পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) নির্ধারিত নবম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয় পাঠ্যবইয়ের পঞ্চম অধ্যায়: 'পরিবেশ ও তার সম্পদ' (Environment and its Resources)-এর পাঠ্যবই অনুশীলনী (পৃষ্ঠা ১৪৭, ১৪৮ ও ১৪৯)-র সমস্ত প্রশ্নোত্তরের নিখুঁত ও সহজবোধ্য সমাধান এখানে উপস্থাপিত করা হলো।
বাস্তুবিদ্যা (Ecology), বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহ, খাদ্যশৃঙ্খল, খাদ্যজাল, খাদ্য পিরামিড, লিন্ডেম্যানের ১০% সূত্র, জীবসম্প্রদায়ের মিথস্ক্রিয়া (কমেনসালিজম, মিউচুয়ালিজম, পরজীবিতা), বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ (জল, অরণ্য, খনিজ ও শক্তি সম্পদ), শক্তি সংকট ও তার সংরক্ষণ, এবং বিকল্প খাদ্য উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার উপযোগী করে পরিচ্ছন্ন ডায়াগ্রাম সহযোগে আলোচনা করা হয়েছে।
১নিম্নলিখিত কোনটি মরুজ উদ্ভিদ?V.V.I
ব্যাখ্যা: ফণীমনসা (Opuntia) শুষ্ক মরু পরিবেশে জল সংরক্ষণের জন্য পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত করে এবং কাণ্ড রসাল ও সবুজ (পর্ণকাণ্ড) হয়।
২কোনটি মরুজ প্রাণী?
Aটার্কি ভালচার
Bকুমির
Cঈগল
Dগোসাপ
ব্যাখ্যা: টার্কি ভালচার মরুভূমির তীব্র তাপদাহ ও শুষ্ক পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন (ইউরোহাইড্রোসিস) প্রদর্শন করে।
৩নিম্নলিখিত কোনটি অন্তঃপরজীবী?V.V.I
Aমাইট
Bফ্লু
Cটিনিয়া
Dটিকম
ব্যাখ্যা: টিনিয়া বা ফিতাকৃমি (Taenia solium) পোষক মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্রের অভ্যন্তরে বসবাসকারী একটি আদর্শ অন্তঃপরজীবী।
৪পুনঃস্থাপন অযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ কোনটি?V.V.I
Aপ্রাকৃতিক গ্যাস
Bবন
Cফসল
Dমাটি
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক গ্যাস একটি জীবাশ্ম জ্বালানি ও অপুনর্ভব (অপ্রাকৃতিক পুনঃস্থাপনহীন) গচ্ছিত সম্পদ, যা একবার নিঃশেষিত হলে আর সহজে তৈরি হয় না।
৫নিম্নলিখিত কোন শৈবাল প্রোটিনযুক্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়?V.V.I
Aকারা
Bভলভক্স
Cক্লোরেল্লা
Dস্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা: ক্লোরেল্লা (Chlorella) এককোষী সবুজ শৈবাল যা উচ্চ প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় মহাকাশচারীদের বিকল্প খাদ্য ও SCP (Single Cell Protein) রূপে ব্যবহৃত হয়।
৬কোনটির মধ্যে শক্তি রাসায়নিক শক্তিরূপে সঞ্চিত থাকে?
Aকয়লা
Bখনিজ তেল
Cরাসায়নিক সার
Dপ্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা: উদ্ভিদদেহের সৌরশক্তি কোটি কোটি বছর ধরে ভূগর্ভের তাপ ও চাপে রাসায়নিক স্থৈতিক শক্তিরূপে কয়লার মধ্যে সঞ্চিত থাকে।
৭উজ্জ্বল আলোতে ভালো জন্মায় এমন উদ্ভিদের বলে—V.V.I
Aহেলিওফাইট
Bস্যামোফাইট
Cসিওফাইট
Dলিসোফাইট
ব্যাখ্যা: উজ্জ্বল সূর্যালোক পছন্দকারী উদ্ভিদের হেলিওফাইট (Heliophytes বা সান প্ল্যান্ট) বলে; যেমন—সূর্যমুখী, আম, বট ইত্যাদি।
৮জলজ বাস্তুতন্ত্রে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন হল—V.V.I
Aউৎপাদক
Bবিয়োজক
Cপ্রাথমিক খাদক
Dগৌণ খাদক
ব্যাখ্যা: জলে ভাসমান আণুবীক্ষণিক সালোকসংশ্লেষকারী উদ্ভিদ বা শৈবালদের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বলে; এরা জলজ বাস্তুতন্ত্রের প্রধান উৎপাদক।
৯যেসব প্রাণী জলের তলদেশে বসবাস করে তাদের বলে—V.V.I
Aফ্লোরা
Bফনা
Cবেনথস
Dনেকটন
ব্যাখ্যা: জলাশয় বা সমুদ্রের তলদেশে বসবাসকারী প্রাণীদের বেনথস (Benthos) বলে; যেমন—শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি।
১০জলের তলায় থিতিয়ে পড়া পচনশীল জৈব পদার্থকে বলে—V.V.I
Aডেট্রিটাস
Bউৎপাদক
Cপরিবর্তক
Dবিয়োজক
ব্যাখ্যা: মৃত জীবদেহ ও জৈব বর্জ্য ভেঙে জলের তলায় তলানি হিসেবে জমা হওয়া পচনশীল কণিকাকে ডেট্রিটাস (Detritus) বলে।
১১বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য পিরামিডের ভূমিতে থাকে—V.V.I
Aবিয়োজক
Bগৌণ খাদক
Cখাদক
Dউৎপাদক
ব্যাখ্যা: খাদ্য পিরামিডের প্রথম পুষ্টিস্তর (T1) বা ভিত্তিভূমিতে সর্বদা উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ) অবস্থান করে, কারণ তাদের সংখ্যা ও শক্তি সর্বাধিক।
১২পপুলেশন ঘনত্ব কম হলে জন্মহার—
Aবেশি হবে
Bকম হবে
Cকোনো পরিবর্তনই হবে না
Dসমান থাকবে
ব্যাখ্যা: পপুলেশনের ঘনত্ব কম থাকলে খাদ্য ও বাসস্থানের প্রাচুর্য থাকে এবং আন্তঃপ্রজাতি প্রতিযোগিতা কম হয়, ফলে জন্মহার বৃদ্ধি পায়।
১৩সর্বোচ্চ কোন তাপমাত্রায় জীব স্বাভাবিক জীবনক্রিয়া করতে পারে?
A40°C–45°C
B45°C–50°C
C50°C–55°C
D40°C–60°C
ব্যাখ্যা: অধিকাংশ জীবের জৈবিক উৎসেচক বা এনজাইম 40°C–45°C তাপমাত্রার উপরে বিনষ্ট (denature) হয়ে যায়, তাই স্বাভাবিক জীবনক্রিয়ার উচ্চসীমা প্রায় 40°C–45°C।
১৪তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খলে প্রাথমিক খাদকটি হল—V.V.I
Aহরিণ
Bপতঙ্গের লার্ভা
Cঘাসফড়িং
Dশুকর
ব্যাখ্যা: ঘাস (উৎপাদক) -> ঘাসফড়িং (প্রাথমিক খাদক) -> ব্যাঙ (গৌণ খাদক) -> সাপ (প্রগৌণ খাদক)।
১৫পৃথিবীতে বিকিরিত সূর্যালোকের কত শতাংশ সবুজ উদ্ভিদ কর্তৃক শোষিত হয়?V.V.I
ব্যাখ্যা: পৃথিবীপৃষ্ঠে আপতিত সৌরশক্তির মাত্র প্রায় ১% থেকে ২% (বা ০.০২ অংশ) সালোকসংশ্লেষের জন্য সবুজ উদ্ভিদ দ্বারা শোষিত ও আবদ্ধ হয়।
১৬পুনঃস্থাপন অযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদটি হল—V.V.I
Aকয়লা
Bমৃত্তিকা
Cবন
Dফসল
ব্যাখ্যা: কয়লা একটি সীমিত খনিজ সম্পদ, যা ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং মানুষের জীবৎকালে পুনরুৎপাদন সম্ভব নয়।
১৭আমাদের দেশে কৃষিজ জমির কত ভাগ জমিতে ধান, গম, যব, জোয়ার ইত্যাদি চাষ করা হয়?
ব্যাখ্যা: ভারতের মোট আবাদযোগ্য কৃষিজমির প্রায় ৭৫ শতাংশ অংশ খাদ্যশস্য (দানাশস্য) উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
১৮মানুষ দৈহিক প্রয়োজনে কত শতাংশ প্রোটিন প্রাণীজ প্রোটিন থেকে সংগ্রহ করে?
ব্যাখ্যা: মানুষ তার দেহের প্রোটিনের চাহিদার একটি প্রধান অংশ (প্রায় ৬০%) দুধ, মাছ, ডিম, মাংস ইত্যাদি প্রাণীজ খাদ্য থেকে গ্রহণ করে।
১৯পেট্রোরসায়নিক শিল্পে কোনটি ব্যবহৃত হয়?V.V.I
Aকয়লা
Bলোহা
Cখনিজ তেল
Dরাসায়নিক সার
ব্যাখ্যা: পেট্রোরসায়নিক শিল্পের (Petrochemical industry) প্রধান কাঁচামাল হলো অপরিশোধিত খনিজ তেল (পেট্রোলিয়াম ও তার উপজাত উপাদান)।
২০কোন ছত্রাকের মিশ্র কালচার থেকে নিষ্কাশিত প্রোটিন পশুদের বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়?V.V.I
Aরাইজোপাস
Bইস্ট
Cঅ্যাগারিকাস
Dঅ্যাসকোবোলাস
ব্যাখ্যা: ইস্ট (Saccharomyces cerevisiae) ছত্রাক কালচার থেকে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন একক কোষ প্রোটিন (SCP) নিষ্কাশন করে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২১বায়ুর গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে কোন শক্তি উৎপন্ন করা হয়?
Aসৌরশক্তি
Bবায়ুশক্তি
Cপারমাণবিক শক্তি
Dজলবিদ্যুৎ শক্তি
ব্যাখ্যা: বায়ুর গতিশক্তিকে উইন্ডমিলের টারবাইনের মাধ্যমে যান্ত্রিক ও তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে বায়ুশক্তি উৎপন্ন হয়।
২২কোনটি প্রোটিন সরবরাহকারী প্রাণী?
