নবম শ্রেণীর ভূগোল অষ্টম অধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গ - অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Geography Chapter 8

নবম শ্রেণীর ভূগোল অষ্টম অধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গ - অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Geography Chapter 8

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর ভূগোল অষ্টম অধ্যায় 'পশ্চিমবঙ্গ' থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ) ও সাজেশন।

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) মান ১

১পশ্চিমবঙ্গের বর্তমানে জেলার সংখ্যা-
ক১৮ টি
খ১৯ টি
গ২৩ টি
ঘ২৯ টি
উত্তর
গ২৩ টি
২পশ্চিম বর্ধমান জেলা গঠিত হয়-
ক২০১৪ সালে
খ২০১৫ সালে
গ২০১৬ সালে
ঘ২০১৭ সালে
উত্তর
ঘ২০১৭ সালে
৩আলিপুরদুয়ার জেলা গঠিত হয়-
ক২০১৩ সালে
খ২০১৪ সালে
গ২০১৫ সালে
ঘ২০১৬ সালে
উত্তর
খ২০১৪ সালে
৪পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-দক্ষিণের বিস্তার প্রায়-V.V.I
ক৬০০ কিমি
খ৭০০ কিমি
গ৮০০ কিমি
ঘ৯০০ কিমি
উত্তর
খ৭০০ কিমি
৫পশ্চিমবঙ্গের মোট আয়তন-
ক৮৮,৭৫২ বর্গ কিমি
খ৮৫,৭৫২ বর্গ কিমি
গ৯০,০০০ বর্গ কিমি
ঘ৮০,০০০ বর্গ কিমি
উত্তর
ক৮৮,৭৫২ বর্গ কিমি
৬পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল-V.V.I
কটাইগার হিল
খসান্দাকফু
গফালুট
ঘটংলু
উত্তর
খসান্দাকফু
৭ডুয়ার্স অঞ্চলে প্রধানত যে ফসল চাষ হয়-
কধান
খচা
গপাট
ঘগম
উত্তর
খচা
৮পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম নদী হল-V.V.I
কগঙ্গা
খদামোদর
গতিস্তা
ঘভাগীরথী-হুগলি
উত্তর
ঘভাগীরথী-হুগলি
৯পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় সুন্দরবন অবস্থিত-
কউত্তর ২৪ পরগনা
খদক্ষিণ ২৪ পরগনা
গপূর্ব মেদিনীপুর
ঘহাওড়া
উত্তর
খদক্ষিণ ২৪ পরগনা
১০পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মালভূমি অঞ্চলের প্রধান মাটি-V.V.I
কপলিমাটি
খল্যাটেরাইট মাটি
গকালো মাটি
ঘবেলে মাটি
উত্তর
খল্যাটেরাইট মাটি
১১নিম্নলিখিত কোন নদীর জল নোনা-
কমাতলা
খগোসাবা
গপিয়ালী
ঘসবকটি
উত্তর
ঘসবকটি
১২বাংলায় 'আসল নদী' বলা হয়-
কভাগীরথী
খগোয়াবাগী
গপিয়ালী
ঘঅজয়
উত্তর
কভাগীরথী
১৩শিলাবতী নদীকে পশ্চিমবঙ্গে বলা হয়-
ককংসাবতী
খদ্বারকেশ্বর
গশিলাই
ঘকেলেঘাই
উত্তর
গশিলাই
১৪নিম্নলিখিত কোন জেলায় সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাব খুব বেশি-
কদক্ষিণ ২৪ পরগনা
খমালদহ
গপুরুলিয়া
ঘবীরভূম
উত্তর
কদক্ষিণ ২৪ পরগনা
১৫পশ্চিমবঙ্গের আমন ধান একটি-V.V.I
কখরিফ শস্য
খরবিশস্য
গবাগিচা শস্য
ঘজায়িদ শস্য
উত্তর
কখরিফ শস্য
১৬পশ্চিমবঙ্গের ধানের গোলা বলে-
কবর্ধমান
খমেদিনীপুর
গহুগলি
ঘনদিয়া
উত্তর
কবর্ধমান
১৭নিম্নলিখিত কোন জেলায় পাট চাষের বিস্তার-V.V.I
কনদিয়া
খমুর্শিদাবাদ
গউত্তর দিনাজপুর
ঘসবকটি
উত্তর
ঘসবকটি
১৮প্রথম পাটকল গড়ে ওঠে-
কহাওড়া
খহুগলি
গকলকাতা
ঘনদিয়া
উত্তর
কহাওড়া
১৯নিম্নলিখিত কোন পর্যটন কেন্দ্রে প্রচুর বিদেশি পর্যটক আসেন-
কদার্জিলিং
খদীঘা
গসুন্দরবন
ঘসবকটি
উত্তর
ঘসবকটি
২০পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সংখ্যা হল-
ক৪টি
খ৫টি
গ৬টি
ঘ৩টি
উত্তর
খ৫টি
২১পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমানা আছে এমন দেশের সংখ্যা-
ক২টি
খ৩টি
গ৪টি
ঘ১টি
উত্তর
খ৩টি
২২উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হল-V.V.I
কশিলিগুড়ি
খজলপাইগুড়ি
গদার্জিলিং
ঘকোচবিহার
উত্তর
কশিলিগুড়ি
২৩পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী হল-
কহাওড়া
খকলকাতা
গদুর্গাপুর
ঘশিলিগুড়ি
উত্তর
খকলকাতা
২৪তরাই অঞ্চলের মাটি-
কপলিমাটি
খল্যাটেরাইট
গতরাই মাটি
ঘকাদামাটি
উত্তর
গতরাই মাটি
২৫পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাতের প্রধান কারণ-V.V.I
কপশ্চিমা বায়ু
খদক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
গউত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
ঘসামুদ্রিক বায়ু
উত্তর
খদক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
২৬পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে উষ্ণ জেলা-
কবাঁকুড়া
খপুরুলিয়া
গবীরভূম
ঘমালদহ
উত্তর
খপুরুলিয়া
২৭কালবৈশাখী ঝড় হয়-V.V.I
কশীতকালে
খগ্রীষ্মকালে
গবর্ষাকালে
ঘশরৎকালে
উত্তর
খগ্রীষ্মকালে
২৮পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বন্দর-
কহলদিয়া
খকলকাতা
গদীঘা
ঘকাকদ্বীপ
উত্তর
খকলকাতা
২৯সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ-V.V.I
কশাল
খসেগুন
গসুন্দরী
ঘপাইন
উত্তর
গসুন্দরী
৩০দামোদর নদকে বলা হয়-V.V.I
কবাংলার দুঃখ
খবাংলার গর্ব
গবাংলার প্রাণ
ঘবাংলার শিরা
উত্তর
কবাংলার দুঃখ
৩১পশ্চিমবঙ্গের লৌহ-ইস্পাত কারখানা অবস্থিত-
কদুর্গাপুর
খআসানসোল
গবার্নপুর
ঘসবকটি
উত্তর
ঘসবকটি
৩২পশ্চিমবঙ্গের IT Hub বলা হয়-
কদুর্গাপুর
খসল্টলেক
গখড়গপুর
ঘকল্যাণী
উত্তর
খসল্টলেক
৩৩রাঢ় সমভূমির মাটি হল-
কপলিমাটি
খলাল মাটি
গকালো মাটি
ঘবেলে মাটি
উত্তর
খলাল মাটি
৩৪হলদিয়া বিখ্যাত-V.V.I
কচা শিল্পের জন্য
খতৈলশোধনাগারের জন্য
গপাট শিল্পের জন্য
ঘলৌহ শিল্পের জন্য
উত্তর
খতৈলশোধনাগারের জন্য
৩৫পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম জেলা (আয়তনে)-
কদক্ষিণ ২৪ পরগনা
খপশ্চিম মেদিনীপুর
গমালদহ
ঘবর্ধমান
উত্তর
কদক্ষিণ ২৪ পরগনা
৩৬পশ্চিমবঙ্গে মোট কতটি সম্ভাগ আছে?
ক৫টি
খ৬টি
গ৭টি
ঘ৮টি
উত্তর
গ৭টি
৩৭পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায়?
ককোলাঘাট
খব্যান্ডেল
গহরিণঘাটা
ঘসাগরদ্বীপ
উত্তর
গহরিণঘাটা
৩৮গঙ্গা নদী পশ্চিমবঙ্গে কোন নামে পরিচিত?V.V.I
কপদ্মা
খহুগলি
গভাগীরথী
ঘভাগীরথী-হুগলি
উত্তর
ঘভাগীরথী-হুগলি
৩৯পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব (২০১১) প্রায়-
ক৮০০ জন/বর্গকিমি
খ৯০০ জন/বর্গকিমি
গ১০২৯ জন/বর্গকিমি
ঘ১১০০ জন/বর্গকিমি
উত্তর
গ১০২৯ জন/বর্গকিমি
৪০পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের দৈর্ঘ্য প্রায়-
ক১৫৮ কিমি
খ২০০ কিমি
গ২৫০ কিমি
ঘ১০০ কিমি
উত্তর
ক১৫৮ কিমি

