WBBSE Class 7 History Chapter 8 Question Answer | সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় মুঘল সাম্রাজ্যের সংকট
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস পাঠ্যবই 'অতীত ও ঐতিহ্য'-এর অষ্টম অধ্যায়: মুঘল সাম্রাজ্যের সংকট (Crisis of Mughal Empire)-এর সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক ও পাঠ্যবইয়ের সমস্ত প্রশ্নোত্তর নির্ভুলভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো। মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের শাসনকালে সাম্রাজ্যের বিশাল বিস্তৃতি সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ মনসবদারি ও জায়গিরদারি সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষি সংকট, মারাঠা শক্তির উত্থান ও ছত্রপতি শিবাজির বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ (আফজল খান হত্যা, সুরাট লুণ্ঠন, পুরন্দরের সন্ধি ১৬৬৫ খ্রিঃ, রায়গড়ে অভিষেক ও অষ্টপ্রধান শাসনব্যবস্থা), শিখ শক্তির জাগরণ ও গুরু গোবিন্দ সিংহের ‘খালসা’ সংগঠন প্রতিষ্ঠা (১৬৯৯ খ্রিঃ), দিল্লি-আগ্রায় জাঠ বিদ্রোহ, নারনৌলে সৎনামি কৃষক বিদ্রোহ এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে পাঠান উপজাতিদের বিদ্রোহের নিখুঁত বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সহজে আয়ত্ত করার জন্য সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
১ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
২ একটি সম্পূর্ণ বাক্যে উত্তর দাও (অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)
৩ ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো
৪ বিবৃতি ও সঠিক ব্যাখ্যা নির্বাচন করো
৫ বেমানান শব্দটি খুঁজে বের করো
৬ ‘ক’ স্তম্ভের সাথে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও
প্রশ্ন স্তম্ভ (মেলানোর জন্য):
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
|---|---|
| (১) রায়গড় | (ক) নারনৌল |
| (২) হিন্দুপাদপাদশাহি | (খ) শিবাজি |
| (৩) গোলকোন্ডা | (গ) উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত |
| (৪) সৎনামি | (ঘ) প্রথম বাজীরাও |
| (৫) পাঠান উপজাতি | (ঙ) দাক্ষিণাত্য |
| ‘ক’ স্তম্ভ | সঠিক মেলবন্ধন | ‘খ’ স্তম্ভের সঠিক উত্তর |
|---|---|---|
| (১) রায়গড় | (১) - (খ) | শিবাজি (অভিষেক স্থল) |
| (২) হিন্দুপাদপাদশাহি | (২) - (ঘ) | প্রথম বাজীরাও |
| (৩) গোলকোন্ডা | (৩) - (ঙ) | দাক্ষিণাত্য |
| (৪) সৎনামি | (৪) - (ক) | নারনৌল (বিদ্রোহ কেন্দ্র) |
| (৫) পাঠান উপজাতি | (৫) - (গ) | উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত |
প্রশ্ন স্তম্ভ (মেলানোর জন্য):
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
|---|---|
| (১) পুরন্দরের সন্ধি (১৬৬৫ খ্রিঃ) | (ক) গুরু গোবিন্দ সিংহ |
| (২) খালসা সংগঠন (১৬৯৯ খ্রিঃ) | (খ) কেন্দ্রীয় কোষাগার |
| (৩) বাঘনখ | (গ) মির্জা রাজা জয়সিংহ ও শিবাজি |
| (৪) দুটি তলওয়ার | (ঘ) আফজল খান হত্যা |
| (৫) খাস জমি বা খালিসা | (ঙ) গুরু হরগোবিন্দ |
| ‘ক’ স্তম্ভ | সঠিক মেলবন্ধন | ‘খ’ স্তম্ভের সঠিক উত্তর |
|---|---|---|
| (১) পুরন্দরের সন্ধি (১৬৬৫ খ্রিঃ) | (১) - (গ) | মির্জা রাজা জয়সিংহ ও শিবাজি |
| (২) খালসা সংগঠন (১৬৯৯ খ্রিঃ) | (২) - (ক) | গুরু গোবিন্দ সিংহ |
| (৩) বাঘনখ | (৩) - (ঘ) | আফজল খান হত্যা |
| (৪) দুটি তলওয়ার | (৪) - (ঙ) | গুরু হরগোবিন্দ |
| (৫) খাস জমি বা খালিসা | (৫) - (খ) | কেন্দ্রীয় কোষাগার |
৭ দু - তিনটি বাক্যে উত্তর দাও (সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর)
