বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর: WBBSE Class 10 Life Science
দশম শ্রেণি জীবন বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায়: বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (Heredity and Some Common Genetic Diseases) — পাঠ্যপুস্তকের 'হাতে কলমে' অনুশীলনীর সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর গাইড। বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক (VSAQ — এককথায় উত্তর, শূন্যস্থান পূরণ, সত্য/মিথ্যা, সম্পর্কযুক্ত শব্দ, বিসদৃশ শব্দ, তিনটি একটির অন্তর্গত, স্তম্ভ মেলানো), সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক (SAQ মান ২), দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক (LAQ মান ৫) এবং সমস্ত সমস্যাভিত্তিক প্রশ্নাবলির (Problems) নিখুঁত চেকারবোর্ড সহ বিশদ সমাধান।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) মাধ্যমিক দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো অধ্যায় ৩ : "বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ" (Heredity and Some Common Genetic Diseases)। পিতামাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কীভাবে গ্যামেটের মাধ্যমে পরবর্তী অপত্য প্রজন্মে নিখুঁতভাবে সঞ্চারিত হয়, বিজ্ঞানী গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের ঐতিহাসিক একসংকর ও দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা, পৃথক্ভবন ও স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র, মেন্ডেলবাদের বিচ্যুতি (অসম্পূর্ণ প্রকটতা ও সহ-প্রকটতা), মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার চূড়ান্ত ভূমিকা এবং মানব পপুলেশনে থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতার মতো ক্রোমোজোম ও জিনঘটিত বংশগত ব্যাধি—এই অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয়।
পরীক্ষার প্রস্তুতিকে একশো শতাংশ নির্ভুল করার লক্ষ্যে পাঠ্যবইয়ের ৮৭, ৮৮ এবং ৮৯ পৃষ্ঠার অনুশীলনী (হাতে কলমে)-র চিহ্নিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসহ প্রতিটি প্রশ্নের সমাধান সহজ-সরল ভাষায় ও প্রয়োজনীয় চেকারবোর্ড সহযোগে নিচে উপস্থাপন করা হলো।
[A] বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন [MCQ] (প্রশ্নমান - ১)
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যা সহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।
ব্যাখ্যা: অষ্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক ও বিজ্ঞানী গ্রেগর জোহান মেন্ডেল (Gregor Johann Mendel) মটর গাছের ওপর সংকরায়ণ পরীক্ষা চালিয়ে বংশগতির মৌলিক সূত্র আবিষ্কার করায় তাঁকে বংশগতির জনক বলা হয়।
ব্যাখ্যা: রোলার জিভ ও স্বাভাবিক চ্যাপ্টা জিভ হলো মানুষের জিনগতভাবে নির্ধারিত একটি সুস্পষ্ট বিচ্ছিন্ন প্রকরণ (Discontinuous Variation)।
ব্যাখ্যা: Tt জিনোটাইপে একটি লম্বা বৈশিষ্ট্যসূচক প্রকট অ্যালিল (T) এবং একটি বেঁটে বৈশিষ্ট্যসূচক প্রচ্ছন্ন অ্যালিল (t) একসাথে থাকায় এটি হেটেরোজাইগাস বা সংকর লম্বা।
ব্যাখ্যা: এটি একটি টেস্ট ক্রস ($Tt \times tt$)। উৎপন্ন সন্ততি হবে $Tt$ (সংকর দীর্ঘ - ৫০%) এবং $tt$ (বিশুদ্ধ খর্ব - ৫০%), অনুপাত ১:১।
ব্যাখ্যা: পিতা স্বাভাবিক ($X^H Y$) হওয়ায় প্রতিটি কন্যা সন্তান পিতা থেকে স্বাভাবিক $X^H$ অ্যালিল লাভ করে। ফলে কন্যারা হয় স্বাভাবিক ($X^H X^H$) অথবা বাহক ($X^H X^h$) হবে, কোনো কন্যাই আক্রান্ত ($X^h X^h$) হতে পারে না।
ব্যাখ্যা: $Bb \times Bb$ ক্রসে উৎপন্ন সন্তান সন্ততিদের জিনোটাইপ হলো $BB$ (২৫%), $Bb$ (৫০%) এবং $bb$ (২৫%)। অর্থাৎ সংকর কালো গিনিপিগের পরিমাণ ৫০%।
ব্যাখ্যা: মানবদেহের স্ত্রীলোকের সেক্স ক্রোমোজোম দুটি সমপ্রকৃতির অর্থাৎ হোমোগ্যামেটিক (XX), পক্ষান্তরে পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম হেটেরোগ্যামেটিক (XY)।
ব্যাখ্যা: ক্রোমোজোমের যে নির্দিষ্ট বিন্দু বা অবস্থানে কোনো জিন বা তার অ্যালিল অবস্থান করে, তাকে লোকাস (Locus, বহুবচনে Loci) বলা হয়।
ব্যাখ্যা: গিনিপিগের কালো লোম (B) মসৃণের ওপর প্রকট এবং অমসৃণ লোম (R) মসৃণের (r) ওপর প্রকট। কালো ও অমসৃণ হতে গেলে জিনোটাইপে অন্তত একটি 'B' এবং একটি 'R' অ্যালিল থাকতেই হবে। তাই BbRr, BBRR এবং BBRr প্রত্যেকেই কালো ও অমসৃণ ফিনোটাইপ প্রকাশ করে।
ব্যাখ্যা: মেন্ডেল তাঁর সংকরায়ণ পরীক্ষার জন্য মটর গাছের সাত জোড়া (মোট ১৪টি) স্পষ্ট বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন।
ব্যাখ্যা: মেন্ডেল একসংকর জনন থেকে প্রথম সূত্র (পৃথক্ভবন সূত্র) এবং দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা (Dihybrid cross) থেকে দ্বিতীয় সূত্র অর্থাৎ স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্রটি (Law of Independent Assortment) প্রণয়ন করেন।
ব্যাখ্যা: এটি অসম্পূর্ণ প্রকটতার (Incomplete Dominance) উদাহরণ। $F_1$-এ সব ফুল গোলাপি হয় এবং $F_2$-তে লাল, গোলাপি ও সাদার ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ উভয় অনুপাতই হয় ১ : ২ : ১।
ব্যাখ্যা: মেন্ডেলের প্রথম সূত্র হলো পৃথক্ভবনের সূত্র (Law of Segregation), যা তিনি একসংকর জনন পরীক্ষা থেকে প্রমাণ করেছিলেন।
ব্যাখ্যা: ক্রোমোজোমে প্রতিটি জিনের একটি নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় ভৌগোলিক স্থান থাকে, একেই লোকাস বলে।
ব্যাখ্যা: পুত্র হিমোফিলিক ($X^h Y$) হতে হলে মাতা অবশ্যই বাহক ($X^H X^h$ অর্থাৎ $H \parallel h$) হবেন এবং কন্যা স্বাভাবিক হতে হলে পিতা অবশ্যই স্বাভাবিক ($X^H Y$ অর্থাৎ $H \parallel$) হবেন।
ব্যাখ্যা: কুঞ্চিত বীজ প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য হওয়ায় সর্বদা হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন 'rr' হবে। হলুদ রঙ প্রকট হওয়ায় হোমোজাইগাস 'YY' বা হেটেরোজাইগাস 'Yy' উভয় ক্ষেত্রেই হলুদ প্রকাশ পাবে। তাই rrYY ও rrYy উভয়ই কুঞ্চিত হলুদ।
ব্যাখ্যা: মটর গাছের বেগুনি বা লালচে ফুল হলো প্রকট গুণ; সাদা ফুল হলো প্রচ্ছন্ন গুণ। অন্য অপশনগুলোর ক্ষেত্রে বেঁটে গাছ প্রচ্ছন্ন, হলুদ ফল প্রচ্ছন্ন (সবুজ ফল প্রকট)।
ব্যাখ্যা: মটর গাছের গোল বীজাকার প্রকট এবং কুঞ্চিত বীজাকার হলো প্রচ্ছন্ন। বাকি অপশনগুলির মধ্যে হলুদ বীজ, বেগুনি ফুল ও কাক্ষিক পুষ্প প্রতিটিই প্রকট বৈশিষ্ট্য।
ব্যাখ্যা: গ্যামেটের প্রকারভেদ = $2^n$ (যেখানে n = হেটেরোজাইগাস জোড়ার সংখ্যা = ২)। সুতরাং $2^2 = 4$ ধরণের গ্যামেট সৃষ্টি হবে: YR, Yr, yR এবং yr।
ব্যাখ্যা: হিমোফিলিয়া হলো মানুষের X-ক্রোমোজোমবাহিত (সেক্স ক্রোমোজোম) প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। অপরপক্ষে রোলার জিভ, থ্যালাসেমিয়া এবং মুক্ত কানের লতি অটোজোম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
[B] অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন [VSAQ] (প্রশ্নমান - ১)
উপবিভাগ ১: এককথায় উত্তর দাও (মান ১)
- $(22A + X) + (22A + X) \rightarrow 44A + XX$ (কন্যা সন্তান - ৫০%)
- $(22A + X) + (22A + Y) \rightarrow 44A + XY$ (পুত্র সন্তান - ৫০%)।
উপবিভাগ ২: শূন্যস্থান পূরণ করো (মান ১)
উপবিভাগ ৩: সত্য (T) বা মিথ্যা (F) নির্ধারণ করো (মান ১)
রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর VIII বা IX অনুপস্থিত থাকায় রক্ত জমাট বাঁধে না।
সঠিক বক্তব্য: ডিম্বাণু একটি হ্যাপ্লয়েড জননকোশ, তাই এতে মাত্র একটি 'X' সেক্স ক্রোমোজোম (22A + X) থাকে, একজোড়া নয়।
সঠিক বক্তব্য: মেন্ডেল জিন শব্দটি ব্যবহার করেননি; তিনি বংশগতির একককে 'ফ্যাক্টর' (Factor) বা 'এলিমেন্ট' বলতেন। ১৯০৯ সালে বিজ্ঞানী জোহানসেন 'জিন' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।
মটর বীজের গোল আকার (R) কুঞ্চিত আকারের (r) ওপর প্রকট।
সঠিক বক্তব্য: প্রথম অপত্য জনুতে ($F_1$) ১০০% সংকর লম্বা মটর গাছ পাওয়া গিয়েছিল। দ্বিতীয় অপত্য জনুতে ($F_2$) ২৫% বিশুদ্ধ লম্বা, ৫০% সংকর লম্বা এবং ২৫% বিশুদ্ধ বেঁটে পাওয়া যায়।
উভয় লোকাসেই সমপ্রকৃতির প্রকট অ্যালিল (BB এবং RR) থাকায় এটি দ্বৈত হোমোজাইগাস।
উভয় অনুপাতই সর্বদা ১ : ২ : ১ হয়।
উপবিভাগ ৪: প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে উপযুক্ত শব্দ বসাও
সম্পর্ক: কাণ্ডের দৈর্ঘ্য বেঁটে হওয়া যেমন প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য, ফুলের অবস্থান শীর্ষস্থ হওয়াও তেমনি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (কাক্ষিক পুষ্প হলো প্রকট)।
উপবিভাগ ৫: বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো
কারণ: সেক্স ক্রোমোজোম, অ্যালোজোম এবং হেটেরোজোম হলো লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোমের সমার্থক শব্দ; কিন্তু অটোজোম হলো জীবের দৈহিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারক ক্রোমোজোম।
কারণ: AA হলো হোমোজাইগাস জিনোটাইপ, কিন্তু Aa, Bb এবং Cc হলো হেটেরোজাইগাস বা সংকর জিনোটাইপ।
উপবিভাগ ৬: নিচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি বিষয় একটি বিষয়ের অন্তর্গত তা চিহ্নিত করো
সম্পর্ক: পৃথক্ভবন সূত্র, স্বাধীনবিন্যাস বা স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র এবং প্রকটতার নীতি—এই তিনটিই মেন্ডেলবাদের মৌলিক উপাদান।
সম্পর্ক: সন্ধ্যামালতি উদ্ভিদে অসম্পূর্ণ প্রকটতার ফলেই গোলাপি ফুলের সৃষ্টি হয় এবং F2 জনুতে ১:২:১ ফিনোটাইপিক ও জিনোটাইপিক অনুপাত পাওয়া যায়।
উপবিভাগ ৭: বাম ও ডান স্তম্ভ মেলাও
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
|---|---|
| (i) পৃথক্ভবনের সূত্র | (a) ফিনোটাইপ অনুপাত |
| (ii) 9 : 3 : 3 : 1 | (b) অসম্পূর্ণ প্রকটতা |
| (iii) গোলাপি ফুল | (c) মেন্ডেলের প্রথম সূত্র |
| (d) বর্ণান্ধতা |
• (ii) 9 : 3 : 3 : 1 $\longrightarrow$ (a) ফিনোটাইপ অনুপাত (দ্বিসংকর জনন)
• (iii) গোলাপি ফুল $\longrightarrow$ (b) অসম্পূর্ণ প্রকটতা (সন্ধ্যামালতি)
[C] সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন [SAQ] (প্রশ্নমান - ২)
প্রতিটি প্রশ্নের মান ২। পাঠ্যবইয়ের চিহ্নিত ও মাধ্যমিক পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির টু-দ্য-পয়েন্ট উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
উদাহরণ: মানুষের রোলার জিভ ও স্বাভাবিক চ্যাপ্টা জিভ; মুক্ত ও যুক্ত কানের লতি।
উদাহরণ: মটর গাছের কাণ্ডের উচ্চতা বৈশিষ্ট্যের দুটি অ্যালিল হলো লম্বা রূপের জন্য 'T' এবং খর্ব রূপের জন্য 't'।
১. বিশুদ্ধ জীব (Pure organism): কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে সমসংস্থ ক্রোমোজোমে দুটি অ্যালিলই যদি সমপ্রকৃতির হয় (হোমোজাইগাস অবস্থা), এবং স্বপরাগযোগ বা স্ব-প্রজননে বংশপরম্পরায় একই বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে, তবে তাকে বিশুদ্ধ জীব বলে (যেমন: TT বা tt)।
২. সংকর জীব (Hybrid organism): কোনো বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে সমসংস্থ ক্রোমোজোমে দুটি অ্যালিল যদি বিপরীতধর্মী হয় (হেটেরোজাইগাস অবস্থা), তাকে সংকর জীব বলে (যেমন: সংকর লম্বা মটর গাছ Tt)।
• ফিনোটাইপ (Phenotype): কোনো জীবের কোনো বৈশিষ্ট্যের বাহ্যিক ও দৃশ্যমান লক্ষণ বা প্রকাশকে ফিনোটাইপ বলে (যেমন: মটর গাছের লম্বা বা বেঁটে রূপ)।
• জিনোটাইপ (Genotype): কোনো জীবের নির্দিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী অন্তর্নিহিত জিনগত বা অ্যালিলীয় বিন্যাসকে জিনোটাইপ বলে (যেমন: বিশুদ্ধ লম্বা TT বা সংকর লম্বা Tt)।
• প্রকট বৈশিষ্ট্য (Dominant trait): একজোড়া বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি খাঁটি জীবের সংকরায়ণে প্রথম অপত্য জনুতে ($F_1$) যে বৈশিষ্ট্যটি আত্মপ্রকাশ করে, তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে (যেমন: মটরের লম্বা কাণ্ড)।
• প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (Recessive trait): সংকরায়ণে প্রথম অপত্য জনুতে ($F_1$) প্রকট বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতিতে যে বিপরীত বৈশিষ্ট্যটি অবদমিত বা অপ্রকাশিত অবস্থায় থাকে, তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে (যেমন: মটরের খর্ব বা বেঁটে কাণ্ড)।
• ফিনোটাইপিক অনুপাত: লাল : গোলাপি : সাদা = ১ : ২ : ১ (২৫% লাল, ৫০% গোলাপি, ২৫% সাদা)
• জিনোটাইপিক অনুপাত: RR : Rr : rr = ১ : ২ : ১
১. কাণ্ডের দৈর্ঘ্য: লম্বা গাছ (প্রকট গুণ) এবং বেঁটে বা খর্ব গাছ (প্রচ্ছন্ন গুণ)।
২. বীজের আকার: গোলাকার বীজ (প্রকট গুণ) এবং কুঞ্চিত বীজ (প্রচ্ছন্ন গুণ)।
• ফিনোটাইপিক অনুপাত: লম্বা : বেঁটে = ৩ : ১ (৭৫% লম্বা : ২৫% বেঁটে)
• জিনোটাইপিক অনুপাত: বিশুদ্ধ লম্বা (TT) : সংকর লম্বা (Tt) : বিশুদ্ধ বেঁটে (tt) = ১ : ২ : ১
১. উপযুক্ত উদ্ভিদ নির্বাচন: মেন্ডেল দ্রুত প্রজননশীল, স্বল্পায়ু, সহজে চাষযোগ্য এবং সুস্পষ্ট বহু বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত উভলিঙ্গ মটর গাছ নির্বাচন করেছিলেন।
২. সুপরিকল্পিত বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যান: তিনি পরীক্ষায় একবারে মাত্র একজোড়া বা দু-জোড়া বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং প্রতিটি পরীক্ষালব্ধ অপত্যের নিখুঁত গাণিতিক ও পারিসাংখ্যিক হিসাব লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
কারণ: উভয় জিনোটাইপেই গায়ের রঙের জন্য হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন 'bb' বর্তমান, যা সাদা বর্ণ নির্দেশ করে। আবার লোমের অমসৃণ রূপ নির্ধারণকারী প্রকট অ্যালিল 'R' উপস্থিত থাকায় উভয় ক্ষেত্রেই লোম অমসৃণ হবে। অর্থাৎ উভয় গিনিপিগেরই ফিনোটাইপ হবে "সাদা ও অমসৃণ লোমযুক্ত"।
(হলুদ-গোলাকার : হলুদ-কুঞ্চিত : সবুজ-গোলাকার : সবুজ-কুঞ্চিত = ৯ : ৩ : ৩ : ১)।
১. স্বাভাবিক সুস্থ মহিলার জিনোটাইপ: $X^C X^C$
২. স্বাভাবিক কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক মহিলার জিনোটাইপ: $X^C X^c$
• অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance): কোনো অ্যালিলই প্রকট হতে পারে না, ফলে দুটি বিপরীত অ্যালিল হেটেরোজাইগাস অবস্থায় মিলে একটি মধ্যবর্তী নতুন ফিনোটাইপ প্রকাশ পায় (যেমন: সন্ধ্যামালতীতে লাল ও সাদা মিলে গোলাপি ফুল)।
• সহ-প্রকটতা (Codominance): হেটেরোজাইগাস অবস্থায় দুটি ভিন্ন অ্যালিলের কোনোটিই চাপা না থেকে সমভাবে ও স্বাধীনভাবে পাশাপাশি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে প্রকাশিত হয় (যেমন: মানুষের AB রক্তের গ্রুপে A ও B উভয় অ্যান্টিজেনের প্রকাশ)।
ফুলের বৈশিষ্ট্য ও বিপরীত রূপ:
১. ফুলের বর্ণ: বেগুনি ফুল (প্রকট) এবং সাদা ফুল (প্রচ্ছন্ন)।
২. ফুলের অবস্থান: কাক্ষিক ফুল (প্রকট) এবং শীর্ষস্থ ফুল (প্রচ্ছন্ন)।
সাফল্যের তিনটি কারণ: (১) স্ব-পরাগযোগী ও বহু বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত খাঁটি বংশধারার মটর গাছ নির্বাচন, (২) একসময়ে মাত্র এক বা দুটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণ পর্যবেক্ষণ, (৩) প্রতিটি সংকরায়ণ পরীক্ষার গাণিতিক ও পারিসাংখ্যিক ফলাফল লিপিবদ্ধ রাখা।
[D] দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন [LAQ] (প্রশ্নমান - ৫)
প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫ (বা বিভাজিত ৩+২, ১+৪, ২.৫+২.৫ ইত্যাদি)। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য চিহ্নিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়েছে।
যে জৈবিক পদ্ধতিতে পিতা-মাতা বা জনিতৃ জনুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি গ্যামেটের (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিধিমতে অপত্য বংশধরে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি (Heredity) বলে।
প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন (Variation) ব্যাখ্যা:
যৌন জননকালে ক্রোমোজোমের ক্রসিং ওভারের ফলে নতুন অ্যালিল সমন্বয় (Recombination), জিনের মিউটেশন বা পরিব্যক্তি এবং পরিবেশগত কারণের জন্য একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে শারীরিক গঠন ও আচরণে যে অমিল বা পার্থক্য দেখা যায়, তাকে প্রকরণ (Variation) বলে।
উদাহরণ সহযোগে দুটি প্রধান মানব প্রকরণ:
১. রোলার জিভ ও স্বাভাবিক জিভ: মানব জনসংখ্যার প্রায় ৭০-৮০% ব্যক্তি তাঁদের জিভের দুই পাশ উপর দিকে ভাঁজ করে নলের মতো গোল করতে পারেন, একে রোলার জিভ বলে। এটি একটি অটোজোমাল প্রকট জিন (R) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বাকি ব্যক্তিরা এটি পারেন না, তাঁদের জিভ স্বাভাবিক চ্যাপ্টা থাকে—যা একটি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (rr)।
২. কানের মুক্ত ও যুক্ত লতি: বহু মানুষের কানের নীচের নরম মাংসল অংশ (লতি) মুখের ত্বক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও আলগা থাকে। এটি একটি অটোজোমাল প্রকট বৈশিষ্ট্য। আবার কিছু মানুষের কানের লতি গালের ত্বকের সাথে সরাসরি জোড়া বা সংলগ্ন থাকে, যা একটি প্রচ্ছন্ন হোমোজাইগাস বৈশিষ্ট্য।
১. P জনু: খাঁটি বা বিশুদ্ধ কালো লোমযুক্ত গিনিপিগ ($BB$) এবং খাঁটি সাদা লোমযুক্ত গিনিপিগের ($bb$) মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানো হলো।
২. F1 জনু: প্রথম অপত্য জনুতে উৎপন্ন সমস্ত গিনিপিগ সংকর কালো লোমযুক্ত ($Bb$) হলো। এখানে কালো বর্ণ (B) সাদার (b) ওপর প্রকট হওয়ায় সাদা বর্ণটি প্রচ্ছন্ন থেকে যায়।
৩. F2 জনু: F1 জনুর দুটি সংকর কালো গিনিপিগের ($Bb \times Bb$) মিলনে দ্বিতীয় অপত্য জনুতে ফিনোটাইপ হিসেবে ৩ ভাগ কালো এবং ১ ভাগ সাদা গিনিপিগ সৃষ্টি হলো। জিনোটাইপিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— ২৫% বিশুদ্ধ কালো ($BB$), ৫০% সংকর কালো ($Bb$) এবং ২৫% বিশুদ্ধ সাদা ($bb$), যার অনুপাত ১ : ২ : ১।
মেন্ডেলের সিদ্ধান্ত ও সূত্র:
এই একসংকর জনন পরীক্ষা থেকে মেন্ডেল তাঁর ঐতিহাসিক পৃথক্ভবন সূত্রে (Law of Segregation) উপনীত হন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন— বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রক উপাদানগুলি হেটেরোজাইগাস সংকর জীবের দেহে পাশাপাশি অবস্থান করলেও তারা পরস্পরের সাথে কখনো মিশে যায় না; বরং গ্যামেট সৃষ্টির সময় তারা একে অপর থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে বিশুদ্ধভাবে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে প্রবেশ করে।
সন্ধ্যামালতী গাছের পরীক্ষা:
জার্মান বিজ্ঞানী কার্ল করেন্স (Carl Correns) সন্ধ্যামালতী (Mirabilis jalapa) গাছে সংকরায়ণ চালান:
• P জনু: একটি বিশুদ্ধ লাল ফুলযুক্ত গাছের ($RR$) সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত গাছের ($rr$) পরাগযোগ ঘটানো হয়। লাল গাছের গ্যামেট 'R' এবং সাদার গ্যামেট 'r'।
• F1 জনু: মেন্ডেলের প্রকটতার সূত্র অনুযায়ী F1 উদ্ভিদের ফুলগুলি লাল হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু দেখা গেল কোনো অ্যালিলই সম্পূর্ণ প্রকট হতে না পারায় F1 জনুর সমস্ত গাছ মধ্যবর্তী গোলাপি ফুল ($Rr$) যুক্ত হলো।
• F2 জনুর ক্রস ও চেকারবোর্ড: গোলাপি ফুলের গাছগুলির মধ্যে স্ব-পরাগযোগ ($Rr \times Rr$) ঘটালে উৎপন্ন গ্যামেট হয় R এবং r। F2 জনুতে উৎপন্ন হয়:
| ♀ / ♂ | R (৫০%) | r (৫০%) |
|---|---|---|
| R | RR (লাল) | Rr (গোলাপি) |
| r | Rr (গোলাপি) | rr (সাদা) |
মটর গাছের দ্বিসংকর জনন:
• P জনু: বিশুদ্ধ হলুদ ও গোল বীজযুক্ত মটর গাছ ($YYRR$) $\times$ বিশুদ্ধ সবুজ ও কুঞ্চিত বীজযুক্ত মটর গাছ ($yyrr$)।
• F1 জনু: সমস্ত উদ্ভিদ সংকর হলুদ ও গোল বীজযুক্ত ($YyRr$) হলো।
• F1 উদ্ভিদ থেকে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই চার ধরণের গ্যামেট সৃষ্টি হয়: YR, Yr, yR, yr।
| ♀ \ ♂ | YR | Yr | yR | yr |
|---|---|---|---|---|
| YR | YYRR হলুদ গোল |
YYRr হলুদ গোল |
YyRR হলুদ গোল |
YyRr হলুদ গোল |
| Yr | YYRr হলুদ গোল |
YYrr হলুদ কুঞ্চিত |
YyRr হলুদ গোল |
Yyrr হলুদ কুঞ্চিত |
| yR | YyRR হলুদ গোল |
YyRr হলুদ গোল |
yyRR সবুজ গোল |
yyRr সবুজ গোল |
| yr | YyRr হলুদ গোল |
Yyrr হলুদ কুঞ্চিত |
yyRr সবুজ গোল |
yyrr সবুজ কুঞ্চিত |
• F2 জিনোটাইপ অনুপাত: ১:২:২:৪:১:২:১:২:১ (মোট ৯ প্রকার জিনোটাইপ)।
১. প্রথম সূত্র: পৃথক্ভবনের সূত্র (Law of Segregation)
২. দ্বিতীয় সূত্র: স্বাধীন সঞ্চারণের সূত্র (Law of Independent Assortment)
সংকর কালো × বিশুদ্ধ সাদা গিনিপিগের সংকরায়ণ (টেস্ট ক্রস):
• সংকর কালো গিনিপিগের জিনোটাইপ = $Bb$ (উৎপন্ন গ্যামেট: ৫০% 'B' এবং ৫০% 'b')
• বিশুদ্ধ সাদা গিনিপিগের জিনোটাইপ = $bb$ (উৎপন্ন গ্যামেট: ১০০% 'b')
চেকারবোর্ড:
| ♀ \ ♂ | B (৫০%) | b (৫০%) |
|---|---|---|
| b (১০০%) | Bb (সংকর কালো - ৫০%) | bb (বিশুদ্ধ সাদা - ৫০%) |
কারণ:
১. এটি মানুষের X-ক্রোমোজোমবাহিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত ব্যাধি।
২. চোখের রেটিনায় উপস্থিত বিভিন্ন বর্ণগ্রাহী কোণ কোশ (Cone cells)-এর স্বাভাবিক রঞ্জক (আয়োডোপসিন ইত্যাদি) সংশ্লেষকারী জিনের মিউটেশনের ফলে সঠিক রঞ্জক গঠিত হয় না।
লক্ষণ ও প্রকারভেদ:
• প্রোটানোপিয়া (লাল বর্ণান্ধতা): ব্যক্তি লাল বর্ণ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়।
• ডিউটেরানোপিয়া (সবুজ বর্ণান্ধতা): ব্যক্তি সবুজ বর্ণ শনাক্ত করতে পারে না (এটি সর্বাধিক সাধারণ)।
• ট্রাইটানোপিয়া: ব্যক্তি নীল ও হলুদ বর্ণের পার্থক্য ধরতে পারে না। ট্রাফিক সিগন্যাল বুঝতে আক্রান্তদের মারাত্মক অসুবিধা হয়।
কারণ: মানুষের X-ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের পরিব্যক্তির কারণে রক্ততঞ্চনকারী প্রোটিন তৈরি হয় না।
১. হিমোফিলিয়া-A (রয়্যাল হিমোফিলিয়া): রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর-VIII (অ্যান্টিহিমোফিলিক ফ্যাক্টর বা AHF)-এর অভাবে ঘটে (প্রায় ৮০% ক্ষেত্রে)।
২. হিমোফিলিয়া-B (ক্রিসমাস ডিজিজ): রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর-IX (প্লাজমা থ্রম্বোপ্লাস্টিন কম্পোনেন্ট বা PTC)-এর অভাবে ঘটে (প্রায় ২০% ক্ষেত্রে)।
লক্ষণ: সামান্য আঘাতে বা অস্ত্রোপচারের পর রক্ত জমাট না বাঁধা, ত্বকের নিচে কালশিটে পড়া (হিমাটোমা), অস্থিসন্ধিতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (হিমার্থ্রোসিস) এবং প্রচণ্ড ব্যথা ও পঙ্গুত্ব।
অটোজোমাল রোগ হিসেবে থ্যালাসেমিয়া:
থ্যালাসেমিয়ার জিন মানবদেহের অটোজোমে অবস্থিত। আলফা থ্যালাসেমিয়ার জন্য দায়ী জিন মানুষের ১৬ নং অটোজোমে এবং বিটা থ্যালাসেমিয়ার জন্য দায়ী জিন মানুষের ১১ নং অটোজোমে অবস্থিত। পুরুষ ও স্ত্রী উভয় লিঙ্গেই সমানভাবে এ রোগ দেখা দেয়। পিতা ও মাতা উভয়েই যদি রোগের প্রচ্ছন্ন জিন বহনকারী বাহক (মাইনর) হন, তবে তাঁদের সন্ততির মধ্যে রোগাক্রান্ত (মেজর) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫%।
জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর গুরুত্ব:
১. বিবাহপূর্ব রক্ত পরীক্ষা: বিবাহ-প্রস্তাবিত বর ও কনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া বাহক কিনা তা নির্ণয় করা।
২. ঝুঁকি এড়ানো: দুজন বাহকের (Heterozygous carrier) মধ্যে বিবাহ রোধ করলে পরবর্তী প্রজন্মে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত সন্তান জন্মানোর ২৫% নিশ্চিত ঝুঁকি ১০০% প্রতিহত করা সম্ভব হয়। ফলে সমাজ থেকে এই প্রাণঘাতী ব্যাধি নির্মূল করা যায়।
A. একটি স্বাভাবিক মহিলা ও বর্ণান্ধ পুরুষের বিবাহ হলে?
B. একটি স্বাভাবিক বর্ণান্ধতা বাহক মহিলার সঙ্গে স্বাভাবিক পুরুষের বিবাহ হলে। (মান: ২.৫ + ২.৫ = ৫) চিহ্নিত প্রশ্ন • V.V.I
• মাতার গ্যামেট: ১০০% $X^C$ | পিতার গ্যামেট: ৫০% $X^c$ এবং ৫০% $Y$
• সন্ততির জিনোটাইপ:
- কন্যা সন্তান: $X^C X^c$ (১০০% কন্যাই স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক)
- পুত্র সন্তান: $X^C Y$ (১০০% পুত্রই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন)
• ফলাফল: কোনো সন্তানই বর্ণান্ধ হবে না। সকল কন্যা বাহক এবং সকল পুত্র স্বাভাবিক হবে।
ক্ষেত্র B: বাহক মহিলা ($X^C X^c$) × স্বাভাবিক পুরুষ ($X^C Y$)
• মাতার গ্যামেট: ৫০% $X^C$ এবং ৫০% $X^c$ | পিতার গ্যামেট: ৫০% $X^C$ এবং ৫০% $Y$
• সন্ততির জিনোটাইপ:
- কন্যাদের মধ্যে: ৫০% সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ($X^C X^C$) এবং ৫০% বাহক ($X^C X^c$)। কন্যাদের ০% আক্রান্ত।
- পুত্রদের মধ্যে: ৫০% সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ($X^C Y$) এবং ৫০% বর্ণান্ধ আক্রান্ত ($X^c Y$)।
• ফলাফল: পুত্র সন্তানদের অর্ধেক (৫০%) বর্ণান্ধ হবে এবং কোনো কন্যাই আক্রান্ত হবে না।
• কন্যাদের হিমোফিলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা = ০% (কোনো কন্যাই আক্রান্ত হবে না, তবে ৫০% বাহক হবে)।
• পুত্রদের হিমোফিলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা = ৫০% (অর্ধেক পুত্র আক্রান্ত হবে)।
• সামগ্রিক সন্ততিদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা = ২৫%।
চেকার বোর্ডের সাহায্যে উপস্থাপন:
পিতা: স্বাভাবিক ($X^H Y$) $\times$ মাতা: বাহক ($X^H X^h$)
| ♀ গ্যামেট \ ♂ গ্যামেট | Xᴴ (৫০% শুক্রাণু) | Y (৫০% শুক্রাণু) |
|---|---|---|
| Xᴴ (৫০% ডিম্বাণু) | XᴴXᴴ স্বাভাবিক কন্যা (২৫%) |
XᴴY স্বাভাবিক পুত্র (২৫%) |
| Xʰ (৫০% ডিম্বাণু) | XᴴXʰ বাহক কন্যা (২৫%) |
XʰY হিমোফিলিক পুত্র (২৫%) |
১. তীব্র রক্তাল্পতা (Severe Anemia): লোহিত রক্তকণিকার অতিরিক্ত ভাঙনে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা মারাত্মক হ্রাস পায়, যার ফলে দুর্বলতা ও ফ্যাকাশে ত্বক দেখা দেয়।
২. যকৃৎ ও প্লীহার বৃদ্ধি (Hepatosplenomegaly): প্লীহা ও যকৃতে অতিরিক্ত RBC ধ্বংস হওয়ায় এগুলি অস্বাভাবিক স্ফীত হয়।
৩. লৌহ সঞ্চয় ও অস্থি বিকৃতি: বারবার রক্ত দেওয়ার কারণে হৃদপিণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গে বিষাক্ত অতিরিক্ত আয়রন জমা হয় (Iron overload) এবং মুখমণ্ডলের হাড় স্ফীত হয় (মঙ্গোলয়েড মুখশ্রী)।
কন্যা সন্তান জন্মানোর ক্ষেত্রে মাতার নির্দোষিতা প্রমাণ:
মাতা হোমোগ্যামেটিক (44A + XX), তাই ডিম্বাণুতে শুধুমাত্র একটিমাত্র 'X' ক্রোমোজোম থাকে ($22A + X$)। কিন্তু পিতা হেটেরোগ্যামেটিক (44A + XY), তাই পুরুষদের দুই প্রকারের শুক্রাণু উৎপন্ন হয়— ৫০% 'X' ক্রোমোজোমবাহী ($22A + X$) এবং ৫০% 'Y' ক্রোমোজোমবাহী ($22A + Y$)।
ক্রস:
• মাতার $22A + X$ ডিম্বাণুর সাথে পিতার $22A + X$ শুক্রাণুর মিলন ঘটলে কন্যা ($44A + XX$) সন্তান জন্ম নেয়।
• পক্ষান্তরে পিতার $22A + Y$ শুক্রাণুর মিলন ঘটলে তবেই পুত্র ($44A + XY$) সন্তান জন্ম নেয়।
অতএব, অনাগত সন্তান কন্যা না পুত্র হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পিতার কোন শুক্রাণু ডিম্বাণু নিষিক্ত করছে তার ওপর। সুতরাং কন্যা সন্তান জন্মানোর জন্য মাতাকে দায়ী করা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন ও ভ্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার।
হলুদ (Y) এবং গোলাকার (R) বৈশিষ্ট্য দুটি প্রকট। F2 জনুতে ১৬টি সমন্বয়ের মধ্যে ৯টি হলুদ ও গোলাকার বীজযুক্ত হয়। এদের মধ্যে ৪ প্রকার ভিন্ন জিনোটাইপ দেখা যায়:
১. YYRR: ১ টি (বিশুদ্ধ হলুদ ও বিশুদ্ধ গোলাকার)
২. YYRr: ২ টি (বিশুদ্ধ হলুদ ও সংকর গোলাকার)
৩. YyRR: ২ টি (সংকর হলুদ ও বিশুদ্ধ গোলাকার)
৪. YyRr: ৪ টি (সংকর হলুদ ও সংকর গোলাকার)
মেন্ডেলের স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র (Law of Independent Assortment):
"দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে গ্যামেট গঠনকালে বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রক অ্যালিলগুলি কেবল যে পরস্পর থেকে পৃথক হয় তাই নয়, তারা স্বাধীনভাবে যে-কোনো বিপরীত বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্ভাব্য সকল প্রকার সমন্বয়ে সাজানো হয়ে গ্যামেটে সঞ্চারিত হয়।"
[E] সমস্যাভিত্তিক গাণিতিক প্রশ্নোত্তর ও চেকারবোর্ড (Problems)
বংশগতির বিভিন্ন সংকরায়ণ, অসম্পূর্ণ প্রকটতা ও ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিল সমস্যার ধাপে ধাপে গাণিতিক ও চেকারবোর্ড সমাধান।
সংকর লম্বা মটর গাছের জিনোটাইপ = $Tt$। স্বপরাগযোগ ঘটানো হলো: $Tt \times Tt$।
উৎপন্ন গ্যামেট: ৫০% 'T' এবং ৫০% 't'।
চেকারবোর্ড:
| ♀ \ ♂ | T | t |
|---|---|---|
| T | TT (বিশুদ্ধ লম্বা) | Tt (সংকর লম্বা) |
| t | Tt (সংকর লম্বা) | tt (বিশুদ্ধ বেঁটে) |
• জিনোটাইপ প্রকারভেদ: জিনগত বিন্যাসে ৩ রকমের গাছ জন্মায়— বিশুদ্ধ লম্বা ($TT$), সংকর লম্বা ($Tt$) এবং বিশুদ্ধ বেঁটে ($tt$)। অনুপাত ১ : ২ : ১।
সংকর কালো গিনিপিগ ($Bb$) $\times$ বিশুদ্ধ সাদা গিনিপিগ ($bb$)।
গ্যামেট: সংকর কালো থেকে 'B' ও 'b'; বিশুদ্ধ সাদা থেকে কেবল 'b'।
• অপত্যদের জিনোটাইপ হবে: ৫০% $Bb$ (সংকর কালো) এবং ৫০% $bb$ (বিশুদ্ধ সাদা)।
• অপত্যদের গায়ের রং: ৫০% অপত্য কালো লোমযুক্ত এবং ৫০% অপত্য সাদা লোমযুক্ত হবে।
• অনুপাত: কালো ও সাদার ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে ১ : ১ (1 : 1)।
ধরি, লাল বর্ণের প্রকট অ্যালিল = R এবং সাদা বর্ণের প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = r।
বিশুদ্ধ লাল ($RR$) $\times$ বিশুদ্ধ সাদা ($rr$)।
১. প্রথম অপত্য জনু ($F_1$): সমস্ত উদ্ভিদ সংকর লাল ($Rr$) হবে।
$ ightarrow$ লাল ও সাদার অনুপাত = ১০০% লাল : ০% সাদা (বা সমস্তই লাল)।
২. দ্বিতীয় অপত্য জনু ($F_2$): $Rr \times Rr$ স্ব-পরাগযোগের ফলে ৩ ভাগ লাল ($RR, Rr, Rr$) এবং ১ ভাগ সাদা ($rr$) উৎপন্ন হবে।
$ ightarrow$ লাল ও সাদা ফুলের ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে ৩ : ১।
এখানে কালো ($C^B C^B$) এবং সাদা ($C^W C^W$) মিলে বাদামি ($C^B C^W$) হওয়া নির্দেশ করে এটি অসম্পূর্ণ প্রকটতার (Incomplete Dominance) ঘটনা।
দুটি বাদামি খরগোশের মিলন ($C^B C^W \times C^B C^W$):
• গ্যামেট: $C^B$ এবং $C^W$।
• F2 জনুর জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ:
- $C^B C^B$ = কালো খরগোশ (১ ভাগ - ২৫%)
- $C^B C^W$ = বাদামি খরগোশ (২ ভাগ - ৫০%)
- $C^W C^W$ = সাদা খরগোশ (১ ভাগ - ২৫%)
• অনুপাত: কালো : বাদামি : সাদা = ১ : ২ : ১ (অথবা কালো : সাদা : বাদামি = ১ : ১ : ২)।
• P জনু: বিশুদ্ধ কালো-অমসৃণ ($BBRR$) $\times$ বিশুদ্ধ সাদা-মসৃণ ($bbrr$)
• F1 জনু: সমস্ত গিনিপিগ সংকর কালো ও অমসৃণ লোমযুক্ত ($BbRr$) হলো।
• উৎপন্ন ৪ প্রকার গ্যামেট: BR, Br, bR, br।
F2 জনুর চেকারবোর্ড:
| ♀ \ ♂ | BR | Br | bR | br |
|---|---|---|---|---|
| BR | BBRR কালো-অমসৃণ | BBRr কালো-অমসৃণ | BbRR কালো-অমসৃণ | BbRr কালো-অমসৃণ |
| Br | BBRr কালো-অমসৃণ | BBrr কালো-মসৃণ | BbRr কালো-অমসৃণ | Bbrr কালো-মসৃণ |
| bR | BbRR কালো-অমসৃণ | BbRr কালো-অমসৃণ | bbRR সাদা-অমসৃণ | bbRr সাদা-অমসৃণ |
| br | BbRr কালো-অমসৃণ | Bbrr কালো-মসৃণ | bbRr সাদা-অমসৃণ | bbrr সাদা-মসৃণ |
প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত:
এই দ্বিসংকর পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয় যে— লোমের বর্ণ (কালো/সাদা) এবং লোমের প্রকৃতি (অমসৃণ/মসৃণ) সম্পূর্ণ পৃথক জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গ্যামেট সৃষ্টির সময় এরা কেবল পৃথকই হয় না, বরং সম্ভাব্য সকল উপায়ে স্বাধীনভাবে সঞ্চারিত হয়ে নতুন বৈশিষ্ট্যের (কালো-মসৃণ ও সাদা-অমসৃণ) সৃষ্টি করে। অর্থাৎ এটি মেন্ডেলের স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্রের সত্যতা প্রমাণ করে।
এখানে কাণ্ডের উচ্চতায় স্বাভাবিক মেন্ডেলীয় প্রকটতা (লম্বা T > বেঁটে t) কিন্তু ফুলের বর্ণে অসম্পূর্ণ প্রকটতা (RR লাল, Rr গোলাপি, rr সাদা) দেখা যাচ্ছে।
• F1 উদ্ভিদ = সংকর লম্বা ও গোলাপি ফুল ($TtRr$)।
• গ্যামেট: TR, Tr, tR, tr।
F2 জনুতে ১৬টি সমন্বয় তৈরি হয় যার ফিনোটাইপিক শ্রেণিবিভাগ হলো:
১. লম্বা ও লাল ফুল ($T_RR$) = ৩ টি
২. লম্বা ও গোলাপি ফুল ($T_Rr$) = ৬ টি
৩. লম্বা ও সাদা ফুল ($T_rr$) = ৩ টি
৪. বেঁটে ও লাল ফুল ($ttRR$) = ১ টি
৫. বেঁটে ও গোলাপি ফুল ($ttRr$) = ২ টি
৬. বেঁটে ও সাদা ফুল ($ttrr$) = ১ টি
• মোট উদ্ভিদের প্রকারভেদ: F2 জনুতে ৬ রকমের ফিনোটাইপ বিশিষ্ট উদ্ভিদ জন্মাবে।
• অনুপাত: ৩ : ৬ : ৩ : ১ : ২ : ১।
• বর্ণান্ধ মহিলার জিনোটাইপ = $X^c X^c$ (ডিম্বাণু: ১০০% $X^c$)
• স্বাভাবিক পুরুষের জিনোটাইপ = $X^C Y$ (শুক্রাণু: ৫০% $X^C$ এবং ৫০% $Y$)
সন্ততির জিনোটাইপ ও সম্ভাবনা:
১. কন্যা সন্তান ($X^C X^c$): পিতা থেকে স্বাভাবিক $X^C$ এবং মাতা থেকে $X^c$ লাভ করে। ফলে ১০০% কন্যাই স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক হবে (০% আক্রান্ত)।
২. পুত্র সন্তান ($X^c Y$): মাতা থেকে সরাসরি প্রচ্ছন্ন বর্ণান্ধ জিনযুক্ত $X^c$ এবং পিতা থেকে Y ক্রোমোজোম লাভ করে। ফলে ১০০% পুত্রই বর্ণান্ধ হবে।
মাতা বর্ণান্ধ ($X^c X^c$) এবং পিতা স্বাভাবিক ($X^C Y$)।
• কন্যারা পিতা থেকে $X^C$ পাওয়ায় সমস্ত কন্যাই স্বাভাবিক কিন্তু বাহক ($X^C X^c$) হবে।
• পুত্ররা মাতা থেকে $X^c$ পাওয়ায় সকল পুত্রই বর্ণান্ধ ($X^c Y$) হবে। ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার নিয়ম অনুযায়ী মাতার বর্ণান্ধতা পুত্র সন্ততিতে সরাসরি সঞ্চারিত হয়।
দ্বিতীয় অংশ (সন্ধ্যামালতী ও প্রথম সূত্রের বিচ্যুতি):
মেন্ডেলের একসংকর জননের প্রথম সূত্রানুসারে F2 জনুতে ফিনোটাইপ অনুপাত ৩:১ হওয়ার কথা। কিন্তু সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদে অসম্পূর্ণ প্রকটতার জন্য:
• P জনু: লাল ($RR$) $\times$ সাদা ($rr$) $\rightarrow$ F1: গোলাপি ($Rr$)
• F2 জনু: গোলাপি $\times$ গোলাপি ($Rr \times Rr$)
- $RR$ (লাল) = ১ ভাগ (২৫%)
- $Rr$ (গোলাপি) = ২ ভাগ (৫০%)
- $rr$ (সাদা) = ১ ভাগ (২৫%)
• এখানে ফিনোটাইপ অনুপাত ৩:১ এর পরিবর্তে ১ : ২ : ১ (লাল : গোলাপি : সাদা) হয়। এটিই মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের স্পষ্ট বিচ্যুতি প্রমাণ করে।
ধরি, স্বাভাবিক সুস্থ অ্যালিল = T এবং থ্যালাসেমিয়ার প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = t।
উভয় পিতামাতাই থ্যালাসেমিয়া মাইনর বা বাহক, তাই পিতা = $Tt$ এবং মাতা = $Tt$।
ক্রস ($Tt \times Tt$):
উৎপন্ন গ্যামেট: T (৫০%) এবং t (৫০%)।
• সন্তান সন্ততিদের সম্ভাব্য জিনোটাইপ:
- $TT$ = সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শিশু (২৫%)
- $Tt$ = থ্যালাসেমিয়া বাহক বা মাইনর শিশু (৫০%)
- $tt$ = থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বা মেজর শিশু (২৫%)
• উত্তর: সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত (Thalassemia Major) হওয়ার সম্ভাবনা হলো ২৫% (বা প্রতি ৪ জনে ১ জন)।
Comments
You must be signed in to join the discussion.
Loading comments...