মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা সম্পূর্ণ ১০০% কমন সাজেশন ও উত্তর | WBBSE Class 10 Bengali Final Suggestion 2027

মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা সম্পূর্ণ ১০০% কমন সাজেশন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Suggestion 2027

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা বিষয়ের ১০০% কমন চূড়ান্ত অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন ও পর্ষদ-নির্ধারিত টু-দ্য-পয়েন্ট মডেল উত্তরমালা। পাঠ্যবই ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’, সহায়ক পাঠ ‘কোনি’, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতির সমস্ত বিভাগ—গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, সহায়ক পাঠ, ব্যাকরণ, বঙ্গানুবাদ, সংলাপ, প্রতিবেদন এবং ১০ নম্বরের প্রবন্ধ রচনার প্রতিটি অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর নিচে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো।

মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা প্রশ্নকাঠামো ও নম্বর বিভাজন (Blueprint)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সর্বশেষ প্রশ্নের প্যাটার্ন অনুযায়ী বাংলা প্রথম ভাষা (First Language) বিষয়ে মোট ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়। নিচে প্রতিটি বিভাগের প্রশ্ন ও নম্বর বিভাজন দেওয়া হলো:

  • গল্প (Stories): মোট ১৫ নম্বর (MCQ ৩ + VSAQ ৪ + সংক্ষিপ্ত মান ৩ + রচনাধর্মী মান ৫)
  • কবিতা (Poems): মোট ১৫ নম্বর (MCQ ৩ + VSAQ ৩ + সংক্ষিপ্ত মান ৩ + রচনাধর্মী মান ৫)
  • প্রবন্ধ (Essays): মোট ১১ নম্বর (MCQ ৩ + VSAQ ৩ + রচনাধর্মী মান ৫)
  • নাটক (সিরাজদ্দৌলা): মোট ৪ নম্বর (মান ৪-এর ১টি প্রশ্নের উত্তর)
  • সহায়ক পাঠ (কোনি): মোট ১০ নম্বর (মান ৫-এর ২টি প্রশ্নের উত্তর)
  • ব্যাকরণ (Grammar): মোট ১৬ নম্বর (MCQ ৮ + VSAQ ৮)
  • নির্মিতি (Writing): মোট ১৯ নম্বর (বঙ্গানুবাদ মান ৪ + কাল্পনিক সংলাপ/প্রতিবেদন মান ৫ + প্রবন্ধ রচনা মান ১০)
  • সর্বমোট লিখিত পরীক্ষা = ৯০ নম্বর (অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন = ১০ নম্বর)

১ম অধ্যায় : জ্ঞানচক্ষু — আশাপূর্ণা দেবী

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নির্বাচিত ১ নম্বরের MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং ৫ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ মডেল উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

১'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশিত তপনের প্রথম গল্পের নাম কী ছিল? ১০০% কমন
কপ্রথম দিন
খগল্পের পাঠ
গনতুন মেসো
ঘএকটি সকাল
উত্তর
কপ্রথম দিন (শ্রীতপন কুমার রায়)
২তপনের ছোটোমেসোমশাই কোন পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন? ১০০% কমন
কআনন্দমেলা
খসন্ধ্যাতারা
গদেশ
ঘনবকল্লোল
উত্তর
খসন্ধ্যাতারা
৩'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের চোখ প্রথমবার খুলেছিল— ১০০% কমন
কছোটোমেসোকে চিনে লেখকদের সম্পর্কে জেনে
খগল্প লেখার পর
গমেসোর বাড়ি গিয়ে
ঘসন্ধ্যাতারা পত্রিকা দেখে
উত্তর
কছোটোমেসোকে চিনে লেখকদের সম্পর্কে জেনে

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

১"সূচিপত্রেও নাম রয়েছে।" — সূচিপত্রে কী লেখা ছিল? মান ১
উত্তর

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সূচিপত্রে লেখা ছিল— ‘প্রথম দিন (গল্প) শ্রীতপন কুমার রায়’।

২"গল্প জিনিসটা কী, তা জানে তো তপন।" — তপনের মতে গল্প জিনিসটা কী? মান ১
উত্তর

তপনের মতে, মানুষের চেনা-জানা বাস্তব জগতের ঘটনাকে লেখকের কল্পনা ও অভিজ্ঞতার মিশেলে সুন্দরভাবে লিখে ফেলাই হলো গল্প।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

৬"পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে!" — কার মনে কেন এমন ভাবনার উদয় হয়েছিল? কোন ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে? (১+২) মান ৩
উত্তর

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে কিশোর তপনের মনে এই ভাবনার উদয় হয়েছিল।

তপন ভাবত লেখকেরা বুঝি অন্য গ্রহের কোনো মানুষ। কিন্তু তার নিজের লেখা ‘প্রথম দিন’ গল্পটি যখন বিখ্যাত ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়ে হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরবে—এই বাস্তব ঘটনাটিই তপনের কাছে ‘অলৌকিক’ বলে মনে হয়েছিল।

৭"এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।" — কোন বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল এবং কীভাবে তার সেই সন্দেহ দূর হয়েছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

সত্যিকারের লেখকেরাও যে সাধারণ মানুষের মতোই রক্তমাংসের মানুষ—এই বিষয়ে তপনের মনে সন্দেহ ছিল।

ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষ্যে নতুন মেসোমশাইকে (যিনি একজন নামকরা লেখক) দেখে তপন লক্ষ করে, তিনি তপনের বাবার মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, পেট ভরে খাওয়াদাওয়া করেন এবং দুপুরে দিব্যি ঘুমোন। এটি দেখেই তপনের সন্দেহ দূর হয়।

৮"রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।" — এখানে ‘রত্ন’ ও ‘জহুরি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তপন কেন এমন কথা ভেবেছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

এখানে ‘রত্ন’ বলতে তপনের লেখা প্রথম গল্পটিকে এবং ‘জহুরি’ বলতে লেখক ছোটোমেসোকে বোঝানো হয়েছে।

তপনের বিশ্বাস ছিল, বাড়ির অন্য কেউ না বুঝলেও ছোটোমেসো নিজে একজন লেখক হওয়ায় তপনের লেখার আসল গুণ ও সাহিত্যিক মূল্য ঠিকই চিনতে পেরেছেন।

৯"তপন কৃতার্থ হয়ে বসে বসে দিন গোনে।" — তপন কী কারণে কৃতার্থ হয়েছিল এবং কেন সে দিন গুনছিল? (২+১) মান ৩
উত্তর

ছোটোমেসো তপনের লেখা গল্পটির প্রশংসা করে সেটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তপন কৃতার্থ হয়েছিল।

কবে তার লেখা গল্পটি ছাপার অক্ষরে পত্রিকায় বেরোবে, সেই শুভদিনের অপেক্ষাতেই তপন দিন গুনছিল।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

৯‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের প্রথমবার ও দ্বিতীয়বার ‘জ্ঞানচক্ষু’ উন্মীলনের ঘটনা দুটি কীভাবে ঘটেছিল? গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (৩+২) জ্ঞানচক্ষু • মান ৫
উত্তর
  • প্রথমবার জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন : বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে কিশোর তপন ভাবত লেখকেরা বুঝি সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ নন; তাঁরা হয়তো আকাশের তারা বা অন্য কোনো অলৌকিক জগতের জীব। কিন্তু ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষ্যে নামকরা লেখক ছোটোমেসোমশাইকে চোখের সামনে দেখে তপন প্রত্যক্ষ করে যে তিনিও সাধারণ মানুষের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, ভালো-মন্দ খান এবং দুপুরে ভাত খেয়ে দিব্যি ঘুমোন। একজন জীবন্ত রক্তমাংসের লেখককে দেখে তপনের ধারণার পরিবর্তন ঘটে এবং তার প্রথমবার ‘জ্ঞানচক্ষু’ উন্মীলিত হয়।
  • দ্বিতীয়বার (প্রকৃত) জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন : তপনের লেখা প্রথম গল্প ‘প্রথম দিন’ ছোটোমেসো ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পত্রিকা প্রকাশিত হওয়ার পর বাড়িতে যখন প্রশংসার বন্যা বইছিল, তখন মায়ের অনুরোধে নিজের লেখা গল্পটি পাঠ করতে গিয়ে তপন চরম আঘাত পায়। সে দেখে মেসোমশাই ‘সামান্য কারেকশন’-এর অছিলায় তপনের কাঁচা হাতের লেখার ওপর নিজের পাকা হাতের ভাষার প্রলেপ দিয়ে গল্পটিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। সেখানে তপনের অনুভূতির আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই চরম অপমানে তপনের আত্মসম্মানবোধ জেগে ওঠে। সে সংকল্প করে ভবিষ্যতে সে যদি কখনো লেখা ছাপাতে দেয়, তবে অন্যের অনুগ্রহ না নিয়ে নিজের হাতেই সম্পাদকের দপ্তরে গিয়ে দেবে। নিজের সৃষ্টির অপমানে আত্মমর্যাদার জাগরণই ছিল তপনের প্রকৃত ও চূড়ান্ত জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন।
  • নামকরণের সার্থকতা : ‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের অর্থ হলো অন্তর্দৃষ্টি বা মানসিক প্রজ্ঞার বিকাশ। আলোচ্য গল্পে তপনের বাহ্যিক দৃষ্টির ভুল ভেঙে অন্তরের চোখ খুলে যাওয়ার দুটি স্তরকে সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কিশোর তপনের মোহভঙ্গ এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এক প্রকৃত সাহিত্যিক সত্তার জন্ম হওয়াই গল্পের মূল প্রতিপাদ্য। তাই অন্তর্নিহিত ভাববস্তু ও মানসিক বিবর্তনের বিচারে ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও শিল্পমণ্ডিত।

২য় অধ্যায় : বহুরূপী — সুবোধ ঘোষ

সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের নির্বাচিত MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত এবং হরিদার চরিত্র ও বিরাগী বেশের ৫ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

৪বহুরূপী হরিদার জীবনের সবচেয়ে বড়ো পেশা ও শখ ছিল— ১০০% কমন
কমাস্টারি করা
খদোকানে চাকরি করা
গবহুরূপী সেজে মানুষকে আনন্দ দেওয়া
ঘসাধুসেবা করা
উত্তর
গবহুরূপী সেজে মানুষকে আনন্দ দেওয়া
৫জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা হিমালয়ের সন্ন্যাসী সারা বছর কী খেতেন? ১০০% কমন
ককেবল গঙ্গাজল
খএকটি হরীতকী
গফলমূল
ঘদুধ ও মিষ্টি
উত্তর
খএকটি হরীতকী
৬বিরাগী রূপী হরিদা জগদীশবাবুর দেওয়া কত টাকার প্রণামী হেলায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন? ১০০% কমন
কএকশো এক টাকা
খএকশো টাকা
গপাঁচশো টাকা
ঘএকান্ন টাকা
উত্তর
কএকশো এক টাকা

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৩"অদৃষ্ট কখনো হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।" — হরিদার কোন ভুলের কথা বলা হয়েছে? মান ১
উত্তর

বিরাগী সেজে ধনী জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার প্রণামী হেলায় প্রত্যাখ্যান করে চলে আসার ঘটনাটিকে হরিদার ‘ভুল’ বলা হয়েছে।

৪হরিদা কেন স্কুলে মাস্টারি বা দোকানের চাকরি করতে পারেননি? মান ১
উত্তর

হরিদা ঘড়ির কাঁটার বাঁধাধরা নিয়মে একঘেয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন না বলেই মাস্টারি বা দোকানের চাকরি করতে পারেননি।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১৪"আজ তোরা মা লক্ষ্মীকে চক্ষুদান করবি।" — কে, কাদের এ কথা বলেছিলেন? এখানে ‘মা লক্ষ্মী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? (২+১) মান ৩
উত্তর

সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা তাঁর আড্ডার চার বন্ধু (গল্পকথক, অনাদি, ভবতোষ ও বাসুদেব)-কে এ কথা বলেছিলেন।

এখানে ‘মা লক্ষ্মী’ বলতে ধনী ও কৃপণ জগদীশবাবুর কাছ থেকে মোটা টাকা বকশিশ বা উপার্জন লাভ করাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে বোঝানো হয়েছে।

১৫"খুব চমৎকার পাগল সাজতে পেরেছে তো লোকটা!" — কার সম্পর্কে, কারা এ কথা বলেছিল? পাগলের সাজটির বর্ণনা দাও। (১+২) মান ৩
উত্তর

বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীরা বহুরূপী হরিদার সম্পর্কে এ কথা বলেছিল।

উন্মাদ পাগলের সাজে হরিদার মুখ দিয়ে লালা ঝরছিল, চোখ দুটি ছিল কটকটে লাল, কোমরে ছিল একটা ছেঁড়া কম্বল জড়ানো এবং গলায় ঝুলছিল টিনের একটা কৌটোর মালা। তিনি একটা আধলা ইট তুলে যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিলেন।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

৪‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে হরিদার চরিত্র বিশ্লেষণ করো। অথবা, হরিদার জীবনে নাট্যবৈচিত্র্য কীভাবে ধরা দিয়েছিল? উন্মাদ পাগল, বাইজি, পুলিশ এবং বিরাগী—এই চারটি ছদ্মবেশের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে তাঁর শিল্পীসত্তার মূল্যায়ন করো। বহুরূপী • মান ৫
উত্তর
  • উৎস ও চরিত্র প্রসঙ্গ : বিশিষ্ট কথাশিল্পী সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হলেন শহরের এক নিভৃত গলির বাসিন্দা হরিদা। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজের শিল্পীসত্তাকে যিনি বিকিয়ে দেননি, হরিদা সেই চিরন্তন শিল্পীর প্রতীক।
  • হরিদার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও চার ছদ্মবেশের নাট্যবৈচিত্র্য :
    (১) বাঁধনহারা স্বাধীন জীবনযাপন : হরিদার উনুনে অনেক সময় ভাতের হাঁড়ি চড়ত না, কিন্তু ঘড়ির কাঁটার বাঁধাধরা নিয়মে কোনো দোকানে বা অফিসে কাজ করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ ছিল। তিনি অভাবকে বরণ করেছেন, কিন্তু স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেননি।
    (২) উন্মাদ পাগল : মুখ থেকে লালা ঝরা, ধুলোধূসরিত শরীর, রক্তবর্ণ চোখ, কোমরে ছেঁড়া কম্বল ও গলায় টিনের কৌটোর মালা পরে ইট তুলে বাসের যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাওয়া—পাগলের এই অভিনয়ে তিনি ছিলেন ১০০% বাস্তব ও ভয়ংকর।
    (৩) রূপসী বাইজি : সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে ঘুঙুরের মিষ্টি নিক্বণ তুলে শহরের রাজপথ দিয়ে নাচতে নাচতে রূপসী বাইজির বেশে দোকানদারদের চমকে দিয়ে তিনি আট টাকা দশ আনা রোজগার করেছিলেন। কেউ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি যে ইনি সেই হরিদা।
    (৪) নকল পুলিশ : দয়ালবাবুর লিচুবাগানে চারজন নিরীহ স্কুলছাত্রকে ধরে নকল পুলিশ সেজে স্কুলের মাস্টারমশাইকে এমন বোকা বানিয়েছিলেন যে মাস্টারমশাই নিজে এসে আট আনা ঘুষ দিয়ে ছাত্রদের ছাড়িয়ে নিয়েছিলেন।
    (৫) জটাধারী বিরাগী ও আত্মমর্যাদা : ধনী ও কৃপণ জগদীশবাবুর বাড়িতে ধবধবে সাদা উত্তরীয় ও শান্ত বিরাগীর বেশে গিয়ে তিনি যে নির্লোভ বৈরাগ্যের পাঠ দিয়েছিলেন, তা স্বয়ং জগদীশবাবুকে নতজানু করেছিল। জগদীশবাবু প্রণামী হিসেবে একশো এক টাকার থলি দিতে চাইলে হরিদা তা হেলায় প্রত্যাখ্যান করেন; কারণ একজন খাঁটি বিরাগী কখনো অর্থের স্পর্শে কলুষিত হতে পারে না। পরিশেষে আট আনা বকশিশ চেয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে তিনি দরিদ্র হতে পারেন, কিন্তু তাঁর শিল্পীসত্তা আত্মমর্যাদায় বলীয়ান।
৫"আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?" বা "আমার বুকের ভেতরই যে সব তীর্থ।" — কে, কাকে এ কথা বলেছেন? জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীবেশী হরিদার যাওয়ার ঘটনাটি ও তাঁর জীবনদর্শন সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (২+৩) বহুরূপী • মান ৫
উত্তর
  • বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি : কথাশিল্পী সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পে উদ্ধৃত গভীর তাৎপর্যময় উক্তি দুটির বক্তা হলেন বহুরূপী শিল্পী হরিদা (বিরাগীর ছদ্মবেশে)। তিনি ধনী ও কৃপণ জগদীশবাবু-কে উদ্দেশ্য করে এই কথাগুলি বলেছিলেন।
  • জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী হরিদার আগমন : কৃপণ জগদীশবাবু হিমালয়ের সাধুর পদধূলি নেওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। এই ভণ্ড ধার্মিকতাকে তীব্র নাটকীয় আঘাত করতে হরিদা ধবধবে সাদা উত্তরীয় গায়ে, খালি পায়ে এবং ধুলোমাখা জটায় শান্ত বিরাগীর রূপ ধারণ করে চাঁদের আলোয় জগদীশবাবুর চাতালে উপস্থিত হন। বারান্দার উঁচুতে দাঁড়িয়ে থাকা অহংকারী জগদীশবাবুকে দেখে তিনি প্রশ্ন তোলেন—"আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?" হরিদার উদাত্ত কণ্ঠ ও স্নিগ্ধ রূপ দেখে জগদীশবাবু সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
  • হরিদার জীবনদর্শন ও প্রণামী প্রত্যাখ্যান : বিরাগী রূপী হরিদা জগদীশবাবুকে সম্পদের অনিত্যতা বুঝিয়ে বলেন যে সোনা-টাকা কেবল মোহের খাঁচা, পরম সত্য হলো নিজের আত্মাকে জানা। জগদীশবাবু যখন তাঁকে তীর্থভ্রমণের জন্য অর্থ সাহায্য দিতে চান, তখন হরিদা এক অপূর্ব আত্মোপলব্ধিতে জানান—"আমার বুকের ভেতরই যে সব তীর্থ"। বিদায়কালে জগদীশবাবু জোর করে সিঁড়ির কাছে একশো এক টাকার একটি থলি রেখে প্রণাম করলে হরিদা তা স্পর্শ না করে ত্যাগ করে চলে আসেন। চরম দারিদ্র্যে থেকেও চরিত্রের শুদ্ধতা ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠাকে অর্থের কাছে বিকিয়ে না দেওয়াই ছিল হরিদার জীবনের অনন্য দর্শন।

৩য় অধ্যায় : পথের দাবী — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনার MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং অপূর্ব চরিত্রের দেশপ্রেম ও মানসিক দ্বন্দ্বের ৫ নম্বরের উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

৭গিরীশ মহাপাত্রের বুকপকেটের রুমালে কীসের ছবি আঁকা ছিল? ১০০% কমন
কময়ূরের
খসিংহের
গগোলাপ ফুলের
ঘবাঘের
উত্তর
ঘবাঘের
৮গিরীশ মহাপাত্রের পকেটের টিনের বাক্সে কী পাওয়া গিয়েছিল? ১০০% কমন
কগাঁজার কলকে
খরিভলভার
গটাকা
ঘচিঠি
উত্তর
কগাঁজার কলকে
৯অপূর্ব পুলিশ স্টেশনে কাকে দেখে মুখ ফিরিয়ে হাসি গোপন করেছিল? ১০০% কমন
কজগদীশবাবুকে
খগিরীশ মহাপাত্রকে
গনিমাইবাবুকে
ঘতেওয়ারিকে
উত্তর
খগিরীশ মহাপাত্রকে

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৫"বুড়ো মানুষের কথাটা শোনো।" — বুড়ো মানুষটি কে এবং তিনি কী কথা শোনানোর কথা বলেছেন? মান ১
উত্তর

বুড়ো মানুষটি হলেন পুলিশ ইনস্পেক্টর নিমাইবাবু। তিনি গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

৬অপূর্ব কেন বর্মায় (রেঙ্গুনে) এসেছিল? মান ১
উত্তর

এম.এসসি. পাশ করার পর অপূর্ব রেঙ্গুনের এক সাহেবি সওদাগরি অফিসে বড়োবাবুর পদে চাকরি নিয়ে বর্মায় এসেছিল।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১"বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে তা স্বীকার করতে হবে।" — ‘বাবুটি’ কে? তার শখ যে বজায় আছে, তা কীভাবে বোঝা গেল? (১+২) মান ৩
উত্তর

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে ‘বাবুটি’ বলতে ছদ্মবেশী বিপ্লবী গিরীশ মহাপাত্রকে বোঝানো হয়েছে।

অত্যন্ত রুগ্‌ণ ও ক্ষয়রোগগ্রস্ত চেহারা হওয়া সত্ত্বেও গিরীশ মহাপাত্রের মাথায় ছিল নেবুর তেলের উগ্র গন্ধযুক্ত চেরাকাটা চুল, গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, বুকপকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল এবং পায়ে সবুজ রঙের ফুলমোজা ও বার্নিশ করা পাম্প শু। এই অদ্ভুত ও সৌখিন বেশভূষা দেখেই তার শখের পরিচয় পাওয়া যায়।

২"তাহার পরিচ্ছদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল।" — কে হাসি গোপন করেছিল? যার পরিচ্ছদ দেখে হাসি গোপন করা হয়েছিল তার পোশাকের বর্ণনা দাও। (১+২) মান ৩
উত্তর

পুলিশ স্টেশনে উপস্থিত অপূর্ব গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক দেখে হাসি গোপন করেছিল।

গিরীশ মহাপাত্রের পরনে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, বিলাতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি (ধুতি), হাঁটু পর্যন্ত লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা সবুজ রঙের ফুলমোজা এবং তলায় লোহার নাল বাঁধানো বার্নিশ করা পাম্প শু।

৩"তেওয়ারি ঘরে ছিল না..." — তেওয়ারি কোথায় গিয়েছিল? সে ফিরে এসে অপূর্বকে কোন লজ্জাজনক খবর দিয়েছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

অপূর্বর ভৃত্য তেওয়ারি বার্মা নাচ দেখতে গিয়েছিল।

সে ফিরে এসে অপূর্বকে জানায় যে, সাহেবদের আনন্দের জন্য ফৌজের গোরারা বা ফিরিঙ্গি ছোকরারা বিনা অপরাধে অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল এবং কোনো ভারতীয়ই তার প্রতিবাদ করেনি।