ঔরঙ্গজেবের শাসনকালে মুঘল সাম্রাজ্য ভৌগোলিকভাবে বিশাল বিস্তার লাভ করলেও অভ্যন্তরীণ সংকট চরম আকার নেয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, কৃষি সংকট এবং মনসবদারদের মধ্যে ভালো জায়গির পাওয়া নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মারাঠা, শিখ, জাঠ ও সৎনামিরা আঞ্চলিক স্বাধীনতার দাবিতে মুঘল সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সেনাপতি মির্জা রাজা জয়সিংহ এবং মারাঠা নেতা শিবাজির মধ্যে পুরন্দরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
ফল: এই সন্ধির শর্তানুযায়ী শিবাজি মুঘলদের ২৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এবং বার্ষিক রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে অবশিষ্ট ১২টি দুর্গ নিজের অধীনে রাখেন। এছাড়া তিনি পরবর্তীতে আগ্রার মুঘল দরবারে উপস্থিত হতে বাধ্য হন।
দিল্লি ও আগ্রা অঞ্চলের জাঠরা ছিল প্রধানত পরিশ্রমী কৃষক সম্প্রদায় এবং তাদের মধ্যে অনেকে সমৃদ্ধ জমিদারও ছিল। রাজস্ব প্রদানকে কেন্দ্র করে সম্রাট জাহাঙ্গির ও শাহজাহানের আমল থেকেই তাদের সঙ্গে সংঘাতের সূচনা হয়। পরবর্তীকালে ঔরঙ্গজেবের আমলে মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব বৃদ্ধি এবং কৃষি সংকটের চাপে স্থানীয় জমিদারের নেতৃত্বে জাঠরা একজোট হয়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বিদ্রোহে লিপ্ত হয়।
খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতকে শিবাজি মারাঠাদের ঐক্যবদ্ধ করে দাক্ষিণাত্যে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করেন। তিনি মুঘলদের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র সুরাট বন্দর দু-বার আক্রমণ করে প্রভূত সম্পদ লুণ্ঠন করেন এবং মুঘল সেনাপতি শায়েস্তা খানের শিবিরে অতর্কিত হামলা চালান। দিল্লির কেন্দ্রীয় মুঘল আধিপত্যকে অগ্রাহ্য করে শিবাজির এই স্বাধীন শক্তিবৃদ্ধি মেনে নেওয়া সম্রাট ঔরঙ্গজেবের পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই উভয়ের মধ্যে তুমুল দ্বন্দ্ব বাধে।
সম্রাট ঔরঙ্গজেবের আমলে দাক্ষিণাত্যের বিজাপুর ও গোলকোন্ডা জয়ের ফলে এক সুবিশাল ও উর্বর ভূখণ্ড মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই বিজিত অঞ্চলের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও উর্বর কৃষিজমিগুলি ঔরঙ্গজেব জায়গির হিসেবে বিলি না করে ‘খাস জমি’ বা ‘খালিসা’ হিসেবে রেখে দেন, যার ফলে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজকোষের সরাসরি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছিল।
অষ্টপ্রধান: শিবাজির শাসনকার্যে নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনায় সাহায্য করার জন্য পেশওয়ার নেতৃত্বে গঠিত আটজন মন্ত্রীপরিষদকে ‘অষ্টপ্রধান’ বলা হতো।
স্বরাজ্য: মারাঠারা তাদের নিজস্ব শাসনাধীন স্বাধীন অঞ্চলকে গৌরববোধ করে ‘স্বরাজ্য’ বলত।
বর্গি: মারাঠা সেনাবাহিনীতে যেসকল অশ্বারোহী সৈনিক রাষ্ট্রীয় বেতন নিয়ে স্থায়ীভাবে চাকরি করত, তাদের ‘বর্গি’ বলা হতো।
শিবাজি যখন পুণের আশেপাশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলি অধিকার করছিলেন, তখন মাওয়াল অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ও সামরিক শিক্ষায় শিক্ষিত স্থানীয় একদল দুঃসাহসী পদাতিক সেনাকে ‘মাবলে’ বা ‘মাওয়ালি’ বলা হতো।
গুরুত্ব: দুর্গম পাহাড়ি পথঘাট সম্পর্কে সুপরিচিত এই মাবলে সেনারা ছিল শিবাজির অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং গেরিলা (অতর্কিত) যুদ্ধ পরিচালনায় মারাঠা সেনাবাহিনীর প্রধান ভরসা।