শূন্যস্থান পূরণ করো প্রশ্নমান ১

১পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের মাটি ______ প্রকৃতির।
উত্তর
ল্যাটেরাইট
২সান্দাকফু শৃঙ্গের উচ্চতা ______ মিটার।
উত্তর
৩৬৩৬
৩পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে ______ অবস্থিত।
উত্তর
বঙ্গোপসাগর
৪ছোটনাগপুর মালভূমির সর্বোচ্চ চূড়া ______।
উত্তর
গোরগাবুরু
৫পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মালভূমি অঞ্চলের একটি খনিজ ______।
উত্তর
কয়লা
৬দার্জিলিং হিমালয় অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ______।
উত্তর
সান্দাকফু
৭পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম নদী ______।
উত্তর
ভাগীরথী-হুগলি
৮দামোদর নদকে ______ বলা হয়।
উত্তর
বাংলার দুঃখ
৯পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ______।
উত্তর
কলকাতা
১০সুন্দরবনের প্রধান গাছ ______ গাছ।
উত্তর
সুন্দরী
১১পশ্চিমবঙ্গ ও নেপালের মধ্যে ______ শৈলশিরা অবস্থিত।
উত্তর
সিঙ্গালীলা
১২পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ______ টি জেলা আছে।
উত্তর
২৩
১৩পশ্চিমবঙ্গের ______ কে ধানের গোলা বলা হয়।
উত্তর
বর্ধমানকে
১৪তিস্তা নদী ______ বঙ্গের প্রধান নদী।
উত্তর
উত্তর
১৫পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু ______ মৌসুমি প্রকৃতির।
উত্তর
ক্রান্তীয়
১৬পশ্চিমবঙ্গের তৈলশোধনাগার ______ তে অবস্থিত।
উত্তর
হলদিয়া
১৭গ্রীষ্মকালের ঝড়কে ______ বলে।
উত্তর
কালবৈশাখী
১৮পশ্চিমবঙ্গের IT Hub হল ______।
উত্তর
সল্টলেক
১৯পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম জেলা (আয়তনে) ______।
উত্তর
দক্ষিণ ২৪ পরগনা
২০পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্রতম জেলা ______।
উত্তর
কলকাতা
২১______ নদী সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
উত্তর
মাতলা
২২পশ্চিমবঙ্গের প্রধান খাদ্যশস্য ______।
উত্তর
ধান
২৩পশ্চিমবঙ্গের প্রধান অর্থকরী ফসল ______।
উত্তর
পাট
২৪______ কে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার বলা হয়।
উত্তর
শিলিগুড়িকে
২৫পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের দৈর্ঘ্য প্রায় ______ কিমি।
উত্তর
১৫৮

