পথের পাঁচালি - অষ্টম শ্রেণি (Pather Panchali Class 8) | সমস্ত অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

পথের পাঁচালি - অষ্টম শ্রেণি (Pather Panchali Class 8) | সমস্ত অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণির বাংলা 'পথের পাঁচালী' (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) থেকে প্রথম থেকে সপ্তবিংশ (১-২৭) অধ্যায় পর্যন্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (Pather Panchali Class 8 Questions Answers)।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা 'পথের পাঁচালী' (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর। প্রথম থেকে সপ্তবিংশ (১-২৭) অধ্যায় পর্যন্ত সমস্ত প্রশ্ন ও তার উত্তর নিচে দেওয়া হলো।

প্রথম অধ্যায়

১. সরস্বতী পুজোর বিকালে গ্রামের লোকজন কোথায় এবং কেন যাচ্ছিল?
গ্রামের লোকজন নীলকণ্ঠ পাখি দেখার খোঁজে গ্রামের বাইরের মাঠে যাচ্ছিল।
২. হরিহর কার সঙ্গে মৎস্য শিকারের পরামর্শ করছিল?
নবীন পালিতের সঙ্গে।
৩. অপু যখন জঙ্গলের দিকে আঙুল তুলে জিজ্ঞেস করেছিল, 'কী দৌড়ে গেল বাবা?', তখন তার বাবা কী উত্তর দিয়েছিল?
বিরক্ত হয়ে তার বাবা বলেছিল, 'কী তা আমি কী দেখেছি, শুয়োর-টুয়োর হবে'।
৪. খরগোশ সম্বন্ধে অপুর কী ধারণা ছিল?
অপু বর্ণপরিচয়ে 'ক্ষ'-এ খরগোশের ছবি দেখেছিল। কিন্তু জীবন্ত খরগোশ যে এরকম লাফিয়ে পালায় এবং তাকে যে বাস্তবে দেখা যেতে পারে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না।
৫. মাঠের মধ্যে পুরোনো কালের কীসের ভগ্নাবশেষ দেখা গিয়েছিল?
নীলকুঠির জালঘরের ভগ্নাবশেষ।
৬. নবীন পালিত কোন ফসলের চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন?
শাঁকালুর চাষ করে।
৭. নীলকুঠিটাকে দেখতে কেমন লাগছিল?
কুঠিটাকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের অতিকায় হিংস্র জন্তুর কঙ্কালের মতো লাগছিল।
৮. আলকুশি কী এবং হরিহর অপুকে আলকুশিতে হাত দিতে কেন বারণ করেছিল?
আলকুশি এক ধরনের গাছ যার পাতায় রোঁয়া থাকে। হাত দিলে শুঁয়ো ফুটে রি রি করে জ্বলে এবং হাত চুলকে ফোস্কা হয়, তাই হরিহর অপুকে বারণ করেছিল।

দ্বিতীয় অধ্যায়

৯. অপুর টিনের বাক্সে কী কী মহামূল্যবান সম্পত্তি ছিল?
একটি রঙ-ওঠা কাঠের ঘোড়া, চার পয়সা দামের একটি টিনের ভেঁপু বাঁশি, গোটা কতক কড়ি, একটি দু-পয়সা দামের পিস্তল, কতগুলো শুকনো নাটা ফল এবং গঙ্গা-যমুনা খেলার জন্য খান কতক খাপড়ার কুচি।
১০. অপু লক্ষ্মীর চুপড়ির কড়িগুলো কখন লুকিয়ে ফেলেছিল?
মায়ের অজ্ঞাতসারে নেওয়া কড়িগুলো নিয়ে সে খেলছিল। হঠাৎ দিদি দুর্গার ডাক শুনে কলের পুতুলের মতো সে তাড়াতাড়ি কড়িগুলো লুকিয়ে ফেলেছিল।
১১. অপু ও দুর্গার বয়স কত?
অপুর বয়স ছয়-সাত বছর এবং দুর্গার বয়স দশ-এগারো বছর।
১২. দুর্গাকে দেখতে কেমন ছিল?
দুর্গার গড়ন পাতলা, রঙ অপুর মতো অতটা ফর্সা নয় একটু চাপা, মাথার চুল রুক্ষ যা বাতাসে ওড়ে, পরনে ময়লা কাপড় এবং চোখগুলো অপুর মতোই ডাগর ডাগর।
১৩. দুর্গা অপুকে দিয়ে কী আনতে পাঠিয়েছিল এবং কেন?
একটু তেল আর নুন আনতে পাঠিয়েছিল আমের কুশি জরাবে বা মাখবে বলে।
১৪. অপুদেদের বাড়ির অবস্থা কেমন ছিল?
বাড়ির মেরামত দীর্ঘদিন হয়নি। সামনের দিকের রোয়াক ভাঙা, ফাটলে কালমেঘের গাছ গজিয়েছে, ঘরের দোর-জানালার কপাট ভাঙা এবং নারকেলের দড়ি দিয়ে গরদের সঙ্গে বাঁধা। চরম দারিদ্র্যের ছাপ ছিল তাদের বাড়িতে।

