অধ্যায় ৪ : জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (Biology and Human Welfare)

WBBSE Class 9 Life Science Chapter 4 জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ : সম্পূর্ণ অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর | Biology and Human Welfare Question Answer

WBBSE Class 9 Life Science Chapter 4 জীববিজ্ঞান ও মানবকল্যাণ Cover Feature Image

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) নির্ধারিত নবম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয় পাঠ্যবইয়ের চতুর্থ অধ্যায়: 'জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ' (Biology and Human Welfare)-এর পাঠ্যবই অনুশীলনী (পৃষ্ঠা ১২৩, ১২৪ ও ১২৫)-র সমস্ত প্রশ্নোত্তরের নিখুঁত, নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান এখানে উপস্থাপিত করা হলো।

অধ্যায়ের প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ—অনাক্রম্যতা ও অনাক্রম্যতন্ত্র (Immunity), অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির বিশদ গঠন, টিকা ও টিকাকরণ (Vaccination), বিভিন্ন মারাত্মক সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ (যক্ষ্মা, টিটেনাস, ডিপথেরিয়া, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস ও AIDS), স্বাস্থ্যবিধিতে ধৌতকরণের ভূমিকা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি ও শিল্পে মানবকল্যাণে জীবাণুর অপরিসীম ভূমিকা সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নের সমাধান বোর্ড পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার উপযোগী করে পরিচ্ছন্ন বৈজ্ঞানিক রঙিন ভেক্টর ডায়াগ্রামের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়েছে।

অধ্যায় ৪ : জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (Biology and Human Welfare)

A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন [MCQ]

প্রশ্নমান ১
১সব অ্যান্টিবডিই —V.V.I
Aঅ্যালবুমিন
Bআলফা গ্লোবিউলিন
Cগ্লোবিউলিন
Dডেল্টা গ্লোবিউলিন
উত্তরCগ্লোবিউলিন
ব্যাখ্যা: সমস্ত অ্যান্টিবডিই রক্তরসের গ্লোবিউলিন জাতীয় প্রোটিন, বিশেষভাবে এদের ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin বা Ig) বা গামা গ্লোবিউলিন বলা হয়।
২নীচে উল্লিখিত কোন্ রোগে দেহের স্বাভাবিক ইমিউনিটি নষ্ট হয়ে যায়?V.V.I
Aসিফিলিস
Bগনোরিয়া
CAIDS
Dহেপাটাইটিস-B
উত্তরCAIDS
ব্যাখ্যা: HIV ভাইরাস মানুষের অনাক্রম্যতন্ত্রের প্রধান সহায়ক T-লিম্ফোসাইট (CD4+ T Cell) কোষগুলিকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়, ফলে অর্জিত অনাক্রম্যতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়।
৩টিকাকরণ প্রদান করে —V.V.I
Aসক্রিয় অনাক্রম্যতা
Bনিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
Cপ্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা
Da ও b উভয়
উত্তরAসক্রিয় অনাক্রম্যতা
ব্যাখ্যা: টিকা বা ভ্যাকসিনের মাধ্যমে দেহে নিষ্ক্রিয় বা মৃদু প্যাথোজেন প্রবেশ করিয়ে দেহকে নিজেই অ্যান্টিবডি ও মেমরি কোষ তৈরি করতে উদ্দীপ্ত করা হয়, যা কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা সৃষ্টি করে।
৪কোন্ ভ্যাকসিন মুখ দিয়ে গ্রহণ করা হয়?V.V.I
Aটাইফয়েড
Bপোলিও
Cকলেরা
Dটিটেনাস
উত্তরBপোলিও
ব্যাখ্যা: পোলিও রোগের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সাবিন ভ্যাকসিন ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV) হিসেবে ড্রপ আকারে মুখ দিয়ে খাওয়ানো হয়।
৫গুটি বসন্তের টিকা কে আবিষ্কার করেন?V.V.I
Aফ্লেমিং
Bপাস্তুর
Cকচ
Dজেনার
উত্তরDজেনার
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ চিকিৎসক ড. এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে গোবসন্তের (Cowpox) জীবাণু থেকে মানুষের প্রাণঘাতী গুটিবসন্তের (Smallpox) প্রথম সফল টিকা আবিষ্কার করেন।
৬অ্যান্টিবডি-র চারটি পলিপেপটাইড চেন যে বন্ড দ্বারা সংলগ্ন তা হল —V.V.I
Aপেপটাইড
Bগ্লাইকোসাইডিক
Cসালফাইড
Dহাইড্রোজেন বন্ড
উত্তরCসালফাইড
ব্যাখ্যা: অ্যান্টিবডির দুটি ভারী শৃঙ্খল (H-chain) এবং দুটি হালকা শৃঙ্খল (L-chain) পরস্পরের সাথে সমযোজী ডাইসালফাইড বন্ধন (-S-S- bond) দ্বারা দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে।
৭সহজাত অনাক্রম্যতা গড়ে ওঠে —
Aনিউট্রোফিল দ্বারা
BB-cell দ্বারা
CT-cell দ্বারা
Dঅ্যান্টিবডি দ্বারা
উত্তরAনিউট্রোফিল দ্বারা
ব্যাখ্যা: নিউট্রোফিল ও মনোসাইটের ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতি হলো সহজাত (অনির্দিষ্ট) অনাক্রম্যতার প্রাথমিক সেলুলার প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
৮কোন্ অ্যান্টিবডি রক্তে বেশি পরিমাণে থাকে?V.V.I
AIgE
BIgG
CIgM
DIgA
উত্তরBIgG
ব্যাখ্যা: মানব রক্তের সিরামে উপস্থিত মোট অ্যান্টিবডির প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% হলো IgG অ্যান্টিবডি।
৯ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় —V.V.I
Aমৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
Bজীবিত ব্যাকটেরিয়ার কোষ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
Cপোষক দেহের অতিরিক্ত অনাক্রম্যতার প্রকাশ দ্বারা
Dভাইরাস কর্তৃক নির্গত বিষ পদার্থের দ্বারা
উত্তরAমৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
ব্যাখ্যা: করবাইনিব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি ব্যাকটেরিয়ার বহিঃক্ষরিত বিষাক্ত টক্সিনকে ফরমালিন সহযোগে বিষহীন করে 'টক্সয়েড' (Toxoid) হিসেবে ডিপথেরিয়া টিকা তৈরি হয়।
১০কোন্ অ্যান্টিবডি আকারে সবচেয়ে বড়ো?V.V.I
AIgE
BIgM
CIgA
DIgD
উত্তরBIgM
ব্যাখ্যা: IgM অ্যান্টিবডি পাঁচটি Y-আকৃতির মনোমার একক ও একটি J-চেন দ্বারা গঠিত পেন্টামার (Pentamer) গঠনযুক্ত হওয়ায় আণবিক আকার ও ওজনে সর্বাধিক বড়ো।
১১ম্যালেরিয়া রোগে উচ্চ তাপমাত্রার কারণ —V.V.I
Aরক্ত জালকের মধ্যে স্পোরোজয়েটসের প্রবেশ
Bলোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমন
Cক্রিপ্টোমেরোজয়েটসের লোহিত কণিকায় প্রবেশ
Dমেরোজয়েটসের লোহিত কণিকায় প্রবেশ
উত্তরBলোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমন
ব্যাখ্যা: লোহিত রক্তকণিকা (RBC) বিদীর্ণ করে মেরোজয়েটগুলি নির্গত হওয়ার সময় 'হিমোজয়েন' নামক ক্ষতিকর বিষাক্ত রেণু রক্তস্রোতে মুক্ত হয়, যা তীব্র শীতবোধ ও উচ্চ জ্বর ঘটায়।
১২ইমিউনোলজির জনক কে?V.V.I
ALouis Pasteur
BEdward Jenner
CFerdinand Kohn
DRobert Koch
উত্তরBEdward Jenner
ব্যাখ্যা: এডওয়ার্ড জেনারকে টিকাকরণের মৌলিক আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি স্থাপনের জন্য 'অনাক্রম্যবিদ্যার জনক' (Father of Immunology) বলা হয়।
১৩যে ব্যাকটেরিয়ার জন্য যক্ষ্মা রোগ হয়, তা হল —V.V.I
AMycobacterium
BStreptococcus
CPneumococcus
DSalmonella
উত্তরAMycobacterium
ব্যাখ্যা: যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস (TB) রোগের প্যাথোজেন হলো দণ্ডাকার অ্যাসিড-ফাস্ট ব্যাকটেরিয়া মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis)।
১৪ভ্যাকসিনের ভিত্তি হিসেবে অর্জিত অনাক্রম্যতার কোন্ বৈশিষ্ট্যটিকে ধরা হয়?V.V.I
Aডাইভারসিটি
Bমেমরি
Ca এবং b উভয়ই
Dস্পেসিফিসিটি
উত্তরBমেমরি
ব্যাখ্যা: ভ্যাকসিন প্রয়োগের মূল লক্ষ্য হলো দেহে দীর্ঘস্থায়ী মেমরি B-কোষ ও মেমরি T-কোষ তৈরি করে ভবিষ্যৎ সংক্রমণের জন্য স্মৃতি (Immunological Memory) সংরক্ষণ করা।
১৫কোলোস্ট্রামে কোন্ প্রকার অ্যান্টিবডি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে?V.V.I
AIgA
BIgM
CIgE
Dকোনোটিই নয়
উত্তরAIgA
ব্যাখ্যা: মায়ের প্রথম হলুদ দুগ্ধ বা কোলোস্ট্রামে (Colostrum) প্রচুর পরিমাণে ক্ষরণকারী সিক্রেটরি IgA অ্যান্টিবডি থাকে যা নবজাতককে আন্ত্রিক ও শ্বাসতন্ত্রীয় সংক্রমণ থেকে বাঁচায়।
১৬ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় —
Aমৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
Bজীবিত ব্যাকটেরিয়ার কোষ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
Cপোষক দেহের অতিরিক্ত অনাক্রম্যতার প্রকাশ দ্বারা
Dভাইরাস কর্তৃক নির্গত বিষ পদার্থের দ্বারা
উত্তরAমৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
ব্যাখ্যা: ডিপথেরিয়া টক্সয়েড তৈরির ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার নিষ্কাশিত বহিটক্সিনকে রাসায়নিকভাবে বিষহীন করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
১৭কোন্ অ্যান্টিবডি আকারে সবচেয়ে বড়ো?
AIgE
BIgM
CIgA
DIgD
উত্তরBIgM
ব্যাখ্যা: পেন্টামেরিক কাঠামোর জন্য IgM সর্বাধিক ভারী ও বৃহৎ অ্যান্টিবডি।
১৮নিউমোনিয়া যা ফুসফুসের অ্যালভিওলাইকে সংক্রামিত করে, এটি হয় কোন্টির দ্বারা?V.V.I
AHaemophilus influenzae
BPlasmodium
CSalmonella typhii
Dকোনোটিই নয়
উত্তরAHaemophilus influenzae
ব্যাখ্যা: স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি এবং হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি (Haemophilus influenzae) ব্যাকটেরিয়া ফুসফুসের বায়ুকোষ বা অ্যালভিওলাইতে প্রদাহ ও তরল সঞ্চয় ঘটিয়ে নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে।
১৯ডিপথেরিয়া রোগের একটি প্রধান উপসর্গ হল —V.V.I
Aজলাতঙ্ক
Bজলবিয়োজন
Cরক্তপাতযুক্ত মাড়ি
Dগলা ব্যথা
উত্তরDগলা ব্যথা
ব্যাখ্যা: ডিপথেরিয়ায় গলায় তীব্র ব্যথা হয় এবং টনসিল ও গলবিলে ধূসর-সাদা রঙের কৃত্রিম পর্দা (Pseudomembrane) তৈরি হয়ে শ্বাসনালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
২০ম্যালেরিয়া রোগে উচ্চ তাপমাত্রার কারণ —
Aরক্ত জালকের মধ্যে স্পোরোজয়েটসের প্রবেশ
Bলোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমন
Cক্রিপ্টোমেরোজয়েটসের লোহিত কণিকায় প্রবেশ
Dমেরোজয়েটসের লোহিত কণিকায় প্রবেশ
উত্তরBলোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমন
ব্যাখ্যা: আরবিসি ফেটে হিমোজয়েন টক্সিন নির্গমনের সাথে মেরোজয়েট রক্তে আসার কারণে পর্যায়ক্রমিক কাঁপুনি দিয়ে তীব্র জ্বর আসে।
২১অ্যান্টিবডি হল একটি যৌগিক —V.V.I
Aপ্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন
Bগ্লাইকোপ্রোটিন
Cস্টেরয়েড
Dলিপোপ্রোটিন
উত্তরBগ্লাইকোপ্রোটিন
ব্যাখ্যা: অ্যান্টিবডি প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণ শর্করার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ জটিল গ্লাইকোপ্রোটিন অণু।
২২হেপাটাইটিস B-এর অপর নাম —V.V.I
Aক্যাটারহাল জন্ডিস
Bসিরাম জন্ডিস
Cএপিডেমিক জন্ডিস
Dকোনোটিই নয়
উত্তরBসিরাম জন্ডিস
ব্যাখ্যা: হেপাটাইটিস-B সংক্রামিত রক্তরস (সিরাম) ও দেহরসের মাধ্যমে বাহিত হওয়ায় এটিকে সিরাম জন্ডিস (Serum Jaundice) বলা হয়।
২৩ইমিউনোলজির জনক কে?
ALouis Pasteur
BEdward Jenner
CFerdinand Kohn
DRobert Koch
উত্তরBEdward Jenner
ব্যাখ্যা: এডওয়ার্ড জেনারকে অনাক্রম্যবিদ্যার জনক বিবেচনা করা হয়।
২৪যে ব্যাকটেরিয়ার জন্য যক্ষ্মা রোগ হয়, তা হল —
AMycobacterium
BStreptococcus
CPneumococcus
DSalmonella
উত্তরAMycobacterium
ব্যাখ্যা: মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস হলো যক্ষ্মার রোগজীবাণু।
২৫অনাক্রম্যতন্ত্র গঠিত হয় যার দ্বারা —V.V.I
Aরসভিত্তিক এবং কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা
Bঅ্যান্টিজেন ইনডিউসড অনাক্রম্যতা
Cরসভিত্তিক তন্ত্র
Dরক্তভিত্তিক এবং ফাইব্রাস তন্ত্র
উত্তরAরসভিত্তিক এবং কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা
ব্যাখ্যা: মানব অনাক্রম্যতন্ত্র প্রধানত অ্যান্টিবডি-নির্ভর রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা (B-কোষ) এবং সরাসরি সেলুলার কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা (T-কোষ)-এর সমন্বয়ে গঠিত।

B. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ)

প্রশ্নমান ১

▶ এককথায় উত্তর দাও :

প্রশ্নমান ১
১কাকে অনাক্রম্যবিদ্যার জনক বলা হয়?
উত্তরড. এডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner)।
২অ্যান্টিবডির চেন দুটি কী দিয়ে সংলগ্ন থাকে?
উত্তরডাইসালফাইড বন্ধন (-S-S-)।
৩অ্যান্টিবডি কত প্রকারের হয়?
উত্তরপ্রধানত পাঁচ (৫) প্রকারের (IgG, IgA, IgM, IgE ও IgD)।
৪একটি অ্যান্টিজেনের উদাহরণ দাও।
উত্তরব্যাকটেরিয়ার বহিস্থ কোষপ্রাচীর প্রোটিন / পরাগরেণু / বিষাক্ত টক্সিন।
৫ডিপথেরিয়া রোগের রোগজীবাণুর নাম কী?
উত্তরকরবাইনিব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি (Corynebacterium diphtheriae)।
৬যক্ষ্মা রোগের ভ্যাকসিনের নাম কী?
উত্তরবিসিজি (BCG - Bacillus Calmette-Guérin)।
৭AIDS-এর পুরো নাম কী?
উত্তরAcquired Immuno Deficiency Syndrome (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম)।
৮ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক পতঙ্গের নাম কী?
উত্তরস্ত্রী এডিস মশা (Aedes aegypti)।
৯কোন্ তন্ত্র মানুষের রোগআক্রমণকে প্রতিহত করে?
উত্তরঅনাক্রম্যতন্ত্র (Immune System)।
১০রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু, ভাইরাস ইত্যাদি বিজাতীয় পদার্থের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে কী বলে?
উত্তরঅনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি (Immunity)।
১১অ্যান্টিজেন কত প্রকার ও কী কী?
উত্তরপ্রধানত দুই প্রকার: ১. এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন (বহির্জাত) এবং ২. এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন (অন্তর্জাত)।
১২এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেনের উদাহরণ দাও।
উত্তরদেহের বাইরে থেকে প্রবেশকারী ব্যাকটেরিয়া, পরাগরেণু, ধূলিকণা বা বিষাক্ত টক্সিন।
১৩এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেনের উদাহরণ দাও।
উত্তরদেহের অভ্যন্তরে উৎপন্ন অস্বাভাবিক ক্যানসার কোষ বা পরিবর্তিত নিজস্ব প্রোটিন।
১৪অ্যান্টিবডি কত রকমের?
উত্তরপাঁচ (৫) রকমের (IgG, IgA, IgM, IgE এবং IgD)।
১৫অ্যান্টিবডিতে ক-টি পলিপেপটাইড চেন থাকে?
উত্তরচার (৪) টি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল (২টি ভারী শৃঙ্খল H ও ২টি হালকা শৃঙ্খল L)।
১৬অ্যান্টিবডির প্রতিটি ভারী চেনে কতকগুলি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে?
উত্তরপ্রায় ৪৪০ টি অ্যামাইনো অ্যাসিড (হালকা চেনে প্রায় ২২০ টি থাকে)।
১৭চেনের প্রতিটি অর্ধাংশে কী দিয়ে যুক্ত থাকে?
উত্তরডাইসালফাইড বন্ধন (-S-S-)।
১৮উভয় চেনের অগ্রভাগের অংশকে কী বলে?
উত্তরপরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable Region) এবং অ্যান্টিজেন সংযুক্তিস্থল বা প্যারাটোপ (Paratope)।
১৯ইমিউন রেসপন্স কত রকমের?
উত্তরপ্রধানত দুই প্রকার: ১. প্রাথমিক ইমিউন রেসপন্স এবং ২. গৌণ ইমিউন রেসপন্স (কার্যপদ্ধতি অনুসারে রসভিত্তিক ও কোষভিত্তিক)।
২০DPT-র পুরো নাম কী?
উত্তরDiphtheria, Pertussis, Tetanus (ডিপথেরিয়া, পারটুসিস, টিটেনাস)।
২১BCG-র পুরো নাম কী?
উত্তরBacillus Calmette-Guérin (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়েরিন)।
২২OPV-র পুরো নাম কী?
উত্তরOral Polio Vaccine (ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন)।
২৩MMR-এর পুরো নাম কী?
উত্তরMeasles, Mumps, Rubella (মিজলস, মাম্পস, রুবেলা)।
২৪TT-র পুরো নাম কী?
উত্তরTetanus Toxoid (টিটেনাস টক্সয়েড)।
২৫দুটি পরজীবী আক্রান্ত রোগের নাম কী?
উত্তরম্যালেরিয়া (Plasmodium) এবং অ্যামিবিয়াসিস (Entamoeba histolytica)।
২৬নিউমোনিয়া রোগের জীবাণুর নাম কী?
উত্তরস্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি (Streptococcus pneumoniae) / হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি।
২৭লক-জ কোন্ রোগের অপর নাম? এই রোগের জীবাণুর নাম কী?
উত্তরটিটেনাস (ধনুষ্টঙ্কার) রোগের অপর নাম লক-জ; জীবাণুর নাম ক্লসট্রিডিয়াম টিটানি (Clostridium tetani)।
২৮Mycobacterium tuberculosis কোন্ রোগের জীবাণু?
উত্তরযক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস (TB) রোগের জীবাণু।
২৯দুটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের নাম কী?
উত্তরযক্ষ্মা এবং কলেরা (অথবা টিটেনাস ও টাইফয়েড)।
৩০হেপাটাইটিস-B রোগের ভাইরাসের নাম কী?
উত্তরহেপাটাইটিস-B ভাইরাস (HBV - Hepatitis B Virus)।
৩১দুটি পরজীবী ঘটিত রোগের নাম কী?
উত্তরম্যালেরিয়া এবং ফাইলেরিয়াসিস (বা গোদ রোগ)।
৩২অনাক্রম্যতায় অংশ নেয় এমন একটি উৎসেচকের উদাহরণ দাও।
উত্তরলাইসোজাইম (Lysozyme — অশ্রু ও লালারসে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী উৎসেচক)।
৩৩ক্ষত পরিষ্কারের জন্য কী রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়?
উত্তরঅ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ যেমন হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H₂O₂), ডেটল বা পোভিডন আয়োডিন।
৩৪HIV-র পুরো নাম কী?
উত্তরHuman Immunodeficiency Virus (হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস)।
৩৫দুটি আদ্যপ্রাণী ঘটিত রোগের নাম কী?
উত্তরম্যালেরিয়া (Plasmodium) এবং কালাজ্বর (Leishmania donovani)।
৩৬দুটি ভাইরাস আক্রান্ত রোগের নাম কী?
উত্তরপোলিও এবং ডেঙ্গু (অথবা ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এইডস)।
৩৭কোন্ ভ্যাকসিন হেপাটাইটিস-B রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে?
উত্তররিকম্বিন্যান্ট হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন (HBV Vaccine)।
৩৮কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতায় কোন্ ধরনের লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় হয়?
উত্তরT-লিম্ফোসাইট বা T-কোষ (Thymus-dependent lymphocyte)।
৩৯রসভিত্তিক অনাক্রম্যতায় কোন্ প্রকার লিম্ফোসাইট কার্যকরী হয়?
উত্তরB-লিম্ফোসাইট বা B-কোষ (Bone marrow-derived lymphocyte)।
৪০প্লাজমা কোষ কোন্ অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে?
উত্তরনির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কার্যক্ষম সমস্ত প্রকার ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা অ্যান্টিবডি (যেমন IgM ও IgG)।
৪১প্রথম কোন্ বিজ্ঞানী কোন্ রোগের টিকা আবিষ্কার করেন?
উত্তরড. এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে গুটিবসন্তের (Smallpox) টিকা আবিষ্কার করেন।
৪২পুষ্টিগত উপাদানের অভাবজনিত দুটি রোগের নাম করো।
উত্তরকোয়াশিওরকর (প্রোটিনের অভাবে) এবং রিকেট (ভিটামিন D-এর অভাবে)।
৪৩ডায়ারিয়ার রোগজীবাণুর নাম কী?
উত্তররোটাভাইরাস (Rotavirus) অথবা এশেরিকিয়া কোলাই (Escherichia coli) ব্যাকটেরিয়া।
৪৪ম্যালেরিয়ার রোগজীবাণুর নাম কী?
উত্তরপ্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স (Plasmodium vivax) অথবা প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম।

▶ শূন্যস্থান পূরণ করো :

প্রশ্নমান ১
১পলিস্যাকারাইড একপ্রকারের ________।
উত্তরজটিল শর্করা / কার্বোহাইড্রেট (বা জটিল অ্যান্টিজেন)
২ইমিউনোগ্লোবিউলিন একপ্রকারের ________।
উত্তরঅ্যান্টিবডি (বা গ্লোবিউলিন প্রোটিন)
৩রক্তের মনোসাইট একপ্রকারের ________ সেল।
উত্তরফ্যাগোসাইটিক (বা শ্বেতরক্তকণিকা)
৪অ্যান্টিবডি দেখতে ________-এর মতো।
উত্তরইংরেজি 'Y' অক্ষরের
৫অ্যান্টিবডির রাসায়নিক প্রকৃতি হল ________।
উত্তরগ্লাইকোপ্রোটিন
৬টিটেনাস রোগের জীবাণু হল ________।
উত্তরক্লসট্রিডিয়াম টিটানি (Clostridium tetani)
৭HIV হল ________ রোগের ভাইরাস।
উত্তরAIDS (এইডস)
৮ORS পান করতে হয় ________ রোগে।
উত্তরডায়ারিয়া বা উদরাময় (বা কলেরা)
৯অ্যান্টিজেন অনাক্রম্যতন্ত্রকে ________ করে।
উত্তরউদ্দীপ্ত / সক্রিয়
১০ফুলের রেণু হল একপ্রকার ________।
উত্তরএক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন / অ্যালার্জেন
১১অ্যান্টিবডিতে ________ ভারী শৃঙ্খল ও ________ হালকা শৃঙ্খল থাকে।
উত্তর২টি (দুটি) ভারী ও ২টি (দুটি) হালকা
১২অ্যান্টিবডি সাধারণত ________ জাতীয় প্রোটিন।
উত্তরগামা গ্লোবিউলিন
১৩________ সর্বপ্রথম জলাতঙ্ক রোগের টিকা প্রস্তুত করেন।
উত্তরলুই পাস্তুর (Louis Pasteur)
১৪গুদামজাত শস্য বিনষ্টকারী পতঙ্গদের দমনে ________ নামক প্রোটোজোয়া ব্যবহার করা হয়।
উত্তরনসিমা (Nosema locustae)
১৫বিন জাতীয় উদ্ভিদের মূলে ________ নামক মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া থাকে।
উত্তররাইজোবিয়াম (Rhizobium)
১৬মটর গাছের মূলে বসবাসকারী মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়াটি হল ________।
উত্তররাইজোবিয়াম লেগিউমিনোসেরাম (Rhizobium leguminosarum)
১৭ডেঙ্গু রোগের অপর নাম ________।
উত্তরব্রেক-বোন ফিভার বা হাড়ভাঙা জ্বর
১৮অনাক্রম্যবিদ্যার জনক হলেন ________।
উত্তরএডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner)
১৯ভ্যাকসিন প্রয়োগে ________ রোগটি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে।
উত্তরগুটিবসন্ত (Smallpox)
২০অর্কিড জাতীয় উদ্ভিদের মূলে ________ গঠিত না হলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব হয় না।
উত্তরমাইকোরাইজা
২১মাইকোরাইজার ________ মাটি দৃঢ় ভাবে আটকে রেখে ভূমিক্ষয় রোধ করে।
উত্তরছত্রাকজালিকা বা হাইফি (Hyphae)
২২নস্টক হল একটি ________ সায়ানোব্যাকটেরিয়া।
উত্তরনাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী স্বাধীনজীবী
২৩মাইকোরাইজা বোদ বা ________ সৃষ্টি করে।
উত্তরছত্রাকমূল (Fungal Root)
২৪________ নামক ছত্রাক পাইন গাছের মূলে বসবাস করে।
উত্তরবোলেটাস (Boletus / এক্টোমাইকোরাইজা ছত্রাক)

▶ সত্য (T) বা মিথ্যা (F) নির্ধারণ করো :

প্রশ্নমান ১
১ম্যালেরিয়া রোগের প্যাথোজেনের নাম ডিপ্লোকক্কাস।
উত্তরমিথ্যা (F)
সঠিক উত্তর: ম্যালেরিয়া রোগের প্যাথোজেনের নাম প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স (Plasmodium vivax)।
২তড়িৎ শক্তি একপ্রকার ভৌত এজেন্ট।
উত্তরসত্য (T)
৩Vitamin B12 উৎপাদনে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
উত্তরসত্য (T)
ব্যাখ্যা: সিউডোমোনাস ডিনাইট্রিফিকান্স ও প্রোপিওনিব্যাকটেরিয়াম শারমানি ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন B12 উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
৪নস্টক স্বাধীনজীবী সায়ানোব্যাকটেরিয়া।
উত্তরসত্য (T)
৫লুই পাস্তুর জলবসন্ত রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
উত্তরমিথ্যা (F)
সঠিক উত্তর: লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা আবিষ্কার করেন; বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন এডওয়ার্ড জেনার।
৬অ্যান্টিবডি দেহ প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণ করে না।
উত্তরমিথ্যা (F)
সঠিক উত্তর: অ্যান্টিবডি দেহ প্রতিরক্ষার প্রধান হাতিয়ার এবং অ্যান্টিজেনকে নিষ্ক্রিয় করে অনাক্রম্যতা প্রদান করে।
৭নিউট্রোফিল, মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিসে অংশ নেয়।
উত্তরসত্য (T)
৮IgA অ্যান্টিবডিকে ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডি বলে।
উত্তরমিথ্যা (F)
সঠিক উত্তর: IgG কে ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডি বলে কারণ এটি অমরা (Placenta) অতিক্রম করতে পারে; IgA থাকে মায়ের কোলোস্ট্রামে।
৯অন্ত্রে বসবাসকারী E. coli ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন B12 সংশ্লেষ করে।
উত্তরসত্য (T)
১০দেহে বিজাতীয় বস্তু প্রবেশ করলে ম্যাক্রোফাজ তাদের ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে আত্মসাৎ করে।
উত্তরসত্য (T)
১১এডিস মশকী ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়।
উত্তরমিথ্যা (F)
সঠিক উত্তর: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায়; এডিস মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়।
১২অ্যাজোলা একধরনের নীলাভ সবুজ শৈবাল।
উত্তরমিথ্যা (F)
সঠিক উত্তর: অ্যাজোলা হলো একটি জলজ ফার্ন বা পর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ; এর পাতার গহ্বরে অ্যানাবিনা নীলাভ-সবুজ শৈবাল মিথোজীবী রূপে বাস করে।
১৩সজীব ছত্রাক এবং শৈবালের সহাবস্থানকে মাইকোরাইজা বলে।
উত্তরমিথ্যা (F)
সঠিক উত্তর: ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানকে লাইকেন বলে; ছত্রাক ও উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের মূলের সহাবস্থানকে মাইকোরাইজা বলে।
১৪বোতলের জলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পেকটিনেজ মেশানো হয়।
উত্তরমিথ্যা (F)
সঠিক উত্তর: বোতলজাত ফলের রসের ঘোলাটে ভাব দূর করে স্বচ্ছতা আনতে পেকটিনেজ উৎসেচক ব্যবহৃত হয়; পানীয় জলে নয়।
১৫বেকারি শিল্পে ময়দার মণ্ডের সঙ্গে ইস্ট মেশানো হয়।
উত্তরসত্য (T)
১৬ব্যাসিলাস পলিমিক্সা একটি স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া।
উত্তরসত্য (T)

▶ প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও :

প্রশ্নমান ১
১রসনির্ভর অনাক্রম্যতা : B কোষ :: কোষনির্ভর অনাক্রম্যতা : ________
উত্তরT কোষ
রসনির্ভর অনাক্রম্যতা B-লিম্ফোসাইট ও প্লাজমা কোষের অ্যান্টিবডি দ্বারা পরিচালিত হয়, অপরদিকে কোষনির্ভর অনাক্রম্যতা সরাসরি T-লিম্ফোসাইট দ্বারা সম্পন্ন হয়।
২লুই পাস্তুর : জলাতঙ্ক রোগ :: এডওয়ার্ড জেনার : ________
উত্তরগুটিবসন্ত (Smallpox)
বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের টিকা এবং ড. এডওয়ার্ড জেনার গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন।
৩AIDS : HIV :: ডেঙ্গু : ________
উত্তরফ্ল্যাভিভাইরাস (Flavivirus / DENV)
এইডস রোগের কারক ভাইরাস হলো HIV এবং ডেঙ্গু রোগের কারক ভাইরাস হলো ফ্ল্যাভিভাইরাস।
৪পোলিও : OPV :: যক্ষ্মা : ________
উত্তরBCG (বিসিজি)
পোলিও প্রতিরোধে ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV) এবং যক্ষ্মা প্রতিরোধে ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়েরিন (BCG) টিকা দেওয়া হয়।

▶ বিসদৃশটি বেছে লেখো :

প্রশ্নমান ১
১IgG, IgD, IgM, IgE।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: IgM
IgM হলো একটি পেন্টামার (৫টি এককযুক্ত বৃহৎ অণু); অপরপক্ষে বাকি তিনটি (IgG, IgD, IgE) একক মনোমার কাঠামোযুক্ত।
২টিটেনাস, যক্ষ্মা, ডেঙ্গু, নিউমোনিয়া।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: ডেঙ্গু
ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসঘটিত রোগ; বাকি তিনটি (টিটেনাস, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া) ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।
৩ম্যালেরিয়া, ডিপথেরিয়া, নিউমোনিয়া, টিটেনাস।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: ম্যালেরিয়া
ম্যালেরিয়া হলো প্রোটোজোয়া বা আদ্যপ্রাণীঘটিত রোগ; বাকি তিনটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।
৪ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস-A, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-B।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: যক্ষ্মা
যক্ষ্মা হলো ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ; বাকি তিনটি (ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস-A ও B) ভাইরাসঘটিত রোগ।
৫ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস, ম্যালেরিয়া, AIDS।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: ম্যালেরিয়া
ম্যালেরিয়া আদ্যপ্রাণী (প্রোটোজোয়া) ঘটিত রোগ; অন্য তিনটি ভাইরাসঘটিত রোগ।
৬Boletus edulis, Laccaria laccata, Amanita muscaria, Glomus।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: Glomus (গ্লোমাস)
গ্লোমাস হলো এন্ডোমাইকোরাইজা (VAM) গঠনকারী ছত্রাক; অপরপক্ষে অন্য তিনটি বহিমাইকোরাইজা (Ectomycorrhiza) গঠনকারী ছত্রাক।
৭ক্লোরামফেনিকল, টেট্রাসাইক্লিন, ক্লসট্রিডিয়াম, টেরামাইসিন।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: ক্লসট্রিডিয়াম
ক্লসট্রিডিয়াম হলো একটি ক্ষতিকর রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া; বাকি তিনটি চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের নাম।

▶ অন্তর্গত বিষয়টি খুঁজে বার করো :

প্রশ্নমান ১
১অ্যাজোটোব্যাকটার, ক্লসট্রিডিয়াম, ব্যাসিলাস পলিমিক্সা, মুক্তজীবী ব্যাকটেরিয়া।
উত্তরসাধারণ অন্তর্গত বিষয়: মুক্তজীবী নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া
অ্যাজোটোব্যাকটার, ক্লসট্রিডিয়াম এবং ব্যাসিলাস পলিমিক্সা—এগুলি সবই মাটিতে মুক্তভাবে বসবাসকারী ও বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া।
২Bacillus, Calmette, Guerin, BCG।
উত্তরসাধারণ অন্তর্গত বিষয়: BCG (যক্ষ্মার টিকা)
বিজ্ঞানী আলবার্ট ক্যালমেট এবং ক্যামিল গুয়েরিন কর্তৃক আবিষ্কৃত অ্যাটেনুয়েটেড যক্ষ্মা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন হলো BCG (Bacillus Calmette-Guérin)।
৩Diphtheria, Pertussis, Tetanus, DPT।
উত্তরসাধারণ অন্তর্গত বিষয়: DPT (ট্রিপল অ্যান্টিজেন টিকা)
ডিপথেরিয়া, পারটুসিস (হুপিং কাশি) এবং টিটেনাস—এই তিনটি মারাত্মক রোগের সম্মিলিত প্রতিষেধক হলো DPT টিকা।
৪AIDS, ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া, ওজন হ্রাস।
উত্তরসাধারণ অন্তর্গত বিষয়: AIDS রোগের উপসর্গ / জটিলতা
দীর্ঘস্থায়ী ডায়ারিয়া, বারবার নিউমোনিয়া সংক্রমণ এবং দ্রুত অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস হলো এইডস (AIDS) রোগের প্রধান লক্ষণ।

▶ বাম ও ডান স্তম্ভ মেলাও :

প্রশ্নমান ১ × ৪ = ৪

স্তম্ভ মেলানো (১)

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল)
i. সায়ানোব্যাকটেরিয়া→ b. অলোসিরা
ii. পাইনাস→ e. মাইকোরাইজা
iii. অ্যান্টিবায়োটিক→ a. নিওমাইসিন
iv. HBV ভ্যাকসিন→ c. হেপাটাইটিস B
অতিরিক্ত পদ: d. যক্ষ্মা

স্তম্ভ মেলানো (২)

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল)
i. এপিটোপ→ d. অ্যান্টিজেন
ii. প্যারাটোপ→ a. অ্যান্টিবডি
iii. রসনির্ভর অনাক্রম্যতা→ b. B-লিম্ফোসাইট
iv. কোষনির্ভর অনাক্রম্যতা→ c. T-লিম্ফোসাইট
অতিরিক্ত পদ: e. নিউট্রোফিল

স্তম্ভ মেলানো (৩)

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল)
i. অমরা অতিক্রম করতে পারে→ d. IgG
ii. কোলোস্ট্রামে উপস্থিত→ a. IgA
iii. প্রোটোজোয়াঘটিত রোগ→ e. ম্যালেরিয়া
iv. ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ→ c. ডিপথেরিয়া
অতিরিক্ত পদ: b. AIDS

স্তম্ভ মেলানো (৪)

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল)
i. BCG→ b. যক্ষ্মার টিকা
ii. DPT→ c. ডিপথেরিয়া টিকা
iii. OPV→ d. ওরাল পোলিও টিকা
iv. MMR→ e. হামের টিকা
অতিরিক্ত পদ: a. জলাতঙ্ক-এর টিকা

C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

প্রশ্নমান ২
১ইমিউনিটি (Immunity) বা অনাক্রম্যতা কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরবহিরাগত ক্ষতিকর রোগজীবাণু (যেমন—ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া) বা তাদের বিষাক্ত পদার্থের আক্রমণকে প্রতিরোধ করে দেহকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখার স্বাভাবিক অথবা অর্জিত ক্ষমতাকে অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি (Immunity) বলে।
এটি প্রধানত দুই প্রকার: (i) সহজাত অনাক্রম্যতা (Innate) এবং (ii) অর্জিত অনাক্রম্যতা (Acquired)।
২অ্যান্টিজেন (Antigen) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরদেহের বাইরে থেকে প্রবেশকারী অথবা দেহের অভ্যন্তরে উৎপন্ন যেসব বিজাতীয় জৈব পদার্থ (প্রধানত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড) অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে অ্যান্টিবডি উৎপাদনে বাধ্য করে এবং উৎপন্ন অ্যান্টিবডির সাথে সুনির্দিষ্টভাবে আবদ্ধ হয়, তাদের অ্যান্টিজেন (Antigen বা Immunogen) বলে।
উদাহরণ: প্যাথোজেনের কোষপ্রাচীরস্থ প্রোটিন, ভাইরাসের ক্যাপসিড, ফুলের রেণু।
৩অ্যান্টিবডি (Antibody) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরদেহে অ্যান্টিজেনের প্রবেশের প্রতিক্রিয়ায় অনাক্রম্যতন্ত্রের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন প্লাজমা কোষ দ্বারা নিঃসৃত যে বিশেষ ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন জাতীয় প্রতিরক্ষা অণু রক্তরসে প্রবেশ করে অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস বা প্রশমিত করে, তাকে অ্যান্টিবডি (Antibody) বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Ig) বলে।
উদাহরণ: IgG, IgA, IgM, IgE, IgD।
৪MMR-এর পুরো নাম কী? এটি কোন্ কোন্ রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়?V.V.I মান: ২
উত্তরMMR-এর পুরো নাম: Measles, Mumps, Rubella (মিজলস, মাম্পস, রুবেলা)।
এটি একটি ত্রিযোজী সম্মিলিত প্রতিষেধক টিকা, যা শিশুদের হাম (Measles), মাম্পস (Mumps) এবং জার্মান হাম বা রুবেলা (Rubella) রোগের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত ৯–১৫ মাস বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়।
৫ডায়ারিয়া বা উদরাময়ের দুটি প্রধান উপসর্গ উল্লেখ করো। মান: ২
উত্তরডায়ারিয়া বা আন্ত্রিক সংক্রমণের প্রধান দুটি উপসর্গ হলো:
১. ঘন ঘন পাতলা জলের মতো মলত্যাগ: দিনে বহুবার তরল পায়খানা হওয়া যার ফলে দেহ থেকে জল ও গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইটস (লবণ) বেরিয়ে যায়।
২. ডিহাইড্রেশন বা তীব্র পানিশূন্যতা: চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া, মুখ ও জিভ শুকিয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং চরম ক্ষেত্রে রোগী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া।
৬টিটেনাস রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় কী?V.V.I মান: ২
উত্তর১. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: মরচে-পড়া লোহা বা নোংরা কাঁচে কেটে গেলে বা ক্ষতস্থান তৈরি হলে অবিলম্বে কাটা জায়গা ভালো করে অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে ধুয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিটেনাস টক্সয়েড (TT) ইনজেকশন নিতে হবে।
২. চিকিৎসা ও প্রতিকার: আক্রমণ ঘটলে রোগীকে নিস্তব্ধ অন্ধকার ঘরে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে টিটেনাস অ্যান্টিটক্সিন (TAT) বা টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (TIG) সিরাম এবং উপযুক্ত পেশি শিথিলকারী ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।
৭অ্যান্টিবডি কত প্রকারের ও কী কী?V.V.I মান: ২
উত্তরভারী শৃঙ্খলের (Heavy Chain) অ্যামাইনো অ্যাসিডের বিন্যাস ও রাসায়নিক গঠনের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে মানবদেহের অ্যান্টিবডিগুলিকে প্রধানত পাঁচ (৫) ভাগে ভাগ করা হয়:
১. IgG: রক্তরসে সর্বাধিক থাকে (৭৫-৮০%) এবং অমরা অতিক্রম করে।
২. IgA: কোলোস্ট্রাম, লালা ও অশ্রুতে উপস্থিত ক্ষরণকারী অ্যান্টিবডি।
৩. IgM: আকারের দিক থেকে বৃহত্তম পেন্টামার অ্যান্টিবডি; প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৪. IgE: অ্যালার্জি ও কৃমি প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি।
৫. IgD: B-কোষের আবরণে রিসেপ্টর হিসেবে কাজ করে।
৮এক্সোজেনাস ও এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।V.V.I মান: ২
উত্তর১. এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন (Exogenous Antigen): যে সমস্ত অ্যান্টিজেন দেহের বাইরে পরিবেশে উৎপন্ন হয়ে শ্বাসবায়ু, খাদ্য বা ত্বকের ক্ষতের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে, তাদের এক্সোজেনাস বা বহির্জাত অ্যান্টিজেন বলে; যেমন—ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ধূলিকণা ও ফুলের পরাগরেণু।
২. এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন (Endogenous Antigen): যে সমস্ত অ্যান্টিজেন দেহের অভ্যন্তরীণ কোষীয় বিপাক বা জিনগত পরিবর্তনের ফলে নিজ কোষের ভেতরেই উৎপন্ন হয়, তাদের এন্ডোজেনাস বা অন্তর্জাত অ্যান্টিজেন বলে; যেমন—ক্যানসার কোষের টিউমার অ্যান্টিজেন, পরিবর্তিত অটো-অ্যান্টিজেন।
৯ডেঙ্গু জ্বরের দুটি প্রধান লক্ষণ উল্লেখ করো।V.V.I মান: ২
উত্তরডেঙ্গু ভাইরাসের (DENV) সংক্রমণে প্রধান দুটি লক্ষণ হলো:
১. তীব্র জ্বর ও হাড়ভাঙা অসহ্য যন্ত্রণা (Break-bone fever): হঠাৎ ১০৩°–১০৫° ফারেনহাইট তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা এবং কোমর, অস্থিসন্ধি ও পেশিতে প্রচণ্ড অসহ্য যন্ত্রণা।
২. রক্তে অনুচক্রিকা (Platelet) হ্রাস: রক্তের প্লেটলেট আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, ত্বকে লালচে ছোপ বা র‍্যাশ বের হয় এবং মারাত্মক ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে।
১০ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত দেহকোষ থেকে নিঃসৃত যে বিশেষ গ্লাইকোপ্রোটিন অণু পার্শ্ববর্তী সুস্থ ও অসংক্রামিত কোষগুলিকে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য অ্যান্টি-ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে উদ্দীপ্ত করে, তাকে ইন্টারফেরন (Interferon / IFN) বলে।
ইন্টারফেরনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই তাৎক্ষণিক কোষীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা বলা হয়। এটি সহজাত অনাক্রম্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১১কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Cell-Mediated Immunity) কীভাবে কাজ করে?V.V.I মান: ২
উত্তরকোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা সরাসরি T-লিম্ফোসাইট দ্বারা পরিচালিত হয়:
১. দেহে অ্যান্টিজেন প্রবেশ করলে অ্যান্টিজেন উপস্থাপনকারী কোষ (APC) তা T-কোষকে প্রদর্শন করে।
২. সক্রিয় সাইটোটক্সিক T-কোষ (Tc Cell) রাসায়নিক পারফোরিন (Perforin) ও গ্র্যানজাইম ক্ষরণ করে জীবাণুযুক্ত আক্রান্ত কোষ বা ক্যানসার কোষের আবরণী বিদীর্ণ করে সরাসরি ধ্বংস করে।
৩. সহায়ক T-কোষ (Th Cell) সাইটোকাইনিন ক্ষরণ করে ম্যাক্রোফাজকে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্দীপিত করে।
১২রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Humoral Immunity) কীভাবে কাজ করে?V.V.I মান: ২
উত্তররসভিত্তিক অনাক্রম্যতা রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে অ্যান্টিবডি দ্বারা পরিচালিত হয়:
১. বহিরাগত অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে এসে B-লিম্ফোসাইট সক্রিয় হয়ে দ্রুত বিভাজিত হয়ে বিপুল পরিমাণ প্লাজমা কোষ গঠন করে।
২. প্রতিটি প্লাজমা কোষ প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে রক্তরসে পাঠায়।
৩. এই অ্যান্টিবডিগুলি অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে গ্লুটিনেশন, প্রিসিপিটেশন এবং অপসোনাইজেশন পদ্ধতিতে জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করে এবং ম্যাক্রোফাজ দ্বারা ধ্বংস করায়।
১৩হেপাটাইটিস-B সংক্রমণের দুটি কারণ উল্লেখ করো। মান: ২
উত্তরহেপাটাইটিস-B ভাইরাস (HBV) মূলত দেহরস ও রক্তের মাধ্যমে সংক্রামিত হয়:
১. সংক্রামিত রক্ত গ্রহণ ও সূচ ব্যবহার: হেপাটাইটিস-B আক্রান্ত ব্যক্তির অপরীক্ষিত রক্ত সুস্থ ব্যক্তির দেহে পরিসঞ্চালন করলে বা সংক্রামিত ব্যক্তির ব্যবহৃত ডিসপোজেবল সূচ/সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহার করলে।
২. অসুরক্ষিত শারীরিক সম্পর্ক ও মাতৃদেহ থেকে সংক্রমণ: সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে অসুরক্ষিত শারীরিক মিলনের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের থেকে প্রসবের সময় শিশুর দেহে ভাইরাস বাহিত হয়।
১৪বুস্টার ডোজ (Booster Dose) কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরপ্রাথমিক টিকাকরণের (Primary Vaccination) পর সময়ের সাথে সাথে রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা কমে এলে পূর্বে তৈরি হওয়া অনাক্রম্যতাকে পুনরায় উদ্দীপিত ও বহু গুণ বৃদ্ধি করে দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময় অন্তর যে অতিরিক্ত পরিপূরক টিকার ডোজ প্রয়োগ করা হয়, তাকে বুস্টার ডোজ (Booster Dose) বলে।
উদাহরণ: DPT বা পোলিও টিকার পরবর্তী বুস্টার ডোজ এবং টিটেনাসের প্রতি ১০ বছর অন্তর বুস্টার প্রয়োগ।
১৫ধৌতকরণের (Sanitization & Handwashing) কয়েকটি প্রয়োজনীয় উপাদান উল্লেখ করো। মান: ২
উত্তররোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যবিধির জন্য ধৌতকরণের প্রধান উপাদানগুলি হলো:
১. সাবান ও পরিষ্কার জল: চর্বিযুক্ত ক্ষারীয় সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ জীবাণুর লিপিড ঝিল্লি ভেঙে ধ্বংস করে।
২. অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার: ন্যূনতম ৭০% আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল বা ইথানলযুক্ত স্যানিটাইজার যা জল ছাড়াই হাত জীবাণুমুক্ত করে।
৩. জীবাণুনাশক দ্রবণ: সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট বা ব্লিচিং দ্রবণ যা মেঝে ও পাত্রের জীবাণু নাশ করে।
১৬এপিটোপ ও প্যারাটোপ কী?V.V.I মান: ২
উত্তর১. এপিটোপ (Epitope): অ্যান্টিজেন অণুর উপরিভাগে অবস্থিত যে নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র রাসায়নিক অংশটির সাথে অ্যান্টিবডি সরাসরি সংযুক্ত হয়, তাকে অ্যান্টিজেনিক ডিটারমিন্যান্ট বা এপিটোপ বলে।
২. প্যারাটোপ (Paratope): অ্যান্টিবডি অণুর পরিবর্তনশীল প্রান্তে (V-অঞ্চলে) অবস্থিত যে নির্দিষ্ট খাঁজযুক্ত স্থানে অ্যান্টিজেনের এপিটোপটি অবিকল তালার চাবির মতো যুক্ত হয়, তাকে অ্যান্টিজেন বাইন্ডিং সাইট বা প্যারাটোপ বলে।
১৭OPV-এর পুরো নাম কী? এটি কোন্ রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়? মান: ২
উত্তরOPV-এর পুরো নাম: Oral Polio Vaccine (ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন)।
এটি বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট সাবিন কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি জীবন্ত মৃদু পোলিও টিকা যা মুখ দিয়ে ড্রপ আকারে শিশুদের খাওয়ানো হয় এবং পোলিওমায়োলাইটিস (পোলিও पक्षाघात) রোগ প্রতিরোধ করে।
১৮MMR টিকার গুরুত্ব বা ভূমিকা কী? মান: ২
উত্তরMMR টিকা মানবদেহে মিজলস (হাম), মাম্পস (কর্ণমূলীয় গ্রন্থির প্রদাহ) এবং রুবেলা (জার্মান হাম)—এই তিনটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল রোগের বিরুদ্ধে আজীবন স্থায়ী অনাক্রম্যতা গড়ে তোলে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের গর্ভস্থ ভ্রূণে জন্মগত ত্রুটি রোধে রুবেলা প্রতিরোধে MMR টিকা অত্যন্ত কার্যকর।
১৯অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।V.V.I মান: ২
উত্তরঅ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির দুটি প্রধান পার্থক্য নিম্নরূপ:
তুলনার বিষয় অ্যান্টিজেন (Antigen) অ্যান্টিবডি (Antibody)
১. প্রকৃতি ও উৎস দেহের বাইরে থেকে প্রবেশকারী বিজাতীয় ক্ষতিকর পদার্থ (প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড)। অ্যান্টিজেনের প্রতিক্রিয়ায় দেহের নিজস্ব B-কোষের প্লাজমা কোষ দ্বারা উৎপন্ন গ্লাইকোপ্রোটিন।
২. কাজ অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে অ্যান্টিবডি তৈরিতে বাধ্য করে এবং রোগ সৃষ্টি করে। নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।
২০ইমিউন রেসপন্স (Immune Response) বা অনাক্রম্য সাড়া কাকে বলে?V.V.I মান: ২
উত্তরদেহে কোনো বিজাতীয় অ্যান্টিজেন বা ক্ষতিকর রোগজীবাণু প্রবেশ করার পর অনাক্রম্যতন্ত্রের লিম্ফোসাইট কোষগুলি (B ও T কোষ) সেই অ্যান্টিজেনকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি উৎপাদন এবং ফ্যাগোসাইটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক বিক্রিয়া ও সাড়া প্রদান করে, তাকে ইমিউন রেসপন্স বা অনাক্রম্য সাড়া (Immune Response) বলে।
এটি প্রাথমিক সাড়া ও দ্রুততর গৌণ সাড়া—এই দুই ভাগে বিভক্ত।
২১কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতার অন্তর্গত বিভিন্ন T-কোষের ভূমিকা কী? মান: ২
উত্তরকোষভিত্তিক অনাক্রম্যতায় প্রধানত চার ধরনের T-কোষ কাজ করে:
১. সাইটোটক্সিক বা কিলার T-কোষ (Tc): ভাইরাসযুক্ত ও ক্যানসার কোষকে সরাসরি ছিদ্র করে ধ্বংস করে।
২. সহায়ক T-কোষ (Th): লিম্ফোকাইনিন ক্ষরণ করে B-কোষকে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্রিয় করে।
৩. অবদমক T-কোষ (Ts): প্রতিরোধ ক্রিয়া সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে স্ব-কোষকে বাঁচায়।
৪. মেমরি T-কোষ (Tm): জীবাণুর বৈশিষ্ট্য স্মরণে রাখে যাতে পরবর্তীতে আক্রমণ হলে দ্রুত নির্মূল করতে পারে।
২২রসভিত্তিক অনাক্রম্যতায় প্লাজমা কোষ ও মেমরি কোষের কাজ কী? মান: ২
উত্তর১. প্লাজমা কোষ (Plasma Cell): অ্যান্টিজেনের আক্রমণে B-লিম্ফোসাইট রূপান্তরিত হয়ে প্লাজমা কোষ তৈরি করে। এই কোষগুলি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২০০০টি করে অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে রক্ত ও লসিকায় অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করতে পাঠায়।
২. মেমরি B-কোষ (Memory B Cell): এরা অ্যান্টিজেনটির বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন বা সারাজীবন স্মৃতিতে ধরে রাখে, ফলে ভবিষ্যতে একই জীবাণু পুনরায় শরীরে ঢুকলে কোনো কালক্ষেপণ ছাড়াই তীব্র বেগে অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ করে।
২৩ডায়ারিয়া বা উদরাময়ে ORS-এর ভূমিকা কী?V.V.I মান: ২
উত্তরডায়ারিয়ায় শরীর থেকে অত্যধিক পরিমাণে জল এবং প্রয়োজনীয় আয়ন (Na⁺, K⁺, Cl⁻) মলের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। ORS (Oral Rehydration Solution)-এ নির্দিষ্ট অনুপাতে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম সাইট্রেট এবং গ্লুকোজ থাকে। গ্লুকোজ অন্ত্রের কোষে সোডিয়াম ও জল দ্রুত পুনঃশোষণে সাহায্য করে এবং মারাত্মক পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দূর করে রোগীর প্রাণ বাঁচায়।
২৪ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান তিনটি পর্যায়ক্রমিক লক্ষণ কী কী?V.V.I মান: ২
উত্তরম্যালেরিয়া রোগের জ্বর প্রধানত তিনটি পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়:
১. শীতাবস্থা (Cold Stage): প্রচণ্ড শীতবোধ হওয়া এবং দাঁতে দাঁত লেগে সারা শরীর তীব্রভাবে কাঁপতে থাকা (সাধারণত ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা স্থায়ী)।
২. উত্তাপাবস্থা (Hot Stage): কাঁপুনি থেমে গিয়ে হঠাৎ তীব্র জ্বর আসা (তাপমাত্রা ১০৩° থেকে ১০৬° ফারেনহাইটে পৌঁছায়), প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব (২ থেকে ৬ ঘণ্টা স্থায়ী)।
৩. ঘর্মাবস্থা (Sweating Stage): প্রচুর ঘাম দিয়ে জ্বর হঠাৎ ছেড়ে যাওয়া, শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়া এবং রোগী ঘুমিয়ে পড়া।

D. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LAQ)

প্রশ্নমান ৫
১একটি আদর্শ অ্যান্টিবডির গঠন চিত্রের সাহায্যে বিশদে বর্ণনা করো। মান: ৫
উত্তরঅ্যান্টিবডির সংজ্ঞা: অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন প্লাজমা কোষ দ্বারা ক্ষরিত গ্লাইকোপ্রোটিন জাতীয় প্রতিরক্ষা অণুকে অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Ig) বলে।

একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি অণুর গঠনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. Y-আকৃতির চতুর্গঠন (H₂L₂ সূত্র): একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি অণু (যেমন IgG) দেখতে ইংরেজি 'Y' অক্ষরের মতো। এটি মোট চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত—
• দুটি ভারী শৃঙ্খল (Heavy Chain বা H-Chain): ভেতরের দিকে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ও ভারী দুটি শৃঙ্খল, যার প্রতিটিতে প্রায় ৪৪০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে (আণবিক ভর প্রায় ৫০,০০০ ডালটন)।
• দুটি হালকা শৃঙ্খল (Light Chain বা L-Chain): বাইরের দুই প্রান্তে অবস্থিত ক্ষুদ্রতর দুটি শৃঙ্খল, যার প্রতিটিতে প্রায় ২২০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে (আণবিক ভর প্রায় ২৫,০০০ ডালটন)।

২. ডাইসালফাইড বন্ধন (-S-S- Bonds): চারটি শৃঙ্খল পরস্পরের সাথে আন্তঃশৃঙ্খল সমযোজী ডাইসালফাইড বন্ধন দ্বারা দৃঢ়ভাবে সংলগ্ন থাকে। প্রতিটি হালকা শৃঙ্খল একটি করে ভারী শৃঙ্খলের সাথে যুক্ত থাকে এবং ভারী শৃঙ্খল দুটি কব্জা অঞ্চলে পরস্পরের সাথে দুটি ডাইসালফাইড বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।

৩. পরিবর্তনশীল অঞ্চল ও স্থির অঞ্চল:
• পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable Region বা V-অঞ্চল): প্রতিটি H ও L শৃঙ্খলের N-প্রান্তীয় অগ্রভাগে অবস্থিত। এই অঞ্চলের অ্যামাইনো অ্যাসিডের বিন্যাস অ্যান্টিজেন ভেদে ভিন্ন হয়।
• স্থির অঞ্চল (Constant Region বা C-অঞ্চল): শৃঙ্খলের C-প্রান্তীয় বা পশ্চাৎভাগে অবস্থিত, যার অ্যামাইনো অ্যাসিড বিন্যাস একই শ্রেণির সমস্ত অ্যান্টিবডিতে প্রায় অপরিবর্তিত থাকে।

৪. প্যারাটোপ বা অ্যান্টিজেন সংযুক্তিস্থল: পরিবর্তনশীল অঞ্চলের খাঁজযুক্ত অংশে নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের এপিটোপ যুক্ত হওয়ার স্থান থাকে, যাকে প্যারাটোপ (Paratope) বা অ্যান্টিজেন বাইন্ডিং সাইট বলে। একটি Y-মনোমারে দুটি প্যারাটোপ থাকে (দ্বিজোযী বা Bivalent)।

৫. কব্জা অঞ্চল (Hinge Region): ভারী শৃঙ্খল দুটির মধ্যবর্তী যে নমনীয় অংশে প্রোলিন সমৃদ্ধ অঞ্চল থাকে, তাকে কব্জা অঞ্চল বলে। এটি অ্যান্টিবডির দুই বাহুকে ইচ্ছামতো মেলাতে বা সংকুচিত করতে সাহায্য করে।

৬. Fab ও Fc খণ্ড: প্যাপাইন উৎসেচক দিয়ে ভাঙলে অ্যান্টিবডির দুটি অ্যান্টিজেন বাঁধাইকারী বাহু তৈরি হয় যাকে Fab খণ্ড বলে এবং কাণ্ডের নিচের অংশটিকে Fc খণ্ড (স্ফটিকায়নযোগ্য অংশ) বলে।
একটি আদর্শ অ্যান্টিবডির গঠন ডায়াগ্রাম
চিত্র ১: একটি আদর্শ Y-আকৃতির অ্যান্টিবডি (IgG)-এর সূক্ষ্ম আণবিক গঠন, শৃঙ্খল ও ডাইসালফাইড বন্ধন
২অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্যগুলি ছকের সাহায্যে দেখাও। মান: ৫
উত্তরঅ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির মধ্যে প্রধান প্রধান পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:
তুলনার বিষয় অ্যান্টিজেন (Antigen) অ্যান্টিবডি (Antibody)
১. সংজ্ঞা ও পরিচয় দেহের অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্রিয়কারী ক্ষতিকর বিজাতীয় পদার্থ। অ্যান্টিজেনের প্রতিক্রিয়ায় প্লাজমা কোষ দ্বারা নিঃসৃত প্রতিরক্ষামূলক গ্লাইকোপ্রোটিন অণু।
২. রাসায়নিক প্রকৃতি সাধারণত উচ্চ আণবিক গুরুত্বসম্পন্ন জটিল প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড বা লিপোপ্রোটিন। রক্তরসের বিশেষ গামা গ্লোবিউলিন বা গ্লাইকোপ্রোটিন (ইমিউনোগ্লোবিউলিন)।
৩. উৎপত্তির উৎস প্রধানত বহিরাগত (জীবাণু, রেণু, ধূলিকণা) অথবা অভ্যন্তরীণ অস্বাভাবিক কোষ (ক্যানসার কোষ)। দেহের নিজস্ব অনাক্রম্য অঙ্গ ও লসিকাগ্রন্থির B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন প্লাজমা কোষে তৈরি।
৪. সংযুক্তিস্থল এর উপরিভাগে অ্যান্টিবডির সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য এপিটোপ (Epitope) থাকে। এর পরিবর্তনশীল অগ্রভাগে অ্যান্টিজেনকে বাঁধার জন্য প্যারাটোপ (Paratope) থাকে।
৫. জীবদেহে ভূমিকা দেহে বিষক্রিয়া বা সংক্রামক রোগ সৃষ্টি করে ও টিস্যুর ক্ষতিসাধন করে। অ্যান্টিজেনকে প্রশমিত, ধ্বংস ও ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমে দেহকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখে।
৩বিভিন্ন প্রকার টিকার নাম, প্রকৃতি এবং যে যে রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয় তার একটি তালিকা প্রস্তুত করো। মান: ৫
উত্তরচিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত প্রধান প্রধান প্রতিষেধক টিকার তালিকা নিম্নরূপ:
টিকার নাম সম্পূর্ণ নাম টিকার প্রকৃতি / উপাদান প্রতিরোধকারী রোগ
BCG Bacillus Calmette-Guérin জীবন্ত অথচ শক্তিহীন ক্ষতিকর ক্ষমতাহীন ব্যাকটেরিয়া যক্ষ্মা (Tuberculosis)
DPT Diphtheria, Pertussis, Tetanus সম্মিলিত ত্রিযোজী টিকা (টক্সয়েড ও মৃত ব্যাকটেরিয়া) ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও টিটেনাস
OPV Oral Polio Vaccine (Sabin) জীবন্ত মৃদু পোলিও ভাইরাস (ড্রপ হিসেবে মুখের মাধ্যমে) পোলিও (Poliomyelitis)
MMR Measles, Mumps, Rubella জীবন্ত মৃদু ভাইরাস মিশ্রণ হাম, মাম্পস ও জার্মান হাম (রুবেলা)
TT Tetanus Toxoid বিষহীন করা রাসায়নিক টক্সয়েড টিটেনাস (ধনুষ্টঙ্কার বা লক-জ)
HBV Vaccine Hepatitis B Vaccine রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে তৈরি পৃষ্ঠ অ্যান্টিজেন হেপাটাইটিস-B (সিরাম জন্ডিস)
Rabies Vaccine Anti-Rabies Vaccine (ARV) মৃত জলাতঙ্ক ভাইরাস জলাতঙ্ক (Rabies / Hydrophobia)
৪ম্যালেরিয়া রোগের প্যাথোজেন, সংক্রমণ পদ্ধতি, প্রধান প্রধান উপসর্গ এবং প্রতিকার বিশদে আলোচনা করো। মান: ৫
উত্তর১. প্যাথোজেন ও বাহক:
• রোগজীবাণু: প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) নামক একপ্রকার অন্তঃপরজীবী আদ্যপ্রাণী (প্রোটোজোয়া); যেমন—Plasmodium vivax (বিনাইন টারশিয়ান ম্যালেরিয়া) এবং Plasmodium falciparum (মারাত্মক ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া)।
• বাহক: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা (Anopheles)।

২. সংক্রমণ পদ্ধতি:
স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা কোনো ম্যালেরিয়া রোগীকে কামড়ানোর পর তার লালাগ্রন্থিতে প্লাজমোডিয়ামের সংক্রামক দশা 'স্পোরোজয়েট' প্রবেশ করে। পরবর্তীতে মশাটি যখন কোনো সুস্থ মানুষকে দংশন করে, তখন তার লালার সাথে স্পোরোজয়েট সুস্থ ব্যক্তির রক্তস্রোতে প্রবেশ করে। রক্ত থেকে জীবাণু প্রথমে যকৃতে এবং পরে লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) বহুবিভাজন ঘটায়।

৩. প্রধান উপসর্গসমূহ:
• নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক জ্বর: সাধারণত ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টা অন্তর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।
• তিনটি পর্যায়: (ক) শীতাবস্থা: প্রচণ্ড শীত ও দাঁতকপাটি লাগা তীব্র কাঁপুনি; (খ) উত্তাপাবস্থা: ১০৩°–১০৬° ফারেনহাইট মারাত্মক জ্বর ও অসহ্য মাথাব্যথা; এবং (গ) ঘর্মাবস্থা: প্রচুর ঘাম দিয়ে হঠাৎ তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়া।
• রক্তাল্পতা ও প্লীহাবৃদ্ধি: লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ায় অ্যানিমিয়া দেখা দেয় এবং যকৃৎ ও প্লীহা অস্বাভাবিক বড়ো হয়ে যায় (হেপাটোস্প্লেনোমেগালি)।

৪. প্রতিরোধ ও প্রতিকার:
• মশা দমন: নিকাশিনালা ও জমা জলে ব্লিচিং বা কেরোসিন ছড়ানো, গাপ্পি ও গ্যামবুসিয়া মাছ চাষ করে মশার লার্ভা ভক্ষণ করানো।
• সুরক্ষা: শোয়ার সময় মশারি টাঙানো এবং জানলায় তারের জালি ব্যবহার করা।
• ওষুধ প্রয়োগ: রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জীবাণু শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্লোরোকুইন, কুইনাইন, প্রাইমাকুইন বা আর্টেমেসিনিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করা।
৫দুটি প্রধান ভাইরাসঘটিত রোগের (ডেঙ্গু এবং হেপাটাইটিস-B) প্যাথোজেন, উপসর্গ ও প্রতিরোধ পদ্ধতি বিশদে লেখো। মান: ২.৫ + ২.৫
উত্তর(ক) ডেঙ্গু (Dengue):
• প্যাথোজেন ও বাহক: ডেঙ্গু ভাইরাস বা ফ্ল্যাভিভাইরাস (DENV-1, 2, 3, 4)। বাহক হলো দিনবেলা কামড়ানো স্ত্রী এডিস মশা (Aedes aegypti)।
• উপসর্গ: হঠাৎ তীব্র জ্বর, চোখের পেছনের অংশে প্রচণ্ড ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে অসহ্য হাড়ভাঙা বেদনা (Break-bone fever)। মারাত্মক ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে রক্তের অনুচক্রিকা (Platelet) দ্রুত হ্রাস পায় এবং ত্বক, মাড়ি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ ঘটে।
• প্রতিরোধ: ফুলের টব, টায়ার বা ভাঙা নারকেলের মালায় যাতে জল না জমে তা নিশ্চিত করা। এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরা।

(খ) হেপাটাইটিস-B (Hepatitis B):
• প্যাথোজেন: হেপাটাইটিস-B ভাইরাস (HBV — এটি একটি দ্বিসূত্রী DNA যুক্ত হেপাডনাভাইরাস)।
• সংক্রমণ: সংক্রামিত রক্ত গ্রহণ, অপরিচ্ছন্ন সূচ বা সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহার, অসুরক্ষিত শারীরিক মিলন এবং আক্রান্ত মায়ের থেকে নবজাতকে ছড়ায়।
• উপসর্গ: ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব, পেটের ডানদিকে যকৃতে তীব্র ব্যথা, চোখ ও প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়া (সিরাম জন্ডিস)। দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণে যকৃতের সিরোসিস (Liver Cirrhosis) ও লিভার ক্যানসার হতে পারে।
• প্রতিরোধ: জন্মের পরপরই শিশুদের হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন দেওয়া, রক্ত পরিসঞ্চালনের পূর্বে HBV স্ক্রিনিং করা এবং একবার ব্যবহার্য ডিসপোজেবল সূচ ব্যবহার করা।
৬যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগের প্রকৃতি, জীবাণুর নাম, সংক্রমণ পদ্ধতি, উপসর্গ ও প্রতিকার বিশদে লেখো। মান: ৫
উত্তর১. জীবাণুর নাম ও প্রকৃতি:
যক্ষ্মা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। এর জীবাণুর নাম মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis)। এটি একটি দণ্ডাকার অ্যাসিড-ফাস্ট ব্যাকটেরিয়া যা প্রধানত ফুসফুসকে আক্রমণ করে (পালমোনারি টিবি)।

২. সংক্রমণ পদ্ধতি:
• বায়ুবাহিত ড্রপলেট ইনফেকশন: আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি, থুতু বা কথা বলার সময় নির্গত ক্ষুদ্র থুতুকণা বা ড্রপলেটের মাধ্যমে বাতাসের সাথে সুস্থ মানুষের শ্বাসপথে জীবাণু প্রবেশ করে।
• রোগীর ব্যবহৃত গ্লাস, জামাকাপড় ও বাসনপত্রের সংস্পর্শে সংক্রমণ ঘটতে পারে।

৩. প্রধান উপসর্গসমূহ:
• দীর্ঘস্থায়ী কাশি: একটানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে খুসখুসে কাশি এবং কাশির সাথে কফে রক্ত নির্গমন (হিমোপটিসিস)।
• সন্ধ্যাকালীন জ্বর: প্রতিদিন বিকেলের দিকে বা রাতে মৃদু জ্বর ও শরীর ঘামে ভিজে যাওয়া।
• দ্রুত ওজন হ্রাস ও দুর্বলতা: ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি, বুকের খাঁচায় ব্যথা এবং চোখের দৃষ্টি নিষ্প্রভ হয়ে দ্রুত শারীরিক শীর্ণতা।

৪. প্রতিরোধ ও প্রতিকার:
• টিকা: জন্মের পর শিশুদের অবশ্যই BCG (Bacillus Calmette-Guérin) টিকা দিতে হবে।
• চিকিৎসা (DOTS): সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে DOTS (Directly Observed Treatment, Short-course) পদ্ধতিতে আইসোনিয়াজিড, রিফামপিসিন, পাইরাজিনামাইড ও ইথামবিউটল জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পুরো কোর্স নিয়মিত শেষ করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে ড্রাগ-প্রতিরোধী মারাত্মক MDR-TB সৃষ্টি হয়।
৭রোগ নিরাময়ে ও স্বাস্থ্যরক্ষায় ধৌতকরণের (Washing & Sanitization) গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। মান: ৫
উত্তরব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষা এবং সংক্রামক রোগব্যাধির বিস্তার রোধে ধৌতকরণ বা সাবান-জলে হাত ধোয়া সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী ও অত্যন্ত কার্যকর বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ:

১. প্যাথোজেনের প্রতিরক্ষামূলক লিপিড ঝিল্লি ধ্বংস:
করোনাভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কোষের বাইরে দ্বিস্তরীয় লিপিড বা চর্বির আবরণ থাকে। সাবান হলো উভমুখী অণুযুক্ত যৌগ (হাইড্রোফিলিক ও লিপোফিলিক প্রান্ত)। সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালো করে হাত ঘষলে সাবানের লিপোফিলিক অংশ জীবাণুর চর্বির আবরণীকে দ্রবীভূত করে তাদের সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও মেরে ফেলে।

২. স্পর্শজনিত সংক্রমণ শৃঙ্খল ভঙ্গ:
মানুষ অবচেতনভাবেই প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫–২০ বার হাত দিয়ে নিজের চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করে। নোংরা হাতে থাকা প্যাথোজেন এর মাধ্যমে শ্লেষ্মাঝিল্লি দিয়ে দেহে ঢুকে পড়ে। নিয়মিত হাত ধুলে এই স্পর্শবাহিত রোগ সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে যায়।

৩. আন্ত্রিক ও ডায়ারিয়াজনিত রোগ প্রতিরোধ:
মলত্যাগের পর এবং খাদ্যগ্রহণের পূর্বে ভালো করে সাবান-জলে হাত ধুলে রোটাভাইরাস, ই. কোলাই, কৃমির ডিম ও সালমোনেলাজনিত মারাত্মক ডায়ারিয়া, টাইফয়েড ও আমাশয় প্রায় ৪০%–৫০% প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৪. হাসপাতালে ক্রস-ইনফেকশন রোধ:
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীর পরিচর্যার আগে ও পরে জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধুলে রোগ প্রতিরোধী সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়া ও হাসপাতালের সংক্রমণ (Nosocomial infection) ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

৫. ফলমূল ও শাকসবজি ধৌতকরণ:
বাজার থেকে আনা কাঁচা ফলমূল ও সবজি পরিষ্কার জলে ভালো করে ধুলে তাতে লেগে থাকা ক্ষতিকর কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, ধুলোবালি ও পরজীবীর ডিম অপসারিত হয়।
৮মানবকল্যাণে অনুজীব বা জীবাণুর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করো। মান: ৫
উত্তরযদিও কিছু অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে, তবে অণুজীবদের সিংহভাগই মানবকল্যাণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে:

১. চিকিৎসাবিজ্ঞানে জীবনদায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ও ওষুধ তৈরি:
• Penicillium notatum ছত্রাক থেকে প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হয়।
• Streptomyces griseus ব্যাকটেরিয়া থেকে স্ট্রেপ্টোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন ও এরিথ্রোমাইসিন পাওয়া যায়।
• রিকম্বিন্যান্ট E. coli ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে মানুষের জন্য কৃত্রিম ইনসুলিন (হিউমুলিন) এবং ভিটামিন B₁₂ প্রস্তুত করা হয়।

২. কৃষিক্ষেত্রে জৈব সার (Biofertilizer) ও নাইট্রোজেন সংবন্ধন:
• শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে মিথোজীবী Rhizobium এবং মাটিতে স্বাধীনজীবী Azotobacter ও Clostridium বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটির উর্বরতা বহু গুণ বাড়ায়।
• নীলাভ-সবুজ শৈবাল Nostoc ও Anabaena ধানক্ষেতে প্রাকৃতিক নাইট্রোজেনের জোগান দেয়।

৩. দুগ্ধ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে:
• Lactobacillus ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজ শর্করাকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে সুস্বাদু দই ও পনির তৈরি করে।
• এককোষী ছত্রাক ইস্ট (Saccharomyces cerevisiae) গাঁজন প্রক্রিয়ায় প্রচুর CO₂ গ্যাস তৈরি করে ময়দার মণ্ড ফুলিয়ে নরম ও ফাঁপা পাউরুটি ও কেক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

৪. জৈব পেস্টিসাইড বা কীটশত্রু দমন (Biopesticides):
Bacillus thuringiensis (Bt) ব্যাকটেরিয়া ক্রাই-টক্সিন প্রোটিন উৎপন্ন করে যা ফসলের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় ও পতঙ্গদের অন্ত্রে ছিদ্র তৈরি করে জৈব উপায়ে তাদের মেরে ফেলে, ফলে রাসায়নিক কীটনাশকের দূষণ এড়ানো যায়।

৫. পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ ও বর্জ্য বিশ্লিষ্টকরণ (Bioremediation):
মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর জটিল জৈব বর্জ্যকে বিয়োজক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক পচিয়ে মাটিতে খনিজ মৌল রূপে ফিরিয়ে দেয়। এছাড়া Pseudomonas putida ব্যাকটেরিয়া সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর খনিজ তেলের দূষণ (Oil Spill) হজম করে পরিবেশ পরিষ্কার করে।
৯অনাক্রম্যতন্ত্র কাকে বলে? অনাক্রম্যতন্ত্রের অন্তর্গত কোষগুলি কী কী? ছকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বিবরণ দাও। মান: ১ + ৪
উত্তরঅনাক্রম্যতন্ত্রের সংজ্ঞা: মানবদেহের যে বিশেষ জৈবিক তন্ত্র বিভিন্ন অনাক্রম্য অঙ্গ (অস্থিমজ্জা, থাইমাস, প্লীহা, লসিকাগ্রন্থি), শ্বেতরক্তকণিকা, প্রতিরক্ষামূলক কোষ এবং তাদের নিঃসৃত রাসায়নিক উপাদানের মাধ্যমে বহিরাগত প্যাথোজেন ও ক্ষতিকর বিজাতীয় বস্তুকে শনাক্ত করে ধ্বংস করার সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে, তাকে অনাক্রম্যতন্ত্র (Immune System) বলে।

অনাক্রম্যতন্ত্রের অন্তর্গত প্রধান কোষসমূহের বিবরণ:
১. লিম্ফোসাইট (Lymphocytes): অর্জিত অনাক্রম্যতার মূল চালিকাশক্তি—
• B-লিম্ফোসাইট (B-কোষ): লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন ও পরিণত হয়। অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে এসে প্লাজমা কোষ গঠন করে রক্তরসে প্রচুর অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে (রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা)।
• T-লিম্ফোসাইট (T-কোষ): অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়ে থাইমাস গ্রন্থিতে পরিণতি লাভ করে। সাইটোটক্সিক T-কোষ জীবাণুযুক্ত কোষকে সরাসরি মেরে ফেলে (কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা)।

২. ফ্যাগোসাইটিক কোষ (Phagocytes):
• নিউট্রোফিল (Neutrophil): রক্তে সর্বাধিক পরিমাণে থাকা শ্বেতরক্তকণিকা যা রক্তজালক ভেদ করে কলায় প্রবেশ করে (ডায়াপিডিসিস) জীবাণুকে গিলে ফেলে।
• ম্যাক্রোফাজ (Macrophage): রক্তের মনোসাইট কলায় প্রবেশ করে আকারে বড়ো হয়ে শক্তিশালী ম্যাক্রোফাজে রূপান্তরিত হয় এবং ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে মৃত কোষ ও প্যাথোজেন ভক্ষণ করে।

৩. প্রাকৃতিক ঘাতক কোষ (Natural Killer / NK Cell):
লিম্ফোসাইট জাতীয় বড়ো দানাদার কোষ যা কোনো পূর্ব উদ্দীপনা ছাড়াই সরাসরি ভাইরাস সংক্রামিত কোষ ও ক্যানসার কোষকে মেরে ফেলে।

৪. অ্যান্টিজেন উপস্থাপনকারী কোষ (Antigen Presenting Cell / APC):
ডেনড্রাইটিক কোষ ও ম্যাক্রোফাজ প্যাথোজেনকে ভেঙে তার অ্যান্টিজেনিক অংশ MHC অণুর মাধ্যমে T-কোষের কাছে প্রদর্শন করে সক্রিয় করে তোলে।
অনাক্রম্যতন্ত্রের কোষসমূহের শ্রেণিবিভাগ ডায়াগ্রাম
চিত্র ২: মানব অনাক্রম্যতন্ত্রের কোষীয় উপাদান, সহজাত ও অর্জিত অনাক্রম্যতার ফ্লোচার্ট
১০একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি অণুর রাসায়নিক গঠন ও কাজের বিশদ বিবরণ দাও। মান: ৫
উত্তর১. অ্যান্টিবডির আণবিক গঠন:
অ্যান্টিবডি হলো একটি জটিল গ্লাইকোপ্রোটিন (ইমিউনোগ্লোবিউলিন) যার আণবিক ভর প্রায় ১,৫০,০০০ ডালটন। এর প্রাথমিক রাসায়নিক সংকেত $H_2L_2$।
• পলিপেপটাইড শৃঙ্খল: এতে দুটি অভিন্ন ভারী শৃঙ্খল (H-chain, ~৪৪০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড) এবং দুটি অভিন্ন হালকা শৃঙ্খল (L-chain, ~২২০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড) থাকে।
• ডাইসালফাইড বন্ধন: শৃঙ্খলগুলি আন্তঃশৃঙ্খল এবং অন্তঃশৃঙ্খল সমযোজী ডাইসালফাইড (-S-S-) বন্ধন দ্বারা পরস্পর সংলগ্ন থাকে।
• অঞ্চল বিভাজন: প্রতিটি শৃঙ্খলের প্রান্তভাগে পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable Region) এবং পশ্চাৎভাগে স্থির অঞ্চল (Constant Region) থাকে। পরিবর্তনশীল অঞ্চলটি অ্যান্টিজেনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার প্যারাটোপ গঠন করে।

২. অ্যান্টিবডির প্রধান প্রধান কাজ:
১. অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): একাধিক অ্যান্টিবডি বহুজোযী অ্যান্টিজেনযুক্ত ব্যাকটেরিয়াগুলিকে পরস্পরের সাথে দানা বা গুচ্ছ বাঁধিয়ে নিশ্চল করে তোলে।
২. প্রশমন বা নিউট্রালাইজেশন (Neutralization): ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত টক্সিন বা ভাইরাসের রিসেপ্টরের সাথে অ্যান্টিবডি আবদ্ধ হয়ে তাদের বিষক্রিয়া ও কোষ সংক্রমণের ক্ষমতা বিনষ্ট করে।
৩. অপসোনাইজেশন (Opsonization): অ্যান্টিবডি জীবাণুর বহিরাবরণকে আবৃত করে ফেলে, ফলে ম্যাক্রোফাজ ও নিউট্রোফিল সহজেই জীবাণুকে চিনে ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে গিলে ফেলে।
৪. পরিপূরক তন্ত্র সক্রিয়করণ (Complement Activation): অ্যান্টিবডি-অ্যান্টিজেন যৌগ পরিপূরক প্রোটিনকে সক্রিয় করে জীবাণুর কোষঝিল্লিতে ছিদ্র করে জল প্রবেশ করিয়ে জীবাণুর অপমৃত্যু ঘটায় (লাইসিস)।
৫. মাতৃ অনাক্রম্যতা প্রদান: IgG অমরা পার হয়ে ভ্রূণকে এবং IgA মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে নবজাতককে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ দেয়।
১১B-লিম্ফোসাইট (B-কোষ) ও T-লিম্ফোসাইট (T-কোষ)-এর মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্যগুলি সারণির সাহায্যে লেখো। মান: ৫
উত্তরB-কোষ এবং T-কোষের প্রধান পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:
তুলনার বিষয় B-লিম্ফোসাইট (B-কোষ) T-লিম্ফোসাইট (T-কোষ)
১. পরিণতি লাভের স্থান অস্থিমজ্জায় (Bone Marrow) উৎপন্ন হয় এবং অস্থিমজ্জাতেই পরিণত হয় (পাখিদের ক্ষেত্রে বার্সা অব ফ্যাব্রিসিয়াস)। অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হলেও পরিণত হওয়ার জন্য বক্ষস্থিত থাইমাস গ্রন্থিতে (Thymus) গমন করে।
২. অনাক্রম্যতার প্রকার রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Humoral Immunity) গড়ে তোলে। কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Cell-Mediated Immunity) পরিচালনা করে।
৩. কাজের পদ্ধতি অ্যান্টিজেন উদ্দীপনায় প্লাজমা কোষে রূপান্তরিত হয়ে রক্তরসে অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে পরোক্ষভাবে কাজ করে। কোনো অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে না; সাইটোটক্সিন ক্ষরণ করে সরাসরি কোষীয় সংস্পর্শে জীবাণু ধ্বংস করে।
৪. রক্তে পরিমাণ রক্তের মোট লিম্ফোসাইটের প্রায় ১০% থেকে ২০% অংশ B-কোষ। রক্তের মোট লিম্ফোসাইটের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৭০% থেকে ৮০% অংশ T-কোষ।
৫. উপপ্রকারভেদ প্রধানত প্লাজমা কোষ এবং মেমরি B-কোষে বিভক্ত হয়। সহায়ক T (Th), সাইটোটক্সিক T (Tc), অবদমক T (Ts) ও মেমরি T কোষে বিভক্ত হয়।
৬. অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রত্যাখ্যান অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রত্যাহারে এর ভূমিকা গৌণ। অন্যের দেহ থেকে প্রতিস্থাপিত কিডনি বা অঙ্গ প্রত্যাখ্যানের (Graft Rejection) প্রধান হোতা T-কোষ।
১২টিকা (Vaccine) কাকে বলে? টিকাকরণ (Vaccination) কী? জনস্বাস্থ্যে টিকাকরণের অপরিসীম গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করো। মান: ১ + ১ + ৩
উত্তর১. টিকার সংজ্ঞা: নির্দিষ্ট কোনো সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে দেহে সক্রিয় কৃত্রিম অনাক্রম্যতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রয়োগকৃত কোনো মৃত, জীবিত অথচ শক্তিহীন (অ্যাটেনুয়েটেড) রোগজীবাণু বা তাদের নিষ্ক্রিয় বিষাক্ত টক্সয়েডকে টিকা বা ভ্যাকসিন (Vaccine) বলে।

২. টিকাকরণ কী: রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সুস্থ মানুষের দেহে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও বয়সে ইনজেকশন বা ড্রপ আকারে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination) বলে।

৩. জনস্বাস্থ্যে টিকাকরণের গুরুত্ব:
• মারাত্মক মহামারীর সমূলে বিনাশ: বিশ্বব্যাপী ব্যাপক টিকাকরণের ফলেই মানবজাতি গুটিবসন্ত (Smallpox) রোগটিকে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং পোলিও রোগ নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে।
• শিশু মৃত্যুহার হ্রাস: হাম, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস ও পোলিওর বিরুদ্ধে সার্বজনীন টিকাকরণের (Universal Immunization) ফলে বিশ্বজুড়ে শিশুমৃত্যুর হার লক্ষণীয়ভাবে কমেছে।
• গোষ্ঠী অনাক্রম্যতা (Herd Immunity) গঠন: সমাজের সিংহভাগ মানুষ টিকাপ্রাপ্ত হলে রোগজীবাণুর বিস্তার ব্যাহত হয়, ফলে যারা বিশেষ অসুস্থতার কারণে টিকা নিতে পারেনি তারাও পরোক্ষভাবে সুরক্ষা পায়।
• অর্থনৈতিক সাশ্রয়: রোগাক্রান্ত হয়ে ব্যয়বহুল হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার তুলনায় নামমাত্র মূল্যের প্রতিষেধক টিকা পরিবার ও রাষ্ট্রের বিশাল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি রোধ করে।
১৩মানবদেহের রোগ কত রকমের হয় তা ছকের সাহায্যে বিশদে বর্ণনা করো। মান: ৫
উত্তরউৎপত্তি, প্রকৃতি ও বিস্তারের ওপর ভিত্তি করে মানবদেহের রোগসমূহকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. জন্মগত রোগ (Congenital Diseases):
যেসব রোগ শিশুর জন্মের সময় থেকেই দেহে উপস্থিত থাকে এবং প্রধানত পিতামাতা থেকে প্রাপ্ত ক্রোমোজোমীয় অস্বাভাবিকতা বা জিনগত ত্রুটির কারণে ঘটে। এগুলি বংশানুক্রমিক ও অসংক্রামক।
• উদাহরণ: থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা, ডাউন সিন্ড্রোম।

২. অর্জিত রোগ (Acquired Diseases):
যেসব রোগ জন্মের সময় থাকে না, কিন্তু জন্মের পর জীবনের যেকোনো সময়ে পরিবেশগত প্রতিকূলতা, পুষ্টির অভাব বা জীবাণুর আক্রমণে ঘটে। এদের দুটি ভাগে ভাগ করা হয়—

(ক) সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ (Communicable Diseases):
বায়ু, জল, খাদ্য, রক্ত বা বাহক পতঙ্গের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে রোগজীবাণু প্রবেশ করে এই রোগ ছড়ায়—
• ব্যাকটেরিয়াঘটিত: যক্ষ্মা, কলেরা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড।
• ভাইরাসঘটিত: ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিও, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস, এইডস, জলাতঙ্ক।
• প্রোটোজোয়াঘটিত: ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, অ্যামিবিয়াসিস।
• ছত্রাকঘটিত: দাদ (Ringworm), অ্যাথলিট'স ফুট।
• কৃমিঘটিত: ফাইলেরিয়াসিস (গোদ), অ্যাসকারিয়াসিস।

(খ) অসংক্রামক রোগ (Non-communicable Diseases):
যেসব রোগ একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় না—
• অভাবজনিত: প্রোটিনের অভাবে কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস; ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি ও রিকেট।
• বিপাকীয় ও হরমোনঘটিত: ডায়াবেটিস মেলিটাস (ইনসুলিনের অভাব), গলগণ্ড (থাইরক্সিনের অভাব)।
• অবক্ষয়জনিত: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অস্টিওআর্থ্রাইটিস।
• অনিয়ন্ত্রিত কোষবিভাজন: ক্যানসার (কার্সিনোমা, লিউকেমিয়া)।
• অতিসংবেদনশীলতা: অ্যালার্জি ও হাঁপানি।
মানবদেহের বিভিন্ন রোগের শ্রেণিবিভাগ ছক
চিত্র ৩: মানবদেহের বিভিন্ন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ এবং তাদের প্যাথোজেনের শ্রেণিবিভাগ ছক
১৪নিউমোনিয়া এবং টিটেনাস রোগের প্রকৃতি, প্যাথোজেন, সংক্রমণ পদ্ধতি ও উপসর্গ সংক্ষেপে বর্ণনা করো। মান: ২.৫ + ২.৫
উত্তর(ক) নিউমোনিয়া (Pneumonia):
• রোগের প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: ফুসফুসের তীব্র সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। প্রধান প্যাথোজেন হলো Streptococcus pneumoniae (বা ডিপ্লোকক্কাস নিউমোনি) এবং Haemophilus influenzae।
• সংক্রমণ পদ্ধতি: আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির ড্রপলেট সুস্থ মানুষের শ্বাসপথে ঢুকলে রোগ ছড়ায়।
• উপসর্গ: ফুসফুসের অ্যালভিওলাইতে মিউকাস ও পুঁজ জমা হওয়ায় মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ও বুকের খাঁচায় তীব্র ব্যথা, কাশির সাথে মরিচা রঙের কফ নির্গমন, তীব্র জ্বর এবং অক্সিজেনের অভাবে ঠোঁট ও নখ নীলচে বর্ণ ধারণ করা (সায়ানোসিস)।

(খ) টিটেনাস (Tetanus / ধনুষ্টঙ্কার):
• রোগের প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: স্নায়ুতন্ত্র ও ঐচ্ছিক পেশির তীব্র মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। প্যাথোজেন হলো গ্রাম-পজিটিভ অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani।
• সংক্রমণ পদ্ধতি: রাস্তাঘাটের ধুলোবালি, গোবর বা মরচে-পড়া লোহা দ্বারা চামড়া কেটে গেলে সেই গভীর ক্ষতস্থান দিয়ে টিটেনাসের স্পোর দেহে ঢোকে এবং টিটানোস্প্যাজমিন নামক মারাত্মক নিউরোটক্সিন ক্ষরণ করে।
• উপসর্গ: চোয়ালের পেশি শক্ত হয়ে মুখ খুলতে না পারা (লক-জ বা Lock-jaw), গলার পেশি অনমনীয় হয়ে ঢোক গিলতে কষ্ট, পিঠের পেশি ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া এবং তীব্র আলো ও শব্দে সারা শরীরের পেশিতে অনিয়ন্ত্রিত আক্ষেপ ও খিঁচুনি হওয়া।
১৫হেপাটাইটিস-A, হেপাটাইটিস-B এবং AIDS রোগের প্রকৃতি, উপসর্গ ও সংক্রমণ পদ্ধতি বিস্তারিত আলোচনা করো। মান: ৫
উত্তর১. হেপাটাইটিস-A (ইনফেকশাস জন্ডিস):
• প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: এটি একটি তীব্র একসূত্রী RNA ভাইরাস হেপাটাইটিস-A ভাইরাস (HAV) ঘটিত যকৃতের সংক্রমণ।
• সংক্রমণ: দূষিত পানীয় জল, মাছি-বসা খাবার এবং আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে (মল-মুখীয় পথ বা Fecal-oral route) ছড়ায়।
• উপসর্গ: হালকা জ্বর, চরম ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব, পেটের ওপরের দিকে ব্যথা, ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাব। এটি সাধারণত স্থায়ী ক্ষতি না করে সেরে ওঠে।

২. হেপাটাইটিস-B (সিরাম জন্ডিস):
• প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: হেপাটাইটিস-B ভাইরাস (HBV — একটি দ্বিসূত্রী DNA ভাইরাস) ঘটিত মারাত্মক রক্তবাহিত দীর্ঘস্থায়ী যকৃতের রোগ।
• সংক্রমণ: সংক্রামিত রক্ত গ্রহণ, অপরীক্ষিত রক্ত ও ইনজেকশনের সূচ ব্যবহার, সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে অসুরক্ষিত শারীরিক মিলন এবং সন্তান প্রসবের সময় মায়ের থেকে সন্তানে।
• উপসর্গ: দীর্ঘস্থায়ী জন্ডিস, চরম ক্লান্তি, যকৃতে তীব্র প্রদাহ ও পরবর্তীকালে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসার হতে পারে।

৩. AIDS (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম):
• প্রকৃতি ও প্যাথোজেন: হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV — একটি রেট্রোভাইরাস) ঘটিত অনাক্রম্যতা বিনাশকারী অনিরাময়যোগ্য প্রাণঘাতী রোগ।
• সংক্রমণ: অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গ, সংক্রামিত রক্ত পরিসঞ্চালন, অপরীক্ষিত সূচ/ব্লেড ব্যবহার এবং আক্রান্ত গর্ভবতী মা থেকে গর্ভস্থ ভ্রূণ বা মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে।
• উপসর্গ: রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনবরত এক মাসের বেশি সময় জ্বর, দ্রুত মারাত্মক ওজন হ্রাস (১০% এর বেশি), একটানা ডায়ারিয়া, লসিকাগ্রন্থির অস্বাভাবিক স্ফীতি এবং বারবার সুবিধাবাদী সংক্রমণ (যেমন যক্ষ্মা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু)।

Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!