৪"যাকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।" — বক্তা কে? কাকে খোঁজার কথা বলা হয়েছে এবং তাঁর ‘কালচার’ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? (১+২) মান ৩
উত্তর

উদ্ধৃত কথাটির বক্তা হলেন পুলিশ ইনস্পেক্টর নিমাইবাবু। এখানে রাজদ্রোহী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে খোঁজার কথা বলা হয়েছে।

সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন অসাধারণ শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান। তিনি বিলাত থেকে ডাক্তারি পাশ করেছিলেন এবং দশ-বারোটি বিদেশি ভাষায় অনায়াসে কথা বলতে পারতেন। গিরীশ মহাপাত্রের মতো অমার্জিত পোশাকের মানুষ যে সব্যসাচী হতে পারেন না, নিমাইবাবু তা-ই বোঝাতে চেয়েছেন।

৫"কিন্তু ইহাদের তুল্য রূপগুণের মানুষ তো আর সে দেখে নাই!" — কার সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির রূপগুণের পরিচয় দাও। (১+২) মান ৩
উত্তর

‘পথের দাবী’ রচনাংশে অপূর্ব তার অফিসের সহকর্মী খ্রিস্টান তরুণী ভারতীর সম্পর্কে এই কথা ভেবেছে।

ভারতী শুধুমাত্র পরমাসুন্দরীই ছিল না, তার চরিত্রের মাধুর্য, সেবাধর্ম এবং পরের দুঃখে কাতর হওয়ার মানবিক গুণ অপূর্বকে মুগ্ধ করেছিল। প্রবাসে মায়ের মতো যত্ন দিয়ে সে অপূর্বকে আগলে রেখেছিল।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

৮‘পথের দাবী’ রচনাংশ অবলম্বনে অপূর্ব চরিত্রের দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদাবোধ ও মানসিক দ্বন্দ্বের পরিচয় দাও। পথের দাবী • মান ৫
উত্তর
  • উৎস ও চরিত্র পরিচিতি : অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পথের দাবী’-র নির্বাচিত পাঠ্যাংশে অপূর্ব চরিত্রটি পরাধীন ভারতের এক শিক্ষিত, সংবেদনশীল অথচ দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত বাঙালি যুবকের সার্থক প্রতিচ্ছবি।
  • চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ :
    (১) সুগভীর দেশপ্রেম ও বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা : ব্রিটিশের সওদাগরি অফিসে চাকরি করলেও অপূর্বর ধমনীতে বইছিল নিখাদ দেশপ্রেম। রাজদ্রোহী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে পুলিশ যখন চতুর্দিকে খুঁজছে, তখন অপূর্বর হৃদয়ে সব্যসাচীর জন্য প্রবাহিত হচ্ছিল অগাধ শ্রদ্ধা। সে পুলিশ ইনস্পেক্টর নিমাইবাবুকে অকপটে জানিয়েছিল যে, দেশের স্বাধীনতার জন্য যিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও জীবন পণ করেছেন, তিনি যত বড়ো রাজদ্রোহীই হোন না কেন, অপূর্ব তাঁর বিরুদ্ধে কোনোদিন সাক্ষ্য দিতে পারবে না।
    (২) লাঞ্ছনা ও আত্মমর্যাদাবোধ : অপূর্ব আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এক যুবক। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বিনা অপরাধে ফিরিঙ্গি গোরা ছোকরাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে এবং ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার কোনো প্রতিকার না পেয়ে পরাধীন জাতির অপমানের তীব্র দহন সে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিল। পরাধীনতার লজ্জা তাকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল।
    (৩) মানসিক দ্বন্দ্বের টানাপোড়েন : একদিকে পিতা ও পারিবারিক সংস্কারের অনুশাসন এবং সরকারি চাকরির সামাজিক দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে দেশের মুক্তির জন্য আত্মাহুতির তীব্র আহ্বান—এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের মাঝে অপূর্বর মন প্রতিনিয়ত দোলাচলে ভুগেছে।
    (৪) গোঁড়ামিমুক্ত মানবিকতা : নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হয়েও প্রবাসে খ্রিস্টান তরুণী ভারতীর মাতৃসম সেবা ও অকৃত্রিম ভালোবাসাকে সে ধর্ম বা জাতপাতের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। অপূর্ব তাই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝেও এক আদর্শ দেশপ্রেমিক চরিত্র।

৪র্থ অধ্যায় : অদল বদল — পান্নালাল প্যাটেল

পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত এবং অমৃত-ইসাবের বন্ধুত্বের ৫ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ মডেল উত্তরমালা।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

১০অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের অমর নিদর্শন পাওয়া যায় কোন উৎসবে? ১০০% কমন
কদেওয়ালি
খঈদ
গহোলির দিন
ঘমহরম
উত্তর
গহোলির দিন
১১গ্রামপ্রধান অমৃত ও ইসাবকে কী নাম দিয়েছিলেন? ১০০% কমন
কঅদল ও বদল
খমানিকজোড়
গরাম ও লক্ষণ
ঘদুই বন্ধু
উত্তর
কঅদল ও বদল

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৭"ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।" — কে, কাকে কী শিখিয়েছে? মান ১
উত্তর

অমৃত ইসাবের বাবা হাসানকে শিখিয়েছে যে, মানুষের প্রাণের চেয়ে মায়ের মমতা এবং নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বই পৃথিবীর সবচেয়ে খাঁটি জিনিস।

৮অমৃতের মা কেন অমৃতকে নতুন জামা কিনে দিতে রাজি হননি? মান ১
উত্তর

অমৃতের গোঁয়ার্তুমি ও জামা ছিঁড়ে ফেলার অভ্যাসের জন্য এবং সামান্য আর্থিক টানাটানির কারণে তার মা প্রথমে নতুন জামা কিনে দিতে চাননি।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১০"অমৃত সত্যিই তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।" — অমৃত কীভাবে বাবা-মাকে জ্বালিয়েছিল এবং শেষপর্যন্ত তার মা কী করেছিলেন? (২+১) মান ৩
উত্তর

পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে বন্ধু ইসাবের নতুন জামা কেনার খবর শুনে অমৃতও হোলির দিন নতুন জামার বায়না ধরে। সে স্কুলে যাওয়া, খাওয়াদাওয়া এবং রাত্রে মায়ের কাছে শোয়া বন্ধ করে গোয়ালঘরে লুকিয়ে থাকে।

ছেলের এই অনমনীয় জেদের কাছে হার মেনে অমৃতের মা শেষপর্যন্ত তার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নতুন জামা কিনে দিতে বাধ্য হন।

১১"কালিয়ার সঙ্গে লড়তে অমৃতের আদৌ ইচ্ছা ছিল না।" — কালিয়া কে? অমৃত কেন তার সঙ্গে লড়তে চায়নি এবং শেষপর্যন্ত কী ঘটেছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

কালিয়া ছিল গ্রামেরই এক দুরন্ত ও গায়ে জোর থাকা ছেলে।

অমৃত তার মায়ের নিষেধের ভয়ে এবং সদ্য কেনা নতুন জামাটি ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে চায়নি। কিন্তু কালিয়া অমৃতকে জোর করে মাঠে আছাড় মারলে প্রিয় বন্ধুর অপমান সহ্য করতে না পেরে ইসাব কালিয়াকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়।

১২"উনি দশ বছরের অমৃত ও ইসাবকে জড়িয়ে ধরলেন।" — ‘উনি’ কে? কেন তিনি ওদের জড়িয়ে ধরেছিলেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

এখানে ‘উনি’ হলেন ইসাবের বাবা হাসান পাঠান।

নিজের নতুন জামা ছিঁড়ে যাওয়া সত্ত্বেও অমৃতকে মায়ের হাতের মার থেকে বাঁচাতে ইসাব যেভাবে নিজের জামা বদলে নিয়েছিল এবং অমৃতের মুখে মায়ের ভালোবাসার কথা শুনে হাসান অভিভূত হয়ে দুই বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।

১৩"গলার স্বরটা এমনই যে অমৃতের হৃদয় চমকে উঠল।" — কার গলার স্বর? অমৃত কেন চমকে উঠেছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

গলার স্বরটি ছিল ইসাবের বাবা হাসান পাঠানের।

জামা অদলবদল করে দুই বন্ধু যখন গলি দিয়ে ফিরছিল, তখন হঠাৎ ইসাবের বাবার গম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনে তাদের চুরি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অমৃত চমকে উঠেছিল।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

১"কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।" — বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে তার এই উক্তি? এই উক্তির মধ্য দিয়ে বক্তার চারিত্রিক কোন দিকটি ফুটে উঠেছে এবং তা কীভাবে দুই বন্ধুর সম্পর্ককে অমর করে তুলেছে আলোচনা করো। (১+১+৩) অদল বদল • মান ৫
উত্তর
  • বক্তা ও প্রসঙ্গ : প্রখ্যাত গুজরাটি কথাসাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পে উদ্ধৃত গভীর আত্মপ্রত্যয়মূলক উক্তিটির বক্তা হলো দশ বছরের দুরন্ত অথচ সংবেদনশীল বালক অমৃত।
    হোলির দিন নতুন জামা পরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেরোলে দুরন্ত কালিয়ার সাথে জোরপূর্বক কুস্তিতে প্রিয় বন্ধু ইসাবের নতুন জামার পকেট ছিঁড়ে যায়। ইসাবের মা না থাকায় তার অত্যন্ত কঠোর স্বভাবের পিতা হাসান পাঠানের নির্মম মারের ভয়ে ইসাব যখন কান্নায় ভেঙে পড়ছিল, তখন অমৃত নিজের অক্ষত নতুন জামাটি ইসাবকে পরিয়ে দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তখন বিস্মিত ইসাব সংশয় প্রকাশ করে বলেছিল যে অমৃতের বাবাও তো তাকে মারধর করবেন; সেই প্রেক্ষিতেই অমৃত দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছিল—তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা রয়েছেন।
  • বক্তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য :
    (১) অনুপম আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা : সামান্য একটি নতুন জামা নয়, বন্ধুর কান্না ও মারের ভীতি দূর করতে অমৃত নিজের সমস্ত সুখ ও পিতৃপ্রহারের ভয় অবলীলায় বিসর্জন দিয়েছিল।
    (২) মাতৃস্নেহের প্রতি অটল বিশ্বাস : অমৃত জানত তার মা যতই শাসন করুন না কেন, চরম বিপদে বাবার প্রহার থেকে পরম স্নেহে কেবল মাই সন্তানকে রক্ষা করতে পারেন। দশ বছরের এক শিশুর মনে মাতৃস্নেহের এই অবিচল ভরসাই উক্তিটিকে প্রাণবন্ত করেছে।
    (৩) সূক্ষ্ম মানবিক সহানুভূতি : ইসাব মাতৃহীন—এই সত্যটি অমৃতের কোমল হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। নিজের মায়ের স্নেহ আছে বলেই সে মায়ের বকুনি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু মাতৃহীন বন্ধুকে বাবার নির্মম শাসনের মুখে ফেলে দিতে চায়নি।
  • সম্পর্কের অমরত্ব : হিন্দু অমৃত এবং মুসলমান ইসাবের এই অকৃত্রিম আত্মত্যাগ কোনো কৃত্রিম ধর্মের বা জাতপাতের সংকীর্ণ সীমায় বাঁধা ছিল না। তাদের এই নির্ভেজাল বন্ধুত্ব কেবল তাদের নিজেদের নয়, দুই ভিন্ন ধর্মীয় পরিবার ও সমগ্র গ্রামবাসীর হৃদয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিল। অমৃতের এই উক্তি ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করে ভালোবাসার গভীরতা পার্থিব কোনো নিয়মে মাপা যায় না; আর এই কারণেই দুই বন্ধুর এই পবিত্র সম্পর্ক বিশ্বসাহিত্যে অমর হয়ে রয়েছে।
২"অমৃত ও ইসাবের বাবা তাজ্জব হয়ে গেলেন।" — কোন ঘটনা দেখে তাঁরা তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন? এই ঘটনা কীভাবে গ্রামের সাম্প্রদায়িক পরিবেশকে বদলে দিয়েছিল এবং গল্পের নামকরণকে সার্থক করে তুলেছিল? (২+৩) অদল বদল • মান ৫
উত্তর
  • তাজ্জব হয়ে যাওয়ার ঘটনা : হোলির দিন নতুন জামা ছিঁড়ে যাওয়ার পর মাতৃহীন ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচাতে হিন্দু বালক অমৃত কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের নতুন জামাটি ইসাবকে দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেয়। পরবর্তীতে ইসাবের বাবা হাসান যখন অমৃতের মুখে শোনেন—"আমাকে বাঁচানোর জন্য আমার মা আছে, কিন্তু ইসাবের তো মা নেই"—তখন দশ বছরের দুটি বালকের এমন অভাবনীয় পারস্পরিক ত্যাগ, অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং জাতপাতের ঊর্ধ্বে বন্ধুত্বের আত্মিক গভীরতা দেখে অমৃত ও ইসাবের বাবা আনন্দে ও বিস্ময়ে তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন।
  • গ্রামের সাম্প্রদায়িক পরিবেশের রূপান্তর : অমৃত ছিল হিন্দু সন্তান এবং ইসাব ছিল মুসলিম পাঠান পরিবারের ছেলে। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় যখন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে বিভেদ ও অনৈক্য মাথাচাড়া দিচ্ছিল, তখন দুই নিষ্পাপ শিশুর এই ভালোবাসা পুরো গ্রামের মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। হাসান পাঠান স্বয়ং অমৃতকে বুকে জড়িয়ে ধরে সারা গ্রামে এই গল্প প্রচার করেন। ফলে গ্রামের হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ সমস্ত সংকীর্ণতা ভুলে এক মহামিলনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। শিশুদের নিষ্কলুষ প্রেম সমাজে সম্প্রীতির এক আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে।
  • নামকরণের সার্থকতা : বাহ্যিক দৃষ্টিতে গল্পটিতে দেখা যায় দুটি বালকের নতুন ও ছেঁড়া জামার বদল। কিন্তু লেখক পান্নালাল প্যাটেল এই সাধারণ জামা বদলের অন্তরালে দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষের হৃদয়ের ভাববিনিময় ও সম্প্রীতির আত্মিক রূপান্তরকে তুলে ধরেছেন। গ্রামপ্রধান স্বয়ং অমৃতকে ‘অদল’ এবং ইসাবকে ‘বদল’ উপাধি দেন। সংকীর্ণ ধর্মীয় গোঁড়ামির বিপরীতে দাঁড়িয়ে অকৃত্রিম ভালোবাসার যে বিনিময় ও সম্প্রীতির আদর্শ এখানে রচিত হয়েছে, সেই ব্যঞ্জনার দিক দিয়ে ‘অদল বদল’ নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৩‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের স্বরূপ এবং দুই পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থার তুলনামূলক পরিচয় দাও। অদল বদল • মান ৫
উত্তর
  • অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের স্বরূপ : পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব ছিল নিখাদ, নিষ্কলুষ ও স্বার্থহীনতার এক অনন্য প্রতীক।
    (১) অভিন্ন স্বভাব ও সাজসজ্জা : দুজন সমবয়সি বালক একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ত, একই পাড়ায় বসবাস করত এবং উভয়ের শারীরিক গঠন ও পোশাকও ছিল প্রায় একরকম।
    (২) সংকটে পাশে দাঁড়ানো : হোলির দিন কালিয়া যখন অন্যায়ভাবে অমৃতের ওপর চড়াও হয়ে তাকে মাটিতে আছাড় মারে, তখন ইসাব বন্ধু অপমানের প্রতিশোধ নিতে কালিয়ার সাথে লড়ে তাকে পরাস্ত করে। আবার ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেলে নিজের পিতৃপ্রহারের ভয় তুচ্ছ করে অমৃত নিজের নতুন জামাটি ইসাবকে দিয়ে দেয়। বন্ধুর চোখের জল মোছাতে নিজের সর্বস্ব পণ করার এই মানসিকতাই তাদের বন্ধুত্বের মূল চালিকাশক্তি।
  • দুই পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থার তুলনামূলক পরিচয় :
    (১) অমৃতের পরিবার : অমৃতের পরিবারে মা, বাবা এবং তিন ভাই ছিল। আর্থিক দিক থেকে টানাটানি থাকলেও সংসারে অভাবের তীব্রতা ততটা প্রকট ছিল না। সবচেয়ে বড়ো কথা, পরিবারে মায়ের স্নেহময় উপস্থিতি ছিল এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মা রাগ করলেও অমৃত জানত বাবার মারের হাত থেকে মা তাকে রক্ষা করবেন।
    (২) ইসাবের পরিবার : ইসাবের পরিবার ছিল নিতান্তই ক্ষুদ্র ও নিরাশ্রয়। তার পরিবারে কেবল তার বাবা হাসান পাঠান ছাড়া আর কেউ ছিল না। বহু বছর আগেই ইসাবের মা মারা গিয়েছিলেন। একাকী হাসান অত্যন্ত শ্রমসাধ্য চাষবাস বা দিনমজুরি করে ছেলেকে মানুষ করছিলেন। সংসারে মাতৃস্নেহের কোনো পরশ না থাকায় ইসাব বাবার কঠোর শাসনের ভয়ে সর্বদা তটস্থ থাকত। আর্থিক অনটনের পাশাপাশি এই পারিবারিক শূন্যতাই দুই পরিবারের মূল পার্থক্য।

৫ম অধ্যায় : নদীর বিদ্রোহ — মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং নদীর বিদ্রোহ ও নদেরচাঁদের নদীপ্রীতির ৫ নম্বরের উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

১২'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের বয়স কত ছিল? ১০০% কমন
কপঁচিশ বছর
খত্রিশ বছর
গপঁয়ত্রিশ বছর
ঘচল্লিশ বছর
উত্তর
খত্রিশ বছর
১৩নদেরচাঁদ কত দিন উন্মত্ত নদীকে দেখতে পায়নি? ১০০% কমন
কতিন দিন
খপাঁচ দিন
গসাত দিন
ঘদশ দিন
উত্তর
খপাঁচ দিন
১৪নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায় কোন ট্রেনটি? ১০০% কমন
ক৫ নম্বর আপ মেল
খ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার
গ৯ নম্বর ডাউন এক্সপ্রেস
ঘমালগাড়ি
উত্তর
খ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৯নদেরচাঁদ নদীর ব্রিজের ওপর কেন বসেছিল? মান ১
উত্তর

টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠা উন্মত্ত নদীর ভয়ংকর জলপ্রবাহকে খুব কাছ থেকে দেখার ও অনুভব করার জন্য নদেরচাঁদ ব্রিজের ওপর বসেছিল।

১০৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যাওয়ার সময় কীসের শব্দ শোনা গিয়েছিল? মান ১
উত্তর

৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যাওয়ার পর ছোটো স্টেশনের কাছে ট্রেনের তীক্ষ্ণ বাঁশির শব্দ শোনা গিয়েছিল।

---

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১৬"নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।" — কোন দৃশ্য দেখে নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল এবং কেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে ব্রিজের স্তম্ভে বাধাপ্রাপ্ত উন্মত্ত নদীর ঘূর্ণমান জলের ফেনা ও ভয়ংকর গর্জন দেখে নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।

কারণ তার চেনা শান্ত ও ক্ষীণস্রোতা নদীটি যে পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে এত ভয়ংকর ও বিদ্রোহী রূপ ধারণ করতে পারে, তা তার কল্পনারও বাইরে ছিল।

১৭নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে কী ধরনের চিঠি লিখেছিল এবং সেই চিঠি লেখার কারণ কী ছিল? (২+১) মান ৩
উত্তর

নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে পাঁচ পাতার একটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও বিরহবেদনায় ভরা চিঠি লিখেছিল।

টানা পাঁচ দিন ধরে অবিরাম বর্ষণের ফলে নদীর প্লাবন এবং একাকী স্টেশনে প্রিয়তমা স্ত্রীর অনুপস্থিতি তার মনে যে গভীর বিষণ্ণতার সৃষ্টি করেছিল, তা প্রকাশ করতেই সে চিঠিটি লিখেছিল।

