অধ্যায় ৩ : বারিমণ্ডল (Hydrosphere)

WBBSE Class 10 Geography Chapter 3 বারিমণ্ডল : সম্পূর্ণ অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Geography Hydrosphere Solutions

WBBSE Class 10 Geography Chapter 3 বারিমণ্ডল Cover Feature Image

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) নির্ধারিত মাধ্যমিক দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ পাঠ্যবইয়ের তৃতীয় অধ্যায়: 'বারিমণ্ডল' (Hydrosphere)-এর পাঠ্যবই অনুশীলনী (পৃষ্ঠা ৬২ ও ৬৩)-র সমস্ত প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান এখানে উপস্থাপিত করা হলো।

অধ্যায়ের প্রধান দুটি স্তম্ভ—সমুদ্রস্রোত (Ocean Currents) এবং জোয়ার-ভাটা (Tides) সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নাবলি যেমন—সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি, উষ্ণ ও শীতল স্রোত, শৈবাল সাগর, মগ্নচড়া, হিমপ্রাচীর, চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ বল, সিজিগি (সংযোগ ও প্রতিযোগ), ভরা কোটাল ও মরা কোটাল, পেরিজি ও অ্যাপোজি অবস্থান, বানডাকা এবং মানবজীবনে ও জলবায়ুর ওপর এদের সুদূরপ্রসারী প্রভাবসমূহ বিজ্ঞানসম্মত রঙিন ভেক্টর ডায়াগ্রামের সাহায্যে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

অধ্যায় ৩ : বারিমণ্ডল (Hydrosphere)

A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি [MCQ]

প্রশ্নমান ১
১ব্রাজিল স্রোত সৃষ্টি হয়েছে —V.V.I
aউত্তর নিরক্ষীয় স্রোত থেকে
bদক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত থেকে
cউপসাগরীয় স্রোত থেকে
dনিরক্ষীয় প্রতিস্রোত থেকে
উত্তরBদক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত থেকে
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত পশ্চিমমুখী প্রবাহিত হয়ে ব্রাজিলের সেন্ট রোক অন্তরীপে বাধা পেয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে উষ্ণ ব্রাজিল স্রোত নামে প্রবাহিত হয়।
২শীতল ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত দেখা যায় —V.V.I
aপ্রশান্ত মহাসাগরে
bভারত মহাসাগরে
cকুমেরু মহাসাগরে
dআটলান্টিক মহাসাগরে
উত্তরAপ্রশান্ত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা: উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোতের একটি শাখা উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে শীতল ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত হিসেবে প্রবাহিত হয়।
৩ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত প্রবাহিত হয় —
aআটলান্টিক মহাসাগরে
bভারত মহাসাগরে
cপ্রশান্ত মহাসাগরে
dসুমেরু মহাসাগরে
উত্তরCপ্রশান্ত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা: ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে দক্ষিণমুখী প্রবাহিত একটি শীতল সমুদ্রস্রোত।
৪শীতল ল্যাব্রাডর ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের মিলনের ফলে ঘনকুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয় যে উপকূলে —V.V.I
aনিউফাউন্ডল্যান্ডে
bগিনি উপকূলে
cফ্লোরিডা উপকূলে
dপেরু উপকূলে
উত্তরAনিউফাউন্ডল্যান্ডে
ব্যাখ্যা: নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের সন্নিকটে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের ওপরের আর্দ্র উষ্ণ বাতাস ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের শীতল বায়ুর সংযোগে ঘন কুয়াশা ও ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়।
৫শীতল পেরু স্রোতের অপর নাম —V.V.I
aহামবোল্ড স্রোত
bএল-নিনো স্রোত
cলা-নিনা স্রোত
dওয়াশিও স্রোত
উত্তরAহামবোল্ড স্রোত
ব্যাখ্যা: বিখ্যাত জার্মান ভূগোলবিদ ও প্রকৃতিবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ভন হামবোল্টের নামানুসারে পেরু উপকূলের শীতল স্রোতকে হামবোল্ড স্রোত (Humboldt Current) বলা হয়।
৬কোন্ মহাসাগরে ঋতু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তিত হয়?V.V.I
aপ্রশান্ত মহাসাগরে
bআটলান্টিক মহাসাগরে
cসুমেরু মহাসাগরে
dভারত মহাসাগরে
উত্তরDভারত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা: ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে গ্রীষ্মকালীন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালীন উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর দিক বদলের সাথে সাথে সমুদ্রস্রোতের গতিপথ ১৮০° পরিবর্তিত হয়।
৭গ্র্যান্ড ব্যাংক মগ্নচড়া অবস্থিত যে মহাসাগরে —V.V.I
aআটলান্টিক মহাসাগরে
bপ্রশান্ত মহাসাগরে
cভারত মহাসাগরে
dসুমেরু মহাসাগরে
উত্তরAআটলান্টিক মহাসাগরে
ব্যাখ্যা: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকার নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে অগভীর সমুদ্রতলে অবস্থিত গ্র্যান্ড ব্যাংক পৃথিবীর বিখ্যাত মৎস্যক্ষেত্র।
৮পৃথিবীর ________ স্থান জুড়ে রয়েছে বারিমণ্ডল —
a60.5%
b70.2%
c71.4%
d75.0%
উত্তরC71.4%
ব্যাখ্যা: ভূপৃষ্ঠের মোট ক্ষেত্রফলের প্রায় ৭১.৪ শতাংশ অংশ বিভিন্ন মহাসাগর, সাগর, উপসাগর ও হ্রদ সমন্বিত জলভাগ বা বারিমণ্ডলের অন্তর্গত।
৯বেঙ্গুয়েলা স্রোত হল আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রবাহিত —V.V.I
a ঊর্ধ্বগামী শীতল স্রোত
bনিম্নমুখী উষ্ণ স্রোত
cনিম্নগামী শীতল স্রোত
dঊর্ধ্বমুখী উষ্ণ স্রোত
উত্তরAঊর্ধ্বগামী শীতল স্রোত
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ আটলান্টিকের কুমেরু প্রবাহের একটি শাখা আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ধরে উত্তর দিকে (নিরক্ষরেখার দিকে ঊর্ধ্বগামী) শীতল স্রোত রূপে প্রবাহিত হয়।
১০মরা কোটালের সময় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাপেক্ষে নিম্নলিখিত কোণে অবস্থান করে —V.V.I
a90°
b120°
c180°
d360°
উত্তরA90°
ব্যাখ্যা: শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য পরস্পর সমকোণে বা ৯০° কোণে অবস্থান করায় চাঁদের আকর্ষণের বিপরীতে সূর্যের আকর্ষণ কার্যকর হয়।
১১নদীতে বান ডাকে যে সময় —V.V.I
aভরা কোটাল
bমরা কোটাল
cগৌণ জোয়ার
dমুখ্য জোয়ার
উত্তরAভরা কোটাল
ব্যাখ্যা: অমাবস্যা ও পূর্ণিমার ভরা কোটালে সমুদ্রের জলস্ফীতি সর্বাধিক হওয়ায় নদী মোহনায় প্রবল জলোচ্ছ্বাসের আকারে বান ডাকে।
১২ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল প্রবলবেগে মোহনা দিয়ে নদীতে প্রবেশ করে, একে বলে —V.V.I
aসংযোগ
bপ্রতিযোগ
cবানডাকা
dঅ্যাপোজি
উত্তরCবানডাকা
ব্যাখ্যা: বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের প্রবল জোয়ারের জল উল্লম্ব জলপ্রাচীর তৈরি করে গর্জনসহ মোহনা দিয়ে উজানে প্রবেশ করলে তাকে 'বানডাকা' (Tidal Bore) বলে।
১৩একটি চান্দ্রমাসের দৈর্ঘ্য —
a27 1/3 দিন
b27 1/2 দিন
c30 দিন
d31 দিন
উত্তরA27 1/3 দিন
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর চারিদিকে চাঁদের একবার সম্পূর্ণ আবর্তন পরিক্রমণ সম্পন্ন করতে সময় লাগে প্রায় ২৭ ⅓ দিন বা ২৭ দিন ৭ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট।
১৪সর্বাধিক শক্তিশালী জোয়ার সংঘটিত হয় —V.V.I
aপূর্ণিমাতে
bঅমাবস্যায়
cঅষ্টমীতে
dসপ্তমীতে
উত্তরBঅমাবস্যায়
ব্যাখ্যা: অমাবস্যা তিথিতে (সংযোগ অবস্থান) সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর একই দিকে অবস্থান করায় উভয়ের মহাকর্ষীয় টান একমুখী ও পুঞ্জীভূত হয়ে সর্বাধিক শক্তিশালী জোয়ার ঘটায়।
১৫দক্ষিণ গোলার্ধে সমুদ্রস্রোত বামদিকে বিক্ষিপ্ত হয়, কারণ —V.V.I
aপৃথিবীর আবর্তন
bসমুদ্র জলের লবণতা
cসমুদ্র জলের উষ্ণতা
dঅভিকর্ষজ বল
উত্তরAপৃথিবীর আবর্তন
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর আবর্তনজনিত কোরিওলিস বলের প্রভাবে ফেরেলের সূত্রানুসারে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
১৬ভূপৃষ্ঠের কোনো একটি স্থানের জোয়ারের সঙ্গে ভাটার সময়ের পার্থক্য হল —V.V.I
a6 ঘণ্টা
b6 ঘণ্টা 13 মিনিট
c6 ঘণ্টা 30 মিনিট
d6 ঘণ্টা 45 মিনিট
উত্তরB6 ঘণ্টা 13 মিনিট
ব্যাখ্যা: একটি মুখ্য জোয়ারের ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পর গৌণ জোয়ার হয় এবং প্রতিটি জোয়ার ও তার পরবর্তী ভাটার মধ্যকার ব্যবধান হয় প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।
১৭সমুদ্রের যে স্থানে উষ্ণ ও শীতল স্রোত উভয়ে মিলিত হয় তাকে বলে —V.V.I
aহিমানী সম্প্রপাত
bহিমশৈল
cহিমপ্রাচীর
dহিমগুল্ম
উত্তরCহিমপ্রাচীর
ব্যাখ্যা: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনের ফলে রঙের বৈসাদৃশ্যে যে সুনির্দিষ্ট জলরেখা বা বিভাজন প্রাচীর চোখে পড়ে তাকে হিমপ্রাচীর (Cold Wall) বলে।

