WBBSE Class 9 Life Science Chapter 4 জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ : সম্পূর্ণ অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর | Biology and Human Welfare Question Answer
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) নির্ধারিত নবম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয় পাঠ্যবইয়ের চতুর্থ অধ্যায়: 'জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ' (Biology and Human Welfare)-এর পাঠ্যবই অনুশীলনী (পৃষ্ঠা ১২৩, ১২৪ ও ১২৫)-র সমস্ত প্রশ্নোত্তরের নিখুঁত, নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান এখানে উপস্থাপিত করা হলো।
অধ্যায়ের প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ—অনাক্রম্যতা ও অনাক্রম্যতন্ত্র (Immunity), অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির বিশদ গঠন, টিকা ও টিকাকরণ (Vaccination), বিভিন্ন মারাত্মক সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ (যক্ষ্মা, টিটেনাস, ডিপথেরিয়া, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস ও AIDS), স্বাস্থ্যবিধিতে ধৌতকরণের ভূমিকা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি ও শিল্পে মানবকল্যাণে জীবাণুর অপরিসীম ভূমিকা সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নের সমাধান বোর্ড পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার উপযোগী করে পরিচ্ছন্ন বৈজ্ঞানিক রঙিন ভেক্টর ডায়াগ্রামের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়েছে।
অধ্যায় ৪ : জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (Biology and Human Welfare)
A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন [MCQ]
B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ)
▶ এককথায় উত্তর দাও :
▶ শূন্যস্থান পূরণ করো :
▶ সত্য (T) বা মিথ্যা (F) নির্ধারণ করো :
▶ প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও :
▶ বিসদৃশটি বেছে লেখো :
▶ অন্তর্গত বিষয়টি খুঁজে বার করো :
▶ বাম ও ডান স্তম্ভ মেলাও :
স্তম্ভ মেলানো (১)
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল) |
|---|---|
| i. সায়ানোব্যাকটেরিয়া | → b. অলোসিরা |
| ii. পাইনাস | → e. মাইকোরাইজা |
| iii. অ্যান্টিবায়োটিক | → a. নিওমাইসিন |
| iv. HBV ভ্যাকসিন | → c. হেপাটাইটিস B |
স্তম্ভ মেলানো (২)
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল) |
|---|---|
| i. এপিটোপ | → d. অ্যান্টিজেন |
| ii. প্যারাটোপ | → a. অ্যান্টিবডি |
| iii. রসনির্ভর অনাক্রম্যতা | → b. B-লিম্ফোসাইট |
| iv. কোষনির্ভর অনাক্রম্যতা | → c. T-লিম্ফোসাইট |
স্তম্ভ মেলানো (৩)
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল) |
|---|---|
| i. অমরা অতিক্রম করতে পারে | → d. IgG |
| ii. কোলোস্ট্রামে উপস্থিত | → a. IgA |
| iii. প্রোটোজোয়াঘটিত রোগ | → e. ম্যালেরিয়া |
| iv. ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ | → c. ডিপথেরিয়া |
স্তম্ভ মেলানো (৪)
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল) |
|---|---|
| i. BCG | → b. যক্ষ্মার টিকা |
| ii. DPT | → c. ডিপথেরিয়া টিকা |
| iii. OPV | → d. ওরাল পোলিও টিকা |
| iv. MMR | → e. হামের টিকা |
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
এটি প্রধানত দুই প্রকার: (i) সহজাত অনাক্রম্যতা (Innate) এবং (ii) অর্জিত অনাক্রম্যতা (Acquired)।
উদাহরণ: প্যাথোজেনের কোষপ্রাচীরস্থ প্রোটিন, ভাইরাসের ক্যাপসিড, ফুলের রেণু।
উদাহরণ: IgG, IgA, IgM, IgE, IgD।
এটি একটি ত্রিযোজী সম্মিলিত প্রতিষেধক টিকা, যা শিশুদের হাম (Measles), মাম্পস (Mumps) এবং জার্মান হাম বা রুবেলা (Rubella) রোগের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত ৯–১৫ মাস বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়।
১. ঘন ঘন পাতলা জলের মতো মলত্যাগ: দিনে বহুবার তরল পায়খানা হওয়া যার ফলে দেহ থেকে জল ও গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইটস (লবণ) বেরিয়ে যায়।
২. ডিহাইড্রেশন বা তীব্র পানিশূন্যতা: চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া, মুখ ও জিভ শুকিয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং চরম ক্ষেত্রে রোগী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া।
২. চিকিৎসা ও প্রতিকার: আক্রমণ ঘটলে রোগীকে নিস্তব্ধ অন্ধকার ঘরে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে টিটেনাস অ্যান্টিটক্সিন (TAT) বা টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (TIG) সিরাম এবং উপযুক্ত পেশি শিথিলকারী ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।
১. IgG: রক্তরসে সর্বাধিক থাকে (৭৫-৮০%) এবং অমরা অতিক্রম করে।
২. IgA: কোলোস্ট্রাম, লালা ও অশ্রুতে উপস্থিত ক্ষরণকারী অ্যান্টিবডি।
৩. IgM: আকারের দিক থেকে বৃহত্তম পেন্টামার অ্যান্টিবডি; প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৪. IgE: অ্যালার্জি ও কৃমি প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি।
৫. IgD: B-কোষের আবরণে রিসেপ্টর হিসেবে কাজ করে।
২. এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন (Endogenous Antigen): যে সমস্ত অ্যান্টিজেন দেহের অভ্যন্তরীণ কোষীয় বিপাক বা জিনগত পরিবর্তনের ফলে নিজ কোষের ভেতরেই উৎপন্ন হয়, তাদের এন্ডোজেনাস বা অন্তর্জাত অ্যান্টিজেন বলে; যেমন—ক্যানসার কোষের টিউমার অ্যান্টিজেন, পরিবর্তিত অটো-অ্যান্টিজেন।
১. তীব্র জ্বর ও হাড়ভাঙা অসহ্য যন্ত্রণা (Break-bone fever): হঠাৎ ১০৩°–১০৫° ফারেনহাইট তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা এবং কোমর, অস্থিসন্ধি ও পেশিতে প্রচণ্ড অসহ্য যন্ত্রণা।
২. রক্তে অনুচক্রিকা (Platelet) হ্রাস: রক্তের প্লেটলেট আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, ত্বকে লালচে ছোপ বা র্যাশ বের হয় এবং মারাত্মক ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে।
ইন্টারফেরনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই তাৎক্ষণিক কোষীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা বলা হয়। এটি সহজাত অনাক্রম্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১. দেহে অ্যান্টিজেন প্রবেশ করলে অ্যান্টিজেন উপস্থাপনকারী কোষ (APC) তা T-কোষকে প্রদর্শন করে।
২. সক্রিয় সাইটোটক্সিক T-কোষ (Tc Cell) রাসায়নিক পারফোরিন (Perforin) ও গ্র্যানজাইম ক্ষরণ করে জীবাণুযুক্ত আক্রান্ত কোষ বা ক্যানসার কোষের আবরণী বিদীর্ণ করে সরাসরি ধ্বংস করে।
৩. সহায়ক T-কোষ (Th Cell) সাইটোকাইনিন ক্ষরণ করে ম্যাক্রোফাজকে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্দীপিত করে।
১. বহিরাগত অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে এসে B-লিম্ফোসাইট সক্রিয় হয়ে দ্রুত বিভাজিত হয়ে বিপুল পরিমাণ প্লাজমা কোষ গঠন করে।
২. প্রতিটি প্লাজমা কোষ প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে রক্তরসে পাঠায়।
৩. এই অ্যান্টিবডিগুলি অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে গ্লুটিনেশন, প্রিসিপিটেশন এবং অপসোনাইজেশন পদ্ধতিতে জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করে এবং ম্যাক্রোফাজ দ্বারা ধ্বংস করায়।
১. সংক্রামিত রক্ত গ্রহণ ও সূচ ব্যবহার: হেপাটাইটিস-B আক্রান্ত ব্যক্তির অপরীক্ষিত রক্ত সুস্থ ব্যক্তির দেহে পরিসঞ্চালন করলে বা সংক্রামিত ব্যক্তির ব্যবহৃত ডিসপোজেবল সূচ/সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহার করলে।
২. অসুরক্ষিত শারীরিক সম্পর্ক ও মাতৃদেহ থেকে সংক্রমণ: সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে অসুরক্ষিত শারীরিক মিলনের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের থেকে প্রসবের সময় শিশুর দেহে ভাইরাস বাহিত হয়।
উদাহরণ: DPT বা পোলিও টিকার পরবর্তী বুস্টার ডোজ এবং টিটেনাসের প্রতি ১০ বছর অন্তর বুস্টার প্রয়োগ।
১. সাবান ও পরিষ্কার জল: চর্বিযুক্ত ক্ষারীয় সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ জীবাণুর লিপিড ঝিল্লি ভেঙে ধ্বংস করে।
২. অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার: ন্যূনতম ৭০% আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল বা ইথানলযুক্ত স্যানিটাইজার যা জল ছাড়াই হাত জীবাণুমুক্ত করে।
৩. জীবাণুনাশক দ্রবণ: সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট বা ব্লিচিং দ্রবণ যা মেঝে ও পাত্রের জীবাণু নাশ করে।
২. প্যারাটোপ (Paratope): অ্যান্টিবডি অণুর পরিবর্তনশীল প্রান্তে (V-অঞ্চলে) অবস্থিত যে নির্দিষ্ট খাঁজযুক্ত স্থানে অ্যান্টিজেনের এপিটোপটি অবিকল তালার চাবির মতো যুক্ত হয়, তাকে অ্যান্টিজেন বাইন্ডিং সাইট বা প্যারাটোপ বলে।
এটি বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট সাবিন কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি জীবন্ত মৃদু পোলিও টিকা যা মুখ দিয়ে ড্রপ আকারে শিশুদের খাওয়ানো হয় এবং পোলিওমায়োলাইটিস (পোলিও पक्षाघात) রোগ প্রতিরোধ করে।
| তুলনার বিষয় | অ্যান্টিজেন (Antigen) | অ্যান্টিবডি (Antibody) |
|---|---|---|
| ১. প্রকৃতি ও উৎস | দেহের বাইরে থেকে প্রবেশকারী বিজাতীয় ক্ষতিকর পদার্থ (প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড)। | অ্যান্টিজেনের প্রতিক্রিয়ায় দেহের নিজস্ব B-কোষের প্লাজমা কোষ দ্বারা উৎপন্ন গ্লাইকোপ্রোটিন। |
| ২. কাজ | অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে অ্যান্টিবডি তৈরিতে বাধ্য করে এবং রোগ সৃষ্টি করে। | নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে। |
এটি প্রাথমিক সাড়া ও দ্রুততর গৌণ সাড়া—এই দুই ভাগে বিভক্ত।
১. সাইটোটক্সিক বা কিলার T-কোষ (Tc): ভাইরাসযুক্ত ও ক্যানসার কোষকে সরাসরি ছিদ্র করে ধ্বংস করে।
২. সহায়ক T-কোষ (Th): লিম্ফোকাইনিন ক্ষরণ করে B-কোষকে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্রিয় করে।
৩. অবদমক T-কোষ (Ts): প্রতিরোধ ক্রিয়া সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে স্ব-কোষকে বাঁচায়।
৪. মেমরি T-কোষ (Tm): জীবাণুর বৈশিষ্ট্য স্মরণে রাখে যাতে পরবর্তীতে আক্রমণ হলে দ্রুত নির্মূল করতে পারে।
২. মেমরি B-কোষ (Memory B Cell): এরা অ্যান্টিজেনটির বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন বা সারাজীবন স্মৃতিতে ধরে রাখে, ফলে ভবিষ্যতে একই জীবাণু পুনরায় শরীরে ঢুকলে কোনো কালক্ষেপণ ছাড়াই তীব্র বেগে অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ করে।
১. শীতাবস্থা (Cold Stage): প্রচণ্ড শীতবোধ হওয়া এবং দাঁতে দাঁত লেগে সারা শরীর তীব্রভাবে কাঁপতে থাকা (সাধারণত ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা স্থায়ী)।
২. উত্তাপাবস্থা (Hot Stage): কাঁপুনি থেমে গিয়ে হঠাৎ তীব্র জ্বর আসা (তাপমাত্রা ১০৩° থেকে ১০৬° ফারেনহাইটে পৌঁছায়), প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব (২ থেকে ৬ ঘণ্টা স্থায়ী)।
৩. ঘর্মাবস্থা (Sweating Stage): প্রচুর ঘাম দিয়ে জ্বর হঠাৎ ছেড়ে যাওয়া, শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়া এবং রোগী ঘুমিয়ে পড়া।
D. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LAQ)
একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি অণুর গঠনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. Y-আকৃতির চতুর্গঠন (H₂L₂ সূত্র): একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি অণু (যেমন IgG) দেখতে ইংরেজি 'Y' অক্ষরের মতো। এটি মোট চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত—
• দুটি ভারী শৃঙ্খল (Heavy Chain বা H-Chain): ভেতরের দিকে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ও ভারী দুটি শৃঙ্খল, যার প্রতিটিতে প্রায় ৪৪০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে (আণবিক ভর প্রায় ৫০,০০০ ডালটন)।
• দুটি হালকা শৃঙ্খল (Light Chain বা L-Chain): বাইরের দুই প্রান্তে অবস্থিত ক্ষুদ্রতর দুটি শৃঙ্খল, যার প্রতিটিতে প্রায় ২২০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে (আণবিক ভর প্রায় ২৫,০০০ ডালটন)।
২. ডাইসালফাইড বন্ধন (-S-S- Bonds): চারটি শৃঙ্খল পরস্পরের সাথে আন্তঃশৃঙ্খল সমযোজী ডাইসালফাইড বন্ধন দ্বারা দৃঢ়ভাবে সংলগ্ন থাকে। প্রতিটি হালকা শৃঙ্খল একটি করে ভারী শৃঙ্খলের সাথে যুক্ত থাকে এবং ভারী শৃঙ্খল দুটি কব্জা অঞ্চলে পরস্পরের সাথে দুটি ডাইসালফাইড বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
৩. পরিবর্তনশীল অঞ্চল ও স্থির অঞ্চল:
• পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable Region বা V-অঞ্চল): প্রতিটি H ও L শৃঙ্খলের N-প্রান্তীয় অগ্রভাগে অবস্থিত। এই অঞ্চলের অ্যামাইনো অ্যাসিডের বিন্যাস অ্যান্টিজেন ভেদে ভিন্ন হয়।
• স্থির অঞ্চল (Constant Region বা C-অঞ্চল): শৃঙ্খলের C-প্রান্তীয় বা পশ্চাৎভাগে অবস্থিত, যার অ্যামাইনো অ্যাসিড বিন্যাস একই শ্রেণির সমস্ত অ্যান্টিবডিতে প্রায় অপরিবর্তিত থাকে।
৪. প্যারাটোপ বা অ্যান্টিজেন সংযুক্তিস্থল: পরিবর্তনশীল অঞ্চলের খাঁজযুক্ত অংশে নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের এপিটোপ যুক্ত হওয়ার স্থান থাকে, যাকে প্যারাটোপ (Paratope) বা অ্যান্টিজেন বাইন্ডিং সাইট বলে। একটি Y-মনোমারে দুটি প্যারাটোপ থাকে (দ্বিজোযী বা Bivalent)।
৫. কব্জা অঞ্চল (Hinge Region): ভারী শৃঙ্খল দুটির মধ্যবর্তী যে নমনীয় অংশে প্রোলিন সমৃদ্ধ অঞ্চল থাকে, তাকে কব্জা অঞ্চল বলে। এটি অ্যান্টিবডির দুই বাহুকে ইচ্ছামতো মেলাতে বা সংকুচিত করতে সাহায্য করে।
৬. Fab ও Fc খণ্ড: প্যাপাইন উৎসেচক দিয়ে ভাঙলে অ্যান্টিবডির দুটি অ্যান্টিজেন বাঁধাইকারী বাহু তৈরি হয় যাকে Fab খণ্ড বলে এবং কাণ্ডের নিচের অংশটিকে Fc খণ্ড (স্ফটিকায়নযোগ্য অংশ) বলে।
| তুলনার বিষয় | অ্যান্টিজেন (Antigen) | অ্যান্টিবডি (Antibody) |
|---|---|---|
| ১. সংজ্ঞা ও পরিচয় | দেহের অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্রিয়কারী ক্ষতিকর বিজাতীয় পদার্থ। | অ্যান্টিজেনের প্রতিক্রিয়ায় প্লাজমা কোষ দ্বারা নিঃসৃত প্রতিরক্ষামূলক গ্লাইকোপ্রোটিন অণু। |
| ২. রাসায়নিক প্রকৃতি | সাধারণত উচ্চ আণবিক গুরুত্বসম্পন্ন জটিল প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড বা লিপোপ্রোটিন। | রক্তরসের বিশেষ গামা গ্লোবিউলিন বা গ্লাইকোপ্রোটিন (ইমিউনোগ্লোবিউলিন)। |
| ৩. উৎপত্তির উৎস | প্রধানত বহিরাগত (জীবাণু, রেণু, ধূলিকণা) অথবা অভ্যন্তরীণ অস্বাভাবিক কোষ (ক্যানসার কোষ)। | দেহের নিজস্ব অনাক্রম্য অঙ্গ ও লসিকাগ্রন্থির B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন প্লাজমা কোষে তৈরি। |
| ৪. সংযুক্তিস্থল | এর উপরিভাগে অ্যান্টিবডির সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য এপিটোপ (Epitope) থাকে। | এর পরিবর্তনশীল অগ্রভাগে অ্যান্টিজেনকে বাঁধার জন্য প্যারাটোপ (Paratope) থাকে। |
| ৫. জীবদেহে ভূমিকা | দেহে বিষক্রিয়া বা সংক্রামক রোগ সৃষ্টি করে ও টিস্যুর ক্ষতিসাধন করে। | অ্যান্টিজেনকে প্রশমিত, ধ্বংস ও ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমে দেহকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখে। |
| টিকার নাম | সম্পূর্ণ নাম | টিকার প্রকৃতি / উপাদান | প্রতিরোধকারী রোগ |
|---|---|---|---|
| BCG | Bacillus Calmette-Guérin | জীবন্ত অথচ শক্তিহীন ক্ষতিকর ক্ষমতাহীন ব্যাকটেরিয়া | যক্ষ্মা (Tuberculosis) |
| DPT | Diphtheria, Pertussis, Tetanus | সম্মিলিত ত্রিযোজী টিকা (টক্সয়েড ও মৃত ব্যাকটেরিয়া) | ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও টিটেনাস |
| OPV | Oral Polio Vaccine (Sabin) | জীবন্ত মৃদু পোলিও ভাইরাস (ড্রপ হিসেবে মুখের মাধ্যমে) | পোলিও (Poliomyelitis) |
| MMR | Measles, Mumps, Rubella | জীবন্ত মৃদু ভাইরাস মিশ্রণ | হাম, মাম্পস ও জার্মান হাম (রুবেলা) |
| TT | Tetanus Toxoid | বিষহীন করা রাসায়নিক টক্সয়েড | টিটেনাস (ধনুষ্টঙ্কার বা লক-জ) |
| HBV Vaccine | Hepatitis B Vaccine | রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে তৈরি পৃষ্ঠ অ্যান্টিজেন | হেপাটাইটিস-B (সিরাম জন্ডিস) |
| Rabies Vaccine | Anti-Rabies Vaccine (ARV) | মৃত জলাতঙ্ক ভাইরাস | জলাতঙ্ক (Rabies / Hydrophobia) |
• রোগজীবাণু: প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) নামক একপ্রকার অন্তঃপরজীবী আদ্যপ্রাণী (প্রোটোজোয়া); যেমন—Plasmodium vivax (বিনাইন টারশিয়ান ম্যালেরিয়া) এবং Plasmodium falciparum (মারাত্মক ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া)।
• বাহক: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা (Anopheles)।
২. সংক্রমণ পদ্ধতি:
স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা কোনো ম্যালেরিয়া রোগীকে কামড়ানোর পর তার লালাগ্রন্থিতে প্লাজমোডিয়ামের সংক্রামক দশা 'স্পোরোজয়েট' প্রবেশ করে। পরবর্তীতে মশাটি যখন কোনো সুস্থ মানুষকে দংশন করে, তখন তার লালার সাথে স্পোরোজয়েট সুস্থ ব্যক্তির রক্তস্রোতে প্রবেশ করে। রক্ত থেকে জীবাণু প্রথমে যকৃতে এবং পরে লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) বহুবিভাজন ঘটায়।
৩. প্রধান উপসর্গসমূহ:
• নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক জ্বর: সাধারণত ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টা অন্তর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।
• তিনটি পর্যায়: (ক) শীতাবস্থা: প্রচণ্ড শীত ও দাঁতকপাটি লাগা তীব্র কাঁপুনি; (খ) উত্তাপাবস্থা: ১০৩°–১০৬° ফারেনহাইট মারাত্মক জ্বর ও অসহ্য মাথাব্যথা; এবং (গ) ঘর্মাবস্থা: প্রচুর ঘাম দিয়ে হঠাৎ তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়া।
• রক্তাল্পতা ও প্লীহাবৃদ্ধি: লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ায় অ্যানিমিয়া দেখা দেয় এবং যকৃৎ ও প্লীহা অস্বাভাবিক বড়ো হয়ে যায় (হেপাটোস্প্লেনোমেগালি)।
৪. প্রতিরোধ ও প্রতিকার:
• মশা দমন: নিকাশিনালা ও জমা জলে ব্লিচিং বা কেরোসিন ছড়ানো, গাপ্পি ও গ্যামবুসিয়া মাছ চাষ করে মশার লার্ভা ভক্ষণ করানো।
• সুরক্ষা: শোয়ার সময় মশারি টাঙানো এবং জানলায় তারের জালি ব্যবহার করা।
• ওষুধ প্রয়োগ: রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জীবাণু শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্লোরোকুইন, কুইনাইন, প্রাইমাকুইন বা আর্টেমেসিনিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করা।
• প্যাথোজেন ও বাহক: ডেঙ্গু ভাইরাস বা ফ্ল্যাভিভাইরাস (DENV-1, 2, 3, 4)। বাহক হলো দিনবেলা কামড়ানো স্ত্রী এডিস মশা (Aedes aegypti)।
• উপসর্গ: হঠাৎ তীব্র জ্বর, চোখের পেছনের অংশে প্রচণ্ড ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে অসহ্য হাড়ভাঙা বেদনা (Break-bone fever)। মারাত্মক ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে রক্তের অনুচক্রিকা (Platelet) দ্রুত হ্রাস পায় এবং ত্বক, মাড়ি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ ঘটে।
• প্রতিরোধ: ফুলের টব, টায়ার বা ভাঙা নারকেলের মালায় যাতে জল না জমে তা নিশ্চিত করা। এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরা।
(খ) হেপাটাইটিস-B (Hepatitis B):
• প্যাথোজেন: হেপাটাইটিস-B ভাইরাস (HBV — এটি একটি দ্বিসূত্রী DNA যুক্ত হেপাডনাভাইরাস)।
• সংক্রমণ: সংক্রামিত রক্ত গ্রহণ, অপরিচ্ছন্ন সূচ বা সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহার, অসুরক্ষিত শারীরিক মিলন এবং আক্রান্ত মায়ের থেকে নবজাতকে ছড়ায়।
• উপসর্গ: ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব, পেটের ডানদিকে যকৃতে তীব্র ব্যথা, চোখ ও প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়া (সিরাম জন্ডিস)। দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণে যকৃতের সিরোসিস (Liver Cirrhosis) ও লিভার ক্যানসার হতে পারে।
• প্রতিরোধ: জন্মের পরপরই শিশুদের হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন দেওয়া, রক্ত পরিসঞ্চালনের পূর্বে HBV স্ক্রিনিং করা এবং একবার ব্যবহার্য ডিসপোজেবল সূচ ব্যবহার করা।
যক্ষ্মা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। এর জীবাণুর নাম মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis)। এটি একটি দণ্ডাকার অ্যাসিড-ফাস্ট ব্যাকটেরিয়া যা প্রধানত ফুসফুসকে আক্রমণ করে (পালমোনারি টিবি)।
২. সংক্রমণ পদ্ধতি:
• বায়ুবাহিত ড্রপলেট ইনফেকশন: আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি, থুতু বা কথা বলার সময় নির্গত ক্ষুদ্র থুতুকণা বা ড্রপলেটের মাধ্যমে বাতাসের সাথে সুস্থ মানুষের শ্বাসপথে জীবাণু প্রবেশ করে।
• রোগীর ব্যবহৃত গ্লাস, জামাকাপড় ও বাসনপত্রের সংস্পর্শে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
৩. প্রধান উপসর্গসমূহ:
• দীর্ঘস্থায়ী কাশি: একটানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে খুসখুসে কাশি এবং কাশির সাথে কফে রক্ত নির্গমন (হিমোপটিসিস)।
• সন্ধ্যাকালীন জ্বর: প্রতিদিন বিকেলের দিকে বা রাতে মৃদু জ্বর ও শরীর ঘামে ভিজে যাওয়া।
• দ্রুত ওজন হ্রাস ও দুর্বলতা: ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি, বুকের খাঁচায় ব্যথা এবং চোখের দৃষ্টি নিষ্প্রভ হয়ে দ্রুত শারীরিক শীর্ণতা।
৪. প্রতিরোধ ও প্রতিকার:
• টিকা: জন্মের পর শিশুদের অবশ্যই BCG (Bacillus Calmette-Guérin) টিকা দিতে হবে।
• চিকিৎসা (DOTS): সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে DOTS (Directly Observed Treatment, Short-course) পদ্ধতিতে আইসোনিয়াজিড, রিফামপিসিন, পাইরাজিনামাইড ও ইথামবিউটল জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পুরো কোর্স নিয়মিত শেষ করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে ড্রাগ-প্রতিরোধী মারাত্মক MDR-TB সৃষ্টি হয়।
১. প্যাথোজেনের প্রতিরক্ষামূলক লিপিড ঝিল্লি ধ্বংস:
করোনাভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কোষের বাইরে দ্বিস্তরীয় লিপিড বা চর্বির আবরণ থাকে। সাবান হলো উভমুখী অণুযুক্ত যৌগ (হাইড্রোফিলিক ও লিপোফিলিক প্রান্ত)। সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালো করে হাত ঘষলে সাবানের লিপোফিলিক অংশ জীবাণুর চর্বির আবরণীকে দ্রবীভূত করে তাদের সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও মেরে ফেলে।
২. স্পর্শজনিত সংক্রমণ শৃঙ্খল ভঙ্গ:
মানুষ অবচেতনভাবেই প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫–২০ বার হাত দিয়ে নিজের চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করে। নোংরা হাতে থাকা প্যাথোজেন এর মাধ্যমে শ্লেষ্মাঝিল্লি দিয়ে দেহে ঢুকে পড়ে। নিয়মিত হাত ধুলে এই স্পর্শবাহিত রোগ সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে যায়।
৩. আন্ত্রিক ও ডায়ারিয়াজনিত রোগ প্রতিরোধ:
মলত্যাগের পর এবং খাদ্যগ্রহণের পূর্বে ভালো করে সাবান-জলে হাত ধুলে রোটাভাইরাস, ই. কোলাই, কৃমির ডিম ও সালমোনেলাজনিত মারাত্মক ডায়ারিয়া, টাইফয়েড ও আমাশয় প্রায় ৪০%–৫০% প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৪. হাসপাতালে ক্রস-ইনফেকশন রোধ:
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীর পরিচর্যার আগে ও পরে জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধুলে রোগ প্রতিরোধী সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়া ও হাসপাতালের সংক্রমণ (Nosocomial infection) ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
৫. ফলমূল ও শাকসবজি ধৌতকরণ:
বাজার থেকে আনা কাঁচা ফলমূল ও সবজি পরিষ্কার জলে ভালো করে ধুলে তাতে লেগে থাকা ক্ষতিকর কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, ধুলোবালি ও পরজীবীর ডিম অপসারিত হয়।
১. চিকিৎসাবিজ্ঞানে জীবনদায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ও ওষুধ তৈরি:
• Penicillium notatum ছত্রাক থেকে প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হয়।
• Streptomyces griseus ব্যাকটেরিয়া থেকে স্ট্রেপ্টোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন ও এরিথ্রোমাইসিন পাওয়া যায়।
• রিকম্বিন্যান্ট E. coli ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে মানুষের জন্য কৃত্রিম ইনসুলিন (হিউমুলিন) এবং ভিটামিন B₁₂ প্রস্তুত করা হয়।
২. কৃষিক্ষেত্রে জৈব সার (Biofertilizer) ও নাইট্রোজেন সংবন্ধন:
• শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে মিথোজীবী Rhizobium এবং মাটিতে স্বাধীনজীবী Azotobacter ও Clostridium বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটির উর্বরতা বহু গুণ বাড়ায়।
• নীলাভ-সবুজ শৈবাল Nostoc ও Anabaena ধানক্ষেতে প্রাকৃতিক নাইট্রোজেনের জোগান দেয়।
৩. দুগ্ধ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে:
• Lactobacillus ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজ শর্করাকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে সুস্বাদু দই ও পনির তৈরি করে।
• এককোষী ছত্রাক ইস্ট (Saccharomyces cerevisiae) গাঁজন প্রক্রিয়ায় প্রচুর CO₂ গ্যাস তৈরি করে ময়দার মণ্ড ফুলিয়ে নরম ও ফাঁপা পাউরুটি ও কেক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৪. জৈব পেস্টিসাইড বা কীটশত্রু দমন (Biopesticides):
Bacillus thuringiensis (Bt) ব্যাকটেরিয়া ক্রাই-টক্সিন প্রোটিন উৎপন্ন করে যা ফসলের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় ও পতঙ্গদের অন্ত্রে ছিদ্র তৈরি করে জৈব উপায়ে তাদের মেরে ফেলে, ফলে রাসায়নিক কীটনাশকের দূষণ এড়ানো যায়।
৫. পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ ও বর্জ্য বিশ্লিষ্টকরণ (Bioremediation):
মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর জটিল জৈব বর্জ্যকে বিয়োজক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক পচিয়ে মাটিতে খনিজ মৌল রূপে ফিরিয়ে দেয়। এছাড়া Pseudomonas putida ব্যাকটেরিয়া সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর খনিজ তেলের দূষণ (Oil Spill) হজম করে পরিবেশ পরিষ্কার করে।
অনাক্রম্যতন্ত্রের অন্তর্গত প্রধান কোষসমূহের বিবরণ:
১. লিম্ফোসাইট (Lymphocytes): অর্জিত অনাক্রম্যতার মূল চালিকাশক্তি—
• B-লিম্ফোসাইট (B-কোষ): লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন ও পরিণত হয়। অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে এসে প্লাজমা কোষ গঠন করে রক্তরসে প্রচুর অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে (রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা)।
• T-লিম্ফোসাইট (T-কোষ): অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়ে থাইমাস গ্রন্থিতে পরিণতি লাভ করে। সাইটোটক্সিক T-কোষ জীবাণুযুক্ত কোষকে সরাসরি মেরে ফেলে (কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা)।
২. ফ্যাগোসাইটিক কোষ (Phagocytes):
• নিউট্রোফিল (Neutrophil): রক্তে সর্বাধিক পরিমাণে থাকা শ্বেতরক্তকণিকা যা রক্তজালক ভেদ করে কলায় প্রবেশ করে (ডায়াপিডিসিস) জীবাণুকে গিলে ফেলে।
• ম্যাক্রোফাজ (Macrophage): রক্তের মনোসাইট কলায় প্রবেশ করে আকারে বড়ো হয়ে শক্তিশালী ম্যাক্রোফাজে রূপান্তরিত হয় এবং ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে মৃত কোষ ও প্যাথোজেন ভক্ষণ করে।
৩. প্রাকৃতিক ঘাতক কোষ (Natural Killer / NK Cell):
লিম্ফোসাইট জাতীয় বড়ো দানাদার কোষ যা কোনো পূর্ব উদ্দীপনা ছাড়াই সরাসরি ভাইরাস সংক্রামিত কোষ ও ক্যানসার কোষকে মেরে ফেলে।
৪. অ্যান্টিজেন উপস্থাপনকারী কোষ (Antigen Presenting Cell / APC):
ডেনড্রাইটিক কোষ ও ম্যাক্রোফাজ প্যাথোজেনকে ভেঙে তার অ্যান্টিজেনিক অংশ MHC অণুর মাধ্যমে T-কোষের কাছে প্রদর্শন করে সক্রিয় করে তোলে।
অ্যান্টিবডি হলো একটি জটিল গ্লাইকোপ্রোটিন (ইমিউনোগ্লোবিউলিন) যার আণবিক ভর প্রায় ১,৫০,০০০ ডালটন। এর প্রাথমিক রাসায়নিক সংকেত $H_2L_2$।
• পলিপেপটাইড শৃঙ্খল: এতে দুটি অভিন্ন ভারী শৃঙ্খল (H-chain, ~৪৪০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড) এবং দুটি অভিন্ন হালকা শৃঙ্খল (L-chain, ~২২০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড) থাকে।
• ডাইসালফাইড বন্ধন: শৃঙ্খলগুলি আন্তঃশৃঙ্খল এবং অন্তঃশৃঙ্খল সমযোজী ডাইসালফাইড (-S-S-) বন্ধন দ্বারা পরস্পর সংলগ্ন থাকে।
• অঞ্চল বিভাজন: প্রতিটি শৃঙ্খলের প্রান্তভাগে পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable Region) এবং পশ্চাৎভাগে স্থির অঞ্চল (Constant Region) থাকে। পরিবর্তনশীল অঞ্চলটি অ্যান্টিজেনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার প্যারাটোপ গঠন করে।
২. অ্যান্টিবডির প্রধান প্রধান কাজ:
১. অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): একাধিক অ্যান্টিবডি বহুজোযী অ্যান্টিজেনযুক্ত ব্যাকটেরিয়াগুলিকে পরস্পরের সাথে দানা বা গুচ্ছ বাঁধিয়ে নিশ্চল করে তোলে।
২. প্রশমন বা নিউট্রালাইজেশন (Neutralization): ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত টক্সিন বা ভাইরাসের রিসেপ্টরের সাথে অ্যান্টিবডি আবদ্ধ হয়ে তাদের বিষক্রিয়া ও কোষ সংক্রমণের ক্ষমতা বিনষ্ট করে।
৩. অপসোনাইজেশন (Opsonization): অ্যান্টিবডি জীবাণুর বহিরাবরণকে আবৃত করে ফেলে, ফলে ম্যাক্রোফাজ ও নিউট্রোফিল সহজেই জীবাণুকে চিনে ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে গিলে ফেলে।
৪. পরিপূরক তন্ত্র সক্রিয়করণ (Complement Activation): অ্যান্টিবডি-অ্যান্টিজেন যৌগ পরিপূরক প্রোটিনকে সক্রিয় করে জীবাণুর কোষঝিল্লিতে ছিদ্র করে জল প্রবেশ করিয়ে জীবাণুর অপমৃত্যু ঘটায় (লাইসিস)।
৫. মাতৃ অনাক্রম্যতা প্রদান: IgG অমরা পার হয়ে ভ্রূণকে এবং IgA মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে নবজাতককে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ দেয়।
| তুলনার বিষয় | B-লিম্ফোসাইট (B-কোষ) | T-লিম্ফোসাইট (T-কোষ) |
|---|---|---|
| ১. পরিণতি লাভের স্থান | অস্থিমজ্জায় (Bone Marrow) উৎপন্ন হয় এবং অস্থিমজ্জাতেই পরিণত হয় (পাখিদের ক্ষেত্রে বার্সা অব ফ্যাব্রিসিয়াস)। | অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হলেও পরিণত হওয়ার জন্য বক্ষস্থিত থাইমাস গ্রন্থিতে (Thymus) গমন করে। |
| ২. অনাক্রম্যতার প্রকার | রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Humoral Immunity) গড়ে তোলে। | কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Cell-Mediated Immunity) পরিচালনা করে। |
| ৩. কাজের পদ্ধতি | অ্যান্টিজেন উদ্দীপনায় প্লাজমা কোষে রূপান্তরিত হয়ে রক্তরসে অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে পরোক্ষভাবে কাজ করে। | কোনো অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে না; সাইটোটক্সিন ক্ষরণ করে সরাসরি কোষীয় সংস্পর্শে জীবাণু ধ্বংস করে। |
| ৪. রক্তে পরিমাণ | রক্তের মোট লিম্ফোসাইটের প্রায় ১০% থেকে ২০% অংশ B-কোষ। | রক্তের মোট লিম্ফোসাইটের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৭০% থেকে ৮০% অংশ T-কোষ। |
| ৫. উপপ্রকারভেদ | প্রধানত প্লাজমা কোষ এবং মেমরি B-কোষে বিভক্ত হয়। | সহায়ক T (Th), সাইটোটক্সিক T (Tc), অবদমক T (Ts) ও মেমরি T কোষে বিভক্ত হয়। |
| ৬. অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রত্যাখ্যান | অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রত্যাহারে এর ভূমিকা গৌণ। | অন্যের দেহ থেকে প্রতিস্থাপিত কিডনি বা অঙ্গ প্রত্যাখ্যানের (Graft Rejection) প্রধান হোতা T-কোষ। |
২. টিকাকরণ কী: রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সুস্থ মানুষের দেহে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও বয়সে ইনজেকশন বা ড্রপ আকারে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination) বলে।
৩. জনস্বাস্থ্যে টিকাকরণের গুরুত্ব:
• মারাত্মক মহামারীর সমূলে বিনাশ: বিশ্বব্যাপী ব্যাপক টিকাকরণের ফলেই মানবজাতি গুটিবসন্ত (Smallpox) রোগটিকে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং পোলিও রোগ নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে।
• শিশু মৃত্যুহার হ্রাস: হাম, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস ও পোলিওর বিরুদ্ধে সার্বজনীন টিকাকরণের (Universal Immunization) ফলে বিশ্বজুড়ে শিশুমৃত্যুর হার লক্ষণীয়ভাবে কমেছে।
• গোষ্ঠী অনাক্রম্যতা (Herd Immunity) গঠন: সমাজের সিংহভাগ মানুষ টিকাপ্রাপ্ত হলে রোগজীবাণুর বিস্তার ব্যাহত হয়, ফলে যারা বিশেষ অসুস্থতার কারণে টিকা নিতে পারেনি তারাও পরোক্ষভাবে সুরক্ষা পায়।
• অর্থনৈতিক সাশ্রয়: রোগাক্রান্ত হয়ে ব্যয়বহুল হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার তুলনায় নামমাত্র মূল্যের প্রতিষেধক টিকা পরিবার ও রাষ্ট্রের বিশাল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি রোধ করে।
১. জন্মগত রোগ (Congenital Diseases):
যেসব রোগ শিশুর জন্মের সময় থেকেই দেহে উপস্থিত থাকে এবং প্রধানত পিতামাতা থেকে প্রাপ্ত ক্রোমোজোমীয় অস্বাভাবিকতা বা জিনগত ত্রুটির কারণে ঘটে। এগুলি বংশানুক্রমিক ও অসংক্রামক।
• উদাহরণ: থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা, ডাউন সিন্ড্রোম।
২. অর্জিত রোগ (Acquired Diseases):
যেসব রোগ জন্মের সময় থাকে না, কিন্তু জন্মের পর জীবনের যেকোনো সময়ে পরিবেশগত প্রতিকূলতা, পুষ্টির অভাব বা জীবাণুর আক্রমণে ঘটে। এদের দুটি ভাগে ভাগ করা হয়—
(ক) সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ (Communicable Diseases):
বায়ু, জল, খাদ্য, রক্ত বা বাহক পতঙ্গের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে রোগজীবাণু প্রবেশ করে এই রোগ ছড়ায়—
• ব্যাকটেরিয়াঘটিত: যক্ষ্মা, কলেরা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড।
• ভাইরাসঘটিত: ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিও, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস, এইডস, জলাতঙ্ক।
• প্রোটোজোয়াঘটিত: ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, অ্যামিবিয়াসিস।
• ছত্রাকঘটিত: দাদ (Ringworm), অ্যাথলিট'স ফুট।
• কৃমিঘটিত: ফাইলেরিয়াসিস (গোদ), অ্যাসকারিয়াসিস।
(খ) অসংক্রামক রোগ (Non-communicable Diseases):
যেসব রোগ একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় না—
• অভাবজনিত: প্রোটিনের অভাবে কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস; ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি ও রিকেট।
• বিপাকীয় ও হরমোনঘটিত: ডায়াবেটিস মেলিটাস (ইনসুলিনের অভাব), গলগণ্ড (থাইরক্সিনের অভাব)।
• অবক্ষয়জনিত: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অস্টিওআর্থ্রাইটিস।
• অনিয়ন্ত্রিত কোষবিভাজন: ক্যানসার (কার্সিনোমা, লিউকেমিয়া)।
• অতিসংবেদনশীলতা: অ্যালার্জি ও হাঁপানি।
• রোগের প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: ফুসফুসের তীব্র সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। প্রধান প্যাথোজেন হলো Streptococcus pneumoniae (বা ডিপ্লোকক্কাস নিউমোনি) এবং Haemophilus influenzae।
• সংক্রমণ পদ্ধতি: আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির ড্রপলেট সুস্থ মানুষের শ্বাসপথে ঢুকলে রোগ ছড়ায়।
• উপসর্গ: ফুসফুসের অ্যালভিওলাইতে মিউকাস ও পুঁজ জমা হওয়ায় মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ও বুকের খাঁচায় তীব্র ব্যথা, কাশির সাথে মরিচা রঙের কফ নির্গমন, তীব্র জ্বর এবং অক্সিজেনের অভাবে ঠোঁট ও নখ নীলচে বর্ণ ধারণ করা (সায়ানোসিস)।
(খ) টিটেনাস (Tetanus / ধনুষ্টঙ্কার):
• রোগের প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: স্নায়ুতন্ত্র ও ঐচ্ছিক পেশির তীব্র মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। প্যাথোজেন হলো গ্রাম-পজিটিভ অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani।
• সংক্রমণ পদ্ধতি: রাস্তাঘাটের ধুলোবালি, গোবর বা মরচে-পড়া লোহা দ্বারা চামড়া কেটে গেলে সেই গভীর ক্ষতস্থান দিয়ে টিটেনাসের স্পোর দেহে ঢোকে এবং টিটানোস্প্যাজমিন নামক মারাত্মক নিউরোটক্সিন ক্ষরণ করে।
• উপসর্গ: চোয়ালের পেশি শক্ত হয়ে মুখ খুলতে না পারা (লক-জ বা Lock-jaw), গলার পেশি অনমনীয় হয়ে ঢোক গিলতে কষ্ট, পিঠের পেশি ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া এবং তীব্র আলো ও শব্দে সারা শরীরের পেশিতে অনিয়ন্ত্রিত আক্ষেপ ও খিঁচুনি হওয়া।
• প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: এটি একটি তীব্র একসূত্রী RNA ভাইরাস হেপাটাইটিস-A ভাইরাস (HAV) ঘটিত যকৃতের সংক্রমণ।
• সংক্রমণ: দূষিত পানীয় জল, মাছি-বসা খাবার এবং আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে (মল-মুখীয় পথ বা Fecal-oral route) ছড়ায়।
• উপসর্গ: হালকা জ্বর, চরম ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব, পেটের ওপরের দিকে ব্যথা, ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাব। এটি সাধারণত স্থায়ী ক্ষতি না করে সেরে ওঠে।
২. হেপাটাইটিস-B (সিরাম জন্ডিস):
• প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: হেপাটাইটিস-B ভাইরাস (HBV — একটি দ্বিসূত্রী DNA ভাইরাস) ঘটিত মারাত্মক রক্তবাহিত দীর্ঘস্থায়ী যকৃতের রোগ।
• সংক্রমণ: সংক্রামিত রক্ত গ্রহণ, অপরীক্ষিত রক্ত ও ইনজেকশনের সূচ ব্যবহার, সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে অসুরক্ষিত শারীরিক মিলন এবং সন্তান প্রসবের সময় মায়ের থেকে সন্তানে।
• উপসর্গ: দীর্ঘস্থায়ী জন্ডিস, চরম ক্লান্তি, যকৃতে তীব্র প্রদাহ ও পরবর্তীকালে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসার হতে পারে।
৩. AIDS (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম):
• প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV — একটি রেট্রোভাইরাস) ঘটিত অনাক্রম্যতা বিনাশকারী অনিরাময়যোগ্য প্রাণঘাতী রোগ।
• সংক্রমণ: অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গ, সংক্রামিত রক্ত পরিসঞ্চালন, অপরীক্ষিত সূচ/ব্লেড ব্যবহার এবং আক্রান্ত গর্ভবতী মা থেকে গর্ভস্থ ভ্রূণ বা মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে।
• উপসর্গ: রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনবরত এক মাসের বেশি সময় জ্বর, দ্রুত মারাত্মক ওজন হ্রাস (১০% এর বেশি), একটানা ডায়ারিয়া, লসিকাগ্রন্থির অস্বাভাবিক স্ফীতি এবং বারবার সুবিধাবাদী সংক্রমণ (যেমন যক্ষ্মা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু)।
Comments
You must be signed in to join the discussion.
No comments yet. Be the first to share your thoughts!