---

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

৬"নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।" — কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কী বুঝেছিল? মানুষের তৈরি বাঁধ ও প্রকৃতির সংঘাতের পরিণতি গল্পে কীভাবে ফুটে উঠেছে লেখো। (১+২+২) নদীর বিদ্রোহ • মান ৫
উত্তর
  • কে বুঝতে পেরেছে : কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে উদ্ধৃত অংশের উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হলেন নদীপ্রেমিক স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ।
  • নদীর বিদ্রোহের স্বরূপ ও অর্থ : টানা পাঁচ দিনের অবিরাম বর্ষণে শান্ত ও ক্ষীণস্রোতা নদীটি যখন ফুলেফেঁপে ভয়ংকর গর্জন করতে করতে ব্রিজের স্তম্ভে ও কংক্রিটের বাঁধে আছড়ে পড়ছিল, তখন সেই দৃশ্য দেখে নদেরচাঁদ অনুভব করে এটি কোনো সাধারণ জলস্ফীতি নয়। মানুষ নিজের সুবিধা ও বাণিজ্যের স্বার্থে নদীর স্বাভাবিক মুক্ত গতিপথকে কংক্রিট ও লোহার ব্রিজের খাঁচায় বন্দি করেছে। নদীর এই উন্মত্ত আক্রোশ, ফেনিল আবর্ত ও গর্জন আসলে মানুষের যান্ত্রিক অহংকারের বিরুদ্ধে প্রকৃতিরই এক প্রবল ও রুদ্র ‘বিদ্রোহ’। নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল বন্দি নদী যেন মানুষের এই কৃত্রিম দাসত্ব ভেঙে চুরমার করে নিজের অবাধ স্বাধীনতা ফিরে পেতে চাইছে।
  • মানুষ ও প্রকৃতির সংঘাতের পরিণতি :
    (১) যন্ত্রসভ্যতার অহংকারের প্রতি হুমকি : নদেরচাঁদ ব্রিজের ওপর বসে স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল যে প্রকৃতি যখন রুষ্ট হয়, তখন মানুষের তৈরি আধুনিক ব্রিজ, বাঁধ ও প্রযুক্তি খড়কুটোর মতো ভেসে যেতে পারে। মানুষের অহংকার প্রকৃতির রুদ্র শক্তির সামনে অত্যন্ত ক্ষণভঙ্গুর।
    (২) নদেরচাঁদের মর্মান্তিক মৃত্যু : গল্পে যন্ত্র ও প্রকৃতির সংঘাতের চরম মূল্য দিতে হয় নদেরচাঁদকে নিজে। প্রকৃতির প্রতি গভীর মায়া এবং যন্ত্রসভ্যতার চাকরিজীবী হওয়ার টানাপোড়েনে আচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টিভেজা রেললাইন ধরে স্টেশনে ফেরার সময় যন্ত্রসভ্যতার নির্মম প্রতিনিধি ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়। প্রকৃতির সন্তান মানুষ শেষপর্যন্ত নিজেরই সৃষ্ট যন্ত্রদানবের চাকার তলায় নির্মমভাবে বলি হয়।
৭‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদের নদীপ্রীতির পরিচয় দাও। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের এই ছেলেমানুষি আবেগ কীভাবে তার মর্মান্তিক পরিণতির কারণ হয়ে দাঁড়াল তা আলোচনা করো। (৩+২) নদীর বিদ্রোহ • মান ৫
উত্তর
  • নদেরচাঁদের নদীপ্রীতির স্বরূপ : ত্রিশ বছর বয়সি স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের নদীর প্রতি টান ছিল এক অদ্ভুত, রোমান্টিক ও ছেলেমানুষি ভালোবাসার মতো।
    (১) শৈশবের নাড়ির টান : নদেরচাঁদের জন্ম ও বড়ো হওয়া নদীর তীরেই। নদী ছিল তার মায়ের মতো পরম স্নেহের আশ্রয়। শৈশবে একবার তাদের গ্রামের নদীটি অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে অসুস্থ মানুষের মতো নদীর জন্য ব্যাকুল হয়ে কেঁদেছিল।
    (২) কর্মস্থলেও নদীর সান্নিধ্য : চার বছর ধরে এক নির্জন স্টেশনে মাস্টারি করার সময়ও সে নদীর সান্নিধ্য ছাড়া বাঁচতে পারত না। টানা পাঁচ দিন অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদীকে দেখতে না পেয়ে সে কর্মব্যস্ততার মধ্যেও ছটফট করছিল। ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ব্রিজের ওপর গিয়ে উন্মত্ত নদীর গর্জন দেখা, পকেট থেকে স্ত্রীর জন্য লেখা বিরহপত্র বের করে ঠোঙা বানিয়ে নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া—তার নদীপ্রেম ছিল এক উন্মাদনার নামান্তর।
  • ছেলেমানুষি আবেগ ও মর্মান্তিক পরিণতি :
    একজন পূর্ণবয়স্ক দায়িত্বশীল রেল কর্মচারীর পক্ষে এই অতি-ভাবালুতা ও অবাস্তব আবেগই কাল হয়ে দাঁড়াল। ব্রিজের ওপর বসে নদীর রুদ্র রূপ দেখতে দেখতে তার বাস্তবজ্ঞান সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়েছিল। সে খেয়ালই করেনি যে রেললাইন মানুষের যন্ত্রসভ্যতার এক বিপজ্জনক পথ। অন্যমনস্ক হয়ে অন্ধকার ও বৃষ্টির মধ্যে লাইন দিয়ে হাঁটার সময় সে পেছনে ধেয়ে আসা ট্রেনের তীব্র আলো ও তীক্ষ্ণ হুইসল শুনতে পায়নি। ফলে যন্ত্রসভ্যতার প্রতীক ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। নদীর প্রতি অতিরিক্ত ছেলেমানুষি অন্ধ ভালোবাসাই শেষপর্যন্ত নদেরচাঁদের অকালমৃত্যু ডেকে আনে।

৬ষ্ঠ অধ্যায় : অসুখী একজন — পাবলো নেরুদা

পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতার নির্বাচিত MCQ, SAQ এবং যুদ্ধের ধ্বংসলীলা সংক্রান্ত ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

১৫'অসুখী একজন' কবিতায় মেয়েটি কোথায় অপেক্ষা করছিল? ১০০% কমন
কছাদে
খবারান্দায়
গরাস্তায়
ঘদরজায়
উত্তর
ঘদরজায়
১৬'অসুখী একজন' কবিতার মূল কবি পাবলো নেরুদা কোন দেশের মানুষ ছিলেন? ১০০% কমন
কচিলি
খস্পেন
গফ্রান্স
ঘমেক্সিকো
উত্তর
কচিলি (অনুবাদক: নবারুণ ভট্টাচার্য)

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

১"রক্তের একটা কালো দাগ" — কোথায় রক্তের কালো দাগ দেখা গিয়েছিল এবং কেন? মান ১
উত্তর

যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের রাস্তায় ঘাসের ওপর রক্তের কালো দাগ দেখা গিয়েছিল, কারণ যুদ্ধের তাণ্ডবে অসংখ্য নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

২"তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।" — ‘তারা’ কারা এবং কেন তারা স্বপ্ন দেখতে পারল না? মান ১
উত্তর

‘তারা’ হলো শান্ত ও নির্বাক পাথরের মতো দেবতারা। যুদ্ধের ভয়াবহ আগুনে মন্দির ও দেবমূর্তি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১৩"তারপর যুদ্ধ এল" — যুদ্ধ কীভাবে এসেছিল এবং যুদ্ধের ফলে কী কী ধ্বংস হয়েছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধ এসেছিল রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো।

যুদ্ধের তাণ্ডবে শিশু আর বাড়িরা খুন হয়েছিল, প্রাচীন জলতরঙ্গ ও শান্ত দেবতাদের মন্দির চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং সাজানো শহরটি কাঠকয়লা ও দুমড়ানো লোহায় পরিণত হয়েছিল।

১৪"যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা" — শহরটির এই পরিণতি কেন হয়েছিল? সেখানে আর কী কী পড়ে ছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাজানো শহরটি পুড়ে কাঠকয়লায় পরিণত হয়েছিল।

সেখানে কাঠকয়লার পাশাপাশি ছড়িয়ে ছিল দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা এবং রক্তের একটা কালো দাগ।

৭ম অধ্যায় : আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি — শঙ্খ ঘোষ

শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং বিপন্ন মানবতার সংকট ও সংহতির ৫ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

১৭'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটি শঙ্খ ঘোষের কোন কাব্যের অন্তর্গত? ১০০% কমন
কদিনগুলি রাতগুলি
খজলই পাষাণ হয়ে আছে
গবাবরের প্রার্থনা
ঘমুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
উত্তর
খজলই পাষাণ হয়ে আছে
১৮'আমাদের মাথায়' কী রয়েছে বলে কবি জানিয়েছেন? ১০০% কমন
কগিরিখাদ
খহিমানীর বাঁধ
গবোমারু
ঘধস
উত্তর
গবোমারু

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৩"তবু তো কজন আছি বাকি" — এই ‘কজন’ কারা এবং তাদের করণীয় কী? মান ১
উত্তর

এই ‘কজন’ হলেন যুদ্ধ ও ধ্বংসের মাঝেও বেঁচে থাকা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ মানুষ। তাঁদের করণীয় হলো বিপদের দিনে একে অপরের হাত ধরে সংঘবদ্ধ থাকা।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

৪"আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস" — কবি কাদের কথা বলেছেন? তাঁদের ইতিহাস সম্পর্কে কবি এমন মন্তব্য করেছেন কেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি ক্ষমতাহীন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কথা বলেছেন।

ইতিহাস চিরকাল রাজা-মহারাজা বা শাসকশ্রেণির কথা লেখে, সেখানে সাধারণ মানুষের কথা থাকে না; কিংবা থাকলেও তা শাসকের দ্বারা প্রতারিত, বঞ্চিত ও কলঙ্কিত হওয়ার ইতিহাস। তাই কবি এমন মন্তব্য করেছেন।

৫"আমাদের ডানপাশে ধস / আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ" — এই পঙক্তিগুলির মধ্য দিয়ে কবি সাধারণ মানুষের কোন সংকটময় পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছেন? (৩) মান ৩
উত্তর

আলোচ্য পঙক্তিগুলিতে ‘ধস’ এবং ‘গিরিখাদ’ হলো চারপাশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ ও ধ্বংসের প্রতীক। আধুনিক বিশ্বের মানুষ আজ উভয়সংকটে বিপন্ন; তাদের সামনে বা পাশে কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। প্রতি পদক্ষেপে মৃত্যু ও ধ্বংসের হাতছানি যে সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে, কবি সেই ভয়াবহ সংকটকেই তুলে ধরেছেন।

৬"আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!" — শিশুদের শব ছড়িয়ে থাকার কারণ কী? এর মধ্য দিয়ে কবি কোন সত্যকে প্রকাশ করেছেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের হিংস্রতা ও বোমাবর্ষণের ফলে নিষ্পাপ শিশুদের শব চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে।

শিশুরা হলো মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ। তাদের মৃতদেহ ছড়িয়ে থাকার মধ্য দিয়ে কবি বুঝিয়েছেন যে, যুদ্ধ কেবল বর্তমানকেই ধ্বংস করছে না, আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকেও নির্মমভাবে হত্যা করছে।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

১"আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি" — কবিতাটির মূল বক্তব্য আলোচনা করে বিপন্ন মানবতার যুগে কবি কেন সংঘবদ্ধ হয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করো। আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি • মান ৫
উত্তর
  • উৎস ও প্রসঙ্গ : বিশিষ্ট আধুনিক কবি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংকটাপন্ন আধুনিক বিশ্বে ক্ষমতাহীন সাধারণ মানুষের অস্তিত্বের সংকট এবং তা থেকে উত্তরণের পথ নির্দেশ করা হয়েছে।
  • বিপন্ন মানবতার সংকটময় চিত্র : কবি দেখিয়েছেন, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজ ও ক্ষমতালোভী শাসকের আগ্রাসনে সাধারণ শান্তিকামী মানুষের কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। তাদের ডানপাশে ধস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথার ওপর বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে বরফের হিমানীর বাঁধ। গৃহহীন মানুষের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে নিষ্পাপ শিশুদের শবদেহ। সাধারণ মানুষের কোনো বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস নেই; শাসকের দ্বারা তাদের ইতিহাস চিরকাল বিকৃত, শোষিত ও চোখ-মুখ ঢাকা। এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে মানুষ আজ সন্দিহান যে তারা আদৌ বেঁচে আছে কি না।
  • সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ও তাৎপর্য : কবি এই চরম নৈরাশ্যের মধ্যেও আশা হারাননি। তিনি বিশ্বাস করেন পৃথিবীতে এখনও কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বেঁচে আছেন। কোনো অলৌকিক দেবদূত বা রাষ্ট্রনেতা নয়—সাধারণ নিপীড়িত মানুষকেই বিপদের দিনে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে ‘বেঁধে বেঁধে’ বা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মানবতার এই সংহতি, পারষ্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধই পারে হিংসার বিরুদ্ধে শেষ প্রতিরোধ গড়ে তুলে পৃথিবীকে রক্ষা করতে।

৮ম অধ্যায় : আফ্রিকা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতার MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং সাম্রাজ্যবাদী বর্বরতা ও আফ্রিকার জন্মের ৫ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

১৯'ছায়াবৃতা' বলে সম্বোধন করা হয়েছে কাকে? ১০০% কমন
কআফ্রিকা মহাদেশকে
খএশিয়াকে
গইউরোপকে
ঘভারতবর্ষকে
উত্তর
কআফ্রিকা মহাদেশকে
২০ইউরোপীয় মানুষধরা দলের নখ কেমন ছিল? ১০০% কমন
কবাঘের চেয়ে ধারালো
খনেকড়ের চেয়েও তীক্ষ্ণ
গলোহার মতো
ঘসিংহের নখের মতো
উত্তর
খনেকড়ের চেয়েও তীক্ষ্ণ
২১'যুগান্তরের কবি'-কে কোথায় দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে? ১০০% কমন
কমানহারা মানবীর দ্বারে
খসমুদ্রতীরে
গঅরণ্যের মাঝে
ঘমন্দিরের প্রাঙ্গণে
উত্তর
কমানহারা মানবীর দ্বারে

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৪"বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে" — কীভাবে ভীষণকে বিদ্রূপ করা হয়েছিল? মান ১
উত্তর

আদিম আফ্রিকা বিরূপের ছদ্মবেশ ধারণ করে নিজের উগ্র ও ভয়ংকর প্রাকৃতিক রূপ দিয়ে ভীষণকে বিদ্রূপ করছিল এবং নিজের শঙ্কাকে হার মানাতে চাইছিল।

৫"এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে" — ‘ওরা’ কারা এবং তাদের নখ কেমন ছিল? মান ১
উত্তর

‘ওরা’ হলো ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দল। তাদের নখ ছিল নেকড়ের নখের চেয়েও তীক্ষ্ণ।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১"হায় ছায়াবৃতা" — কাকে, কেন ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে? তার সম্পর্কে কবি কী বলেছেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশকে ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে।

আফ্রিকা নিবিড় অরণ্য ও বনস্পতির ঘন পাহারায় ঢাকা ছিল বলে সূর্যের আলো সেখানে সহজে প্রবেশ করতে পারত না। কবি জানিয়েছেন, কালো ঘোমটার নিচে আফ্রিকার মানবরূপ সভ্য জগতের উপেক্ষার দৃষ্টিতে দীর্ঘকাল অপরিচিত ছিল।

২"দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে; / বলো ‘ক্ষমা করো’" — কে, কাকে এ কথা বলেছেন? কেন ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে? (১+২) মান ৩
উত্তর

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘যুগান্তরের কবি’-কে এ কথা বলেছেন।

সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা আফ্রিকার মানুষের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালিয়ে তার ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে, হিংস্র প্রলাপের মধ্যে সেই পাপ মুছে ফেলার জন্য এবং মানবতার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

৩"সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়" — কোন মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে? সমুদ্রপারের পাড়ায় পাড়ায় তখন কী ঘটছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

যে মুহূর্তে সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে আফ্রিকার মানুষদের বন্দি ও রক্তাক্ত করছিল, সেই মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে।

ঠিক সেই সময়ে সমুদ্রপারের ইউরোপীয় দেশগুলির পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে দয়াময় দেবতার নামে পূজার ঘণ্টা বাজছিল এবং শিশুরা মায়ের কোলে নিরাপদে খেলা করছিল।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

৫"চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে" বা "এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে" — কাকে একথা বলা হয়েছে? ‘ওরা’ কারা? সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বর্বরতা কীভাবে তথাকথিত ‘সভ্যতার’ আড়ালে আফ্রিকার ইতিহাসকে অপমানিত করেছিল তা লেখো। (১+১+৩) আফ্রিকা • মান ৫
উত্তর
  • কাকে বলা হয়েছে ও ‘ওরা’ কারা : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় অন্ধকারাচ্ছন্ন আফ্রিকা মহাদেশকে এ কথা বলা হয়েছে। আর ‘ওরা’ হলো সভ্যতার অহংকারে অন্ধ লোভী ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দল।
  • সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বর্বরতা ও আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাস :
    (১) লোহার হাতকড়ি ও পৈশাচিক হিংস্রতা : ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আফ্রিকার মাটির খনিজ ও বনজ সম্পদ লুণ্ঠন করতে লোহার হাতকড়ি নিয়ে প্রবেশ করেছিল। তাদের নখ ছিল হিংস্র নেকড়ের নখের চেয়েও ধারালো এবং তথাকথিত আধুনিকতার গর্ব ছিল সূর্যহারা গভীর অরণ্যের অন্ধকারের চেয়েও অন্ধ।
    (২) দাসত্ব ও রক্তের ইতিহাস : তারা আফ্রিকার শান্ত ও নিরীহ আদিবাসীদের বন্দি করে পশুর মতো বিক্রি করে এবং বেত্রাঘাত ও কঠিন শ্রমে বাধ্য করে। নিষ্পাপ মানুষের রক্তে আর বোবা অশ্রুতে আফ্রিকার বনপথের মাটি কর্দমাক্ত হয়ে উঠেছিল।
    (৩) সভ্যতার নগ্ন ভণ্ডামি : নিজেদের শ্রেষ্ঠ ও সভ্য বলে দাবি করা শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা যখন আফ্রিকায় নারী-শিশু হত্যা ও রক্তবন্যা বইয়ে দিচ্ছিল, তখন তাদের স্বদেশের মন্দিরগুলোতে দয়াময় ঈশ্বরের নামে পূজার ঘণ্টা বাজছিল। তাদের কাঁটা-মারা বুটের তলায় দগ্ধ কাদার পিণ্ড আফ্রিকার ইতিহাসে চিরস্থায়ী এক কলঙ্কের ক্ষত এঁকে দিয়েছিল।
৬‘আফ্রিকা’ কবিতায় আদিম পৃথিবীর বুক থেকে আফ্রিকার জন্ম ও তার ভৌগোলিক-প্রাকৃতিক রূপ কীভাবে অঙ্কিত হয়েছে তা নিজের ভাষায় লেখো। আফ্রিকা • মান ৫
উত্তর
  • আফ্রিকার জন্মবৃত্তান্ত : সৃষ্টির প্রথম যুগে স্রষ্টা যখন নিজের সৃষ্টিতে অসন্তুষ্ট হয়ে আদিম পৃথিবীকে বারবার ভেঙে নতুন রূপ দিচ্ছিলেন, তখন এক অশান্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ ও উত্তাল সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং তাকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
  • ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক রূপ :
    (১) বনস্পতির নিবিড় পাহারা : সমুদ্রের দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আফ্রিকা বিশাল বিশাল প্রাচীন মহীরুহের ঘন পত্রচ্ছায়ায় আবদ্ধ হয়। সূর্যের আলো সেখানে প্রবেশ করতে পারত না; ফলে সেখানে সৃষ্টি হয়েছিল এক কৃপণ আলোর অন্তঃপুর।
    (২) দুর্গমের রহস্য সঞ্চয় : সভ্যজগতের অলক্ষ্যে নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা প্রকৃতির দুর্গম রহস্য সংগ্রহ করেছিল এবং জল-স্থল-আকাশের গুপ্ত সংকেত চিনতে শিখেছিল।
    (৩) ভীষণকে বিদ্রূপ ও শঙ্কাকে জয় : প্রকৃতির ভয়াল রূপ, হিংস্র পশুর গর্জন এবং ঘন অন্ধকারের ভয়কে জয় করতে আফ্রিকা নিজেই এক প্রচণ্ড উগ্র মায়াজাল বিস্তার করেছিল। বিরূপের ছদ্মবেশে সে ভয়ংকরকে বিদ্রূপ করে নিজের মনের সমস্ত শঙ্কাকে হার মানাতে সচেষ্ট হয়েছিল।

৯ম অধ্যায় : অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং বীর ইন্দ্রজিৎ ও রাবণ চরিত্রের ৫ নম্বরের মডেল উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

২২'অভিষেক' কাব্যাংশটি 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর কোন সর্গ থেকে গৃহীত? ১০০% কমন
কপ্রথম সর্গ
খদ্বিতীয় সর্গ
গতৃতীয় সর্গ
ঘষষ্ঠ সর্গ
উত্তর
কপ্রথম সর্গ
২৩কনক-আসন ত্যজি ইন্দ্রজিৎ কেন ভূমিতলে প্রণাম করলেন? ১০০% কমন
কপিতা রাবণকে দেখে
খধাত্রী প্রভাষারূপী লক্ষ্মীকে দেখে
গশিবপুজো করতে
ঘমাতা মন্দোদরীকে দেখে
উত্তর
খধাত্রী প্রভাষারূপী লক্ষ্মীকে দেখে
২৪ইন্দ্রজিতের পত্নীর নাম কী ছিল? ১০০% কমন
কচিত্রাঙ্গদা
খমন্দোদরী
গপ্রমীলা
ঘউর্মিলা
উত্তর
গপ্রমীলা

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৬"অতি মনোহর দেশ" — এই ‘মনোহর দেশ’-এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। মান ১
উত্তর

সমুদ্রতীরের সেই মনোহর দেশে কোনো দুঃখ বা ক্লেশ নেই এবং সেখানকার সবাই সত্যধর্ম ও সদাচার পালন করে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১০"যৌবন-কাননে মহাবাহু, কি কারণে, কহ, ভ্রমিছ এবে?" — কে, কাকে এ কথা বলেছেন? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি তার কী উত্তর দিয়েছিলেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ছদ্মবেশিনী দেবী লক্ষ্মী (প্রভাষা রাক্ষসী) ইন্দ্রজিৎকে এ কথা বলেছেন।

ইন্দ্রজিৎ উত্তরে সবিস্ময়ে জানতে চেয়েছিলেন যে, লঙ্কাপুরীতে এমন কী নতুন বিপদ ঘটল যার জন্য তাঁকে প্রমোদ-উদ্যান ছেড়ে যেতে বলা হচ্ছে।

১১"কহিলা কাঁদিয়া ধনি" — ‘ধনি’ কে? তিনি কাঁদতে কাঁদতে কী বলেছিলেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

এখানে ‘ধনি’ হলেন ইন্দ্রজিতের পত্নী প্রমীলা।

স্বামী ইন্দ্রজিৎকে গভীর রাতে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিতে দেখে প্রমীলা তাঁর চরণ জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলেছিলেন যে, ইন্দ্রজিৎ তাঁকে একা ফেলে চলে গেলে লতার মতো তিনি কার আশ্রয়ে এবং কীভাবে বেঁচে থাকবেন।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