তৃতীয় অধ্যায়

১৫. অপু কেন গোগ্রাসে আম গিলছিল?
মায়ের ডাকে ভয় পেয়ে এবং ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চিবিয়ে খাওয়ার সময় না থাকায় সে গোগ্রাসে গিলছিল।
১৬. অপুদেদের বাড়িতে কে গোরু দোয়াইতে আসত?
স্বর্ণ গোয়ালিনী।
১৭. হরিহর কার বাড়িতে কী কাজ করে?
গ্রামের অন্নদা রায়ের বাটিতে গোমস্তার কাজ করে।
১৮. অনেক দূরের অশ্বত্থ গাছটা বা চিল দেখে অপুর শিশু মনে কেমন ভাব সৃষ্টি হতো?
সে ভাবত অনেক দূরে কোনো অচেনা অজানা রূপকথার দেশ আছে। কিন্তু যখনই সে কল্পনায় অনেক দূরে চলে যেত, তখনই মায়ের জন্য তার মন কেমন করে উঠত এবং সে ছুটে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরত।
১৯. দুপুরবেলা মা অপুকে কী পড়ে শোনাতেন?
মা কাশীরাম দাসের লেখা 'মহাভারত' পড়ে শোনাতেন।
২০. মহাভারতের কোন চরিত্রটিকে অপুর খুব ভালো লাগত এবং কেন?
কর্ণের চরিত্রটিকে অপুর সবচেয়ে ভালো লাগত। কারণ রথের চাকা মাটিতে পুঁতে গেলে নিরস্ত্র ও অসহায় কর্ণের অনুরোধ উপেক্ষা করে অর্জুন তাকে হত্যা করে, যা শুনে অপুর কর্ণের প্রতি চরম করুণা ও মমতা হতো।
২১. যুদ্ধ জিনিসটা উপভোগ করার জন্য অপু কী করত?
সে একটা গাছের ডালকে অস্ত্রস্বরূপ হাতে নিয়ে আপন মনে বান ছোঁড়ার অভিনয় করত এবং যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলত।
২২. দুর্গা অপুকে কীসের নোলক পরিয়ে দিত?
ওড়কলমি লতার সাদা ফুলের কুঁড়ি দিয়ে।

চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়

২৩. শ্রীনিবাস বা চিনিবাস ময়রা কে? সে কাদের বাড়িতে ঢুকেছিল?
চিনিবাস একজন ফেরিওয়ালা, যে মাথায় করে খাবার (মিষ্টি/খাজা) বিক্রি করত। সে ভুবন মুখুজ্যের বাড়িতে ঢুকেছিল।
২৪. সেজবৌ কে? তার স্বভাব কেমন ছিল?
ভুবন মুখুজ্যের সেজ ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী। তার বয়স চল্লিশের ওপর এবং তিনি অত্যন্ত কড়া মেজাজের মানুষ ছিলেন।
২৫. সেজ ঠাকুরন অপুদেদের বাড়িতে এসে কী অভিযোগ করেছিল?
সে অভিযোগ করেছিল যে দুর্গা তার মেয়ে টুনুর পুতুলের বাক্স থেকে পুঁতির মালা এবং তাদের সোনামুখী গাছের আমের গুটি চুরি করেছে।
২৬. এই চুরির অপবাদ শুনে মা সর্বজয়া কী করেছিলেন?
অপমানে ও দুঃখে মা সর্বজয়া রেগে গিয়ে দুর্গার রুক্ষ চুল ধরে তাকে কিল-চড় মারেন এবং বাড়ি থেকে দূর হয়ে যেতে বলেন।
২৭. দিদির মাথার চুল খাড়া হয়ে উড়তে দেখলে অপুর মনে কী অনুভূতি হতো?
অপুর দিদির প্রতি অত্যন্ত মমতা হতো। তার মনে হতো দিদির কেউ নেই, সে যেন দিদির সমস্ত দুঃখ ঘুচিয়ে দেয় এবং তাকে আর কোনো কষ্টে পড়তে না দেয়।
২৮. অপুর ছোট্ট বইয়ের দপ্তরে কী কী বই ছিল?
তার দপ্তরে দুখানা মোটা ইংরেজি বই, কবিরাজি ঔষধের তালিকা, পাতা-ছেঁড়া দাশুরায়ের পাঁচালি এবং ১৩০৩ সালের পুরাতন একটি পাঁজি ছিল।

