেন?
Ans: বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত ওজোন স্তরকে ওজোন ছত্র বলে। ছাতা যেমন রোদ-বৃষ্টি থেকে আমাদের রক্ষা করে, ওজোন স্তর তেমন সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির পৃথিবীতে আগমনকে প্রতিরোধ করে। তাই ওজোন স্তরকে 'ওজোন ছত্র' বলা হয়।
Q. ওজোনস্তর সূর্য থেকে কোন্ রশ্মির ভূপৃষ্ঠের আপতনকে প্রতিহত করে? 2019
Q. ওজোনস্তর সূর্য থেকে আগত __________________ রশ্মির ভূপৃষ্ঠে আপতনকে প্রতিহত করে। 2022
ওজোন স্তরের উৎপত্তি :
প্রথমে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে উপস্থিত অক্সিজেন অণু (O₂), সূর্যালোক থেকে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য যুক্ত UV রশ্মি শোষণ করে অক্সিজেন পরমাণুতে ভেঙে যায়।
O₂ + অতিবেগুনি রশ্মি (কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য) → O + O
পরের ধাপে, O পরমাণু, O₂ অণুর সঙ্গে বিক্রিয়ায় ওজোন (O₃) সৃষ্টি করে।
O + O₂ → O₃
আবার ওজন অণুও বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্য যুক্ত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে অক্সিজেন অণু তে পরিণত হয়।
O₃ + অতিবেগুনি রশ্মি (বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্য) → O₂ + O
O₃ + O → 2O₂
এইভাবে আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন তৈরি হওয়া এবং তার ভেঙে যাওয়া এই দুটি বিপরীত ক্রিয়া ক্রমান্বয়ে চলতে থাকে। এর ফলে একটি গতিশীল সাম্যাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ স্থির থাকে।
Q. CFC কিভাবে ওজোনস্তর ধ্বংস করে বিক্রিয়া সহ লেখো।
Ans: শীততাপ নিয়ন্ত্রণের মেশিন, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদিতে ব্যবহৃত CFC বাষ্পায়িত হয়ে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে প্রবেশ করে ওজোন স্তরের ভাঙন ঘটায়। ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে বিয়োজিত হয়ে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু উৎপন্ন করে। এই সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু ওজোনকে অক্সিজেনে বিয়োজিত করে।
CFCl₃ + অতিবেগুনি রশ্মি → Cl (সক্রিয়) + CFCl₂
Cl + O₃ → ClO + O₂ ; ClO + O₃ → Cl + 2O₂
শেষ ধাপে উৎপন্ন Cl পুনরায় O₃ কে বিয়োজিত করে। এইভাবে ওজোনস্তরের ক্ষয় ঘটতে থাকে। একটি সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু লক্ষাধিক ওজোন অণুর বিয়োজন ঘটাতে সক্ষম।
Q. UV রশ্মির প্রভাবে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন থেকে নির্গত কোন্ পরমাণুটি ওজোন গ্যাসকে অক্সিজেনে বিয়োজিত করে দেয়? 2017