৭‘অভিষেক’ কাব্যাংশ অবলম্বনে বীর ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ)-এর চরিত্র বিশ্লেষণ করো। অভিষেক • মান ৫
উত্তর
  • উৎস ও পরিচয় : মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র বীরচূড়ামণি ইন্দ্রজিৎ।
  • চরিত্রের প্রধান গুণাবলি :
    (১) অসীম বীরত্ব ও দেশপ্রেম : প্রমোদ-উদ্যানে প্রমীলার সাথে বিলাসবহুল জীবনে মগ্ন থাকাকালীন ধাত্রী প্রভাষারূপে দেবী লক্ষ্মীর কাছে ভাই বীরবাহুর মৃত্যু ও লঙ্কার সংকটের কথা শুনেই তাঁর অন্তর জ্বলে ওঠে। শত্রুর দ্বারা লঙ্কা আক্রান্ত অথচ তিনি বিলাসিতায় মত্ত—এই আত্মধিক্কারে তিনি ফুলের মালা ও কুণ্ডল ছিঁড়ে ফেলেন এবং ক্ষিপ্ত সিংহের মতো যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হন।
    (২) পিতৃভক্তি ও পিতৃঋণ শোধের অঙ্গীকার : পিতা রাবণের চরম শোক ও লঙ্কার কলঙ্ক দূর করতে তিনি সংকল্প করেন যে রামচন্দ্রকে বধ করে তিনি পিতার মুখে হাসি ফোটাবেন। যুদ্ধের পূর্বে পিতার চরণে প্রণত হয়ে তিনি আশীর্বাদ ভিক্ষা করেন।
    (৩) রোমান্টিক প্রেম ও আদর্শ পতি : বীরাগ্রগণ্য যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও ইন্দ্রজিতের হৃদয়ে ছিল পত্নী প্রমীলার প্রতি গভীর ভালোবাসা। যুদ্ধযাত্রার আগে ক্রন্দনরতা প্রমীলার হাত ধরে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে যুদ্ধ জয় করে দ্রুত তিনি ফিরে আসবেন।
    (৪) আত্মমর্যাদা ও পৌরুষ : রামচন্দ্রের অলৌকিক পুনর্জীবন ও মায়াযুদ্ধকে তিনি ভীরুতা মনে করেন এবং নিজের বাহুবলে বিশ্বাস রেখে গঙ্গোদকে অভিষিক্ত হয়ে লঙ্কার সেনাপতি পদ গ্রহণ করেন।
৮"হায়, বিধি বাম মম প্রতি। কে কবে শুনেছে পুত্র, ভাসে শিলা জলে, কে কবে শুনেছে লোক মরি পুনঃ বাঁচে?" — বক্তা কে? তাঁর এই হতাশার কারণ কী? কাব্যাংশে রাবণের যে চরিত্র ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। (১+২+২) অভিষেক • মান ৫
উত্তর
  • বক্তা ও হতাশার কারণ : মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে উদ্ধৃত বাক্যটির বক্তা হলেন লঙ্কেশ্বর রাবণ। পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত রামচন্দ্রের সাথে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য একমাত্র জীবিত পুত্র মেঘনাদ যখন অনুমতি চান, তখন রাবণ এই হাহাকার ব্যক্ত করেন।
    রাবণ চরম হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন কারণ মায়াবী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সমুদ্রে পাথর ভেসে সেতু তৈরি হওয়া এবং ইতিপূর্বে মেঘনাদের হাতে নিহত হয়েও রামচন্দ্রের অলৌকিকভাবে পুনর্জীবন লাভ করা—এসব অস্বাভাবিক ঘটনা প্রমাণ করছিল যে ভাগ্য বা স্বয়ং বিধাতা রাবণের প্রতিকূলে অবস্থান নিয়েছেন।
  • রাবণের চরিত্রবৈশিষ্ট্য :
    (১) পুত্রশোকাতুর স্নেহময় পিতা : বীরবাহুর অকালমৃত্যু রাবণের হৃদয়কে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল। বীর মেঘনাদকে পুনরায় যুদ্ধে পাঠাতে তাঁর অন্তরাত্মা কেঁপে উঠছিল। পরাক্রমশালী সম্রাট রাবণের চেয়ে এখানে এক স্নেহশীল পিতার অসহায়তাই বেশি প্রকাশ পেয়েছে।
    (২) অদৃষ্টবাদী কিন্তু তেজস্বী সম্রাট : নিয়তির প্রতিকূলতায় তিনি হতাশ হলেও কাপুরুষের মতো আত্মসমর্পণ করেননি। বীরের রক্তে গড়ে ওঠা লঙ্কাপুরীর মানসম্মান রক্ষার্থে শেষপর্যন্ত তিনি মেঘনাদকে সেনাপতি পদে অভিষেক করেন।

১০ম অধ্যায় : প্রলয়োল্লাস — কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং প্রলয়ের ধ্বংসরূপ ও নবসৃষ্টির জয়গানের ৫ নম্বরের উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

২৫'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? ১০০% কমন
কঅগ্নিবীণা
খবিষের বাঁশী
গভাঙার গান
ঘসর্বহারা
উত্তর
কঅগ্নিবীণা
২৬'তোরা সব জয়ধ্বনি কর'—পঙক্তিটি কবিতায় কতবার ব্যবহৃত হয়েছে? ১০০% কমন
ক১৬ বার
খ১৮ বার
গ১৯ বার
ঘ২১ বার
উত্তর
গ১৯ বার

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৭"তুরঙ্গম-তুঙ্গ" ও "অম্বুরাশি-সুতা" শব্দের অর্থ কী? মান ১
উত্তর

‘তুরঙ্গম-তুঙ্গ’ শব্দের অর্থ দ্রুতগামী বা উন্নত অশ্ব (ঘোড়া) এবং ‘অম্বুরাশি-সুতা’ শব্দের অর্থ সমুদ্রকন্যা (দেবী লক্ষ্মী বা পদ্মা)।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১২"বধূরা প্রদীপ তুলে ধর!" — কবি কাদের, কেন প্রদীপ তুলে ধরতে বলেছেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি ভারতের কুলবধূ তথা নারীসমাজকে প্রদীপ তুলে ধরতে বলেছেন।

কালবোশেখির ঝড়ের মতো সমস্ত জীর্ণতা ও পরাধীনতা ধ্বংস করে যে নবীনের বা বিপ্লবের আগমন ঘটছে, তাকে মঙ্গল প্রদীপের আলোয় বরণ করে নেওয়ার জন্যই কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

৪"তোরা সব জয়ধ্বনি কর!" — কাদের উদ্দেশে কবির এই আহ্বান? ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় একদিকে যেমন প্রলয়ের ভয়ংকর রূপ চিত্রিত হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই নবসৃষ্টির আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে—আলোচনা করো। (১+৪) প্রলয়োল্লাস • মান ৫
উত্তর
  • কাদের উদ্দেশে আহ্বান : বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম পরাধীন ভারতের তরুণ বিপ্লবী সমাজ তথা শৃঙ্খলিত দেশবাসীকে প্রলয়োল্লাসে মেতে উঠে জয়ধ্বনি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
  • প্রলয়ের ভয়ংকর রূপ : কবি নবীন বিপ্লবীদের আগমনকে কালবোশেখির প্রলয়ঙ্কর ঝড়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই আগমন দেবাদিদেব মহাদেবের রুদ্ররূপ—যাঁর আলুথালু জটায় মেঘরাশি উড়ছে, হাতে জ্বলছে ধূমকেতুর মতো অগ্নিমশাল, রক্তমাখা তরবারি এবং অট্টহাসির বজ্রধ্বনিতে দিগ্বিদিক প্রকম্পিত। তিনি দ্বাদশ রবির আলোয় পরাধীন ভারতের পঙ্গু সমাজ, অন্ধ কুসংস্কার এবং ব্রিটিশ শাসকের শোষণের কারাগার ভেঙে চুরমার করতে উদ্যত।
  • নবসৃষ্টির আশার বাণী : কবি স্পষ্ট করেছেন যে এই প্রলয় কেবল ধ্বংসের জন্য নয়, তা আসলে নবসৃষ্টির প্রসববেদনা। ধ্বংস ছাড়া নতুনের জন্ম হতে পারে না। জীর্ণ, প্রাচীন ও জীবনহারা যা কিছু অসুন্দর, তাকে সংহার করতেই রুদ্রের এই আগমন। অন্ধকার রাতের অন্তরালেই যেমন অরুণোদয় লুক্কায়িত থাকে, তেমনই এই সংহারের ধ্বংসস্তূপের ওপরই প্রতিষ্ঠিত হবে শাশ্বত সুন্দর, সাম্য ও মুক্তির নতুন পৃথিবী। তাই ধ্বংসের মাঝে ভয় না পেয়ে মাভৈঃ মন্ত্রে নবীনকে বরণ করে নেওয়ার জন্যই জয়ধ্বনির আহ্বান।

১১শ অধ্যায় : সিন্ধুতীরে — সৈয়দ আলাওল

সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের MCQ, SAQ, ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং পঞ্চকন্যার চেতনা লাভ ও পদ্মার চরিত্রের ৫ নম্বরের উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

২৭'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন কতজন কন্যা? ১০০% কমন
কতিনজন
খচারজন
গপাঁচজন (পঞ্চকন্যা)
ঘসাতজন
উত্তর
গপাঁচজন (পঞ্চকন্যা)
২৮সমুদ্রকন্যা পদ্মার সখীদের প্রধান চারজনের নাম কী ছিল? ১০০% কমন
কচন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী, বিধুন্নলা
খমেনকা, উর্বশী, রম্বা, তিলোত্তমা
গসীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী, দ্রৌপদী
ঘপদ্মাবতী, রত্নাবলী, মল্লিকা, চামেলী
উত্তর
কচন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী, বিধুন্নলা
২৯পদ্মাবতীকে বাঁচাতে সমুদ্রকন্যা পদ্মা কত প্রহর ধরে পরিচর্যা করেছিলেন? ১০০% কমন
কএক প্রহর
খদুই প্রহর
গতিন প্রহর
ঘচার প্রহর
উত্তর
ঘচার প্রহর

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৮"গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে" — কবি গানকে ‘বর্ম’ বলেছেন কেন? মান ১
উত্তর

বর্ম যেমন যুদ্ধে শরীরকে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনই গান বা মানবতার সুর মানুষকে হিংসা, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে বলে কবি গানকে ‘বর্ম’ বলেছেন।

৯"গানের পায়ে অস্ত্র রাখো" — এই কথার মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? মান ১
উত্তর

এই পঙক্তির মধ্য দিয়ে কবি হিংসা ও যুদ্ধের পথ ত্যাগ করে শান্তি, প্রেম ও মানবতার কাছে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

৭"বিস্মিত হইলা বালা" — ‘বালা’ কে? তার বিস্ময়ের কারণ কী ছিল? (১+২) মান ৩
উত্তর

সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে ‘বালা’ হলেন সমুদ্রকন্যা পদ্মা।

সমুদ্রের তীরে ভেলায় করে চারজন সখীর মাঝখানে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতীর স্বর্গীয় রূপসৌন্দর্য দেখে পদ্মা বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, ইন্দ্রের শাপে বুঝি স্বর্গের অপ্সরা বিদ্যাধরী মর্ত্যে এসে পড়েছে।

৮"তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।" — কোন কন্যার কথা বলা হয়েছে? সে যে স্থানে থাকে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও। (১+২) মান ৩
উত্তর

এখানে সমুদ্ররাজার কন্যা পদ্মার কথা বলা হয়েছে।

সমুদ্রের তীরে এক দিব্যস্থানে পর্বতের পাশে ফুলে-ফলে ভরা এক মনোরম উদ্যান রয়েছে। সেখানে সুগন্ধি ফুল ও নানা সুস্বাদু ফলের সমারোহ দেখা যায় এবং তারই মাঝে নির্মিত এক রত্নখচিত টঙ্গী বা প্রাসাদে পদ্মা সখীদের নিয়ে বাস করেন।

৯"বিধি মোরে না কর নৈরাশ।" — কে, কোন পরিস্থিতিতে বিধাতার কাছে এই প্রার্থনা করেছিলেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

সমুদ্রকন্যা পদ্মা বিধাতার কাছে এই প্রার্থনা করেছিলেন।

সমুদ্রের জলে ভেলা ভেঙে অচেতন হয়ে পড়া পদ্মাবতী ও তার চার সখীর শরীরে সামান্য প্রাণের স্পন্দন লক্ষ্য করে, তাদের বাঁচিয়ে তোলার সংকল্প নিয়ে পদ্মা বিধাতার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

২"পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।" — পঞ্চকন্যা কারা? তাঁরা কীভাবে অচেতন হয়েছিলেন এবং সমুদ্রকন্যা পদ্মা কীভাবে তাঁদের চেতনা ফিরিয়ে এনেছিলেন তা ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশ অবলম্বনে লেখো। (১+২+২) সিন্ধুতীরে • মান ৫
উত্তর
  • পঞ্চকন্যার পরিচয় : মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে ‘পঞ্চকন্যা’ হলেন সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতী এবং তাঁর চার প্রিয় সখী—চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী ও বিধুন্নলা।
  • অচেতন হওয়ার কারণ : চিতোরের রানা রত্নসেন সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতীকে বিবাহ করে সমুদ্রপথে চিতোর ফিরছিলেন। পথে সমুদ্রের অধিষ্ঠাতা দেবতা রুষ্ট হলে এক প্রবল ঝড়-তুফানের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের ভয়াল তরঙ্গের আঘাতে তাঁদের জাহাজ ভেঙে যায় এবং ভেলায় ভাসতে ভাসতে পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী সমুদ্রের তীরে এসে আছড়ে পড়েন। সমুদ্রজলের তীব্র শীত ও ঝড়ের প্রকোপে তাঁরা জ্ঞান হারিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
  • চেতনা ফিরিয়ে আনার বিবরণ : প্রাতঃকালে সমুদ্রকন্যা পদ্মা সখীদের নিয়ে সৈকতের প্রমোদ-উদ্যানে ভ্রমণকালে অচেতন পঞ্চকন্যাকে দেখতে পান। তাঁদের মৃদু শ্বাসপ্রশ্বাস লক্ষ্য করে পদ্মা সখীদের সহায়তায় পঞ্চকন্যাকে উদ্যানের মাঝে নিয়ে আসেন। সেখানে পঞ্চমুখী প্রদীপ ও অগ্নিকুণ্ড জ্বেলে উত্তাপের সেঁক দেওয়া হয়, ভিজে কাপড় বদলে শুকনা বসন পরানো হয় এবং মহৌষধি ও তন্ত্রমন্ত্র সহযোগে টানা চার প্রহর ধরে অক্লান্ত সেবাযত্ন করার পর পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পান।
৩‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশ অবলম্বনে সমুদ্রকন্যা পদ্মার চরিত্রবৈশিষ্ট্য (রূপ, পরোপকারিতা, দয়া ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব) আলোচনা করো। সিন্ধুতীরে • মান ৫
উত্তর
  • উৎস ও পরিচয় : সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের কেন্দ্রবিন্দু হলেন সমুদ্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বা সমুদ্রকন্যা পদ্মা।
  • চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ :
    (১) অনুপম রূপ ও সৌন্দর্যপ্রীতি : পদ্মার রূপ ছিল স্বর্গের অপ্সরার মতো উজ্জ্বল ও স্বর্গীয়। তিনি কেবল রূপসীই ছিলেন না, অন্যদের রূপের সমঝদারও ছিলেন। অচেতন পদ্মাবতীর রূপ দেখে তিনি ভেবেছিলেন কোনো দেবকন্যা বুঝি ইন্দ্রের অভিশাপে মর্ত্যে নেমে এসেছেন।
    (২) অসীম দয়া ও মানবিক সহানুভূতি : অপরিচিত ও অজ্ঞাতকুলশীল রমণীদের নিথর দেহ দেখে পদ্মা ভয় পাননি বা দূরে সরে যাননি; বরং তাঁদের দুর্দশায় তাঁর কোমল মাতৃহৃদয় করুণায় আর্দ্র হয়ে উঠেছিল।
    (৩) প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ও সুচিকিৎসার জ্ঞান : বিপদের মুহূর্তে কিংকর্তব্যবিমূঢ় না হয়ে পদ্মা দ্রুত তাঁদের নাড়ি পরীক্ষা করেন এবং শ্বাস চালু দেখে চিকিৎসায় ব্রতী হন। বস্ত্র দিয়ে ঢেকে উদ্যানের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া, অগ্নির উত্তাপ প্রদান, সুগন্ধি প্রলেপ ও মহৌষধির প্রয়োগ তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেয়।
    (৪) ধর্মপরায়ণতা ও ঈশ্বরভক্তি : কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে পদ্মা কায়মনোবাক্যে বিধাতার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন—"বিধি মোরে না কর নৈরাশ"। তাঁর ঈশ্বরভক্তি ও সেবার মেলবন্ধনেই পঞ্চকন্যার প্রাণরক্ষা সম্ভব হয়েছিল।

১২শ অধ্যায় : অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান — জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার নির্বাচিত MCQ, SAQ এবং ৩ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

৩০'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি কীসের বর্ম গায়ে পরেছেন? ১০০% কমন
কগানের বর্ম
খলোহার বর্ম
গপ্রেমের বর্ম
ঘবিশ্বাসের বর্ম
উত্তর
কগানের বর্ম
৩১'হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ায়'—কবি কীসের সাহায্যে বুলেট তাড়ানোর কথা বলেছেন? ১০০% কমন
কঅস্ত্র দিয়ে
খগানের হাত নেড়ে
গঢাল দিয়ে
ঘলাঠি দিয়ে
উত্তর
খগানের হাত নেড়ে

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

১০"আসছে নবীন" — নবীনের আসার উদ্দেশ্য কী? মান ১
উত্তর

সমাজের সমস্ত জীর্ণতা, পরাধীনতা এবং জীবনহারা অসুন্দরকে ছেদন করে নতুন প্রাণের সঞ্চার করাই নবীনের আসার উদ্দেশ্য।

---

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান ৩)

১৫"গান তো জানি না আমি" — কে গান জানেন না? তাহলে কীভাবে অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান গাওয়া সম্ভব বলে কবি মনে করেছেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি রূপে কবি নিজেই প্রথাগত গান না জানার কথা বলেছেন।

কবির মতে, হাত নাড়িয়ে বা প্রথাগত সুর ছাড়াও কেবল মানবতার কথা বলে, খড়কুটোর মতো সামান্য ভালোবাসা ও ঐক্যকে আঁকড়ে ধরে রক্ত মুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টাই হলো অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান।

১৬"মাথায় কত শকুন বা চিল" — ‘শকুন বা চিল’ কাদের প্রতীক? তাদের হাত থেকে মুক্তির জন্য কবি কী করতে বলেছেন? (১+২) মান ৩
উত্তর

এখানে ‘শকুন বা চিল’ হলো যুদ্ধবাজ, হিংস্র ও সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির প্রতীক যারা মানুষের মৃত্যু কামনা করে।

তাদের হাত থেকে মুক্তির জন্য কবি গানের বর্ম গায়ে পরে শত শত মানুষের কণ্ঠে শান্তির গান ছড়িয়ে দিতে বলেছেন।

---

১৩শ অধ্যায় : হারিয়ে যাওয়া কালি কলম — শ্রীপান্থ

শ্রীপান্থের ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধের MCQ, SAQ এবং কালি তৈরির পদ্ধতি, ফাউন্টেন পেন ও লিপিকরদের ৫ নম্বরের উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

৩২'কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি—' প্রবাদটির শূন্যস্থানে কী বসবে? ১০০% কমন
কলেখক
খকবি
গমুন্সি
ঘকেরানি
উত্তর
গমুন্সি
৩৩রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার কাসকাকে কী দিয়ে আঘাত করেছিলেন? ১০০% কমন
কতলোয়ার
খস্টাইলাস
গছুরিকা
ঘতীর
উত্তর
খস্টাইলাস (ব্রোঞ্জের সূঁচালো শলাকা)
৩৪ফাউন্টেন পেন-এর বাংলা নাম 'ঝরনা কলম' কে দিয়েছিলেন? ১০০% কমন
কবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩৫ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারক লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান পেশায় কী ছিলেন? ১০০% কমন
কশিক্ষক
খডাক্তার
গসাংবাদিক
ঘবিমা ব্যবসায়ী
উত্তর
ঘবিমা ব্যবসায়ী

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

১"বাঙালি সাংবাদিকদের তখন বলা হতো ‘বাবু কুইল ড্রাইভারস’" — কে এই নাম দিয়েছিলেন এবং কেন? মান ১
উত্তর

ব্রিটিশ ভারতের বড়োলাট লর্ড কার্জন বাঙালি সাংবাদিকদের বিদ্রূপ করে এই নাম দিয়েছিলেন, কারণ তাঁরা পালকের কলম (কুইল) দিয়ে ইংরেজি ভাষায় ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনা করতেন।

২‘স্টাইলাস’ (Stylus) কী? রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার এটিকে কী কাজে ব্যবহার করেছিলেন? মান ১
উত্তর

‘স্টাইলাস’ হলো ব্রোঞ্জের তৈরি সূঁচালো শলাকা বা প্রাচীন কলম। জুলিয়াস সিজার এই কলমটি দিয়ে শত্রু কাসকা-র বাহুতে আঘাত করে আত্মরক্ষা করেছিলেন।

৩"কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন" — কাদের সম্পর্কে এই প্রবাদ প্রচলিত ছিল? মান ১
উত্তর

যাঁরা কানে কলম গুঁজে রেখে ভুলে গিয়ে সারা ঘর বা দুনিয়া জুড়ে কলম খুঁজে বেড়ান, তেমন আত্মভোলা লেখক বা কেরানিদের সম্পর্কে এই কথা বলা হয়েছে।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