ষষ্ঠ অধ্যায়

২৯. দুর্গা পেঁপেতলায় কী ব্রত করছিল? ব্রতের মন্ত্রটি কী ছিল?
দুর্গা 'পুণ্যিপুকুর ব্রত' করছিল। মন্ত্রটি হলো— 'পুণ্যিপুকুর পুষ্পমালা, কে পূজরে দুপুরবেলা। আমি সতী লীলাবতী, ভাইয়ের বোন ভাগ্যবতী।'
৩০. অপু ও দুর্গা গড়ের পুকুরে কী কুড়িয়ে পেয়েছিল এবং সেটাকে কী ভেবেছিল?
তারা একটি চকচকে কাঁচের টুকরো পেয়েছিল এবং সেটাকে মহামূল্যবান 'হিরে' ভেবেছিল।
৩১. হরিহর ও সত্যবাবু কাঁচের টুকরোটা দেখে কী বলেছিলেন?
হরিহর বলেছিল এটি কাঁচ বা পাথর হবে। আর সত্যবাবু নিশ্চিত করেন যে ওটা ঝাড়লণ্ঠনে ঝোলানো সাধারণ বেলোয়ারি কাঁচ।
৩২. ঝড়ের পর দুর্গা কী কুড়িয়ে এনেছিল?
একটি বড়ো দোমালা নারকেল এবং একটি নারকেল বাগলো (পাতা বা ঝাঁটা বানানোর জন্য)।
৩৩. সেজ ঠাকুরনের নারকেল চুরির অভিশাপ শুনে সর্বজয়া কী করেছিল?
সেজ বউ যখন অভিশাপ দিচ্ছিল যেন দুর্গা মরে যায়, তখন সর্বজয়া ভয় পেয়ে যায়। অভিশাপ যাতে ছেলেমেয়েদের না লাগে তাই সে অপুকে দিয়ে নারকেলটা ফেরত পাঠিয়ে দেয় এবং ঠাকুরের কাছে ছেলেমেয়েদের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করে।