Aক্লোরেল্লা
Bমসুর
Cপালং
Dমাছ
ব্যাখ্যা: ক্লোরেল্লা, মসুর ও পালং উদ্ভিজ্জ বা শৈবালজাত উৎস; মাছ হলো উৎকৃষ্ট প্রথম শ্রেণির প্রাণীজ প্রোটিনের উৎস।
২৩কোনটি দেশি পোনা?V.V.I
Aরজত রুই
Bঘেসো রুই
Cকাতলা
Dআমেরিকান রুই
ব্যাখ্যা: রুই, কাতলা ও মৃগেল হলো ভারতের প্রধান দেশি কার্প (Major carp); অন্যদিকে সিলভার কার্প (রজত রুই) ও গ্রাস কার্প (ঘেসো রুই) বিদেশি প্রজাতি।
২৪পৃথিবীতে মোট ব্যবহারযোগ্য জলের পরিমাণ—V.V.I
A97.2%
B0.62%
C2.8%
D2.15%
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর মোট জলের ৯৭.২% সমুদ্রের লবণাক্ত জল এবং ২.৮% মিষ্টি জল। এই মিষ্টি জলের সিংহভাগ বরফে আটকে থাকায় সহজে ব্যবহারযোগ্য মিঠাজলের পরিমাণ মাত্র প্রায় ০.৬২%।
২৫জলের তলায় থিতিয়ে পড়া পচনশীল জৈব পদার্থকে বলে—
Aডেট্রিটাস
Bউৎপাদক
Cপরিবর্তক
Dবিয়োজক
ব্যাখ্যা: জলাশয়ের তলদেশে সঞ্চিত মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষয়িষ্ণু জৈব চূর্ণকে ডেট্রিটাস বলা হয়।
২৬বাস্তুতন্ত্রে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ?V.V.I
Aউৎপাদক
Bপ্রাথমিক খাদক
Cখাদক
Dবিয়োজক
ব্যাখ্যা: একটি সুস্থ ও সুষম বাস্তুতন্ত্রের সংখ্যার পিরামিডে উৎপাদকদের (সবুজ উদ্ভিদ/ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন) সংখ্যা সর্বদা খাদকদের চেয়ে সর্বাধিক হয়।
২৭একটি নির্দিষ্ট জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত জীবসম্প্রদায়কে বলে—V.V.I
Aইকোলজিক্যাল নিচ
Bবায়োস্ফিয়ার
Cবায়োম
Dবায়োমাস
ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট জলবায়ু দ্বারা নির্ধারিত বৃহত্তম জীবসম্প্রদায়কে বায়োম (Biome) বলে; যেমন—তুন্দ্রা, তৈগা, মরু বায়োম।
২৮বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য পিরামিডের ভূমিতে থাকে—V.V.I
Aবিয়োজক
Bগৌণ খাদক
Cখাদক
Dউৎপাদক
ব্যাখ্যা: খাদ্য পিরামিডের ভূমি সর্বদাই উৎপাদক জীবদের দ্বারা গঠিত হয়।
১দুটি পুনঃস্থাপনযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদের নাম লেখো।
উত্তরবন ও সৌরশক্তি (অথবা জল ও বায়ুশক্তি)।
২খাদ্য সম্পদ বলতে কোন্ প্রকার খাদ্যকে বোঝায়?
উত্তরউদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে প্রাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান যা জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি ও ক্ষয়পূরণ ঘটায়।
৩বায়ুশক্তি কী?
উত্তরপ্রবাহিত বায়ুর গতিশক্তিকে উইন্ডমিলের টারবাইনের মাধ্যমে যান্ত্রিক বা তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে প্রাপ্ত শক্তিকে বায়ুশক্তি বলে।
৪বাস্তুবিদ্যা কী?
উত্তরবিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশের সজীব ও অজীব উপাদানগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক ও আন্তঃক্রিয়া আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা (Ecology) বলে।
৫দুটি মরুজ উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তরফণীমনসা (Opuntia) ও বাবলা (Acacia)।
৬দুটি অন্তঃপরজীবীর নাম লেখো।
উত্তরফিতাকৃমি (Taenia solium) ও গোলকৃমি (Ascaris lumbricoides)।
৭খাদ্যশৃঙ্খলের একটি বাস্তব উদাহরণ দাও।
উত্তরঘাস (উৎপাদক) → ঘাসফড়িং (প্রাথমিক খাদক) → ব্যাঙ (গৌণ খাদক) → সাপ (প্রগৌণ খাদক) → বাজপাখি (সর্বোচ্চ খাদক)।
৮ফণীমনসার মূল কী কারণে দীর্ঘ হয়?
উত্তরমরু অঞ্চলের মাটির বহু নিচে থাকা জলের সন্ধান ও সংগ্রহের জন্য মূল অত্যন্ত দীর্ঘ ও সুগঠিত হয়।
৯মরুজ মরুভূমির প্রাণীদের তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য চামড়ার নীচে কী থাকে?
উত্তরপুরু তাপনিরোধক চর্বি বা মেদস্তর থাকে এবং ত্বকে ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা অত্যন্ত কম থাকে।
১০ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণীরা দুপুরের সূর্যের তেজ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কী কৌশল অবলম্বন করে?
উত্তরমাটির নিচে গভীর ঠান্ডা গর্তে (Burrow) আশ্রয় গ্রহণ করে এবং তারা প্রধানত নিশাচর স্বভাবযুক্ত হয়।
১১কোন্ বিজ্ঞানী পপুলেশনের বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা দিয়েছেন?
উত্তরবিজ্ঞানী ওডাম (E. P. Odum) এবং বিজ্ঞানী ক্লার্ক (G. L. Clarke)।
১২পপুলেশনের ঘনত্ব খুব বেড়ে গেলে জন্মহার কীরূপ হবে?
উত্তরস্থান ও খাদ্যের অভাব এবং তীব্র প্রতিযোগিতার ফলে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
১৩খাদ্য-খাদক সম্পর্কে উৎপাদকদের গ্রাস করে কারা?
উত্তরপ্রাথমিক খাদক বা তৃণভোজী প্রাণীরা (Herbivores)।
১৪কোন্ ধরনের জীবের মধ্যে সহযোগিতা বা মিথোজীবিতা দেখা যায়?
উত্তরদুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে পরস্পরের উপর নির্ভরশীলতা ও উভয়ের উপকারের ভিত্তিতে (যেমন শিম্বজাতীয় উদ্ভিদ ও রাইজোবিয়াম)।
১৫বাস্তুতন্ত্রের দুটি জীবজ শর্তের উদাহরণ দাও।
উত্তরউৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ) এবং খাদক (প্রাণী)।
১৬আলো কোন্ প্রক্রিয়ার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তরসালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে।
১৭সবুজ উদ্ভিদ কীসের সাহায্যে সূর্যালোক শোষণ করে?
উত্তরপাতার কোষে উপস্থিত ক্লোরোফিল রঞ্জকের সাহায্যে।
১৮রাইজোবিয়াম কোথায় বসবাস করে?
উত্তরমটর বা ছোলা প্রভৃতি শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলের অর্বুদে (Root nodules)।
১৯খাদ্যশৃঙ্খলে সামগ্রিক শক্তির প্রধান উৎস কী?
উত্তরসূর্যালোক বা সৌরশক্তি।
২০যখন উৎপাদক ও বিভিন্ন খাদক পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হয় তখন তাকে কী বলে?
উত্তরখাদ্যশৃঙ্খল (Food chain) এবং একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পর জালের মতো যুক্ত হলে খাদ্যজাল (Food web) বলে।
২১জল সম্পদের অতিব্যবহারের একটি মারাত্মক কুফল উল্লেখ করো।
উত্তরভূগর্ভস্থ জলস্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং পানীয় জলে বিষাক্ত আর্সেনিক ও ফ্লুরাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া।
২২জল সংরক্ষণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় উল্লেখ করো।
উত্তর(i) বৃষ্টির জল ধরে রাখা (Rainwater Harvesting) এবং (ii) জলের অপচয় বন্ধ করা ও বর্জ্য জলের পরিশোধন করে পুনঃব্যবহার।
২৩প্রোটিনের বিকল্প খাদ্য কী?
উত্তরএকক কোষ প্রোটিন বা SCP (যেমন স্পাইরুলিনা, ক্লোরেল্লা এবং খাদ্যোপযোগী ইস্ট)।
২৪কয়লা দহন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনকালে কী পরিমাণ শক্তি নষ্ট হয়?
উত্তরপ্রায় ৬০% থেকে ৬৫% তাপীয় শক্তি অপচয় হয়।
২৫বাড়িতে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য টিউব লাইট, বাল্ব-এর বদলে কী ব্যবহার করা উচিত?
উত্তরসাশ্রয়ী LED (Light Emitting Diode) বাল্ব বা টিউব।
২৬ভারতে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন করা হয় কী থেকে?
উত্তরকয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে।
২৭ভারতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে মোট কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
উত্তরপ্রায় ৭,৪৮০ মেগাওয়াট (MW)।
২৮বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারতে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
উত্তরপ্রায় ৪২,০০০+ মেগাওয়াট (MW)।
২৯রান্নার জন্য সৌরশক্তিকে কিরূপে ব্যবহার করা হয়?
উত্তরসোলার কুকার (Solar Cooker) যন্ত্রের মাধ্যমে।
৩০সোলার ড্রায়ার কী কাজে লাগে?
উত্তরকৃষিজ ফসল, শাকসবজি, ফল, চা-পাতা ও মাছ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জীবাণুমুক্ত উপায়ে দ্রুত শুকানোর জন্য।
৩১প্রাণীদেহে জলের একটি অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
উত্তররক্ত সংবহন, পরিপাক ও বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে নিষ্কাশনে জল অপরিহার্য।
৩২উদ্ভিদদেহে জলের একটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
উত্তরসালোকসংশ্লেষের কাঁচামাল হিসেবে এবং খনিজ পুষ্টি উপাদান কাণ্ড ও পাতায় পরিবহনের জন্য।
৩৩উদ্ভিদের বিস্তার রীতিকে প্রভাবিত করে এমন একটি পরিবেশগত শর্তের উদাহরণ দাও।
উত্তরআলোকপ্রাপ্তির সময়কাল বা দিবাদৈর্ঘ্য (Photoperiodism) এবং তাপমাত্রা।
৩৪যেসব জীব নিজেদের খাদ্য নিজেরাই সংশ্লেষ করতে পারে, তাদের কী বলে?
উত্তরস্বভোজী জীব বা উৎপাদক (Autotrophs)।
৩৫যেসব পরভোজী সরাসরি উৎপাদকদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের কী বলে?