১"আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।" — কারা কালি তৈরি করতেন? প্রাবন্ধিক ছেলেবেলায় কীভাবে কালি তৈরি করতেন এবং দেশি ও বিদেশি কালির যে পরিচয় দিয়েছেন তা আলোচনা করো। (১+২+২) হারিয়ে যাওয়া কালি কলম • মান ৫
উত্তর
  • কারা কালি তৈরি করতেন : প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক নিখিল সরকার (শ্রীপান্থ)-এর ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে লেখক ও তাঁর শৈশবের সহপাঠী-বন্ধুরা নিজেরাই কালি তৈরি করার কথা বলেছেন।
  • ছেলেবেলায় কালি তৈরির পদ্ধতি : প্রাচীন প্রবাদ ছিল—"তিল ত্রিফলা শিমুল ছালা / ছাগ দুগ্ধে করি মেলা / লৌহপাত্রে লোহায় ঘষি / ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।" তবে লেখকেরা সহজ পদ্ধতিতে কালি বানাতেন। কাঠের উনুনে রান্নার কড়াইয়ের তলার জমা কালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে পাথরের বাটিতে জলে গুলে রাখা হতো। তাতে হরীতকী ঘষে দেওয়া হতো এবং কখনো কখনো আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে বেটে মেশানো হতো। সবশেষে একটি খুন্তি আগুনে লাল করে সেই কালির জলে ছ্যাঁকা দিয়ে পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে নিলেই তৈরি হতো চমৎকার দেশি কালি।
  • দেশি ও বিদেশি কালির রূপ : পরবর্তীকালে বাজারে নানা ধরনের কালি সহজলভ্য হয়েছিল। বিদেশি কালির মধ্যে ছিল ‘শেফার্স’, ‘পার্কার’, ‘ওয়াটারম্যান’ বা ‘সোয়ান’। আর স্বদেশি আন্দোলনের যুগে বাংলায় তৈরি হয়েছিল বিখ্যাত ‘সুলেখা’ ও ‘কাজল’ কালি। কঞ্চির কলম বা দোয়াত-কালির সেই সোনালী দিন হারিয়ে গেলেও কালির বৈচিত্র্য বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ ছিল।
২ফাউন্টেন পেন বাংলায় কী নামে পরিচিত? নামটি কার দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে? ফাউন্টেন পেনের জন্ম-ইতিহাস ও বিবর্তন লেখো। (১+১+৩) হারিয়ে যাওয়া কালি কলম • মান ৫
উত্তর
  • বাংলা নাম ও নামকরণকারী : ফাউন্টেন পেন বাংলায় ‘ঝরনা কলম’ নামে পরিচিত। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সুন্দর নামটি দিয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • ফাউন্টেন পেনের জন্ম-ইতিহাস : ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কর্তা হলেন আমেরিকান বিমা ব্যবসায়ী লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান। উনিশ শতকের শেষভাগে একবার এক মক্কেলের সঙ্গে বিমা চুক্তি সই করার সময় দোয়াত থেকে কালির ফোঁটা পড়ে দলিলটি নষ্ট হয়ে যায়। ওয়াটারম্যান দ্রুত আরেকটি চুক্তিপত্র আনতে যাওয়ার মাঝেই অন্য এক ব্যবসায়ী এসে চুক্তিটি সই করিয়ে নেন। এই তিক্ত ক্ষতি ও ক্ষোভ থেকেই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন এমন একটি কলম বানাবেন যার ভেতরেই কালি সঞ্চিত থাকবে এবং অনবরত দোয়াতের প্রয়োজন হবে না। এই গবেষণা থেকেই ১৮৮৪ সালে জন্ম নেয় আধুনিক ‘ফাউন্টেন পেন’।
  • বিবর্তন : এরপর কঞ্চির কলম, খাগের কলম ও পাখির পালকের যুগ শেষ হয়ে ফাউন্টেন পেনের জয়যাত্রা শুরু হয়। সোনা ও প্ল্যাটিনামের নিব যুক্ত বাহারি ফাউন্টেন পেন বিশ্বজুড়ে লেখক ও পণ্ডিতদের পরম আদরের সামগ্রী হয়ে উঠেছিল।
৩"কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর।" — উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। প্রবন্ধে প্রাচীন ও মধ্যযুগের লিপিকুশলীদের সম্মান এবং বিখ্যাত সাহিত্যিকদের কলমপ্রীতির যে পরিচয় পাওয়া যায় তা লেখো। (২+৩) হারিয়ে যাওয়া কালি কলম • মান ৫
উত্তর
  • উক্তিটির তাৎপর্য : ইংরেজি প্রবাদ "The pen is mightier than the sword"-এর ভাবানুবাদ করে লেখক বুঝিয়েছেন যে তলোয়ার কেবল মানুষের শরীরকে রক্তাক্ত করতে পারে বা ভূখণ্ড জয় করতে পারে, কিন্তু কলম মানুষের চেতনা, সমাজব্যবস্থা ও চিন্তাজগতে আমূল বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম। কলমের শক্তি অবিনশ্বর ও চিরন্তন। জুলিয়াস সিজারের ব্রোঞ্জের শলাকা (স্টাইলাস) দিয়ে আত্মরক্ষা থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের বৈপ্লবিক সাহিত্য—সবই কলমের শক্তির স্মারক।
  • লিপিকুশলীদের সম্মান : ছাপাখানা আবিষ্কারের পূর্বে হাতে লিখে বই তৈরি করা গুণী লিপিকরদের সমাজে অপরিসীম মর্যাদা ছিল। রাজা-জমিদাররা তাঁদের রাজকীয় সম্মান দিতেন। অষ্টাদশ শতকে চারখণ্ড রামায়ণ কপি করে একজন লিপিকর পেয়েছিলেন নগদ সাত টাকা, দুটি শাড়ি এবং প্রচুর মিষ্টান্ন। সাধারণ মানুষও তাঁদের শ্রদ্ধার চোখে দেখত।
  • সাহিত্যিকদের কলমপ্রীতি : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রত্যেকেই কলমের পরম অনুরাগী ছিলেন। কথাসাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ছিল নানা দেশি-বিদেশি ফাউন্টেন পেন সংগ্রহের নেশা। শুভ্র কাশফুলের মতো কিংবা হাতির দাঁতের কারুকাজ করা কলম তাঁদের সাহিত্য সৃষ্টিকে প্রাণবন্ত রাখত।

১৪শ অধ্যায় : বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান — রাজশেখর বসু

রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের MCQ, SAQ এবং বিজ্ঞানচর্চায় বাধা, পাঠকশ্রেণি ও পরিভাষার ৫ নম্বরের উত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

৩৬'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধের লেখক রাজশেখর বসুর বিখ্যাত ছদ্মনাম কী? ১০০% কমন
কপরশুরাম
খবনফুল
গটেকচাঁদ ঠাকুর
ঘবীরবল
উত্তর
কপরশুরাম
৩৭কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি কবে গঠিত হয়েছিল? ১০০% কমন
ক১৯০৫ সালে
খ১৯১১ সালে
গ১৯৩৬ সালে
ঘ১৯৪৭ সালে
উত্তর
গ১৯৩৬ সালে
৩৮বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে ভাষার কোন গুণের প্রাধান্য থাকা আবশ্যক? ১০০% কমন
কউপমা ও অলংকার
খঅভিধা (সরল ও স্পষ্ট অর্থ)
গব্যঞ্জনা
ঘউৎপ্রেক্ষা
উত্তর
খঅভিধা (সরল ও স্পষ্ট অর্থ)
৩৯'হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড'—উক্তিটি কার? ১০০% কমন
কমহাকবি কালিদাসের
খভবভূতির
গরবীন্দ্রনাথের
ঘবঙ্কিমচন্দ্রের
উত্তর
কমহাকবি কালিদাসের (কুমারসম্ভব কাব্যে)

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

৪"তাতে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন" — কিসে মুশকিলে পড়ার কথা বলা হয়েছে? মান ১
উত্তর

ইংরেজি ভাষায় চিন্তা করে তার হুবহু বা আক্ষরিক বাংলা অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক লেখক রচনায় উদ্ভট ও অপ্রাকৃত বাক্য তৈরি করে মুশকিলে পড়েছেন।

৫‘সেন্সিটাইজড পেপার’ (Sensitized paper)-এর বাংলা অনুবাদ কী করলে ভালো হয় বলে রাজশেখর বসু মনে করেছেন? মান ১
উত্তর

রাজশেখর বসুর মতে, ‘সেন্সিটাইজড পেপার’-এর আক্ষরিক অনুবাদ ‘সুগ্রাহী কাগজ’ না করে ‘রং-গ্রাহী কাগজ’ লিখলে অর্থ অনেক বেশি স্পষ্ট ও ঠিক হয়।

৬বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের ভাষা কেমন হওয়া আবশ্যক? মান ১
উত্তর

বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের ভাষা অত্যন্ত সরল, স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক; সেখানে অলংকার বা ব্যঞ্জনার চেয়ে অভিধার (সরাসরি অর্থের) প্রাধান্য থাকা উচিত।

---

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

৪"বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনও নানা রকম বাধা আছে।" — লেখক কোন কোন বাধার কথা উল্লেখ করেছেন? এই বাধা দূর করার জন্য তিনি কী কী উপায় বা পরামর্শ দিয়েছেন? (৩+২) বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান • মান ৫
উত্তর
  • বিজ্ঞানচর্চার প্রধান বাধাসমূহ : প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে প্রধান তিনটি বাধার কথা উল্লেখ করেছেন—
    (১) উপযুক্ত পরিভাষার অভাব : ১৯৩৬ সালে গঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিভাষা সমিতি প্রচুর পারিভাষিক শব্দ তৈরি করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। অনেক বৈজ্ঞানিক শব্দের বাংলা পরিভাষা এখনও গড়ে ওঠেনি।
    (২) প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অপ্রতুলতা : পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এদেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক বিজ্ঞানচেতনা খুবই কম। ফলে সামান্য জটিল তত্ত্ব বোঝাতেও লেখকদের বেগ পেতে হয়।
    (৩) ইংরেজি চিন্তার হুবহু অনুবাদ : অনেক লেখক ইংরেজিতে ভেবে তা আক্ষরিকভাবে বাংলায় অনুবাদ করেন। এর ফলে রচনা অত্যন্ত জটিল, আড়ষ্ট ও হাস্যকর হয়ে দাঁড়ায়।
  • বাধা দূর করার উপায় ও লেখকের পরামর্শ :
    (১) যে সব ইংরেজি শব্দ ইতিমধ্যে জনসাধারণের কাছে পরিচিত (যেমন—অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড), সেগুলির জন্য জোর করে উদ্ভট বাংলা পরিভাষা না বানিয়ে পরিচিত ইংরেজি শব্দই বাংলা বানানে গ্রহণ করা উচিত।
    (২) রচনায় আড়ষ্টতা পরিহার করে সহজ-সরল বাংলায় প্রাঞ্জল বাক্য গঠন করতে হবে।
    (৩) নতুন কোনো পারিভাষিক শব্দ প্রথমবার ব্যবহারের সময় বন্ধনীর মধ্যে তার মূল ইংরেজি রূপটি উল্লেখ করে দিলে পাঠকদের বুঝতে সুবিধা হয়।
৫বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ বা প্রবন্ধের পাঠকদের লেখক কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন? এই দুই শ্রেণির পাঠকদের বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ আলোচনা করো। (১+৪) বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান • মান ৫
উত্তর
  • পাঠকশ্রেণি : প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক সাহিত্যের পাঠকদের দুটি সুস্পষ্ট শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
  • দুই শ্রেণির পাঠকদের বৈশিষ্ট্য :
    (১) প্রথম শ্রেণি : যাঁরা ইংরেজি ভাষা জানেন না বা অতি সামান্য জানেন। মূলত অল্পবয়সি শিক্ষার্থী এবং সাধারণ অশিক্ষিত/অল্পশিক্ষিত পাঠক এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এদের বৈজ্ঞানিক সংস্কার কম থাকায় এদের শেখানো তুলনামূলক সহজ। তবে এদের জন্য রচনার ভাষা অত্যন্ত সহজ, প্রত্যক্ষ ও অলংকারহীন হওয়া আবশ্যক। এদের সামনে কোনো জটিল পরিভাষা না এনে পরিচিত দেশজ উদাহরণের সাহায্যে বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে হয়।
    (২) দ্বিতীয় শ্রেণি : যাঁরা ইংরেজি ভাষা ভালোভাবে জানেন এবং ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করেছেন। মূলত বয়স্ক, শিক্ষিত ও প্রবীণ পাঠক এই দলের অন্তর্ভুক্ত। এরা বাংলায় বিজ্ঞান পড়তে গিয়ে মনের অজান্তেই প্রতিশব্দগুলির সাথে ইংরেজি শব্দের তুলনা করতে থাকেন। ফলে পরিভাষা একটু এদিক-ওদিক হলেই এদের কাছে লেখাটি অস্বস্তিকর মনে হয়। এদের বিজ্ঞান মানসিকতা থাকলেও বাংলায় বিজ্ঞান পড়ার অভ্যাস তৈরি না হওয়া এদের প্রধান অন্তরায়।
৬"পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এদেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নগণ্য।" — লেখকের এমন মন্তব্যের কারণ কী? পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার, আক্ষরিক অনুবাদের দোষ এবং অলংকার বা রূপকের অপপ্রয়োগ সম্পর্কে লেখক কী মতামত দিয়েছেন? (২+৩) বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান • মান ৫
উত্তর
  • মন্তব্যের কারণ : পাশ্চাত্য দেশের সাধারণ মানুষ, এমনকি কৃষক বা শ্রমিকও দৈনন্দিন জীবনে প্রাথমিক বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত। সংবাদপত্র ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের মাধ্যমে তারা বিজ্ঞানচেতনা অর্জন করে। কিন্তু এদেশে প্রাথমিক শিক্ষার অভাব ও অন্ধবিশ্বাসের কারণে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক বিজ্ঞানবোধও নগণ্য। তাই এদেশে বাংলায় বিজ্ঞান লিখতে গেলে লেখকদের খুব প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করতে হয়।
  • লেখকের গুরুত্বপূর্ণ মতামতসমূহ :
    (১) পারিভাষিক শব্দ : লেখক জানিয়েছেন পরিভাষা তৈরিতে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে হবে। ইংরেজি পরিচিত টেকনিক্যাল শব্দাবলি অবিকৃত রেখে দেওয়াই শ্রেয়।
    (২) আক্ষরিক অনুবাদের দোষ : ইংরেজি বাক্যরীতির অন্ধ অনুকরণ বাংলায় চলে না। যেমন—"The atomic weight of an element..."-এর অনুবাদ যদি করা হয় "কোনো মৌলের পরমাণুর ওজন..." তা যতটা স্বাভাবিক, আক্ষরিক অনুবাদে বাক্যকে ঘুরিয়ে লিখলে তা বিকৃত হয়।
    (৩) অলংকার বা রূপকের অপপ্রয়োগ : সাহিত্যে উপমা বা ব্যঞ্জনা সুন্দর হলেও বিজ্ঞানে তা ক্ষতিকর। কালিদাসের "হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড" কাব্যে অপূর্ব, কিন্তু ভূগোলের বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। বিজ্ঞান রচনায় অলংকারের মোহে না পড়ে প্রত্যক্ষ ও সুনির্দিষ্ট অর্থবাহী ‘অভিধা’ গুণের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

১৫শ অধ্যায় : নাটক — সিরাজদ্দৌলা (শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত)

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশের MCQ এবং সিরাজ ও ঘসেটি বেগমের চরিত্র ও সংলাপভিত্তিক ৪ নম্বরের সম্পূর্ণ সমাধান।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

৪০'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশের মূল নাটকের রচয়িতা কে? ১০০% কমন
কদ্বিজেন্দ্রলাল রায়
খশচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
গগিরিশচন্দ্র ঘোষ
ঘউৎপল দত্ত
উত্তর
খশচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
৪১'জানিনা আজ কার রক্ত সে চায়—পলাশী, রাক্ষসী পলাশী!'—উক্তিটি কার? ১০০% কমন
কসিরাজদ্দৌলার
খমীরমদনের
গমোহনলালের
ঘমীরজাফরের
উত্তর
কসিরাজদ্দৌলার
৪২ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে সিরাজের দরবারে কে উপস্থিত ছিলেন? ১০০% কমন
কক্লাইভ
খহলওয়েল
গওয়াটসন
ঘওয়াটস
উত্তর
ঘওয়াটস
৪৩ঘসেটি বেগম নবাব আলিবর্দি খাঁর কে ছিলেন? ১০০% কমন
ককনিষ্ঠা কন্যা
খজ্যেষ্ঠা কন্যা
গমেজো কন্যা
ঘভগিনী
উত্তর
খজ্যেষ্ঠা কন্যা
৪৪'তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত'—সিরাজ কাদের কাছে লজ্জিত ছিলেন? ১০০% কমন
কফরাসি প্রতিনিধিদের কাছে
খডাচদের কাছে
গইংরেজদের কাছে
ঘপ্রজাদের কাছে
উত্তর
কফরাসি প্রতিনিধিদের কাছে (মঁসিয়ে ল-এর প্রতি)

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৪)

১‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে নবাব সিরাজদ্দৌলার দেশপ্রেম ও ট্র্যাজিক চরিত্রবৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। সিরাজদ্দৌলা • মান ৪
উত্তর
  • উৎস ও প্রসঙ্গ : শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবাব সিরাজদ্দৌলা পরাধীনতার পূর্বলগ্নে দাঁড়িয়ে এক নিঃসঙ্গ, দেশপ্রেমিক অথচ ট্র্যাজিক বীরের মূর্ত প্রতীক।
  • চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ :
    (১) উগ্র দেশপ্রেম ও দূরদর্শিতা : সিরাজ স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আসল উদ্দেশ্য ব্যবসা নয়, বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা হরণ করা। তাই কাশিমবাজার ও কলকাতা দখল করে তিনি ইংরেজদের স্পর্ধার জবাব দিয়েছিলেন।
    (২) অসাম্প্রদায়িক চেতনা : বাংলাকে তিনি হিন্দু ও মুসলমানের যৌথ মাতৃভূমি ‘গুলবাগ’ বলে মনে করতেন। মীরমদন ও মোহনলালের মতো উভয় সম্প্রদায়ের বীরদের তিনি সমমর্যাদা দিয়েছিলেন।
    (৩) ক্ষমাশীলতা ও অসহায় ট্র্যাজেডি : মীরজাফর, রাজবল্লভ ও জগৎশেঠদের চরম বিশ্বাসঘাতকতার দলিল হাতে পেয়েও দেশের স্বার্থে তিনি তাদের শাস্তি না দিয়ে করজোড়ে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ঐক্যের মিনতি করেছেন। রাজধর্ম ও আত্মীয়তার দ্বন্দ্বে একাকী দাঁড়িয়ে থাকা সিরাজের এই ট্র্যাজিক পতন আজও প্রতিটি বাঙালির চোখকে অশ্রুসজল করে তোলে।
২‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ঘসেটি বেগমের চরিত্র ও প্রতিহিংসাপরায়ণতার পরিচয় দাও। সিরাজদ্দৌলা • মান ৪
উত্তর
  • চরিত্র পরিচয় : নবাব আলিবর্দি খাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা ও সিরাজের মাসি মেহেরউন্নিসা ওরফে ঘসেটি বেগম ছিলেন এক ক্ষমতালোভী, কুটিল ও চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ নারী।
  • প্রতিহিংসার রূপ ও মূল্যায়ন : নিজের পালিত পুত্র শওকতজঙ্গকে বাংলার মসনদে বসাতে না পেরে এবং মতিঝিল প্রাসাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ায় তিনি সিরাজের প্রতি তীব্র বিষোদ্গার শুরু করেন। দেশপ্রেম বা রক্তের সম্পর্ককে পদদলিত করে তিনি মীরজাফরদের দেশদ্রোহী চক্রান্তে মদত জোগান। নবাবের প্রাসাদে বসে তিনি দিনরাত সিরাজের পতন ও বেগম লুৎফার বৈধব্য কামনা করে অভিশাপ দেন। লুৎফার ভাষায় তাঁর নিঃশ্বাসে বিষ এবং দৃষ্টিতে আগুন। দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন জেনেও ব্যক্তিগত অন্ধ ঈর্ষায় অন্ধ হয়ে তিনি বাংলার ইতিহাসে এক কলঙ্কিত খলনায়িকায় পরিণত হয়েছেন।
৩"বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।" — বক্তা কাদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন? কোন পরিস্থিতিতে, কেন তিনি এই কাতর আবেদন জানিয়েছিলেন? (১+৩) সিরাজদ্দৌলা • মান ৪
উত্তর
  • বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি : নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে উদ্ধৃত অংশের বক্তা হলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা। তিনি তাঁর রাজদরবারের প্রধান সভাসদ—সেনাপতি মীরজাফর, রাজা রাজবল্লভ, জগৎশেঠ ও রায়দুর্লভদের উদ্দেশে এই কাতর আবেদন জানিয়েছিলেন।
  • পরিস্থিতি ও আবেদনের কারণ : ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন চন্দননগর দখল করে কলকাতার দিক থেকে মুর্শিদাবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং দরবারের সভাসদদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল, তখন সিরাজ নিজের রাজনৈতিক দুর্বলতা স্পষ্ট বুঝতে পারেন। রাজকোষ নিঃস্ব এবং সেনাবাহিনী দ্বিধাবিভক্ত। সিরাজ অতীত ভুলত্রুটি ও অপরাধের জন্য মীরজাফরদের কাছে নিজের শির নত করে করজোড়ে আবেদন জানান যে, ব্যক্তিগত আক্রোশের জন্য যেন জন্মভূমি বাংলাকে বিদেশিদের হাতে তুলে না দেওয়া হয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই নবাব তাঁদের কাছে এই আবেগঘন আবেদন রেখেছিলেন।
৪"কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা।" — কাকে উদ্দেশ্য করে সিরাজ এই কথা বলেছেন? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কোন আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজের এই উক্তি? (১+৩) সিরাজদ্দৌলা • মান ৪
উত্তর
  • উদ্দিষ্ট ব্যক্তি : উদ্ধৃত সংলাপটি সিরাজদ্দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি মিঃ ওয়াটস-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন।
  • উক্তির প্রেক্ষাপট ও আচরণ : ইংরেজ প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াটস নবাবের দরবারে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তলে তলে তিনি নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ও অমাত্যদের সঙ্গে নবাবকে উৎখাত করার গোপন চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি তিনি নবাবের অনুমতি না নিয়ে কাশিমবাজার কুঠিতে গোলাবারুদ মজুত করেন এবং অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের পাঠানো এক অপমানজনক হুমকিপূর্ণ চিঠি নবাবের কাছে পেশ করেন। ওয়াটসের লেখা গোপন ষড়যন্ত্রের চিঠি সিরাজের হস্তগত হলে তাঁর বিশ্বাসঘাতকতা ও ঔদ্ধত্যের মুখোশ খুলে যায়। একজন রাজদূতের মর্যাদাহানি ঘটিয়ে এহেন জঘন্য চক্রান্ত করায় ক্ষুব্ধ সিরাজ ওয়াটসকে ভদ্রতার অযোগ্য বলে দরবার থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।
৫"তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত।" — বক্তা কে? কাদের কাছে এবং কেন তিনি লজ্জিত হওয়ার কথা বলেছেন? (১+৩) সিরাজদ্দৌলা • মান ৪
উত্তর
  • বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি : উদ্ধৃত সংলাপটির বক্তা হলেন বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা। তিনি ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে ল এবং তাঁর অনুগামীদের কাছে লজ্জিত হওয়ার কথা বলেছেন।
  • লজ্জিত হওয়ার কারণ : ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বস্ততার সাথে বাংলায় বাণিজ্য করছিল এবং নবাবের মিত্র ছিল। কিন্তু ইংরেজরা বেআইনিভাবে ফরাসিদের বাণিজ্যিক ঘাঁটি চন্দননগর আক্রমণ ও দখল করে নেয়। ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে ল যখন নবাবের কাছে সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করেন, তখন সিরাজ নিজের অভ্যন্তরীণ সংকট ও দেউলিয়া রাজকোষের কারণে কোনো সেনা সাহায্য পাঠাতে পারেননি। সভাসদদের চক্রান্ত ও ইংরেজদের আক্রমণের মুখে এক বিশ্বস্ত মিত্রকে রক্ষা করতে না পারার চরম নৈতিক ব্যর্থতা ও অসহায়তা থেকেই নবাব গভীর অনুশোচনায় লজ্জিত হওয়ার কথা ব্যক্ত করেছিলেন।
৬"আমার এই অক্ষমতার জন্যে তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।" — সিরাজ কাকে ও কেন এ কথা বলেছেন? এই সংলাপের মধ্য দিয়ে সিরাজের কোন মানবিক রূপ ধরা পড়ে? (২+২) সিরাজদ্দৌলা • মান ৪
উত্তর
  • কাকে ও কেন বলা হয়েছে : নবাব সিরাজদ্দৌলা চন্দননগর থেকে আশ্রয়প্রার্থী ফরাসি বাণিজ্য প্রতিনিধি মঁসিয়ে ল-এর প্রতি এ কথা বলেছিলেন। ইংরেজদের হাতে আক্রান্ত চন্দননগরের ফরাসিদের পক্ষে লড়াই করার মতো যথেষ্ট সৈন্য ও শক্তি নবাবের ছিল না, কারণ তাঁর নিজের দরবারেই রাজদ্রোহ চলছিল। তাই এক পরম মিত্রকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সিরাজ অত্যন্ত বিনয়ের সাথে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
  • মানবিক রূপ : সাধারণত শাসকেরা তাঁদের অক্ষমতা বা দুর্বলতা কখনো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন না। কিন্তু সিরাজ এখানে সিংহাসনের অহংকার ত্যাগ করে একজন সত্যনিষ্ঠ ও সংবেদনশীল মানুষের মতো নিজের সীমাবদ্ধতা কবুল করেছেন। এই সংলাপের মধ্য দিয়ে সিরাজের রাজকীয় দম্ভের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক পরম দয়ালু, বিনম্র ও বিবেকবান মানুষের রূপ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
৭"হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।" — কার উক্তি? উক্তিটির মধ্য দিয়ে বক্তার দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে পরিচয় পাওয়া যায় তা লেখো। (১+৩) সিরাজদ্দৌলা • মান ৪
উত্তর
  • বক্তা : নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে উদ্ধৃত এই অমর উক্তিটির বক্তা হলেন নবাব সিরাজদ্দৌলা।
  • দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রূপ : সিরাজ বাংলাকে কোনো একক ধর্মের মানুষের সম্পত্তি মনে করতেন না। ‘গুলবাগ’ অর্থাৎ ফুলের বাগান যেমন নানা রঙের ফুলের সমন্বয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে, তেমনই বাংলাকে তিনি হিন্দু ও মুসলমান—উভয় সম্প্রদায়ের যৌথ রক্ত-ঘামে গড়া প্রিয় মাতৃভূমি বলে বিশ্বাস করতেন। তিনি মীরজাফর ও রাজবল্লভ উভয়কেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে ইংরেজদের বিজয়ে কোনো এক সম্প্রদায়ের মঙ্গল হবে না, বরং সমগ্র জাতির স্বাধীনতা লুণ্ঠিত হবে। তাঁর দরবারে মীরমদনের মতো বীর যেমন বিশ্বস্ত ছিলেন, তেমনই রাজা মোহনলাল ছিলেন তাঁর দক্ষিণ হস্ত। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের এই আহ্বান সিরাজকে ভারতীয় জাতীয়তাবোধের এক অনন্য পথিকৃৎ করে তুলেছে।
৮"মনে হয়, ওর নিঃশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন, ওর অঙ্গ-সঞ্চালনে ভূমিকম্প!" — কে, কার সম্পর্কে এ কথা বলেছে? বক্তার এই ভীতির কারণ কী? (১+৩) সিরাজদ্দৌলা • মান ৪
উত্তর
  • বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি : উদ্ধৃত বাক্যটির বক্তা হলেন সিরাজের পত্নী বেগম লুৎফুন্নিসা (লুৎফা)। তিনি নবাবের পরম শত্রু ও মাসি ঘসেটি বেগম সম্পর্কে এ কথা বলেছিলেন।
  • ভীতির কারণ : ঘসেটি বেগম ছিলেন সীমাহীন ক্ষমতালোভী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ নারী। শওকতজঙ্গের পরাজয় এবং নিজের মতিঝিল প্রাসাদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর থেকে তিনি সিরাজ ও তাঁর পরিবারের চরম সর্বনাশ সাধনে মত্ত হন। লুৎফা অন্তঃপুরে ঘসেটির অস্বাভাবিক আচরণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ঘসেটির চোখেমুখে ছিল শয়তানি ক্রোধ এবং তাঁর প্রতিটি অভিশাপে ছিল সিরাজের মৃত্যু ও লুৎফার বৈধব্য কামনার বিষবাষ্প। একজন নিকট আত্মীয়ের এমন উন্মাদ ও পৈশাচিক প্রতিহিংসা লুৎফার মনে তীব্র আতঙ্ক ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছিল।

