WBBSE Class 6 Geography Chapter 5 Question Answer (জল-স্থল-বাতাস ও পরিবেশ)

WBBSE Class 6 Geography Chapter 5 Question Answer (জল-স্থল-বাতাস ও পরিবেশ)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় 'জল-স্থল-বাতাস ও পরিবেশ' এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। Class 6 Geography Chapter 5 Question Answer in Bengali.

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় "জল-স্থল-বাতাস ও পরিবেশ" থেকে পরীক্ষায় আসার মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ছোট ও বড় প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো পড়লে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় নিশ্চিত কমন পাবে।

১. আকাশ ও বায়ুমণ্ডল

প্র: দিনের বেলায় আকাশ নীল দেখায় কেন?

উ: বাতাসে প্রচুর ধুলোর কণা ও জলের কণা ভেসে বেড়ায়। দিনের বেলায় সূর্যের আলো এগুলোতে ধাক্কা খেয়ে সাতটি রঙে ভেঙে যায়। এর মধ্যে নীল রং সবচেয়ে বেশি আকাশজুড়ে বিচ্ছুরিত হয়, তাই আকাশ নীল দেখায়।

প্র: নীল আকাশের ওপারে কী আছে?

উ: নীল আকাশটার ওপারে কালো আকাশ আছে, যা সবসময়ই কালো থাকে। দিনের বেলা নীল আকাশটা তাকে আড়াল করে রাখে।

প্র: বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?

উ: পৃথিবীর গায়ে চাদরের মতো লেগে থাকা বায়ুস্তরকেই বায়ুমণ্ডল বলা হয়।

প্র: বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে?

উ: নাইট্রোজেন গ্যাস (প্রায় ৭৮ ভাগ)। এছাড়া অক্সিজেন আছে প্রায় ২১ ভাগ।

প্র: ট্রপোস্ফিয়ার কী? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।

উ: ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে ১৬ কিমি পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে, তার নাম ট্রপোস্ফিয়ার। এই স্তরে ধুলোর কণা, জলকণা থাকায় মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি হয়। এই স্তরে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৪° সেলসিয়াস হারে তাপমাত্রা কমে।

প্র: জেট প্লেনগুলি কোন স্তর দিয়ে চলাচল করে এবং কেন?

উ: ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের স্তর, অর্থাৎ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (১৬-৫০ কিমি) দিয়ে জেট প্লেন চলাচল করে। কারণ এখানে ধুলোর কণা বা জলকণা নেই, তাই মেঘ বা বৃষ্টি কিছুই হয় না। এটি শান্ত স্তর।

প্র: ওজোন স্তরের গুরুত্ব কী?

উ: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ২০-২৫ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের স্তর থাকে। এটি সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে।

প্র: থার্মোস্ফিয়ারের অপর নাম কী? এর কাজ কী?

উ: থার্মোস্ফিয়ারের অপর নাম আয়নোস্ফিয়ার। এই স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে, যার ফলে আমরা রেডিও শুনতে পাই।

প্র: বায়ুমণ্ডল না থাকলে কী হতো?

উ: বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবী অন্যান্য গ্রহের মতোই প্রাণহীন হয়ে যেত। দিনে ভীষণ গরম আর রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা হতো। এছাড়া মহাকাশ থেকে ছুটে আসা উল্কা পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে মারাত্মক ক্ষতি করত।

২. পৃথিবীর উৎপত্তি ও স্তরবিন্যাস

প্র: পৃথিবী সৃষ্টির সময় কেমন ছিল?

উ: প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সৃষ্টির সময় পৃথিবী ছিল একটি জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড।

প্র: পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তরগুলি কী কী?

উ: পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের পাতলা শক্ত আবরণটা হলো ভূ-ত্বক (Crust)। এর মাঝে রয়েছে গুরুমণ্ডল (Mantle) এবং একেবারে ভিতরে রয়েছে কেন্দ্রমণ্ডল (Core)।

প্র: শিলামণ্ডল বা লিথোস্ফিয়ার (Lithosphere) কাকে বলে?

উ: ভূ-ত্বকের চারভাগের একভাগ মাত্র স্থল। স্থলভাগ মূলত শিলা ও মাটি দিয়ে তৈরি, তাই একে শিলামণ্ডল বা লিথোস্ফিয়ার বলা হয়।

৩. বারিমণ্ডল ও জলচক্র

প্র: বারিমণ্ডল (Hydrosphere) কী?