সপ্তম ও অষ্টম অধ্যায়

৩৪. প্রসন্ন গুরুমশাই পাঠশালার পাশাপাশি আর কী করতেন?
তিনি একটি মুদির দোকানও চালাতেন।
৩৫. পাঠশালা সম্বন্ধে অপুর কী ধারণা ছিল?
অপুর ধারণা ছিল যে যারা দুষ্টু ছেলে, মায়ের কথা শোনে না, ভাই-বোনের সঙ্গে মারামারি করে, শাস্তি হিসেবে তাদেরকেই শুধু পাঠশালায় পাঠানো হয়।
৩৬. পাঠশালায় কারা গল্প করতে আসতেন এবং তারা কী গল্প করতেন?
দিনু পালিত, রাজু রায় এবং রাজকৃষ্ণ সান্যাল গল্প করতে আসতেন। রাজু রায় তামাকের দোকান খোলার গল্প করতেন এবং রাজকৃষ্ণ সান্যাল মশাই তার বিভিন্ন দেশভ্রমণের (দ্বারকা, সাবিত্রী পাহাড়, চন্দ্রনাথ পাহাড়) গল্প বলতেন।
৩৭. বেলডাঙ্গার বুধ গারোয়ানের গল্পটি কী ছিল?
বুধ গারোয়ানের গাড়িতে একবার ডাকাত ধরলে সে মন্ত্রতন্ত্রের জোরে (বা সাহসের জোরে) তাদের আটকে রেখে সোজা নবাবগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। পরে ডাকাতরা ক্ষমা চাইলে সে তাদের ছেড়ে দেয়।
৩৮. শ্রুতিলিখন কী? গুরুমশাইয়ের মুখে শ্রুতিলিখন শুনে অপুর কেমন লেগেছিল?
শুনে শুনে লেখাকে শ্রুতিলিখন বলে। গুরুমশাই যখন কঠিন ও অজানা শব্দের শ্রুতিলিখন আওড়াচ্ছিলেন, অর্থ না বুঝলেও সেই ধ্বনি-ঝংকার অপুর খুব অপূর্ব লেগেছিল। সে অজানা অচেনা এক রূপকথার দেশের কল্পনা করছিল।
৩৯. অপু ও নীলু পথ হারিয়ে কোথায় গিয়ে পড়েছিল? আতুঁরি বুড়ি কি সত্যিই ডাইনি ছিল?
তারা পথ হারিয়ে আতুঁরি ডাইনির বাড়িতে গিয়ে পড়েছিল। বাস্তবে আতুঁরি বুড়ি কোনো ডাইনি ছিল না, সে ছিল একজন সাধারণ ও একাকী থাকা বৃদ্ধা মহিলা যাঁকে গ্রামের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ ডাইনি অপবাদ দিয়েছিল।

নবম অধ্যায়

৪০. হরিহর অপুকে কোথায় এবং কেন নিয়ে গিয়েছিল?
নিজের জজমান লক্ষণ মহাজনের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। কারণ বাড়িতে অপু ভালো খেতে পায় না, বাবার সাথে বাইরে গেলে ভালো খাবার-দাবার খেলে তার শরীরটা সারবে।
৪১. লক্ষণ মহাজনের বাড়িতে অপু কী খেয়ে অবাক হয়েছিল?
কিসমিস ও ঘি দেওয়া প্রচুর মোহনভোগ খেয়ে অপু অবাক হয়েছিল। সে এর আগে শুধু গুড় আর জল দিয়ে তৈরি মোহনভোগ খেয়েছিল।
৪২. মোহনভোগ ও লুচি খাওয়ার সময় অপুর মনে কী অনুভূতি হচ্ছিল?
বড়োলোকদের বাড়িতে ভালো খাবার (লুচি, মোহনভোগ, গলদা চিংড়ি) খেতে গিয়ে অপুর মন বারবার দিদির জন্য কেঁদে উঠছিল। তার মনে হচ্ছিল— 'আহা, তাহার দিদি তো এরকম খাইতে পায় নাই কখনো।' এই ঘটনার মাধ্যমে অপুর তার মা ও দিদির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও করুণার প্রকাশ পেয়েছে।

দশম অধ্যায়: অভিমানী অপু

৪৩. শিষ্যের বাড়ি থেকে ফিরে অপু কী করছিল?
অপু তার বাবার সঙ্গে শিষ্যের বাড়ি থেকে ফিরে তার ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা বাড়ির সবাইকে অনবরত বলতে থাকে। ছোট বাচ্চাদের মতো তার গল্প আর ফুরোতে চায় না।
৪৪. অপুর মায়ের ওপর কেন অভিমান হয়েছিল?
অপু বন জঙ্গল ঘেঁটে টেলিগ্রাফের তার বানিয়ে টাঙিয়েছিল, কিন্তু তার মা সর্বজয়া বুঝতে না পেরে তা ছিঁড়ে ফেলে। এতে অপুর ভীষণ অভিমান হয় এবং সে না খেয়ে রায়দের বাগানে গিয়ে বসে থাকে।
৪৫. মাকাল ফল কী? সতু অপুর সাথে কী করেছিল?
মাকাল ফল হলো এক ধরনের বন্য ফল, যা বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর কিন্তু ভেতরে অত্যন্ত তেতো। সতু অপুদেদের বাড়িতে খেলতে এসে অপুর জমানো তিনটি মাকাল ফল নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