Q. ওজোনস্তর ধ্বংসর NO ও NO₂-এর ভূমিকা কী?
Ans: অত্যধিক নাইট্রোজেনঘটিত সার ব্যবহার ও দ্রুতগামী এরোপ্লেন থেকে বায়ুমণ্ডলে সংযোজিত নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড (NOx) যেমন— নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO₂) ও নাইট্রিক অক্সাইড (NO) ওজোনের সংস্পর্শে অক্সিজেন তৈরি করে ওজোন স্তরের ক্ষতি সাধন করে।
NO + O₃ → NO₂ + O₂ ; NO₂ + O₃ → NO + 2O₂
এই বিক্রিয়ার ফলে NO এর পরিমাণ কমে না কিন্তু O₃ অণু বিয়োজিত হতে থাকে।
Q. ওজোনস্তরে ওজোনের বিয়োজনে NO-এর ভূমিকা কী ? 2018
Q. নীচের কোন্ গ্যাসটি ওজোনস্তরে ওজোন ক্ষয়ে সহায়তা করে না? 2020
a. NO b. NO2 c. CFC d. CO2
Q. নীচের কোন্ গ্যাসটি ওজোন স্তরে ওজোন ক্ষয়ে সহায়তা করে? 2023
(a) CO2 (b) Ar (c) CFC (d) He
জেনে রেখো :
1982 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী জো ফোরম্যান পর্যবেক্ষণ করেন, আন্টার্কটিকা অঞ্চলের উপরিভাগে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত ওজোন স্তরটি ক্রমশ পাতলা হয়ে যাচ্ছে। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত ওজোন স্তরের পাতলা হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে তিনি ওজোন ছিদ্র বা ওজোন গহ্বর নামে অভিহিত করেন।
ওজোন স্তরের কোনো স্থানে যখন ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব 200 ডবসন ইউনিটের কম হয়, তখন সেখান দিয়ে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি প্রবেশ করতে পারে, ফলে সেই স্থানে ওজোন গহ্বর সৃষ্টি হয়।
ওজোনস্তর ধ্বংসের কারণ : বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO₂), হ্যালোন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, ট্রাইক্লোরোইথেন প্রভৃতির সংস্পর্শে ওজোনস্তর ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় যে ছাই উৎপন্ন হয় তাতে উচ্চ মাত্রায় ক্লোরিন ও ব্রোমিন থাকে। এই গ্যাসগুলি ট্রপোস্ফিয়ার থেকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে প্রবেশ করে ওজোন স্তরের ক্ষতিসাধন করে।
ওজোনস্তর ধ্বংসের ক্ষতিকারক প্রভাব : পৃথিবীকে ঘিরে থাকা ওজোনস্তরে ক্ষতি হওয়ার ফলে বেশি পরিমাণে অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে এসে পৌঁছোচ্ছে।
এর ফলস্বরূপ : (i) পৃথিবীর উষ্ণতার বৃদ্ধি ঘটবে। (ii) চামড়ার ক্যানসার, সান-বার্ন, চোখে ছানি পড়া ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বাড়বে। (iii) উদ্ভিদের ক্ষতি হবে। (iv) জলে থাকা জীব যেমন— অ্যালগি, অ্যারকি, ব্যাকটেরিয়া কমে যাবে।
Q. গ্রিনহাউস গ্যাস কাকে বলে? কয়েকটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো।
Ans: = ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় উপাদান সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রশ্মিকে পৃথিবীতে আসতে দিলেও উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘতর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট অবলোহিত রশ্মিকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয় ও কিছু অংশ নিজেরা শোষণ করে এবং অবশিষ্টাংশ পুনরায় পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রতিফলিত করে ভূপৃষ্ঠ ও তৎসংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।
গ্রিনহাউস গ্যাসের উদাহরণ :
অজৈব গ্রিনহাউস গ্যাস : কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂), ওজোন (O₃), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), জলীয় বাষ্প (H₂O)।
জৈব গ্রিনহাউস গ্যাস : ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), মিথেন (CH₄) ইত্যাদি।
মনে রেখো :
- বায়ুমণ্ডলের দুই মুখ্য উপাদান নাইট্রোজেন (N2) ও অক্সিজেন (O2) কোনোভাবেই 'গ্রিনহাউস এফেক্ট'-এর জন্য দায়ী নয়।
- CO₂ হল প্রধান গ্রীনহাউস গ্যাস। বিশ্ব উষ্ণায়নে এর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
- তবে নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO), সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂), ইথেন (C₂H₂) প্রভৃতি গ্যাসগুলিও অল্প পরিমাণে গ্রিনহাউস এফেক্টের জন্য দায়ী।