উত্তরপ্রাথমিক খাদক বা তৃণভোজী প্রাণী (Herbivores)।
১_________ পোড়ালে রাসায়নিক শক্তির তাপশক্তিতে রূপান্তর ঘটে।
উত্তরকয়লা / জীবাশ্ম জ্বালানি
২বায়ুর গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে _________ উৎপন্ন করা হয়।
উত্তরবায়ুবিদ্যুৎ / তড়িৎশক্তি
৩_________ হল একপ্রকার পুনঃস্থাপনযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
৪_________ পোষক দেহের অভ্যন্তরে বাস করে।
৫জীবসম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক জৈব ও প্রাকৃতিক অবস্থাকে _________ বলে।
উত্তরপরিবেশ (Environment)
৬ফণীমনসা গাছের _________ কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে।
৭যেসব উদ্ভিদ কম আলোর ছায়াবৃত পরিবেশে জন্মায়, তাদের _________ বলে।
উত্তরসিওফাইট (Sciophytes / ছায়াপ্রিয় উদ্ভিদ)
৮সন্ন্যাসী কাঁকড়া ও _________-এর মধ্যে কো-অপারেশন দেখা যায়।
উত্তরসাগরকুসুম (Sea anemone)
৯_________ একটি সালোকসংশ্লেষকারী ব্যাকটেরিয়া।
উত্তররোডোস্পাইরিলাম / রোডোসিউডোমোনাস
১০বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ সর্বদা _________।
উত্তরএকমুখী (Unidirectional)
১১বাস্তুতন্ত্রে মাত্র _________ শতাংশ শক্তি পরবর্তী পুষ্টিস্তরে পৌঁছায়।
১২পৃথিবীর সকল বায়োমকে একত্রে _________ বলে।
উত্তরজীবমণ্ডল (Biosphere)
১৩পৃথিবীর সমগ্র জলের _________ শতাংশ পানযোগ্য মিষ্টিজল।
উত্তরপ্রায় ২.৮ (সহজলভ্য প্রায় ০.৬২)
১৪বাস্তুতন্ত্রের যে উপাদান জটিল যৌগকে সরল জৈব যৌগে পরিণত করে তাকে _________ বলে।
উত্তরবিয়োজক (Decomposer)
১৫যেসব উদ্ভিদের সংকটকালীন দিবা-দৈর্ঘ্যের তুলনায় বেশি আলোতে ফুল ফোটে, তাদের _________ উদ্ভিদ বলে।
উত্তরদীর্ঘদিবা (Long-day)
১৬ব্যাঙ _________ শ্রেণির খাদক।
উত্তরগৌণ (Secondary consumer)
১৭_________ খাদকেরা সরাসরি উদ্ভিদের থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।
১৮বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহ _________ হয়।
১৯খাদ্যশৃঙ্খলের সাংগঠনিক একককে _________ বলে।
উত্তরপুষ্টিস্তর বা ট্রফিক স্তর (Trophic level)
২০_________ একপ্রকার জঙ্গল উদ্ভিদ।
২১পেট্রোলের সঞ্চিত শক্তির _________ যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে গাড়ি চলে।
২২প্রাণীজ প্রোটিনের বেশিরভাগটা _________ থেকে আসে।
উত্তরমাছ, মাংস, ডিম ও দুধ
২৩বর্তমানে আমাদের দেশে _________ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে।
উত্তর৭ টি (২২টি চুল্লি বিশিষ্ট)
২৪ভারতে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় _________ থেকে।
উত্তরকয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ
১লেগুমিনোসি উদ্ভিদের মূলে অর্বুদ সৃষ্টিকারী রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার মিথোজীবিত্ব লক্ষ করা যায়।
২বিশ্ব পরিবেশ দিবস 5 মার্চ।
সঠিক উত্তর: প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়।
৩মোট শক্তির 90% দেহগঠনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: মোট শক্তির মাত্র ১০% পরবর্তী পুষ্টিস্তরে দেহগঠনে সঞ্চিত হয়, বাকি ৯০% জৈবিক কাজ ও তাপরূপে অপচয় হয়।
৪পেট্রোলিয়াম একপ্রকার পুনঃস্থাপনযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
সঠিক উত্তর: পেট্রোলিয়াম একটি অপুনর্ভব বা পুনঃস্থাপন অযোগ্য গচ্ছিত সম্পদ।
৫স্পাইরুলিনা প্রোটিনযুক্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৬দশ শতাংশ (10% law) সূত্রের প্রবক্তা বিজ্ঞানী হেকেল।
সঠিক উত্তর: ১০% সূত্রের প্রবক্তা বিজ্ঞানী রেমন্ড লিন্ডেম্যান (১৯৪২)।
৭যেসব উদ্ভিদ উচ্চ তাপমাত্রা অঞ্চলে বসবাস করে তাদের বলে মেগাথারমস।
৮বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন।
৯ছত্রাক একপ্রকার রূপান্তরক।
১০ঘাস → হরিণ → বাঘ, এটি তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খল।
১১পুকুরের খাদ্য শৃঙ্খল জুপ্ল্যাঙ্কটন থেকে শুরু হয়।
সঠিক উত্তর: পুকুরের খাদ্যশৃঙ্খল উৎপাদক অর্থাৎ ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বা জলজ উদ্ভিদ থেকে শুরু হয়।
১২হেলিওফাইটদের পাতা ছোটো, পুরু কিউটিকলযুক্ত ও নিবেশিত পত্ররন্ধ্র দেখা যায়।
সঠিক উত্তর: এগুলি জেরোফাইট (মরুজ উদ্ভিদের) অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য।
১৪পরজীবী ও পোষকের আন্তঃক্রিয়া হল পরজীবিতা।
১৫বিচ্ছুরিত সৌরশক্তির 500 লক্ষ ভাগের মাত্র একভাগ সূর্যালোক হিসেবে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
সঠিক উত্তর: সূর্যের মোট বিকিরিত শক্তির প্রায় ২০০ কোটি ভাগের এক ভাগ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।
১৬পৃথিবীতে ব্যবহৃত জলের 22 শতাংশ শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
১৭বিজ্ঞানী লিন্ডেম্যান-এর দশ শতাংশ সূত্র অনুযায়ী প্রতিস্তরে যে শক্তি এসে পৌঁছায় তার 90% পরবর্তী স্তরে পৌঁছায়।
সঠিক উত্তর: মাত্র ১০% শক্তি পরবর্তী স্তরে পৌঁছায় এবং ৯০% শক্তি অপচয় হয়।
১৮সূর্যালোক হল বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান।
১৯হেলিওফাইটস উদ্ভিদের অপর নাম শেড প্ল্যান্ট।
সঠিক উত্তর: হেলিওফাইট হলো সান প্ল্যান্ট (আলোকপ্রিয়), সিওফাইট হলো শেড প্ল্যান্ট (ছায়াপ্রিয়)।
২০যেসব প্রাণীরা মরু অঞ্চলের শুষ্ক পরিবেশে বসবাস করে, তাদের ত্বকে ঘর্মগ্রন্থি বেশি থাকে।
সঠিক উত্তর: মরু অঞ্চলের প্রাণীদের ত্বকে ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা কম থাকে যাতে জলহ্রাস রোধ হয়।
২১খাদ্য সম্পদ বলতে শুধুমাত্র প্রাণীজ খাদ্যকেই বোঝায়।
সঠিক উত্তর: খাদ্য সম্পদ উদ্ভিদজ ও প্রাণীজ উভয় প্রকার পুষ্টিকর খাদ্যকেই নির্দেশ করে।
২২কয়লার মধ্যে শক্তি স্থৈতিক শক্তিরূপে সঞ্চিত থাকে।
২৩পারমাণবিক শক্তি পদার্থের পরমাণু থেকে উৎপন্ন করা হয়।
২৪পেট্রোলিয়াম যান্ত্রিক শক্তি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
২৫পৃথিবীর তিনভাগ জলের 50% জল লবণাক্ত।
সঠিক উত্তর: পৃথিবীর মোট জলের প্রায় ৯৭.২% জল লবণাক্ত।
২৬গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল শুরু হয় সবুজ উদ্ভিদ থেকে।
২৭গোবর গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
২৮CFL-এর সম্পূর্ণ নাম কম্প্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প।
১প্রবাসন : পপুলেশন হ্রাস :: অভিবাসন : _________
প্রবাসন (Emigration) ঘটলে পপুলেশনের সংখ্যা কমে, আর অভিবাসন (Immigration) ঘটলে পপুলেশনে নতুন জীবের আগমনে সংখ্যা বাড়ে।
২মিনামাটা : পারদ :: ডিসলেক্সিয়া : _________
পারদ ঘটিত বিষক্রিয়ায় মিনামাটা রোগ হয় এবং সীসা ঘটিত বিষক্রিয়ায় ডিসলেক্সিয়া ও মানসিক বিকাশজনিত সমস্যা হয়।
৩সন্ন্যাসী কাঁকড়া : সাগর কুসুম :: চোষক মাছ : _________
সন্ন্যাসী কাঁকড়া ও সাগরকুসুমের সম্পর্ক হলো প্রোটোকো-অপারেশন; তেমনি চোষক মাছ (রিমোরা) হাঙরের গায়ে চুষক দিয়ে আটকে থেকে কমেনসালিজম পুষ্টি লাভ করে।
১সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, পারমাণবিক শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রাকৃতিক গ্যাস একটি চিরাচরিত জীবাশ্ম জ্বালানি ও ক্ষয়িষ্ণু অনবীকরণযোগ্য শক্তি; অপরপক্ষে বাকিগুলি অপ্রচলিত বা বিকল্প শক্তি উৎস।
২কয়লা, জ্বালানি কাঠ, পেট্রোলিয়াম, LPG।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: জ্বালানি কাঠ
জ্বালানি কাঠ হলো নবীকরণযোগ্য জৈববস্তু (Biomass); বাকি তিনটি কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও LPG হলো জীবাশ্ম জ্বালানি।
৩রুই, কাতলা, রজত রুই, মৃগেল।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: রজত রুই (সিলভার কার্প)
রজত রুই হলো বিদেশি কার্প (Exotic carp); অপরপক্ষে রুই, কাতলা ও মৃগেল হলো ভারতের খাঁটি দেশি মেজর কার্প।
৪ইস্ট, ক্লোরেল্লা, স্পাইরুলিনা, স্পাইরোগাইরা।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: স্পাইরোগাইরা
ইস্ট, ক্লোরেল্লা ও স্পাইরুলিনা উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন একক কোষ প্রোটিন (SCP) বা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, স্পাইরোগাইরা ব্যবহৃত হয় না।
৫গোরু, ছাগল, কুকুর, হরিণ।
কুকুর হলো মাংসাশী/সর্বভুক প্রাণী (গৌণ খাদক); বাকি তিনটি (গোরু, ছাগল, হরিণ) হলো খাঁটি তৃণভোজী প্রাথমিক খাদক।
৬এন্টামিবা, অ্যাসকারিস, টিনিয়া, মাইট।
মাইট হলো একটি বহিঃপরজীবী (ত্বকের বাইরে থাকে); বাকি তিনটি (এন্টামিবা, অ্যাসকারিস, টিনিয়া) মানবদেহের অভ্যন্তরে বসবাসকারী অন্তঃপরজীবী।
৭উট, বিটল, মোলোক হরিদাস, তিমি।
তিমি হলো সামুদ্রিক জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী; অপর তিনটি (উট, বিটল, মোলোক হরিদাস) চরম মরুভূমির শুষ্ক পরিবেশে অভিযোজিত প্রাণী।
৮খাদ্য জাল, খাদ্য শৃঙ্খল, শক্তিপ্রবাহ, পপুলেশন।
উত্তরবিসদৃশ শব্দ: পপুলেশন
পপুলেশন হলো নির্দিষ্ট প্রজাতির জীবসমষ্টির একক; অন্য তিনটি হলো বাস্তুতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ শক্তি সঞ্চালন ও আন্তঃক্রিয়ার প্রক্রিয়াগত উপাদান।
১জলাশয় খনন, বাঁধ প্রকল্প, জলসংরক্ষণ, জলের অপচয় রোধ।
উত্তরসাধারণ অন্তর্গত বিষয়: জলসংরক্ষণ
জলাশয় খনন, বাঁধ নির্মাণ ও অপচয় রোধ—এই সমস্ত পদক্ষেপই জলসংরক্ষণের বিভিন্ন ব্যবহারিক কৌশল।
২শ্বাসমূল, ঠেসমূল, হ্যালোফাইট, জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
উত্তরসাধারণ অন্তর্গত বিষয়: হ্যালোফাইট (লবণাম্বু উদ্ভিদ)
শ্বাসমূল, ঠেসমূল এবং জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হলো সুন্দরবনের হ্যালোফাইট বা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের তিনটি প্রধান অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য।
৩জন্মহার, মৃত্যুহার, পপুলেশনের আকার, পরিযান।
উত্তরসাধারণ অন্তর্গত বিষয়: পপুলেশনের আকার (বা পপুলেশন বৈশিষ্ট্য)
জন্মহার, মৃত্যুহার ও পরিযান (অভিবাসন/প্রবাসন)—এই তিনটি নিয়ামক সম্মিলিতভাবে একটি পপুলেশনের আকার নির্ধারণ করে।
৪ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া, বিয়োজক।
উত্তরসাধারণ অন্তর্গত বিষয়: বিয়োজক (Decomposer)
ব্যাকটেরিয়া ও বিভিন্ন ছত্রাক বাস্তুতন্ত্রে মৃত জৈব বস্তুকে পচিয়ে বিশ্লিষ্টকারী বিয়োজকের ভূমিকা পালন করে।
স্তম্ভ মিল (১)
| বাম স্তম্ভ |
ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল) |
| i. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম | → c. রাইজোফোরা |
| ii. জেরোফাইট | → a. ফণীমনসা |
| iii. দশ শতাংশ সূত্র | → e. লিন্ডেম্যান |
| iv. অপ্রচলিত শক্তি | → b. সৌরশক্তি |
অতিরিক্ত পদ: d. স্বর্ণলতা
স্তম্ভ মিল (২)
| বাম স্তম্ভ |
ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল) |
| i. গৌণ খাদক | → b. ব্যাঙ |
| ii. প্রগৌণ খাদক | → c. বাঘ |
| iii. প্রাথমিক খাদক | → a. হরিণ |
| iv. বিয়োজক | → d. ব্যাসিলাস |
অতিরিক্ত পদ: e. ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন
স্তম্ভ মিল (৩)
| বাম স্তম্ভ |
ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল) |
| i. বন | → c. পুনঃস্থাপনযোগ্য |
| ii. ইস্ট | → b. ভোজ্য মাশরুম (বা মানুষের বিকল্প খাদ্য) |
| iii. কয়লা | → a. পুনঃস্থাপন অযোগ্য |
| iv. প্রোটিন সমৃদ্ধ | → d. স্পাইরুলিনা |
অতিরিক্ত পদ: e. মানুষের বিকল্প খাদ্য
স্তম্ভ মিল (৪)
| বাম স্তম্ভ |
ডান স্তম্ভ (সঠিক মিল) |
| i. শাহিওয়াল | → d. দুগ্ধপ্রদায়ী গাভী |
| ii. রোড আইল্যান্ড রেড | → a. মুরগির প্রজাতি |
| iii. সৌরশক্তি | → e. অপ্রচলিত শক্তি |
| iv. সিলিকন ধাতু | → b. সৌরকোষ |
অতিরিক্ত পদ: c. CFL
১জীবসম্প্রদায় (Biotic Community) কাকে বলে?V.V.I
উত্তরনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে বসবাসকারী সমস্ত ধরনের প্রজাতির উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ পপুলেশনের সামগ্রিক সমষ্টিকে জীবসম্প্রদায় বা বায়োটিক কমিউনিটি (Biotic Community) বলে।
উদাহরণ: একটি নির্দিষ্ট অরণ্যের সমস্ত উদ্ভিদ, পাখি, পতঙ্গ, বাঘ, হরিণ এবং ব্যাকটেরিয়ার মিলিত সমাবেশ হলো একটি অরণ্য জীবসম্প্রদায়।
২খাদ্যশৃঙ্খল (Food Chain) কাকে বলে?V.V.I
উত্তরবাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ) থেকে শুরু করে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুষ্টিশক্তি ক্রমাগত এক পুষ্টিস্তর থেকে পরবর্তী পুষ্টিস্তরে একমুখীভাবে প্রবাহিত হওয়ার ধারাবাহিক ক্রমকে খাদ্যশৃঙ্খল (Food Chain) বলে।
উদাহরণ: ঘাস (উৎপাদক) → ঘাসফড়িং (প্রাথমিক খাদক) → ব্যাঙ (গৌণ খাদক) → সাপ (প্রগৌণ খাদক) → ময়ূর (সর্বোচ্চ খাদক)।
৩পপুলেশন (Population) কী?V.V.I
উত্তরএকটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বসবাসকারী এবং নিজেদের মধ্যে প্রজননে সক্ষম একই প্রজাতির সমস্ত একক জীবের সমষ্টিকে ইকোলজির পরিভাষায় পপুলেশন (Population) বলে।
উদাহরণ: সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বা কোনো একটি নির্দিষ্ট পুকুরের রুই মাছের মোট সংখ্যা।
৪প্রাকৃতিক সম্পদ (Natural Resources) কাকে বলে?
উত্তরপ্রকৃতির বুক থেকে সরাসরি প্রাপ্ত যেসব উপাদান (যেমন—বায়ু, জল, সূর্যালোক, মাটি, অরণ্য, খনিজ ও জীবাশ্ম জ্বালানি) মানুষের দৈনন্দিন অস্তিত্ব রক্ষা, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধি সাধনে ব্যবহৃত হয়, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ (Natural Resources) বলে।
এটিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: (i) পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদ এবং (ii) অনবীকরণযোগ্য বা গচ্ছিত সম্পদ।
৫পপুলেশন কাকে বলে? এর দুটি মূল বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তরসংজ্ঞা: কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে নির্দিষ্ট সময়ে বসবাসকারী একই প্রজাতির মোট সদস্য সংখ্যাকে পপুলেশন বলে।
দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য:
১. পপুলেশন ঘনত্ব (Population Density): প্রতি একক ক্ষেত্রফল বা আয়তনে কোনো প্রজাতির জীবের মোট সংখ্যা।
২. জন্মহার (Natality) ও মৃত্যুহার (Mortality): একক সময়ে প্রজননের মাধ্যমে নতুন জীব যোগ হওয়ার হার এবং জীবের মৃত্যুর হার।
৬মৎস্যচাষ (Pisciculture / Aquaculture) কী?
উত্তরবিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নিয়ন্ত্রিত জলাশয়ে অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন, ডিম উৎপাদন, পোনা প্রতিপালন, সুষম খাদ্য প্রদান এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আহরণ করার পদ্ধতিকে মৎস্যচাষ (Pisciculture) বলা হয়।
উদাহরণ: নিবিড় মিশ্র মাছ চাষ পদ্ধতিতে একই পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পের যৌথ প্রতিপালন।
৭খাদ্যজাল (Food Web) কাকে বলে?V.V.I
উত্তরএকটি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল যখন সরলরৈখিকভাবে না থেকে পরস্পর জালকের আকারে সংযুক্ত হয়ে একটি জটিল জাল গঠন করে, তখন তাকে খাদ্যজাল (Food Web) বলে।
গুরুত্ব: খাদ্যজাল বাস্তুতন্ত্রে খাদ্য সম্পর্কের বিকল্প পথ প্রদান করে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য ও বাস্তুতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।
৮পরিপোষক চক্র (Nutrient Cycle) কাকে বলে?V.V.I
উত্তরবাস্তুতন্ত্রের সজীব উপাদান (উদ্ভিদ, প্রাণী, বিয়োজক) এবং অজীব পরিবেশের (বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল ও শিলামণ্ডল) মধ্যে জীবনধারণের অপরিহার্য রাসায়নিক মৌলগুলির (যেমন—কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস) চক্রাকারে আবর্তনকে পরিপোষক চক্র বা জৈব-ভূ-রাসায়নিক চক্র (Biogeochemical Cycle) বলে।
৯সিনইকোলজি (Synecology) কাকে বলে?V.V.I
উত্তরবাস্তুবিদ্যার যে শাখায় কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিবেশের অন্তর্গত সামগ্রিক জীবসম্প্রদায় (Community) এবং তাদের সাথে পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক ও সম্মিলিত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে সিনইকোলজি (Synecology) বলে।
(উল্লেখ্য: একক প্রজাতির বাস্তুবিদ্যাকে বলা হয় অটইকোলজি বা Autecology)।
১০হাইড্রোফাইট উদ্ভিদ কাকে বলে? এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।V.V.I
উত্তরসংজ্ঞা: যেসব উদ্ভিদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে জলে বা অত্যন্ত আর্দ্র কাদাময় পরিবেশে জন্মায় ও বংশবৃদ্ধি করে, তাদের হাইড্রোফাইট বা জলজ উদ্ভিদ (Hydrophytes) বলে; যেমন—পদ্ম, কচুরিপানা, হাইড্রিলা।
দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য:
১. এদের কাণ্ড ও পাতায় প্রচুর পরিমাণে বায়ুকোটর বা অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) কলা থাকে, যা উদ্ভিদকে জলে ভাসতে সাহায্য করে।
২. এদের কাণ্ড অত্যন্ত নমনীয় হয় এবং মূলতন্ত্র সুগঠিত হয় না অথবা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে।
১১বহিঃপরজীবী ও অন্তঃপরজীবী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।V.V.I
উত্তরবহিঃপরজীবী (Ectoparasite): যে সমস্ত পরজীবী জীব পোষকের দেহের বাইরে বা ত্বকের উপরিভাগে অবস্থান করে খাদ্য শোষণ করে, তাদের বহিঃপরজীবী বলে; যেমন—উকুন, মাইট, জোঁক।
অন্তঃপরজীবী (Endoparasite): যে সমস্ত পরজীবী পোষকের দেহের অভ্যন্তরে (যেমন অন্ত্রে, রক্তে বা কলায়) বসবাস করে পুষ্টি গ্রহণ করে, তাদের অন্তঃপরজীবী বলে; যেমন—ফিতাকৃমি (Taenia), ম্যালেরিয়া পরজীবী (Plasmodium)।
১২বাধ্যতামূলক পরজীবিতা (Obligate Parasitism) কাকে বলে?
উত্তরযে সমস্ত পরজীবী জীব তাদের জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য সম্পূর্ণভাবে একটি নির্দিষ্ট পোষকের উপর নির্ভরশীল থাকে এবং উপযুক্ত জীবন্ত পোষক ব্যতীত স্বাধীনভাবে কোনো অবস্থাতেই বেঁচে থাকতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, তাদের বাধ্যতামূলক পরজীবী (Obligate Parasite) বলে এবং এই ঘটনাকে বাধ্যতামূলক পরজীবিতা বলে।
উদাহরণ: সমস্ত ভাইরাস, ম্যালেরিয়া পরজীবী (Plasmodium vivax), ফিতাকৃমি।
১৩পরিযান বা মাইগ্রেশন (Migration) কাকে বলে?V.V.I
উত্তরঅনুকূল আবহাওয়া, খাদ্যের প্রাচুর্য বা প্রজননের সুবিধার্থে কোনো জীব পপুলেশনের সদস্যদের সাময়িকভাবে এক ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে গমন এবং অনুকূল ঋতুতে পুনরায় আদি বাসস্থানে ফিরে আসার দ্বিমুখী চক্রাকার যাত্রাকে পরিযান বা মাইগ্রেশন (Migration) বলে।
উদাহরণ: সুমেরু অঞ্চল থেকে শীতকালে ভারতে পরিযায়ী পাখিদের (যেমন পরিযায়ী হাঁস) আগমন এবং ইলিশ মাছের নদীতে ডিম পাড়তে আসা।
১৪রূপান্তরক (Transformer) কাকে বলে?
উত্তরবাস্তুতন্ত্রের যেসব অণুজীব (যেমন বিভিন্ন পচনকারী ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক) বিয়োজকদের দ্বারা বিশ্লিষ্ট হওয়া জটিল জৈব যৌগের মধ্যবর্তী উপজাতগুলিকে সম্পূর্ণরূপে সরল অজৈব পুষ্টি উপাদানে (যেমন নাইট্রেট, ফসফেট, সালফেট) রূপান্তরিত করে পুনরায় মাটিতে ও পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়, তাদের রূপান্তরক (Transformer) বলে।
১৫অর্থকরী গুরুত্ব হিসেবে গৃহপালিত পশুদের কীভাবে ভাগ করা যেতে পারে?
উত্তরগৃহপালিত পশুদের প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
১. দুগ্ধপ্রদায়ী পশু (Milch animals): দুধ উৎপাদনের জন্য পালিত পশু; যেমন—গরু (শাহিওয়াল, জার্সি), মহিষ (মুররাহ)।
২. মাংসপ্রদায়ী পশু (Meat animals): যেমন—ছাগল (ব্ল্যাক বেঙ্গল), ভেড়া, শূকর।
৩. ভারবাহী পশু (Draught animals): কৃষিকাজ ও পরিবহনে ব্যবহৃত পশু; যেমন—বলদ, ঘোড়া, উট, গাধা।
৪. পশম উৎপাদনকারী পশু: যেমন—ভেড়া, পশমিনা ছাগল।
১৬খাদ্যের দুটি বিকল্প উৎস সম্পর্কে উল্লেখ করো।V.V.I
উত্তরক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টির অভাব মেটাতে খাদ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হলো:
১. একক কোষ প্রোটিন (Single Cell Protein - SCP): দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম স্পাইরুলিনা (নীলাভ-সবুজ শৈবাল), ক্লোরেল্লা এবং ইস্ট ছত্রাক থেকে নিষ্কাশিত উচ্চ প্রোটিন ও ভিটামিনযুক্ত খাবার।
২. মাশরুম বা ভোজ্য ছত্রাক (Edible Mushroom): অ্যাগারিকাস বিস্পোরাস বা ঝিনুক মাশরুম যাতে প্রচুর প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন এবং খনিজ থাকে অথচ ফ্যাটের মাত্রা নগণ্য।
১৭শক্তি সম্পদ (Energy Resources) বলতে কী বোঝো?
উত্তরযে সমস্ত প্রাকৃতিক উৎস বা উপাদান থেকে মানুষ তাপশক্তি, আলোকশক্তি, যান্ত্রিক শক্তি এবং তড়িৎ শক্তি উৎপাদন করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, যানবাহন পরিচালনা ও আধুনিক কলকারখানা পরিচালনা করতে পারে, তাদের সামগ্রিকভাবে শক্তি সম্পদ (Energy Resources) বলে।
প্রকারভেদ: (i) প্রচলিত বা জীবাশ্ম শক্তি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম) এবং (ii) অপ্রচলিত বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, পরমাণু শক্তি, জলবিদ্যুৎ)।
১৮প্রাত্যহিক জীবনে শক্তি সংরক্ষণের দুটি বাস্তবসম্মত উপায় উল্লেখ করো।V.V.I
উত্তর১. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রের ব্যবহার: সনাতনী ফিলামেন্ট বাল্ব ও ফ্লুরোসেন্ট টিউবের বদলে ৫-স্টার রেটিংযুক্ত LED বাল্ব, ইনভার্টার এসি এবং ব্যবহারের পর অপ্রয়োজনে লাইট-পাখা অবিলম্বে বন্ধ রাখা।
২. গণপরিবহন ও নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার: ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন বা সাইকেল ব্যবহার করা এবং ছাদে সোলার প্যানেল ও সোলার ওয়াটার হিটার স্থাপন করা।
১শক্তি কী? আধুনিক মানব সভ্যতায় শক্তির প্রধান ব্যবহারগুলি উল্লেখ করো।
উত্তরশক্তির সংজ্ঞা: পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ সংজ্ঞায় কোনো বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। জীববিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে পরিবেশের যেসব প্রাকৃতিক উৎস থেকে তাপ, আলো, যান্ত্রিক বল বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে জীবের জীবনধারণ ও মানব সভ্যতার বিকাশ অব্যাহত থাকে, তাকে শক্তি বা শক্তি সম্পদ বলে।
শক্তির প্রধান ব্যবহারসমূহ:
১. শিল্প ও কলকারখানা পরিচালনা: ভারী লৌহ-ইস্পাত শিল্প, বস্ত্রবয়ন, রাসায়নিক সার ও সিমেন্ট কারখানা পরিচালনার জন্য কয়লা, খনিজ তেল ও বিদ্যুৎ শক্তির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অপরিহার্য।
২. পরিবহন ও যোগাযোগ ক্ষেত্র: রেলগাড়ি, বাস, লরি, বিমান ও সমুদ্রগামী জাহাজে জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান টারবাইন ফুয়েল (ATF) ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিককালে বৈদ্যুতিক যান (EV) পরিচালনায় তড়িৎ শক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. কৃষিকাজে সেচ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ: টিউবওয়েল চালিয়ে ভূগর্ভস্থ জল তোলা, ট্রাক্টর ও হারভেস্টার চালানো এবং সার কারখানায় প্রচুর তাপ ও বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয়।
৪. গার্হস্থ্য ও প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহার: রান্নার জন্য LPG বা পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস, এবং ঘরের আলো, পাখা, কম্পিউটার, ফ্রিজ, টিভি ইত্যাদি যন্ত্রপাতি সচল রাখতে বিদ্যুৎ শক্তি অপরিহার্য।
৫. তথ্যপ্রযুক্তি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা: আধুনিক হাসপাতাল, জীবনদায়ী যন্ত্রপাতি এবং বৈশ্বিক ইন্টারনেট ডেটাসেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ নিরবচ্ছিন্ন শক্তির জোগান আবশ্যক।
২বনজসম্পদের ব্যবহার লেখো। বনধ্বংসের প্রধান কারণ ও সুদূরপ্রসারী ফলাফলগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরবনজসম্পদের ব্যবহার:
• কাষ্ঠ সম্পদ: ঘরবাড়ি নির্মাণ, রেলের স্লিপার, আসবাবপত্র এবং কাগজ শিল্পের মণ্ড তৈরিতে শাল, সেগুন, ইউক্যালিপটাস ও বাঁশ কাঠ ব্যবহৃত হয়।
• অ-কাষ্ঠ সম্পদ: মধু, মোম, রজন, ট্যানিন, রবার, গালা, সুগন্ধী তেল এবং বিভিন্ন জীবনদায়ী ভেষজ উদ্ভিদ (যেমন সর্পগন্ধা, সিঙ্কোনা, বাসক) বনভূমি থেকে সংগৃহীত হয়।
• বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য: অরণ্য সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করে।
বনধ্বংসের প্রধান কারণ:
১. জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বন নিধন: বর্ধিত জনসংখ্যার বাসস্থান নির্মাণ, রাস্তাঘাট ও রেললাইন প্রসারণের জন্য নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।
২. কৃষিজমির সম্প্রসারণ: খাদ্যের চাহিদা মেটাতে অরণ্য পুড়িয়ে ঝুম চাষ ও নতুন চাষের জমি তৈরি করা হচ্ছে।
৩. দাবানল ও অতি-চারণ: অনিয়ন্ত্রিত গবাদি পশু চারণ এবং প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট দাবানলে লক্ষ লক্ষ একর বন ছাই হয়ে যায়।
বনধ্বংসের মারাত্মক ফলাফল:
১. ভূমিক্ষয় ও বন্যা: গাছের শিকড় মাটির কণাগুলিকে ধরে রাখে; গাছ কাটার ফলে বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলে ধস নামে ও নদীগর্ভ ভরাট হয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
২. মরুকরণ ও অনাবৃষ্টি: গাছ প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাতাসে জলীয় বাষ্প পাঠায় যা মেঘ ও বৃষ্টিপাত ঘটায়; বনাঞ্চল নষ্ট হলে বৃষ্টিপাত হ্রাস পেয়ে উর্বর জমি মরুভূমিতে পরিণত হয়।
৩. বন্যপ্রাণীর বাসস্থান বিনাশ ও জীববৈচিত্র্য হ্রাস: আবাসস্থল হারিয়ে বাঘ, হাতি, একশৃঙ্গ গণ্ডার সহ বহু মূল্যবান বন্যপ্রাণী বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।
৩জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী? বৃষ্টির জল ধরে রাখার আধুনিক পদ্ধতিগুলি (Rainwater Harvesting) বিশদে ব্যাখ্যা করো।
উত্তরজল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা:
পৃথিবীর মোট জলের মাত্র ০.৬২% অংশ ব্যবহারযোগ্য মিষ্টি জল। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অপচয়ের কারণে ভূগর্ভস্থ জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এছাড়া জলের অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং জলে আর্সেনিক দূষণ বাড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পানীয় জলের নিশ্চয়তা এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে জল সংরক্ষণ একান্ত জরুরি।
বৃষ্টির জল ধরে রাখার পদ্ধতি (Rainwater Harvesting):
বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত ছাদ থেকে জল সংগ্রহ এবং ভূমিতে পুনর্ভরণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়:
১. ক্যাচমেন্ট এলাকা (Catchment Area): বাড়ির ছাদ বা কোনো বাঁধানো চাতালকে সংগ্রহের প্রাথমিক তল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২. পরিবহণ নালী (Conduits / Drain Pipes): ছাদের জলকে পিভিসি পাইপের মাধ্যমে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
৩. পরিস্রাবণ প্রক্রিয়া (Filtration Tank): সংগৃহীত জলে থাকা ধূলিকণা ও পাতা দূর করার জন্য নুড়িপাথর, বালি এবং অ্যাক্টিভেটেড কাঠকয়লার (Charcoal) বহুস্তরীয় ফিল্টারের মধ্য দিয়ে জল চালনা করা হয়।
৪. সঞ্চয় জলাধার (Storage Tank): পরিশোধিত জল মাটির নিচে বা ওপরের ট্যাংকে জমা করা হয় যা দিয়ে কাপড় কাচা, বাগান পরিচর্যা ও গাড়ি ধোয়া সম্ভব হয়।
৫. ভূগর্ভস্থ পুনর্ভরণ (Recharge Pit / Well): বাড়তি জলকে সরাসরি পরিত্যক্ত কুয়ো বা ভূগর্ভস্থ রিচার্জ পিটের মাধ্যমে মাটির তলায় প্রবেশ করিয়ে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বৃদ্ধি করা হয়।
চিত্র: ছাদের বৃষ্টির জল সংগ্রহ, পরিস্রাবণ ও ভূগর্ভস্থ পুনর্ভরণ প্রক্রিয়া (Rainwater Harvesting System)
৪মরুজ প্রাণীদের (Xerocoles) জল সংরক্ষণ ও তাপ নিয়ন্ত্রণের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি বিশদে উল্লেখ করো।
উত্তরচরম তাপমাত্রা, তীব্র জলের অভাব এবং শুষ্ক বালুকাময় মরু পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীদের মধ্যে যেসব বিশেষ অভিযোজন দেখা যায়, সেগুলি নিম্নরূপ:
১. উটের (Camel - মরুভূমির জাহাজ) অভিযোজন:
• জল অপচয় রোধ: উটের মূত্র অত্যন্ত ঘন হয় এবং মল শুষ্ক হয়। এদের ত্বক থেকে প্রায় ঘাম বের হয় না বললেই চলে। এরা শরীরের তাপমাত্রা ৪১°C পর্যন্ত সহ্য করতে পারে ঘাম না ঝরিয়েই।
• কুঁজের মেদ: উটের পিঠের কুঁজে চর্বি বা মেদ সঞ্চিত থাকে। বিপাকীয় জারণের সময় এই ফ্যাট জারিত হয়ে প্রায় ১০৭ ভাগ বিপাকীয় জল (Metabolic water) উৎপন্ন করে।
• নাসারন্ধ্র ও চোখের পাতা: বালির ঝড় থেকে বাঁচতে নাসারন্ধ্র ইচ্ছামতো বন্ধ করতে পারে এবং চোখে দ্বিস্তরীয় দীর্ঘ চোখের পলক ও নিকটিটেটিং পর্দা থাকে।
• পায়ের ক্ষুর: বালিতে যাতে পা দেবে না যায়, তার জন্য চওড়া ও নরম প্যাডযুক্ত পাতা থাকে।
২. ক্যাঙ্গারু র্যাট (Kangaroo Rat):
• এরা সারা জীবনে কখনো সরাসরি জল পান করে না; শুষ্ক বীজ খেয়ে বেঁচে থাকে এবং বীজের কার্বোহাইড্রেট জারণের মাধ্যমে উৎপন্ন বিপাকীয় জল দিয়েই তৃষ্ণা মেটায়।
• হেনলির লুপ অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়ায় এদের বৃক্ক প্রায় ১০০% জল পুনর্শোষণ করে অত্যন্ত ঘন মূত্র ত্যাগ করে।
৩. নিশাচর স্বভাব ও গর্তে বাস (Fossorial & Nocturnal Habit):
মরুভূমির তীব্র রোদের উত্তাপ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন সরীসৃপ (যেমন ভাইপার সাপ), বিটল পোকা ও মরু ইঁদুর দিনের বেলা বালির গভীরে ঠান্ডা গর্তে লুকিয়ে থাকে এবং রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয়।
৪. সরীসৃপ ও পাখির বৈশিষ্ট্য:
মরুজ গোসাপ (Moloch horridus) ত্বকের খাঁজের মধ্য দিয়ে কৈশিক ক্রিয়ায় রাতের শিশিরবিন্দু শোষণ করে মুখে নিয়ে যায়। এছাড়া এরা ইউরিক অ্যাসিড রূপে অর্ধকঠিন মূত্র ত্যাগ করে জল ক্ষয় শূন্যের কোঠায় রাখে।
৫কমিউনিটি স্তরে বিভিন্ন জীবের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়াগুলি (Interactions) উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তরবাস্তুতন্ত্রের কোনো নির্দিষ্ট জীবসম্প্রদায়ে বিভিন্ন প্রজাতির পপুলেশনের মধ্যে যে আন্তঃপ্রজাতি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া (Interspecific interactions) দেখা যায়, তাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
(ক) ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া (Positive Interactions / কো-অপারেশন):
১. মিউচুয়ালিজম (Mutualism): এমন একটি ঘনিষ্ঠ সহাবস্থান যেখানে উভয় প্রজাতিই পরস্পর উপকৃত হয় এবং কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
• উদাহরণ: শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে বাস করে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে উদ্ভিদকে দেয় এবং বিনিময়ে উদ্ভিদের থেকে শর্করা জাতীয় খাদ্য ও বাসস্থান পায়। এছাড়া লাইকেন (শৈবাল ও ছত্রাকের মিলন)।
২. কমেনসালিজম (Commensalism): এই আন্তঃক্রিয়ায় একটি প্রজাতি উপকৃত হয় কিন্তু অপর প্রজাতি ক্ষতিগ্রস্ত বা উপকৃত কোনোটিই হয় না।
• উদাহরণ: হাঙরের তলপেটে চোষক দিয়ে আটকে থাকা চোষক মাছ (রিমোরা); এরা হাঙরের খাবারের উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করে ও পরিবহন সুবিধা পায়, কিন্তু হাঙরের কোনো ক্ষতি করে না।
৩. প্রোটোকো-অপারেশন (Protocooperation): উভয় পক্ষ উপকৃত হয় কিন্তু এই সম্পর্কটি বাধ্যতামূলক নয়।
• উদাহরণ: সন্ন্যাসী কাঁকড়ার খোলসের উপর সি-অ্যানিমোন (সাগরকুসুম) অবস্থান করে; অ্যানিমোন কাঁকড়াকে ছদ্মবেশ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে এবং কাঁকড়া অ্যানিমনকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খাবারের কাছে নিয়ে যায়।
(খ) ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়া (Negative Interactions):
১. পরজীবিতা (Parasitism): পরজীবী জীব পোষকের দেহে বাস করে পোষকের ক্ষতিসাধন করে পুষ্টি গ্রহণ করে।
• উদাহরণ: মানুষের পেটে ফিতাকৃমি বা গাছে স্বর্ণলতা।
২. শিকার বা শিকারজীবিতা (Predation): শিকারী প্রাণী অন্য প্রাণীকে হত্যা করে খাদ্য হিসেবে ভক্ষণ করে। যেমন—হরিণকে বাঘের শিকার।
৩. প্রতিযোগিতা (Competition): সীমিত খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য একাধিক প্রজাতির মধ্যে পারস্পরিক তীব্র দ্বন্দ্ব।
চিত্র: বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন জীবের খাদ্য-খাদক আন্তঃক্রিয়া ও জটিল খাদ্যজাল (Food Web)
৬জেরোফাইট বা মরুজ উদ্ভিদের মরফোলজিক্যাল ও অ্যানাটমিক্যাল অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তরশুষ্ক ও মরু অঞ্চলে মাটির গভীরে জলের অভাব এবং বায়ুমণ্ডলের অত্যধিক বাষ্পমোচন রোধের জন্য মরুজ উদ্ভিদ বা জেরোফাইটদের (Xerophytes) মধ্যে লক্ষণীয় অভিযোজন দেখা যায়:
১. মূলতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
• ভূগর্ভস্থ গভীর জলস্তর থেকে জল শোষণের জন্য এদের মূলতন্ত্র অত্যন্ত দীর্ঘ, সুগঠিত ও শাখাপ্রশাখাযুক্ত হয়ে মাটির গভীরে প্রবেশ করে।
• মূলের চারপাশে জল ধারণের জন্য মূলরোম ও রুটক্যাপ সুগঠিত থাকে।
২. কাণ্ডের অভিযোজন (পর্ণকাণ্ড বা Phylloclade):
• ফণীমনসার ক্ষেত্রে কাণ্ডটি চ্যাপ্টা, রসাল, মাংসল ও সবুজ পাতার মতো ধারণ করে। একে পর্ণকাণ্ড বলে। এটি জল ধরে রাখে এবং ক্লোরোফিল থাকায় সালোকসংশ্লেষ সম্পন্ন করে।
• কাণ্ডের বহিত্বকে পুরু কিউটিকল ও মোমের আস্তরণ থাকে যা বাষ্পমোচন রোধ করে।
• কাণ্ডের কলাতে প্রচুর পরিমাণে জলসংগ্রাহী মিউসিলেজ (Mucilage) ও ল্যাটেক্স থাকে।
৩. পাতার অভিযোজন:
• বাষ্পমোচনের হার ব্যাপকভাবে হ্রাস করার জন্য পাতাগুলি ছোটো হয় অথবা সম্পূর্ণ কাঁটায় (Spines) রূপান্তরিত হয় (যেমন ফণীমনসা)।
• যাদের পাতা থাকে (যেমন করবী), তাদের পাতার উপরিতল পুরু কিউটিকলযুক্ত এবং পাতা রোমশ হয়।
• নিবেশিত পত্ররন্ধ্র (Sunken Stomata): পাতার বহিত্বকের খাঁজের ভেতরে গভীরে পত্ররন্ধ্র অবস্থান করে, ফলে সরাসরি বাতাস ও সূর্যের তাপে বাষ্পমোচন হতে পারে না।
৭পরজীবিতা (Parasitism) কাকে বলে? পরজীবীদের প্রধান শারীরবৃত্তীয় ও অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
উত্তরপরজীবিতার সংজ্ঞা: যে আন্তঃপ্রজাতি মিথস্ক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে একটি ক্ষুদ্রতর জীব (পরজীবী) অপর কোনো অপেক্ষাকৃত বৃহৎ জীবন্ত পোষকের (Host) দেহের বাইরে বা ভেতরে অবস্থান করে পোষকের ক্ষতিসাধন করে তার দেহ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে বেঁচে থাকে, তাকে পরজীবিতা (Parasitism) বলে।
পরজীবীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. আঁকড়ে ধরার বিশেষ অঙ্গ: পোষকদেহে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকার জন্য পরজীবীদের বিশেষ চোষক (Sucker), হুক (Hook) বা রোস্টেল্লাম থাকে (যেমন ফিতাকৃমির স্কোলেক্স)।
২. পৌষ্টিকতন্ত্রের সংকোচন বা অনুপস্থিতি: পোষকের পরিপাক নালীতে থাকা ইতোমধ্যে পরিপাককৃত সরল খাদ্য সরাসরি দেহতল দিয়ে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শোষণ করায় এদের উন্নত পরিপাকতন্ত্র থাকে না (যেমন ফিতাকৃমির পৌষ্টিকনালী নেই)।
৩. প্রতিরক্ষামূলক আবরণ: পোষকের দেহের উৎসেচক ও পরিপাক রসের ক্ষতিকর ক্রিয়া থেকে বাঁচতে এদের দেহের বাইরে পুরু প্রতিরোধক কিউটিকল স্তর থাকে।
৪. সংবেদন অঙ্গ ও চলন অঙ্গের অবলুপ্তি: পোষকের দেহে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকায় এদের চোখ ও অন্যান্য জটিল জ্ঞানেন্দ্রিয় অবলুপ্ত হয়।
৫. বিপুল জনন ক্ষমতা: জীবনচক্র সম্পন্ন হওয়ার অনিশ্চয়তা দূর করতে পরজীবীরা বিপুল পরিমাণে ডিম ও স্পোর উৎপাদন করে (যেমন অ্যাসকারিস দিনে প্রায় ২ লক্ষ ডিম পাড়ে)।
৬. জটিল জীবনচক্র: অনেক পরজীবীর জীবনচক্র সম্পূর্ণ হতে একাধিক মাধ্যমিক পোষকের (Intermediate host) প্রয়োজন হয় (যেমন ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে মানুষ ও স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা)।
৮পপুলেশন কাকে বলে? বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য ও লিন্ডেম্যানের দশ শতাংশ (10% Law) সূত্রটি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরপপুলেশনের সংজ্ঞা: একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে বসবাসকারী এবং নিজেদের মধ্যে মুক্ত প্রজননে সক্ষম একই প্রজাতির জীবগোষ্ঠীকে পপুলেশন বলে।
বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহের প্রধান বৈশিষ্ট্য:
১. একমুখী প্রবাহ (Unidirectional): বাস্তুতন্ত্রে সৌরশক্তি সবুজ উদ্ভিদের মাধ্যমে আবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন পুষ্টিস্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং তা কখনই পুনরায় সূর্যে ফিরে যায় না।
২. তাপগতিবিদ্যার সূত্র মান্য করে: শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয় (১ম সূত্র); এবং প্রতিটি রূপান্তরের সময় কিছুটা শক্তি তাপরূপে পরিবেশে মুক্ত ও অপচয় হয় (২য় সূত্র)।
লিন্ডেম্যানের দশ শতাংশ সূত্র (Lindeman's 10% Law - 1942):
বাস্তুতন্ত্রের প্রতিটি পুষ্টিস্তরে (Trophic level) যে পরিমাণ শক্তি আবদ্ধ হয়, তার মাত্র ১০ শতাংশ (১০%) শক্তি পরবর্তী পুষ্টিস্তরের জীবের দেহগঠন ও বৃদ্ধির জন্য সঞ্চিত থাকে। বাকি ৯০ শতাংশ (৯০%) শক্তি জীবটির শ্বাসকার্য, চলন, রেচন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহৃত হয়ে তাপরূপে পরিবেশে মুক্ত ও অপচয় হয়।
বাস্তব উদাহরণ:
• উৎপাদক (ঘাস) যদি ১,০০০ কিলোক্যালরি (kcal) সৌরশক্তি সালোকসংশ্লেষে আবদ্ধ করে,
• তবে প্রাথমিক খাদক (ঘাসফড়িং) ঘাস খেয়ে মাত্র ১০০ kcal (১০%) শক্তি সঞ্চয় করতে পারবে;
• গৌণ খাদক (ব্যাঙ) ফড়িং ভক্ষণ করে পাবে মাত্র ১০ kcal (১০%) শক্তি;
• প্রগৌণ খাদক (সাপ) ব্যাঙ খেয়ে পাবে মাত্র ১ kcal (১০%) শক্তি;
• এবং সর্বোচ্চ খাদক (বাজপাখি) পাবে মাত্র ০.১ kcal শক্তি।
এই কারণেই খাদ্যশৃঙ্খলে পুষ্টিস্তরের সংখ্যা সাধারণত ৪ থেকে ৫ টির বেশি হতে পারে না।
চিত্র: বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন পুষ্টিস্তরে শক্তি প্রবাহ এবং লিন্ডেম্যানের দশ শতাংশ সূত্র (10% Energy Transfer Pyramid)
৯জলজ উদ্ভিদ (Hydrophytes) ও জলজ প্রাণীদের প্রধান অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি উদাহরণসহ বিস্তারিত লেখো।
উত্তর১. জলজ উদ্ভিদের (হাইড্রোফাইট) অভিযোজন:
• অ্যারেনকাইমা কলা: পদ্ম, শালুক ও কচুরিপানার কাণ্ড ও পাতায় বৃহৎ বায়ুকোটরযুক্ত প্যারেনকাইমা বা অ্যারেনকাইমা থাকে যা হালকা করে জলে ভাসিয়ে রাখে এবং গ্যাসীয় আদানপ্রদানে সাহায্য করে।
• মোমের প্রলেপ: ভাসমান পাতার উপরিভাগে মোম জাতীয় কিউটিন থাকে যাতে জল না জমে পত্ররন্ধ্র বন্ধ না হয়। নিমজ্জিত পাতার ওপর মোমের প্রলেপ থাকে না।
• নমনীয় কান্ড ও খণ্ডিত পাতা: জলের স্রোতে ভেঙে না পড়ার জন্য কাণ্ড নরম ও নমনীয় হয় এবং পাতাগুলি ফিতার মতো সরু হয় (যেমন ভ্যালিসনেরিয়া)।
• মূলতন্ত্রের হ্রাস: জলে পর্যাপ্ত জলের উপস্থিতি থাকায় মূল ক্ষুদ্র ও দুর্বল হয় অথবা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে (যেমন উলফিয়া)।
২. জলজ প্রাণীদের (মাছের) অভিযোজন:
• স্ট্রিমলাইন্ড দেহ (Streamlined Shape): জলের বাধা কাটিয়ে সহজে সাঁতার কাটার জন্য দেহ মাকু বা নৌকোর মতো দু-প্রান্ত সরু ও মধ্যভাগ চওড়া হয়।
• পাখনা (Fins): দিক পরিবর্তন, ভারসাম্য বজায় রাখা ও জলে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যুগ্ম ও অযুগ্ম পাখনা থাকে।
• ফুলকা (Gills): জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্তজালকসমৃদ্ধ বিশেষ শ্বাসযন্ত্র ফুলকা থাকে।
• পটকা (Air Bladder): গ্যাস পূর্ণ পটকা নির্দিষ্ট গভীরতায় মাছকে স্থিরভাবে ভাসিয়ে রাখতে প্লবতা নিয়ন্ত্রক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
• মিউকাসযুক্ত আঁশ: ত্বকে পিচ্ছিল শ্লেষ্মা ও জলেরোধী আঁশ জল প্রতিরোধী ঢাল হিসেবে কাজ করে।
| তুলনার বিষয় |
জলজ উদ্ভিদ (হাইড্রোফাইট) |
মরুজ উদ্ভিদ (জেরোফাইট) |
| মূলতন্ত্র |
ক্ষুদ্র, দুর্বল বা অনুপস্থিত; মূলরোম থাকে না। |
অত্যন্ত দীর্ঘ, সুগঠিত ও মাটির গভীরে প্রসারিত। |
| অভ্যন্তরীণ কলা |
প্রচুর বায়ুকোটরযুক্ত অ্যারেনকাইমা বর্তমান। |
জল সঞ্চয়কারী মিউসিলেজ ও মেকানিকাল কলা বর্তমান। |
| পাতা ও পত্ররন্ধ্র |
চওড়া, মোমের আস্তরণযুক্ত অথবা ফিতার মতো সরু। |
কাঁটায় রূপান্তরিত, পুরু কিউটিকল ও নিবেশিত পত্ররন্ধ্র। |
১০সহযোগিতা বা মিথোজীবিতা (Symbiosis / Mutualism) কাকে বলে? প্রকৃতিতে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা সম্পর্কে বিশদে লেখো।
উত্তরমিথোজীবিতার সংজ্ঞা: যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব পরস্পরের সান্নিধ্যে ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে দীর্ঘকাল বসবাস করে এবং এই সহাবস্থানের ফলে উভয় পক্ষই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পুষ্টি, প্রতিরক্ষা বা বাসস্থানের দিক থেকে উপকৃত হয়, তখন সেই ঘটনাকে সহযোগিতা বা মিথোজীবিতা (Symbiosis) বলে।
সহযোগিতার বিভিন্ন রূপ ও উদাহরণ:
১. বাধ্যতামূলক মিথোজীবিতা (Obligate Mutualism):
এই ক্ষেত্রে দুটি প্রজাতির পরস্পরের সাহায্য ছাড়া একা একা টিকে থাকা বা বংশবৃদ্ধি করা অসম্ভব।
• লাইকেন (Lichen): শৈবাল ও ছত্রাকের অবিচ্ছেদ্য সহাবস্থান। শৈবাল সালোকসংশ্লেষে শর্করা খাদ্য তৈরি করে ছত্রাককে দেয়, আর ছত্রাক জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে সুরক্ষা প্রদান করে।
• মাইকোরাইজা (Mycorrhiza): উচ্চশ্রেণির পাইন গাছের মূলের সাথে ছত্রাকের মিথোজীবী সম্পর্ক।
২. ঐচ্ছিক মিথোজীবিতা বা প্রোটোকো-অপারেশন (Protocooperation):
উভয়েই উপকৃত হয়, কিন্তু সম্পর্কটি জীবনধারণের জন্য চরমভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
• সাগরকুসুম ও সন্ন্যাসী কাঁকড়া: সন্ন্যাসী কাঁকড়ার খোলসের উপর সি-অ্যানিমোন বাস করে খাদ্য পায় এবং অ্যানিমোন তার বিষাক্ত দংশক কোষ দিয়ে কাঁকড়াকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে।
• পাখি ও তৃণভোজী পশু: গো-বক গবাদি পশুর পিঠে বসে তাদের ত্বকের আঁঠুলি বা পরজীবী খেয়ে ক্ষুধা মেটায় এবং পশুকে রক্তচোষা পোকার জ্বালা থেকে মুক্ত রাখে।
৩. নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী মিথোজীবিতা:
মটর ও ছোলার মতো লেগুমিনোসি উদ্ভিদের মূলে বাস করে Rhizobium ব্যাকটেরিয়া। তারা বাতাস থেকে মুক্ত নাইট্রোজেনকে অ্যামোনিয়ামে রূপান্তর করে উদ্ভিদকে দেয় এবং উদ্ভিদের থেকে শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ করে।
১১শক্তির উৎস রূপে কয়লা ও খনিজ তেলের ব্যবহারগুলি উল্লেখ করো। এদের অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলি কী কী?
উত্তর১. কয়লার ব্যবহার:
• বিদ্যুৎ উৎপাদন: ভারতে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের প্রায় ৬০% কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (Thermal Power Plant) থেকেই উৎপাদিত হয়।
• ধাতু নিষ্কাশন ও শিল্প: লৌহ-ইস্পাত কারখানায় আকরিক লোহা গলাতে কোক কয়লা প্রধান বিজারক ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• রাসায়নিক সামগ্রী: কোলতার, আলকাতরা, পিচ, ন্যাপথালিন, বেনজিন ও সার উৎপাদনে কয়লা উপজাত হিসেবে কাজ করে।
২. খনিজ তেলের (পেট্রোলিয়াম) ব্যবহার:
• পরিবহনের প্রধান জ্বালানি: পেট্রোল, ডিজেল ও এভিয়েশন ফুয়েল রূপে সারা পৃথিবীর বিমান, জাহাজ, ট্রেন ও মোটরগাড়ি পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।
• পেট্রোরসায়নিক শিল্প: প্লাস্টিক, কৃত্রিম তন্তু (নাইলন, পলিয়েস্টার), সিন্থেটিক রবার, ডিটারজেন্ট এবং ওষুধ তৈরিতে খনিজ তেলের ভগ্নাংশ মূল কাঁচামাল।
• ঘর্ষণরোধক ও তৈলাক্তকরণ: বিভিন্ন মেশিনের লুব্রিকেটিং তেল ও গ্রিজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
অতিরিক্ত ব্যবহারের মারাত্মক ক্ষতিকর দিক:
১. গ্রিনহাউস গ্যাস ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন: জীবাশ্ম জ্বালানি দহনে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) মুক্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা ও জলবায়ু সংকট বৃদ্ধি করছে।
২. অম্লবৃষ্টি (Acid Rain): কয়লা ও তেলে থাকা সালফার ও নাইট্রোজেন পুড়ে বাতাসে SO2 ও NOx গ্যাস নির্গত হয় যা বৃষ্টির জলে মিশে অ্যাসিড বৃষ্টি তৈরি করে মার্বেল স্থাপত্য ও চাষের ক্ষতি করে।
৩. দূষণ ও ধোঁয়াশা: ধোঁয়ার সাথে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM 2.5 ও PM 10) ফুসফুসের ক্যানসার ও ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে।
৪. সম্পদ নিঃশেষ: কয়লা ও তেল অনবীকরণযোগ্য; বর্তমান হারে খরচ চললে কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবী গভীর শক্তি সংকটের মুখে পড়বে।
১২বায়ুশক্তি (Wind Energy) কী? এর সুবিধা, অসুবিধা এবং ভারতে বায়ুশক্তির ব্যবহার বিশদে আলোচনা করো।
উত্তরবায়ুশক্তি কী?
প্রবাহিত বায়ুর মধ্যে যে বিপুল পরিমাণ গতিশক্তি থাকে, তাকে উইন্ডমিলের (Windmill) টারবাইনের পাখার সাহায্যে যান্ত্রিক ও তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে প্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব শক্তিকে বায়ুশক্তি (Wind Energy) বলে।
বায়ুশক্তির প্রধান সুবিধাসমূহ:
১. পরিবেশবান্ধব ও দূষণহীন: বায়ুশক্তি উৎপাদনের সময় কোনো ধরনের গ্রিনহাউস গ্যাস বা ধোঁয়া উৎপন্ন হয় না।
২. অফুরন্ত নবীকরণযোগ্য উৎস: সূর্যের উত্তাপে বায়ুপ্রবাহ অবিরত চলতে থাকে, তাই এটি কখনই নিঃশেষ হবে না।
৩. জ্বালানি খরচ শূন্য: একবার উইন্ডমিল ফার্ম স্থাপন করার পর কোনো কাঁচামাল বা জ্বালানি ক্রয় করতে হয় না।
বায়ুশক্তির অসুবিধাসমূহ:
১. বাতাসের অনিশ্চয়তা: নিরবচ্ছিন্ন ও নির্দিষ্ট গতিবেগের বাতাস (ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৫ কিমি) সর্বত্র থাকে না।
২. বিপুল জমির প্রয়োজন: বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য বিশাল আয়তনের জমি ও উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।
৩. শব্দ দূষণ ও পাখিদের ক্ষতি: টারবাইনের পাখার ঘূর্ণনে শব্দদূষণ হয় এবং উড়ন্ত পরিযায়ী পাখিরা পাখায় আঘাত পেয়ে মারা যেতে পারে।
ভারতে বায়ুশক্তির অবস্থান:
ভারত বিশ্বের বায়ুশক্তি উৎপাদনকারী দেশগুলির মধ্যে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীর মুপান্দাল উইন্ড ফার্ম (Muppandal Wind Farm) এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়া গুজরাট, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে বায়ুচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
১৩বন ধ্বংসের কারণ ও সুদূরপ্রসারী ফলাফল সম্পর্কে সবিস্তার আলোচনা করো। বন সংরক্ষণের উপায়গুলি লেখো।
উত্তরবন ধ্বংসের প্রধান কারণসমূহ:
১. শিল্পায়ন ও নগরায়ণ: শহর সম্প্রসারণ, বহুতল আবাসন, কারখানা স্থাপন, হাইওয়ে ও রেলপথ তৈরির জন্য অবাধে গাছ কাটা হচ্ছে।
২. কৃষিজমির বিস্তার: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বনাঞ্চল পরিষ্কার করে চাষের জমিতে রূপান্তর করা হচ্ছে।
৩. কাষ্ঠ আহরণ: আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি তৈরি ও কাগজ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে কাঠের অপরিকল্পিত চোরাচালান।
৪. দাবানল ও অনাবৃষ্টি: প্রাকৃতিক কারণে বা মানুষের অসাবধানতায় দাবানলে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়।
বন ধ্বংসের সুদূরপ্রসারী ফলাফল:
• মারাত্মক ভূমিক্ষয় ও বন্যা: উদ্ভিদের মূল মাটিকে শক্ত করে বেঁধে রাখে; গাছ কেটে ফেলায় বৃষ্টির জলে ওপরের উর্বর পলিমাটি ধুয়ে যায় এবং নদীগর্ভ ভরাট হয়ে হঠাৎ প্রলয়ঙ্কর বন্যা ঘটে।
• জলবায়ু পরিবর্তন ও মরুকরণ: উদ্ভিদের প্রস্বেদন কমে যাওয়ায় বৃষ্টিপাত কমে ও খরা দেখা দেয়, ফলে উর্বর সবুজ অঞ্চল শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়।
• কার্বন চক্রের ভারসাম্যহীনতা: বাতাসে CO2-এর মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে ত্বরান্বিত করে।
• জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তি: বন্যপ্রাণীরা স্বাভাবিক বাসস্থান হারিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাত বাড়ে।
বন সংরক্ষণের কার্যকর উপায়সমূহ:
১. পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ: একটি পরিণত গাছ কাটলে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত দুটি নতুন চারাগাছ লাগাতে হবে (সামাজিক বনসৃজন ও কৃষি বনসৃজন)।
২. চোরাশিকার ও বেআইনি কাঠ পাচার রোধ: কঠোর অরণ্য আইন প্রয়োগ এবং বনকর্মীদের আধুনিক সুরক্ষা প্রদান।
৩. দাবানল প্রতিরোধ: আধুনিক ড্রোন ও নজরদারি টাওয়ারের মাধ্যমে দাবানলের পূর্বাভাস ও দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪খাদ্য উৎপাদনে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে মৎস্যচাষের ভূমিকা বিশদে আলোচনা করো। নিবিড় মিশ্র মাছ চাষ পদ্ধতিটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরখাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতে মৎস্যচাষের ভূমিকা:
১. প্রাণীজ প্রোটিনের প্রধান উৎস: মাছ একটি সহজপাচ্য, উচ্চমানের প্রথম শ্রেণির প্রোটিনযুক্ত খাদ্য যাতে দেহের জন্য অপরিহার্য সমস্ত অ্যামিনো অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন A, D ও আয়োডিন প্রচুর পরিমাণে থাকে।
২. হৃদরোগ প্রতিরোধ: তৈলাক্ত মাছে (যেমন স্যামন, টুনা, ইলিশ) থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩. কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণ: ভারতের মতো জনবহুল দেশে লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ যুবক ও মৎস্যজীবী মাছ চাষ, পোনা উৎপাদন, জাল তৈরি ও মাছ পরিবহনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।
৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত গলদা ও বাগদা চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি করে ভারত প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
নিবিড় মিশ্র মাছ চাষ (Composite Fish Culture / Polyculture):
একই পুকুরের বিভিন্ন জলস্তর ও বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাস সম্পন্ন একাধিক দেশি ও বিদেশি প্রজাতির মাছকে একত্রে বিজ্ঞানসম্মতভাবে চাষ করার পদ্ধতিকে নিবিড় মিশ্র মাছ চাষ বলে।
• পুকুরের ওপরের স্তর: কাতলা (দেশি) ও সিলভার কার্প (বিদেশি) — এরা জলের ওপরের স্তরের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটন খায়।
• পুকুরের মধ্য স্তর: রুই (দেশি) — পুকুরের মধ্যম স্তরের জৈব কণা ও পচা শ্যাওলা খায়।
• পুকুরের তলদেশ: মৃগেল (দেশি) ও কমন কার্প (বিদেশি) — তলদেশের পচা জৈব পদার্থ ও তলানি খায়।
• জলজ আগাছা খাদক: গ্রাস কার্প — পুকুরের অপ্রয়োজনীয় জলজ ঘাস ও পাতা খেয়ে পুকুর পরিষ্কার রাখে।
সুবিধা: খাদ্যের প্রতিযোগিতা হয় না, পুকুরের সমস্ত স্তরের প্রাকৃতিক খাদ্য সম্পূর্ণ ব্যবহৃত হয় এবং অল্প খরচে বহুগুণ বেশি মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়।