সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় (দিল্লির সুলতানি) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 7 History Chapter 4 Important Question Answer

সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় (দিল্লির সুলতানি) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 7 History Chapter 4 Important Question Answer

WBBSE Class 7 History Chapter 4 (দিল্লি সুলতানি: তুর্ক-আফগান শাসন) সম্পূর্ণ বাংলা প্রশ্নোত্তর, সাজেশন এবং স্টাডি মেটেরিয়াল। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য Vision Institute এর বেস্ট গাইড ও ফ্রি নোটস।

WBBSE Class 7 History Chapter 4 (দিল্লি সুলতানি: তুর্ক-আফগান শাসন) সম্পূর্ণ বাংলা প্রশ্নোত্তর, সাজেশন এবং স্টাডি মেটেরিয়াল। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য Vision Institute এর বেস্ট গাইড ও ফ্রি নোটস।

সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস - চতুর্থ অধ্যায়

দিল্লি সুলতানি (তুর্ক-আফগান শাসন) - প্রশ্নোত্তর

দু-একটি বাক্যে উত্তর দাও: (প্রশ্ন মান ১/২) :

1. মহম্মদ ঘুরি কবে মারা যায়?
উত্তর: ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে।
2. সুলতান একটা কী?
উত্তর: সুলতান একটা উপাধি।
3. আরবি ভাষায় সুলতান শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আরবি ভাষায় সুলতান শব্দের অর্থ হল কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা।
4. সুলতানৎ বা সুলতানি কাকে বলে?
উত্তর: যে অঞ্চলের মধ্যে সুলতানের কর্তৃত্ব চলত, তাকে বলা হতো সুলতানৎ বা সুলতানি।
5. দিল্লি সুলতানি বা সুলতানৎ কাকে বলে?
উত্তর: দিল্লিকে কেন্দ্র করে ভারতবর্ষে সুলতানদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বজায় ছিল। তাই তার নাম দিল্লি সুলতানি বা সুলতানৎ।
6. খলিফা কাকে বলে?
উত্তর: হযরত মহম্মদের মৃত্যুর পর ইসলামীয় জগতে প্রধান শাসক ছিলেন খলিফা।
7. খুতবা কথার অর্থ কী?
উত্তর: খুতবা কথার অর্থ ভাষণ। কোনো সুলতানের শাসনকালে মসজিদের ইমাম একটি ভাষণ পড়তেন। শুক্রবারের দুপুরের নামাজের পরে সবার সামনে ওই ভাষণ বা খুতবাটি পাঠ করা হতো।
8. কুতুবউদ্দিনের জামাই কে ছিলেন?
উত্তর: ইলতুৎমিশ।
9. আমির কথার অর্থ কী?
উত্তর: আমির কথার অর্থ উঁচু বংশে জন্ম বড়লোক ব্যক্তি। তবে দিল্লির সুলতানের ইতিহাসে শাসনকাজে নিযুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমির বলা হতো।
10. দুরবাশ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: স্বাধীন শাসনের প্রতীক দন্ড।
11. খিলাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘খিলাত’ বা ‘খিলাৎ’ হলো একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো রাজা, সুলতান বা ঊর্ধ্বতন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত সম্মানসূচক পোশাক বা পরিচ্ছদ।
12. ইলতুৎমিশ কবে খলিফার থেকে অনুমোদন পান?
উত্তর: ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
13. ইলতুৎমিশের সার্থক উত্তরাধিকারী কে ছিলেন?
উত্তর: সুলতান রাজিয়া।
14. রাজিয়া নারী হলেও সুলতান উপাধি গ্রহণ করেছিলেন কেন?
উত্তর: আরবি ভাষায় সুলতানা শব্দের অর্থ হলো সুলতানের স্ত্রী। কিন্তু রাজিয়া কোনো সুলতানের স্ত্রী ছিলেন না, তাই রাজিয়া তার মুদ্রায় নিজেকে সুলতান বলে দাবি করেছেন।
