দশম শ্রেণীর ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়: ভারত - সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন | Class 10 Geography Chapter 5

দশম শ্রেণীর ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়: ভারত - সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন | Class 10 Geography Chapter 5

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় 'ভারত' থেকে গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর।

মাধ্যমিক ভূগোল চূড়ান্ত সাজেশন: 'ভারত' (India)

(প্রদত্ত পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠাগুলির ওপর ভিত্তি করে ১০০% কমন সাজেশন)

নিচে মাধ্যমিক ভূগোল দশম শ্রেণির 'ভারত' অধ্যায় থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত (VSAQ), সংক্ষিপ্ত (SAQ), ব্যাখ্যামূলক এবং রচনাধর্মী (LAQ) প্রশ্নগুলি দেওয়া হলো। এই প্রশ্নগুলো আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) MCQ মান ১

১ভারতের বর্তমান অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা হলো—
ক২৮টি ও ৮টি
খ২৯টি ও ৭টি
গ২৮টি ও ৯টি
ঘ২৯টি ও ৮টি
উত্তর
ক২৮টি ও ৮টি
২ক্ষেত্রমানের ভিত্তিতে ভারতের বৃহত্তম রাজ্যটি হলো—V.V.I
কমধ্যপ্রদেশ
খমহারাষ্ট্র
গউত্তরপ্রদেশ
ঘরাজস্থান
উত্তর
ঘরাজস্থান
৩ভারতের নবীনতম রাজ্য কোনটি?V.V.I
কগোয়া
খছত্তিশগড়
গতেলেঙ্গানা
ঘঝাড়খণ্ড
উত্তর
গতেলেঙ্গানা
৪রাজ্য পুনর্গঠনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি কোনটি?V.V.I
কধর্ম
খভাষা
গজাতি
ঘভূপ্রকৃতি
উত্তর
খভাষা
৫ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত আরাবল্লীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো—V.V.I
কগুরুশিখর
খদোদাবেতা
গধূপগড়
ঘমানপুর
উত্তর
কগুরুশিখর (১৭৭২ মি.)
৬পূর্বঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?V.V.I
কমহেন্দ্রগিরি
খজিন্দাগাদা
গকলসুবাই
ঘমলয়াদ্রি
উত্তর
খজিন্দাগাদা (১৬৯৯ মি.)
৭নীলগিরি পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো—
কআনামুদি
খদোদাবেতা
গঅমরকণ্টক
ঘপাঁচমারি
উত্তর
খদোদাবেতা (২৬৩৭ মি.)
৮থলঘাট গিরিপথ কোন দুটি শহরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে?
কমুম্বই ও পুনে
খনাসিক ও মুম্বই
গকোয়েম্বাটুর ও কোচি
ঘমুম্বই ও গোয়া
উত্তর
খনাসিক ও মুম্বই
৯'ডেকানট্র্যাপ' অঞ্চলের প্রধান মৃত্তিকা হলো—V.V.I
কলোহিত মৃ্ত্তিকা
খল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
গরেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা
ঘপলি মৃত্তিকা
উত্তর
গরেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা
১০মালাবার উপকূলে বালিয়াড়িগুলি স্থানীয় ভাষায় কী নামে পরিচিত?V.V.I
ককয়াল
খটেরিস
গরান
ঘময়দান
উত্তর
খটেরিস
১১ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ বা লেগুন কোনটি?
কচিলকা
খপুলিকট
গভেম্বানাদ
ঘকোলেরু
উত্তর
কচিলকা
১২দক্ষিণ ভারতের শস্যাভাণ্ডার বলা হয়—
ককৃষ্ণা বদ্বীপকে
খগোদাবরী বদ্বীপকে
গকাবেরী নদীর বদ্বীপকে
ঘমহানদী বদ্বীপকে
উত্তর
গকাবেরী নদীর বদ্বীপ অঞ্চলকে (করমণ্ডল উপকূল)
১৩ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু হলো—
ককন্যাকুমারিকা
খইন্দিরা পয়েন্ট
গইন্দিরা কল
ঘকিবিথু
উত্তর
খইন্দিরা পয়েন্ট
১৪আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো—
কমাউন্ট হ্যারিয়েট
খব্যারেন
গস্যাডল পিক
ঘনারকোন্ডাম
উত্তর
গস্যাডল পিক (৭৩৭ মি.)
১৫আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে বিচ্ছিন্ন করেছে—
কডানকান প্যাসেজ
খ১০° চ্যানেল
গপক প্রণালী
ঘ৯° চ্যানেল
উত্তর
খ১০° চ্যানেল
১৬ভারতের একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির নাম হলো—
কব্যারেন
খনারকোন্ডাম
গপাম্বান
ঘমিনিকয়
উত্তর
কব্যারেন
১৭ভারতের দীর্ঘতম নদী হলো—
কগঙ্গা
খব্রহ্মপুত্র
গগোদাবরী
ঘসিন্ধু
উত্তর
কগঙ্গা (মোট দৈর্ঘ্য ২৫১০ কিমি, ভারতে ২০৭১ কিমি)
১৮গোদাবরী নদীর উৎস হলো—
কঅমরকণ্টক শৃঙ্গ
খমহাবালেশ্বর
গত্রিম্বক উচ্চভূমি
ঘমুলতাই উচ্চভূমি
উত্তর
গত্রিম্বক উচ্চভূমি
১৯ভারতের বৃহত্তম নদীদ্বীপ হলো—
কসাগরদ্বীপ
খমাজুলি
গভেনিস
ঘঘোড়ামারা
উত্তর
খমাজুলি (ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে)
২০'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' বলা হয়—V.V.I
ককৃষ্ণাকে
খকাবেরীকে
গগোদাবরীকে
ঘনর্মদাকে
উত্তর
গগোদাবরীকে
২১ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের বা স্বাদুজলের হ্রদ হলো—
কউলার
খলোকটাক
গডাল
ঘনৈনিতাল
উত্তর
খলোকটাক (মণিপুর)
২২ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ বা লেগুন হলো—
কচিল্কা
খপুলিকট
গভেম্বানাদ
ঘকোলেরু
উত্তর
কচিল্কা
২৩'মৌসুমি' শব্দটি একটি -
কআরবি শব্দ
খফরাসি শব্দ
গল্যাটিন শব্দ
ঘগ্রিক শব্দ
উত্তর
কআরবি শব্দ ('মৌসিম')
২৪ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো -
কহিমালয় পর্বত
খসমুদ্রের নৈকট্য
গমৌসুমি বায়ু
ঘঅক্ষাংশ
উত্তর
গমৌসুমি বায়ু
২৫গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবাহিত শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ুকে বলে -
কআঁধি
খলু
গকালবৈশাখী
ঘচিনুক
উত্তর
খলু
২৬ভারতের সর্বাধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানটি হলো -
কচেরাপুঞ্জি
খমৌসিনরাম
গশিলং
ঘউটি
উত্তর
খমৌসিনরাম
২৭কালবৈশাখী অসমে কী নামে পরিচিত?V.V.I
কবরদৈছিলা
খআম্রবৃষ্টি
গকফিবৃষ্টি
ঘআঁধি
উত্তর
কবরদৈছিলা
২৮বছরে দু-বার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল হলো -
কমালাবার উপকূল
খকরমণ্ডল উপকূল
গকঙ্কন উপকূল
ঘওড়িশা উপকূল
উত্তর
খকরমণ্ডল উপকূল (তামিলনাড়ু)
২৯এল-নিনো দেখা যায় -
কআটলান্টিক মহাসাগরে
খপ্রশান্ত মহাসাগরে
গভারত মহাসাগরে
ঘসুমেরু মহাসাগরে
উত্তর
খপ্রশান্ত মহাসাগরে
৩০শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটে -
কমৌসুমি বায়ুর প্রভাবে
খপশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে
গকালবৈশাখীর প্রভাবে
ঘপ্রত্যাবর্তকারী মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে
উত্তর
খপশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে
৩১ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের নাম হলো -
কশিলং
খচেরাপুঞ্জি
গমৌসিনরাম
ঘকলকাতা
উত্তর
কশিলং
৩২আম্রবৃষ্টি দেখা যায় -V.V.I
কদক্ষিণ ভারতে (কেরল ও কর্ণাটক)
খউত্তর-পশ্চিম ভারতে
গপূর্ব ভারতে
ঘউত্তর-পূর্ব ভারতে
উত্তর
কদক্ষিণ ভারতে (কেরল ও কর্ণাটক)
৩৩ভারতের আবহাওয়া অফিসের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
ককলকাতা
খমুম্বাই
গনতুন দিল্লি
ঘচেন্নাই
উত্তর
গনতুন দিল্লি (মৌসম ভবন)
৩৪ভারতের তথা পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান কোনটি?
কচেরাপুঞ্জি
খমৌসিনরাম
গশিলং
ঘআগুম্বে
উত্তর
খমৌসিনরাম
৩৫বছরে দু-বার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল কোনটি?
কমালাবার উপকূল
খকরমণ্ডল উপকূল
গকোঙ্কন উপকূল
ঘগুজরাট উপকূল
উত্তর
খকরমণ্ডল উপকূল
৩৬ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহের নাম কী?
কসিয়াচেন
খহিসপার
গজেমু
ঘবল্টারো
উত্তর
কসিয়াচেন (৭৬ কিমি)
৩৭ভারতের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
ককাঞ্চনজঙ্ঘা
খমাউন্ট এভারেস্ট
গগডউইন অস্টিন বা K2
ঘনাঙ্গা পর্বত
উত্তর
গগডউইন অস্টিন বা K2 (৮৬১১ মি.)
৩৮ভারতের উচ্চতম মালভূমি কোনটি?
কপামীর
খদাক্ষিণাত্য
গলাদাক
ঘছোটোনাগপুর
উত্তর
গলাদাক (৫০০০ মি.)
৩৯ভারতে সর্বাধিক স্থান জুড়ে কোন মৃত্তিকা রয়েছে?
ককৃষ্ণ মৃত্তিকা
খলোহিত মৃত্তিকা
গপলি মৃত্তিকা
ঘল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
উত্তর
গপলি মৃত্তিকা (প্রায় ৪৫.৬%)
৪০কৃষ্ণ মৃত্তিকার রং কালো হওয়ার কারণ কী?V.V.I
কজৈব পদার্থ
খটিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইট
গলৌহ অক্সাইড
ঘচুন
উত্তর
খটিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইট
৪১মরু মৃত্তিকার স্থানীয় নাম কী?
কসিরোজেম
খখাদার
গরেগুর
ঘভাঙর
উত্তর
কসিরোজেম
৪২ভারতের মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
কভোপাল
খদেরাদুন
গযোধপুর
ঘকলকাতা
উত্তর
কভোপাল
৪৩মৃত্তিকা ক্ষয়ের একটি অন্যতম প্রধান মনুষ্যসৃষ্ট কারণ হলো—
কনদীর ক্ষয়কার্য
খঅবৈজ্ঞানিক খনন ও বৃক্ষচ্ছেদন
গবায়ুপ্রবাহ
ঘহিমবাহের ক্ষয়কার্য
উত্তর
খঅবৈজ্ঞানিক খনন ও বৃক্ষচ্ছেদন
৪৪পাহাড়ের ঢাল বরাবর ধাপ সৃষ্টি করে কৃষিকাজ করাকে কী বলে?
কগালি চাষ
খফালি চাষ
গধাপ চাষ
ঘস্থানান্তর কৃষি
উত্তর
গধাপ চাষ
৪৫কোন কৃষিপদ্ধতি রোধ করলে মৃত্তিকা ক্ষয় বহুলাংশে কমানো যায়?
কফালি চাষ
খজুমচাষ
গধাপ চাষ
ঘসমোন্নতি রেখা চাষ
উত্তর
খজুমচাষ
৪৬ভারতের কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি দেখা যায়?
কগাঙ্গেয় সমভূমি
খপশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল
গরাজস্থান
ঘমধ্যপ্রদেশ
উত্তর
খপশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল
৪৭কোন অরণ্যের গাছ শুষ্ক ঋতুতে বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য পাতা ঝরিয়ে দেয়?
কক্রান্তীয় পর্ণমোচী
খক্রান্তীয় চিরহরিৎ
গম্যানগ্রোভ
ঘপার্বত্য
উত্তর
কক্রান্তীয় পর্ণমোচী
৪৮দক্ষিণ ভারতের পার্বত্য বনভূমি (যেমন- নীলগিরি, পালনি) কী নামে পরিচিত?
কতৈগা
খশোলা বনভূমি
গসেলভা
ঘসাভানা
উত্তর
খশোলা বনভূমি
৪৯শ্বাসমূল (Pneumatophore) ও ঠেসমূল দেখা যায় কোন উদ্ভিদে?
কক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদে
খসরলবর্গীয় উদ্ভিদে
গম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে
ঘপর্ণমোচী উদ্ভিদে
উত্তর
গম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে
৫০জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্‌গম দেখা যায় না এমন একটি ম্যানগ্রোভ গাছ হলো—
কগরান
খগেঁওয়া
গসুন্দরী
ঘকেওড়া
উত্তর
গসুন্দরী
৫১পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য কোনটি?V.V.I
কসুন্দরবন
খতামিলনাড়ুর পিচাভরম
গভিতরকণিকা
ঘকচ্ছের রান
উত্তর
কসুন্দরবন (বি.দ্র. পিচাভরম হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম)
৫২ভারতের অরণ্য গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
কএলাহাবাদ
খদেরাদুন
গকলকাতা
ঘযোধপুর
উত্তর
খদেরাদুন
৫৩ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
কমাউন্ট এভারেস্ট
খগডউইন অস্টিন (K2)
গকাঞ্চনজঙ্ঘা
ঘমাকালু
উত্তর
খগডউইন অস্টিন (K2) (৮৬১১ মিটার)
৫৪পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট নেপালিদের কাছে কী নামে পরিচিত?
কসাগরমাথা
খচোমোলুংমা
গগডউইন অস্টিন
ঘকাঞ্চনজঙ্ঘা
উত্তর
কসাগরমাথা
৫৫ভারতের উচ্চতম গিরিপথ কোনটি?
কখারদুংলা
খমানা বা ডুংরিলা
গজোজিলা
ঘনাথুলা
উত্তর
খমানা বা ডুংরিলা (৫৬১০ মি.)
৫৬কাশ্মীর উপত্যকার 'কারেওয়া' মৃত্তিকা কোন চাষের জন্য বিখ্যাত?
কচা
খআপেল
গজাফরান
ঘকফি
উত্তর
গজাফরান
৫৭মালাবার উপকূলে অবস্থিত অসংখ্য জলাভূমিকে কী বলা হয়?
ককয়াল
খরন
গলেগুন
ঘদুন
উত্তর
ককয়াল
৫৮ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ কোনটি?
কডাল
খউলার
গপ্যাংগং
ঘসম্বর
উত্তর
খউলার
৫৯শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের থেকে বয়ে আনা নদী ও হিমবাহের ক্ষয়জাত নুড়ি-বালি সঞ্চিত হয়ে যে উপত্যকা গঠিত হয়েছে, তাকে কী বলে?
কদুন
খকারেওয়া
গতাল
ঘকয়াল
উত্তর
কদুন (যেমন- দেরাদুন)
৬০'ডেকানট্র্যাপ' (Deccan Trap) কথাটিতে 'Trap' শব্দের অর্থ কী?V.V.I
কমালভূমি
খসিঁড়ি বা ধাপ
গলাভা
ঘদাক্ষিণাত্য
উত্তর
খসিঁড়ি বা ধাপ
৬১জম্মু ও শ্রীনগরের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী গিরিপথ কোনটি?
কজোজিলা
খজেলেপ লা
গবানিহাল বা জওহর টানেল
ঘনাথুলা
উত্তর
গবানিহাল বা জওহর টানেল
৬২ভারতের সর্ব দক্ষিণ বিন্দুটি হল—
ককন্যাকুমারিকা
খইন্দিরা পয়েন্ট
গপোর্ট ব্লেয়ার
ঘমিনিকয়
উত্তর
গইন্দিরা পয়েন্ট
৬৩ভারত ও চিনের মধ্যে অবস্থিত সীমারেখাটির নাম—
কর‍্যাডক্লিফ লাইন
খম্যাকমোহন লাইন
গডুরান্ড লাইন
ঘLOC
উত্তর
খম্যাকমোহন লাইন
৬৪ভারতের উচ্চতম গিরিপথ কোনটি?
কজোজিল
খসিপকিলা
গরোটাং
ঘমানা বা ডুংরিলা
উত্তর
ঘমানা বা ডুংরিলা (৫,৬১১ মি.)
৬৫হিমাচল হিমালয় ও শিবালিক শ্রেণির মধ্যে অবস্থিত প্রায় সমতল উপত্যকাকে বলে—
কদুন
খতাল
গভাবর
ঘতরাই
উত্তর
কদুন
৬৬পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল—
ককাঞ্চনজঙ্ঘা
খসান্দাকফু
গফালুট
ঘসবরগ্রাম
উত্তর
খসান্দাকফু
৬৭মেঘালয় মালভূমির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
কশিলং পাহাড়
খনকরেক
গসরামতী
ঘদাফাবুম
উত্তর
কশিলং পাহাড়
৬৮রাজস্থানের মরু অঞ্চলে চলমান বালিয়াড়িকে কী বলা হয়?
কধান্দ
খথালি
গধ্রিয়ান
ঘহামাদা
উত্তর
গধ্রিয়ান
৬৯পাঞ্জাব সমভূমিতে নদী দ্বারা ক্ষয়িত হয়ে দু-দিক খাড়া পাড় যুক্ত প্রাচীন পলি সমৃদ্ধ অঞ্চলকে বলে—
কবেট
খধায়া
গচোশ
ঘখাদার
উত্তর
খধায়া
৭০শিবালিক পর্বতের পাদদেশ বরাবর নুড়ি, পাথর, বালি সমৃদ্ধ অনুর্বর ভূমিকে বলে—
কভাবর
খতরাই
গভুর
ঘখাদার
উত্তর
কভাবর
৭১পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ কোনটি?
কমাজুলি
খসাগর দ্বীপ
গবদ্বীপ
ঘআন্দামান
উত্তর
কমাজুলি
৭২জোয়ার গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
কলখনউ
খনাগপুর
গহায়দরাবাদ
ঘজোরহাট
উত্তর
গহায়দরাবাদ
৭৩ভারতের ইক্ষু বা আখ গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
কলখনউ
খকানপুর
গকোয়েম্বাটোর
ঘনাগপুর
উত্তর
কলখনউ
৭৪দক্ষিণ ভারতে বাজরা কী নামে পরিচিত?
কমারুয়া
খকুম্বু
গরাগি
ঘজওয়ার
উত্তর
খকুম্বু
৭৫কার্পাস বা তুলো চাষের জন্য কমপক্ষে কতদিন তুহিনমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন?
ক১০০ দিন
খ১৫০ দিন
গ২০০ দিন
ঘ২৫০ দিন
উত্তর
গ২০০ দিন
৭৬ভারতের কার্পাস গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
কসুরাট
খনাগপুর
গআমেদাবাদ
ঘমুম্বই
উত্তর
খনাগপুর
৭৭চা উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্যে চা গবেষণাগার অবস্থিত?
কঅসম (জোরহাট)
খকর্ণাটক
গতামিলনাড়ু
ঘপশ্চিমবঙ্গ
উত্তর
কঅসম (জোরহাট)
৭৮কফি গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
কচিকমাগালুর
খলখনউ
গনাগপুর
ঘহায়দরাবাদ
উত্তর
কচিকমাগালুর
৭৯ইক্ষু উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্য প্রথম স্থান অধিকার করে?
কমহারাষ্ট্র
খউত্তরপ্রদেশ
গকর্ণাটক
ঘবিহার
উত্তর
খউত্তরপ্রদেশ
৮০ভারতের কোন মৃত্তিকা কার্পাস চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী?
কপলি মৃত্তিকা
খল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
গরেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা
ঘলাল মৃত্তিকা
উত্তর
গরেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা
৮১দক্ষিণ ভারতে রাগিকে কী বলা হয়?
কমারুয়া
খকুম্বু
গবাজরা
ঘজোয়ার
উত্তর
কমারুয়া
৮২ভারতে চা উৎপাদনে প্রথম স্থানাধিকারী রাজ্যটি হল—
কঅসম
খপশ্চিমবঙ্গ
গকেরালা
ঘকর্ণাটক
উত্তর
খঅসম
৮৩ভারতে কোন প্রজাতির কফির চাষ সবথেকে বেশি হয়?
কআরবীয়
খরোবাস্টা
গলাইবেরীয়
ঘজামাইকান
উত্তর
খরোবাস্টা
৮৪'সবুজ বিপ্লব' (Green Revolution) কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন—V.V.I
কনরম্যান বোরল্যাগ
খএম এস স্বামীনাথন
গউইলিয়াম এস. গাউড
ঘআলফ্রেড ওয়েবার
উত্তর
গউইলিয়াম এস. গাউড
৮৫বিশুদ্ধ কাঁচামালের পণ্যসূচক (Material Index বা MI) হল—V.V.I
ক১-এর বেশি
খ১-এর কম
গ১-এর সমান
ঘ০
উত্তর
গ১-এর সমান
৮৬ভারতের একমাত্র উপকূলীয় লোহা-ইস্পাত কেন্দ্রটি হল—
কভিলাই
খদুর্গাপুর
গবিশাখাপত্তনম
ঘজামশেদপুর
উত্তর
গবিশাখাপত্তনম
৮৭ভারতের প্রথম আধুনিক লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্রটি কোথায় গড়ে ওঠে?
কদুর্গাপুর
খজামশেদপুর (সাকচি)
গভিলাই
ঘবোকারো
উত্তর
খজামশেদপুর (সাকচি)
৮৮'ভারতের রূঢ়' (Ruhr of India) কাকে বলা হয়?
কদুর্গাপুর
খআসানসোল
গভিলাই
ঘরাউরকেল্লা
উত্তর
কদুর্গাপুর
৮৯'ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' কাকে বলা হয়?
কমুম্বাই
খআমেদাবাদ
গসুরাট
ঘকানপুর
উত্তর
খআমেদাবাদ
৯০'দক্ষিণ ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' কাকে বলা হয়?
কচেন্নাই
খকোয়েম্বাটোর
গমাদুরাই
ঘবেঙ্গালুরু
উত্তর
খকোয়েম্বাটোর
৯১'উত্তর ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' কাকে বলা হয়?
ককানপুর
খলখনউ
গআগ্রা
ঘদিল্লি
উত্তর
ককানপুর
৯২ভারতের একক বৃহত্তম কৃষিভিত্তিক শিল্প কোনটি?
কপাট শিল্প
খচা শিল্প
গকার্পাস বয়ন শিল্প
ঘচিনি শিল্প
উত্তর
গকার্পাস বয়ন শিল্প
৯৩ভারতের প্রথম কার্পাস বস্ত্রবয়ন কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হয়?
কমুম্বাই
খআমেদাবাদ
গহাওড়ার ঘুঁসুড়িতে
ঘশ্রীরামপুরে
উত্তর
গহাওড়ার ঘুঁসুড়িতে (১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে)
৯৪হিন্দুস্থান শিপ ইয়ার্ড লিমিটেড (ভারতের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র) কোথায় অবস্থিত?
ককোচি
খমুম্বাই
গকলকাতা
ঘবিশাখাপত্তনম
উত্তর
ঘবিশাখাপত্তনম
৯৫SAIL (Steel Authority of India Limited) কত সালে গঠিত হয়?
ক১৯৫৯
খ১৯৬৪
গ১৯৭৩
ঘ১৯৭২
উত্তর
গ১৯৭৩
৯৬রাউরকেল্লা লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্রটি কোন দেশের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে?
কব্রিটেন
খজার্মানি
গরাশিয়া
ঘফ্রান্স
উত্তর
খজার্মানি
৯৭'Our Common Future' নামক রিপোর্টে 'Sustainable Development' বা ধারণযোগ্য উন্নয়নের কথা প্রথম বলা হয়—
ক১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে
খ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে
গ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে
ঘ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
খ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে
৯৮২০০১-২০১১ সালে ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল—
ক১৭.৭%
খ২১.৫৪%
গ২৩.৮৭%
ঘ১৭.৬৪%
উত্তর
ক১৭.৭%
৯৯ভারতের জনঘনত্ব (২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী) প্রতি বর্গকিলোমিটারে—
ক৩২৪ জন
খ৩৮২ জন
গ৪০২ জন
ঘ৪৩২ জন
উত্তর
খ৩৮২ জন
১০০২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের সর্বাধিক জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্যটি হলো—
কপশ্চিমবঙ্গ
খবিহার
গউত্তরপ্রদেশ
ঘকেরালা
উত্তর
খবিহার
১০১ভারতের সর্বনিম্ন জনঘনত্বযুক্ত রাজ্য হলো—
কসিকিম
খঅরুণাচল প্রদেশ
গমিজোরাম
ঘমেঘালয়
উত্তর
খঅরুণাচল প্রদেশ
১০২ভারতের মেগাসিটির সংখ্যা (২০১১ অনুযায়ী)—
ক৩টি
খ৫৩টি
গ১০টি
ঘ১৫টি
উত্তর
ক৩টি
১০৩২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতে মহানগরের (Metropolitan) সংখ্যা কয়টি?
ক৩৫টি
খ৪০টি
গ৫৩টি
ঘ৫৫টি
উত্তর
গ৫৩টি
১০৪ভারতের একটি সেনসাস শহরের ন্যূনতম জনসংখ্যা হওয়া প্রয়োজন—
ক৪০০০ জন
খ৫০০০ জন
গ১০০০০ জন
ঘ১ লক্ষ জন
উত্তর
খ৫০০০ জন
১০৫ভারতের 'প্রবেশদ্বার' (Gateway of India) বলা হয়—
খকলকাতাকে
গমুম্বাইকে
ঘদিল্লিকে
উত্তর
গমুম্বাইকে
১০৬ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়কপথটি হলো—
কNH-19
খNH-44
গNH-16
ঘNH-48
উত্তর
খNH-44 (শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী)
১০৭'সোনালি চতুর্ভুজ' (Golden Quadrilateral) যে পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, তা হলো—
করেলপথ
খসড়কপথ
গজলপথ
ঘবিমানপথ
উত্তর
খসড়কপথ
১০৮ভারতের জীবনরেখা বলা হয়—
কসড়কপথকে
খজলপথকে
গরেলপথকে
ঘরজ্জুপথকে
উত্তর
গরেলপথকে
১০৯ভারতের একমাত্র করমুক্ত (Tax-free) বন্দর হলো—
ককান্ডালা
খকোচি
গমুম্বাই
ঘপারাদ্বীপ
উত্তর
ককান্ডালা
১১০ভারতের দীর্ঘতম অভ্যন্তরীণ জলপথ (NW 1) কোন্ নদীতে অবস্থিত?
কব্রহ্মপুত্র
খগোদাবরী
গগঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি
ঘবরাক
উত্তর
গগঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি (প্রয়াগরাজ থেকে হলদিয়া)
১১১ভারতের প্রথম মেট্রো রেল কোথায় চালু হয়?
কদিল্লি
খমুম্বাই
গবেঙ্গালুরু
ঘকলকাতা
উত্তর
ঘকলকাতা (১৯৮৪ সালে)
১১২'ডলফিন নোজ'-এর জন্য বিখ্যাত বন্দরটি হলো—
কচেন্নাই
খবিশাখাপত্তনম
গতুতিকোরিন
ঘমার্মাগাঁও
উত্তর
খবিশাখাপত্তনম
১১৩ভারতের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি হলো—
কনেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
খছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
গইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ঘআন্না আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
উত্তর
গইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দিল্লি)।
১১৪ভারতে প্রথম পাতালরেল বা মেট্রো রেল চালু হয়—
ক১৯৮৪ সালে
খ১৯৯৫ সালে
গ১৯৩২ সালে
ঘ১৯৭১ সালে
উত্তর
ক১৯৮৪ সালে (কলকাতায়)।
১১৫ভারতের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম মেট্রো রেল ব্যবস্থা রয়েছে—
ককলকাতায়
খদিল্লিতে
গবেঙ্গালুরুতে
ঘমুম্বাইতে
উত্তর
খদিল্লিতে।
১১৬বেঙ্গালুরু মেট্রো কী নামে পরিচিত?
কইয়োলো লাইন
খনাম্মা মেট্রো
গগ্রিন মেট্রো
ঘসিলিকন মেট্রো
উত্তর
খনাম্মা মেট্রো।
১১৭ভারতের প্রথম খনিজ তেলবাহী পাইপলাইনটি স্থাপিত হয়—
কডিগবয় থেকে তিনসুকিয়া
খহলদিয়া থেকে বারাউনী
গআসানসোল থেকে দুর্গাপুর
ঘমুম্বাই থেকে পুনে
উত্তর
কডিগবয় থেকে তিনসুকিয়া (১৯০৬ সালে)।
১১৮আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় 'বিশ্বপল্লি' (Global Village) ধারণার সৃষ্টি করেছে—
কসংবাদপত্র
খইন্টারনেট ও ই-মেল
গপাতালরেল
ঘরজ্জুপথ
উত্তর
খইন্টারনেট ও ই-মেল।
১১৯বিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প যা যে-কোনো স্থানে গড়ে উঠতে পারে, তাকে বলে—V.V.I
কঅনুসারী শিল্প
খশিকড় আলগা শিল্প
গবাগিচা শিল্প
ঘভারী শিল্প
উত্তর
খশিকড় আলগা শিল্প।
১২০পৃথিবীর দীর্ঘতম ও দ্রুততম রজ্জুপথটি (Ropeway) ভারতের কোথায় অবস্থিত?
কদার্জিলিং-এ
খচেরাপুঞ্জিতে
গঝরিয়া কয়লাখনি অঞ্চলে
ঘআন্নামালাই পাহাড়ে
উত্তর
গুলমার্গ (জম্মু ও কাশ্মীর)।

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ) VSAQ মান ১

এক কথায় উত্তর দাও:

১ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য ও ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নাম লেখো।V.V.I
উত্তর
ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য গোয়া এবং ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপ।
২সার্ক (SAARC)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
উত্তর
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে (১৯৮৫ সালে গঠিত)।
৩ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় কত সালে কার্যকর হয়?
উত্তর
২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে।
৪দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ কী নামে পরিচিত?
উত্তর
ডেকানট্র্যাপ।
৫'মালনাদ' ও 'ময়দান' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর
'মালনাদ' শব্দের অর্থ উঁচুনিচু ভূভাগ এবং 'ময়দান' শব্দের অর্থ অনুচ্চ সমতল বা তরঙ্গায়িত ভূমি।
৬ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা কোন রাজ্যের?
উত্তর
গুজরাট রাজ্যের।
৭'কচ্ছের রান' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর
লবণাক্ত জলাভূমি।
৮কেরলের মালাবার উপকূলে দেখা যাওয়া অসংখ্য উপহ্রদ বা জলাভূমিগুলিকে কী বলে?
উত্তর
কয়াল (যেমন— ভেম্বানাদ, অষ্টমুদি)।
৯পৃথিবীর একমাত্র 'Wild Ass Sanctuary' বা বন্য গাধার অভয়ারণ্য কোথায় অবস্থিত?
উত্তর
গুজরাটের কচ্ছের রান অঞ্চলে।
১০ভারতের মূল ভূখণ্ডের উপকূলের মোট দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর
৫৪২৩ কিমি (দ্বীপপুঞ্জসহ মোট ৭৫১৬.৬ কিমি)।
১১পশ্চিমঘাট পর্বতের দুটি গিরিপথের নাম লেখো।
উত্তর
থলঘাট (নাসিক-মুম্বই) এবং ভোরঘাট (মুম্বই-পুনে)।
১২নীলগিরি পর্বতকে 'Blue Mountain' বলা হয় কেন?
উত্তর
এই অঞ্চলে সোলা বাস্তুতন্ত্রে প্রতি ১২ বছর অন্তর নীল রঙের 'নীলকুরিঞ্জি' ফুল ফোটে বলে একে ব্লু-মাউন্টেন বা নীলগিরি বলা হয়।
১৩'মৌসিম' বা 'মনসিন' কথার অর্থ কী?
উত্তর
ঋতু।
১৪ভারতের জলবায়ু প্রধানত কোন্ প্রকৃতির?
উত্তর
ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির।
১৫কোন্ পর্বত ভারতের জলবায়ুকে চরমভাবাপন্ন হতে দেয় না?
উত্তর
উত্তরের হিমালয় পর্বত (শীতল বাতাস আসতে বাধা দেয়)।
১৬গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে সৃষ্ট প্রবল ধূলিঝড়কে কী বলে?
উত্তর
আঁধি।
১৭শরৎকালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গে কী নামে পরিচিত?
উত্তর
আশ্বিনের ঝড়।
১৮পশ্চিমঘাট পর্বতের কোন্ ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর
পশ্চিম ঢালে।
১৯ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের নাম লেখো।
উত্তর
পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বঢাল বা মেঘালয়ের শিলং।
২০ভারতের সর্বাধিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
উত্তর
অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা।
২১'আশ্বিনের ঝড়' কোন মাসে দেখা যায়?
উত্তর
অক্টোবর মাসে (শরৎকালে)।
২২'মৌসুমি বিস্ফোরণ' ভারতের কোন উপকূলে প্রথম দেখা যায়?V.V.I
উত্তর
মালাবার উপকূলে।
২৩লাদাক মালভূমির দুটি বিখ্যাত লবণাক্ত হ্রদের নাম লেখো।
উত্তর
প্যাংগং এবং সো মোরিরি।
২৪কাশ্মীর উপত্যকা কোন কোন পর্বতের মাঝে অবস্থিত?
উত্তর
জাস্কর ও পিরপাঞ্জাল পর্বতের মাঝে।
২৫কারগিল শহর কোন পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত?
উত্তর
জাস্কর পার্বত্য অঞ্চলে।
২৬কোন শিলা থেকে কৃষ্ণ মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়?V.V.I
উত্তর
ব্যাসল্ট শিলা ও লাভা থেকে।
২৭লোহিত মৃত্তিকার রং লাল হওয়ার কারণ কী?
উত্তর
লোহা বা ফেরিক অক্সাইডের আধিক্য।
২৮'প্রণালী ক্ষয়' (Gully Erosion) কোথায় দেখা যায়?
উত্তর
উদ্ভিদহীন অধিক ঢালু ভূমিতে জলধারার কারণে প্রণালী ক্ষয় দেখা যায়।
২৯প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয় প্রতিরোধের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় কী?
উত্তর
বৃক্ষরোপণ।
৩০প্রশ্ন: সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ কাকে বলে?
উত্তর
পাহাড়ি অঞ্চলে সমোন্নতি রেখা বরাবর জমিগুলিতে আল বা বাঁধ দিয়ে কৃষিজমি তৈরি করে চাষবাস করাকে সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ বলে।
৩১প্রশ্ন: ফালি চাষ কী?
উত্তর
ভূমির ঢাল সম্পন্ন অঞ্চলে ঢালের আড়াআড়ি দিক বরাবর ভূমিকে কিছুটা সমতল করে শস্য চাষ করাকে ফালি চাষ বলে।
৩২প্রশ্ন: ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্যের দুটি গাছের নাম লেখো।
উত্তর
মেহগনি, আবলুস (বা রোজউড, রবার)।
৩৩প্রশ্ন: ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় কেন?
উত্তর
শুষ্ক জলবায়ুতে বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য।
৩৪প্রশ্ন: পূর্ব হিমালয়ের ৩০০০-৪০০০ মিটার উচ্চতায় কী ধরনের অরণ্য দেখা যায়?
উত্তর
সরলবর্গীয় অরণ্য (পাইন, ফার, স্প্রুস)।
৩৫প্রশ্ন: ভারতের সামাজিক বনসৃজন গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
উত্তর
উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে।
৩৬প্রশ্ন: 'চিপকো আন্দোলন' ভারতের কোন রাজ্যে গড়ে উঠেছিল?
উত্তর
উত্তরাখণ্ডে (গাছ কাটার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য)।
৩৭প্রশ্ন: ভারতের বনভূমির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কত শতাংশ?
উত্তর
মাত্র ২১.০৫% (৬৯২০২৭ বর্গ কিমি)।
৩৮প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় বননীতি ও বন সংরক্ষণ আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
উত্তর
জাতীয় বননীতি ১৯৫২ সালে এবং বন সংরক্ষণ আইন ১৯৮০ সালে প্রণয়ন করা হয়।
৩৯সামাজিক বনসৃজন কাকে বলে?
উত্তর
গ্রামাঞ্চলের অনুন্নত ও দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট অরণ্য সীমার বাইরে পতিত, পরিত্যক্ত বা অনাবাদি জমিতে গাছ লাগিয়ে অরণ্যের বিকাশ ঘটানোকে সামাজিক বনসৃজন বলে।
৪০কৃষি বনসৃজনের প্রধান গাছগুলির নাম লেখো।
উত্তর
শাল, মেহগনি, কলা, আম, জাম, সুপারি, নারকেল, নিম, তুলসী, বাসক ইত্যাদি।
৪১আশ্বিনের ঝড় কাকে বলে?
উত্তর
শরৎকালে ভারত মহাসাগরের দিকে আগত উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণবাতকে পশ্চিমবঙ্গে 'আশ্বিনের ঝড়' বলে।
৪২'Vale of Kashmir' বা 'ভূস্বর্গ' কাকে বলা হয়?
উত্তর
বৈচিত্র্যময় ও অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য কাশ্মীর উপত্যকাকে 'ভূস্বর্গ' বা 'Vale of Kashmir' বলা হয়।
৪৩মাউন্ট এভারেস্ট তিব্বতীয়দের কাছে কী নামে পরিচিত?
উত্তর
চোমোলুংমা (Chomlungma)।
৪৪মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রথম কে মেপেছিলেন?
উত্তর
রাধানাথ শিকদার।
৪৫কাশ্মীর হিমালয়ের দুটি লবণাক্ত জলের হ্রদের নাম লেখো।
উত্তর
প্যাংগং এবং সো মোরিরি (Tso Moriri)।
৪৬ভারতের একটি বৃহত্তম দুন উপত্যকার নাম লেখো।
উত্তর
দেরাদুন।
৪৭ভারতের মোট আয়তন কত?
উত্তর
৩২ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬৩ বর্গ কিমি।
৪৮আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীতে ভারতের স্থান কত?
উত্তর
সপ্তম।
৪৯ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মান কত?
উত্তর
৮২°৩০' পূর্ব।
৫০কোন দেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তরেখা সবচেয়ে দীর্ঘ?
উত্তর
বাংলাদেশ (৪,০৯৬.৭ কিমি)।
৫১কুমায়ুন হিমালয়ে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে?
উত্তর
তাল (যেমন- নৈনিতাল)।
৫২ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
উত্তর
কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮৫৯৮ মি.)।
৫৩কাশ্মীর উপত্যকায় কোন্ ধরনের মৃত্তিকা দেখা যায়?
উত্তর
কারেওয়া মৃত্তিকা।
৫৪হিমালয় সংক্রান্ত গবেষণা কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর
দেরাদুনে।
৫৫ভারতের মরু গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
উত্তর
রাজস্থানের যোধপুরে (Central Arid Zone Research Institution)।
৫৬আরাবল্লি পর্বতের পশ্চিমে ঋতুভিত্তিক ছোটো ছোটো নদী বিধৌত উর্বর প্লাবন ভূমিকে কী বলে?
উত্তর
রোহি।
৫৭রাজস্থানের থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে বালুকাপূর্ণ শুষ্ক মরু অঞ্চলের লবণাক্ত হ্রদগুলিকে কী বলে?
উত্তর
ধান্দ (যেমন- সম্বর হ্রদ)।
৫৮উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমিতে প্রাচীন পলি গঠিত অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
উত্তর
ভাঙ্গার।
৫৯উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমিতে প্লাবনের ফলে নবীন পলি সমৃদ্ধ উর্বর সমভূমিকে কী বলে?
উত্তর
খাদার।
৬০গঙ্গা-যমুনা দোয়াব-এর উচ্চ অংশে বায়ু বাহিত বালি ও পলি সমৃদ্ধ তরঙ্গায়িত উচ্চভূমি কী নামে পরিচিত?
উত্তর
ভুর।
৬১প্রশ্ন: কার্পাস বা তুলোর বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?
উত্তর
গসিপিয়াম হার্বেসিয়াম (Gossypium herbaceum)।
৬২প্রশ্ন: চা-এর বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?
উত্তর
ক্যামেলিয়া সিনেনসিস (Camellia sinensis)।
৬৩প্রশ্ন: রেটুন প্রথা কোন ফসলের চাষের সাথে যুক্ত?V.V.I
উত্তর
ইক্ষু বা আখ চাষের সাথে।
৬৪প্রশ্ন: কার্পাস উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্য প্রথম?
উত্তর
গুজরাট।
৬৫প্রশ্ন: ইক্ষু রপ্তানিতে বিশ্বে ভারতের স্থান কত?
উত্তর
দ্বিতীয় (প্রথম ব্রাজিল)।
৬৬প্রশ্ন: তুলো চাষের জন্য কী ধরনের সামুদ্রিক বাতাস প্রয়োজন?
উত্তর
কার্পাস আঁশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য সামুদ্রিক লবণাক্ত বাতাস উপযোগী।
৬৭প্রশ্ন: চা চাষের জন্য কেমন জমির প্রয়োজন?
উত্তর
জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পাহাড়ের ঢালু জমি।
৬৮ভারতের চা গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
উত্তর
অসমের জোড়হাটে। ('টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া' কলকাতায় অবস্থিত)।
৬৯ভারতের সবুজ বিপ্লবের জনক কাকে বলা হয়?V.V.I
উত্তর
ড. এম. এস. স্বামীনাথন-কে। (বিশ্বে সবুজ বিপ্লবের জনক নরম্যান বোরল্যাগ)।
৭০পণ্যসূচক (Material Index) কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর
আলফ্রেড ওয়েবার (১৯০৯ সালে তাঁর 'Industrial Locational Theory'-তে)।
৭১ভারতের কোথায় প্রথম লোহা-ইস্পাত কারখানা স্থাপিত হয়?
উত্তর
তামিলনাড়ুর পোটোনোভোতে (১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে)।
৭২TISCO (Tata Iron and Steel Company) কবে এবং কোথায় স্থাপিত হয়?
উত্তর
১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার সাকচিতে (বর্তমান জামশেদপুর)।
৭৩দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) কোন দেশের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে?
উত্তর
ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের (UK) সহযোগিতায় (১৯৫৯ সালে)।
৭৪ভিলাই এবং বোকারো লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র দুটি কোন দেশের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে?
উত্তর
সোভিয়েত রাশিয়ার (বর্তমান রাশিয়া) সহযোগিতায়।
৭৫একটি 'অস্থানু শিল্প' বা 'শেকড় আলগা শিল্প' (Footloose Industry)-এর উদাহরণ দাও।
উত্তর
কার্পাস বয়ন শিল্প।
৭৬ভারতের রেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ তৈরি হয় এমন দুটি জায়গার নাম লেখো।
উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের চিত্তরঞ্জন (CLW) এবং উত্তরপ্রদেশের বারাণসী (BLW/DCW)।
৭৭রেলের বগি (Coach) কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর
তামিলনাড়ুর পেরাম্বুর, পাঞ্জাবের কাপুরথালা এবং পশ্চিমবঙ্গের দমদম-এ।
৭৮পূর্ব ভারতের একটি পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্রের নাম লেখো।
উত্তর
হলদিয়া।
৭৯ধারণযোগ্য উন্নয়ন (Sustainable Development) কথাটি কে প্রথম ব্যবহার করেন?
উত্তর
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জি. এইচ. ব্রুন্ডটল্যান্ড (G. H. Brundtland) প্রথম ব্যবহার করেন।
৮০জনঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি লেখো।
উত্তর
জনঘনত্ব = কোনো দেশের মোট জনসংখ্যা ÷ ওই দেশের মোট ক্ষেত্রফল।
৮১সেনসাস শহরের ক্ষেত্রে অকৃষিকাজে নিযুক্ত পুরুষ কর্মীর হার কত হওয়া উচিত?
উত্তর
মোট কর্মক্ষম পুরুষ জনসংখ্যার অন্তত ৭৫% বা তার বেশি।
৮২সেনসাস শহরের ন্যূনতম জনঘনত্ব কত হওয়া প্রয়োজন?
উত্তর
প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪০০ জন।
৮৩ভারতের বৃহত্তম মেগাসিটির নাম কী?
উত্তর
বৃহত্তর মুম্বাই।
৮৪মেগাসিটি বা অতিমহানগরের ন্যূনতম জনসংখ্যা কত হওয়া প্রয়োজন?
উত্তর
৫০ লক্ষ বা তার বেশি।
৮৫শহর (Town) ও নগর (City)-এর জনসংখ্যার মাপকাঠি কত?
উত্তর
শহরের জনসংখ্যা ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষের কম এবং নগরের জনসংখ্যা ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষের কম।
৮৬নগরায়ণ (Urbanisation) কাকে বলে?
উত্তর
যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো গ্রাম ক্রমশ শহরে পরিণত হয় বা গ্রামীণ বসতি তার প্রকৃত চরিত্র হারিয়ে শহর বসতিতে পরিণত হয়, তাকে নগরায়ণ বলে।
৮৭ভারতের 'সিলিকন ভ্যালি' বা 'বিজ্ঞান নগরী' কাকে বলা হয়?V.V.I
উত্তর
বেঙ্গালুরুকে।
৮৮ভারতের প্রথম রেলপথ কবে, কোথা থেকে কোথায় চালু হয়?
উত্তর
১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত (৩৪ কিমি)।
৮৯উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম করিডর পরস্পরকে কোথায় অতিক্রম করেছে?
উত্তর
উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে।
৯০ভারতের উচ্চতম জাতীয় সড়কপথ কোনটি?
উত্তর
লে-মানালি সড়ক (NH-3)।
৯১ভারতের বৃহত্তম কৃত্রিম ও আধুনিক প্রযুক্তিযুক্ত বন্দর কোনটি?
উত্তর
জওহরলাল নেহরু বা নবসেবা বন্দর (মহারাষ্ট্র)।
৯২'হীরক চতুর্ভুজ' (Diamond Quadrilateral) কোন্ পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর
মেট্রো শহরের মধ্যে উচ্চগতিসম্পন্ন রেলপথ বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত।
৯৩ভারতের উচ্চতম বিমানবন্দরটির নাম কী?
উত্তর
লাদাখের লেহ-তে অবস্থিত কুশক বাকুলা রিমপোচে এয়ারপোর্ট।
৯৪আরব সাগরের রানি কোন্ শহরকে বলা হয়?
উত্তর
কোচি (কেরল)।
৯৫ভারতের একটি অন্তর্বাহিনী নদীর নাম লেখো।V.V.I
উত্তর
লুনি (৫৩০ কিমি)।
৯৬পৃথিবীর সর্বোচ্চ নদী কাকে বলা হয়?
উত্তর
সাংপো (Sky River নামে পরিচিত)।
৯৭ভারতের একটি প্লাবন খালের নাম লেখো।
উত্তর
ইডেন খাল বা হিজলি খাল।
৯৮গঙ্গা নদীর ডানতীরের একটি প্রধান উপনদীর নাম লেখো।
উত্তর
যমুনা (বা শোন)।
৯৯অবিশুদ্ধ কাঁচামালের একটি উদাহরণ দাও।V.V.I
উত্তর
আকরিক লোহা (MI > 1)।
১০০কার্পাস বয়ন শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের পণ্যসূচক (Material Index) কত?
উত্তর
১ (এটি বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল)।

শূন্যস্থান পূরণ করো:

১০১ডানকান প্যাসেজ দক্ষিণ আন্দামান ও ______________ কে বিচ্ছিন্ন করেছে।
উত্তর
ক্ষুদ্র আন্দামান
১০২লাক্ষা ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জ গঠনগতভাবে একটি ______________ দ্বীপ।
উত্তর
প্রবাল
১০৩গঙ্গা নদী ______________ এর কাছে সমভূমিতে অবতরণ করেছে।
উত্তর
হরিদ্বার
১০৪ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতে ______________ নামে পরিচিত।
উত্তর
সাংপো
১০৫ভারতের উচ্চতম লবণাক্ত জলের হ্রদ হলো ______________।
উত্তর
প্যাংগং (লাদাখ)
১০৬ভারতের বৃহত্তম এবং গভীরতম কয়াল হলো ______________।
উত্তর
ভেম্বানাদ (কেরল)
১০৭কর্কটক্রান্তিরেখা ভারতের প্রায় ________ বরাবর বিস্তৃত হওয়ায় এটি ভারতকে উত্তর ও দক্ষিণ দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত করেছে।
উত্তর
মাঝ
১০৮ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমারেখা ________ লাইন নামে পরিচিত।
উত্তর
র‍্যাডক্লিফ
১০৯ডুরান্ড লাইন ভারত ও ________ এর মধ্যে অবস্থিত।
উত্তর
আফগানিস্তানের
১১০কুমায়ুন হিমালয় থেকে ________ নদী উৎপন্ন হয়েছে।
উত্তর
গঙ্গা
১১১কাশ্মীর উপত্যকাকে ভারতের ________ বলা হয়।
উত্তর
ভূস্বর্গ (বা 'প্রাচ্যের নন্দনকানন')
১১২থর মরুভূমির পূর্ব প্রান্তে আরাবল্লি পর্বত পর্যন্ত মরুপ্রায় অঞ্চল হল ________।
উত্তর
বাগার
১১৩পাঞ্জাব সমভূমিতে নবীন পলি গঠিত উর্বর ভূমি ________ নামে পরিচিত।
উত্তর
বেট
১১৪মধ্য গাঙ্গেয় সমভূমির অন্তর্গত জলাভূমিগুলি উত্তর বিহারে 'চাউর' এবং দক্ষিণ বিহারে ________ নামে পরিচিত।
উত্তর
তাল
১১৫কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে আম্রবৃষ্টি _________ বৃষ্টি নামেও পরিচিত।V.V.I
উত্তর
কফি বা চেরি ব্লসমস (Cherry blossoms)।
১১৬শীতকালীন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় বিঘ্ন ঘটায় বলে পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে _________ বলে।
উত্তর
Western Disturbance বা পশ্চিমী গোলযোগ।

শুদ্ধ বা অশুদ্ধ নিরূপণ করো:

১১৭নর্মদা এবং তাপ্তী হলো ভারতের দুটি উল্লেখযোগ্য পূর্ববাহিনী নদী।
উত্তর
অশুদ্ধ (এগুলি পশ্চিমবাহিনী নদী)।
১১৮নারকোন্ডাম হলো একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
উত্তর
শুদ্ধ
১১৯সিন্ধু নদের উৎপত্তি হয়েছে মানস সরোবরের নিকট চেমায়ুং দুং হিমবাহ থেকে।
উত্তর
অশুদ্ধ (ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি চেমায়ুং দুং থেকে, সিন্ধুর উৎপত্তি সিঞ্জি খাবাব বা মানস সরোবর থেকে)।
১২০মাজুলি দ্বীপটি অসমে অবস্থিত।
উত্তর
শুদ্ধ
১২১লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কনট্রোল (LAC) হল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমারেখা।
উত্তর
অশুদ্ধ (সঠিক: ভারত ও চিন)
১২২নৈনিতাল, ভীমতাল প্রভৃতি হ্রদগুলি কুমায়ুন হিমালয়ে অবস্থিত।
উত্তর
শুদ্ধ
১২৩থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে বালুকাপূর্ণ, উদ্ভিদহীন শুষ্ক মরু অঞ্চলকে মরুস্থলী বলে।
উত্তর
শুদ্ধ
১২৪পাঞ্জাব সমভূমিতে প্রাচীন পলি সমৃদ্ধ অঞ্চলকে বেট বলে।
উত্তর
অশুদ্ধ (সঠিক: নবীন পলিকে বেট এবং প্রাচীন পলিকে ধায়া বলে)
১২৫মাজুলি দ্বীপটি ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থিত।
উত্তর
শুদ্ধ
১২৬লা-নিনার প্রভাবে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
উত্তর
শুদ্ধ
১২৭আবল্লী পর্বতের অবস্থানের কারণে রাজস্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
উত্তর
অশুদ্ধ (বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়)।

বামস্তম্ভের সাথে ডানস্তম্ভ মেলাও:

১২৮বামস্তম্ভের সাথে ডানস্তম্ভ মেলাও:
বামস্তম্ভ ডানস্তম্ভ
১. ভারতের সর্ব উত্তরের বিন্দুক. সম্বর
২. পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গখ. ইন্দিরা কল
৩. ভারতের বৃহত্তম লবণাক্ত হ্রদগ. মাজুলি
৪. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপঘ. সান্দাকফু
উত্তর
১-খ, ২-ঘ, ৩-ক, ৪-গ

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) SAQ মান ২

১রাজ্য পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তিগুলি কী কী?
উত্তর
ভারতে রাজ্য পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তিগুলি হলো—
  • ১) ভাষা (সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ),
  • ২) প্রশাসনিক সুবিধা,
  • ৩) সংস্কৃতি,
  • ৪) অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং
  • ৫) প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সাদৃশ্য।
২'ডেকানট্র্যাপ' কাকে বলে?V.V.I
উত্তর
দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ ৬-১৩ কোটি বছর পূর্বে বিদার অগ্ন্যুৎগমের ফলে ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত হয়েছে। ধাপযুক্ত বা সিঁড়ির মতো আকৃতিবিশিষ্ট এই অঞ্চলকে 'ডেকানট্র্যাপ' বলে। ('ডেকান' অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং 'ট্র্যাপ' অর্থ সিঁড়ি বা ধাপ)।
৩মালনাদ ও ময়দান কী?
উত্তর
কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিম দিকের উঁচুনিচু ঢেউ খেলানো ভূভাগকে 'মালনাদ' বলা হয় এবং এর পূর্ব দিকের মৃদু তরঙ্গায়িত অনুচ্চ ভূমিভাগকে 'ময়দান' বলা হয়। এটি গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত।
৪কয়াল কী? উদাহরণ দাও।V.V.I
উত্তর
ভারতের পশ্চিম উপকূলের মালাবার অংশে (কেরল) অসংখ্য দীর্ঘাকৃতি উপহ্রদ বা জলাভূমি (Back water) দেখা যায়। বারবার ভূ-আলোড়নজনিত উত্থান-পতনের কারণে সৃষ্ট এই জলাভূমিগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলে। যেমন: ভেম্বানাদ (ভারতের বৃহত্তম ও গভীরতম কয়াল), অষ্টমুদি।
৫পাট (Pat) অঞ্চল বলতে কী বোঝো?
উত্তর
ছোটোনাগপুর মালভূমির পশ্চিম অংশে চারদিক খাড়া ঢালযুক্ত ও উপরিভাগ চ্যাপটা বা সমতল প্রকৃতির উচ্চভূমি 'পাট' অঞ্চল নামে পরিচিত। এর গড় উচ্চতা ১০০০ মিটার এবং এগুলি নদী উপত্যকা দ্বারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন।
৬অপভূমি বা ব্যাডল্যান্ড (Badland) কী?
উত্তর
বৃষ্টিহীন শুষ্ক বা স্বল্প শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলে কঠিন অনুর্বর মৃত্তিকার ওপর জলধারার ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট সংকীর্ণ নালা বা খোয়াই ও র‍্যাভাইন যুক্ত এবড়োখেবড়ো অঞ্চলকে অপভূমি বা ব্যাডল্যান্ড বলে। যেমন: ভারতের চম্বল উপত্যকা।
৭কয়াল বা লেগুন কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর
সমুদ্র উপকূলবর্তী অগভীর ও লবণাক্ত জলভাগ যখন তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত থাকে এবং একদিক সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তাকে লেগুন বা উপহ্রদ বলে। কেরলের মালাবার উপকূলে এগুলিকে 'কয়াল' বলা হয়। যেমন— ভেম্বানাদ (ভারতের বৃহত্তম কয়াল), চিল্কা (ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ)।
৮অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।V.V.I
উত্তর
যে সকল নদী কোনো সাগর বা মহাসাগরে না মিশে দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে পতিত হয়, তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে। উদাহরণ: লুনি নদী (কচ্ছের রনে পতিত হয়েছে)।
৯'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' কাকে বলে এবং কেন?V.V.I
উত্তর
গোদাবরী নদীকে 'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' বলা হয়। কারণ, গঙ্গা নদীর মতো গোদাবরী হলো দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী (১৪৬৫ কিমি) এবং দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৃষিকাজে ও জলসেচে এই নদী গঙ্গার মতোই গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১০নর্মদা ও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী কেন?V.V.I
উত্তর
টারশিয়ারি যুগের মায়োসিনি উপযুগে হিমালয়ের উত্থানকালে প্রবল ভূ-আলোড়নের প্রভাবে উপদ্বীপীয় মালভূমির মধ্যভাগে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। এই প্রবল চাপে নর্মদা ও তাপ্তী নদীর গতিপথে যে গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়, তার ঢাল পশ্চিমদিকে। এই পশ্চিমমুখী ঢালু গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলেই নর্মদা ও তাপ্তী পশ্চিমবাহিনী হয়ে আরব সাগরে পড়েছে।
১১আন্তর্জাতিক নদী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর
যে সকল নদী দুই বা তার বেশি দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগর বা মহাসাগরে পতিত হয়, তাদের আন্তর্জাতিক নদী বলে। উদাহরণ: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু।
১২লু (Loo) ও আঁধি (Aandhi) কী?
উত্তর
গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে যে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তাকে 'লু' বলে। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে (রাজস্থান অঞ্চলে) যে প্রবল ধূলিঝড় (৫০-৬০ কিমি/ঘণ্টা বেগে) সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'আঁধি' বলে।
১৩পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা Western Disturbance কী?
উত্তর
শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশে (পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ইত্যাদি) হালকা বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত ঘটে। শীতকালীন শান্ত আবহাওয়ায় এই বায়ুপ্রবাহ বিঘ্ন ঘটায় বা অস্থিরতা সৃষ্টি করে বলে একে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।
১৪আম্রবৃষ্টি (Mango Shower) কী?V.V.I
উত্তর
গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ ভারতের কেরল ও কর্ণাটক উপকূলে যে প্রাক্-মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়, তা আমচাষের পক্ষে খুব উপকারী। তাই স্থানীয়ভাবে একে আম্রবৃষ্টি বলে।
১৫কালবৈশাখী কী?
উত্তর
গ্রীষ্মকালে বিকেলে মাঝে মাঝে পশ্চিমবঙ্গ, অসম প্রভৃতি রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ যে প্রবল ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে। এটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে 'নরওয়েস্টার' (Norwester)-ও বলা হয়।
১৬বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর
জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে প্রতিবাদ ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর, যখন পর্বত অতিক্রম করে অনুবাত ঢালে পৌঁছায়, তখন বায়ুতে জলীয় বাষ্প অনেক কমে যায়। ফলে সেখানে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়। এই অল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। উদাহরণ: মেঘালয়ের শিলং, পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল।
১৭পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) কী?
উত্তর
শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট দুর্বল ঘূর্ণবাতের প্রভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে (পাঞ্জাব সমভূমি এবং জম্মু-কাশ্মীরে) যে হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।
১৮আশ্বিনের ঝড় কী?
উত্তর
অক্টোবর মাসে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু এবং বঙ্গোপসাগরীয় আর্দ্র সামুদ্রিক বায়ু মিলিত হয়ে দুর্বল ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি করে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে ও পূর্ব উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হয়। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আশ্বিন মাসে এটি ঘটে বলে একে আশ্বিনের ঝড় বলে।
১৯কারাকোরাম পর্বতের অবস্থান লেখো। এর দুটি উল্লেখযোগ্য হিমবাহের নাম কী?
উত্তর
কারাকোরাম পর্বত ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পামীর গ্রন্থি থেকে উত্তর-পূর্বে কুনলুন পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দুটি উল্লেখযোগ্য হিমবাহ হলো - সিয়াচেন (ভারতের দীর্ঘতম, ৭৬ কিমি) এবং বিয়াফো।
২০জাস্কর পর্বতশ্রেণির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর
লাদাকের দক্ষিণে সুরু নদী থেকে কর্নালী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৬৪০ কিমি দীর্ঘ পর্বতশ্রেণি হলো জাস্কর। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কামেট (৭৭৫৬ মি.)। বিখ্যাত কারগিল শহর এবং সিপকিলা, লিপুলেখ নামক গিরিপথগুলি এই অঞ্চলে অবস্থিত।
২১পলি মৃত্তিকার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর
  • (১) এই মাটির প্রধান উপাদান পলি, নুড়ি ও কাদা, এর উর্বরতা অনেক বেশি।
  • (২) এই মাটিতে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও চুন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম থাকে।
২২কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মাটির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।V.V.I
উত্তর
  • (১) টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইটের উপস্থিতির কারণে এর রং কালো হয়।
  • (২) এই মৃত্তিকায় কাদা বা কর্দমের পরিমাণ বেশি (৩০-৮০%) হওয়ায় এর জলধারণ ক্ষমতা খুব ভালো, যা তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
২৩সিরোজেম কী? এটি কোথায় দেখা যায়?
উত্তর
সিরোজেম হলো মরু অঞ্চলের হালকা গ্রন্থনযুক্ত বালি-জাতীয় ধূসর রঙের অনুর্বর মৃত্তিকা। এটি ভারতের পশ্চিম রাজস্থান, দক্ষিণ হরিয়ানা, দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাব এবং গুজরাটের কিছু অঞ্চলে দেখা যায়।
২৪চাদর ক্ষয় (Sheet Erosion) ও নালি ক্ষয় (Rill Erosion) বলতে কী বোঝো?
উত্তর
চাদর ক্ষয়: ঢালু ভূমির ওপর দিয়ে প্রবহমান জলধারা মৃত্তিকার ওপরের স্তরকে চাদরের মতো সমানভাবে অপসারণ করলে তাকে চাদর ক্ষয় বলে।
নালি ক্ষয়: জলধারার মাধ্যমে অসংখ্য ক্ষুদ্র নালিকার মধ্য দিয়ে মাটির উপরিভাগ অপসারিত হলে তাকে নালি ক্ষয় বলে।
২৫প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয় বলতে কী বোঝো? এর দুটি কারণ লেখো।
উত্তর
প্রাকৃতিক শক্তি বা মনুষ্যসৃষ্ট কারণে উর্বর মৃত্তিকার উপরিস্তর অপসারিত হওয়াকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
২৬প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয়ের দুটি ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করো।
উত্তর
  • ১. উর্বর উপরিস্তরের অপসারণের ফলে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।
  • ২. ভৌমজলের স্তর নিচে নেমে যায় এবং খরা ও বন্যার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়।
২৭প্রশ্ন: ধাপ চাষ ও ফালি চাষের মাধ্যমে কীভাবে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করা যায়?
উত্তর
পাহাড়ের ঢাল বরাবর ধাপ কেটে চাষ করলে জলপ্রবাহের গতি বাধা পায় এবং মৃত্তিকা ক্ষয় হ্রাস পায়। ফালি চাষের ক্ষেত্রে ঢালের আড়াআড়ি দিক বরাবর ভূমি সমতল করে চাষ করলেও জলের গতিবেগ কমে গিয়ে মৃত্তিকা ক্ষয় নিয়ন্ত্রিত হয়।
২৮প্রশ্ন: ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্যের উদ্ভিদের পাতা চিরসবুজ থাকে কেন?
উত্তর
এই অরণ্য অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি এবং গড় উষ্ণতা (২৫°-২৭° সে.) বেশি থাকে। সারাবছর পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও উষ্ণতা থাকায় গাছগুলি একযোগে তাদের পাতা ঝরায় না, তাই এই বনভূমি চিরহরিৎ বা চিরসবুজ থাকে।
২৯প্রশ্ন: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের দুটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর
  • ১. শ্বাসমূল (Pneumatophore) ও ঠেসমূল (Stilt root) দেখা যায়।
  • ২. জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম (Viviparous germination) দেখা যায়।
৩০প্রশ্ন: বনসৃজন (Afforestation) ও পুনর্বনসৃজন (Reforestation) বলতে কী বোঝো?
উত্তর
পতিত বা অনাবাদি জমি এবং জলাধারের পাড়ে নতুন করে উদ্ভিদ চারা রোপণ করে বনভূমি গড়ে তোলাকে বনসৃজন বলে।
৩১সামাজিক বনসৃজনের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য লেখো।
উত্তর
  • ১. পতিত জমি, রাস্তার ধার, ও অব্যবহৃত জমিতে গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।
  • ২. স্থানীয় মানুষের জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য ও অন্যান্য বনজ সম্পদের চাহিদা মেটানো।
৩২কৃষি বনসৃজনের উদ্দেশ্যগুলি কী কী?
উত্তর
  • (i) জমিতে জৈব সারের পরিমাণ বৃদ্ধি করা,
  • (ii) প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা, এবং
  • (iii) ভূমিক্ষয় রোধ করা।
৩৩কারেওয়া (Karewa) কী?
উত্তর
কাশ্মীর উপত্যকায় ১০০-২০০ মিটার উঁচু হ্রদের চারপাশে ধাপযুক্ত উর্বর পলিস্তরকে স্থানীয় কাশ্মীরি ভাষায় 'কারেওয়া' বলা হয়। কারেওয়া কথার অর্থ 'উচ্চ টেবিলভূমি'। এটি জাফরান ও আপেল চাষের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত।
৩৪ডেকানট্র্যাপ বলতে কী বোঝো?V.V.I
উত্তর
'Decan' শব্দের অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং 'Trap' শব্দের অর্থ সিঁড়ি বা ধাপ। পশ্চিমঘাট পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ের ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে নেমে গেছে, একেই একত্রে 'ডেকানট্র্যাপ' বলা হয়।
৩৫কয়াল কী?V.V.I
উত্তর
ভূ-আন্দোলনজনিত কারণে মালাবার উপকূলে ভূভাগের উত্থান ও নিমজ্জনের ফলে যে অসংখ্য লবণাক্ত জলাভূমির সৃষ্টি হয়েছে, তাদের স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলা হয়।
৩৬কাশ্মীর উপত্যকা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর
উচ্চ হিমালয় ও পীরপঞ্জাল পর্বতশ্রেণির মাঝে অবস্থিত এই উপত্যকা প্রামথিকভাবে ভূ-আন্দোলন, ভূমিকম্প এবং পরবর্তীকালে নদী ও হিমবাহের মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
৩৭'তাল' কী?
উত্তর
কুমায়ুন হিমালয়ে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় 'তাল' বলে। উদাহরণ: নৈনিতাল, ভীমতাল, সাততাল ইত্যাদি।
৩৮'দুন' কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর
হিমাচল হিমালয় ও শিবালিক শ্রেণির মধ্যে অবস্থিত প্রায় সমতল উপত্যকাকে 'দুন' বলা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে শিবালিক বা অবহিমালয়ের উত্থানের ফলে এই সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণ: দেরাদুন (বৃহত্তম দুন)।
৩৯'মরুস্থলী' বলতে কী বোঝো?
উত্তর
রাজস্থানের থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বালুকাপূর্ণ, উদ্ভিদহীন শুষ্ক মরু অঞ্চলকে 'মরুস্থলী' বলে। 'মরুস্থলী' কথার অর্থ হল 'মৃতের দেশ'।
৪০'দোয়াব' শব্দের অর্থ কী? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর
ফারসি শব্দ 'দো' কথার অর্থ দুই এবং 'আব' কথার অর্থ জল। পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদীর মধ্যবর্তী পলি সঞ্চিত উর্বর সমভূমিকে দোয়াব বলে। যেমন- গঙ্গা-যমুনার মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চল, বিস্ত জলন্ধর দোয়াব।
৪১খাদার ও ভাঙ্গার কাকে বলে?V.V.I
উত্তর
নদীর তীরবর্তী নবীন পলিগঠিত উর্বর সমভূমিকে খাদার (Khadar) এবং নদী থেকে দূরবর্তী প্রাচীন পলিগঠিত অপেক্ষাকৃত কম উর্বর সমভূমিকে ভাঙ্গার (Bhangar) বলে।
৪২ভাবর ও তরাই বলতে কী বোঝো?
উত্তর
শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে নুড়ি-পাথর পূর্ণ সচ্ছিদ্র ভূমিভাগকে ভাবর এবং তার দক্ষিণে স্যাঁতসেঁতে, জলাভূমিপূর্ণ ও অরণ্যময় অঞ্চলকে তরাই বলে।
৪৩'ধ্রিয়ান' ও 'ধান্দ' কী?
উত্তর
রাজস্থানের থর মরুভূমিতে চলমান বালিয়াড়িগুলিকে স্থানীয় ভাষায় 'ধ্রিয়ান' এবং লবণাক্ত জলের হ্রদগুলিকে 'ধান্দ' বলা হয়।
৪৪'চোশ' কী?
উত্তর
পাঞ্জাব সমভূমির উত্তরের অংশ অর্থাৎ শিবালিক পর্বতের পাদদেশ বরাবর অসংখ্য ছোটো ছোটো নদী বা জলধারা সৃষ্টি হয়ে যে ক্ষয়প্রাপ্ত অংশের সৃষ্টি করেছে, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'চোশ' (Chos) বলা হয়।
৪৫প্রশ্ন: রেটুন (Ratoon) কী?
উত্তর
আখ কেটে নেওয়ার পর আখের মূল থেকে যে ছোটো ছোটো চারা বের হয়, তাকে রেটুন বলে। রেটুন থেকে আখ বড়ো হয় বা একে তুলে অন্যত্র চাষ করা যায়, এর ফলে কৃষকদের নতুন করে চারা রোপণের খরচ বাঁচে।
৪৬প্রশ্ন: কার্পাস চাষে সামুদ্রিক বাতাসের ভূমিকা কী?
উত্তর
কার্পাস বা তুলো গাছ বৃদ্ধির সময় এবং কার্পাস আঁশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির প্রয়োজনে সামুদ্রিক লবণাক্ত বাতাস খুবই উপযোগী। তাই সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে তুলো চাষ ভালো হয়।
৪৭প্রশ্ন: চা বাগিচায় ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ লাগানো হয় কেন?
উত্তর
চা গাছ অধিক রৌদ্র বা প্রখর সূর্যালোক সহ্য করতে পারে না। তাই প্রখর রৌদ্রের হাত থেকে চা গাছকে রক্ষা করতে চা বাগানে ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ (যেমন- সিলভার ওক) লাগানো হয়।
৪৮প্রশ্ন: কার্পাস বা তুলো কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর
আঁশের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তুলো তিন প্রকার:
  • (i) দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলো (৩.৫ - ৬.৫ সেমি),
  • (ii) মাঝারি আঁশযুক্ত তুলো (২.২ - ৩.৫ সেমি),
  • (iii) ক্ষুদ্র আঁশযুক্ত তুলো (২.২ সেমির কম)।
ভারতে মূলত ক্ষুদ্র আঁশযুক্ত তুলোর চাষ বেশি হয়।
৪৯সবুজ বিপ্লব বলতে কী বোঝো?V.V.I
উত্তর
কৃষিজ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতিকে সবুজ বিপ্লব আখ্যা দেওয়া হয়। ১৯৬০-এর দশকে ভারতে উচ্চফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে প্রধানত পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে গম উৎপাদনে যে বৈপ্লবিক বৃদ্ধি ঘটে, তাকেই সবুজ বিপ্লব বলে।
৫০বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ কাঁচামাল কাকে বলে?V.V.I
উত্তর
শিল্পে ব্যবহৃত যে সকল কাঁচামালের ওজন তার থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের অনুপাতের সমান, তাদের বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে (যেমন— কার্পাস)। অন্যদিকে, যে সকল কাঁচামালের ওজন তার থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের অনুপাতের চেয়ে বেশি হয়, তাদের অবিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে (যেমন— আকরিক লোহা)।
৫১খনিজভিত্তিক শিল্প কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর
বিভিন্ন প্রকার খনিজ দ্রব্য কোনো শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হলে, তাকে খনিজভিত্তিক শিল্প বলে। একে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— ধাতব শিল্প (যেমন: লোহ-ইস্পাত শিল্প) এবং অধাতব শিল্প (যেমন: সিমেন্ট শিল্প)।
৫২ভারতীয় কৃষির দুটি প্রধান সমস্যা লেখো।
উত্তর
  • i) হেক্টর প্রতি শস্যের কম উৎপাদন।
  • ii) জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ অত্যন্ত কম বা অপ্রতুলতা।
৫৩দুর্গাপুরকে 'ভারতের রূঢ়' বলা হয় কেন?
উত্তর
জার্মানির রাইন নদীর উপনদী রূঢ় উপত্যকার কয়লা ও লৌহ আকরিকের ওপর নির্ভর করে যেমন রূঢ় শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, ঠিক একইভাবে ভারতের দামোদর উপত্যকার দুর্গাপুর অঞ্চলে স্থানীয় রানিগঞ্জ ও ঝরিয়ার কয়লা এবং ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার লৌহ আকরিকের ওপর ভিত্তি করে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। তাই এই সাদৃশ্যের জন্য দুর্গাপুরকে 'ভারতের রূঢ়' বলা হয় (নামকরণ করেন ড. বিধানচন্দ্র রায়)।
৫৪আমেদাবাদকে 'ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' বলা হয় কেন?
উত্তর
ব্রিটেনের ম্যাঞ্চেস্টার শহর যেমন উন্নতমানের আমদানি করা তুলোর ওপর ভিত্তি করে বস্ত্রশিল্পে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিল, তেমনি ভারতের গুজরাটের আমেদাবাদ শহরও স্থানীয় এবং মিশর ও গ্রিস থেকে আমদানি করা তুলোর সাহায্যে কার্পাস বয়ন শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। ভারতে সর্বাধিক কাপড়ের কল (৭২টি) এখানেই থাকায় একে 'ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' বলা হয়।
৫৫অস্থানু শিল্প বা শেকড় আলগা শিল্প (Footloose Industry) কাকে বলে?
উত্তর
যে সমস্ত শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং উৎপাদিত দ্রব্যের ওজন প্রায় সমান থাকে (পণ্যসূচক বা MI = ১), অর্থাৎ বিশুদ্ধ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, তাদের অস্থানু শিল্প বলে। এই ধরনের শিল্প কাঁচামালের উৎসস্থল, বাজার বা পরিবহণ পথের যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে গড়ে উঠতে পারে। উদাহরণ: কার্পাস বয়ন শিল্প।
৫৬SAIL কী?
উত্তর
SAIL-এর পুরো নাম Steel Authority of India Limited। এটি ভারত সরকারের ইস্পাত মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি সংস্থা, যা ১৯৭৩ সালে গঠিত হয়। ভারতের ৫টি সুসংহত ইস্পাত কেন্দ্র (ভিলাই, রাউরকেল্লা, দুর্গাপুর, বোকারো, বার্নপুর) এবং ৩টি সংকর ইস্পাত কেন্দ্র-এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে SAIL। এর সদর দপ্তর নতুন দিল্লিতে অবস্থিত।
৫৭ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বা পূর্ত শিল্প কাকে বলে?
উত্তর
বিভিন্ন ধাতব ও অধাতব কাঁচামাল, উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমিকের সাহায্যে ছোটো, মাঝারি ও বড়ো আকারের যন্ত্র, যন্ত্রাংশ, নাটবোল্ট ইত্যাদি তৈরির প্রক্রিয়াকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে।
৫৮ধারণযোগ্য উন্নয়ন বা স্থিতিশীল উন্নয়ন বলতে কী বোঝো?
উত্তর
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে কোনো আপস না করে বা কোনোপ্রকার সমস্যা সৃষ্টি না করে বর্তমানের চাহিদা মেটানোর যে পরিকল্পনা বা উন্নয়ন, তাকেই ধারণযোগ্য উন্নয়ন বা Sustainable Development বলা হয়।
৫৯ভারতের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর
  • (i) উচ্চ জন্মহার ও মৃত্যুহার হ্রাস: চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে মৃত্যুর হার কমেছে, কিন্তু সেই অনুপাতে জন্মহার কমেনি।
  • (ii) দারিদ্র্য ও অশিক্ষা: দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও কুসংস্কারের কারণে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
৬০শহর গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জলবায়ু ও জলের প্রাপ্যতার ভূমিকা কী?
উত্তর
জলবায়ু: সমভাবাপন্ন বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু মানুষের বসবাস ও কাজের পক্ষে অনুকূল, তাই ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে বা আরামদায়ক জলবায়ু অঞ্চলে শহর বেশি গড়ে ওঠে।
জলের প্রাপ্যতা: জীবনধারণ, শিল্প ও কৃষির জন্য জল অপরিহার্য। তাই নদী বা জলের উৎসের কাছাকাছি শহর গড়ে ওঠে (যেমন— প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা)।
৬১স্ট্যাটুটারি শহর (Statutory Town) ও সেনসাস শহর (Census Town) কাকে বলে?
উত্তর
স্ট্যাটুটারি শহর: যে অঞ্চলটি পৌরসভা, কর্পোরেশন, নোটিফায়েড টাউন এরিয়া বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়, তাকে স্ট্যাটুটারি শহর বলে।
সেনসাস শহর: যে বসতির ন্যূনতম জনসংখ্যা ৫০০০ জন, জনঘনত্ব ৪০০ জন/বর্গকিমি এবং ৭৫% পুরুষ অকৃষিকাজে যুক্ত, তাকে সেনসাস শহর বলে।
৬২সোনালি চতুর্ভুজ (Golden Quadrilateral) কী?
উত্তর
ভারতের চারটি প্রধান মেগাসিটি—দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতাকে যুক্তকারী ৫৮৪৬ কিমি দীর্ঘ ৪-৬ লেনবিশিষ্ট অতি দ্রুতগামী জাতীয় সড়কপথ প্রকল্পকে সোনালি চতুর্ভুজ বলা হয়।
৬৩পোতাশ্রয় কাকে বলে?
উত্তর
সমুদ্র বন্দরের যে অংশে জাহাজগুলিকে পুনরায় কোনো গন্তব্যে রওনা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করানো হয় বা মেরামতের জন্য রাখা হয় এবং ঝড়-ঝঞ্ঝা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা থাকে, তাকে পোতাশ্রয় বলে।
৬৪পশ্চাদভূমি (Hinterland) বলতে কী বোঝো?
উত্তর
বন্দরের সংলগ্ন স্থলভাগের যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রপ্তানিযোগ্য পণ্য ওই বন্দর দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয় এবং আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বিতরণ করা হয়, সেই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে। বন্দরের উন্নতি এর ওপর নির্ভরশীল।
৬৫উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডর কী?
উত্তর
ভারতের উত্তরে শ্রীনগর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ৪১১২ কিমি দীর্ঘ সড়কপথ 'উত্তর-দক্ষিণ করিডর' এবং পশ্চিমে পোরবন্দর থেকে পূর্বে শিলচর পর্যন্ত ৩২৯৮ কিমি দীর্ঘ সড়কপথ 'পূর্ব-পশ্চিম করিডর' নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যামূলক ও পার্থক্যমূলক প্রশ্ন (Analytical) Analytical মান ৩

১পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।V.V.I
উত্তর
ভিত্তিপশ্চিমঘাট পর্বতমালাপূর্বঘাট পর্বতমালা
বিস্তৃতিভারতের পশ্চিম উপকূল বরাবর বিস্তৃত।ভারতের পূর্ব উপকূল বরাবর বিস্তৃত।
উচ্চতাএর গড় উচ্চতা ৯০০-১৬০০ মিটার।এর গড় উচ্চতা ৬০০ মিটার।
নিরবচ্ছিন্নতাএটি একটি নিরবচ্ছিন্ন পর্বতমালা, কেবল কয়েকটি পাস (যেমন- থলঘাট, ভোরঘাট, পালঘাট) রয়েছে।এটি নদী উপত্যকা দ্বারা খণ্ডিত এবং বিচ্ছিন্ন একটি পর্বতমালা।
২উত্তর ভারতের নদনদী ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীদের মধ্যে তিনটি/পাঁচটি প্রধান পার্থক্য লেখো।মান: ৩/৫V.V.I
উত্তর
ভিত্তিউত্তর ভারতের নদনদীদক্ষিণ ভারতের নদনদী
জলের উৎসহিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট, তাই সারাবছর জল থাকে (নিত্যবহ)।বৃষ্টির জলে পুষ্ট, তাই শুষ্ক ঋতুতে জল থাকে না (অনিত্যবহ)।
গতিপথনদীগুলির গতিপথ দীর্ঘ এবং তিনটি গতি (উচ্চ, মধ্য, নিম্ন) সুস্পষ্ট।নদীগুলির গতিপথ তুলনামূলকভাবে ছোট এবং গতিগুলি সুস্পষ্ট নয়।
নৌপরিবহণনদীগুলি সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নৌপরিবহণের উপযোগী।নদীগুলি মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় খরস্রোতা এবং নৌপরিবহণের অনুপযোগী।
৩পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম উপকূলের পার্থক্য আলোচনা করো।মান: ৩/৫V.V.I
উত্তর
ভিত্তিপূর্ব উপকূলপশ্চিম উপকূল
উৎপত্তিনদী বাহিত পলি সঞ্চয় ও সমুদ্র তরঙ্গের কার্যের ফলে সৃষ্ট।ভূ-আন্দোলনের ফলে উত্থান ও পতন এবং সমুদ্র তরঙ্গের কার্যের ফলে সৃষ্ট।
প্রস্থএটি অপেক্ষাকৃত চওড়া (৮০-১০০ কিমি)।এটি অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ (৫০-৬৫ কিমি)।
বদ্বীপএই উপকূলের নদীগুলির মোহনায় বদ্বীপ রয়েছে (যেমন: গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী)।পশ্চিম উপকূলের নদীগুলির মোহনায় কোনো বদ্বীপ নেই।
৪ভারতের দ্বীপপুঞ্জগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।মান: ৩
উত্তর
ভারতের দ্বীপ অঞ্চল প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত:
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ: বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এটি প্রায় ২৬৫টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ স্যাডল পিক (৭৩৭ মি.)। ব্যারেন ও নারকোন্ডাম নামক আগ্নেয়গিরি এখানে অবস্থিত। ১০° চ্যানেল দ্বারা আন্দামান ও নিকোবর পরস্পর বিচ্ছিন্ন। এর সর্বদক্ষিণ বিন্দু 'ইন্দিরা পয়েন্ট' হলো সমগ্র ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু।
লাক্ষা ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জ: আরব সাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি ৩৬টি ছোটো-বড়ো প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্রধান তিনটি হলো আমিনদিভি, কান্নানোর ও মিনিকয়।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ টিপস:

ম্যাপ পয়েন্টিং-এর জন্য গঙ্গা, নর্মদা, তাপ্তী, গোদাবরী, চিল্কা হ্রদ, ডানক্যান প্যাসেজ এবং ১০° চ্যানেল বিশেষভাবে অনুশীলন করবে।
৫তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় কেন?V.V.I
উত্তর
তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রধান কারণ হলো:
  • ১. বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা পূর্বঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে এই উপকূলে প্রথমবার বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  • ২. শীতকালে প্রত্যাগমনকারী উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এবং পূর্বঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে এই উপকূলে দ্বিতীয়বার বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৬ভারতের জলবায়ুর ওপর হিমালয় পর্বতের প্রভাব লেখো।
উত্তর
ভারতের জলবায়ুর ওপর হিমালয় পর্বতের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
  • ১. উত্তরের অতি শীতল সাইবেরিয়ান বায়ুকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, ফলে ভারত তীব্র শীতের হাত থেকে রক্ষা পায়।
  • ২. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাধা পেয়ে উত্তর ও পূর্ব ভারতে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৭রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর
রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:
  • ১. আরাবল্লী পর্বতের অবস্থান: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা আরাবল্লী পর্বতের সমান্তরালে প্রবাহিত হওয়ায় এখানে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয় না।
  • ২. বঙ্গোপসাগরীয় শাখার আর্দ্রতা হ্রাস: বঙ্গোপসাগরীয় শাখা গঙ্গা উপত্যকা অতিক্রম করে রাজস্থানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় জলীয় বাষ্পহীন হয়ে পড়ে।
  • ৩. অত্যাধিক উষ্ণতা: গ্রীষ্মকালে অত্যধিক উষ্ণতার কারণে বাষ্পীভবনের মাত্রা খুব বেশি থাকে।
৮এল-নিনো ও লা-নিনা কীভাবে ভারতের জলবায়ুকে প্রভাবিত করে?
উত্তর
এল-নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দক্ষিণমুখী অস্থায়ী উষ্ণ সমুদ্রস্রোত। এল-নিনো বছরগুলিতে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে মৌসুমি বায়ু দেরিতে আসে এবং বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, যা খরার সৃষ্টি করে।
৯কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মাটির বৈশিষ্ট্য ও বণ্টন লেখো।
উত্তর
বৈশিষ্ট্য:
  • (১) ব্যাসল্ট শিলা থেকে সৃষ্ট এই মাটির রং টিটানিফেরাস ম্যাগনেটাইটের কারণে কালো হয়।
  • (২) কাদাকণার পরিমাণ বেশি থাকায় এর জলধারণ ক্ষমতা খুব ভালো।
  • (৩) এই মাটি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ।
বণ্টন: ভারতের প্রায় ১৬.৬% অঞ্চল জুড়ে এই মৃত্তিকা দেখা যায়। প্রধানত মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকে এর বিস্তার।
ফসল: তুলা (সর্বশ্রেষ্ঠ), গম, জোয়ার, আখ, সূর্যমুখী প্রভৃতি।
১০লোহিত মৃত্তিকা ও ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।V.V.I
উত্তর
ভিত্তিলোহিত মৃত্তিকাল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
সৃষ্টিপ্রাচীন গ্রানাইট ও নিস শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টি হয়।উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ধৌত প্রক্রিয়ায় (Leaching) সৃষ্টি হয়।
জলধারণ ক্ষমতাজলধারণ ক্ষমতা মাঝারি প্রকৃতির।জলধারণ ক্ষমতা খুবই কম।
উর্বরতাসার প্রয়োগ করলে মোটামুটি চাষবাস করা যায় (তুলনামূলক উর্বর)।এটি অত্যন্ত অনুর্বর এবং চাষবাসের পক্ষে অনুপযুক্ত।
১১মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রাকৃতিক কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান প্রাকৃতিক কারণগুলি হলো:
প্রবহমান জলধারা: জলের প্রভাবে চাদর ক্ষয় (বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ওপরের স্তরের মাটি ক্ষয়), নালি ক্ষয় (ক্ষুদ্র নালিকার মাধ্যমে ক্ষয়) এবং প্রণালী ক্ষয় (অধিক ঢালু অংশে গভীর খাতের মাধ্যমে ক্ষয়) ঘটে।
বায়ুপ্রবাহ: শুষ্ক ও প্রায়-শুষ্ক অঞ্চলে উদ্ভিদ আবরণের অভাবে প্রবল বায়ুপ্রবাহ লম্ফদান বা ভাসমান পদ্ধতিতে মাটিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়িয়ে নিয়ে যায়।
বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি: প্রবল বর্ষণের সময় বৃষ্টির বড়ো বড়ো ফোঁটা সজোরে মাটিতে আঘাত করে মৃত্তিকার কণাগুলিকে আলগা করে দেয়, ফলে সহজে মৃত্তিকা ক্ষয় হয়।
১২উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক উপবিভাগগুলির নাম উল্লেখ করো এবং লাদাক মালভূমির পরিচয় দাও।
উত্তর
ভারতের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলকে চারটি উপবিভাগে ভাগ করা হয়— কারাকোরাম, লাদাক, জাস্কর ও হিমালয় পর্বতশ্রেণি।

লাদাক মালভূমির পরিচয়:
  • ১. অবস্থান: লাদাক মালভূমি কারাকোরাম পর্বতশ্রেণির দক্ষিণে এবং জাস্কর পর্বতশ্রেণির উত্তরে অবস্থিত।
  • ২. উচ্চতা ও ভূপ্রকৃতি: এটি ভারতের সর্বোচ্চ মালভূমি (গড় উচ্চতা প্রায় ৩০০০-৫০০০ মিটার)। এটি মূলত একটি শুষ্ক, অনুর্বর ও শীতল মরুভূমি অঞ্চল। এখানকার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত রুক্ষ ও বন্ধুর।
  • ৩. হ্রদ: এই মালভূমি অঞ্চলে প্যাগং (Pangong Tso) ও সো-মোরিরি (Tso Moriri)-র মতো বেশ কিছু লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায়।
১৩প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয় প্রতিরোধের তিনটি প্রধান উপায় আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
মৃত্তিকা ক্ষয় রোধের তিনটি প্রধান উপায় হলো—
  • ১. বনসৃজন: পতিত ও ঢালু জমিতে ব্যাপকভাবে গাছ লাগালে গাছের শেকড় মাটিকে শক্ত করে আটকে রাখে।
  • ২. ধাপ চাষ: পাহাড়ের ঢালু অংশে ধাপ কেটে চাষ করলে জলপ্রবাহের বেগ কমে যায় এবং মৃত্তিকা ক্ষয় হ্রাস পায়।
  • ৩. ফালি চাষ: পাহাড়ের ঢালে আড়াআড়িভাবে ফিতাকৃতি অংশে ঘাস বা ফসল চাষ করলে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করা সম্ভব হয়।
১৪প্রশ্ন: ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য এবং ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্যের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।V.V.I
উত্তর
ভিত্তিক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্যক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য
বৃষ্টিপাতবার্ষিক ১০০-২০০ সেমি বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে জন্মায়।বার্ষিক ২০০ সেমি-এর বেশি বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে জন্মায়।
পাতা ঝরাশুষ্ক ঋতুতে (শীতকালে) গাছের পাতা ঝরে যায়।সারা বছরই পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় গাছের পাতা চিরসবুজ থাকে।
কাঠের প্রকৃতিকাঠ তুলনামূলকভাবে নরম এবং হালকা হয়।কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও ভারী হয়।
১৫প্রশ্ন: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে এদের পরিবেশের সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর
ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদ মূলত সমুদ্র উপকূলীয় জোয়ার-ভাটা প্লাবিত কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত পরিবেশে জন্মায়। এই প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য এদের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায়:
  • ১. শ্বাসমূল (Pneumatophores): উপকূলীয় কর্দমাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকে। তাই অক্সিজেন গ্রহণের জন্য এদের শেকড়ের একটি অংশ অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির ওপরে উঠে আসে, যাদের শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে। (যেমন- সুন্দরী, গরান)।
  • ২. ঠেসমূল (Stilt roots): নরম ও কর্দমাক্ত মাটিতে গাছকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখার জন্য এবং জোয়ারের তীব্র স্রোতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এদের কাণ্ডের গোড়া থেকে ঠেসমূল বের হয়। (যেমন- কেয়া)।
  • ৩. জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম (Viviparous germination): লবণাক্ত মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ব্যাহত হয়। তাই ফলের ভেতরে বীজ থাকা অবস্থাতেই গাছের ডালে এদের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে, যাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম বলে।
১৬প্রশ্ন: অরণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বা ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের ব্যবহার সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর
  • ১. পরিবেশের ভারসাম্য: অরণ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে ও অক্সিজেন ত্যাগ করে।
  • ২. মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ: অরণ্য বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে এবং গাছের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে ক্ষয় রোধ করে।
  • ৩. বনজ সম্পদ: কাঠ, মধু, ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের জন্য অরণ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
১৭হিমাদ্রি বা প্রধান হিমালয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর
হিমাদ্রি বা প্রধান হিমালয় হলো হিমালয়ের প্রস্থ বরাবর সমান্তরাল চারটি বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে উত্তরের অংশ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
  • ১. উচ্চতা: এই অংশের গড় উচ্চতা প্রায় ৬০০০ মিটার এবং এটি সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে।
  • ২. প্রধান শৃঙ্গসমূহ: পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৪৮.৮৬ মিটার) এবং ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮৫৯৮ মিটার) এই হিমাদ্রি হিমালয়েই অবস্থিত। এছাড়াও মাকালু, ধবলগিরি, অন্নপূর্ণা, নন্দাদেবী প্রভৃতি শৃঙ্গ এখানে দেখা যায়।
  • ৩. হিমবাহ ও গিরিপথ: এই অংশে গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, জেমু প্রভৃতি দীর্ঘ হিমবাহ এবং নাথুলা, জোজিনা, জেলেপলা-র মতো অসংখ্য গিরিপথ বা পাস অবস্থিত।
১৮কাশ্মীর হিমালয়ের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর
জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ অঞ্চলে বিস্তৃত কাশ্মীর হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
  • ১. পর্বতশ্রেণি: কাশ্মীর হিমালয়ে কারাকোরাম, লাদাক, জাস্কর ও পীরপাঞ্জাল পর্বতশ্রেণি সমান্তরালভাবে অবস্থান করছে。
  • ২. উপত্যকা: পীরপাঞ্জাল ও উচ্চ হিমালয়ের মাঝখানে ভূস্বর্গ 'কাশ্মীর উপত্যকা' অবস্থিত, যা অত্যন্ত মনোরম।
  • ৩. কারেওয়া: এখানকার একটি বিশেষ ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হলো 'কারেওয়া' (Karewa), যা হলো হিমবাহ ও নদী দ্বারা সৃষ্ট ধাপযুক্ত সমভূমি। এটি জাফরান (Saffron) চাষের জন্য বিখ্যাত।
  • ৪. হ্রদ: কাশ্মীর হিমালয়ে ডাল ও উলারের মতো সুপেয় জলের হ্রদ এবং প্যাংগং-এর মতো লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায়।
১৯কারেওয়া উপত্যকা সৃষ্টির ইতিহাস ও তার অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।
উত্তর
সৃষ্টির ইতিহাস: কাশ্মীর উপত্যকায় পীরপাঞ্জাল পর্বতশ্রেণির উত্থানের ফলে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে এক বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়। পরে সেই হ্রদে পলি সঞ্চিত হয়ে এবং জল বেরিয়ে গিয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে তাকে কারেওয়া বলে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: কারেওয়া মাটি জাফরান বা কেশর (Saffron) চাষের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এছাড়াও আপেল ও আখরোট চাষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির তিনটি প্রধান কারণ লেখো।মান: ৩
উত্তর
রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:
  • ১. আরাবল্লী পর্বতের অবস্থান: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা আরাবল্লী পর্বতের সমান্তরালে প্রবাহিত হওয়ায় এখানে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয় না।
  • ২. বঙ্গোপসাগরীয় শাখার আর্দ্রতা হ্রাস: বঙ্গোপসাগরীয় শাখা গঙ্গা উপত্যকা অতিক্রম করে রাজস্থানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় জলীয় বাষ্পহীন হয়ে পড়ে।
  • ৩. অত্যাধিক উষ্ণতা: গ্রীষ্মকালে অত্যধিক উষ্ণতার কারণে বাষ্পীভবনের মাত্রা খুব বেশি থাকে।
২১উত্তরের সমভূমি অঞ্চলকে ভূপ্রাকৃতিক ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কটি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?মান: ৩
উত্তর
উত্তরের সমভূমি অঞ্চলকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
  • (A) পশ্চিমের সমভূমি বা রাজস্থানের সমভূমি
  • (B) সিন্ধু সমভূমি বা পাঞ্জাব সমভূমি
  • (C) গাঙ্গেয় সমভূমি (উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি)
  • (D) ব্রহ্মপুত্র সমভূমি।
২২প্রশ্ন: চা চাষের জন্য পাহাড়ের ঢালু জমি উপযুক্ত কেন?V.V.I
উত্তর
চা চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টির প্রয়োজন হলেও, চা গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছের শেকড় পচে যায়। পাহাড়ের ঢালু জমিতে জলনিকাশি ব্যবস্থা ভালো থাকায় বৃষ্টির জল দ্রুত গড়িয়ে নেমে যায় এবং গাছের গোড়ায় দাঁড়াতে পারে না। এই কারণে পাহাড়ের ঢালু জমি চা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
২৩প্রশ্ন: কার্পাস চাষের জন্য রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা উপযোগী কেন?V.V.I
উত্তর
কার্পাস চাষের জন্য চুন ও লবণ মিশ্রিত উর্বর দোআঁশ মৃত্তিকা এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম এমন মাটি প্রয়োজন। দাক্ষিণাত্য মালভূমির রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকার জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি এবং এই মাটি খনিজ সমৃদ্ধ, যা তুলো গাছের পুষ্টি ও আঁশের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই এই মৃত্তিকা কার্পাস চাষের পক্ষে আদর্শ।
২৪প্রশ্ন: ইক্ষু বা আখ চাষে জলবায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
ইক্ষু বা আখ চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
  • ১. তাপমাত্রা: ২০° সেলসিয়াস থেকে ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা আখ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
  • ২. বৃষ্টিপাত: বার্ষিক ১০০ থেকে ১৫০ সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। তবে আখের বৃদ্ধির সময় বৃষ্টিপাত এবং কাটার সময় শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকা জরুরি।
  • ৩. তুষারপাত: তুষারপাত আখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তাই তুষারমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন।
২৫সবুজ বিপ্লবের সুফল ও কুফলগুলি আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
সুফল:
  • i) তাৎক্ষণিকভাবে গম ও ধান উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
  • ii) দেশের খাদ্যসংকটের সমাধান হয় ও কৃষকের আয় বাড়ে।
কুফল:
  • i) দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
  • ii) অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পরিবেশের অবনমন ঘটে এবং মানুষের শরীরে ক্যানসারসহ অন্যান্য মারণরোগ বৃদ্ধি পায়।
২৬শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও জলবায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর
কাঁচামাল: শিল্পের অবস্থান কাঁচামালের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। বিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প (যেমন: কার্পাস বয়ন) বাজার বা অন্য যেকোনো স্থানে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু অবিশুদ্ধ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প (যেমন: লোহ-ইস্পাত) কাঁচামালের উৎসের কাছেই গড়ে ওঠে।
জলবায়ু: নির্দিষ্ট কিছু শিল্প নির্দিষ্ট জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। যেমন— কার্পাস শিল্প আর্দ্র জলবায়ুতে সবচেয়ে ভালো গড়ে ওঠে।
২৭পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।V.V.I
উত্তর
ভারতের অধিকাংশ বৃহৎ লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র (যেমন- টিসকো, বোকারো, দুর্গাপুর, রাউরকেল্লা, ভিলাই) পূর্ব ও মধ্য ভারতে গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি হলো:
  • ১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: ছোটোনাগপুর মালভূমি ও সংলগ্ন অঞ্চল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে উৎকৃষ্ট লৌহ আকরিক এবং রানিগঞ্জ, ঝরিয়া, বোকারো থেকে প্রচুর কয়লা সহজেই পাওয়া যায়।
  • ২. জলের যোগান: লৌহ-ইস্পাত শিল্পে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। দামোদর, সুবর্ণরেখা, ব্রাহ্মণী ও মহানদী থেকে এই শিল্পের প্রয়োজনীয় জল সহজেই সংগ্রহ করা যায়।
  • ৩. সুলভ শ্রমিক ও পরিবহণ: বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার জনবহুল অঞ্চল থেকে সুলভ শ্রমিক পাওয়া যায়। এছাড়া উন্নত রেলপথ (পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেল) এবং কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের নৈকট্য এই শিল্পের বিকাশে দারুণ সাহায্য করেছে।
২৮লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামালগুলি কী কী?
উত্তর
লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামালগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
  • ১. লৌহ আকরিক: এটি প্রধান কাঁচামাল। লোহা তৈরির জন্য হেমাটাইট ও ম্যাগনেটাইট জাতীয় আকরিক লোহা ব্যবহার করা হয়।
  • ২. জ্বালানি বা কয়লা: আকরিক লোহাকে গলানোর জন্য প্রচুর তাপশক্তির প্রয়োজন হয়, যার জন্য প্রধান জ্বালানি হিসেবে কোক কয়লা ব্যবহার করা হয়।
  • ৩. সংকর ধাতু ও অন্যান্য উপাদান: লোহাকে শক্ত ও মজবুত করতে এবং ইস্পাতে পরিণত করতে ম্যাঙ্গানিজ, চুনাপাথর ও ডলোমাইট ব্যবহার করা হয়। চুনাপাথর ও ডলোমাইট মূলত আকরিক লোহার ভেজাল বা অশুদ্ধি দূর করতে সাহায্য করে।
২৯ভারতে নগরায়ণের প্রধান তিনটি সমস্যা আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
ভারতে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে যে সমস্যাগুলি সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে প্রধান তিনটি হলো:
পরিকাঠামোর অভাব: গ্রাম থেকে বিপুল মানুষ রোজগারের আশায় শহরে আসায় বাসস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে এবং বস্তি গড়ে উঠছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক পরিকাঠামোরও অভাব ঘটে।
পরিবহণ ও যানজট সমস্যা: নগরায়ণের ফলে শহরে গাড়ির সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নিত্যদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে।
নিকাশি ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা: ভারতের প্রায় ৩৬% শহরবাসী উপযুক্ত নিকাশি বা পয়ঃপ্রণালীর সুযোগ পায় না। ফলে দূষিত জল নিষ্কাশনের অভাবে জলজমা, পরিবেশ দূষণ এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
৩০ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলি কী কী?V.V.I
উত্তর
ভারতে দ্রুত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রধানত নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা যায়:
প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট: কৃষি জমির ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বনভূমি বা অরণ্য সম্পদ সংকুচিত হচ্ছে।
পরিবেশ দূষণ ও খাদ্যসংকট: মৃত্তিকা, জল ও বায়ু দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও অনাহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বেকারত্ব ও অনুন্নয়ন: কর্মসংস্থানের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় বেকারত্ব ও সামাজিক অপরাধ বাড়ছে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
৩১রেলপথকে 'ভারতের জীবনরেখা' বা 'জাতীয় জীবনরেখা' বলা হয় কেন?V.V.I
উত্তর
ভারতের মতো বিশাল দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেলপথের ভূমিকা অপরিসীম। অধিক পণ্য পরিবহণ, মাঝারি ও দূরপাল্লার যাতায়াত, কৃষিজ ও শিল্পজ কাঁচামাল আনানেওয়া, ভারী খনিজ দ্রব্য সরবরাহ, দ্রুত সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রেলপথই প্রধান মাধ্যম। এই অপরিহার্যতার কারণেই ভারতীয় রেলকে 'ভারতের জীবনরেখা' বলা হয়।
৩২জলপথকে 'উন্নয়নের জীবনরেখা' বলা হয় কেন?
উত্তর
নদী, খাল বা সমুদ্রে নৌকা, স্টিমার ও জাহাজের সাহায্যে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণ হলো জলপথ। জলপথ নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষ খরচ নেই বলে এটি পরিবহণের সবচেয়ে সুলভ মাধ্যম। ভারী, বৃহৎ ও অতিমাত্রায় পণ্য সস্তায় আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায় বলে জলপথকে 'উন্নয়নের জীবনরেখা' বলা হয়।

রচনাধর্মী প্রশ্ন (LAQ) LAQ মান ৫

১পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি ও পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।
উত্তর
ভিত্তিপশ্চিম উপকূলীয় সমভূমিপূর্ব উপকূলীয় সমভূমি
উৎপত্তিভূ-আন্দোলনের ফলে উত্থান ও পতন এবং সমুদ্র তরঙ্গের কার্যের ফলে সৃষ্ট।নদী বাহিত পলি সঞ্চয় ও সমুদ্র তরঙ্গের কার্যের ফলে সৃষ্ট।
প্রস্থএটি অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ (৫০-৬৫ কিমি)।এটি অপেক্ষাকৃত চওড়া (৮০-১০০ কিমি)।
বদ্বীপপশ্চিম উপকূলের নদীগুলির মোহনায় কোনো বদ্বীপ নেই।এই উপকূলের নদীগুলির মোহনায় বদ্বীপ রয়েছে (যেমন: গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী)।
২ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের তিনটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর
খনিজ সম্পদ: ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমি খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে আকরিক লোহা, কয়লা, বক্সাইট, মাইকা, সোনা, তামা প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় (যেমন- কোলার, রানিগঞ্জ, ঝরিয়া)।
কৃষিকাজ: এই অঞ্চলের ডেকানট্র্যাপ বা লাভা গঠিত রেগুর (কৃষ্ণ) মৃত্তিকা কার্পাস বা তুলো চাষের জন্য আদর্শ। এছাড়া বাজরা, ভুট্টা ইত্যাদিও ভালো হয়।
জলবিদ্যুৎ ও বনজ সম্পদ: এই অঞ্চলের খরস্রোতা নদীগুলি থেকে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এছাড়া পশ্চিমঘাট ও নীলগিরির ঘন অরণ্য থেকে মূল্যবান কাঠ ও বনজ সম্পদ সংগৃহীত হয়।
৩ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দাও।
উত্তর
ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূল বরাবর গুজরাটের কচ্ছের রান থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত সমভূমিকে পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি বলে। এটি প্রধানত ৪টি উপবিভাগে বিভক্ত:
খ) কোঙ্কন উপকূল: উত্তরে সুরাট থেকে দক্ষিণে গোয়া পর্যন্ত প্রায় ৪৫-৭৫ কিমি প্রশস্ত এই উপকূল অবস্থিত। মহারাষ্ট্রের মুম্বই শহর এই উপকূলে অবস্থিত।
ঘ) মালাবার উপকূল: ম্যাঙ্গালোর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত কেরল রাজ্যে এই উপকূল অবস্থিত। এই উপকূলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অসংখ্য উপহ্রদ বা 'কয়াল'-এর উপস্থিতি (যেমন- ভেম্বানাদ)। এছাড়া এখানকার বালিয়াড়িগুলিকে স্থানীয় ভাষায় 'টেরিস' বলা হয়।
৪ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির শ্রেণিবিভাগ করো এবং এদের সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর
ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি উত্তরে সুবর্ণরেখা নদী থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় ২৩৮৭ কিমি দীর্ঘ। এটি প্রশস্ত, উর্বর এবং অসংখ্য বদ্বীপ যুক্ত। একে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
ক) উত্তরের সরকার উপকূল: ওড়িশার সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণা নদীর বদ্বীপের পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। এর দুটি অংশ—
ওড়িশা বা উৎকল উপকূল: * এখানে এশিয়ার বৃহত্তম লেগুন বা উপহ্রদ 'চিলকা' অবস্থিত।
অন্ধ্র উপকূল: * পুলিকট হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত এই অংশে কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর মাঝে বিখ্যাত 'কোলেরু' হ্রদ অবস্থিত।
খ) করমণ্ডল উপকূল: তামিলনাডুর পুলিকট হ্রদ থেকে কন্যাকুমারী অন্তরীপ পর্যন্ত এই অংশটি বিস্তৃত। এই অঞ্চলে কাবেরী নদীর উর্বর বদ্বীপ অবস্থিত, যা 'দক্ষিণ ভারতের শস্যাভাণ্ডার' নামে পরিচিত। বছরে দুবার বৃষ্টিপাত এবং উর্বর পলিমৃত্তিকার জন্য এই অঞ্চল কৃষিকাজে অত্যন্ত উন্নত। চেন্নাই শহর এই উপকূলে অবস্থিত।
৫ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমির অন্তর্গত 'দাক্ষিণাত্য মালভূমি'-এর ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর
তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত উপদ্বীপীয় দাক্ষিণাত্য মালভূমির আয়তন প্রায় ৭.৫ লক্ষ বর্গকিমি। ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে একে প্রধান কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা যায়:
  • ১. পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা সহ্যাদ্রি: এই মালভূমির পশ্চিম সীমানা বরাবর পশ্চিমঘাট পর্বতমালা অবস্থিত। এটি একটি টানা বা অবিচ্ছিন্ন পর্বতমালা। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আনাইমুদি (২৬৯৫ মি.)।
  • ২. পূর্বঘাট পর্বতমালা বা মলয়াদ্রি: পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থিত এটি একটি খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন পর্বতমালা, কারণ মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী ইত্যাদি নদী একে কেটে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো জিন্দাগাদা (১৬৯৯ মি.)।
  • ৩. নীলগিরি পর্বত: দাক্ষিণাত্য মালভূমির দক্ষিণে যেখানে পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এসে মিলিত হয়েছে, সেখানে নীলগিরি পর্বত অবস্থিত। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দোদাবেতা (২৬৩৭ মি.)।
  • ৪. ডেকানট্র্যাপ ও অন্যান্য মালভূমি: এই মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশে ফাটল দিয়ে লাভা বেরিয়ে ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত ধাপযুক্ত অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে, যাকে ডেকানট্র্যাপ বলে। এছাড়া এর পূর্বে রয়েছে কর্ণাটক মালভূমি (মালনাদ ও ময়দান) এবং তেলেঙ্গানা মালভূমি।
৬ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর
ভারতের জলবায়ু বৈচিত্র্যপূর্ণ হলেও তা মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি হলো:
  • ১. অক্ষাংশগত অবস্থান: ভারতের মাঝবরাবর কর্কটক্রান্তি রেখা প্রসারিত হওয়ায় দক্ষিণ ভারত উষ্ণ ক্রান্তীয় এবং উত্তর ভারত নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর অন্তর্গত।
  • ২. হিমালয় পর্বতের প্রভাব: উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বত অবস্থান করায় শীতকালে মধ্য এশিয়ার অতি শীতল বায়ু ভারতে প্রবেশ করতে পারে না। আবার মৌসুমি বায়ু এই পর্বতে বাধা পেয়ে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  • ৩. সমুদ্রের নৈকট্য: ভারতের তিনদিকে সমুদ্র থাকায় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়, কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত স্থানগুলির জলবায়ু চরমভাবাপন্ন।
  • ৪. ভূপ্রকৃতি ও উচ্চতা: উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা হ্রাস পায়। তাই দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল বা উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে সারা বছরই আবহাওয়া শীতল থাকে।
  • ৫. মৌসুমি বায়ু: ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো মৌসুমি বায়ু। এই বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর ভিত্তি করেই ভারতের ঋতুপরিবর্তন এবং বৃষ্টিপাত নির্ভর করে।
৭ভারতের জলবায়ু বা জনজীবনে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর
ভারতের জলবায়ু, অর্থনীতি ও জনজীবনে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অপরিসীম:
  • ১. ঋতু পরিবর্তন: ভারতে প্রধানত মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর ভিত্তি করেই চারটি ঋতুচক্র (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত) নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • ২. বৃষ্টিপাতের বণ্টন: ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯০% দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঘটে। তবে এই বায়ুর খামখেয়ালিপনার কারণে কোনো বছর অতিবৃষ্টিতে বন্যা আবার কোনো বছর অনাবৃষ্টিতে খরা দেখা দেয়।
  • ৩. কৃষিকাজ: ভারতের কৃষিকাজ মূলত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। মৌসুমি বৃষ্টিপাত সময়মতো ও পর্যাপ্ত হলে খারিফ শস্যের (যেমন- আমন ধান, পাট, তুলো) ফলন ভালো হয়।
  • ৪. নদীর নাব্যতা ও জলবিদ্যুৎ: মৌসুমি বৃষ্টির জলে ভারতের নদনদীগুলি পুষ্ট হয়। ফলে সারা বছর নদীতে জল থাকে, যা সেচকাজ, নৌ-পরিবহণ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাহায্য করে।
  • ৫. অর্থনীতি ও জনজীবন: যেহেতু ভারতের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, তাই মৌসুমি বৃষ্টিপাত ভালো হলে কৃষকের আয় বাড়ে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নতি ঘটে। ভারতের উৎসব, জীবনযাত্রা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস— সবকিছুতেই মৌসুমি বায়ুর প্রভাব স্পষ্ট।
৮ভারতের যেকোনো দুটি প্রধান মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য, বণ্টন এবং উৎপাদিত ফসল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো। (পলি ও কৃষ্ণ মৃত্তিকা)
উত্তর
(ক) পলি মৃত্তিকা (Alluvial Soil):
বৈশিষ্ট্য:
  • (১) নদী অববাহিকায় পলি, বালি ও কাদা সঞ্চিত হয়ে এই মাটি গড়ে ওঠে।
  • (২) এই মাটিতে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ক্ষারীয় পদার্থ পর্যাপ্ত থাকলেও জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেন কম থাকে।
  • (৩) জলধারণ ক্ষমতা কম হলেও এই মৃত্তিকা কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত উর্বর।
বণ্টন: ভারতের প্রায় ৪৫.৬% অঞ্চল (১৫ লক্ষ বর্গকিমি) জুড়ে এটি বিস্তৃত। উত্তর ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা এবং দক্ষিণ ভারতের মহানদী-গোদাবরী-কৃষ্ণা-কাবেরীর বদ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।
ফসল: ধান, গম, যব, ভুট্টা, পাট, আখ ও শাকসবজি।
(খ) কৃষ্ণ মৃত্তিকা (Black Soil):
বৈশিষ্ট্য:
  • (১) ব্যাসল্ট ও লাভা শিলা থেকে সৃষ্ট এই মাটির রং কালো হয়।
  • (২) এতে কাদার ভাগ বেশি (৩০-৮০%) থাকায় এর জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
  • (৩) ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হলেও নাইট্রোজেন কম থাকে।
বণ্টন: মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে (প্রায় ১৬.৬% বা ৫.৪৬ লক্ষ বর্গকিমি) এই মাটি দেখা যায়।
ফসল: তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হওয়ায় একে 'ব্ল্যাক কটন সয়েল' বলা হয়। এছাড়া গম, জোয়ার, আখ, তিসি, বাদাম প্রভৃতি চাষ হয়।
৯মৃত্তিকা ক্ষয় কাকে বলে? ভারতের মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান প্রাকৃতিক কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
বৃষ্টিপাত, নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তিগুলির ক্রিয়ায় মৃত্তিকার উপরিস্তরের কণাগুলি অপসারিত হওয়ার ঘটনাকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান প্রাকৃতিক কারণ:

প্রবহমান জলধারা: জলধারার মাধ্যমে মৃত্তিকা ক্ষয় প্রধানত তিনভাবে ঘটে:**
(i) চাদর ক্ষয়: * সমানভাবে ঢালু ভূমির ওপর দিয়ে প্রবহমান জলধারা মৃত্তিকার ওপরের স্তরকে চাদরের মতো সমভাবে অপসারণ করে।
(ii) নালি ক্ষয়: * ঢালু ভূমিতে জলধারার প্রভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য নালিকার সৃষ্টি হয় এবং মাটি অপসারিত হয়।
(iii) প্রণালী ক্ষয়: * উদ্ভিদহীন অধিক ঢালু অংশে নালিগুলি আরও বড় ও গভীর খাড়া খাতের সৃষ্টি করে, যা প্রণালী ক্ষয় নামে পরিচিত।
১০ভারতের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের কারাকোরাম ও জাস্কর পর্বতশ্রেণির ভূ-প্রকৃতির বিবরণ দাও।
উত্তর
কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি:
ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে সিনোজোয়িক যুগে এটি সৃষ্টি হয়। এখানকার পর্বতশৃঙ্গগুলি অত্যন্ত উচ্চ। গডউইন অস্টিন বা K2 (৮৬১১ মি.) হলো এই পর্বতের এবং ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম)। এছাড়া গ্যাসাব্রুম-১, গ্যাসাব্রুম-২, ব্রডপিক উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ।
জাস্কর পর্বতশ্রেণি:
শৃঙ্গ ও গিরিপথ: এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো কামেট (৭৭৫৬ মি.)। সিপকিলা, লিপুলেখ এবং মানা হলো এখানকার বিখ্যাত গিরিপথ।
শহর: কারগিল এই পার্বত্য অঞ্চলের একটি বিখ্যাত শহর।
এখানে মাধ্যমিক ভূগোল (অধ্যায়: ভারত - মৃত্তিকা ক্ষয় ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ) থেকে ১০০% কমনযোগ্য সম্পূর্ণ সাজেশন দেওয়া হলো:
পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠা নং ১০৪-১০৮ অবলম্বনে তৈরি।
১১প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয়ের মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলি এবং এর ফলাফল বিস্তারিত আলোচনা করো। সংকেত: (মনুষ্যসৃষ্ট কারণ হিসেবে জনসংখ্যার চাপ, অনিয়ন্ত্রিত পশুচারণ, অবৈজ্ঞানিক খনন, বৃক্ষচ্ছেদন, প্রথাগত কৃষিপদ্ধতি নিয়ে লিখতে হবে। ফলাফলের মধ্যে উর্বর উপরিস্তরের অপসারণ, ভৌমজলের স্তর হ্রাস, মরুভূমির প্রসার, বন্যা ও খরার বৃদ্ধি, নদীর নাব্যতা হ্রাসের কথা উল্লেখ করতে হবে।)V.V.I
উত্তর
মৃত্তিকা ক্ষয়ের মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলি হলো:
  • ১. অবৈজ্ঞানিক কৃষিপদ্ধতি: পাহাড়ের ঢালে ধাপ না কেটে বা বিজ্ঞানসম্মত উপায় ছাড়া প্রথাগত পদ্ধতিতে চাষ করলে (যেমন- ঝুম চাষ) মৃত্তিকা ক্ষয় বাড়ে।
  • ২. বৃক্ষচ্ছেদন: জনসংখ্যার চাপে বসতি স্থাপন, কৃষিজমি সম্প্রসারণ ও শিল্পের জন্য নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে মৃত্তিকার বুনন শিথিল হয়ে ক্ষয় ত্বরান্বিত হয়।
  • ৩. অনিয়ন্ত্রিত পশুচারণ: পাহাড়ের ঢালে ও তৃণভূমিতে মাত্রাতিরিক্ত পশুচারণ করা হলে তৃণস্তর নষ্ট হয় এবং মাটি উন্মুক্ত হয়ে সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  • ৪. খনিজ উত্তোলন: অবৈজ্ঞানিক উপায়ে খনিজ পদার্থ উত্তোলনের ফলে মাটির উপরিস্তর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
    মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলাফল:
  • ১. উর্বরতা হ্রাস: মাটির সবচেয়ে উর্বর উপরিস্তর অপসারিত হওয়ায় কৃষিকাজ দারুণভাবে ব্যাহত হয়।
  • ২. নদীর নাব্যতা হ্রাস ও বন্যা: ক্ষয়প্রাপ্ত মাটি বৃষ্টির জলে ধুয়ে নদীগর্ভে সঞ্চিত হওয়ায় নদীর নাব্যতা হ্রাস পায় এবং বর্ষাকালে সহজে বন্যা দেখা দেয়।
  • ৩. খরা ও ভৌমজলের স্তর হ্রাস: মাটি ক্ষয়প্রাপ্ত হলে মাটিতে জল অনুশ্রবণ কমে যায়, যার ফলে ভৌমজলের স্তর নিচে নেমে যায় এবং খরার প্রবণতা বাড়ে।
১২প্রশ্ন: ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ করো এবং যেকোনো দুটি অরণ্যের বণ্টন, উদ্ভিদের নাম ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। সংকেত: (স্বাভাবিক উদ্ভিদকে ৫টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়- চিরহরিৎ, পর্ণমোচী, মরু, পার্বত্য এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমি। এর মধ্যে যেকোনো দুটি অরণ্য যেমন ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে হবে।)
উত্তর
ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদকে প্রধানত ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়: ১. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য, ২. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী বা মৌসুমি অরণ্য, ৩. ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদ, ৪. পার্বত্য উদ্ভিদ এবং ৫. ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু অরণ্য।
যেকোনো দুটি অরণ্যের বিস্তারিত আলোচনা:
  • ১. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য:
    বণ্টন: ভারতের যেসব স্থানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমির বেশি, সেখানে এই অরণ্য দেখা যায়। যেমন- পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যসমূহ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
    উদ্ভিদ: রবার, মেহগনি, রোজউড, আয়রনউড ইত্যাদি।
    বৈশিষ্ট্য: এখানকার গাছগুলির পাতা খুব বড়ো ও চওড়া হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে গাছগুলি সারা বছর সবুজ থাকে এবং পাতা একসাথে ঝরে যায় না। বনভূমি খুব দুর্গম ও গভীর হয়।
  • ২. ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু অরণ্য:
    বণ্টন: সমুদ্র উপকূলবর্তী লবণাক্ত ও জোয়ার-ভাটা প্লাবিত অঞ্চলে এই অরণ্য গড়ে ওঠে। যেমন- পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ), এবং মহানদী, গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চল।
    উদ্ভিদ: সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, কেয়া, হোগলা ইত্যাদি。
    বৈশিষ্ট্য: কর্দমাক্ত মাটিতে শ্বাস নেওয়ার জন্য এদের শ্বাসমূল (Pneumatophores) থাকে। জোয়ারের স্রোত থেকে গাছকে রক্ষা করার জন্য ঠেসমূল (Stilt roots) দেখা যায়। এছাড়া ফলের ভেতরেই এদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম ঘটে।
১৩প্রশ্ন: হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চতাভেদে স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈচিত্র্য আলোচনা করো। সংকেত: (উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উদ্ভিদ প্রকৃতির পরিবর্তন হয়। পূর্ব ও পশ্চিম হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ১০০০ মিটার পর্যন্ত চিরহরিৎ/পর্ণমোচী, ১০০০-৩০০০ মিটারে মিশ্র পর্ণমোচী, ৩০০০-৪০০০ মিটারে সরলবর্গীয় এবং ৪০০০-৫০০০ মিটার উচ্চতায় আল্পীয় উদ্ভিদের বিন্যাস, বৈশিষ্ট্য ও গাছের নাম আলোচনা করতে হবে।)
উত্তর
হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বাভাবিক উদ্ভিদের ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়:
  • ১. পাদদেশীয় পর্ণমোচী অরণ্য (১০০০ মিটার পর্যন্ত): হিমালয়ের পাদদেশ বা তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে শাল, সেগুন, খয়ের, শিশু প্রভৃতি ক্রান্তীয় পর্ণমোচী ও চিরহরিৎ গাছ দেখা যায়。
  • ২. মিশ্র পর্ণমোচী ও চিরহরিৎ অরণ্য (১০০০-৩০০০ মিটার): উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টিপাত ও উষ্ণতা কমে যাওয়ায় এই উচ্চতায় ওক, ম্যাপল, চেস্টনাট, লরেল ইত্যাদি মিশ্র উদ্ভিদের অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে।
  • ৩. সরলবর্গীয় অরণ্য (৩০০০-৪০০০ মিটার): অধিক উচ্চতায় ঠান্ডা জলবায়ুতে পাইন, ফার, স্প্রুস, সিডার, দেওদার প্রভৃতি মোচাকৃতি বা সরলবর্গীয় গাছের বনভূমি গড়ে উঠেছে। এদের পাতা ছুঁচালো হয়।
  • ৪. আল্পীয় উদ্ভিদ (৪০০০-৫০০০ মিটার): বরফাবৃত অঞ্চলের ঠিক নিচে খুব ঠান্ডা পরিবেশে বড় গাছের পরিবর্তে রডোডেনড্রন, জুনিপার, উইলো প্রভৃতি গুল্মজাতীয় আল্পীয় উদ্ভিদ এবং নানা ধরনের ঘাস জন্মায়। ৫০০০ মিটারের ওপরে চিরতুষারাবৃত অঞ্চলে কোনো উদ্ভিদ জন্মায় না।
১৪প্রস্থ বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? যে-কোনো দুটি ভাগের বিবরণ দাও।
উত্তর
প্রস্থ বা উত্তর-দক্ষিণ বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে মূলত চারটি সমান্তরাল ভাগে ভাগ করা যায়:
  • (i) টেথিস বা ট্রান্স হিমালয়,
  • (ii) হিমাদ্রি বা প্রধান হিমালয়,
  • (iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয়, এবং
  • (iv) শিবালিক বা অবহিমালয়।
যেকোনো দুটি ভাগের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
  • ১. শিবালিক বা অবহিমালয়: হিমালয়ের সর্বদক্ষিণের এবং সবচেয়ে নবীন পর্বতশ্রেণিটি হলো শিবালিক। এর গড় উচ্চতা ৬০০-১৫০০ মিটার। শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝখানে যে অসংখ্য সমতল উপত্যকা রয়েছে তাদের দুন বলা হয় (যেমন- দেরাদুন)। এছাড়া শিবালিকের পাদদেশে নুড়ি-পাথর জমা হয়ে ভাবর ও তরাই অঞ্চল গঠিত হয়েছে।
  • ২. হিমাদ্রি বা প্রধান হিমালয়: হিমাচলের উত্তরে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ অংশটি হলো হিমাদ্রি। এর গড় উচ্চতা প্রায় ৬০০০ মিটার এবং এটি সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৪৮.৮৬ মিটার) এবং ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮৫৯৮ মিটার) এই হিমাদ্রি হিমালয়েই অবস্থিত। গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রীর মতো দীর্ঘ হিমবাহগুলি এখান থেকেই উৎপন্ন হয়েছে।
১৫আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতশ্রেণির শ্রেণিবিভাগ করো এবং পশ্চিম হিমালয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর
দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতশ্রেণিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
  • (i) পশ্চিম হিমালয়,
  • (ii) মধ্য হিমালয় এবং
  • (iii) পূর্ব হিমালয়।

পশ্চিম হিমালয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ ও হিমাচল প্রদেশের অন্তর্গত পশ্চিম হিমালয়কে আবার তিনটি উপবিভাগে ভাগ করা যায়-
  • ১. কাশ্মীর হিমালয়: এটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এখানে কারাকোরাম, জাস্কর ও পীরপাঞ্জাল পর্বতশ্রেণি অবস্থান করছে। পীরপাঞ্জাল ও উচ্চ হিমালয়ের মাঝে রয়েছে বিখ্যাত কাশ্মীর উপত্যকা। এছাড়া এখানে গ্লেসিয়ার বা হিমবাহ দ্বারা সৃষ্ট ধাপযুক্ত সমভূমি 'কারেওয়া' দেখা যায়।
  • ২. হিমাচল হিমালয়: হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত এই অংশে পীরপাঞ্জাল, ধৌলাধর ও নাগটিব্বা পর্বতশ্রেণি লক্ষ্য করা যায়। কুলু, কাংড়া ও লাহুল-স্পিতি উপত্যকা এই অংশের অন্যতম আকর্ষণ।
  • ৩. কুমায়ুন হিমালয়: উত্তরাখণ্ডের হিমালয়কে কুমায়ুন হিমালয় বলে। এখানে শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝে অনেক দুন উপত্যকা (যেমন- দেরাদুন) দেখা যায়। এখানকার প্রধান শৃঙ্গগুলি হলো নন্দাদেবী, কামেট, ত্রিশূল ইত্যাদি।
১৬প্রশ্ন: ভারতে ইক্ষু (আখ) চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ দাও।
উত্তর
ভারতে ইক্ষু বা আখ চাষের জন্য নিম্নলিখিত ভৌগোলিক পরিবেশের প্রয়োজন হয়:
প্রাকৃতিক পরিবেশ:
  • ১. জলবায়ু: আখ মূলত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু ইক্ষু চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
  • ২. তাপমাত্রা: আখ চাষের জন্য গড়ে ২০° থেকে ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। আখের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক দরকার।
  • ৩. বৃষ্টিপাত: বার্ষিক ১০০ থেকে ১৫০ সেমি বৃষ্টিপাত ইক্ষু চাষের জন্য আদর্শ। বৃষ্টিপাত কম হলে জলসেচের প্রয়োজন হয়। তবে ফসল কাটার সময় শুষ্ক আবহাওয়া আখে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
  • ৪. মৃত্তিকা: চুন ও লবণযুক্ত গভীর উর্বর দোআঁশ মাটি বা রেগুর (কৃষ্ণমৃত্তিকা) ইক্ষু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী。
  • ৫. ভূপ্রকৃতি: গাছের গোড়ায় জল দাঁড়ালে আখের ক্ষতি হয়, তাই জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত সমতল বা সামান্য ঢালু জমি প্রয়োজন。
    অর্থনৈতিক পরিবেশ:
  • ১. সুলভ শ্রমিক: চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত আখ চাষে প্রচুর কায়িক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
  • ২. মূলধন ও সার: আখ জমি থেকে প্রচুর পুষ্টি শোষণ করে, তাই জমিতে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত মূলধনের দরকার।
১৭প্রশ্ন: ভারতে কার্পাস বা তুলো চাষের অনুকূল ভৌগোলিক (প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক) পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর
ভারতে কার্পাস বা তুলো চাষের জন্য নিম্নলিখিত ভৌগোলিক পরিবেশের প্রয়োজন হয়:
প্রাকৃতিক পরিবেশ:
  • ১. জলবায়ু: কার্পাস হলো ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের শুষ্ক জলবায়ুর ফসল।
  • ২. তাপমাত্রা: কার্পাস চাষের জন্য গড়ে ২০° থেকে ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
  • ৩. বৃষ্টিপাত: কার্পাস চাষের জন্য পরিমিত বৃষ্টিপাত (বার্ষিক ৫০ থেকে ১০০ সেমি) দরকার। তবে ফল পাকার সময় রৌদ্রোজ্জ্বল ও শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন, কারণ বৃষ্টির জল তুলোর গুটি নষ্ট করে দেয়।
  • ৪. তুষারমুক্ত দিন: কার্পাস চাষের জন্য বছরে কমপক্ষে ২১০ টি তুষারমুক্ত দিন বা ফ্রস্ট-ফ্রি দিন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
  • ৫. মৃত্তিকা: চুন ও পটাশযুক্ত রেগুর বা কৃষ্ণমৃত্তিকা কার্পাস চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। এই মাটি প্রচুর জল ধরে রাখতে পারে。
    অর্থনৈতিক পরিবেশ:
    প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক (তুলো তোলার জন্য), উন্নত জলসেচ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত মূলধন এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের সহজলভ্যতা প্রয়োজন।
১৮প্রশ্ন: ভারতে চা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
ভারতে চা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশগুলি হলো:
  • ১. জলবায়ু: চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র ক্রান্তীয় এবং উপক্রান্তীয় জলবায়ু বিশেষ উপযোগী।
  • ২. তাপমাত্রা: চা গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য গড়ে ২০° সেলসিয়াস থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন।
  • ৩. বৃষ্টিপাত: চা চাষের জন্য প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা ও বৃষ্টির দরকার। বার্ষিক ১৫০ থেকে ২৫০ সেমি বৃষ্টিপাত চা চাষের জন্য আদর্শ।
  • ৪. ভূপ্রকৃতি বা জমির ঢাল: চা গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছের শেকড় পচে যায়। তাই চা বাগিচা তৈরির জন্য জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পাহাড়ের ঢালু জমি বা তরঙ্গায়িত ভূমিভাগ প্রয়োজন।
  • ৫. মৃত্তিকা: লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ মিশ্রিত নাইট্রোজেনযুক্ত উর্বর অম্লধর্মী দোআঁশ মাটি বা ল্যাটেরাইট মাটি চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
  • ৬. ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষ: সরাসরি প্রখর সূর্যালোক চা গাছের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই চা বাগানে ছায়া প্রদান করার জন্য সিলভার ওক বা অন্যান্য বড় বড় গাছ লাগানো হয়।
১৯পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষি উন্নতির প্রধান কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর
ভারতের কৃষি উন্নত অঞ্চলগুলির মধ্যে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা অন্যতম। এর প্রধান কারণগুলি হল:
বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর মৃত্তিকা: সিন্ধুনদের পাঁচটি উপনদী বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজের পক্ষে অত্যন্ত অনুকূল।
জলসেচ ও ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প: ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলে খাল কেটে জলসেচের ব্যাপক প্রসার ঘটানো হয়েছে, যা কৃষিতে সহায়ক।
উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার: 'সোনারা-৬৪', 'কল্যাণ সোনা' প্রভৃতি উচ্চফলনশীল গমের বীজ ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আধুনিক কৃষি পদ্ধতি: লাঙলের পরিবর্তে উন্নতমানের ট্রাক্টর ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ করা হয়।
রাসায়নিক সার ও কীটনাশক: কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফসফেট সারের জোগান এবং রোগ প্রতিরোধে কীটনাশকের ব্যবহার ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি করেছে।
অন্যান্য কারণ: উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, সুলভ শ্রমিক, কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমী মনোভাব এবং নাবার্ড (NABARD)-এর আর্থিক সহায়তা কৃষির বিপুল উন্নতি ঘটিয়েছে।
২০ভারতে কফি চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশের বর্ণনা দাও।
উত্তর
ভারতে প্রধানত রোবাস্টা প্রজাতির কফি চাষ হয় এবং কর্ণাটক রাজ্য এতে প্রথম স্থান অধিকার করে। কফি চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশগুলি হল:
উষ্মতা: কফি চাষের জন্য ২০° সে. থেকে ৩০° সে. উষ্মতা সর্বাপেক্ষা উপযোগী।
বৃষ্টিপাত: ১৫০-২৫০ সেমি বৃষ্টিপাত কফি গাছের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। কফিগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। তবে তুহিন ও তুষারপাত কফি চাষের পক্ষে ক্ষতিকর।
ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ: চা চাষের মতো কফি বাগানেও সরাসরি রৌদ্রতাপ এড়াতে এবং কফি গাছকে রক্ষা করতে ছায়াপ্রদানকারী বড় বৃক্ষের প্রয়োজন হয়।
মৃত্তিকা: লাভা সৃষ্ট উর্বর মৃত্তিকা এবং লাল দোঁআঁশ মাটি কফি চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
জমির প্রকৃতি: জল নিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পর্বতের পাদদেশে ঢালু জমি কফি চাষের পক্ষে আদর্শ, কারণ গাছের গোড়ায় জল দাঁড়ালে কফি গাছের ক্ষতি হয়।
শ্রমিক ও মূলধন: গাছ লাগানো, পরিচর্যা, ফসল তোলা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক এবং আধুনিক বাগান তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মূলধনের প্রয়োজন।
২১পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের একদেশীভবন বা কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
ভারতের মোট কাপড়ের কলের বেশিরভাগই মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে (বিশেষত আমেদাবাদ ও মুম্বাই) অবস্থিত। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
  • ১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা থাকায় এখানে প্রচুর পরিমাণে উন্নতমানের তুলো চাষ হয়। ফলে শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল খুব সহজেই পাওয়া যায়।
  • ২. আর্দ্র জলবায়ু: আরব সাগরের তীরবর্তী হওয়ায় এখানকার জলবায়ু যথেষ্ট আর্দ্র। আর্দ্র জলবায়ুর কারণে সুতো কাটার সময় সহজে ছিঁড়ে যায় না।
  • ৩. বন্দর সুবিধা: মুম্বাই, কান্ডালা, জওহরলাল নেহেরু ইত্যাদি বৃহৎ ও উন্নত বন্দর থাকায় শিল্পের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি এবং উৎপাদিত কাপড় বিদেশে রপ্তানি করা সহজ হয়।
  • ৪. মূলধন ও শক্তি সম্পদ: মুম্বাই ও আমেদাবাদ অঞ্চলের স্থানীয় পার্সি ও গুজরাটি ব্যবসায়ীদের প্রচুর মূলধন রয়েছে। এছাড়া পশ্চিমঘাট পর্বতের জলবিদ্যুৎ এবং গুজরাটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান পাওয়া যায়।
  • ৫. উন্নত পরিবহণ ও বাজার: উন্নত সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সাথে সংযোগ এবং স্থানীয়ভাবে বিশাল বাজারের উপস্থিতি এই শিল্পের একদেশীভবনে সাহায্য করেছে।
২২ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের শ্রেণিবিভাগ করো এবং কয়েকটি প্রধান কেন্দ্রের নাম লেখো।
উত্তর
ব্যবহৃত কাঁচামাল ও উৎপাদিত দ্রব্যের ওজনের ভিত্তিতে ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং বা পূর্ত শিল্পকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
  • ১. ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প: যে শিল্পে ভারী ও বিশাল আকৃতির যন্ত্রপাতি বা যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। উদাহরণ: রেল ইঞ্জিন, জাহাজ নির্মাণ, মোটরগাড়ি তৈরি, খনি উত্তোলনের যন্ত্রপাতি নির্মাণ ইত্যাদি। প্রধান কেন্দ্র: চিত্তরঞ্জন (রেল ইঞ্জিন), বিশাখাপত্তনম (জাহাজ নির্মাণ), চেন্নাই ও পুনে (মোটরগাড়ি)।
  • ২. মাঝারি ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প: এই শিল্পে মাঝারি আকারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদিত হয়। উদাহরণ: জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। প্রধান কেন্দ্র: ভূপাল, হরিদ্বার (BHEL), বেঙ্গালুরু।
  • ৩. হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প: এই শিল্পে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র, হালকা এবং সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়, যেখানে কাঁচামাল কম লাগে কিন্তু প্রযুক্তি বেশি লাগে। উদাহরণ: ঘড়ি, ক্যামেরা, সেলাই মেশিন, সাইকেল, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। প্রধান কেন্দ্র: কলকাতা, লুধিয়ানা (সাইকেল ও সেলাই মেশিন), বেঙ্গালুরু (HMT ঘড়ি ও ইলেকট্রনিক্স)।
২৩ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জনবণ্টনের তারতম্যের প্রাকৃতিক কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।V.V.I
উত্তর
ভারতের সর্বত্র জনসংখ্যা সমান নয়। এই জনবণ্টনের তারতম্যের পিছনে যে প্রাকৃতিক কারণগুলি দায়ী তা নীচে আলোচনা করা হলো:
ভূপ্রকৃতি: পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলের এবড়োখেবড়ো ভূপ্রকৃতির তুলনায় সমভূমি অঞ্চলে কৃষিকাজ, শিল্প, এবং পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত হয়। তাই গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমভূমিতে লোকবসতি সবচেয়ে বেশি এবং হিমালয় বা পাহাড়ি অঞ্চলে জনবসতি বিরল।
জলবায়ু: মানুষের স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কৃষিকাজের জন্য অনুকূল জলবায়ু প্রয়োজন। ভারতের উষ্ণ-আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে কৃষিকাজ ভালো হয় বলে ঘন জনবসতি দেখা যায়। অন্যদিকে রাজস্থানের উষ্ণ-শুষ্ক মরু অঞ্চল বা হিমালয়ের অতি শীতল জলবায়ু অঞ্চলে জনবসতি অত্যন্ত বিরল।
নদনদী: নদীর অববাহিকায় জলসেচ, পানীয় জল, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহণের সুবিধা থাকায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলি (যেমন গঙ্গা বা গোদাবরী অববাহিকা) ঘন বসতিপূর্ণ হয়।
মৃত্তিকা: উর্বর দোআঁশ, পলি বা রেগুর মাটি কৃষিকাজের পক্ষে আদর্শ। তাই গঙ্গা-সিন্ধু সমভূমি, উপকূলীয় সমভূমি ও দাক্ষিণাত্যের লাভা অঞ্চলে জনঘনত্ব বেশি। অনুর্বর অঞ্চলে জনবসতি কম।
ভৌগোলিক অবস্থান: সমুদ্র উপকূলবর্তী সমভাবাপন্ন জলবায়ু, বন্দর ও বহির্বাণিজ্যের সুবিধার কারণে উপকূল অঞ্চলে (যেমন—মুম্বই) প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে।
২৪ভারতে শহর বা নগর গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি বর্ণনা করো।
উত্তর
ভারতে জীবনযাপনের উপযোগী অনুকূল পরিবেশে শহর বা নগর গড়ে ওঠার পিছনে মূলত নিম্নলিখিত কারণগুলি কাজ করে:
সমভূমির অবস্থান ও উন্নত পরিবহণ: সমতল ভূমিতে কৃষিকাজ, শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং উন্নত পরিবহণ (রেল, সড়ক) ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ। তাই গঙ্গা উপত্যকায় বহু শহর গড়ে উঠেছে।
শিল্প ও ব্যবসার প্রসার: যেসব অঞ্চলে বৃহদায়তন শিল্প বা বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে ওঠে, সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকায় প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। যেমন— জামশেদপুর, দুর্গাপুর, সুরাট, মুম্বাই ইত্যাদি।
জলের সহজলভ্যতা: সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য জলের প্রাচুর্য শহর গড়ে ওঠার অন্যতম শর্ত। এই কারণেই প্রাচীনকাল থেকে নদীকে কেন্দ্র করে শহর গড়ে ওঠে।
পর্যটন কেন্দ্র: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মনোরম আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যকর জলবায়ুর কারণে অনেক জায়গায় শহর গড়ে ওঠে। যেমন— দার্জিলিং, নৈনিতাল, আগ্রা প্রভৃতি।
২৫ভারতের আর্থসামাজিক উন্নতিতে পরিবহণ ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর
দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পরিবহণের গুরুত্ব অপরিসীম (মানবদেহের ধমনির মতো)।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
কৃষি ও শিল্পের উন্নতি: কাঁচামাল সংগ্রহ এবং কৃষিজ ও শিল্পজাত দ্রব্য বাজারজাত করতে পরিবহণ আবশ্যিক।
বাণিজ্যিক প্রসার: উন্নত পরিবহণ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়।
কর্মসংস্থান: পরিবহণ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহুলোকের কর্মসংস্থান ঘটে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক গুরুত্ব:
প্রতিরক্ষা ও সংহতি: দেশের সীমান্তে সৈন্য ও রসদ পাঠানো এবং দেশের নানা প্রান্তের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি স্থাপনে পরিবহণ অপরিহার্য।
ত্রাণ কার্য: বন্যা বা খরার মতো দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে পরিবহণ কাজে লাগে।
সামাজিক গুরুত্ব: শিক্ষা, সংস্কৃতির প্রসার এবং উন্নত জীবনযাত্রা ও নগরায়ণে পরিবহণ অগ্রণী ভূমিকা নেয়।
২৬ভারতের পশ্চিম উপকূল ও পূর্ব উপকূলের প্রধান বন্দরগুলির নাম ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর
ভারতের পশ্চিম উপকূলের উল্লেখযোগ্য বন্দর:
  • ১. কান্ডালা (গুজরাট): এটি ভারতের একমাত্র করমুক্ত বা শুল্কমুক্ত (Tax-free) বন্দর।
  • ২. মুম্বাই (মহারাষ্ট্র): এটি ভারতের বৃহত্তম স্বাভাবিক সমুদ্র বন্দর এবং ভারতের প্রবেশদ্বার। এখানে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হয়।
  • ৩. নবসেবা বা জওহরলাল নেহরু (মহারাষ্ট্র): এটি ভারতের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও বৃহত্তম কৃত্রিম বন্দর।
  • ৪. কোচি (কেরল): এটি আরব সাগরের তীরে অবস্থিত, যাকে 'আরব সাগরের রানি' বলা হয়। এটি প্রধানত মসলা রপ্তানিকারক বন্দর。
    ভারতের পূর্ব উপকূলের উল্লেখযোগ্য বন্দর:
  • ১. কলকাতা-হলদিয়া (পশ্চিমবঙ্গ): কলকাতা ভারতের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম নদীবন্দর। এর পরিপূরক বন্দর হিসেবে হলদিয়া গড়ে উঠেছে।
  • ২. পারাদ্বীপ (ওড়িশা): এটি ভারতের গভীরতম বন্দরগুলির একটি, যেখান থেকে প্রধানত লৌহ আকরিক ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানি করা হয়।
  • ৩. বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ): এটি ভারতের গভীরতম ও স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত বন্দর, যা 'ডলফিন নোজ' নামক পাহাড় দ্বারা সুরক্ষিত।
  • ৪. চেন্নাই (তামিলনাড়ু): এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পূর্ব উপকূলের বৃহত্তম কৃত্রিম বন্দর।
২৭গঙ্গা নদীর গতিপথ সংক্ষেপে আলোচনা করো।মান: ৫
উত্তর
গঙ্গা ভারতের দীর্ঘতম ও প্রধান নদী (মোট দৈর্ঘ্য ২৫১০ কিমি)। এর গতিপথকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ (উৎস থেকে হরিদ্বার): গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে ভাগীরথী নামে উৎপন্ন হয়ে দেবপ্রয়াগের কাছে অলকানন্দার সাথে মিলিত হয়েছে এবং গঙ্গা নামে শিবালিক পর্বত অতিক্রম করে হরিদ্বারে সমভূমিতে পড়েছে।
মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ (হরিদ্বার থেকে রাজমহল পাহাড়): হরিদ্বার থেকে নদীটি উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে রাজমহল পাহাড়ের কাছে এসে দক্ষিণমুখী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। এই অংশে যমুনা, শোন (ডানতীর) এবং গোমতী, ঘর্ঘরা, কোশী (বামতীর) প্রভৃতি উপনদী গঙ্গায় মিশেছে।
নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ (রাজমহল পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর): পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে ভগবানগোলায় নদীটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে। প্রধান শাখাটি 'পদ্মা' নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং অপ্রধান শাখাটি 'ভাগীরথী-হুগলি' নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মোহনার কাছে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
২৮গাঙ্গেয় সমভূমির ভূপ্রাকৃতিক উপবিভাগগুলি (ভাঙ্গার, খাদার, ভাবর, তরাই) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।মান: ৫
উত্তর
গঙ্গা নদীর অববাহিকায় পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত সমভূমিকে ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মূলত ৪টি উপবিভাগে ভাগ করা যায়:
  • ১. ভাবর: শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে নদী দ্বারা বাহিত নুড়ি, পাথর, কাঁকর ও বালি জমা হয়ে যে সচ্ছিদ্র ও অসমান ভূমিভাগ তৈরি করেছে তাকে ভাবর বলে। এটি খুব সচ্ছিদ্র হওয়ায় ছোট ছোট নদীগুলি এর নিচ দিয়ে অন্তঃসলিলা হিসেবে প্রবাহিত হয়।
  • ২. তরাই: ভাবর অঞ্চলের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত জলময়, স্যাঁতসেঁতে ও গভীর অরণ্যে ঢাকা অঞ্চলকে তরাই বলে। ভাবর অঞ্চলের নিচে হারিয়ে যাওয়া নদীগুলি তরাই অঞ্চলে এসে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে বলে এই অঞ্চলটি সবসময় কর্দমাক্ত ও স্যাঁতসেঁতে থাকে।
  • ৩. ভাঙ্গার: নদী থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত প্রাচীন পলিযুক্ত, অপেক্ষাকৃত অনুর্বর উঁচু সমভূমিকে ভাঙ্গার বলে। এই মাটি মূলত কাঁকর ও কাদা দিয়ে তৈরি এবং কৃষিকাজের জন্য খুব একটা উপযুক্ত নয়।
  • ৪. খাদার: নদীর তীরবর্তী বা প্লাবনভূমির নবীন পলিগঠিত অত্যন্ত উর্বর নিম্ন সমভূমিকে খাদার বলা হয়। প্রতি বছর বন্যায় এখানে নতুন পলি সঞ্চিত হয় বলে এই মাটি কৃষিকাজের জন্য খুবই উপযুক্ত। পাঞ্জাবে এই নবীন পলিগঠিত সমভূমিকে 'বেট' বলা বলা হয়।
২৯পাঞ্জাব সমভূমির ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।মান: ৫
উত্তর
পাঞ্জাব সমভূমি উত্তর-পশ্চিম ভারতে সিন্ধু নদের পাঁচটি উপনদী (শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তা) দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে পলি সঞ্চয়ের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। এই সমভূমির প্রধান ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
  • ১. দোয়াব: দুটি নদীর মধ্যবর্তী উর্বর পলিগঠিত অঞ্চলকে দোয়াব বলে। পাঞ্জাব সমভূমি মূলত এইরকম কয়েকটি দোয়াব (যেমন- বারি দোয়াব, বিস্ত দোয়াব) নিয়ে গঠিত, যা কৃষিকাজে অত্যন্ত উন্নত।
  • ২. ধায়া: পাঞ্জাব সমভূমিতে নদীর তীরবর্তী প্রাচীন পলিগঠিত খাড়া ও উঁচু পাড় বা মঞ্চকে 'ধায়া' বলা হয়। এটি মূলত প্লাবনভূমির ওপরের দিকের অংশ।
  • ৩. বেট: নদীর তীরবর্তী নবীন পলিগঠিত উর্বর প্লাবনভূমিকে পাঞ্জাবে 'বেট' বলা হয়। এটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এখানে নিবিড় কৃষিকাজ হয়।
  • ৪. খোস: শিবালিকের পাদদেশে পাঞ্জাব সমভূমির উত্তর অংশে অসংখ্য ছোট ছোট অস্থায়ী নদী বা জলধারার দ্বারা গভীরভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত ও বন্ধুর ভূভাগ সৃষ্টি হয়েছে, যাকে স্থানীয় ভাষায় 'খোস' বা 'চো' বলা হয়।
৩০ভারতের অবস্থান ও সীমানার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও। (ম্যাকমোহন লাইন, র‍্যাডক্লিফ লাইন, LOC, LAC ইত্যাদির উল্লেখসহ)।মান: ৫
উত্তর
ভারতের অবস্থান: ভারত এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত একটি বিশাল দেশ। অক্ষাংশগতভাবে ভারত উত্তর গোলার্ধে (৮°৪' উঃ থেকে ৩৭°৬' উঃ) এবং দ্রাঘিমাংশগতভাবে পূর্ব গোলার্ধে (৬৮°৭' পূঃ থেকে ৯৭°২৫' পূঃ) অবস্থিত। ভারতের মাঝবরাবর কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৩০' উঃ) প্রসারিত হয়েছে।

ভারতের সীমানা: ভারতের উত্তরে রয়েছে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে আরব সাগর। ভারতের স্থলভাগের সীমানা প্রধানত সাতটি প্রতিবেশী দেশের সাথে যুক্ত:
  • ১. উত্তর-পশ্চিমে: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। (ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণকারী রেখাকে বলা হয় 'র‍্যাডক্লিফ লাইন'। অন্যদিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও ভারতের সীমানাকে বলা হয় 'LOC' বা Line of Control)।
  • ২. উত্তরে: চীন, নেপাল ও ভুটান। (ভারত ও চীনের সীমানা নির্দেশক রেখাকে বলা হয় 'ম্যাকমোহন লাইন' এবং চীন অধিকৃত আকসাই চীন ও ভারতের সীমানাকে বলা হয় 'LAC' বা Line of Actual Control)।
  • ৩. পূর্বে: বাংলাদেশ ও মায়ানমার।
  • ৪. দক্ষিণে সমুদ্রের ওপারে: ভারতের নিকটতম প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্রগুলি হলো শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কা পক প্রণালী ও মান্নার উপসাগর দ্বারা বিচ্ছিন্ন।
0
Share

Comments

You must be signed in to join the discussion.

Loading comments...