উ: সৃষ্টির বহু কোটি বছর পর প্রবল বৃষ্টির জলে পৃথিবীর নিচু জায়গাগুলো ভরাট হয়ে সাগর মহাসাগর তৈরি হয়। পৃথিবীর এই মোট জলভাণ্ডারকে একত্রে বারিমণ্ডল বলা হয়।

প্র: পৃথিবীকে 'নীল গ্রহ' বলা হয় কেন?

উ: পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগই জল। তাই মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে ঝলমলে নীল গোলকের মতো দেখায়, এই কারণে পৃথিবীকে 'নীল গ্রহ' বলা হয়।

প্র: পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের আবির্ভাব কোথায় হয়েছিল?

উ: প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে জলেই প্রথম প্রাণের আবির্ভাব হয়েছিল।

প্র: জলচক্র কাকে বলে?

উ: জল কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি, আবার কখনও কঠিন বরফ বা তুষার রূপে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে চলেছে। জলের এই চক্রাকার আবর্তনকেই জলচক্র বলা হয়।

৪. মহাদেশ সঞ্চরণ

প্র: প্যানজিয়া ও প্যানথালাসা কী?

উ: প্রায় ২২.৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে একটাই বিরাট অখণ্ড স্থলভাগ বা মহা-মহাদেশ ছিল, যার নাম 'প্যানজিয়া'। প্যানজিয়ার চারিদিকে যে বিরাট জলভাগ বা মহা-মহাসাগর ছিল, তার নাম 'প্যানথালাসা'。

প্র: মহাদেশগুলি কি স্থির? মহাদেশ সঞ্চরণের কারণ কী?

উ: না, মহাদেশগুলি স্থির নয়। পৃথিবীর ভিতরের প্রচণ্ড তাপে গুরুমণ্ডলে যে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়, তার প্রভাবেই মহাদেশগুলি ধীর গতিতে (বছরে ২-২০ সেন্টিমিটার) পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় বা ধাক্কা খায়। এটিই মহাদেশ সঞ্চরণের মূল কারণ।

৫. মহাদেশ ও মহাসাগর

প্র: পৃথিবীর বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম মহাদেশের নাম কী?

উ: বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশ ওশিয়ানিয়া।

প্র: পৃথিবীর বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম মহাসাগরের নাম কী?

উ: বৃহত্তম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্ষুদ্রতম মহাসাগর সুমেরু মহাসাগর।

প্র: 'ইউরেশিয়া' বলতে কী বোঝায়?

উ: ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশকে একত্রে 'ইউরেশিয়া' বলা হয়।

৬. জীবমণ্ডল ও পরিবেশের ভারসাম্য

প্র: পৃথিবীতে জলভাগ ও স্থলভাগের পরিমাণ কত?

উ: পৃথিবীতে জলভাগের পরিমাণ ৭১ শতাংশ এবং স্থলভাগের পরিমাণ ২৯ শতাংশ।

প্র: জীবমণ্ডল (Biosphere) কাকে বলে?

উ: জল, স্থল ও বাতাসে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ১৫ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী নিয়ে তৈরি হয়েছে পৃথিবীর জীবমণ্ডল।

প্র: পরিবেশের জড় উপাদান ও সজীব উপাদান কোনগুলি?

উ: জড় উপাদান: জল, বাতাস, সূর্যের আলো ইত্যাদি। সজীব উপাদান: সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ।

প্র: 'বিশ্ব উষ্ণায়ন' (Global Warming) কী?

উ: যানবাহন ও শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মিশে পৃথিবীর চারিদিকে এমন এক আবরণ তৈরি করে, যা পৃথিবীর অতিরিক্ত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয়। এর ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, একেই 'বিশ্ব উষ্ণায়ন' বলে।

প্র: বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি কী কী?

উ: মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বন্যা, তীব্র খরা, বিধ্বংসী ঝড়, মরুভূমির প্রসার, এমনকি শস্যহানি থেকে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

প্র: ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ কী?

উ: ফ্রিজ, এ.সি এবং বেশ কিছু রাসায়নিক দ্রব্য থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরে পৌঁছে আমাদের এই রক্ষাকবচকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

Comments

You must be signed in to join the discussion.

Loading comments...

0
Share