15. রাজিয়ার মৃত্যু হয় কবে?
উত্তর: ১২৪০ খ্রিস্টাব্দে।
16. ইলতুৎমিশের ছেলের নাম কী?
উত্তর: নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ।
17. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের রাজত্বকালে কোন তুর্কি আমির ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল?
উত্তর: গিয়াসউদ্দিন বলবন।
18. গিয়াসউদ্দিন বলবন কত খ্রিস্টাব্দে সুলতান হন?
উত্তর: ১২৬৬ খ্রিস্টাব্দে।
19. তুর্কান - ই - চিহলগানি কথার অর্থ কী?
উত্তর: তুর্কান - ই - চিহলগানি কথার আক্ষরিক মানে চল্লিশ জন তুর্কি বা চল্লিশটি তুর্কি পরিবার। এরা খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল।
20. বন্দেগান - ই - চিহলগানি কথার অর্থ কী?
উত্তর: বন্দেগান - ই - চিহল গানি কথার অর্থ, চল্লিশজন বান্দা বা সেবক।
21. সিজদা ও পাইবস প্রথা কে চালু করেন?
উত্তর: গিয়াসউদ্দিন বলবন।
22. সিজদা কী?
উত্তর: সিজদার অর্থ সুলতান কে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করা।
23. পাইবস কথার অর্থ কী?
উত্তর: সুলতানের পদযুগল চুম্বন করাকে বলে পাইবস।
24. খলজি বিপ্লব কাকে বলে?
উত্তর: ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে জালাল উদ্দিন ফিরোজ খলজি বলবনের বংশধরদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে সুলতান হন। এই ঘটনাকে খলজি বিপ্লব বলা হয়।
25. গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের বড় ছেলের নাম কী?
উত্তর: মহম্মদ বিন তুঘলক।
26. কার আমলে ইবন বতুতা ভারতে আসে?
উত্তর: মহম্মদ বিন তুঘলক।
27. ইবন বতুতা কোন দেশের লোক ছিলেন?
উত্তর: উত্তর আফ্রিকার মরোক্কো দেশের।
28. ইবন বতুতার লেখা ভ্রমণ বিবরণীর নাম লেখো।
উত্তর: অল-রিহলা।
29. উলাক কাকে বলা হতো?
উত্তর: ঘোড়ার ডাকের ব্যবস্থাকে উলাক বলা হতো।
30. দাওআ কাকে বলা হতো?
উত্তর: পায়ে হাঁটা ডাক ব্যবস্থাকে দাওআ বলা হতো।
31. পাগলা রাজা কাকে বলা হয়?
উত্তর: মহম্মদ বিন তুঘলককে।
32. সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: খিজির খান (তিনি কখনো সুলতান উপাধি নেননি)।
33. তুর্কো - আফগান শাসন কাকে বলে?
উত্তর: সৈয়দ ও লোদি শাসকরা ছিলেন আফগান। এর আগের শাসকরা ছিলেন তুর্কি। তাই দিল্লির সুলতানদের শাসনকে একসঙ্গে তুর্কো - আফগান শাসন বলে।
34. পানিপতের প্রথম যুদ্ধ কবে কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উত্তর: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে, বাবরের সঙ্গে ইব্রাহিম লোদির।
35. পানিপতের যুদ্ধে কে রুমি কৌশল ব্যবহার করেছিল?
উত্তর: বাবর।
36. মঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান যখন আক্রমণ করেন তখন দিল্লির সুলতান কে ছিলেন?
উত্তর: ইলতুৎমিশ।
37. ‘দাগ’ ও ‘হুলিয়া’ ব্যবস্থা কী?
উত্তর: সেনাবাহিনীতে জালিয়াতি বন্ধ করতে আলাউদ্দিন এটি চালু করেন। দাগ হলো ঘোড়া চিহ্নিত করার ব্যবস্থা এবং হুলিয়া হলো সৈনিকদের বিবরণ রাখার ব্যবস্থা।
38. সুলতানি আমলে সুলতানদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর: সুলতানি আমলে সুলতানদের – ১. সব ক্ষমতা সুলতানের হাতে থাকতো। ২. মন্ত্রী ও কর্মচারী নিয়োগ করা হতো। ৩. উলেমা ও ওমরাহদের সমর্থন উপহারের মাধ্যমে রাখা হতো।
39. কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: সুলতানি শাসনে সুলতানের আদেশই ছিল শেষ কথা। এইভাবে সুলতানকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে যে ব্যবস্থা গড়ে ওঠে তাকেই কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রব্যবস্থা বলে।
40. উলেমা কাকে বলে?
উত্তর: আরবি ভাষায় বিশেষভাবে যারা ইসলামী শাস্ত্রে পন্ডিত তাদের আলিম বলে, আর আলিমের বহুবচন হলো উলেমা।
41. ইকতা কাকে বলে?
উত্তর: সুলতানরা যেসব রাজ্য জয় করতেন সেগুলিকে এক একটি প্রদেশের মতো ধরা হতো, এই প্রদেশগুলিকেই বলা হতো ইকতা।
42. ইকতাদার বা মুকতি বা ওয়ালি কাকে বলে?
উত্তর: ইকতার দায়িত্বে থাকা সামরিক নেতাকে বলা হতো ইকতাদার।
43. জিজিয়া কর কাকে বলে?
উত্তর: অমুসলমান প্রজাদের জীবন ও ধর্মের সুরক্ষার বিনিময়ে আদায় করা কর।
44. কে, কোথায় প্রথম জিজিয়া কর চালু করেছিলেন?
উত্তর: মহম্মদ বিন কাশিম, সিন্ধু প্রদেশে।
45. তুরুষ্কদন্ড কাকে বলে?
উত্তর: হিন্দু রাজারা মুসলমান প্রজাদের ওপর যে কর চাপাতেন, তাকে তুরুষ্কদন্ড বলে।
46. খরাজ কী?
উত্তর: কৃষিজমির ওপর আরোপিত কর।
47. খামস কী?
উত্তর: যুদ্ধের লুটের মালের অংশ।
48. জাকাত কী?
উত্তর: মুসলমানদের সম্পত্তির ওপর কর।
49. কত খ্রিস্টাব্দে শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ লখনৌতির সিংহাসন দখল করেন?
উত্তর: ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে।
50. বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতানের নাম কী?
উত্তর: শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
51. কোন সুলতানের আমলে বাংলার রাজধানী মালদহের হজরত পান্ডুয়া থেকে গৌড়ে চলে যায়?
উত্তর: সুলতান জালালউদ্দিন মহম্মদ শাহ।
52. আবিসিনীয় সুলতানরা কোথা থেকে এসেছিলেন?
উত্তর: আফ্রিকার আবিসিনিয়া বা ইথিওপিয়া থেকে।
53. কার আক্রমণে, কবে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন শেষ হয়?
উত্তর: শের খানের আক্রমণে, ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে।
54. সঙ্গম বংশের প্রতিষ্ঠাতার নাম লেখো।
উত্তর: প্রথম হরিহর ও বুক্ক।
55. সঙ্গম বংশের শ্রেষ্ঠ রাজার নাম কী?
উত্তর: দ্বিতীয় দেবরায়।
56. সালুভ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: নরসিংহ।
57. তুলুভ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: বীরসিংহ।
58. বিজয়নগর রাজ্যের একজন বিখ্যাত শাসকের নাম লেখো।
উত্তর: কৃষ্ণদেব রায়।
59. আমুক্তমাল্যদ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তর: কৃষ্ণদেব রায়।
60. কে, কত খ্রিস্টাব্দে বাহমনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: আলাউদ্দিন হাসান বাহমন শাহ (হাসান গঙ্গু), ১৩৪৭ খ্রিস্টাব্দে।
61. কবে, কোন যুদ্ধে বিজয়নগর পরাজিত হয়?
উত্তর: ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে, বানিহাটি বা তালিকোটের যুদ্ধে।
62. রাইচুর দোয়াব কাকে বলে?
উত্তর: কৃষ্ণা এবং তুঙ্গভদ্রা নদীর অববাহিকা অঞ্চলকে বলা হয় রাইচুর দোয়াব।
63. কোথাকার শাসকরা নিজেদের হিন্দু রাইদের (রাজাদের) মধ্যে সুলতান বলতেন?
উত্তর: বিজয়নগরের শাসকরা।
64. দক্ষিণী কাদের বলা হতো?
উত্তর: বাহমনি রাজ্যে দেশীয় অভিজাতদের বলা হতো দক্ষিণী।
65. বাহমনি রাজ্যের মানুষরা দেশ বলতে কী বুঝতো?
উত্তর: নিজের এলাকা।
66. রাইচুর দোয়াব কাকে বলে?
উত্তর: কৃষ্ণা এবং তুঙ্গভদ্রা নদীর অববাহিকা অঞ্চলকে বলা হয় রাইচুর দোয়াব।

চার/পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও: (প্রশ্ন মান ৩/৫) :

1. মহম্মদ ঘুরি মারা যাওয়ার পর তার অঞ্চলগুলি তার কয়জন অনুচরের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, তাদের নাম লেখো।
উত্তর: মহম্মদ ঘুরি মারা যাওয়ার পর তার অঞ্চলগুলি তার চারজন অনুচরের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। তাদের নাম গুলি হল –
• তাজউদ্দিন ইয়ালদুজ (গজনির অধিকার পান)
• নাসিরউদ্দিন কুবাচা (মুলতান ও উছ-এর শাসক হন।)
• বখতিয়ার খলজি (বাংলাদেশের শাসক হন।)
• কুতুবউদ্দিন আইবক (লাহোর ও দিল্লির শাসক হন।)
2. খলিফা ও সুলতানদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উত্তর: হযরত মহম্মদের মৃত্যুর পর ইসলামীয় জগতে প্রধান শাসক ছিলেন খলিফা। তবে ত্রয়োদশ শতকে মুসলমানদের কর্তৃত্ব ছিল বিশাল অঞ্চলে। একজন খলিফার পক্ষে সমস্ত অঞ্চলের শাসন করা সম্ভব ছিল না। তাই খলিফার থেকে অনুমোদন নিয়ে নানান অঞ্চলে নানান ব্যক্তিরা শাসন করতেন। তেমনই ভারতবর্ষ বা হিন্দুস্থানের শাসক ছিলেন সুলতানরা। খলিফাকে সুলতানরা খুব মেনে চলতেন তা নয়। তবে মাঝে মধ্যেই কে সুলতান হবে তা নিয়ে গোলমাল শুরু হতো। তখন খলিফার অনুমোদিত প্রার্থীই সেই অঞ্চলে শাসক হতো।
3. প্রথমদিকে ইলতুৎমিশকে কেউ সুলতান বলে মানতে চায়নি কেন?
উত্তর: প্রথমদিকে ইলতুৎমিসকে কেউ সুলতান বলে মানতে চায়নি তার কারণ:
• ইলতুৎমিশ কুতুবউদ্দিনের জামাই, ছেলে নন。
• নাসিরউদ্দিন কুবাচা মুলতান থেকে এসে লাহোর ও পাঞ্জাবের খানিক অংশ দখল করে নিয়েছিলেন।
• অন্যান্য অঞ্চলে ক্ষমতাবান তুর্কিরা কর্তৃত্ব করতে লাগলেন।
4. ফিরোজ শাহের সামরিক অভিযান সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর: ফিরোজ শাহের সামরিক অভিযানের একটা বড়ো উদ্দেশ্য ছিল দাস জোগাড় করা। ফিরোজ শাহের ১,৮০,০০০ দাস ছিল। তাদের জন্য একটা আলাদা দপ্তর খোলা হয়েছিল। রক্ষীবাহিনীতে, কারখানায়, বিভিন্ন দপ্তরে দাসরা নিযুক্ত হতো ও বেতন পেত। এভাবে সুলতান একটি অনুগত বাহিনী বানাতে চেয়েছিলেন।
5. মহম্মদ বিন তুঘলককে পাগলা রাজা বলার কারণগুলো লেখো।
উত্তর: মহম্মদ বিন তুঘলক আসলে পাগল ছিলেন না। তবে তার বেশকিছু খামখেয়ালি আচরণ বা সিদ্ধান্তের জন্য তাকে কেউ কেউ ‘পাগলা রাজা’ বলেছেন। যেমন:
১. তিনি দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। সুলতানের হুকুমে দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে যাওয়ার সময় অনেক মানুষ প্রাণ হারান। কয়েক বছর পর আবার রাজধানী দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
২. সোনা ও রূপার মুদ্রার ঘাটতি মেটাতে তিনি তামার মুদ্রার প্রচলন করেন। তবে অনেকে তামার মুদ্রা জাল করে। তাই বাজার থেকে জাল মুদ্রা তুলে নিতে আবার রাজকোষ থেকে সোনা ও রূপার মুদ্রা ব্যয় করেন।
৩. বাড়তি কর সংগ্রহ করার জন্য দোয়াব অঞ্চলে রাজস্ব বাড়িয়ে দেন সুলতান। অনাবৃষ্টির ফলে সেখানে শস্যের ক্ষতি হলে প্রজারা বাড়তি কর দিতে না পেরে বিদ্রোহ করলে, সুলতান বাড়তি কর মুকুব করে নষ্ট হওয়া ফসলের জন্য ক্ষতিপূরণ দেন।
৪. মহম্মদ বিন তুঘলক কয়েকজন অনভিজাত সাধারণ ব্যক্তিকে প্রশাসনে উঁচু পদে বসিয়েছিলেন। এদের মধ্যে একজন মদ তৈরি করতেন, একজন নাপিত ছিলেন, একজন ছিলেন পাচক ও দুজন ছিলেন মালি।
6. দিল্লির সুলতানরা কীভাবে মোঙ্গল আক্রমণের মোকাবিলা করেছিল আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতে যখন মোঙ্গল আক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয় তখন দিল্লির সুলতান ছিলেন ইলতুৎমিশ। সুলতানরা এই শক্তির মোকাবিলা করেছিলেন এইভাবে:
• ১২২১ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গল আক্রমণের সামনে ইলতুৎমিশ সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে দিল্লির সুলতানিকে বাঁচিয়ে দেন।
• চেঙ্গিজ খানের মৃত্যুর পর মঙ্গল শক্তি বিভাজনের সুযোগে সুলতানরা সৈন্য বাহিনী ও রাষ্ট্র কাঠামো শক্তিশালী করার সময় পান।
• আলাউদ্দিন খলজি সিরি শহর তৈরি করেন এবং কৃষকদের ওপর কর বসিয়ে বিশাল সেনাবাহিনী ও দুর্গ নির্মাণ করে মঙ্গল আক্রমণ ঠেকান।
7. আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর: আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানা যায়,
১. আলাউদ্দিন বাজারের সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ঠিক করে দেন।
২. আলাউদ্দিন খলজির আমলে দিল্লিতে চারটি বড়ো বাজার ছিল। এইসব বাজারে খাদ্যদ্রব্য, ঘোড়া, কাপড় ইত্যাদি বিক্রি হতো।
৩. সুলতানের ঠিক করে দেওয়া দামের থেকে বেশি দাম নিলে বা ক্রেতাকে ওজনে ঠকালে কঠোর শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
৪. আলাউদ্দিন রেশান ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
৫. প্রয়োজনের সময় প্রজাদের সুলতানের পক্ষ থেকে খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় জিনিস পরিমাণ মতো যোগান দেওয়া হতো।
8. ইলিয়াস শাহি এবং হোসেন শাহি আমলে বাংলার সংস্কৃতির পরিচয় দাও।
উত্তর: ইলিয়াস শাহি এবং হোসেন শাহি আমলে বাংলার সংস্কৃতির যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা নিম্নরূপ:
১. ইলিয়াসশাহি এবং হোসেনশাহি আমলে বাংলার সংস্কৃতির উন্নয়ন হয়।
২. এই সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, স্থাপত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়।
৩. অন্য ধর্মমত বিষয়ে এই সময়ের সুলতানরা উদার ছিলেন।
৪. সুলতানদের ধর্মীয় উদারতা বাংলায় সব ধর্মের মানুষকে কাছাকাছি আসতে সাহায্য করেছিল।
৫. এই সময়েই বাংলায় শ্রীচৈতন্যের নেতৃত্বে ভক্তিবাদ্যের প্রচার শুরু হয়।
9. বাংলায় আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন মধ্যযুগের বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক।
১. তাঁর ২৬ বছরের শাসনকাল বিখ্যাত তার উদারনীতির জন্য।
২. তাঁর রাজত্বে হিন্দুদের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হতো।
৩. আলাউদ্দিনের উজির, প্রধান চিকিৎসক, তাঁর প্রধান দেহরক্ষী ও টাঁকশালের অধ্যক্ষ সবাই ছিলেন হিন্দু।
৪. সুলতান হোসেনশাহ স্বভাবে ছিলেন ভদ্র, বিনয়ী এবং সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল।
৫. শোনা যায় যে হোসেনশাহ ছিলেন শ্রীচৈতন্যের ভক্ত।
৬. হোসেনশাহের শাসনকালে বাংলা ভাষায় লেখালেখির চর্চা উন্নত হয়।

Comments

You must be signed in to join the discussion.

Loading comments...

0
Share