সঠিক উত্তরটি পাশে 'শ' এবং ভুল উত্তরটি পাশে 'অ' লেখো প্রশ্নমান ১

১পশ্চিমবঙ্গের পূর্বে রয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র।
উত্তর
শ
২পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত।
উত্তর
শ
৩পশ্চিমবঙ্গের প্রথম পাটকল কলকাতায় স্থাপিত হয়।
উত্তর
অ
৪হাওড়া একটি মিলিয়ন শহর।
উত্তর
শ
৫পশ্চিমবঙ্গে ভাতের সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়।
উত্তর
শ
৬গঙ্গানদী পশ্চিমবঙ্গে পদ্মা নামে পরিচিত।
উত্তর
অ
৭দামোদর নদকে বাংলার দুঃখ বলা হয়।
উত্তর
শ
৮পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির।
উত্তর
অ
৯সুন্দরবন হল পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
উত্তর
শ
১০পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী হাওড়া।
উত্তর
অ
১১তিস্তা নদী উত্তরবঙ্গের প্রধান নদী।
উত্তর
শ
১২পুরুলিয়া জেলায় ল্যাটেরাইট মাটি দেখা যায়।
উত্তর
শ
১৩পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম জেলা মালদহ।
উত্তর
অ
১৪কলকাতা হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত।
উত্তর
শ
১৫পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
উত্তর
শ
১৬রাঢ় সমভূমি গঙ্গার পূর্ব তীরে অবস্থিত।
উত্তর
অ
১৭পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৩টি জেলা আছে।
উত্তর
শ
১৮ডুয়ার্স অঞ্চলে চা চাষ হয়।
উত্তর
শ
১৯হলদিয়া বন্দর একটি নদী বন্দর।
উত্তর
শ
২০কালবৈশাখী ঝড় শীতকালে হয়।
উত্তর
অ
২১পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমে নেপাল ও ভুটান অবস্থিত।
উত্তর
অ
২২সিঙ্গালীলা শৈলশিরা পশ্চিমবঙ্গ ও নেপালের মধ্যে অবস্থিত।
উত্তর
শ
২৩বর্ধমানকে পশ্চিমবঙ্গের ধানের গোলা বলে।
উত্তর
শ
২৪পশ্চিমবঙ্গে মোট ৫টি সম্ভাগ আছে।
উত্তর
অ
২৫দার্জিলিং চা পৃথিবী বিখ্যাত।
উত্তর
শ

স্তম্ভ মেলাও প্রশ্নমান ১

বাম স্তম্ভডান স্তম্ভ
১। নদিয়া(ক) বারাসাত
২। উত্তর দিনাজপুর(খ) রায়গঞ্জ
৩। দক্ষিণ দিনাজপুর(গ) কৃষ্ণনগর
৪। উত্তর ২৪ পরগনা(ঘ) বালুরঘাট
৫। বীরভূম(ঙ) শিলিগুড়ি
৬। দার্জিলিং(চ) সিউড়ি
উত্তর
১→গ, ২→খ, ৩→ঘ, ৪→ক, ৫→চ, ৬→ঙ
বাম স্তম্ভডান স্তম্ভ
১। দুর্গাপুর(ক) তথ্যপ্রযুক্তি
২। হরিণঘাটা(খ) চা
৩। সল্টলেক(গ) লৌহ-ইস্পাত
৪। দার্জিলিং(ঘ) ডেয়ারি
৫। কুশমণ্ড(ঙ) তৈলশোধনাগার
৬। হলদিয়া(চ) মৃৎশিল্প
উত্তর
১→গ, ২→ঘ, ৩→ক, ৪→খ, ৫→চ, ৬→ঙ

দু-এক কথায় উত্তর দাও প্রশ্নমান ১

১ভারতের রাজ্য পুনর্গঠন কোন সালে কার্যকরী হয়?
উত্তর
১৯৫৬ সালে।
২পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্রতম জেলা কোনটি?
উত্তর
কলকাতা।
৩পশ্চিমবঙ্গ ও নেপালের মধ্যে কোন শৈলশিরা আছে?
উত্তর
সিঙ্গালীলা শৈলশিরা।
৪কোন কোন দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমা আছে?
উত্তর
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান।
৫বীরভূমের সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর
সিউড়ি।
৬পশ্চিমবঙ্গে মোট কটি সম্ভাগ আছে?
উত্তর
৭টি।
৭কলকাতা হুগলি নদীর কোন তীরে অবস্থিত?
উত্তর
বাম তীরে (পূর্ব তীরে)।
৮পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
উত্তর
সান্দাকফু (৩৬৩৬ মিটার)।
৯দামোদর নদকে কী বলা হয়?
উত্তর
বাংলার দুঃখ।
১০সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষের নাম কী?
উত্তর
সুন্দরী।
১১পশ্চিমবঙ্গের ধানের গোলা কোন জেলাকে বলা হয়?
উত্তর
বর্ধমান জেলাকে।
১২পশ্চিমবঙ্গের প্রথম পাটকল কোথায় স্থাপিত হয়?
উত্তর
রিষড়া, হাওড়ায়।
১৩পশ্চিমবঙ্গের তৈলশোধনাগার কোথায় অবস্থিত?
উত্তর
হলদিয়ায়।
১৪পশ্চিমবঙ্গের IT Hub কোথায়?
উত্তর
সল্টলেক (কলকাতা)।
১৫কালবৈশাখী ঝড় কোন ঋতুতে হয়?
উত্তর
গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল-মে)।
১৬পশ্চিমবঙ্গের লৌহ-ইস্পাত কারখানা কোথায়?
উত্তর
দুর্গাপুর ও বার্নপুর।
১৭তিস্তা নদী কোন বঙ্গের প্রধান নদী?
উত্তর
উত্তরবঙ্গের।
১৮পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বন্দর কোনটি?
উত্তর
কলকাতা বন্দর (শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর)।
১৯পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম জেলার নাম কী?
উত্তর
দক্ষিণ ২৪ পরগনা।
২০উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার কোনটি?
উত্তর
শিলিগুড়ি।
২১পশ্চিমবঙ্গের প্রধান খাদ্যশস্য কী?
উত্তর
ধান।
২২পশ্চিমবঙ্গের প্রধান অর্থকরী ফসল কী?
উত্তর
পাট।
২৩ডুয়ার্স অঞ্চলে কোন ফসল চাষ হয়?
উত্তর
চা।
২৪পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু কোন প্রকৃতির?
উত্তর
ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির।
২৫পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর
প্রায় ১৫৮ কিমি।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর সংক্ষেপে লেখো প্রশ্নমান ২

১পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী কটি দেশের নাম লেখো।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী ৩টি দেশ হল— (১) বাংলাদেশ (পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে), (২) নেপাল (উত্তর-পশ্চিমে) এবং (৩) ভুটান (উত্তরে)।
২পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম জেলার নাম কী?
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম জেলা— দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং ক্ষুদ্রতম জেলা— কলকাতা।
৩পশ্চিমবঙ্গের দুটি পার্বত্য নদী ও দুটি সমভূমির নদীর নাম লেখো।
উত্তর
পার্বত্য নদী— তিস্তা ও তোর্সা। সমভূমির নদী— দামোদর ও অজয়।
৪পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্পের দুটি কারণ লেখো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্পের দুটি কারণ— (১) কাঁচামাল পাটের সহজলভ্যতা এবং (২) হুগলি নদীর জল শিল্পে ব্যবহার।
৫তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের পার্থক্য লেখো।V.V.I
উত্তর
তরাই— হিমালয়ের পাদদেশে জলাভূমি যুক্ত অঞ্চল, তৃণভূমি প্রধান। ডুয়ার্স— তরাইয়ের দক্ষিণে অবস্থিত, চা বাগান ও ঘন বনভূমি সমৃদ্ধ।
৬রাঢ় সমভূমি কাকে বলে?
উত্তর
গঙ্গা নদীর পশ্চিম তীরের ঢেউ খেলানো ভূমিরূপকে রাঢ় সমভূমি বলে। এখানকার মাটি লালচে প্রকৃতির।
৭পশ্চিমবঙ্গের দুটি প্রধান ফসলের নাম ও চাষের এলাকা লেখো।
উত্তর
ধান— বর্ধমান, হুগলি, মেদিনীপুর। পাট— মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর দিনাজপুর।
৮কালবৈশাখী ঝড় কী?V.V.I
উত্তর
গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল-মে মাসে) বিকেলবেলায় পশ্চিমবঙ্গে যে তীব্র ঝোড়ো বাতাস, বজ্রবিদ্যুৎ ও শিলাবৃষ্টিসহ ঝড় হয় তাকে কালবৈশাখী বলে।
৯পশ্চিমবঙ্গের দুটি খনিজ সম্পদের নাম ও প্রাপ্তিস্থান লেখো।
উত্তর
কয়লা— রানিগঞ্জ (পশ্চিম বর্ধমান)। ডলোমাইট— জলপাইগুড়ি।
১০দামোদর নদকে বাংলার দুঃখ বলা হয় কেন?V.V.I
উত্তর
অতীতে দামোদর নদে প্রায় প্রতি বছর বন্যা হত এবং বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হত, তাই একে বাংলার দুঃখ বলা হত।
১১পশ্চিমবঙ্গের দুটি পর্যটন কেন্দ্রের নাম ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর
দার্জিলিং— পার্বত্য শৈলশহর, চা বাগান ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন। দীঘা— সমুদ্র সৈকত, উপকূলীয় পর্যটন কেন্দ্র।
১২হলদিয়া বন্দরের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর
হলদিয়া কলকাতা বন্দরের সহায়ক বন্দর। এখানে তৈলশোধনাগার ও পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে উঠেছে। বৃহৎ জাহাজ এই বন্দরে ভিড়তে পারে।
১৩পশ্চিমবঙ্গের প্রধান দুটি শিল্পনগরীর নাম লেখো।
উত্তর
দুর্গাপুর— লৌহ-ইস্পাত শিল্পের জন্য বিখ্যাত। কলকাতা— বৈচিত্র্যময় শিল্পকেন্দ্র (পাট, বস্ত্র, ইঞ্জিনিয়ারিং)।
১৪পশ্চিমবঙ্গের দুটি কৃষি সমস্যার নাম লেখো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের কৃষি সমস্যা— (১) জমির খণ্ডিত জোত ও (২) বন্যা ও জলাবদ্ধতা।
১৫সুন্দরবনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।V.V.I
উত্তর
সুন্দরবন— (১) পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি এবং (২) রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল। UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্র।
১৬পশ্চিমবঙ্গের দুটি মিলিয়ন শহরের নাম লেখো।
উত্তর
কলকাতা ও হাওড়া পশ্চিমবঙ্গের দুটি প্রধান মিলিয়ন শহর।
১৭ভাগীরথী ও হুগলি নদীর সম্পর্ক লেখো।V.V.I
উত্তর
মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের কাছে গঙ্গা দুটি শাখায় ভাগ হয়— পূর্বে পদ্মা ও দক্ষিণে ভাগীরথী। ভাগীরথী নবদ্বীপের পর হুগলি নামে প্রবাহিত হয়।
১৮পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিমানবন্দরের নাম লেখো।
উত্তর
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কলকাতা) ও বাগডোগরা বিমানবন্দর (শিলিগুড়ি)।
১৯পশ্চিমবঙ্গের দুটি নদী বন্দরের নাম লেখো।
উত্তর
কলকাতা বন্দর (হুগলি নদীর তীরে) ও হলদিয়া বন্দর (হলদি নদীর তীরে)।
২০পশ্চিমবঙ্গের দুটি জাতীয় উদ্যানের নাম লেখো।
উত্তর
সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যান।
২১পশ্চিমবঙ্গের দুটি প্রধান রেলপথের নাম লেখো।
উত্তর
পূর্ব রেলওয়ে ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান দুটি রেল বিভাগ।
২২লু বাতাস কী?
উত্তর
গ্রীষ্মকালে পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাসকে লু বলে। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশে (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া) এর প্রভাব বেশি।
২৩পশ্চিমবঙ্গের দুটি মৃত্তিকার নাম ও প্রাপ্তিস্থান লেখো।V.V.I
উত্তর
পলিমাটি— গাঙ্গেয় সমভূমি (নদিয়া, মুর্শিদাবাদ)। ল্যাটেরাইট— পশ্চিম মালভূমি (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া)।
২৪পশ্চিমবঙ্গে কোন কোন ধরনের বনভূমি দেখা যায়?
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে প্রধানত তিন ধরনের বনভূমি— (১) পার্বত্য বনভূমি (দার্জিলিং), (২) পর্ণমোচী বনভূমি (মালভূমি), (৩) ম্যানগ্রোভ (সুন্দরবন)।
২৫উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগকারী সরু ভূখণ্ডের নাম কী?V.V.I
উত্তর
উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গকে সংযুক্তকারী সরু ভূখণ্ডটি হল শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন নেক।
২৬পশ্চিমবঙ্গের প্রধান অর্থকরী ফসল কী ও কোথায় চাষ হয়?
উত্তর
পাট পশ্চিমবঙ্গের প্রধান অর্থকরী ফসল। মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার জেলায় প্রধানত চাষ হয়।
২৭তরাই অঞ্চল কাকে বলে?
উত্তর
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সাময়িক জলাভূমি যুক্ত অঞ্চলকে তরাই বলে। এখানকার মাটি আর্দ্র ও উর্বর।
২৮পশ্চিমবঙ্গে কটি লোকসভা ও রাজ্যসভা আসন আছে?
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি লোকসভা ও ১৬টি রাজ্যসভা আসন আছে।
২৯পশ্চিমবঙ্গের দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম লেখো।
উত্তর
কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (পূর্ব মেদিনীপুর) ও ব্যান্ডেল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (হুগলি)।
৩০পশ্চিমবঙ্গের দুটি উল্লেখযোগ্য কুটির শিল্পের নাম লেখো।
উত্তর
বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির শিল্প (মৃৎশিল্প) এবং মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্প পশ্চিমবঙ্গের দুটি উল্লেখযোগ্য কুটির শিল্প।

সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো প্রশ্নমান ৩

১পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণ করো।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে সিকিম ও ভুটান, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বাংলাদেশ ও আসাম এবং পশ্চিমে নেপাল, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা। পশ্চিমবঙ্গের আয়তন ৮৮,৭৫২ বর্গ কিমি এবং এটি ভারতের একটি পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য।
২পশ্চিমবঙ্গের মালভূমির ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য লেখো।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশে ছোটনাগপুর মালভূমির সম্প্রসারিত অংশ দেখা যায়। এটি প্রাচীন শিলায় গঠিত, ক্ষয়প্রাপ্ত ঢেউ খেলানো ভূমিরূপ যুক্ত। এখানকার মাটি লালচে, ল্যাটেরাইট প্রকৃতির। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পশ্চিমাংশ এই অঞ্চলের অন্তর্গত।
৩উত্তরবঙ্গ সমভূমির ভূপ্রকৃতি লেখো।
উত্তর
উত্তরবঙ্গ সমভূমি হিমালয়ের পাদদেশে গঠিত পলল সমভূমি। এটি তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চল নিয়ে গঠিত। তরাই অঞ্চলে জলাভূমি ও ঘন বনভূমি দেখা যায়। ডুয়ার্স অঞ্চলে চা বাগান ও বনভূমি বিস্তৃত।
৪ল্যাটেরাইট মাটির বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার লেখো।
উত্তর
ল্যাটেরাইট মাটি ফেরিক অক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক সমৃদ্ধ। এটি লালচে রঙের, অম্লীয় প্রকৃতির ও জলে শক্ত হয়। এই মাটি ইট তৈরিতে ও রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
৫মাতলার জল নোনা কিন্তু দামোদরের নয়— কেন?V.V.I
উত্তর
মাতলা নদী সুন্দরবন অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মেশে, তাই সমুদ্রের লোনা জল জোয়ারের সময় এতে প্রবেশ করে। অন্যদিকে, দামোদর নদ ছোটনাগপুর মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে মিষ্টি জলের নদী হিসেবে প্রবাহিত হয়।
৬সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলির বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর
সুন্দরবন অঞ্চলে নদীগুলি জোয়ারভাটায় প্রভাবিত। জল নোনা, নদীতীরে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ইত্যাদি বন্যপ্রাণীর আবাস। নদীগুলি— মাতলা, গোসাবা, বিদ্যাধরী।
৭পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে সড়ক, রেল, জল ও বিমান— চার ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা আছে। জাতীয় সড়ক (NH), রাজ্য সড়ক, পূর্ব রেলওয়ে, কলকাতা মেট্রো, কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর এবং দমদম ও বাগডোগরা বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য।
৮পশ্চিমবঙ্গে চা শিল্প গড়ে ওঠার কারণ লেখো।V.V.I
উত্তর
দার্জিলিং ও ডুয়ার্স অঞ্চলে চা শিল্প গড়ে ওঠার কারণ— (১) পাহাড়ি ঢালু জমি, (২) উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু, (৩) পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত (১৫০-২৫০ সেমি), (৪) অম্লীয় মাটি এবং (৫) সস্তা শ্রমিক।
৯পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মালভূমি অঞ্চলের খনিজ সম্পদ সম্পর্কে লেখো।
উত্তর
পশ্চিম মালভূমি অঞ্চল কয়লা সমৃদ্ধ— রানিগঞ্জ কয়লাখনি ভারতের প্রাচীনতম। এছাড়া ম্যাঙ্গানিজ, ডলোমাইট, চুনাপাথর পাওয়া যায়। দুর্গাপুরে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।
১০দামোদর উপত্যকায় শিল্পোন্নয়নের কারণ লেখো।V.V.I
উত্তর
দামোদর উপত্যকায় কয়লা ও লৌহ আকরিকের প্রাচুর্য, DVC-র জলবিদ্যুৎ, পরিবহন সুবিধা এবং শ্রমিক সরবরাহের ফলে দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে।
১১পশ্চিমবঙ্গের নগরায়ণের সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত নগরায়ণের ফলে বাসস্থানের অভাব, বস্তি সমস্যা, পানীয় জলের অপ্রতুলতা, পরিবেশ দূষণ, যানজট, বায়ু ও শব্দ দূষণ এবং কর্মসংস্থানের অভাব দেখা যায়।
১২পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা বণ্টনের বৈষম্য আলোচনা করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যা অসমভাবে বণ্টিত। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় ঘনবসতি, পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলে বিরলবসতি। উর্বর গাঙ্গেয় সমভূমিতে জনঘনত্ব সর্বাধিক।
১৩পশ্চিমবঙ্গে ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ— (১) উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু (২০°-৩০°C), (২) পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত (১০০-২০০ সেমি), (৩) উর্বর পলিমাটি, (৪) সমতল ভূমি ও (৫) সেচের সুবিধা।
১৪পশ্চিমবঙ্গে পাটচাষের কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে পাটচাষের কারণ— (১) উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু, (২) উর্বর পলিমাটি, (৩) পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত জল, (৪) সস্তা শ্রমিক এবং (৫) হুগলি-তীরবর্তী পাটকলের চাহিদা।
১৫পশ্চিমবঙ্গে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণ লেখো।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণ— (১) রানিগঞ্জের কয়লা, (২) ঝাড়খণ্ড থেকে লৌহ আকরিক, (৩) DVC-র বিদ্যুৎ, (৪) রেল ও সড়ক পরিবহন সুবিধা এবং (৫) দুর্গাপুরে সরকারি উদ্যোগ।
১৬পশ্চিমবঙ্গের কৃষি সেচ ব্যবস্থা সম্পর্কে লেখো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের কৃষি সেচ ব্যবস্থায় খাল, নলকূপ, পুকুর ও নদী থেকে সেচ দেওয়া হয়। মায়ুরাক্ষী ক্যানাল, দামোদর ভ্যালি ক্যানাল এবং তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।
১৭পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিবহনের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে ৪টি জাতীয় সড়ক (NH-2, NH-34, NH-6, NH-31) আছে। গ্রামীণ ও শহর এলাকায় সড়ক পরিবহন মানুষ ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৮পশ্চিমবঙ্গের শিল্পে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের ভূমিকা আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
DVC ১৯৪৮ সালে গঠিত হয়। এটি দামোদর নদে বাঁধ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সেচের ব্যবস্থা করে। দুর্গাপুর ব্যারেজ, মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ DVC-র প্রকল্প।
১৯পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা আলোচনা করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে দার্জিলিং (পাহাড়), দীঘা ও মন্দারমণি (সমুদ্র সৈকত), সুন্দরবন (ম্যানগ্রোভ), বিষ্ণুপুর (মন্দির), শান্তিনিকেতন (সংস্কৃতি) প্রভৃতি পর্যটন কেন্দ্র আছে। এটি রাজ্যের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক।
২০পশ্চিমবঙ্গে বন্যার কারণ ও প্রতিকার আলোচনা করো।
উত্তর
কারণ— অতিবৃষ্টি, নদীর পলি জমা, বাঁধ ভাঙা ও জলনিকাশি সমস্যা। প্রতিকার— বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, জলাভূমি সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ।
২১পশ্চিমবঙ্গে ম্যানগ্রোভ বনভূমির গুরুত্ব আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমি ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করে, উপকূলীয় ক্ষয় রোধ করে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এবং মৎস্য চাষে সহায়তা করে। এটি UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্র।
২২পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য চাষের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টি জলের মৎস্য উৎপাদনে ভারতে প্রথম। নদী, পুকুর ও ভেড়িতে মাছ চাষ হয়। সুন্দরবনে চিংড়ি চাষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রোটিন সরবরাহ ও কর্মসংস্থানে সহায়ক।
২৩পশ্চিমবঙ্গের গ্রীষ্মকালের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর
গ্রীষ্মকাল (মার্চ-মে)— তাপমাত্রা ৩৫°-৪৫°C, আর্দ্রতা বেশি, পশ্চিমাংশে লু বাতাস প্রবাহিত হয়, কালবৈশাখী ঝড় হয়। পুরুলিয়ায় তাপমাত্রা সর্বাধিক। পার্বত্য অঞ্চলে তুলনামূলক শীতল।
২৪পশ্চিমবঙ্গের বর্ষাকালের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর)— দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বায়ু বহন করে আনে। বৃষ্টিপাত ১৫০-৩০০ সেমি। উত্তরবঙ্গে বেশি, পশ্চিমাংশে কম বৃষ্টিপাত হয়।
২৫পশ্চিমবঙ্গের শীতকালের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর
শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি)— উত্তর-পশ্চিম শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়। তাপমাত্রা ১০°-১৫°C। বৃষ্টিপাত কম। কুয়াশা দেখা যায়। পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাত হয়। দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা ০°C-র নীচে নামে।
২৬পশ্চিমবঙ্গে পাট শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা আলোচনা করো।
উত্তর
সমস্যা— কৃত্রিম তন্তুর প্রতিযোগিতা, পুরনো যন্ত্রপাতি, শ্রমিক অশান্তি, পাটের দাম ওঠানামা। সম্ভাবনা— পরিবেশবান্ধব হওয়ায় পাটের ব্যাগ ও পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, সরকারি উদ্যোগ।
২৭পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ কটি ও কী কী?V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ ৩টি— (১) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল (দার্জিলিং হিমালয়), (২) পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল (ছোটনাগপুর মালভূমি) এবং (৩) সমভূমি অঞ্চল (উত্তর সমভূমি, রাঢ় ও গাঙ্গেয় বদ্বীপ)।
২৮পশ্চিমবঙ্গের শক্তি সম্পদ সম্পর্কে লেখো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে তাপবিদ্যুৎ প্রধান— কোলাঘাট, ব্যান্ডেল, সাগরদিঘি, বকেশ্বর। জলবিদ্যুৎ— DVC প্রকল্প (মাইথন, পাঞ্চেত)। সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে।
২৯পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে কালবৈশাখীর প্রভাব আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল-মে) বিকেলের দিকে পশ্চিমবঙ্গে যে ঝড়-বৃষ্টি হয় তাকে কালবৈশাখী বলে। এটি সাময়িকভাবে গরম থেকে স্বস্তি দেয় এবং পাট ও আউশ ধান চাষে সাহায্য করে। তবে শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতিও হয়।
৩০পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পের সমস্যাগুলি কী কী?
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পের প্রধান সমস্যাগুলি হল— (১) পুরনো গাছ ও ফলন হ্রাস, (২) অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, (৩) শ্রমিক অসন্তোষ, এবং (৪) আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব।

রচনাধর্মী প্রশ্নাবলি প্রশ্নমান ৫

১পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ভিত্তি আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গ ভারতের পূর্বাঞ্চলে ২১°২৫' উ. থেকে ২৭°১৪' উ. অক্ষাংশে এবং ৮৬°৩০' পূ. থেকে ৮৯°৫০' পূ. দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের সময় বাংলা প্রদেশের পশ্চিম অংশ ভারতে থেকে যায়। ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠিত হয়। কোচবিহারের ভারতভুক্তি ও ফরাসী চন্দননগরের সংযুক্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রূপ তৈরি হয়। বর্তমানে ২৩টি জেলা ও ৭টি সম্ভাগে বিভক্ত।
২পশ্চিমবঙ্গের পর্বত অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে দার্জিলিং হিমালয় অবস্থিত যা পূর্ব হিমালয়ের অংশ। সান্দাকফু (৩৬৩৬ মি.) সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। সিঙ্গালীলা শৈলশিরা নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। এই অঞ্চলে চা বাগান, পাইন ও দেবদারু বনভূমি দেখা যায়। ভূমি খাড়াই ও ঢালু, বৃষ্টিপাত ৩০০-৫০০ সেমি, ধস ও ভূমিক্ষয় সমস্যা আছে। টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। পর্যটন শিল্প প্রধান আয়ের উৎস।
৩পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি অঞ্চলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাও।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের সমভূমিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়— (১) উত্তরবঙ্গ সমভূমি: তরাই ও ডুয়ার্স নিয়ে গঠিত, উর্বর পলিমাটি, চা বাগান ও বনভূমি সমৃদ্ধ। (২) রাঢ় সমভূমি: গঙ্গার পশ্চিম তীরে অবস্থিত, ঢেউ খেলানো ভূমি, লালচে মাটি। (৩) গাঙ্গেয় বদ্বীপ সমভূমি: গঙ্গা ও শাখানদীদের পলিমাটি দ্বারা গঠিত, অত্যন্ত উর্বর ও ঘনবসতিপূর্ণ। দক্ষিণে সুন্দরবন বদ্বীপ ম্যানগ্রোভ বনভূমিতে ঢাকা।
৪পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি ও মালভূমির তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর
সমভূমি— পলিমাটিতে গঠিত, সমতল ভূমিরূপ, কৃষিকাজে উন্নত, ঘনবসতি, ধান ও পাটের চাষ প্রধান, জলসম্পদে সমৃদ্ধ। মালভূমি— প্রাচীন শিলায় গঠিত, ঢেউ খেলানো, ল্যাটেরাইট মাটি, খনিজ সম্পদে (কয়লা, লোহা) সমৃদ্ধ, কৃষি কম উন্নত, বিরলবসতি। সমভূমি কৃষিনির্ভর, মালভূমি খনি ও বনজ সম্পদ নির্ভর। জলবায়ু— সমভূমিতে আর্দ্র, মালভূমিতে শুষ্ক।
৫পশ্চিমবঙ্গের হিমালয় ও সুন্দরবনের নদীগুলির তুলনা করো।V.V.I
উত্তর
হিমালয়ের নদী (তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, মহানন্দা)— বরফগলা জলে পুষ্ট, সারাবছর জল থাকে, দ্রুত স্রোত, পলি বহন ক্ষমতা বেশি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত। সুন্দরবনের নদী (মাতলা, গোসাবা, বিদ্যাধরী)— জোয়ারভাটায় প্রভাবিত, লোনা জল, ধীরগতি ও প্রশস্ত, ম্যানগ্রোভ বনভূমি বেষ্টিত, নৌ পরিবহনে ব্যবহৃত।
৬পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত উল্লেখ করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। গ্রীষ্মকালে (মার্চ-মে) তাপমাত্রা ৩৫°-৪৫°C, লু বাতাস ও কালবৈশাখী ঝড়। বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ১৫০-৩০০ সেমি বৃষ্টিপাত আনে। শরৎকালে (অক্টোবর-নভেম্বর) বৃষ্টিপাত কমে। শীতকালে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) তাপমাত্রা ১০°-১৫°C, কুয়াশা। পার্বত্য অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত।
৭পশ্চিমবঙ্গের বনভূমির বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে তিন ধরনের বনভূমি— (১) পার্বত্য বনভূমি: দার্জিলিং হিমালয়ে ওক, পাইন, দেবদারু, রডোডেনড্রন। (২) সমভূমির পর্ণমোচী বনভূমি: মালভূমি ও রাঢ় অঞ্চলে শাল, সেগুন, পলাশ, মহুয়া। (৩) ম্যানগ্রোভ বনভূমি: সুন্দরবনে সুন্দরী, গরান, গেওয়া, গোলপাতা। মোট আয়তনের প্রায় ১৪% বনভূমি। গোরুমারা ও জলদাপাড়া অভয়ারণ্য উল্লেখযোগ্য।
৮পশ্চিমবঙ্গের কৃষির বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত উল্লেখ করো।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গ কৃষিপ্রধান রাজ্য। প্রধান ফসল ধান (আমন, আউশ, বোরো), পাট, আখ, চা, আলু। বর্ধমান 'ধানের গোলা'। পাটচাষে ভারতে প্রথম। দার্জিলিং চা বিশ্ববিখ্যাত। সেচ ব্যবস্থা— খাল, নলকূপ, DVC প্রকল্প। কৃষি সমস্যা— খণ্ডিত জোত, বন্যা, জলাবদ্ধতা, সার ও বীজের অভাব। সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে।
৯পশ্চিমবঙ্গের শীতকাল ও গ্রীষ্মকালের জলবায়ুর তুলনা করো।
উত্তর
শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি)— উত্তর-পশ্চিম শুষ্ক বায়ু, তাপমাত্রা ১০°-১৫°C, বৃষ্টিপাত কম (২-৫ সেমি), কুয়াশা, পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাত। গ্রীষ্মকাল (মার্চ-মে)— তাপমাত্রা ৩৫°-৪৫°C, কালবৈশাখী ঝড়, আর্দ্রতা বেশি, লু বাতাস পশ্চিমাংশে, সমভূমিতে তীব্র গরম, পার্বত্য অঞ্চলে আরামদায়ক তাপমাত্রা।
১০পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ও পর্বত জলবায়ুর তুলনা করো।
উত্তর
উপকূল— সমুদ্রের প্রভাবে সমভাবাপন্ন, তাপমাত্রার পরিসর কম (৫°-৮°C), আর্দ্রতা বেশি, সামুদ্রিক বায়ু, ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা, বৃষ্টিপাত ১৫০-২০০ সেমি। পর্বত— উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে, বৃষ্টিপাত বেশি (৩০০-৫০০ সেমি), শীতকালে তুষারপাত, তাপমাত্রার পরিসর বেশি, চা চাষের উপযুক্ত।
১১পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের বিস্তারিত বিবরণ দাও।V.V.I
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ধরনের শিল্প আছে— (১) ভারী শিল্প: দুর্গাপুর ও বার্নপুরে লৌহ-ইস্পাত, হলদিয়ায় তৈলশোধন। (২) পাট শিল্প: হুগলি নদীর তীরে পাটকল। (৩) ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প: কলকাতা ও হাওড়ায়। (৪) IT শিল্প: সল্টলেক সেক্টর-V। (৫) চা শিল্প: দার্জিলিং ও ডুয়ার্স। (৬) কুটির শিল্প: বিষ্ণুপুরের মৃৎশিল্প, শান্তিনিকেতনের চর্মশিল্প।
১২পশ্চিমবঙ্গের নদনদীর বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের নদীগুলিকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়— (১) হিমালয়ের নদী: তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা— বরফগলা জলে পুষ্ট, সারাবছর জল থাকে। (২) মালভূমির নদী: দামোদর, কংসাবতী, অজয়, শিলাবতী— বৃষ্টিনির্ভর, গ্রীষ্মে শুকিয়ে যায়। (৩) গাঙ্গেয় নদী: ভাগীরথী-হুগলি, জলঙ্গি— গঙ্গার শাখানদী, সেচ ও পরিবহনে ব্যবহৃত। সুন্দরবনের নদী জোয়ারভাটা প্রভাবিত ও লোনা।
১৩পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ও জনবসতি সম্পর্কে বিস্তারিত লেখো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গ ভারতের চতুর্থ জনবহুল রাজ্য (জনসংখ্যা প্রায় ৯.১ কোটি, ২০১১)। জনঘনত্ব ১০২৯ জন/বর্গকিমি। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় সর্বাধিক ঘনবসতি। পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলে বিরলবসতি। সাক্ষরতা ৭৬.২৬%। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ কমছে। নগরায়ণ ক্রমবর্ধমান— কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ বাস করে।
১৪সুন্দরবন অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
সুন্দরবন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের দক্ষিণাংশে অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি (প্রায় ৯,৬৩০ বর্গকিমি)। UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্র। জীববৈচিত্র্য— রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, ডলফিন, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখি। প্রধান গাছ— সুন্দরী, গরান, গেওয়া, গোলপাতা। নদী— মাতলা, গোসাবা। গুরুত্ব— ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধ, উপকূলীয় ক্ষয় রোধ, মৎস্য সম্পদ ও পর্যটন শিল্প।
১৫পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে চার ধরনের পরিবহন— (১) সড়ক: NH-2, NH-34, NH-6 সহ বহু জাতীয় ও রাজ্য সড়ক। (২) রেল: পূর্ব রেলওয়ে, দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে, কলকাতা মেট্রো (ভারতের প্রথম)। (৩) জলপথ: কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর, অভ্যন্তরীণ জলপথ। (৪) বিমানপথ: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দমদম), বাগডোগরা বিমানবন্দর। কলকাতা মেট্রো ও ট্রাম শহরের পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার টিপস: পশ্চিমবঙ্গ অধ্যায়ে MCQ ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি আসে। সীমানা, নদী, জলবায়ু ও কৃষি সম্পর্কিত প্রশ্ন VVI। মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির অবস্থান, প্রধান নদী ও শহরগুলি চিহ্নিত করার অভ্যাস করো।

Comments

You must be signed in to join the discussion.

Loading comments...