১৬শ অধ্যায় : সহায়ক পাঠ — কোনি (মতি নন্দী)

মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের MCQ এবং ক্ষিতীশ সিংহ, লীলাবতী, জুপিটার ক্লাব, মাদ্রাজে জয় ও কমলের স্বপ্নের ৫ নম্বরের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

৪৫'কোনি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনিকে প্রথম কোথায় দেখা যায়? ১০০% কমন
কজুপিটার ক্লাবে
খরবীন্দ্র সরোবরে
গগঙ্গার ঘাটে বারুণীর দিনে
ঘমাদ্রাজ সুইমিং পুলে
উত্তর
গগঙ্গার ঘাটে বারুণীর দিনে
৪৬ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রীর প্রতিষ্ঠিত টেইলারিং শপটির নাম কী ছিল? ১০০% কমন
কপ্রজাপতি
খমৌমাছি
গরূপসী
ঘময়ূরপঙ্খী
উত্তর
কপ্রজাপতি
৪৭কোনির দাদা কমল কী কাজ করত? ১০০% কমন
কট্রেন চালক
খমোটর গ্যারেজের মেকানিক
গদোকানদার
ঘশিক্ষক
উত্তর
খমোটর গ্যারেজের মেকানিক (রাজাবাজারে)
৪৮মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় কোনি কোন ইভেন্টে সোনা জেতে? ১০০% কমন
ক১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল
খ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক
গ১০০ মিটার বাটারফ্লাই
ঘ৪×১০০ মিটার রিলে রেস
উত্তর
ঘ৪×১০০ মিটার রিলে রেস
৪৯ক্ষিতীশ সিংহ কোন ক্লাবের প্রধান সাঁতার প্রশিক্ষক ছিলেন? ১০০% কমন
কজুপিটার ক্লাব
খঅ্যাপোলো ক্লাব
গবেঙ্গল সুইমিং ক্লাব
ঘমোহনবাগান
উত্তর
কজুপিটার ক্লাব

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

১‘কোনি’ উপন্যাস অবলম্বনে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্র বিশ্লেষণ করো এবং কোনির চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠার পিছনে তাঁর অবদান আলোচনা করো। কোনি • মান ৫
উত্তর
  • উৎস ও চরিত্র প্রসঙ্গ : মতীন্দ্র নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রাণপুরুষ হলেন সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ (খিদদা)। তিনি এক আদর্শ দ্রোণাচার্য, যাঁর নিষ্ঠায় এক বস্তির মেয়ে ভারতের সেরা সাঁতারু হয়ে ওঠে।
  • ক্ষিতীশের চরিত্রের প্রধান দিক ও অবদান :
    (১) জহুরির চোখ ও প্রতিভা আবিষ্কার : গঙ্গার ঘাটে বারুণীর দিন অন্যের হাত থেকে আম ছিনিয়ে নেওয়ার সাঁতারের ভঙ্গি দেখেই ক্ষিতীশ কোনির ভেতরের অদম্য তেজ ও ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন সত্তাকে চিনতে পেরেছিলেন।
    (২) কঠোর অনুশাসন ও আত্মত্যাগ : কোনিকে তৈরি করতে তিনি ভোরে ওঠা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরামহীন অনুশীলন এবং সাঁতারের কঠিন নিয়মে অভ্যস্ত করান। কোনির উপযুক্ত পুষ্টিকর খাবারের জোগান দিতে তিনি নিজের সামান্য সঞ্চয় ও স্ত্রীর গহনা বন্ধক দিতেও কুণ্ঠিত হননি।
    (৩) মনোবল গঠন ও ‘ফাইট কোনি ফাইট’ মন্ত্র : জুপিটার ক্লাবের নোংরা রাজনীতি ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে কোনি যখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন ক্ষিতীশ পিতৃত্বের স্নেহ দিয়ে তাকে আগলে রাখেন। মাদ্রাজে জাতীয় প্রতিযোগিতায় গ্যালারি থেকে তাঁর বজ্রকণ্ঠের "ফাইট কোনি ফাইট" চিৎকারই কোনির ভেতরের সুপ্ত জেদকে জাগিয়ে সোনা এনে দিয়েছিল। ক্ষিতীশ কেবল একজন কোচ নন, তিনি কোনির জীবনের রূপকার।
২"প্রজাপতি ডানা মেলে দিয়েছে।" — ‘প্রজাপতি’ কী? কোন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে কীভাবে প্রজাপতি ডানা মেলতে সক্ষম হলো? স্বামীর যোগ্য সহধর্মিণীরূপে লীলাবতীর চরিত্র সংক্ষেপে লেখো। (১+২+২) কোনি • মান ৫
উত্তর
  • ‘প্রজাপতি’র পরিচয় : ‘কোনি’ উপন্যাসে ‘প্রজাপতি’ হলো ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতীর নিজের পরিশ্রমে গড়ে তোলা একটি টেইলারিং শপ বা দর্জির দোকান।
  • বাধা কাটিয়ে ডানা মেলার কাহিনি : ক্ষিতীশ সাঁতার নিয়ে মেতে থাকায় সংসারে কোনো স্থায়ী আয় ছিল না। চরম আর্থিক অনটন দূর করতে লীলাবতী নিজের কিছু গহনা বন্ধক রেখে এবং সিন্ধুদাদার সহযোগিতায় হাতিবাগানে সামান্য একটি সেলাইয়ের মেশিন দিয়ে এই দোকান শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম, সেলাইয়ের অনন্য আধুনিক কাটতি এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মাত্র চার বছরের মধ্যে তিনি দোকানটিকে বড়ো রূপ দেন। দোকানে চারজন কারিগর কাজ করতে শুরু করে এবং প্রচুর অর্ডার আসতে থাকে। ব্যবসাটির এই সাফল্য ও সমৃদ্ধিকেই লেখক "প্রজাপতি ডানা মেলে দিয়েছে" বলে রূপক অর্থে ব্যক্ত করেছেন।
  • লীলাবতীর চরিত্র : লীলাবতী হলেন এক বাস্তববাদী, কর্মঠ ও পতিব্রতা নারী। বাইরে তিনি ক্ষিতীশের সাঁতারের পাগলামির ওপর বিরক্তি দেখালেও ভেতরে তিনি ছিলেন স্বামীর স্বপ্নের পরম সহায়। কোনির পুষ্টিকর খাবারের দায়িত্ব নেওয়া এবং ক্ষিতীশের সম্মান রক্ষায় নিজের উপার্জিত অর্থ তুলে দিয়ে তিনি যোগ্য সহধর্মিণীর পরিচয় দিয়েছেন।
৩জুপিটার ক্লাবে ক্ষিতীশ সিংহের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ উঠেছিল? সেই অভিযোগের উত্তরে ক্ষিতীশ কী বক্তব্য রেখেছিলেন এবং কেন ক্লাব ছেড়েছিলেন? (২+৩) কোনি • মান ৫
উত্তর
  • উত্থাপিত অভিযোগসমূহ : জুপিটার ক্লাবের সম্পাদক বিনোদ ভর ও প্রশিক্ষক হরিচরণদের চক্রান্তকারী দল ক্ষিতীশ সিংহকে চিফ ট্রেনারের পদ থেকে হটানোর জন্য ক্লাবের সভায় অভিযোগ তোলে যে—
    (১) ক্ষিতীশের বয়স হয়েছে এবং তাঁর সেকেলে কঠোর ট্রেনিং পদ্ধতির জন্য ক্লাবের তরুণ সাঁতারুরা (যেমন সুহাস ও তপন) ক্লাব ছেড়ে অন্য ক্লাবে চলে যাচ্ছে।
    (২) তিনি ক্লাবের স্বার্থের চেয়ে নিজের একগুঁয়েমিকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং ক্লাবের ভেতরে শৃঙ্খলার অভাব তৈরি করছেন।
  • ক্ষিতীশের জবাব ও ক্লাব ত্যাগের কারণ : ক্ষিতীশ সিংহ এই মিথ্যা অভিযোগের জবাবে দৃঢ়কণ্ঠে জানান যে সাঁতারুদের শৃঙ্খলাহীনতা, ফাঁকিবাজি এবং ক্লাবের কর্মকর্তাদের নোংরা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই ক্লাবের পতনের আসল কারণ। আন্তর্জাতিক স্তরে লড়াই করতে হলে কঠিন পরিশ্রম ছাড়া কোনো শর্টকাট নেই। ক্লাব কর্তৃপক্ষ যখন দরিদ্র বস্তির মেয়ে কোনিকে জুপিটারে সাঁতার শেখার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে এবং ক্ষিতীশকে অপমানিত করে, তখন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ক্ষিতীশ পঁয়ত্রিশ বছরের মায়ার সম্পর্ক ছিন্ন করে সদর্পে জুপিটার ক্লাব ত্যাগ করেন এবং শপথ নেন জুপিটারকে হারিয়ে যোগ্য জবাব দেবেন।
৪মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলা দলের অন্তর্ঘাত এবং শেষপর্যন্ত কোনির নাটকীয় জয়ের কাহিনি সংক্ষেপে বর্ণনা করো। কোনি • মান ৫
উত্তর
  • বাংলা দলের নোংরা অন্তর্ঘাত : মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাংলা দলের ম্যানেজার হরিচরণ ও ধীরেন ঘোষরা ক্ষিতীশ ও কোনির প্রতি অন্ধ আক্রোশে এক ন্যক্কারজনক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনিকে একটিও ব্যক্তিগত ইভেন্টে নামতে দেওয়া হয়নি। এমনকি টিম মিটিংয়ে তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
  • নাটকীয় সুযোগ ও ক্ষিতীশের চড় : প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ৪×১০০ মিটার রিলে রেসে নামার আগে বাংলার অন্যতম প্রধান সাঁতারু অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে এবং বাংলার চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু হিয়া মিত্রের জেদে কোনিকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু অপমানে কোনি সাঁতরাতে অস্বীকার করলে ক্ষিতীশ তার কলারের নিচে এক সপাটে চড় মেরে বলেন—"তোকে ওদের দেখিয়ে দিতে হবে তুই কে!"
  • কোনির ঐতিহাসিক জয় : পুলে নেমে শেষ ল্যাপে মহারাষ্ট্রের দুর্ধর্ষ সাঁতারু রমা যোশীর সাথে কোনির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়। গ্যালারি থেকে ক্ষিতীশের বজ্রকণ্ঠের "ফাইট কোনি ফাইট" চিৎকার শুনে কোনি তার জীবনের সমস্ত অপমান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধার জ্বালাকে হাতের শক্তিতে রূপান্তর করে। শেষ ১০ মিটারে ক্ষিপ্র গতিতে জল কেটে কোনি রমা যোশীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্পর্শ করে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে এবং নিজের অপমানের যোগ্য জবাব দেয়।
৫‘কোনি’ উপন্যাসে কোনির পারিবারিক দারিদ্র্যের চিত্রটি তুলে ধরো। তার দাদা কমলের স্বপ্ন ও মৃত্যু কীভাবে কোনিকে একজন লড়াকু সাঁতারু হয়ে উঠতে বাধ্য করেছিল? (২+৩) কোনি • মান ৫
উত্তর
  • পারিবারিক দারিদ্র্যের চিত্র : শ্যামপুকুর বস্তির এক ভাঙাচোরা খুপরিতে কোনির পরিবার বাস করত। সংসারে ছিল যক্ষ্মা-আক্রান্ত দাদা কমল, মা, ভাইবোনেরা ও কোনি। বাবার অকালমৃত্যুর পর রাজাবাজারের এক মোটর গ্যারেজে দিনরাত খেটে দেড়শো টাকা মাইনে এনে কমল কোনোমতে সংসার চালাত। আধপেটা খেয়ে, ফেন-ভাত দিয়ে খিদে মেটানোই ছিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সামান্য চিকিৎসার অভাবে কোনির বাড়িতে অভাবের হাহাকার লেগেই থাকত।
  • কমলের স্বপ্ন ও ট্র্যাজিক মৃত্যু : কমল নিজে একসময় সাঁতারু ছিল এবং জুপিটার ক্লাবে সাঁতার কাটত। কিন্তু চরম দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে তার বড়ো সাঁতারু হওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। সে কোনিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখত যে কোনি একদিন সাঁতারে নাম করবে। কিন্তু যক্ষ্মারোগের সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় অকালেই কমলের মৃত্যু ঘটে।
  • লড়াকু সাঁতারু হয়ে ওঠার প্রেরণা : কমলের মৃত্যু কোনির জীবনে এক বিশাল ধাক্কা দেয়। একদিকে সংসারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার লড়াই, অন্যদিকে দাদার অপূর্ণ স্বপ্নকে পূরণ করার জেদ—এই দুই মিলে কোনিকে ইস্পাতকঠিন মানসিকতায় রূপান্তরিত করে। ক্ষিতীশের দেওয়া প্রতিটি কঠিন ট্রেনিং সে নিঃশব্দে সহ্য করে কেবল দাদার স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য। কমলের স্মৃতিই ছিল কোনির প্রতিটি স্ট্রোকের আসল শক্তি।
৬রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত ২০ ঘণ্টার অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় কোনির অংশগ্রহণ এবং সেখানে ক্ষিতীশ সিংহ কীভাবে তার মধ্যে ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়নের একগুঁয়েমি ও জেদ খুঁজে পেয়েছিলেন তা বর্ণনা করো। কোনি • মান ৫
উত্তর
  • হাঁটা প্রতিযোগিতায় কোনির অংশগ্রহণ : শারীরিক সক্ষমতা ও স্ট্যামিনা পরীক্ষার জন্য রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত ২০ ঘণ্টার অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় পুরুষদের পাশাপাশি বস্তির রোগা মেয়ে কোনিও অংশ নিয়েছিল। কাঠফাটা রোদ, ক্লান্তি ও তৃষ্ণার মাঝে যেখানে বহু পুরুষ প্রতিযোগী বসে পড়ছিল, সেখানে কোনি একমনে টানা হেঁটে চলেছিল।
  • ক্ষিতীশের জেদ প্রত্যক্ষ করা : প্রতিযোগিতার শেষ প্রহরে ক্ষিতীশ সিংহ লক্ষ্য করেন যে কোনির সারা শরীর ঘামে ভেজা, পা দুটো ক্লান্তিতে কাঁপছে, মুখ শুকিয়ে কাঠ, কিন্তু তার চোখের দৃষ্টিতে জ্বলছে এক অদম্য হিংস্র জেদ। একজন প্রতিযোগী তাকে ধাক্কা দিলে সে পড়ে যায়, কিন্তু কোনো অভিযোগ না করে দাঁতে দাঁত চেপে আবার উঠে হাঁটা শুরু করে। ক্লান্তি বা রক্তচক্ষু তাকে থামাতে পারছিল না। এই হার-না-মানা একগুঁয়েমি ও যন্ত্রণা সহ্য করার সীমাহীন ক্ষমতা দেখেই ক্ষিতীশ বুঝেছিলেন যে এই মেয়ে সাধারণ নয়। এর রক্তেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মালমশলা আছে। এই জেদই কোনিকে বিশ্বজয়ী সাঁতারু বানানোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
৭বারুণী কী? গঙ্গার ঘাটে বারুণী মেলা উপলক্ষ্যে যে দৃশ্য ফুটে উঠেছিল এবং সেখানে ক্ষিতীশ কীভাবে প্রথমবার কোনিকে লক্ষ্য করেছিলেন তা লেখো। (১+৪) কোনি • মান ৫
উত্তর
  • বারুণী কী : চৈত্র মাসের শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে গঙ্গা নদীতে পুণ্যস্নান করার উৎসবকে ‘বারুণী’ বলা হয়। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী এই দিনে গঙ্গাস্নান অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
  • গঙ্গার ঘাটের দৃশ্য ও ক্ষিতীশের প্রথম কোনি দর্শন :
    বারুণী উপলক্ষ্যে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে প্রচুর পুণ্যার্থীর ভিড় জমেছিল। ঘাটে পূজার্চনা, স্নান এবং গঙ্গায় কাঁচা আম বিসর্জন দেওয়ার এক বর্ণময় দৃশ্য ফুটে উঠেছিল। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ স্নান সেরে জলে কাঁচা আম ছুড়ে দিচ্ছিল। আর সেই আম সংগ্রহ করার জন্য একদল গরিব বস্তির ছেলেমেয়ে জলের মধ্যে সাঁতার কেটে তীব্র কাড়াকাড়িতে মেতেছিল।
    ঘাটের সিঁড়িতে বসে এই দৃশ্য দেখছিলেন সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ। তিনি লক্ষ্য করলেন একটি রোগা, তামাটে রঙের মেয়ে জলের মধ্যে বিদ্যুৎগতিতে হাত-পা চালিয়ে বাকি সমস্ত ছেলেদের পেছনে ফেলে বারবার নিখুঁত ক্ষিপ্রতায় অন্যের হাত থেকে আম ছিনিয়ে নিচ্ছে। তার সাঁতারের স্বাভাবিক শরীরদোলা, দম এবং জলের সাথে লড়াই করার সহজাত ছন্দ দেখেই জহুরি ক্ষিতীশ সিংহের চোখ চিনে নিয়েছিল যে এই মেয়েটির ভেতরে এক বিরল প্রতিভাবান সাঁতারু লুকিয়ে রয়েছে। এইভাবেই গঙ্গার ঘাটে ক্ষিতীশের সাথে কোনির ঐতিহাসিক প্রথম সংযোগ ঘটেছিল।

১৭শ অধ্যায় : বাংলা ব্যাকরণ (কারক, সমাস, বাক্য ও বাচ্য)

মাধ্যমিকের সম্পূর্ণ বাংলা ব্যাকরণ সিলেবাসের (কারক ও অকারক সম্পর্ক, সমাস, বাক্য ও বাক্য রূপান্তর, বাচ্য ও বাচ্য রূপান্তর) নির্বাচিত ১১টি MCQ এবং ২০টি অতিসংক্ষিপ্ত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশ্নোত্তর।

বহুবিকল্পভিত্তিক ব্যাকরণ প্রশ্নোত্তর (MCQ — মান ১)

৫০বাক্যে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা আলাদা হলে অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তাকে কী বলে? ১০০% কমন
কপ্রযোজক কর্তা
খনিরপেক্ষ কর্তা
গব্যতিহার কর্তা
ঘসমধাতুজ কর্তা
উত্তর
খনিরপেক্ষ কর্তা
৫১'রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়'—এখানে 'রাজায়-রাজায়' কোন ধরনের কর্তা? ১০০% কমন
কব্যতিহার কর্তা
খপ্রযোজ্য কর্তা
গসমধাতুজ কর্তা
ঘউহ্য কর্তা
উত্তর
কব্যতিহার কর্তা
৫২'তিলে তেল হয়'—'তিলে' পদটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো: ১০০% কমন
ককরণ কারকে 'এ'
খকর্ম কারকে 'এ'
গঅধিকরণ কারকে 'এ'
ঘঅপাদান কারকে 'এ' বিভক্তি
উত্তর
ঘঅপাদান কারকে 'এ' বিভক্তি (উৎস বোঝাতে)
৫৩'পুকুরে মাছ আছে'—'পুকুরে' পদটি কোন কারকের উদাহরণ? ১০০% কমন
কঅধিকরণ কারক
খঅপাদান কারক
গকরণ কারক
ঘকর্তৃ কারক
উত্তর
কঅধিকরণ কারক (স্থানাধিকরণ)
৫৪'সিংহাসন' পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম হলো— ১০০% কমন
কসিংহ ও আসন (দ্বন্দ্ব)
খসিংহ চিহ্নিত আসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)
গসিংহের আসন (তৎপুরুষ)
ঘসিংহ রূপ আসন (রূপক)
উত্তর
খসিংহ চিহ্নিত আসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)
৫৫'গায়েহলুদ' কোন সমাসের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ? ১০০% কমন
কদ্বন্দ্ব সমাস
খঅব্যয়ীভাব সমাস
গঅলুক বহুব্রীহি সমাস
ঘদ্বিগু সমাস
উত্তর
গঅলুক বহুব্রীহি সমাস
৫৬'উপনগরী' সমাসবদ্ধ পদটির ব্যাসবাক্য হলো— ১০০% কমন
কনগরীর সদৃশ (অব্যয়ীভাব)
খউপ যে নগরী
গক্ষুদ্র নগরী (কর্মধারয়)
ঘনগরীর সমীপে
উত্তর
কনগরীর সদৃশ (অব্যয়ীভাব)
৫৭'সূর্য উঠলে কুয়াশা দূর হয়'—গঠনগত দিক থেকে এটি কোন প্রকার বাক্য? ১০০% কমন
কসরল বাক্য
খজটিল বাক্য
গযৌগিক বাক্য
ঘমিশ্র বাক্য
উত্তর
কসরল বাক্য
৫৮'যদি তুমি সত্য বলো, তবে মুক্তি পাবে'—যৌগিক রূপ কী হবে? ১০০% কমন
কসত্য বললে মুক্তি পাবে
খসত্য বলো, তবে মুক্তি পাবে
গযেহেতু সত্য বলেছ তাই মুক্তি পাবে
ঘতোমার সত্য বলায় মুক্তি মিলল
উত্তর
খসত্য বলো, তবে মুক্তি পাবে
৫৯'শাঁখ বাজে'—বাক্যটিতে কোন বাচ্যের প্রয়োগ ঘটেছে? ১০০% কমন
ককর্তৃবাচ্য
খকর্মবাচ্য
গকর্মকর্তৃবাচ্য
ঘভাববাচ্য
উত্তর
গকর্মকর্তৃবাচ্য
৬০'আমার খাওয়া হলো না'—এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? ১০০% কমন
ককর্তৃবাচ্য
খকর্মবাচ্য
গকর্মকর্তৃবাচ্য
ঘভাববাচ্য
উত্তর
ঘভাববাচ্য

অতিসংক্ষিপ্ত ব্যাকরণ প্রশ্নোত্তর (SAQ — মান ১)

১সমধাতুজ কর্তা ও সমধাতুজ করণের একটি করে উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর

সমধাতুজ কর্তা: গায়ক গাইছে। | সমধাতুজ করণ: কী বাঁধনে বেঁধেছ আমায়!