একাদশ অধ্যায়: বিশালাক্ষী দেবী

৪৬. 'বিশালাক্ষী' কথার অর্থ কী?
'বিশালাক্ষী' কথার অর্থ হলো বিশাল অক্ষী বা বড়ো চোখ যার (যেমন মা দুর্গা বা মা কালী)।
৪৭. কল্পনায় বিশালাক্ষী দেবী অপুকে কী দিতে চেয়েছিলেন?
অপু এক অদ্ভুত বিকেলে নির্জন প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে নানা রূপকথার গল্প কল্পনা করছিল। সে কল্পনায় দেখে, বিশালাক্ষী দেবী তাকে ভালো ছেলে বলে বর দিতে চাইছেন।

দ্বাদশ অধ্যায়: পুজোর হিসাব ও পাতালকোড়ের তরকারি

৪৮. 'পাতালকোড়' কী? এটি খেতে কেমন?
'পাতালকোড়' হলো এক ধরনের বন্য ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুম, যা বর্ষাকালে মাঠে জন্মায়। এটি রান্না করলে খেতে একদম মাংসের মতো সুস্বাদু লাগে।
৪৯. যষ্টিমধু কী? অপু কী বোকামি করেছিল?
যষ্টিমধু হলো এক প্রকার ভেষজ উদ্ভিদের শিকড় বা ছাল যা গলা ব্যথায় উপকারী। অপু না বুঝে যষ্টিমধু হিসেবে পোস্তদানা খেয়ে ফেলে নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ করেছিল।

ত্রয়োদশ অধ্যায়: কড়ি খেলায় মারামারি

৫০. অপু কোথায় কড়ি খেলতে গিয়েছিল এবং সেখানে কী ঘটেছিল?
প্রখর রোদে অপু জেলে পাড়ায় তেঁতুলতলায় কড়ি খেলতে গিয়েছিল। সেখানে পটু প্রথমে হারলেও পরে জিততে শুরু করায় গণ্ডগোল বাধে। অপুকেও পটুর পক্ষ নেওয়ায় অকারণে মার খেতে হয়।
৫১. 'বাঁকা কঞ্চি অপুর জীবনের এক অদ্ভুত জিনিস' - কেন বলা হয়েছে?
শিউলিতলায় ফেলে আসা একটি বাঁকা কঞ্চিকে অপু মহাভারতের অর্জুনের অস্ত্রের মতো মনে করত। এই সামান্য বাঁকা কঞ্চি নিয়েই সে নদীর ধারে, বাঁশবনে সারাদিন যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলত এবং সীমাহীন আনন্দ পেত।

চতুর্দশ অধ্যায়: শকুনের ডিম ও শূন্য মার্গে বিচরণ

৫২. 'শূন্য মার্গে বিচরণ' কথার অর্থ কী? অপু কোথা থেকে এ বিষয়ে জেনেছিল?
'শূন্য মার্গে বিচরণ' কথার অর্থ হলো আকাশপথে বা শূন্যে উড়ে বেড়ানো। অপু তার বাবার 'সর্বদর্শন সংগ্রহ' বইটি থেকে শকুনের ডিম ও পারদ দিয়ে আকাশে ওড়ার অদ্ভুত কথা জেনেছিল।
৫৩. শূন্যে ওড়ার ক্ষমতার জন্য অপু কী করেছিল?
অপু আকাশে ওড়ার জন্য হিরু নাপিতের ছেলে রাখালকে দিয়ে দুটি কালো রঙের ডিম আনায় (যাকে সে শকুনের ডিম ভেবেছিল) এবং দিদির থেকে পয়সা ধার করে সেটি কিনেছিল।
৫৪. ডিম ভেঙে যাওয়ার পর অপু নিজেকে কী বলে প্রবোধ দিয়েছিল?
দুর্গার অসতর্কতায় ডিমটি ভেঙে গেলে অপু ভীষণ কাঁদে। পরে সে নিজেকে এই বলে বোঝায় যে, তার মা ও দিদি তো আর বাবার 'সর্বদর্শন সংগ্রহ' বইটি পড়েনি, তাই তারা শূন্যপথে ওড়ার এই বিষয়টা জানবেই বা কী করে!

পঞ্চদশ অধ্যায়: নরোত্তম দাস বাবাজির সঙ্গে ভাব

৫৫. বৃদ্ধ নরোত্তম দাস বাবাজির সাথে অপুর কীভাবে ভাব হয়েছিল?
দুজনের বয়সের অনেক পার্থক্য থাকলেও নির্জনতা ও প্রকৃতি পছন্দ করার কারণে তাদের গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বাবাজি অপুর নিষ্পাপ মুখের মধ্যে 'গৌর' বা শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ দেখতে পেতেন।
৫৬. 'আমি মরবার সময় বইখানা তোমায় দিয়ে যাব দাদু' - কে কাকে, কোন বই দেওয়ার কথা বলেছিল?
নরোত্তম দাস বাবাজি অপুকে এ কথা বলেছিলেন। তিনি অপুকে তাঁর প্রিয় 'প্রেমভক্তি চন্দ্রিকা' নামক বইটি দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
৫৭. অপু কার বাগান থেকে কী ফুল কুড়িয়ে এনেছিল?
অপু নরোত্তম দাস বাবাজির বাগান থেকে মিষ্টি গন্ধযুক্ত সাদা 'মুচকুন্দ চাঁপা' ফুল কুড়িয়ে এনে তার বিছানায় রেখে ঘ্রাণ নিচ্ছিল।

ষোড়শ অধ্যায়: অপু দুর্গার চড়ুইভাতি

৫৮. অপু ও দুর্গা কোথায় চড়ুইভাতি বা পিকনিক করেছিল?
নীলমণি রায়ের জঙ্গলে ঢাকা ভিটের ওধারে তারা চড়ুইভাতি করেছিল। সেখানে তাদের সাথে যুগীর বামন কালিনাথ চক্রবর্তীর মেয়ে বিনিও যোগ দিয়েছিল।
৫৯. এই চড়ুইভাতিতে সামাজিক বৈষম্যহীনতার কী পরিচয় পাওয়া যায়?
চড়ুইভাতিতে সামাজিক বৈষম্যের কোনো স্থান ছিল চিহ্নিত। তথাকথিত নিচু জাতের বা যুগী ব্রাহ্মণ কন্যা বিনি নিঃসঙ্কোচে অপুর গ্লাসে চুমুক দিয়ে জল খেয়েছিল, যা শিশুদের ভেদাভেদহীন ও নিষ্পাপ মানসিকতার পরিচয় দেয়।

সপ্তদশ অধ্যায়: সোনার কৌটো চুরি

৬০. মুখুজ্যে বাড়ির সেজ ঠাকুরন দুর্গার ওপর কী অভিযোগ এনেছিলেন?
সেজ ঠাকুরন অভিযোগ করেছিলেন যে দুর্গা তাদের বাড়ির সোনার সিঁদুরের কৌটো চুরি করেছে।
৬১. চুরির অপবাদে দুর্গার ওপর কী অত্যাচার হয়েছিল?
চুরির অপবাদে দুর্গাকে চোর ও নচ্ছার বলে গালমন্দ করা হয় এবং তাকে বেদম প্রহার করা হয়। দেওয়ালে তার মাথা ঠুকে দেওয়ায় নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়েছিল। শেষে উপস্থিত মানুষজন বাধা দিলে সে ছুটে পালিয়ে যায়।

অষ্টাদশ অধ্যায়: নাকছাবি হারানো ও চরক পুজো

৬২. গ্রামে কিসের পুজো হচ্ছিল? 'বারোয়ারি' শব্দের অর্থ কী?
গ্রামে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে শিবের গাজন বা বারোয়ারি চরক পুজো হচ্ছিল। 'বারোয়ারি' শব্দের অর্থ হলো যা সর্বসাধারণের জন্য বা সবার জন্য।
৬৩. চরক পুজোর প্যান্ডেল দেখে অপুর কী অবস্থা হয়েছিল?
পুজো উপলক্ষে বাঁশের সামিয়ানা বা প্যান্ডেল হতে দেখে অপুর আর পড়াশোনায় একেবারেই মন বসছিল না। সে সারা দুপুর যাত্রার প্যান্ডেলের কাছে কাটিয়ে দিত।
৬৪. দুর্গা গন্ধভাদালির পাতা তুলতে গিয়ে কোন ছড়াটি কাটছিল?
দুর্গার প্রিয় নাকছাবিটি হারিয়ে গিয়েছিল। তাই সে বাগানে পাতা তুলতে গিয়ে দুঃখের সঙ্গে ছড়া কাটছিল— 'হলুদ বনে বনে, নাকছাবিটি হারিয়ে গেছে সুখ নেইকো মনে।'

ঊনবিংশ অধ্যায়: বন্ধু অজয়

৬৫. যাত্রাপালায় কে রাজপুত্রের অভিনয় করেছিল এবং তার সাথে অপুর কেমন সম্পর্ক তৈরি হয়?
যাত্রাপালায় অজয় নামের একটি ছেলে রাজপুত্র 'অজয়'-এর অভিনয় করেছিল। অপুর সাথে তার খুব সুন্দর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সারাদিন তারা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ায় ও গান গায়।
৬৬. অজয় অপুকে কী অনুরোধ করে গিয়েছিল?
অজয় ছিল একজন অনাথ ব্রাহ্মণ ছেলে। তিনদিন যাত্রা শেষে ফিরে যাওয়ার সময় সে অপুকে বলে যায়, দুর্গার বিয়ের সময় যেন তাকে অবশ্যই চিঠি দিয়ে নেমন্তন্ন করা হয়।

বিংশ অধ্যায়: দুর্গার বায়োস্কোপ দেখা ও অপুর স্বপ্ন

৬৭. দুর্গা কী দেখেছিল এবং তার মনের ইচ্ছা কী ছিল?
দুর্গা এক বৃদ্ধ মুসলমানের কাছে রঙিন টিনের বাক্সে বায়োস্কোপ দেখেছিল। তার খুব ইচ্ছা ছিল ভাই অপুকেও এই অদ্ভুত জিনিসটা দেখানোর, কিন্তু তার কাছে কোনো পয়সা ছিল না।
৬৮. অপুর আগ্রহ কোন বিষয়ে ছিল?
অপুর কেবল পড়াশোনাতেই আগ্রহ ছিল। সে রাঙা খাতায় নাটক লিখত এবং ভূগোল, বীজগণিত, লাতিন ব্যাকরণ ইত্যাদি পড়ার স্বপ্ন দেখত।

একবিংশ অধ্যায়: ভেটেল ধানের চালির ভাত

৬৯. বর্ষাকালে অপুদেদের সংসারের অবস্থা কেমন ছিল?
বর্ষাকালে অপুদেদের সংসারের অবস্থা অত্যন্ত করুণ হয়ে ওঠে। হরিহর কাজের খোঁজে বাইরে গিয়ে আর ফেরেনি। ঘরে খাবার নেই, তার ওপর দুর্গার গায়ে জ্বর। বাধ্য হয়ে সর্বজয়া একটি চাদরের বিনিময়ে নিবারণের মায়ের কাছ থেকে মোটা ভেটেল ধানের চাল আনে।
৭০. জ্বরের ঘোরে দুর্গা মায়ের কাছে কী খেতে চেয়েছিল?
জ্বরের ঘোরে দুর্গা মায়ের কাছে নোনতা বিস্কুট খেতে চেয়েছিল, কিন্তু বাড়িতে সামান্য চাল কেনার পয়সা না থাকায় মা তা এনে দিতে পারেননি।

দ্বাবিংশ ও ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: দুর্গার অনন্তের দিকে পাড়ি

৭১. দুর্গার শরীর খারাপ হলে কোন ডাক্তারকে ডাকা হয়েছিল?
দুর্গার অবস্থা খারাপের দিকে গেলে নবাবগঞ্জ থেকে শরৎ ডাক্তারকে ডাকা হয়েছিল।
৭২. মৃত্যুর আগে দুর্গা অপুর কাছে কী শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল?
দুর্গা অপুকে অনুরোধ করেছিল যে সে যেন তাকে একদিন রেলগাড়ি দেখায়।
৭৩. দুর্গার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?
প্রবল ঝড়-বৃষ্টির রাতে দুর্গার জ্বর মারাত্মক আকার ধারণ করে। পরদিন সকাল দশটা নাগাদ হঠাৎ হার্ট ফেল করে দুর্গা না-ফেরার দেশে (অনন্তের দিকে) পাড়ি দেয়। মৃত্যুকালে সে তার বাবাকেও কাছে পায়নি।

চতুর্বিংশ অধ্যায়: সর্বজয়ার হাহাকার

৭৪. হরিহর বাইরে কোথায় কাজ পেয়েছিল এবং সে বাড়ির জন্য কী কী কিনে এনেছিল?
হরিহর কৃষ্ণনগরের কাছে এক বর্ধিষ্ণু গ্রামে মহাজনের বাড়িতে পুজোর কাজ পেয়েছিল। সে দুর্গার জন্য লাল পাড় শাড়ি, সর্বজয়ার জন্য চাকতি-বেলুন এবং অপুর জন্য একটি বই কিনে এনেছিল।
৭৫. বাড়ি ফিরে হরিহরের কী অবস্থা হয়েছিল?
হরিহর বাড়ি ফিরে স্বভাববশত 'অপু-দুর্গা' বলে ডাক দিলে সর্বজয়া হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে এবং জানায় যে দুর্গা তাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে। এ কথা শুনে পিতা হরিহর শোকে পাথরের মতো হয়ে যায়।

পঞ্চবিংশ অধ্যায়: অপুর হাতে স্বর্গ

৭৬. অপু কীভাবে 'হাতে স্বর্গ' পেয়েছিল?
পড়াশোনা ও বইয়ের প্রতি অপুর প্রবল নেশা ছিল। সে রানীদের বাড়ি গিয়ে দুপুরে তাদের মাঠের পুকুর পাহারা দেওয়ার বিনিময়ে সতুর কাছে বই পড়ার সুযোগ পায়। এই বই পড়ার সুযোগ পাওয়াকেই অপুর 'হাতে স্বর্গ পাওয়া' বলা হয়েছে।
৭৭. ইছামতী নদীর তীরে বসে অপু কী করছিল?
ছাতিমতলায় ইছামতী নদীর খালের মুখে বসে মাছ ধরার ফাঁকে অপু নিচের ক্লাসের ছবিওয়ালা ইংরেজি বই পড়ছিল।

ষষ্ঠবিংশ অধ্যায়: অপমান সব রহিল পিছনে পড়িয়া

৭৮. নিশ্চিন্দিপুর ছাড়ার আগে অপু কোথায় কী খুঁজে পেয়েছিল এবং সে কী করেছিল?
অপু হঠাৎ একদিন তাদের ওপর একটি কলসির ভেতরে সেই হারানো সোনার সিঁদুরের কৌটোটা খুঁজে পায়, যার জন্য দুর্গাকে চোর অপবাদ দিয়ে সেজ ঠাকুরন চরম প্রহার করেছিল। দিদির অপমানের কথা ভেবে অভিমানে ও কষ্টে অপু কৌটোটা বাঁশবনের গভীর জঙ্গলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
৭৯. অপুরা কেন নিশ্চিন্দিপুর গ্রাম ছেড়েছিল?
দুর্গার মৃত্যুর পর সর্বজয়া আর সেই গ্রামে থাকতে পারছিল না, মেয়ের স্মৃতি তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। তাই নতুন জীবন ও সচ্ছলতার সন্ধানে সব অপমান পেছনে ফেলে তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সপ্তবিংশ অধ্যায়: অপুর রেলগাড়ি দেখা

৮০. স্টেশনে অপু ও তার পরিবারের কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল?
হিরু গারোয়ানের গরুর গাড়ি দেরি করায় তারা রাত সাড়ে আটটার ট্রেন ধরতে পারেনি। বাধ্য হয়ে সারারাত স্টেশনের পুকুর পাড়েই রান্না করে তাদের কাটাতে হয়।
৮১. রেলগাড়িতে ওঠার পর অপুর মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
পরের দিন সকালে রেলগাড়িতে ওঠার পর অপুর খুব আনন্দ হলেও পরক্ষণেই দিদির কথা মনে পড়ে তার মন বিষাদে ভরে ওঠে। তার মনে হতে থাকে, দিদি যেন আজও রেলগাড়ি দেখার সেই অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। এই গভীর স্মৃতির মাঝেই রেলগাড়িটি তাদের নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

Comments

You must be signed in to join the discussion.

Loading comments...

0
Share