- এক অণু CFC-এর উষ্ণকরণ ক্ষমতা 10,000 CO2 অণুর মোট উষ্ণকরণ ক্ষমতার সমান।
Q. গ্রিন হাউস এফেক্ট কী ? অনুরূপ প্রশ্ন, গ্রিন হাউস এফেক্ট এর কারণ সংক্ষেপে লেখ?
Ans: = যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কয়েকটি গ্যাসীয় পদার্থ (যেমন, CO2, CH4, CFC, N2O, O3 ইত্যাদি) সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রশ্মিকে পৃথিবীতে আসতে দিলেও উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘতর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট অবলোহিত রশ্মিকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয় ও কিছু অংশ নিজেরা শোষণ করে এবং অবশিষ্টাংশ পুনরায় পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রতিফলিত করে ভূপৃষ্ঠ ও তৎসংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে, তাকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।
Q. গ্লোবাল ওয়ার্মিং কী? 2022 এর প্রভাব লেখ। বিশ্ব উষ্ণায়ণ হ্রাসের দুটি উপায় লেখো অথবা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে কার্যকরী এবং দৈনন্দিন জীবনে রূপায়িত করা সম্ভব এমন সমাধানের ইঙ্গিত দাও।
Ans: = * পরিবেশ দূষণের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রিনহাউস এফেক্টের প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে। সারা বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধির এই সার্বিক প্রবণতাকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।
গ্রিনহাউস প্রভাব ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলাফল :
- পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে মেরু অঞ্চলে জমে থাকা বরফ আরও বেশি করে গলবে। বরফ গলা জল সমুদ্রের জলে যুক্ত হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি করবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের জলতল বাড়ার জন্য উপকূলের নীচু জমি জলমগ্ন হবে। ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ প্রভৃতি দেশের কিছু অংশ জলে ডুবে যাবে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে দাবানলের দ্বারা বনভূমি নষ্ট হবে।
- খরা, ঝড় বা সাইক্লোন ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ফলে, সমগ্র জীবজগত ভয়ংকর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
বিশ্ব উষ্ণায়ন হ্রাসের উপায় : (1) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অনেকাংশে কমাতে হবে যাতে CO₂ এর পরিমাণ কমে। (2) অপ্রচলিত শক্তি, যেমন সৌরশক্তি, পারমাণবিক শক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে। (3) বনভূমি রক্ষা করতে হবে এবং বনসৃজনে জোর দিতে হবে। (4) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন জাতীয় পদার্থের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। সম্ভব হলে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
Q. গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য নীচের কোন্ গ্যাসটির অবদান সবচেয়ে বেশি ?
a) N2O b) CH4 c) CO2 d) H2O বাষ্প 2018
Q. নীচের কোন্ গ্যাসটি ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট অবলোহিত রশ্মি শোষণ করে?
a) N2 b) O2 c) CH4 d) He 2019
Q. বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি করে এমন একটি গ্যাসের নাম লেখো। 2022
Q. বায়ুতে উপস্থিত একটি গ্যাসের নাম করো যেটির পরিমাণ বাড়লে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটে। 2020
Q. বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত একটি গ্যাসের নাম করো যেটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়। 2023
Q. ভূ-উষ্ণতা বৃদ্ধির একটি ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করো। 2017
Q. ভবিষ্যতে পরিবেশের ওপর বিশ্ব উষ্ণায়নের দুটি সম্ভাব্য প্রভাবের উল্লেখ করো। 2023
জেনে রেখো : গ্রিনহাউস এফেক্টের সুফলও আছে। গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি না থাকলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা দাঁড়াত –23°C। এই উষ্ণতা জীবজগতের অস্তিত্বের পক্ষে অনুকূল নয়, গ্রিনহাউস এফেক্টের ফলে গড় তাপমাত্রা আরও 32°C বেড়ে 15°C পৌঁছেছে যা জীব জগতের বাঁচার পক্ষে সহায়ক।
শক্তির যথাযথ ব্যবহার
Q. জ্বালানি ও জীবাশ্ম জ্বালানি কি?
Ans: = জ্বালানি : যে সব পদার্থ বাতাস বা অক্সিজেনের পোড়ালে প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন হয়, তাদের জ্বালানি বলে।
জীবাশ্ম জ্বালানি : কয়েক লক্ষ বছর আগে উদ্ভিদ ও প্রাণী মাটির নীচে চাপা পড়ে বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে যে শক্তির উৎসে পরিণত হয়, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানী বলে। উদাহরণ : কয়লা, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস।
জেনে রেখো :
তাপন মূল্যের SI একক জুল/কেজি (J/kg)। তাপন মূল্যের CGS একক ক্যালোরি/গ্রাম (cal/g)।
এছাড়া, তাপন মূল্যের অন্যান্য একক হল কিলোজুল/কেজি (kJ/kg), কিলোক্যালোরি/ঘনমিটার (kcal/m³) ইত্যাদি।
কয়েকটি জীবাশ্ম জ্বালানির তাপনমূল্য :
| ক্রমিক সংখ্যা | জীবাশ্ম জ্বালানি | তাপন মূল্য (kJ/g) |
|---|---|---|
| 1 | কয়লা | 25-30 |
| 2 | কাঠ কয়লা | 33 |
| 3 | ডিজেল | 45 |
| 4 | কেরোসিন | 48 |
| 5 | পেট্রোল | 50 |
| 6 | প্রাকৃতিক গ্যাস | 33-50 |
| 7 | রান্নার গ্যাস ( LPG ) | 50 |
- আদর্শ জ্বালানির বৈশিষ্ট্য হল (i) এটি সহজলভ্য ও নিরাপদে ব্যবহারযোগ্য। (ii) উচ্চ তাপনমূল্য বিশিষ্ট। (iii) কম জ্বলনাঙ্ক বিশিষ্ট। (iv) কম দূষণ সৃষ্টিকারক ও (v) জলীয় বাষ্পমুক্ত হতে হবে। যেমন—প্রাকৃতিক গ্যাস, LPG, CNG।
- জীবাশ্ম জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনের ফলে উৎপন্ন হয় অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস কার্বন মনোক্সাইড (CO)।
Q. জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী?**
Ans: = (i) জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত সীমিত এবং এটি নবীকরণযোগ্য নয়। (ii) জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সভ্যতার অগ্রগতির ফলে বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করলে এর মজুত শেষ হয়ে যাবে। এরফলে শক্তি সংকটের সৃষ্টি হবে। (iii) জীবাশ্ম জ্বালানির অধিকতর ব্যবহারে উৎপন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস (CO₂, NO₂) বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটাবে।
Q. কাঠকয়লা, পেট্রোল ও ইথানলের মধ্যে কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি? 2018
Ans: পেট্রোল
Q. কয়লা ও ডিজেলের মধ্যে কোনটির তাপন মূল্য বেশি? 2017 কয়লা ও LPG-এর মধ্যে কার তাপনমূল্য বেশি ? পেট্রোল ও ডিজেলের মধ্যে কোনটির তাপনমূল্য বেশি ?
Ans: = কয়লা ও ডিজেলের মধ্যে ডিজেলের তাপন মূল্য বেশি। কয়লা ও LPG এর মধ্যে LPG এর তাপন মূল্য বেশি। পেট্রোল ও ডিজেলের মধ্যে পেট্রোলের তাপন মূল্য বেশি।
Q. জ্বালানির তাপন মূল্যের একক লেখো। 2019
Q. কয়লার একটি নমুনার তাপন মূল্য 30,000 kJ kg⁻¹ বলতে কী বোঝায় ? 2023
Ans: = কয়লার একটি নমুনার তাপন মূল্য 30,000 kJ kg⁻¹ বলতে বোঝায় - 1 kg কয়লার ওই নমুনার সম্পূর্ণ দহনের ফলে 30,000 kJ তাপ উৎপন্ন হবে।
Q. স্থিতিশীল উন্নয়নের ধারণাটি কি? 2019
Ans: = স্থিতিশীল উন্নয়ন হল এমন একটি ধারণা বা পরিকল্পনা যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিজস্ব চাহিদা পূরণ করার ক্ষমতাকে ব্যাহত না করে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
Q. স্থিতিশীল উন্নয়নের দুটি প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করো।
Ans: = স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য হল - (i) ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর সামর্থ্যকে ব্যাহত না করে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করা। (ii) পৃথিবীর প্রাকৃতিক উৎসের সীমার মধ্যে বর্তমান ও ভবিষ্যতের পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি ঘটানো।
Q. স্থিতিশীল উন্নয়নের পদক্ষেপ সমূহ কী কী?
Ans: = স্থিতিশীল উন্নয়নের পদক্ষেপ সমূহ :
(i) অনবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার কমানো। (ii) নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং বিভিন্ন অপ্রচলিত শক্তি যেমন—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জোয়ারভাটা শক্তি, ভূতাপ শক্তি, বায়োমাস শক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়ানো, (iii) বর্জ্য পদার্থের পুনর্ব্যবহার, (iv) উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা, (v) দূষণ নিয়ন্ত্রণ।
Q. প্রচলিত বা চিরাচরিত শক্তির উৎস বা অনবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।
Ans: = যেসব শক্তির উৎসগুলিকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করার ফলে বর্তমানে নিঃশেষিত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এবং যেগুলি নিঃশেষিত হলে ফিরে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই তাদের চিরাচরিত বা অনবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস বলে।
উদাহরণ: জীবাশ্ম জ্বালানিগুলি যেমন- কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস হল চিরাচরিত বা অনবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস।
Q. পুনর্নবীকরণযোগ্য বা অচিরাচরিত বা অপ্রচলিত শক্তির উৎস কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
Ans: = যেসব শক্তির উৎসগুলির ব্যবহার সাম্প্রতিককালে শুরু হয়েছে এবং যে উৎসগুলিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে চললেও নিঃশেষিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই সেইসব শক্তির উৎসগুলিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য বা অচিরাচরিত শক্তির উৎস বলে।
উদাহরণ: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জোয়ার-ভাটার শক্তি, ভূ- তাপশক্তি ইত্যাদি।
Q. স্থিতিশীল বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য বায়ুশক্তি ব্যবহার করা যায় কেন? 2023
Q. বিকল্প বা অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহারের দুটি সুবিধা উল্লেখ করো।
Ans: = এই শক্তি সহজলভ্য ও এটি নবীকরণযোগ্য অর্থাৎ, পরিবর্তিত অবস্থা থেকে সহজেই প্রাথমিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনে বারংবার ব্যবহার করা যায়। শক্তি উৎস বা কাঁচামালগুলি প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় সহজে নিঃশেষিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, ও পারমাণবিক শক্তির মতো দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশই দূষক, এদের ব্যবহারে পরিবেশদূষণ ঘটে না।
Q. সৌরশক্তি কী ? এর উৎস কী ? এর ব্যবহার লেখো।
Ans: = সৌর শক্তি : সূর্য থেকে আমরা যে শক্তি পাই তাকে সৌর শক্তি বলে। সৌর শক্তির মধ্যে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি রয়েছে।
উৎস : এর উৎস হল নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া।
ব্যবহার : (1) দৈনন্দিন জীবনে সোলার কুকার, সোলার ওয়াটার হিটার, সৌর কোশ ইত্যাদিতে সৌর শক্তিকে সরাসরি কাজে লাগানো হচ্ছে।
(2) সোলার কুকারে সূর্যের তাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়।
(3) সোলার ওয়াটার হিটারে সূর্যের তাপকে কাজে লাগিয়ে জল গরম করা হয়।
(4) সৌরকোশে সৌরশক্তিকে সরাসরি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
বায়োফুয়েল : উদ্ভিদ বা অণুজীবের মধ্যে আত্তীভূত কার্বনঘটিত যৌগ থেকে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করা জ্বালানিকে বায়োফুয়েল বা জৈব জ্বালানি বলে।
এটি তিন প্রকার। যথা -
(1) কঠিন বায়োফুয়েল : কাঠ, বাঁশ, খড়, গৃহস্থালির আবর্জনা।
(2) তরল বায়োফুয়েল : ভুট্টা ও আখের ছিবড়া থেকে উৎপন্ন “বায়োইথানল” ও উদ্ভিজ্জ তেল, প্রাণীজ চর্বি থেকে উৎপন্ন “বায়োডিজেল”।
(3) গ্যাসীয় বায়োফুয়েল : গোবর গ্যাস, বায়োগ্যাস।
বায়োফুয়েল এর ব্যবহার : রান্না করার সময় জ্বালানি হিসেবে, ও আলো জ্বালাতে, জল ফুটিয়ে স্টিম উৎপন্ন করতে এবং সেই স্টিমের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে, শীতপ্রধান দেশে ঘর গরম রাখার জন্য বায়োফুয়েল ব্যবহৃত হয়।
Q. বায়োগ্যাসের একটি ব্যবহার উল্লেখ করো। 2018
Q. একটি শক্তি উৎসের নাম লেখো যেটি স্থিতিশীল বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যায়। 2020
Q. জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প একটি জ্বালানির উল্লেখ করো। 2022
Q. মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়ার কী? এদের কাজ কী?
Ans: যেসব ব্যাকটেরিয়া বায়ুর অনুপস্থিতিতে বায়োমাসের বিয়োজন ঘটিয়ে প্রকৃতিতে মিথেন গ্যাস মুক্ত করে তাদের মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়া বলে। উদাহরণ – মিথানোকক্কাস, মিথানো ব্যাকটেরিয়াম ইত্যাদি।
এগুলি জলাভূমিতে থাকে এবং মার্স গ্যাস (মিথেন) উৎপন্ন করে।
কাজ : মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়ার মূল কাজ হল মিথেন তৈরি করে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেওয়া।
Q. বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কাজ লেখো।
Ans: জলের উপস্থিতিতে কিন্তু অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে অ্যানেরোবিক বা অবায়ুজীবী বা মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা প্রাণী এবং উদ্ভিদের বর্জ্য পদার্থের বিয়োজন পদ্ধতির দ্বারা বায়োগ্যাস উৎপন্ন করা হয় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট-এ। বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে ব্যাকটেরিয়া গোবর, মানুষের বর্জ্য, কৃষিকার্যের বর্জ্য, উদ্ভিদের বর্জ্য, পোলট্রিতে উৎপন্ন বর্জ্য এবং কাগজের ফেলে দেওয়া টুকরো ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপন্ন করা হয়।
Q. পাওয়ার অ্যালকোহল কি? এর উপাদান কি কি?
Ans: পাওয়ার অ্যালকোহল : পাওয়ার অ্যালকোহল হল আসলে ইথাইল অ্যালকোহল, পেট্রোল ও খুব সামান্য পরিমাণে বেঞ্জিন-এর মিশ্রণ। পেট্রোলের ভাণ্ডার সীমিত এমন দেশগুলিতে গাড়ির ইঞ্জিনের পাওয়ার বা ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই মিশ্রণটি ব্যবহার করা হয়। এই কারণে একে পাওয়ার অ্যালকোহল বলা হয়।
উপাদান : পাওয়ার অ্যালকোহলে উপাদানরূপে পেট্রোল (75 – 80%), ইথানল (20 – 25%) ও সামান্য পরিমাণে বেঞ্জিন (দ্রাবক রূপে) থাকে।
Q. মিথেন হাইড্রেট কি ? 2018 একে ফায়ারাইস বলা হয় কেন ?
Ans: * মিথেন হাইড্রেট হল কেলাসাকার কঠিন পদার্থ যেখানে মিথেন অণুগুলি জলের অণু দ্বারা সৃষ্ট কেলাস গঠনের মধ্যে আবদ্ধ অবস্থায় থাকে। নিম্ন উষ্ণতা এবং উচ্চচাপে মিথেন হাইড্রেট পাওয়া যায়।
এর সংকেত হল (4CH₄.23H₂O)।
** উপযুক্ত উষ্ণতা ও চাপে জলের অণু দ্বারা গঠিত বরফ সদৃশ কেলাসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মিথেন আবদ্ধ হয়ে মিথেন হাইড্রেট-এর সৃষ্টি করে। মিথেন গ্যাস প্রকৃতিতে দাহ্য হওয়ায় বরফের মতো দেখতে মিথেন হাইড্রেট কেলাস আগুনের সংস্পর্শে আসামাত্র জ্বলতে থাকে। তাই, একে 'ফায়ার আইস' বলে।
জেনে রেখো : মিথেন হাইড্রেট নিজ আয়তনের 160-170 গুণ আয়তনের মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করতে পারে।
মিথেন হাইড্রেট থেকে মিথেন আহরণ : 1100 মিটার নীচে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলাস্তরের নীচে মিথেন হাইড্রেট পাওয়া যায় এবং নিম্নলিখিত উপায়ে মিথেন হাইড্রেট থেকে মিথেন আহরণ করা হয়।
কার্বন ডাই অক্সাইড ইনজেকশন : CO₂ গ্যাসকে মিথেন হাইড্রেট স্তরে পাইপের সাহায্যে প্রবেশ করালে CO₂ গ্যাস মিথেন হাইড্রেট থেকে মিথেনকে প্রতিস্থাপিত করে।
মিথেন হাইড্রেট + CO₂ গ্যাস → CO₂ হাইড্রেট + CH₄ গ্যাস।
Q. কয়লা খনির মিথেন কী? একে “Sweet gas” বলে কেন? এর আহরণ পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
Ans: কয়লা খনির মিথেন হল কয়লা খনি থেকে উৎপন্ন এক প্রকারের প্রাকৃতিক গ্যাস, যা কয়লার উপরে একটি পাতলা স্তর রূপে সঞ্চিত থাকে। কয়লাখনির মিথেন-এর মধ্যে খুব অল্প পরিমাণে প্রোপেন বা বিউটেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকে।
এর মধ্যে বিষাক্ত H₂S না থাকায় একে “Sweet gas” বলে।
বর্তমানে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশে এটি শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
কয়লা খনির মিথেন গ্যাসের আহরণ পদ্ধতি : কয়লা খনির মিথেন বা Coal bed মিথেন গ্যাস খনিজ কয়লার কঠিন স্তরের মধ্যে অধিশোষিত অবস্থায় থাকে। এখান থেকেই নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে Coal bed মিথেন গ্যাসকে আহরণ করা হয়।
i) প্রথমে একটি স্টিলের ফাঁপা পাইপ ভূপৃষ্ঠের নীচে 100 থেকে 1500 মিটার গভীরতায় অবস্থিত কয়লা স্তরে প্রবেশ করানো হয়। (ii) এর পর কয়লা স্তরের উপর থেকে পাম্পের সাহায্যে জলকে বের করে উপরে আনা হয়। এর ফলে কয়লা স্তরের উপর চাপ হ্রাস পায় এবং Coal bed এ অধিশোষিত গ্যাস মুক্ত হয়ে পাইপের মধ্যে দিয়ে ভূপৃষ্ঠে উঠে আসে।
Q. কোল- বেড থেকে কোন্ জ্বালানি গ্যাস আহরণ করা হয়? 2020
Comments
You must be signed in to join the discussion.
Loading comments...