২নিরপেক্ষ কর্তা কাকে বলে? উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর

একটি বাক্যে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা আলাদা হলে অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তাকে নিরপেক্ষ কর্তা বলে। যেমন— সূর্য উঠলে কুয়াশা দূর হয় (এখানে ‘সূর্য’ নিরপেক্ষ কর্তা)।

৩প্রযোজক কর্তা ও প্রযোজ্য কর্তার পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো। মান ১
উত্তর

কর্তা নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক কর্তা বলে, আর যাকে দিয়ে কাজটি করানো হয় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে। যেমন— মা শিশুকে চাঁদ দেখান (মা = প্রযোজক কর্তা, শিশুকে = প্রযোজ্য কর্তা)।

৪ব্যতিহার কর্তা কাকে বলে? উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর

বাক্যে দুটি কর্তা একত্রে একই জাতীয় ক্রিয়া বা পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে ব্যতিহার কর্তা বলে। যেমন— রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়।

৫"তিলে তেল হয়" এবং "তিলে তেল আছে" — দুটি বাক্যে ‘তিলে’ পদটির কারক নির্ণয় করো। মান ১
উত্তর

তিলে তেল হয় = অপাদান কারকে ‘এ’ বিভক্তি (উৎস বোঝাচ্ছে)। তিলে তেল আছে = অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি (আধার বা স্থান বোঝাচ্ছে)।

৬নিমিত্ত কারক ও কর্ম কারকের মধ্যে মূল পার্থক্য কী? মান ১
উত্তর

ক্রিয়াপদকে ‘কী’ বা ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে কর্ম কারক পাওয়া যায় এবং দান বা ক্রিয়াটি শর্তহীন হয়; কিন্তু ক্রিয়াটি কারও উদ্দেশ্যে বা স্বত্ব ত্যাগ করে সম্পাদিত হলে (জন্য/নিমিত্ত অর্থে) নিমিত্ত কারক হয়।

৭উদ্দেশ্য কর্ম ও বিধেয় কর্ম কাকে বলে? উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর

দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মূল কর্মটিকে উদ্দেশ্য কর্ম এবং তার পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত অপর কর্মটিকে বিধেয় কর্ম বলে। যেমন— দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি।

৮‘নিত্য সমাস’ ও ‘অলুক সমাস’-এর একটি করে উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর

নিত্য সমাস: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। | অলুক সমাস: গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ (অলুক বহুব্রীহি)।

৯উপমান ও উপমিত কর্মধারয় সমাসের দুটি পার্থক্য লেখো। মান ১
উত্তর

(১) উপমান কর্মধারয়ে সাধারণ ধর্মবাচক পদটি উল্লেখ থাকে (যেমন: কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো), কিন্তু উপমিত কর্মধারয়ে সাধারণ ধর্মটি উহ্য থাকে (যেমন: মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র)। (২) উপমান সমাসে পূর্বপদ বিশেষ্য ও পরপদ বিশেষণ হয়, কিন্তু উপমিত সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

১০ব্যধিকরণ বহুব্রীহি ও সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর

ব্যধিকরণ বহুব্রীহি: বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি। | সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: পীত অম্বর যার = পীতাম্বর।

১১বাক্যাশ্রয়ী সমাস কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর

যখন একটি সম্পূর্ণ বাক্য বা বাক্যাংশ সমাসবদ্ধ হয়ে একটিমাত্র পদে পরিণত হয়, তখন তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। যেমন— বসে-আঁকো-প্রতিযোগিতা।

১২ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো : মান ১
উত্তর
  • সিংহাসন: সিংহ চিহ্নিত আসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
  • উপনগরী: নগরীর সদৃশ / ক্ষুদ্র নগরী (অব্যয়ীভাব সমাস)
  • মনমাঝি: মন রূপ মাঝি (রূপক কর্মধারয় সমাস)
  • কাজলকালো: কাজলের ন্যায় কালো (উপমান কর্মধারয় সমাস)
  • মুখচন্দ্র: মুখ চন্দ্রের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয় সমাস)
  • গায়েহলুদ: গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে (অলুক বহুব্রীহি সমাস)
  • হাতাহাতি: হাতে হাতে যে যুদ্ধ (ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস)
  • গ্রামান্তর: অন্য গ্রাম (নিত্য সমাস)
  • দশানন: দশ আনন যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস)
  • সপ্তাহ: সপ্ত অহের সমাহার (দ্বিগু সমাস)
১৩বাক্যের তিনটি শর্ত (যোগ্যতা, আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি) কাকে বলে? উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর
  • যোগ্যতা: বাক্যের পদগুলির অর্থগত ও ভাবগত মিলবন্ধনকে যোগ্যতা বলে (যেমন: সূর্য পূর্বদিকে ওঠে)।
  • আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের এক পদের পর অন্য পদ শোনার আগ্রহকে আকাঙ্ক্ষা বলে (যেমন: আমি বাড়ি গিয়ে... বললে আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থাকে)।
  • আসত্তি: বাক্যের পদগুলিকে সুশৃঙ্খলভাবে পরপর সাজানোর নিয়মকে আসত্তি বা নৈকট্য বলে।
১৪উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক ও বিধেয়ের সম্প্রসারক কাকে বলে? মান ১
উত্তর

বাক্যে যেসব পদ উদ্দেশ্য পদের অর্থকে বিশেষিত বা প্রসারিত করে তাকে উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক বলে এবং যেসব পদ বিধেয় ক্রিয়ার অর্থকে প্রসারিত করে তাকে বিধেয়ের সম্প্রসারক বলে।

১৫"যদি পড়াশোনা করো, তবেই পাশ করবে।" — সরল ও যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করো। মান ১
উত্তর

সরল বাক্য: পড়াশোনা করলেই পাশ করবে। | যৌগিক বাক্য: পড়াশোনা করো, তবেই পাশ করবে।

১৬"সে নির্দোষ।" — অর্থ না বদলে নঞর্থক বাক্যে রূপান্তর করো। মান ১
উত্তর

সে দোষী নয়।

১৭কর্মকর্তৃবাচ্য কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও। মান ১
উত্তর

যে বাক্যে কর্তা অনুপস্থিত থাকে এবং কর্মই কর্তার মতো ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। যেমন— শাঁখ বাজে, বাঁশি বাজে।

১৮লুপ্তকর্তা কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের পার্থক্য কী? মান ১
উত্তর

লুপ্তকর্তা কর্মবাচ্যে বাক্যে কর্ম পদটি উপস্থিত থাকে (যেমন: চোর ধরা পড়েছে), কিন্তু ভাববাচ্যে সাধারণত কর্ম থাকে না এবং ক্রিয়ার ভাবই প্রধান হয় (যেমন: এবার যাওয়া যাক)।

১৯"তার দ্বারা এ কাজ হবে না।" — কর্তৃবাচ্যে রূপান্তর করো। মান ১
উত্তর

সে এ কাজ পারবে না (বা, সে এ কাজ করতে পারবে না)।

২০"এবার ট্রেনে ওঠা যাক।" — এটি কোন বাচ্য এবং একে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তর করলে কী হবে? মান ১
উত্তর

এটি ভাববাচ্য। কর্তৃবাচ্যে রূপান্তর: চলো, এবার ট্রেনে উঠি।

---

১৮শ অধ্যায় : নির্মিতি ও প্রবন্ধ রচনা

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ (মান ৪), কাল্পনিক সংলাপ (মান ৫), সংবাদপত্রের প্রতিবেদন (মান ৫) এবং ৪০০ শব্দের পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ রচনার (মান ১০) সেরা কমন নির্বাচিত তালিকা ও সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

ক. চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ (মান ৪ — সেরা ৪টি অনুশীলন সেট)

সেট ১চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করো : মান ৪
English Passage :

"Work is another name of life. Idle persons have no place on the earth. So do not waste time. Wastage of time means wastage of life. If you want to be happy, you have to work regularly. Remember that industry is the key to success."

উত্তর

কর্মই জীবনের অপর নাম। অলস ব্যক্তিদের পৃথিবীতে কোনো স্থান নেই। সুতরাং সময় নষ্ট কোরো না। সময়ের অপচয় মানেই জীবনের অপচয়। তুমি যদি সুখী হতে চাও, তবে তোমাকে নিয়মিত কাজ করতে হবে। মনে রেখো, পরিশ্রমই হলো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

সেট ২চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করো : মান ৪
English Passage :

"Honesty is a great virtue. If you do not deceive others, you do not deceive yourself. An honest man is respected by all. Nobody trusts a liar. Even if he speaks the truth, people look upon him with suspicion."

উত্তর

সততা একটি মহৎ গুণ। তুমি যদি অন্যকে প্রতারিত না করো, তবে তুমি নিজেকেও প্রতারিত করবে না। একজন সৎ মানুষ সকলের দ্বারা সম্মানিত হন। মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না। এমনকি সে সত্যি কথা বললেও মানুষ তাকে সন্দেহের চোখে দেখে।

সেট ৩চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করো : মান ৪
English Passage :

"Books are our best friends. They never leave us in time of danger. Good books always guide us to the right path. We can know the unknown world through reading books."

উত্তর

বই আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বিপদের সময়ে তারা কখনো আমাদের ত্যাগ করে না। ভালো বই সর্বদা আমাদের সঠিক পথের সন্ধান দেয়। বই পড়ার মধ্য দিয়েই আমরা এই অজানা জগৎকে জানতে পারি।

সেট ৪চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করো : মান ৪
English Passage :

"Patriotism is love for one's country. It is a powerful sentiment and wholly unselfish and noble. A patriot can sacrifice even his own life for the good of his country."

উত্তর

স্বদেশপ্রেম হলো নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা। এটি একটি অত্যন্ত গভীর অনুভূতি এবং সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ও মহৎ। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক তাঁর দেশের মঙ্গলের জন্য নিজের অমূল্য জীবন পর্যন্ত বলিদান দিতে পারেন।

খ. কাল্পনিক সংলাপ রচনা (মান ৫ — কম-বেশি ১৫০ শব্দ)

১মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পড়াশোনায় তার ভালো-মন্দ প্রভাব নিয়ে দুই বন্ধুর কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। সংলাপ • মান ৫
উত্তর

অয়ন : কীরে রাহুল, আজকাল তোকে বিকেলে খেলার মাঠে দেখাই যায় না! শরীর খারাপ নাকি রে?

রাহুল : না রে, শরীর ঠিকই আছে। আসলে অনলাইনে ক্লাসের নোটস দেখতে গিয়ে কখন যে রিলস আর শর্টসের মোহে দু-তিন ঘণ্টা কেটে যায়, বুঝতেই পারি না!

অয়ন : ঠিক এই ফাঁদটাতেই আজকাল অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী পা দিচ্ছে! প্রযুক্তি হিসেবে স্মার্টফোন তো আশীর্বাদ—অনলাইন ক্লাস, পিডিএফ নোটস বা তথ্যের জন্য কত সুবিধা। কিন্তু অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রল করার নেশা আমাদের মনোযোগের ক্ষমতা শেষ করে দিচ্ছে।

রাহুল : একদম সত্যি কথা। পড়তে বসলে ফোনের নোটিফিকেশন এলেই হাত চলে যায়, আর পড়ার ছন্দ ভেঙে যায়। গত ইউনিট টেস্টে আমার নম্বর অনেক কমে গেছে শুধু এই বদভ্যাসের জন্য।

অয়ন : এর থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় আত্মনিয়ন্ত্রণ। পড়ার সময় ফোনের ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে হবে এবং দিনে এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন-টাইম রাখা চলবে না। পড়াশোনার পর বিকেলে মাঠে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে।

রাহুল : ঠিক বলেছিস। আজ থেকেই আমি ফোনের অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ নোটিফিকেশন বন্ধ করছি। চল, আজ বিকেলেই মাঠে যাচ্ছি!

২প্লাস্টিক বর্জন, পরিবেশ দূষণ রোধ ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই সহপাঠীর কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। সংলাপ • মান ৫
উত্তর

সৌম্য : দেখ অনির্বাণ, স্কুলের সামনের নর্দমাটায় কী হারে প্লাস্টিকের প্যাকেট আর চিপসের ঠোঙা জমে নোংরা জল আটকে গেছে!

অনির্বাণ : হ্যাঁ রে সৌম্য, সামান্য বৃষ্টি হলেই নর্দমা উপচে রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যায়। অপচনশীল প্লাস্টিক যে আমাদের পরিবেশ আর স্বাস্থ্যের কতটা ক্ষতি করছে, মানুষ বুঝেও বুঝতে চাইছে না।

সৌম্য : মাটি থেকে সমুদ্র—সর্বত্র প্লাস্টিক বিষ ছড়াচ্ছে। মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, আর গরু-বাছুর এই প্লাস্টিক খেয়ে মারা যাচ্ছে।

অনির্বাণ : এই পরিস্থিতি বদলাতে গেলে আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকেই শুরু করতে হবে। বাজারে যাওয়ার সময় চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য (Single-use) প্লাস্টিক সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে।

সৌম্য : শুধু প্লাস্টিক বর্জন নয়, দূষণ রোধে আমাদের আরও বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। আগামী সপ্তাহে আমাদের বিদ্যালয়ে ‘অরণ্য সপ্তাহ’ পালন হবে। চল, আমরা দুজন অন্তত পাঁচটি করে চারাগাছ লাগানোর দায়িত্ব নিই।

অনির্বাণ : চমৎকার প্রস্তাব! গাছই আমাদের অক্সিজেন দেয় ও দূষণ কমায়। চল, ক্লাসের বন্ধুদেরও এই অভিযানে শামিল করি।

৩কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। সংলাপ • মান ৫
উত্তর

রৌনক : কীরে অঙ্কিত, আজকাল তো দেখছি প্রজেক্টের যে-কোনো কঠিন তথ্য তুই চ্যাটজিপিটি বা এআই দিয়ে এক সেকেন্ডে বানিয়ে নিচ্ছিস!

অঙ্কিত : হ্যাঁ রে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আমাদের পড়াশোনা ও গবেষণার গতিকে অবিশ্বাস্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। জটিল বিজ্ঞানের অঙ্ক বা কোডিং নিমেষে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

রৌনক : গতি বাড়ছে মানছি, কিন্তু ভেবে দেখেছিস এতে আমাদের নিজস্ব ভাবার ক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? ছাত্রছাত্রীরা যদি নিজের মাথা না খাটিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর এআই-এর ওপর ছেড়ে দেয়, তবে তাদের নিজস্ব সৃজনশীলতা আর বিশ্লেষণ ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে!

অঙ্কিত : তোর আশঙ্কাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরও মতে, এআই-এর ভুল তথ্যের সম্ভাবনা (Hallucination) থাকে এবং অতিরিক্ত নির্ভশীলতা মানুষের কর্মসংস্থানেও ধাক্কা দিচ্ছে। ডিপফেক ভিডিও দিয়ে সাইবার অপরাধও বাড়ছে।

রৌনক : তাই এআই-কে আমাদের সহকারী বা গাইড হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, কখনোই আমাদের চিন্তার বিকল্প হিসেবে নয়।

অঙ্কিত : একদম খাঁটি কথা। প্রযুক্তিকে চালনা করব আমরা, প্রযুক্তি যেন আমাদের চালনা না করে!

৪নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা নিয়ে দুই বন্ধুর কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। সংলাপ • মান ৫
উত্তর

দেবায়ন : কী ব্যাপার সৌভিক, মুখটা এত শুকনো কেন? মন খারাপ নাকি?

সৌভিক : আর বলিস না রে দেবায়ন! সকালে বাবার সাথে বাজারে গিয়েছিলাম। শাকসবজি, ডাল, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে সাধারণ মধ্যবিত্তের সংসার চালানো এক দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে!

দেবায়ন : ঠিক বলেছিস। আলু, পেঁয়াজ, টমেটোর দাম আকাশছোঁয়া। চাল-ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বাড়লে শ্রমজীবী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনধারণ চরম সংকটে পড়ে।

সৌভিক : পেট্রোল-ডিজেলের দামের কারণে পরিবহণ খরচ বাড়ছে, আর একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম মজুতদারি করে জিনিসের দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ মানুষের আয় কিন্তু এক ফোঁটাও বাড়েনি।

দেবায়ন : সরকারি বাজার নজরদারি বাড়ানো এবং কালোবাজারি রুখতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সুলভে খাদ্যসামগ্রী জোগান না দিলে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।

সৌভিক : সত্যি, সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘশ্বাস কবে যে শেষ হবে কে জানে!

৫মাধ্যমিক পরীক্ষার পর ভবিষ্যৎ পেশা বা বিষয় নির্বাচন (Science, Arts, Commerce) নিয়ে দুই সহপাঠীর কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। সংলাপ • মান ৫
উত্তর

অর্ক : মাধ্যমিক পরীক্ষা তো শেষ হতে চলল সায়ক, এবার একাদশ শ্রেণিতে কোন বিভাগ নিয়ে পড়ার কথা ভাবছিস?

সায়ক : আমি সায়েন্স (বিজ্ঞান বিভাগ) নিয়েই পড়তে চাই রে অর্ক। ছোটোবেলা থেকেই আমার পদার্থবিদ্যা ও গণিতের প্রতি গভীর ভালোবাসা। ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যুক্ত হওয়ার ইচ্ছে আছে। তুই কী ভাবলি?

অর্ক : অনেকে বলে নম্বর বেশি পেলে সায়েন্সই নিতে হবে, কিন্তু আমার টান ইতিহাস, সাহিত্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দিকে। তাই আমি আর্টস (কলা বিভাগ) নিয়েই পড়ব বলে ঠিক করেছি।

সায়ক : বাহ্‌, দারুণ সিদ্ধান্ত! যে বিষয়ে পড়ার আনন্দ আছে, সেখানেই সাফল্য আসে। আর্টস পড়ে সিভিল সার্ভিস (IAS/IPS), আইন বা সাংবাদিকতায় কত উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে!

অর্ক : ঠিক তাই। অন্ধের মতো কারও দেখাদেখি বা অভিভাবকদের অতিরিক্ত চাপে নয়, নিজের মেধা ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে স্ট্রিম বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সায়ক : একদম ঠিক। চল, টেস্ট পেপারগুলো শেষ করে মাধ্যমিকের সেরা রেজাল্টটা আগে নিশ্চিত করি!