শিবাজির মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পর মারাঠা পেশওয়া প্রথম বাজীরাও মুঘলদের বিরুদ্ধে ভারতের অন্যান্য হিন্দু রাজাদের ধর্মের নামে ঐক্যবদ্ধ করে একটি অখণ্ড হিন্দু সাম্রাজ্য গড়ে তোলার রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার করেন। এই জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রনৈতিক আদর্শকেই ‘হিন্দুপাদপাদশাহি’ বলা হয়।
নবম শিখ গুরু তেগবাহাদুর সম্রাট ঔরঙ্গজেবের কট্টর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন এবং এক পাঠান সর্দারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাঞ্জাবে মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়েন।
পরিণতি: এর ফলে মুঘলরা গুরু তেগবাহাদুরকে বন্দী করে দিল্লিতে নিয়ে আসে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করায় তাঁকে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শিখরা পাঞ্জাবের পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে দশম গুরু গোবিন্দ সিংহের নেতৃত্বে সামরিক শক্তিতে রূপ নেয়।
মথুরার নিকটবর্তী নারনৌল অঞ্চলে ‘সৎনামি’ নামক একটি আধ্যাত্মিক কৃষক গোষ্ঠী এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে পাঠান উপজাতিরা মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল।
কারণ: অতিরিক্ত করের বোঝা, রাজকর্মচারীদের মাত্রাতিরিক্ত উৎপীড়ন এবং কেন্দ্রীয় মুঘল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কারণেই এই আঞ্চলিক বিদ্রোহগুলি আত্মপ্রকাশ করেছিল।
মুঘল যুগের শেষ পর্বে কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও কৃষির ওপর নির্ভরশীল জনসংখ্যা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে রাজকর্মচারী ও অভিজাতরা নিজেদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ব্যয়ভার মেটাতে কৃষকদের ওপর করের বোঝা অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয়। করের চাপ সহ্য করতে না পেরে কৃষকরা চাষবাস ছেড়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, ফলে ব্যাপক অনাবাদি জমি ও রাজস্বে তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়—ইতিহাসে এই অবস্থাকেই ‘কৃষি সংকট’ বলা হয়।
খাস জমি বা খালিসা জমির রাজস্বের কোনো অংশ মনসবদারদের হাতে যেত না; এর সম্পূর্ণ আয় সরাসরি জমা হতো কেন্দ্রীয় রাজকোষে। দাক্ষিণাত্যের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার মেটানো এবং রাজকোষের ঘাটতি পূরণের উদ্দেশ্যেই ঔরঙ্গজেব বিজাপুর ও গোলকোন্ডার সবচেয়ে উর্বর জমিগুলি মনসবদারদের জায়গির হিসেবে না দিয়ে ‘খালিসা’ করে রেখেছিলেন।
৮ নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (ব্যাখ্যামূলক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)
মা জিজাবাঈয়ের ধর্মীয় শিক্ষা ও অভিভাবক শিক্ষক দাদাজি কোন্ডদেবের সামরিক নির্দেশনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতকে শিবাজি পুণে ও কোঙ্কণ অঞ্চলের যুদ্ধপটু মারাঠাদের একটি জাতীয় পতাকার নিচে জোটবদ্ধ করেন।
- সামরিক সাফল্য: বিজাপুরের সেনাপতি আফজল খানকে সুকৌশলে বাঘনখ অস্ত্র দিয়ে পরাস্ত ও হত্যা করে শিবাজি মারাঠাদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।
- স্বরাজ্য ও রাজ্যাভিষেক: মুঘলদের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৬৭৪ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক রায়গড় দুর্গে মহাধুমধামে শিবাজির রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয় এবং মারাঠাদের স্বাধীন ‘স্বরাজ্য’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দক্ষ প্রশাসন: পেশওয়ার নেতৃত্বে ‘অষ্টপ্রধান’ মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং বিশ্বস্ত ‘মাবলে’ ও ‘বর্গি’ সেনাদের নিয়ে তিনি এক দক্ষ ও জনকল্যাণমুখী মারাঠা শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন।
১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে শিখদের দশম গুরু গোবিন্দ সিংহ মুঘল অত্যাচার থেকে শিখদের আত্মরক্ষা ও নিরাপদে রাখার উদ্দেশ্যে ‘খালসা’ নামক একটি সশস্ত্র সামরিক ভাতৃসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
- পঞ্চ-‘ক’ ধারণ: তিনি খালসাপন্থী শিখদের সর্বদা ‘ক’ আদ্যাক্ষরযুক্ত পাঁচটি সামগ্রী কাছে রাখার নির্দেশ দেন—১) কেশ (না-কাটা চুল), ২) কঙ্ঘা (চিরুনি), ৩) কচ্ছা (হাঁটু পর্যন্ত আঁটো পোশাক), ৪) কৃপাণ (ছোটো তলওয়ার) এবং ৫) কড়া (লোহার বালা)।
- সিংহ পদবি: খালসায় দীক্ষিত সমস্ত পুরুষ শিখদের নামের শেষে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে ‘সিংহ’ পদবি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়।
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: খালসা গঠনের ফলে নিরীহ শিখ সমাজ এক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা জাতিতে রূপান্তরিত হয় এবং মুঘল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের আমলে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক উৎপীড়ন ও অর্থনৈতিক কৃষি সংকটের ফলস্বরূপ উত্তর ভারতে একাধিক কৃষক ও উপজাতীয় বিদ্রোহ সংঘটিত হয়:
- জাঠ বিদ্রোহ: দিল্লি ও আগ্রার মধ্যবর্তী অঞ্চলে কৃষিপ্রধান জাঠ সম্প্রদায় মাত্রাতিরিক্ত কর আদায়ের বিরুদ্ধে এবং পৃথক রাজ্য গঠনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় জমিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- সৎনামি কৃষক বিদ্রোহ: মথুরার নারনৌল অঞ্চলে এক ভক্তিবাদী ধর্মীয় সম্প্রদায় ‘সৎনামি’ কৃষকরা মুঘল রাজকর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে এবং সাময়িকভাবে সরকারি প্রশাসন ভেঙে দেয়।
- পাঠান উপজাতি বিদ্রোহ: উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের আফগান পাঠান উপজাতিরা মুঘল আধিপত্য ও কর্তৃত্ব অস্বীকার করে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতকের শেষ ভাগে মুঘল সাম্রাজ্যে মনসবদারদের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলেও তাদের দেওয়ার মতো উর্বর জায়গিরের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়।
- দলাদলির কারণ: সম্রাট ঔরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যের বিজিত অঞ্চলের ভালো জমিগুলি ‘খালিসা’ বা খাস জমি হিসেবে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখায় লাভজনক জায়গির পাওয়ার জন্য অভিজাতদের মধ্যে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হয়।
- দলাদলির প্রকৃতি: এর ফলে মুঘল দরবারীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন জাতিভিত্তিক গোষ্ঠী—যেমন ইরানি, তুরানি, মারাঠা, রাজপুত এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজাতদের মধ্যে পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র ঈর্ষা, ষড়যন্ত্র ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আত্মপ্রকাশ করে।
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃতি ও স্থায়িত্ব নিয়ে আধুনিক ঐতিহাসিকদের মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে:
- প্রথম মত (শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদ): একদল ঐতিহাসিক মনে করেন, মুঘলরা ছিল এক অবিসংবাদিত কেন্দ্রীয় শক্তিশালী শক্তি। কাশ্মীর থেকে দাক্ষিণাত্য পর্যন্ত তাদের শাসন বিস্তৃত ছিল এবং মধ্যযুগে একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমান ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রাথমিক ভিত এই সাম্রাজ্যের মধ্যেই রচিত হয়েছিল।
- দ্বিতীয় মত (সীমিত ক্ষমতা বা জোড়াতালি ব্যবস্থা): অপর একদল আধুনিক ঐতিহাসিক মনে করেন, উত্তর ভারতের সমতল অঞ্চলের বাইরে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুঘলদের ক্ষমতা ছিল নিতান্তই প্রতীকী ও সীমিত। আঞ্চলিক শক্তিগুলি মূলত তাদের শর্তেই শাসন চালাত। তাই মুঘল সাম্রাজ্যকে কোনো ‘নিশ্ছিদ্র গালিচা’ না ভেবে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সাথে আপস করা একটা ‘জোড়াতালি দেওয়া কম্বল’ ভাবাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
৯ দশ - বারোটি বাক্যের মধ্যে উত্তর দাও (রচনাধর্মী বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর)
১. সংঘাতের সূচনা ও বংশানুক্রমিক গুরু প্রথা:
মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গির এবং শাহজাহানের রাজত্বকাল থেকেই শিখ সম্প্রদায়ের গুরুর প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্যকে মুঘল শাসকরা রাজনৈতিক হুমকি বলে গণ্য করতে শুরু করে। খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতকের শেষ দিকে চতুর্থ শিখ গুরু রামদাসের পুত্র অর্জুনদেব গুরুপদে আসীন হলে শিখদের মধ্যে বংশানুক্রমিকভাবে গুরু নির্বাচনের রীতি প্রচলিত হয়।
২. ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার সংমিশ্রণ:
পঞ্চম গুরু অর্জুনদেবের আত্মত্যাগের পর তাঁর পুত্র গুরু হরগোবিন্দ একসঙ্গে দুটি তলওয়ার ধারণ করার রীতি প্রবর্তন করেন। এর একটি ছিল তাঁর আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় ক্ষমতার প্রতীক এবং অন্যটি ছিল রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিরোধের প্রতীক। তিনি অনুগামীদের আত্মরক্ষার্থে অস্ত্রধারণের নির্দেশ দেন।
৩. নবম গুরু তেগবাহাদুরের আত্মবলিদান:
সম্রাট ঔরঙ্গজেবের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নবম গুরু তেগবাহাদুর পাঞ্জাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুঘলরা তাঁকে বন্দী করে দিল্লিতে মৃত্যুদণ্ড দিলে শিখদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। নিপীড়িত শিখরা পাঞ্জাবের পাহাড়ি অঞ্চলে একত্রিত হতে থাকে।
৪. খালসা সংগঠন প্রতিষ্ঠা (১৬৯৯ খ্রিঃ):
দশম শিখ গুরু গোবিন্দ সিংহ ১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে বৈশাখী পূর্ণিমায় আনন্দপুর সাহিবে শিখদের সামরিক শক্তিতে সুসংগঠিত করতে ‘খালসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শিখদের স্বতন্ত্র জীবনধারা (পাঁচটি ‘ক’) নির্ধারণ করেন এবং প্রত্যেক পুরুষের নামের শেষে ‘সিংহ’ পদবি বাধ্যতামূলক করেন।
৫. পরবর্তী সংগ্রাম ও মুঘল কর্তৃত্ব হ্রাস:
গুরু গোবিন্দ সিংহের মৃত্যুর পরেও তাঁর বীর শিষ্য বান্দা বাহাদুরের নেতৃত্বে শিখরা মুঘলদের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যান। এর ফলে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে মুঘলদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত সম্পূর্ণ শিথিল হয়ে পড়ে।
ক. কৃষি সংকটের মূল কারণসমূহ:
- জনসংখ্যার অনুপাতহীন বৃদ্ধি: জমিতে মোট ফসলের উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তার তুলনায় কৃষির ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
- প্রযুক্তির অনগ্রসরতা: মুঘল শাসকেরা উন্নত কৃষিপদ্ধতি বা নতুন প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়ে জমির উৎপাদনশীলতা বা উর্বরতা বাড়াতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
- মূল্যবৃদ্ধি ও রাজস্বের অত্যাচার: সপ্তদশ শতকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিজাত ও জায়গিরদাররা নিজেদের বিলাসিতার খরচ চালাতে কৃষক ও স্থানীয় জমিদারদের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করে।
খ. কৃষি সংকটের সুদূরপ্রসারী ফলাফল:
- কৃষকদের পলায়ন ও উৎপাদন স্তব্ধ: জায়গিরদার ও রাজকর্মচারীদের মাত্রাতিরিক্ত নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে বহু কৃষক জমি ও চাষবাস ফেলে দলে দলে গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়। এর ফলে বিশাল উর্বর জমি অনাবাদি পড়ে থাকে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পায়।
- রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি: কৃষিকাজ বন্ধ হওয়ায় রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায়ে বিরাট ধস নামে। মনসবদাররা জায়গির থেকে নির্দিষ্ট রাজস্ব না পাওয়ায় তাদের নিয়মিত সৈন্যদল ও ঘোড়সওয়ারদের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হয়।
- সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহের সূচনা: জীবিকার চরম সংকটে পড়ে শোষিত কৃষকরা স্থানীয় জমিদারদের মদতে সংগঠিত হতে থাকে। ফলে দিল্লি-আগ্রা অঞ্চলে জাঠ বিদ্রোহ এবং নারনৌলে সৎনামি কৃষক বিদ্রোহের মতো বিপজ্জনক আন্দোলনের জন্ম হয়, যা মুঘল রাজকোষ ও শাসনব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেয়।
ক. সংকটের কারণসমূহ:
- মনসবদারের সংখ্যাবৃদ্ধি বনাম ভূমির অভাব: ঔরঙ্গজেবের আমলে বিপুলসংখ্যক নতুন অভিজাত (বিশেষত দাক্ষিণাত্যের মারাঠা ও দাক্ষিণাত্যবাসীদের) মনসব দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের উপযুক্ত জায়গির প্রদানের মতো উর্বর ভূমির ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয় (যাকে ‘বে-জায়গিরি’ সংকট বলা হয়)।
- ভালো জমি খালিসা করা: বিজাপুর ও গোলকোন্ডা জয়ের পর ঔরঙ্গজেব সেখানকার সবচেয়ে উর্বর জমিগুলি মনসবদারদের না দিয়ে কেন্দ্রীয় রাজকোষের জন্য ‘খালিসা’ বা খাস জমি হিসেবে রেখে দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়।
- হিসাব ও বাস্তব আয়ের তফাত: সরকারি নথিপত্রে জায়গিরের সম্ভাব্য আয় (জমা) এবং মাঠপর্যায়ে প্রকৃত আদায়ের (হাসিল) মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান তৈরি হয়। ফলে বহু মনসবদার তাঁদের প্রাপ্য বেতন পেতেন না।
খ. সাম্রাজ্যের ওপর সংকটের প্রভাব:
- সামরিক শক্তির বিপর্যয়: উপযুক্ত অর্থ না পাওয়ায় মনসবদাররা নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রশিক্ষিত ঘোড়সওয়ার পুষতে পারতেন না। ফলে খাতায়-কলমে বিপুল সৈন্য থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্রে আসল মুঘল সামরিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যায়।
- দরবারি রাজনীতিতে মারাত্মক দলাদলি: একটি উর্বর জায়গিরের জন্য একাধিক মনসবদার কাড়াকাড়ি শুরু করায় মুঘল দরবার ইরানি, তুরানি, মারাঠা ও রাজপুত উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং সম্রাটের প্রতি আনুগত্যের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে।
- আঞ্চলিক নির্ভরশীলতা: দাক্ষিণাত্যে রাজস্ব আদায়ের জন্য মুঘল মনসবদাররা মারাঠা সর্দারদের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হন, যা মুঘলদের সার্বভৌম কর্তৃত্বকে শেষ করে দেয়।
১. ভূখণ্ডের ভৌগোলিক বিস্তার ও প্রশাসনিক জটিলতা:
ঔরঙ্গজেবের আমলে আসাম থেকে কাশ্মীর এবং উত্তরে কাবুল থেকে দক্ষিণে বিজাপুর-গোলকোন্ডা পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বাধিক প্রসার লাভ করেছিল। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার যুগে এই সুবিশাল সাম্রাজ্যকে দিল্লি থেকে একক কর্তৃত্বের অধীনে ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
২. দাক্ষিণাত্য নীতির সর্বনাশা ক্ষয়:
ঔরঙ্গজেব জীবনের শেষ প্রায় পঁচিশটি বছর দাক্ষিণাত্যের মাটিতে যুদ্ধ পরিচালনা করে কাটিয়ে দেন। ঐতিহাসিক স্মিথ যাকে ‘দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ (Deccan Ulcer) বলেছেন, সেই যুদ্ধ মুঘল রাজকোষকে শূন্য করে দেয় এবং সম্রাটের অনুপস্থিতিতে উত্তর ভারতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে।
৩. অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও কৃষি বিদ্রোহ:
ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত করের বোঝা এবং জায়গির বণ্টন নিয়ে তীব্র কোন্দল প্রশাসনকে পঙ্গু করে দিয়েছিল। কৃষকদের পলায়ন এবং জাঠ, সৎনামি ও শিখদের অস্ত্রধারণ প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের আস্থা সম্রাট পুরোপুরি হারিয়েছিলেন।
৪. আঞ্চলিক শক্তির উত্থান:
ছত্রপতি শিবাজির নেতৃত্বে মারাঠাদের অজেয় উত্থান এবং পাঞ্জাবে খালসার প্রতিরোধ মুঘলদের কেন্দ্রীয় একক কর্তৃত্বকে সমূলে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
উপসংহার: সংক্ষেপে বলা যায়, ঔরঙ্গজেবের শাসনকালে মুঘল সাম্রাজ্য বাইরে থেকে এক মহীরুহের মতো অটল মনে হলেও ভেতরে ভেতরে উইপোকার মতো তা সম্পূর্ণ ফাঁপা হয়ে গিয়েছিল, যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ছিল তাঁর মৃত্যুর পরপরই সাম্রাজ্যের দ্রুত পতন।
১. শিবাজির নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির উত্থান:
শাহজি ভোঁসলে ও জিজাবাঈয়ের পুত্র শিবাজি (১৬৩০–১৬৮০ খ্রিঃ) পুণে ও কোঙ্কণ অঞ্চলের যুদ্ধপটু ও স্বাধীনতাকামী মারাঠাদের ঐক্যবদ্ধ করেন। মাওয়াল অঞ্চলের পদাতিক ‘মাবলে’ সেনাদের সংগঠিত করে তিনি বিজাপুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। বিজাপুরের কুখ্যাত সেনাপতি আফজল খান তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলে শিবাজি আত্মরক্ষার্থে বাঘনখ দিয়ে আফজল খানকে হত্যা করে মারাঠাদের মধ্যে অতুলনীয় সাহস সঞ্চার করেন।
২. মুঘল-মারাঠা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও পুরন্দরের সন্ধি:
ঔরঙ্গজেব শিবাজিকে দমন করতে সেনাপতি শায়েস্তা খানকে পাঠালে শিবাজি পুণেতে তাঁর শিবিরে অতর্কিত আক্রমণ করে শায়েস্তা খানের আঙুল কেটে দেন। এরপর তিনি মুঘলদের সমৃদ্ধ সুরাট বন্দর দু-বার লুণ্ঠন করেন। পরে ঔরঙ্গজেবের সেনাপতি মির্জা রাজা জয়সিংহ শিবাজিকে কোণঠাসা করে ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে পুরন্দরের সন্ধি স্বাক্ষরে বাধ্য করেন এবং শিবাজি ২৩টি দুর্গ মুঘলদের সমর্পণ করেন। আগ্রার রাজসভায় বন্দি হলেও তিনি চাতুর্যের সাথে ফলের ঝুড়িতে লুকিয়ে পালিয়ে আসেন এবং পুনরায় স্বরাজ্য পুনরুদ্ধারে নামেন।
৩. রাজ্যাভিষেক ও স্বাধীন শাসনব্যবস্থা:
১৬৭৪ খ্রিস্টাব্দে রায়গড় দুর্গে শিবাজির অভিষেক হয় এবং তিনি ‘ছত্রপতি’ উপাধি নেন। তাঁর শাসনব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- অষ্টপ্রধান পরিষদ: রাজ্য পরিচালনায় সাহায্যের জন্য আটজন মন্ত্রীর একটি পরিষদ ছিল, যার সর্বপ্রধান মন্ত্রীকে বলা হতো ‘পেশওয়া’।
- স্বরাজ্য ও মোগলাই: শিবাজির নিজের প্রত্যক্ষ শাসনাধীন অঞ্চলকে বলা হতো ‘স্বরাজ্য’। এছাড়া পার্শ্ববর্তী মুঘল বা সুলতানি অঞ্চল থেকে তিনি ‘চৌথ’ (উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশ) ও ‘সরদেশমুখী’ (অতিরিক্ত এক-দশমাংশ) কর আদায় করতেন।
- সুসংগঠিত সেনাবাহিনী: তাঁর সেনাবাহিনীতে নিয়মিত বেতনভুক অশ্বারোহী সৈন্য ‘বর্গি’, সাধারণ ঘোড়সওয়ার ‘শিলেদার’ এবং দুর্ধর্ষ পদাতিক ‘মাবলে’ ছিল, যারা গেরিলা যুদ্ধে অপরাজেয় ছিল।
Comments
You must be signed in to join the discussion.
Loading comments...