B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ)

প্রশ্নমান ১

▶ শূন্যস্থান পূরণ করো :

প্রশ্নমান ১
১সমুদ্রে ভাসমান বরফের স্তূপকে বলা হয় ________।
উত্তরহিমশৈল (Iceberg)
২পৃথিবীর আবর্তনজনিত ________ শক্তির ফলে সমুদ্রস্রোতের দিক বিক্ষেপ ঘটে।
উত্তরকোরিওলিস (Coriolis force)
৩________ স্রোতের প্রভাবে নিউফাউন্ডল্যান্ডে তুষারপাত হয়।
উত্তরশীতল ল্যাব্রাডর
৪________ স্রোত অন্তঃস্রোতরূপে প্রবাহিত হয়।
উত্তরশীতল
৫সমুদ্রের শীতল জল মেরু অঞ্চল থেকে ________ স্রোতরূপে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
উত্তরঅন্তঃস্রোত (বা শীতল স্রোত)
৭সমুদ্রের মাঝে স্রোতহীন আগাছাপূর্ণ অংশকে ________ বলে।
উত্তরশৈবাল সাগর (Sargasso Sea)
৮কুরোশিও হল ________ স্রোত।
উত্তরউষ্ণ
৯শীতল স্রোত সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে ________ রূপে প্রবাহিত হয়।
উত্তরঅন্তঃস্রোত (বা উষ্ণ স্রোত সমুদ্রপৃষ্ঠ দিয়ে বহিঃস্রোত রূপে)
১০চন্দ্র থেকে পৃথিবীর দূরত্ব যখন 3.56 লক্ষ কিমি হয় তখন তাকে ________ অবস্থান বলে।
উত্তরপেরিজি (Perigee)

▶ শুদ্ধ-অশুদ্ধ নির্বাচন করো :

প্রশ্নমান ১
১গ্র্যান্ড ব্যাংক স্থানটি বাণিজ্যিক মৎস্য চাষের জন্য বিখ্যাত।
উত্তরঅশুদ্ধ (F)
সঠিক উত্তর: গ্র্যান্ড ব্যাংক বাণিজ্যিক মৎস্য শিকারের (Fishing Ground) প্রাকৃতিক ক্ষেত্র, এটি মৎস্য চাষ বা অ্যাকোয়াকালচার নয়।
২বেরিং স্রোত একটি উষ্ণস্রোত।
উত্তরঅশুদ্ধ (F)
সঠিক উত্তর: সুমেরু মহাসাগর থেকে বেরিং প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত বেরিং স্রোত একটি শীতল স্রোত।
৩ভারত মহাসাগরে শৈবাল সাগর দেখা যায়।
উত্তরঅশুদ্ধ (F)
সঠিক উত্তর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে শান্ত ঘূর্ণাবর্তে শৈবাল সাগর দেখা যায়; ভারত মহাসাগরে নয়।
৪গ্র্যান্ড ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক মৎস্য শিকার কেন্দ্র।
উত্তরশুদ্ধ (T)
৫হিমপ্রাচীর বরাবর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া দেখা যায়।
উত্তরশুদ্ধ (T)
৬প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট এল-নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে খরার সৃষ্টি হয়।
উত্তরঅশুদ্ধ (F)
সঠিক উত্তর: এল-নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু-ইকুয়েডর উপকূলে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয় এবং ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা সৃষ্টি হয়।
৭পেরু স্রোতের অপর নাম হামবোল্ড স্রোত।
উত্তরশুদ্ধ (T)
৮উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ বরফমুক্ত থাকে।
উত্তরশুদ্ধ (T)
১১পশ্চিমবঙ্গের হুগলি নদীতে বান ডাকে।
উত্তরশুদ্ধ (T)
১২পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের মহাকর্ষ বল বেশি।
উত্তরশুদ্ধ (T)
ব্যাখ্যা: চাঁদ পৃথিবীর অনেক নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এর জোয়ার সৃষ্টিকারী ক্ষমতা সূর্যের প্রায় ২.২ গুণ বেশি।
১৩প্রতি মাসে গড়ে দুইবার মরা কোটাল হয়।
উত্তরশুদ্ধ (T)
ব্যাখ্যা: প্রতি চান্দ্রমাসে শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে দু-বার মরা কোটাল ঘটে।
১৪মুখ্য জোয়ারের প্রতিপাদ স্থানে গৌণ জোয়ার হয়।
উত্তরশুদ্ধ (T)
১৫চাঁদ ও সূর্যের সমকোণে অবস্থানের জন্য মরা কোটাল হয়।
উত্তরশুদ্ধ (T)
১৬শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে সমুদ্রে ভরা কোটাল দেখা যায়।
উত্তরঅশুদ্ধ (F)
সঠিক উত্তর: অষ্টমী তিথিতে মরা কোটাল হয়; অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় ভরা কোটাল হয়।
১৭গোদাবরী নদী গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
উত্তরঅশুদ্ধ (F)
সঠিক উত্তর: নর্মদা ও তাপ্তি নদী গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত; গোদাবরী নদী নয়।
১৮সূর্য ও চন্দ্র যখন পৃথিবীর সঙ্গে এক সমকোণে থাকে তখন সিজিগি হয়।
উত্তরঅশুদ্ধ (F)
সঠিক উত্তর: চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলে তাকে সিজিগি বলে; সমকোণে থাকলে তাকে কোয়াড্রেচার বলে।

▶ বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভ মেলাও :

প্রশ্নমান ১ × ৪ = ৪

বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভ মেলাও :

বামস্তম্ভ ডানস্তম্ভ (সঠিক মিল)
১. ওয়াশিও স্রোত→ d. জাপান
২. বেঙ্গুয়েলা স্রোত→ a. কালাহারি মরুভূমি
৩. চাঁদের পরিক্রমণ→ b. 27 1/3 দিন
৪. গৌণ জোয়ার→ c. 12 ঘণ্টা 26 মিনিট

▶ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও :

প্রশ্নমান ১
১হিমপ্রাচীর কোন্ মহাসাগরে দেখা যায়?
উত্তরউত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে (ল্যাব্রাডর ও উপসাগরীয় স্রোতের মিলনস্থলে)।
২ক্রান্তীয় সমুদ্রে কোন্ ধরনের সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি হয়?
উত্তরউষ্ণ সমুদ্রস্রোত (বহিঃস্রোত)।
৩কোন্ কোন্ স্রোতের মিলিত প্রবাহের নাম আগুলাহাস স্রোত?
উত্তরমোজাম্বিক স্রোত ও মাদাগাস্কার স্রোতের মিলিত প্রবাহ।
৪আটলান্টিক মহাসাগরের বেঙ্গুয়েলা স্রোতের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরের কোন্ স্রোতের মিল আছে?
উত্তরশীতল পেরু স্রোত (হামবোল্ড স্রোত)।
৫নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
উত্তরউত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের কারণে পশ্চিম প্রান্তে জলরাশির সঞ্চয় ও বিপরীতমুখী ঢাল সৃষ্টি।
৬সোমালি স্রোত কোন্ মহাসাগরে প্রবাহিত হয়?
উত্তরভারত মহাসাগরে (আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে)।
৭মহাসাগরের 'থার্মাল রেগুলেটর' কাকে বলে?
উত্তরসমুদ্রস্রোতকে (উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণকারী প্রাকৃতিক মাধ্যম)।
৮শীতকালে উত্তর পশ্চিম ইউরোপের বন্দরগুলি কোন্ উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে বরফমুক্ত থাকে?
উত্তরউত্তর আটলান্টিক উষ্ণ স্রোত (North Atlantic Drift)।

C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

প্রশ্নমান ২
১সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরনিয়ত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন গতি এবং সমুদ্রজলের উষ্ণতা ও ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে সমুদ্রের জলরাশি যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে একটি নির্দিষ্ট দিকে ও নিয়মিতভাবে অনুভূমিক তলে প্রবাহিত হয়, তখন সেই জলপ্রবাহকে সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।
উদাহরণ: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত, শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত।
২মৌসুমি স্রোত (Monsoon Current) কী?V.V.I মান: ২
উত্তরউত্তর ভারত মহাসাগরে মৌসুমি বায়ুর ঋতুভিত্তিক দিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যে সমুদ্রস্রোতের প্রবাহের দিক সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে যায়, তাকে মৌসুমি স্রোত (Monsoon Current) বলে।
• গ্রীষ্মকালে: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জলরাশি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় (দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি স্রোত)।
• শীতকালে: উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জলরাশি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয় (উত্তর-পূর্ব মৌসুমি স্রোত)।
৩মগ্নচড়া (Submarine Bank) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরমহাদেশীয় প্রান্তসীমার অগভীর সমুদ্রমঞ্চে (মহীসোপানে) শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে গেলে হিমশৈলের সাথে থাকা বালি, কাদা, নুড়ি ও পাথর সমুদ্রের তলদেশে যুগ যুগ ধরে জমা হয়ে যে অগভীর চড়া বা বালুকাভূমির সৃষ্টি করে, তাকে মগ্নচড়া (Bank) বলে।
উদাহরণ: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলের 'গ্র্যান্ড ব্যাংক' ও 'ডগার্স ব্যাংক'।
৪হিমশৈল (Iceberg) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরউচ্চ অক্ষাংশের মেরু অঞ্চলে মহাদেশীয় বা পার্বত্য হিমবাহের শেষ প্রান্ত সমুদ্রের জলে এসে পৌঁছালে তরঙ্গের আঘাতে ভেঙে গিয়ে সমুদ্রের নোনা জলে ভাসমান বিশাল বরফের খণ্ডকে হিমশৈল (Iceberg) বলে।
বৈশিষ্ট্য: হিমশৈলের মোট আয়তনের মাত্র ১/৯ ভাগ জলের ওপরে দৃশ্যমান থাকে এবং বাকি ৮/৯ ভাগ অংশ জলের নিচে নিমজ্জিত থাকে, যা সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য চরম বিপজ্জনক (যেমন টাইটানিক জাহাজের দুর্ঘটনা)।
৫হিমপ্রাচীর (Cold Wall) কী?V.V.I মান: ২
উত্তরউত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর দিক থেকে আগত গাঢ় সবুজ বর্ণের শীতল ও ভারী ল্যাব্রাডর স্রোত এবং দক্ষিণ দিক থেকে আগত ঘন নীল বর্ণের হালকা উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত যখন পাশাপাশি বিপরীতমুখী প্রবাহিত হয়, তখন তাদের সংযোগস্থলে তাপ ও ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা বা প্রাচীর দৃশ্যমান হয়। একে হিমপ্রাচীর (Cold Wall) বলে।
৬সমুদ্রতরঙ্গ (Sea Wave) কাকে বলে? মান: ২
উত্তরসমুদ্রের উপরিভাগে প্রধানত বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষণের ফলে জলরাশি স্থান পরিবর্তন না করে কেবল উল্লম্বভাবে চক্রাকার বৃত্তপথে ওঠানামা করার প্রক্রিয়াকে সমুদ্রতরঙ্গ (Sea Wave) বলে।
(উল্লেখ্য: সমুদ্রতরঙ্গে জলকণাগুলি নিজ স্থানেই আন্দোলিত হয়, জলের কোনো স্থায়ী অনুভূমিক স্থানান্তর ঘটে না)।
৭শীতল স্রোত (Cold Current) কাকে বলে? মান: ২
উত্তরমেরু ও উচ্চ অক্ষাংশের শীতল ও লবণাক্ত অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত ভারী জল সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অন্তঃস্রোতরূপে অথবা উপকূলরেখা ধরে পৃষ্ঠস্রোতরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হলে তাকে শীতল স্রোত (Cold Current) বলে।
উদাহরণ: শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত, পেরু স্রোত (হামবোল্ড স্রোত), বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
৮জায়র বা চক্রগতি (Ocean Gyre) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরকোরিওলিস বল, নিয়ত বায়ুপ্রবাহ ও উপকূলীয় ভূখণ্ডের বাধার ফলে প্রতিটি মহাসাগরে সমুদ্রস্রোতগুলি একটি বিশাল বৃত্তাকার চক্রপথে অবিরত আবর্তিত হতে থাকে। সমুদ্রস্রোতের এই বিশাল বৃত্তাকার চক্রগতিকে জায়র (Gyre) বলে।
উত্তর গোলার্ধে জায়র ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে (Anticlockwise) আবর্তিত হয়।
৯জোয়ারভাটা (Tide) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরচন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে সমুদ্র ও মোহনার জলরাশির নির্দিষ্ট সময় অন্তর (প্রতি ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পর পর) নিয়মিতভাবে ছন্দোবদ্ধ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Flood Tide) এবং নেমে যাওয়া বা অবনমনকে ভাটা (Ebb Tide) বলে।
১০সংযোগ ও প্রতিযোগ কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরসূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় অবস্থান করে (সিজিগি), তখন:
১. সংযোগ (Conjunction): অমাবস্যা তিথিতে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করে (সূর্য — চাঁদ — পৃথিবী), তখন তাকে সংযোগ বলে।
২. প্রতিযোগ (Opposition): পূর্ণিমা তিথিতে যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে (সূর্য — পৃথিবী — চাঁদ), তখন তাকে প্রতিযোগ বলে।
১১উচ্চ জোয়ার ও নিম্ন জোয়ার কাকে বলে? মান: ২
উত্তর১. উচ্চ জোয়ার বা ভরা কোটাল (Spring Tide): অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত বা বিপরীতমুখী যৌথ আকর্ষণে সমুদ্রজলের স্ফীতি যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ২০% বেশি) হয়, তাকে উচ্চ জোয়ার বা ভরা কোটাল বলে।
২. নিম্ন জোয়ার বা মরা কোটাল (Neap Tide): শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাপেক্ষে সমকোণে থাকায় বিপরীতমুখী টানের কারণে জলস্ফীতি যখন সবচেয়ে কম হয়, তাকে নিম্ন জোয়ার বা মরা কোটাল বলে।
১২খাঁড়াবাঁড়ি বান (Tidal Bore) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরবর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের প্রবল জোয়ারের জল অগভীর ও ফানেল আকৃতির নদী মোহনায় প্রবেশ করার পর নদীখাত ক্রমশ সংকীর্ণ হলে জলরাশি তীব্র তরঙ্গের আকার ধারণ করে। এই জলস্ফীতি যখন খাড়া জলদেওয়ালের মতো সশব্দে মোহনা থেকে নদীর উজানের দিকে ধেয়ে আসে, তখন তাকে খাঁড়াবাঁড়ি বান বা বানডাকা (Tidal Bore) বলে।
উদাহরণ: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি নদী ও আমাজন নদীর বানডাকা (পোরেরোকা)।
১৩সিজিগি (Syzygy) কী?V.V.I মান: ২
উত্তরমহাকাশে সূর্য, চন্দ্র এবং পৃথিবী যখন কক্ষপথ পরিক্রমণকালে কেন্দ্র বরাবর একই সরলরেখায় (১৮০° কোণে) অবস্থান করে, তখন সেই সরলরৈখিক মহাজাগতিক অবস্থানকে সিজিগি (Syzygy) বলা হয়।
সিজিগি দুটি রূপে ঘটে: (i) অমাবস্যা তিথিতে সংযোগ এবং (ii) পূর্ণিমা তিথিতে প্রতিযোগ। এই অবস্থানে সর্বদা তীব্র ভরা কোটাল ঘটে।
১৪'অ্যাপোজি জোয়ার' (Apogean Tide) বলতে কী বোঝো?V.V.I মান: ২
উত্তরউপবৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তনের সময় পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সর্বাধিক (প্রায় ৪ লক্ষ ৭ হাজার কিলোমিটার) হয়, তখন সেই মহাজাগতিক অবস্থানকে অ্যাপোজি (Apogee) বলে।
চাঁদ সবচেয়ে দূরে অবস্থান করায় এর মহাকর্ষীয় টান দুর্বল হয়, ফলে এই সময়ে সংঘটিত জোয়ারের তীব্রতা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে প্রায় ২০% কম হয়। একেই অ্যাপোজি জোয়ার (Apogean Tide) বলে।

D. ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

প্রশ্নমান ৩
১সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোতের মধ্যে পার্থক্য কী? মান ৩
উত্তরসমুদ্রতরঙ্গ এবং সমুদ্রস্রোতের মধ্যে প্রধান প্রধান পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:
তুলনার বিষয় সমুদ্রতরঙ্গ (Sea Wave) সমুদ্রস্রোত (Ocean Current)
১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশির কোনো স্থান পরিবর্তন না করে একই স্থানে চক্রাকার উল্লম্ব ওঠানামা হলো সমুদ্রতরঙ্গ। সমুদ্রের বিপুল জলরাশির এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়মিত অনুভূমিক স্থানান্তর হলো সমুদ্রস্রোত।
২. উৎপত্তির কারণ প্রধানত সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর ঘর্ষণজনিত আলোড়ন ও উপকূলের অগভীরতা তরঙ্গের প্রধান কারণ। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন গতি (কোরিওলিস বল) ও সমুদ্রজলের ঘনত্ব-উষ্ণতার পার্থক্য এর কারণ।
৩. জলের সঞ্চালন জলকণাগুলি কেবল বৃত্তাকার কক্ষপথে আন্দোলিত হয়; জলের কোনো স্থায়ী নির্গমন হয় না। নদীর প্রবাহের মতো সমুদ্রের জল নির্দিষ্ট দিকে এক স্থান থেকে বহুদূরে প্রবাহিত হয়।
৪. প্রভাব প্রধানত সমুদ্র উপকূলে ক্ষয়কার্য ও সঞ্চয়কার্য চালিয়ে বিভিন্ন উপকূলীয় ভূমিরূপ সৃষ্টি করে। উপকূলের জলবায়ু, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং মৎস্যক্ষেত্র সৃষ্টিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
২নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে ঘনকুয়াশা সৃষ্টি হয় কেন? মান ৩
উত্তরউত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের সন্নিকটে সারা বছর ধরে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝা সৃষ্টির কারণগুলি হলো:
১. বিপরীতমুখী দুই স্রোতের মিলন: সুমেরু অঞ্চল থেকে আগত শীতল ও ভারী ল্যাব্রাডর স্রোত এবং দক্ষিণ দিক থেকে আগত হালকা ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের মিলন ঘটে নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে।
২. জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের ওপরের আর্দ্র উষ্ণ বাতাস যখন শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সংস্পর্শে আসে, তখন উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে শিশিরাঙ্কে পৌঁছায় এবং বাতাসের বিপুল জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ভেসে থাকে, ফলে চারিদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়।
৩. ঘূর্ণবাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: উষ্ণ ও শীতল বায়ুপুঞ্জের উষ্ণতার বৈসাদৃশ্যে এখানে একটি স্থায়ী সীমান্ত (Front) গঠিত হয় যা প্রায়শই প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি করে, যা জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৩শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) কী এবং কীভাবে সৃষ্টি হয়? মান ৩
উত্তরশৈবাল সাগরের সংজ্ঞা: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যভাগে চারটি প্রধান সমুদ্রস্রোতের চক্রাকার আবর্তনের কেন্দ্রে সৃষ্টি হওয়া স্রোতহীন, শান্ত এবং বিশেষ সামুদ্রিক আগাছা বা শৈবালে পূর্ণ বিস্তীর্ণ জলভাগকে শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) বলে।

সৃষ্টির কারণ ও প্রক্রিয়া:
১. সমুদ্রস্রোতের চক্রাকার আবর্তন (জায়র): উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে দক্ষিণে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত, পশ্চিমে উপসাগরীয় স্রোত, উত্তরে উত্তর আটলান্টিক স্রোত এবং পূর্বে ক্যানারি শীতল স্রোত ঘড়ির কাঁটার দিকে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে একটি বিশাল জলচক্র বা জায়র (Gyre) তৈরি করে।
২. স্থির ও স্রোতহীন শান্ত বলয়: এই চারটি স্রোতের বৃত্তাকার প্রবাহের ঠিক কেন্দ্রস্থলে প্রায় ২০°–৪০° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৩৫°–৭০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে একটি স্রোতহীন, স্থির ও শান্ত জলাবর্ত সৃষ্টি হয়।
৩. সারগাসাম শৈবালের পুঞ্জীভবন: স্রোতহীন শান্ত জলে স্প্যানিশ শব্দ 'সারগাজো' (Sargazo) থেকে নাম পাওয়া মূলহীন, বাদামি রঙের ভাসমান আগাছা ও শৈবাল (Sargassum) দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে জমা হতে থাকে। কোনো উপকূলীয় ভূখণ্ড না থাকা সত্ত্বেও এটি একটি স্বতন্ত্র শৈবালময় সামুদ্রিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রস্রোত ও শৈবাল সাগর ডায়াগ্রাম
চিত্র: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বৃত্তাকার সমুদ্রস্রোত (জায়র), শৈবাল সাগর এবং নিউফাউন্ডল্যান্ড মগ্নচড়া
৪প্লাঙ্কটনের গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো। মান ৩
উত্তরসমুদ্রের জলে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীবদের প্লাঙ্কটন (Plankton) বলে; যা উদ্ভিদজাত (ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন) এবং প্রাণীজাত (জুপ্ল্যাঙ্কটন) হতে পারে। সমুদ্রে প্লাঙ্কটনের অপরিসীম গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি: ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন সূর্যের আলো ও পুষ্টির সাহায্যে সালোকসংশ্লেষ ঘটিয়ে খাদ্য তৈরি করে, যা সমগ্র সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম পুষ্টিস্তর বা ভিত্তি রচনা করে।
২. মাছের প্রধান খাদ্য: প্লাঙ্কটন হলো কড, হেরিং, স্যামন প্রভৃতি বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন মাছের মূল খাদ্য। যেখানে প্লাঙ্কটনের প্রাচুর্য থাকে (যেমন অগভীর মগ্নচড়াগুলিতে), সেখানেই কোটি কোটি মাছ খাদ্যের সন্ধানে সমবেত হয়।
৩. পৃথিবীর অক্সিজেন উৎপাদন: বায়ুমণ্ডলের মোট অক্সিজেনের প্রায় ৫০% এরও বেশি উৎপন্ন হয় সামুদ্রিক ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে।
৪. মৎস্য শিকারের বিকাশ: পৃথিবীর বিখ্যাত মৎস্যক্ষেত্রগুলি (যেমন গ্র্যান্ড ব্যাংক, ডগার্স ব্যাংক) গড়ে ওঠার পেছনে প্রধান ভূমিকা প্লাঙ্কটনের প্রাচুর্যের।
৫অন্তঃস্রোত ও বহিঃস্রোতের মধ্যে পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তরসমুদ্রজলের গভীরতা ও প্রবাহের স্তরের ভিত্তিতে অন্তঃস্রোত ও বহিঃস্রোতের প্রধান পার্থক্যসমূহ:
তুলনার বিষয় বহিঃস্রোত (Surface Current) অন্তঃস্রোত (Deep Undercurrent)
১. প্রবাহের স্তর সমুদ্রের উপরিভাগ বা পৃষ্ঠদেশ দিয়ে অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের বহু নিচে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
২. জলের প্রকৃতি ও তাপমাত্রা প্রধানত ক্রান্তীয় ও নিরক্ষীয় অঞ্চলের হালকা, উষ্ণ ও কম ঘনত্বের জল। মেরু অঞ্চলের অত্যন্ত শীতল, ভারী ও অধিক লবণাক্ত জল।
৩. প্রবাহের অভিমুখ নিরক্ষরেখার উষ্ণ অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে পৃষ্ঠদেশ দিয়ে যায়। মেরু অঞ্চল থেকে নিরক্ষরেখার দিকে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে ধাবিত হয়।
৪. দৃশ্যমানতা জাহাজ চলাচল বা চাক্ষুষভাবে এর প্রবাহ ও দিক নির্ণয় করা যায়। এটি খালি চোখে অদৃশ্য, কেবল গভীরতার জলের তাপমাত্রা ও লবণতা মেপে চিহ্নিত করা যায়।
৬নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূল বা গ্র্যান্ড ব্যাংক মৎস্য শিকারের জন্য বিখ্যাত কেন? মান ৩
উত্তরউত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে নিউফাউন্ডল্যান্ডের গ্র্যান্ড ব্যাংক অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যমুখী মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে খ্যাতি অর্জনের প্রধান কারণগুলি হলো:
১. অগভীর মগ্নচড়ার উপস্থিতি: মহাদেশীয় মহীসোপানের অংশ হিসেবে এখানকার সমুদ্রের গভীরতা ২০০ মিটারেরও কম। ফলে সূর্যালোক সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
২. হিমশৈল গলন ও পুষ্টি সঞ্চয়: শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সাথে আগত হিমশৈল উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের তাপে গলে গিয়ে তার মধ্যকার খনিজ পুষ্টি উপাদান সমুদ্রতলে অবক্ষেপণ করে।
৩. বিপুল প্লাঙ্কটন জন্ম: নাতিশীতোষ্ণ উপযুক্ত তাপমাত্রা ও অগভীর জলের পর্যাপ্ত আলোর কারণে এখানে মাছের প্রিয় খাদ্য 'ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন' ও 'জুপ্ল্যাঙ্কটন' অবিশ্বাস্য পরিমাণে জন্মায়।
৪. মৎস্যের সমাবেশ: খাদ্যের লোভে ঝাঁকে ঝাঁকে কড, হ্যাডক, হেরিং, ম্যাকারেল প্রভৃতি মূল্যবান সামুদ্রিক মাছ এখানে ডিম পাড়তে ও বংশবৃদ্ধি করতে ভিড় জমায়।
৫. অনুকূল জলবায়ু: নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া মাছ সংরক্ষণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করে।
৭জাপান উপকূল সারাবছর কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে কেন? মান ৩
উত্তরজাপানের পূর্ব উপকূলে সারা বছর ঘন কুয়াশা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টির ভৌগোলিক কারণ হলো:
১. বিপরীতধর্মী স্রোতের মিলন: উত্তর দিক থেকে বেরিং সাগর হয়ে নেমে আসা অতিশীতল ওয়াশিও (বা ওয়াসিও) স্রোত এবং দক্ষিণ দিক থেকে উঠে আসা উষ্ণ কুরোশিও স্রোতের মুখোমুখি মিলন ঘটে জাপান উপকূলের কাছে।
২. আর্দ্র বায়ুর দ্রুত ঘনীভবন: উষ্ণ কুরোশিও স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ুপুঞ্জ শীতল ওয়াশিও স্রোতের সংস্পর্শে এলে উষ্ণতা দ্রুত হ্রাস পেয়ে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ঝুলন্ত জলকণায় পরিণত হয়।
৩. এই ঘনীভূত জলকণা বায়ুমণ্ডলে পুঞ্জীভূত হয়ে জাপান উপকূলকে সারাবছর ঘন কুয়াশায় ঢেকে রাখে এবং সেখানে প্রায়শই সামুদ্রিক ঝড়ঝঞ্ঝা দেখা দেয়।
৮নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত (Equatorial Counter Current) কীভাবে সৃষ্টি হয়? মান ৩
উত্তরনিরক্ষরেখার ঠিক শান্ত বলয়ে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত বিপরীতমুখী সমুদ্রস্রোতকে নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত বলে। এটি সৃষ্টির কারণগুলি হলো:
১. জলের সঞ্চয় ও উচ্চতা বৃদ্ধি: আয়ন বায়ুর প্রভাবে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে (যেমন আমেরিকার বা এশিয়ার উপকূলে) বিপুল পরিমাণ জল জমায়েত করে, ফলে পশ্চিম প্রান্তে সমুদ্রতলের উচ্চতা পূর্ব প্রান্তের চেয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে জলের ঢাল সৃষ্টি করে।
২. মাধ্যাকর্ষণিক ভারসাম্য রক্ষা: এই উঁচু জলস্তর বজায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় মাধ্যাকর্ষণের টানে অতিরিক্ত জলরাশি নিরক্ষরেখার শান্ত বলয় (Doldrums) বরাবর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বিপরীতমুখে ফিরে আসে।
৩. শান্ত বলয়ের প্রভাব: নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ে বায়ুর বাধা কম থাকায় এই জলরাশি নির্বিঘ্নে পূর্বমুখী প্রতিস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়।
৯উপসাগরীয় স্রোত (Gulf Stream) কীভাবে সৃষ্টি হয়? মান ৩
উত্তরউত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিখ্যাত উষ্ণ স্রোত হলো উপসাগরীয় স্রোত। এটি যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে:
১. মেক্সিকো উপসাগরে জল সঞ্চয়: উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের মিলিত শাখা ক্যারিবিয়ান সাগর অতিক্রম করে মেক্সিকো উপসাগরে প্রবেশ করে এবং সেখানে সংকীর্ণ জলভাগে অবরুদ্ধ হয়ে উত্তপ্ত হয়।
২. ফ্লোরিডা প্রণালী দিয়ে নির্গমন: মেক্সিকো উপসাগরের জলস্তর আটলান্টিকের চেয়ে উঁচু হয়ে পড়ায় সেই বিপুল উষ্ণ জলরাশি প্রবল বেগে সরু ফ্লোরিডা প্রণালী দিয়ে বহির্গত হয়ে ফ্লোরিডা স্রোত রূপে উত্তরমুখী প্রবাহিত হয়।
৩. উপসাগরীয় স্রোত রূপ ধারণ: ফ্লোরিডা স্রোত উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় অ্যান্টিলেস স্রোতের সাথে মিলিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ উপসাগরীয় স্রোত (Gulf Stream) নামে প্রবাহিত হয়।
১১জোয়ারভাটা ও সমুদ্রস্রোতের মধ্যে পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তরজোয়ারভাটা এবং সমুদ্রস্রোতের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:
তুলনার বিষয় জোয়ারভাটা (Tide) সমুদ্রস্রোত (Ocean Current)
১. সংজ্ঞা চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমুদ্রজলের ছন্দোবদ্ধ উত্থান-পতন। নির্দিষ্ট দিকে সমুদ্রের বিপুল জলরাশির নিয়মিত অনুভূমিক প্রবাহ।
২. প্রধান কারণ চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় টান এবং পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন (কোরিওলিস বল) ও জলের ঘনত্বের তারতম্য।
৩. সময়কাল নিয়মিত ছন্দোবদ্ধ (প্রতি ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিটে জোয়ার এবং ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিটে ভাটা)। সারা বছর ধরে অবিরতভাবে একটি নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত থাকে।
৪. প্রভাব এলাকা প্রধানত উপকূলবর্তী অঞ্চল, খাড়ি ও নদী মোহনায় এর প্রভাব প্রত্যক্ষ ও তীব্র। সমগ্র মহাসাগর জুড়ে মহাদেশীয় জলবায়ু ও সামুদ্রিক প্রাণিজগতে প্রভাব ফেলে।
১২মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তরমুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে পার্থক্যসমূহ:
তুলনার বিষয় মুখ্য জোয়ার (Primary Tide) গৌণ জোয়ার (Secondary Tide)
১. অবস্থান পৃথিবীর যে অংশ পরিক্রমণরত চাঁদের ঠিক সম্মুখে সরাসরি অবস্থান করে। মুখ্য জোয়ারের ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত প্রতিপাদ স্থানে (Antipode)।
২. সৃষ্টির কারণ চাঁদের প্রত্যক্ষ ও তীব্র মহাকর্ষীয় আকর্ষণের ফলে ঘটে। পৃথিবীর নিজের অক্ষের ওপর ঘূর্ণনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের (Centrifugal force) প্রভাবে ঘটে।
৩. জলস্ফীতির মাত্রা আকর্ষণ বল প্রত্যক্ষ হওয়ায় জলস্ফীতির মাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবের কারণে জলস্ফীতির মাত্রা মুখ্য জোয়ারের চেয়ে কিছুটা কম হয়।
মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ার ডায়াগ্রাম
চিত্র: মুখ্য জোয়ার (চাঁদের আকর্ষণ) ও গৌণ জোয়ার (কেন্দ্রাতিগ বল) সৃষ্টির প্রক্রিয়া
১৩পেরিজি ও অ্যাপোজির মধ্যে পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তরচাঁদের কক্ষপথীয় অবস্থানের নিরিখে পেরিজি ও অ্যাপোজির পার্থক্য:
তুলনার বিষয় পেরিজি অবস্থান (Perigee) অ্যাপোজি অবস্থান (Apogee)
১. দূরত্ব চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম থাকে (প্রায় ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার কিমি)। চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে (প্রায় ৪ লক্ষ ৭ হাজার কিমি)।
২. মহাকর্ষীয় টান দূরত্ব কম হওয়ায় পৃথিবীর সমুদ্রজলের ওপর চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা সর্বাধিক হয়। দূরত্ব বেশি হওয়ায় সমুদ্রজলের ওপর চাঁদের মহাকর্ষীয় টান সবচেয়ে দুর্বল হয়।
৩. জোয়ারের তীব্রতা জোয়ারের জলস্ফীতি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৫–২০% বেশি হয় (পেরিজি জোয়ার)। জোয়ারের জলস্ফীতি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২০% কম হয় (অ্যাপোজি জোয়ার)।
১৪দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কেন ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট হয়? মান ৩
উত্তরভূপৃষ্ঠের কোনো একটি স্থানে পরপর দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ঠিক ২৪ ঘণ্টা না হয়ে ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ নিম্নরূপ:
১. পৃথিবীর আবর্তন: পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে পূর্ণ আবর্তন করতে সময় নেয় ২৪ ঘণ্টা (৩৬০°)। সুতরাং, ১ ঘণ্টায় আবর্তন করে ১৫° এবং ১° আবর্তন করতে সময় নেয় ৪ মিনিট।
২. চাঁদের কক্ষপথীয় পরিক্রমণ: পৃথিবী যখন ঘুরছে, চাঁদও একই দিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবীকে পরিক্রমণ করছে। চাঁদের একবার পরিক্রমণ সম্পন্ন করতে সময় লাগে প্রায় ২৭ ⅓ দিন।
৩. দৈনিক কৌণিক ব্যবধান: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদ তার কক্ষপথে প্রায় (৩৬০° ÷ ২৭.৩) = ১৩° ১০' (বা প্রায় ১৩°) এগিয়ে যায়।
৪. অতিরিক্ত সময়ের হিসাব: ২৪ ঘণ্টা পর পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানটি আগের স্থানে ফিরে এলেও চাঁদ ততক্ষণে ১৩° সামনে এগিয়ে যাওয়ায় চাঁদের সরাসরি সম্মুখবর্তী হতে পৃথিবীর স্থানটিকে আরও অতিরিক্ত ১৩° ঘুরতে হয়।
৫. এই ১৩° পথ অতিক্রম করতে পৃথিবীর সময় লাগে (১৩ × ৪ মিনিট) = ৫২ মিনিট।
তাই যেকোনো নির্দিষ্ট স্থানে পরবর্তী মুখ্য জোয়ার আসতে (২৪ ঘণ্টা + ৫২ মিনিট) = ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট সময় লাগে।

E. রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LAQ)

প্রশ্নমান ৫
১সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি বিশদে আলোচনা করো। মান: ৫
উত্তরমহাসাগরের উপরিভাগে বিপুল জলরাশির একটি নির্দিষ্ট দিকে নিয়মিত অনুভূমিক সঞ্চালনকে সমুদ্রস্রোত বলে। সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক কারণ যৌথভাবে কাজ করে:

১. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (Prevailing Winds):
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির সর্বপ্রধান কারণ হলো নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু)।
• আয়ন বায়ু সারা বছর নিরক্ষরেখার দুই পাশ দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হওয়ায় সমুদ্রের জলকেও পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঠেলে নিয়ে যায় (উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত)।
• মধ্য অক্ষাংশে পশ্চিমা বায়ু পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হওয়ায় সমুদ্রস্রোতকেও পশ্চিম থেকে পূর্বে ধাবিত করে (উত্তর আটলান্টিক স্রোত ও কুমেরু প্রবাহ)।

২. পৃথিবীর আবর্তন গতি ও কোরিওলিস বল (Coriolis Effect):
পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরাম আবর্তন করার ফলে একটি কেন্দ্রাতিগ বিক্ষেপ বল বা 'কোরিওলিস বল' উৎপন্ন হয়। ফেরেলের সূত্রানুসারে এই বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এর ফলেই মহাসাগরগুলিতে বিশাল বৃত্তাকার জলচক্র বা জায়র (Gyre) সৃষ্টি হয়।

৩. সমুদ্রজলের উষ্ণতার তারতম্য (Temperature Difference):
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যের লম্বালম্বি কিরণে জলরাশি উত্তপ্ত ও প্রসারিত হয়ে হালকা হয় এবং বহিঃস্রোত (পৃষ্ঠস্রোত) রূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে, মেরু অঞ্চলে শীতল ও ভারী জল সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অন্তঃস্রোত রূপে নিরক্ষরেখার দিকে ধাবিত হয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে।

৪. সমুদ্রজলের লবণতা ও ঘনত্বের পার্থক্য (Salinity & Density):
অধিক লবণাক্ত জলের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় তা ভারী হয়ে নিচে নিমজ্জিত হয় এবং কম লবণাক্ত হালকা জলের তলদেশ দিয়ে অন্তঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়। কম লবণাক্ত হালকা জল উপরিভাগ দিয়ে বহিঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয় (যেমন জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে স্রোত বিনিময়)।

৫. স্থলভাগের অবস্থান ও উপকূলরেখার আকৃতি (Coastline Configuration):
কোনো সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে কোনো দ্বীপ বা মহাদেশের অন্তরীপ উপস্থিত থাকলে স্রোতের অভিমুখ বাধা পেয়ে বিভক্ত হয়ে যায়। যেমন—দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত ব্রাজিলের সেন্ট রোক অন্তরীপে বাধা পেয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে।

৬. ঋতু পরিবর্তন (Seasonal Changes):
উত্তর ভারত মহাসাগরে মৌসুমি বায়ুর ঋতুভিত্তিক দিক পরিবর্তনের সাথে সাথে সমুদ্রস্রোত শীত ও গ্রীষ্মে পরস্পর বিপরীতমুখী হয়ে প্রবাহিত হয়।
২সমুদ্রস্রোতের প্রধান ফলাফল বা প্রভাবগুলি সবিস্তার আলোচনা করো। মান: ৫
উত্তরপৃথিবীর জলবায়ু, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর সমুদ্রস্রোতের গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে:

১. উপকূলীয় জলবায়ুর ওপর প্রভাব:
• তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: কোনো উপকূলের পাশ দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে শীতকালেও সেখানকার তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে মৃদু থাকে। যেমন—উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ও নরওয়ের উপকূলীয় বন্দরগুলি তীব্র শীতের মধ্যেও সারা বছর বরফমুক্ত থাকে।
• বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা: উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ু উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। বিপরীতভাবে শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত শুষ্ক বায়ুর কারণে বৃষ্টিপাত হয় না; যেমন—শীতল বেঙ্গুয়েলা ও পেরু স্রোতের প্রভাবে যথাক্রমে কালাহারি ও আটাকামা মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

২. পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মৎস্যক্ষেত্র ও মগ্নচড়া গঠন:
উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে যায়। হিমশৈলের সাথে আসা বালি, পলি ও খনিজ সঞ্চিত হয়ে অগভীর 'মগ্নচড়া' (যেমন গ্র্যান্ড ব্যাংক, ডগার্স ব্যাংক) তৈরি করে। এই অগভীর জলে সূর্যের আলো ও পুষ্টির প্রাচুর্যে মাছের প্রিয় খাদ্য 'প্লাঙ্কটন' ব্যাপক জন্মায়, ফলে সেখানে বিশ্বের বৃহত্তম মৎস্য শিকার ক্ষেত্রগুলি গড়ে উঠেছে।

৩. ঘনকুয়াশা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
উষ্ণ ও শীতল স্রোতের সংযোগস্থলে (হিমপ্রাচীর বরাবর) উষ্ণ আর্দ্র বায়ু হঠাৎ শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে তীব্র কুয়াশার সৃষ্টি করে। এছাড়া এখানে প্রায়শই আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের উৎপত্তি হয় (যেমন নিউফাউন্ডল্যান্ড ও জাপান উপকূল)।

৪. জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক বাণিজ্য:
সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালালে জাহাজের গতি বৃদ্ধি পায় ও জ্বালানি খরচ বাঁচে। কিন্তু স্রোতের সংযোগস্থলে ভাসমান হিমশৈল এবং ঘন কুয়াশার কারণে জাহাজ চলাচলে মারাত্মক বিপদের ঝুঁকি থাকে (১৯১২ সালে টাইটানিক জাহাজের ডুবে যাওয়া এর মর্মান্তিক উদাহরণ)।

৫. শৈবাল সাগরের সৃষ্টি:
মহাসাগরের স্রোতগুলি বৃত্তাকারে আবর্তিত হলে কেন্দ্রে শান্ত ও স্রোতহীন জলভাগের সৃষ্টি হয় যেখানে বিশেষ সামুদ্রিক আগাছা জন্মায় (যেমন উত্তর আটলান্টিকের সারগাসো সাগর)।
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের সমুদ্রস্রোত ও শৈবাল সাগর
চিত্র: সমুদ্রস্রোতের চক্রাকার আবর্তন (জায়র), শৈবাল সাগর এবং নিউফাউন্ডল্যান্ড মগ্নচড়া গঠন
৩জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির কারণ চিত্রসহ বিশদে বর্ণনা করো। মান: ৫
উত্তরসমুদ্রের জলরাশির নির্দিষ্ট সময় অন্তর ছন্দোবদ্ধ উত্থান ও পতনকে যথাক্রমে জোয়ার ও ভাটা বলে। মূলত দুটি প্রধান মহাজাগতিক ও প্রাকৃতিক কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়:

১. চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ (Gravitational Pull):
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রানুসারে মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মধ্যেও এই আকর্ষণ কার্যকর।
• চন্দ্রের আকর্ষণ: সূর্য চাঁদের তুলনায় প্রায় ২ কোটি ৫৫ লক্ষ গুণ ভারী হলেও পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব (প্রায় ১৫ কোটি কিমি) চাঁদের গড় দূরত্বের (প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিমি) তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বেশি। দূরত্বের এই বিশাল পার্থক্যের কারণে সমুদ্রজলের ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্যের প্রায় ২.১৭ গুণ (বা প্রায় ২.২ গুণ) বেশি। তাই জোয়ার সৃষ্টিতে চাঁদের ভূমিকাই প্রধান।
• মুখ্য জোয়ার (Primary Tide): পৃথিবীর যে অংশ পরিক্রমণকালে চাঁদের সরাসরি সম্মুখবর্তী হয়, সেখানে চাঁদের প্রত্যক্ষ ও সর্বাধিক আকর্ষণে জলরাশি স্ফীত হয়ে শক্তিশালী 'মুখ্য জোয়ার' সৃষ্টি করে।

২. পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force):
পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর অবিরত পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে। এই তীব্র ঘূর্ণনের ফলে কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে ছিটকে যাওয়ার একটি বল বা 'কেন্দ্রাতিগ বল' উৎপন্ন হয়।
• গৌণ জোয়ার (Secondary Tide): মুখ্য জোয়ারের ঠিক বিপরীত দিকে (প্রতিপাদ স্থানে) চাঁদের দূরত্ব সর্বাধিক হওয়ায় সেখানে চাঁদের মহাকর্ষ বল অত্যন্ত দুর্বল হয়। এই বিপরীত স্থানে চাঁদের আকর্ষণ বলের তুলনায় পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল অনেক বেশি কার্যকর হওয়ায় জলরাশি উল্টো দিকে ফুলে ওঠে এবং 'গৌণ জোয়ার' বা পরোক্ষ জোয়ার ঘটায়।

৩. ভাটা সৃষ্টি (Ebb):
মুখ্য ও গৌণ জোয়ারের স্থান দুটি থেকে অতিরিক্ত জলরাশি আকৃষ্ট হয়ে সরে আসার কারণে এই দুই স্থানের সঙ্গে সমকোণে (৯০° কোণে) অবস্থিত স্থান দুটিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল নেমে যায়। একে ভাটা বলে।

৪. সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর আপেক্ষিক অবস্থান (ভরা কোটাল ও মরা কোটাল):
• সিজিগি (ভরা কোটাল): অমাবস্যায় (সংযোগ) সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমায় (প্রতিযোগ) বিপরীত পাশে এক সরলরেখায় অবস্থান করলে উভয়ের মিলিত টানে প্রবল জলস্ফীতি ঘটে, একে ভরা কোটাল বলে।
• সমকোণ (মরা কোটাল): শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর কেন্দ্রে পরস্পরের সাথে ৯০° সমকোণে অবস্থান করায় উভয়ের বিপরীতমুখী আকর্ষণে সবচেয়ে দুর্বল জোয়ার বা মরা কোটাল ঘটে।
মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ার সৃষ্টির প্রক্রিয়া
চিত্র ১: চাঁদের আকর্ষণ ও কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার, গৌণ জোয়ার ও ভাটা
ভরা কোটাল ও মরা কোটাল সিজিগি অবস্থান
চিত্র ২: সিজিগি (ভরা কোটাল) ও কোয়াড্রেচার (মরা কোটাল) অবস্থানে সূর্য ও চাঁদের টান
৪মানবজীবনে এবং পরিবেশের ওপর জোয়ারভাটার সুফল ও কুফলগুলি আলোচনা করো। মান: ৫
উত্তরউপকূলবর্তী মানুষ, নৌ-বাণিজ্য এবং নদী মোহনার পরিবেশের ওপর জোয়ার-ভাটার গভীর ও বহুমুখী প্রভাব রয়েছে:

(ক) জোয়ার-ভাটার ইতিবাচক প্রভাব / সুফল:
১. নৌপরিবহন ও নদী বন্দর সচল রাখা: অগভীর নদী মোহনায় অবস্থিত বন্দরগুলিতে (যেমন কলকাতা বন্দর) স্বাভাবিক অবস্থায় বড় সমুদ্রগামী জাহাজ ঢুকতে পারে না। কিন্তু জোয়ারের সময় নদীখাতে জলের গভীরতা কয়েক মিটার বেড়ে গেলে অনায়াসে বড় বড় মালবাহী জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করতে ও নোঙর ছাড়তে পারে।
২. নদীর মোহনা পলিহীন ও নাব্যতা বজায় রাখা: ভাটার তীব্র টানে নদী মোহনায় জমে থাকা নুড়ি, বালি ও পলি সমুদ্রের গভীরে ভেসে যায়, ফলে নদীখাতে পলি জমে চর সৃষ্টি হতে পারে না এবং স্বাভাবিক নাব্যতা বজায় থাকে।
৩. আবর্জনা ও দূষণ নিষ্কাশন: নদী তীরবর্তী বড় বড় শিল্পাঞ্চল ও শহরের জমা আবর্জনা ও বর্জ্য পদার্থ ভাটার সময় নদীর জলের সাথে সমুদ্রে চলে যায়, ফলে নদীদূষণ আংশিক হ্রাস পায়।
৪. বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন (Tidal Energy): জোয়ারের প্রবল জলপ্রবাহকে মোহনায় বাঁধ দিয়ে আটকে টারবাইন ঘুরিয়ে পরিবেশবান্ধব জোয়ারভাটা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায় (যেমন ভারতের গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরে এবং সুন্দরবনের দুর্গাদ্দোয়ানি খাঁড়িতে)।
৫. মৎস্যজীবীদের সহায়তা: জোয়ারের জলে ঝাঁকে ঝাঁকে সামুদ্রিক মাছ (যেমন ইলিশ, ভেটকি) নদী মোহনায় প্রবেশ করে, ফলে মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে সুবিধা হয়। এছাড়া জোয়ারের জলের গতিকে কাজে লাগিয়ে নৌকো চালানো সহজ হয়।
৬. লবণ উৎপাদন: জোয়ারের নোনা জলকে উপকূলের লবণ ক্ষেত্রে (Salt Pan) আটকে রেখে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে সহজেই খাবার লবণ প্রস্তুত করা হয়।

(খ) জোয়ার-ভাটার নেতিবাচক প্রভাব / কুফল:
১. বানডাকার ফলে ক্ষয়ক্ষতি: বর্ষাকালে প্রবল ভরা কোটালে নদীতে উঁচু জলপ্রাচীর বা বান ডাকলে নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবন দেখা দেয়, ঘরবাড়ি নষ্ট হয় এবং নৌকোডুবি ঘটে।
২. পানীয় জলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি: জোয়ারের নোনা জল অনেক দূর পর্যন্ত নদীর মিষ্টিজলের প্রবাহে ঢুকে পড়ায় চাষের জমি ও পানীয় জল লবণাক্ত হয়ে পড়ে।
৩. পলি সঞ্চয়: কখনো কখনো ভাটার সময় জল সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার আগেই অতিরিক্ত পলি জমে নদীর মোহনায় অনভিপ্রেত চড়া সৃষ্টি হতে পারে।

Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!