গ. সংবাদপত্রের প্রতিবেদন রচনা (মান ৫ — কম-বেশি ১৫০ শব্দ)

১বিদ্যালয়ে বা এলাকায় ‘অরণ্য সপ্তাহ পালন ও বৃক্ষরোপণ উৎসব’ প্রতিবেদন • মান ৫
উত্তর
সবুজের অঙ্গীকার : বিদ্যালয়ে মহাসমারোহে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ ও বৃক্ষরোপণ উৎসব

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান, ২০ জুলাই : বিশ্ব উষ্ণায়ন ও ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার শপথ নিয়ে গতকাল ১৯ জুলাই বর্ধমান টাউন স্কুল প্রাঙ্গণে উদযাপিত হলো ‘অরণ্য সপ্তাহ ও বৃক্ষরোপণ উৎসব’। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় বনদপ্তরের আধিকারিকদের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি এক মহামিলন ক্ষেত্রের রূপ নেয়।

সকাল ১০টায় প্রভাতফেরি ও রবীন্দ্রনাথের বৃক্ষবন্দনা গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয় প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "একটি গাছ একটি প্রাণ—প্রকৃতিকে না বাঁচালে মানবসভ্যতা বাঁচবে না।" প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মহকুমা বনাধিকারিক প্লাস্টিক বর্জন এবং বৃক্ষরোপণের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

আলোচনা সভার পর বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের চারপাশে এবং পার্শ্ববর্তী রাস্তার ধারে শাল, সেগুন, নিম, আমলকী ও কৃষ্ণচূড়ার প্রায় তিন শতাধিক চারাগাছ রোপণ করা হয়। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর হাতে একটি করে চারাগাছ তুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি এলাকায় বিপুল উৎসাহ ও পরিবেশ সচেতনতার সঞ্চার করেছে।

২প্লাস্টিক দূষণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে এলাকার মানুষের সচেতনতা শিবির প্রতিবেদন • মান ৫
উত্তর
প্লাস্টিক বর্জন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ জনসচেতনতা শিবির

নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসাত, ১৫ সেপ্টেম্বর : বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গুর প্রকোপ এবং পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা রোধ করতে গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর বারাসাত পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় পুরসভা ও ‘সবুজায়ন’ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শিবিরে এলাকার বহু সাধারণ মানুষ ও স্কুলপড়ুয়ারা অংশ নেয়।

শিবিরের উদ্বোধন করেন স্থানীয় মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, যত্রতত্র ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের কাপ, ক্যারিবাগ ও ডাবের খোলায় বৃষ্টির পরিষ্কার জল জমেই ডেঙ্গুর বাহক ‘এডিস ইজিপ্টাই’ মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে। তাই ডেঙ্গু রুখতে হলে সবার আগে প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন করতে হবে। অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্রের মাধ্যমে মশার লার্ভা চেনার উপায়, জ্বর হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝানো হয়।

আলোচনা শেষে স্বেচ্ছাসেবক ও পড়ুয়ারা এলাকার জমা জল পরিষ্কার করে এবং নর্দমাগুলিতে ব্লিচিং পাউডার ও লার্ভিসাইড তেল স্প্রে করে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের হাতে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাপড় ও পাটের থলি তুলে দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এলাকাবাসীর কাছে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।

৩ (ক)বিদ্যালয়ে বার্ষিক বিজ্ঞান প্রদর্শনী প্রতিবেদন • মান ৫
উত্তর
খুদে বিজ্ঞানীদের হাতের জাদু : বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বিজ্ঞান প্রদর্শনী

নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর, ৫ আগস্ট : ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাতে গতকাল ৪ আগস্ট কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বিজ্ঞান প্রদর্শনী। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শতাধিক ছাত্রছাত্রী তাদের নিজেদের তৈরি নানা বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল নিয়ে এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ড. অরিন্দম সেন। তিনি তাঁর ভাষণে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর জোর দেন। প্রদর্শনীতে সৌরশক্তির ব্যবহার, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল, রোবোটিক্স এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো মোট ৪৫টি মডেল স্থান পেয়েছিল। বিশেষ করে দশম শ্রেণির ছাত্রদের তৈরি ‘কম খরচে আর্সেনিকমুক্ত জল পরিশোধন যন্ত্র’ এবং ‘স্মার্ট ডাস্টবিন’ দর্শকদের বিশেষ নজর কাড়ে।

পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের ভিড়ে প্রদর্শনী প্রাঙ্গণ দিনভর মুখরিত ছিল। অনুষ্ঠানের শেষে বিচারকমণ্ডলীর বিবেচনায় সেরা তিনটি মডেলকে পুরস্কৃত করা হয়।

৩ (খ)বিদ্যালয়ে ‘নির্মল বিদ্যালয় সপ্তাহ’ উদযাপন প্রতিবেদন • মান ৫
উত্তর
স্বচ্ছতার পাঠ : সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হলো ‘নির্মল বিদ্যালয় সপ্তাহ’

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর, ২৫ আগস্ট : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে গত ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট মেদিনীপুর আদর্শ বিদ্যালয়ে উদযাপিত হলো ‘নির্মল বিদ্যালয় সপ্তাহ’। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সমস্ত ছাত্রছাত্রীর সক্রিয় অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি বিশেষ সাফল্য লাভ করে।

সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানের প্রথম দিনে প্ল্যাকার্ড হাতে এক সচেতনতামূলক পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। পরবর্তী দিনগুলিতে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের শ্রেণিকক্ষ, শৌচালয় ও খেলার মাঠ পরিষ্কার করে এবং পচনশীল ও অপচনশীল আবর্জনা আলাদাভাবে ফেলার জন্য সবুজ ও নীল ডাস্টবিনের ব্যবহার শেখে। এছাড়াও মিড-ডে মিল খাওয়ার আগে সঠিকভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার প্রশিক্ষণ, দেওয়াল চিত্র অঙ্কন এবং ‘স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্য’ বিষয়ে বসে-আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।

সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক মহাশয় বিদ্যালয় চত্বরকে সম্পূর্ণ ‘প্লাস্টিকমুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেন। পড়ুয়াদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, আগামী প্রজন্মের হাত ধরেই এক নির্মল ও সুস্থ সমাজ গড়ে উঠবে।

৪অতিবৃষ্টি বা ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন ও ত্রাণকার্য প্রতিবেদন • মান ৫
উত্তর
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উপকূলবর্তী জনজীবন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু ত্রাণকার্য

নিজস্ব সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ, ২৫ মে : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও টানা চব্বিশ ঘণ্টার অতিবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন ও কাকদ্বীপ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী অঞ্চল। ঘণ্টায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়া এবং নদীর জলোচ্ছ্বাসে কংক্রিটের নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে অন্তত পঁয়ত্রিশটি গ্রাম।

ঝড়ের তাণ্ডবে কয়েক হাজার কাঁচা মাটির বাড়ি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং বিঘার পর বিঘা জমির ধান ও পানের বরজ জলের তলায় ডুবে গেছে। বড়ো বড়ো গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় গতকাল রাত থেকে গোটা এলাকা বিদ্যুৎহীন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গৃহহীন ও জলবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। দুর্গত মানুষদের স্থানীয় স্কুল ও ফ্লাড শেল্টারগুলিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফ থেকে ত্রিপল, শুকনো খাবার, পানীয় জলের পাউচ ও জরুরি ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে এবং খোলা হয়েছে লঙ্গরখানা।

৫নাবালিকার বিবাহ রোধে কন্যাশ্রী ও স্কুল ছাত্রীদের সাহসী ভূমিকা প্রতিবেদন • মান ৫
উত্তর
কন্যাশ্রী যোদ্ধাদের অদম্য সাহস : সহপাঠীর বাল্যবিবাহ রুখে দিল স্কুলের ছাত্রীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ১২ নভেম্বর : সচেতনতা আর অদম্য সাহসের জোরে ফের এক নাবালিকার জীবন ও ভবিষ্যৎ বাঁচাল বিদ্যালয়ের ‘কন্যাশ্রী ক্লাব’-এর ছাত্রীরা। গতকাল ১১ নভেম্বর পুরুলিয়ার মানবাজার ব্লকের এক প্রত্যন্ত গ্রামে নবম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীর গোপনে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা রুখে দিল তারই সহপাঠীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অনটনের অজুহাতে ওই নাবালিকা ছাত্রীর পরিবার পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করেছিল। মেধাবী সহপাঠী হঠাৎ স্কুলে আসা বন্ধ করে দেওয়ায় সন্দেহ হয় বিদ্যালয়ের কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যাদের। গোপন সূত্রে বিয়ের খবরটি জানতে পেরেই তারা কালবিলম্ব না করে প্রধান শিক্ষিকা ও স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিসে বিষয়টি জানায়। এরপর পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রীরা সটান হাজির হয় বিয়েবাড়িতে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং ছাত্রীদের যুক্তিপূর্ণ বোঝানোর ফলে নাবালিকার বাবা-মা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তাঁরা আঠারো বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না এবং তার পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন বলে লিখিত মুচলেকা দেন। স্কুলছাত্রীদের এই সাহসী পদক্ষেপ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন জেলাশাসক।

ঘ. প্রবন্ধ রচনা (মান ১০ — কম-বেশি ৪০০ শব্দ)

রচনা ১বিজ্ঞান ও কুসংস্কার / দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি ১০০% কমন রচনা • মান ১০
উত্তর
"বিজ্ঞান মানুষের চোখ ফুটিয়েছে, কিন্তু মনের অন্ধকার দূর করার দায়িত্ব মানুষের নিজের।"
  • ভূমিকা : একবিংশ শতাব্দী বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগ। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের শয্যাগ্রহণ পর্যন্ত মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপ আজ বিজ্ঞানের আশীর্বাদে উজ্জ্বল। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, এত উন্নতির পরও মানুষের মনের গভীরে এখনও বাসা বেঁধে রয়েছে অন্ধকার ও কুসংস্কারের শিকড়।
  • দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের অবদান : বিদ্যুৎ, ফ্যান, রেফ্রিজারেটর, গ্যাস ও মাইক্রোওয়েভ আমাদের গৃহজীবনকে আরামদায়ক করেছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনেছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড, এমআরআই, রোবোটিক সার্জারি ও অ্যান্টিবায়োটিক মারণব্যাধিকে জয় করে মানুষের গড় আয়ু বহুগুণ বাড়িয়েছে। পরিবহণের আধুনিকীকরণে মেট্রো, বুলেট ট্রেন ও উড়োজাহাজ সময় ও দূরত্বকে জয় করেছে।
  • কুসংস্কারের স্বরূপ ও কারণ : বিজ্ঞান যেখানে যুক্তি, কার্যকারণ সম্পর্ক ও পরীক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত, কুসংস্কার সেখানে অজ্ঞতা, ভীতি ও অন্ধবিশ্বাসের ফল। বিড়ালের রাস্তা কাটা, হাঁচি-টিকটিকির বাধা, গ্রহ-নক্ষত্রের কাল্পনিক দোষে রত্নপাথর ধারণ, কিংবা ডাইনি সন্দেহে নিরীহ নারীর ওপর অত্যাচার—এসবই কুসংস্কারের রূপ। আজও গ্রামবাংলায় সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝা-গুণিনের কাছে নিয়ে যাওয়ার ফলে শত শত প্রাণ ঝরে যায়।
  • বিজ্ঞানচেতনার অভাব বনাম বিজ্ঞানের ব্যবহার : আমরা কম্পিউটার ও স্মার্টফোন ব্যবহার করি, অথচ নতুন গাড়ি কিনে তার ওপর লেবু-লঙ্কা ঝোলাই। মহাকাশে রকেট পাঠানোর আগে কুসংস্কারাচ্ছন্ন পূজা দেওয়া প্রমাণ করে যে আমরা বিজ্ঞানের উপকরণ ব্যবহার করছি ঠিকই, কিন্তু চিন্তায় বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠতে পারিনি।
  • ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও প্রতিকার : কুসংস্কার দূর করার একমাত্র চাবিকাঠি হলো যুক্তিবাদী শিক্ষার প্রসার। বিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজকেই বিজ্ঞান মেলা ও পথনাটিকার মাধ্যমে অলৌকিক ভেলকিবাজির পেছনে থাকা রাসায়নিক ও ভৌত রহস্য সাধারণ মানুষের সামনে ফাঁস করতে হবে।
  • উপসংহার : বিজ্ঞান কেবল ল্যাবরেটরির কোনো বিষয় নয়; বিজ্ঞান হলো সত্যানুসন্ধানের এক যুক্তিবাদী জীবনদর্শন। প্রতিটি মানুষ যেদিন অন্ধবিশ্বাস ছেড়ে যুক্তির আলোকে সমাজ গড়ে তুলবে, সেদিনই মানবসভ্যতার প্রকৃত মুক্তি ঘটবে।
রচনা ২পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার / বিশ্ব উষ্ণায়ন ও অরণ্য সংরক্ষণ ১০০% কমন রচনা • মান ১০
উত্তর
"দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর, / লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর / হে নবসভ্যতা!" — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • ভূমিকা : প্রকৃতি ও পরিবেশ হলো জীবজগতের জীবনধারণের মূল ভিত্তি। জল, বায়ু, মাটি ও অরণ্যের সুষম সামঞ্জস্যের মধ্য দিয়েই পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার অবাধ লোভ ও অপরিণামদর্শিতার কারণে আজ পৃথিবীর পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে, যার ফলস্বরূপ সমগ্র বিশ্ব আজ অস্তিত্ব সংকটে দাঁড়িয়ে।
  • পরিবেশ দূষণের বিভিন্ন রূপ :
    (১) বায়ুদূষণ : কলকারখানা ও যানবাহনের নির্গত ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে মিশে বাতাসকে বিষাক্ত করছে।
    (২) জলদূষণ : রাসায়নিক বর্জ্য, নর্দমার আবর্জনা ও কীটনাশক নদী-সমুদ্রের জলে মিশে পানীয় জল সংকট ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটাচ্ছে।
    (৩) শব্দদূষণ : যানবাহনের তীব্র হর্ন, মাইক ও বাজি মানুষের শ্রবণশক্তি ও স্নায়ুর মারাত্মক ক্ষতি করছে।
    (৪) মৃত্তিকা ও প্লাস্টিক দূষণ : অপচনশীল পলিথিন ও প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা ও জলধারণ ক্ষমতা ধ্বংস করছে।
  • বিশ্ব উষ্ণায়ন ও প্রকৃতির রুদ্র রূপ : নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বাড়ছে। এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে (Global Warming), মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং ঘূর্ণিঝড়, অনাবৃষ্টি ও অসময়ের বন্যার মতো বিপর্যয় নিত্যসঙ্গী হচ্ছে।
  • প্রতিকার ও অরণ্য সংরক্ষণের উপায় :
    (১) অরণ্য নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ‘একটি গাছ, একটি প্রাণ’ নীতিতে গণ-বৃক্ষরোপণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
    (২) একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে চট ও কাগজের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
    (৩) জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা-পেট্রোল)-এর বদলে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
  • উপসংহার : এই পৃথিবী আমাদের একার নয়; আগামী প্রজন্মের জন্য এটি এক অমূল্য আমানত। প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি স্থাপন করেই আমাদের আগামীকে বাঁচাতে হবে।
রচনা ৩সমাজকল্যাণে ও দেশগঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ও কর্তব্য মান ১০
উত্তর
"এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।"
  • ভূমিকা : ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যতের নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি পর্ব। আজকের ছাত্রই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, শিক্ষক, চিকিৎসক, রাষ্ট্রনায়ক ও সমাজসংস্কারক। তাই একটি দেশের সার্বিক উন্নতি ও সমাজকল্যাণের প্রধান শক্তি হলো তার সচেতন ছাত্রসমাজ।
  • অধ্যয়নই প্রধান তপস্যা : প্রাচীন প্রবাদ—"ছাত্রাণাং অধ্যয়নং তপঃ"। জ্ঞানার্জন ও চরিত্রগঠনই ছাত্রজীবনের প্রথম ব্রত। তবে আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য কেবল চার দেওয়ালের মাঝে পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন নয়, বরং অর্জিত জ্ঞানকে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে নিয়োজিত করা।
  • সমাজসেবায় ছাত্রদের ভূমিকা :
    (১) নিরক্ষরতা দূরীকরণ : ছুটির দিনে বস্তি ও গ্রামীণ এলাকায় গিয়ে নিরক্ষর শিশু ও বয়স্কদের অক্ষরজ্ঞান দান করে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে পারে।
    (২) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষা : ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তোলা, প্লাস্টিক বর্জন এবং বৃক্ষরোপণ অভিযানে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া।
    (৩) প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণকার্য : বন্যা, খরা বা ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গতদের জন্য অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ এবং নিঃস্বার্থ সেবা প্রদান।
  • দেশগঠনে আদর্শ নাগরিকের ভূমিকা : ছাত্রসমাজকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে দেশপ্রেম, সততা, দুর্নীতিমুক্ত মানসিকতা ও পরমতসহিষ্ণুতার আদর্শে দীক্ষিত হতে হবে।
  • উপসংহার : স্বামী বিবেকানন্দ তরুণ ছাত্রসমাজের মধ্যেই এক নতুন ও শক্তিশালী ভারতবর্ষকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ছাত্রসমাজ নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকলে দেশ ও জাতির অগ্রগতি অবশ্যম্ভাবী।
রচনা ৪বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য (অথবা, চরিত্রগঠনে খেলাধুলার ভূমিকা) মান ১০
উত্তর
"এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, / সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি!"
  • ভূমিকা : প্রকৃতি বাংলার বুকে তার রূপের ডালা অকৃপণভাবে মেলে ধরেছে। প্রতি দু-মাস অন্তর ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বাংলার প্রকৃতি যে নতুন রঙের পোশাক পরে সাজে, পৃথিবীর আর কোথাও এমন বৈচিত্র্য দেখা যায় না।
  • ষড়ঋতুর পর্যায়ক্রমিক রূপ :
    (১) গ্রীষ্ম : প্রখর রৌদ্র ও কালবোশেখির ঝড়, সাথে আম-জাম-কাঁঠাল ও লিচুর সুমিষ্ট স্বাদ।
    (২) বর্ষা : মেঘমেদুর আকাশ, অবিরাম বারিধারা ও কদম ফুলের গন্ধ। প্রকৃতির রুক্ষতা ধুয়ে সবুজের সমারোহ।
    (৩) শরৎ : নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ, নদীর চরে কাশফুল আর শিউলির সুবাসে মহামায়ার আগমন বার্তা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার আনন্দ।
    (৪) হেমন্ত : সোনালী ধানের শিষ ও নবান্নের উৎসব। শীতের আগাম বার্তা।
    (৫) শীত : কুয়াশার চাদর, মিষ্টি রোদ, পিঠেপুলির উৎসব ও নানা শাকসবজির মেলা।
    (৬) বসন্ত : ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। কোকিলের কুহুতান, পলাশ-শিমুলের রক্তিম আভা ও দোল উৎসবের রঙে রঙিন প্রকৃতি।
  • মানবজীবনে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব : এই ঋতুবৈচিত্র্য বাঙালির অর্থনীতি, কৃষি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল—বাংলার ঋতুরূপ কবিদের কাব্যে অমর হয়ে আছে।
  • উপসংহার : বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আজ ঋতুচক্রের ওপর যে আঘাত আসছে, তাকে রক্ষা করা আমাদের পরম কর্তব্য। বাংলার এই অনুপম রূপসৌন্দর্য আমাদের চিরকালের গর্ব।
রচনা ৫তোমার প্রিয় মহাপুরুষ বা সাহিত্যিকের জীবনী (স্বামী বিবেকানন্দ / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর) মান ১০
উত্তর
"জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।" — স্বামী বিবেকানন্দ
  • ভূমিকা : যুগ যুগ ধরে এই পুণ্যভূমি ভারতবর্ষে এমন কিছু মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে, যাঁরা নিজেদের জ্ঞান, ত্যাগ ও কর্মের আলো দিয়ে মানবজাতিকে পথ দেখিয়েছেন। আমার জীবনে তেমনই এক পরম আদর্শ ও অনুপ্রেরণার নাম স্বামী বিবেকানন্দ।
  • জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন : ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি উত্তর কলকাতার শিমুলিয়া অঞ্চলে এক সম্ভ্রান্ত দত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। পিতা বিশ্বনাথ দত্ত ও বিদুষী মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী। শৈশবে তাঁর নাম ছিল বীরেশ্বর (বিলে) এবং পরবর্তীতে নরেন্দ্রনাথ। তরুণ বয়সেই তিনি দর্শন, সাহিত্য ও বিজ্ঞানে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
  • শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্য ও সন্ন্যাস গ্রহণ : অন্তরের ঈশ্বর অনুসন্ধানের ব্যাকুলতা নিয়ে তিনি দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে আসেন। শ্রীরামকৃষ্ণের স্পর্শে নরেন্দ্রনাথের জীবন আমূল রূপান্তরিত হয়। গুরুর প্রয়াণের পর তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করে ‘বিবেকানন্দ’ নাম ধারণ করেন এবং ভারত পরিক্রমায় বের হন। সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য ও দুঃখ দেখে তিনি ঘোষণা করেন—মানুষের সেবাই ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ পূজা।
  • শিকাগো ধর্মমহাসভায় বিশ্বজয় : ১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো ধর্মমহাসভায় "Sisters and Brothers of America" সম্বোধনে তিনি বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেন। হিন্দু ধর্মের শাশ্বত সহিষ্ণুতা ও সনাতন বেদান্ত দর্শনকে তিনি বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
  • মানবসেবা ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা : ১৮৯৭ সালে তিনি দরিদ্র ও আর্দ্র মানুষের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘রামকৃষ্ণ মিশন’। তিনি যুবসমাজকে আহ্বান জানান— "উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্নিবোধত" (ওঠো, জাগো, লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না)।
  • উপসংহার : মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ১৯০২ সালের ৪ জুলাই এই সিংহপুরুষ মহাসমাধি লাভ করেন। কিন্তু তাঁর আদর্শ, তেজস্বী দেশপ্রেম ও মানবপ্রেম আজও কোটি কোটি মানুষকে সত্যের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।
মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ৯০+ নম্বর পাওয়ার বিশেষ টিপস
  • পরিচ্ছন্নতা ও মার্জিন : খাতার বাঁদিকে ও ওপরে অন্তত ১ ইঞ্চি মার্জিন রাখবে। উত্তর লেখার সময় প্যারাগ্রাফের মাঝে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা দেবে। কাটাকুটি এড়িয়ে চলবে।
  • সরাসরি প্রাসঙ্গিক উত্তর : ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নে মূল উত্তরের বাইরে অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা লিখে সময় নষ্ট করবে না। প্রশ্নে যে কয়টি ভাগ থাকবে (যেমন ১+২ বা ২+৩), প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা প্যারাগ্রাফ করে পয়েন্ট আকারে লিখবে।
  • উদ্ধৃতি ও প্রাবন্ধিক নাম : গল্প, কবিতা ও নাটকের বড়ো উত্তর লেখার সময় রচয়িতার নাম, মূল গ্রন্থের নাম এবং প্রাসঙ্গিক পঙক্তি উদ্ধৃত করলে উত্তরের মান বহুগুণ বেড়ে যায় এবং পূর্ণ নম্বর নিশ্চিত হয়।
  • ব্যাকরণে পুরো নম্বর তোলার সুযোগ : ব্যাকরণের অংশে সংজ্ঞা দেওয়ার সাথে অবশ্যই একটি করে নির্ভুল উদাহরণ দেবে। সমাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সমাসবদ্ধ পদ, ব্যাসবাক্য এবং সমাসের নাম স্পষ্ট ছক করে লিখবে।
  • প্রবন্ধ রচনার সময় ব্যবস্থাপনা : ১০ নম্বরের রচনার জন্য অন্তত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখবে। ভূমিকা, ৪-৫টি উপশিরোনাম (পয়েন্ট), প্রয়োজনীয় কবিতার লাইন/উক্তি এবং উপসংহার সহ প্রায় ৪০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখবে।