মাধ্যমিক ২০২৭ ভূগোল সম্পূর্ণ ১০০% কমন সাজেশন ও উত্তর | WBBSE Class 10 Geography Final Suggestion 2027

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) মাধ্যমিক ২০২৭ ভূগোল পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের জন্য এই বিশেষ অধ্যায়ভিত্তিক চূড়ান্ত সাজেশন ও সমাধানপত্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিগত বছরের (২০২৬) প্রশ্নপত্র নিখুঁত পর্যালোচনা করে পর্ষদ ও রায়-মার্টিন টেস্ট পেপারসের ব্লু-প্রিন্ট অনুসারে বহির্জাত প্রক্রিয়া ও ভূমিরূপ, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভারত এবং উপগ্রহ চিত্র ও ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের প্রতিটি ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও সম্পূর্ণ মডেল উত্তর যুক্ত করা হয়েছে। সাথে রয়েছে মাধ্যমিকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১০ নম্বরের ম্যাপ পয়েন্টিং (Map Pointing) এর শীর্ষ ২৫টি স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান সূত্র ও নির্ভুল রেখা-মানচিত্র।

১. মাধ্যমিক ২০২৬ বনাম ২০২৭ : পর্ষদ ও রায়-মার্টিন ব্লু-প্রিন্ট

প্রশ্ন কাঠামো ও ট্রেন্ড বিশ্লেষণ

বিগত বছরের (২০২৬) যে প্রশ্নগুলি চলে এসেছে সেগুলি বাদ দিয়ে ২০২৭-এর মাধ্যমিকের জন্য রায় ও মার্টিন এবং পর্ষদের ট্রেন্ড অনুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য প্রশ্নগুলির তুলনামূলক তালিকা:

বিভাগ ও মান মাধ্যমিক ২০২৬-এ যা এসেছে (বাদ দিতে হবে) মাধ্যমিক ২০২৭-এর টপ টার্গেট (১০০% ফোকাস)
প্রাকৃতিক ভূগোল (মান ৫) ১. নদীর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ
২. বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতি
৩. পরিচলন বৃষ্টিপাত
৪. জলবায়ুর ওপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব
১. হিমবাহের ক্ষয়কার্য অথবা হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয়কার্য
২. বায়ুর ক্ষয়কার্য / সঞ্চয়কার্য (এবং নদীর ক্ষয়কার্য)
৩. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুচাপ বলয়ের সম্পর্ক অথবা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব
৪. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির কারণ ও ফলাফল অথবা সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ
ভারতের ভূগোল (মান ৫) ১. ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের কারণ
২. চা উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ
৩. পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প
৪. জনসংখ্যার অসম বণ্টনের কারণ
১. ভারতের ভূপ্রকৃতি (হিমালয় পর্বতের শ্রেণিবিভাগ / পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির পার্থক্য) বা উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর পার্থক্য
২. ধান, গম, কার্পাস (তুলো) অথবা ইক্ষু চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ
৩. পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্প / পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে ওঠার কারণ
৪. ভারতে নগরায়ণের প্রধান সমস্যা ও প্রতিকার অথবা পরিবহণ ব্যবস্থার গুরুত্ব
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (মান ৩) জুগ্যান ও ইয়ারদাং, সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু, শিল্প বর্জ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা, পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট, অটোমোবাইল শিল্প, টোপোশিট ও উপগ্রহ চিত্রের পার্থক্য, দূর সংবেদনের সুবিধা গিরিখাত ও ক্যানিয়ন, রসে মতানে ও ড্রামলিন, ঝুলন্ত উপত্যকা, ওজোন স্তর বিনাশ, ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত, জৈব ভঙ্গুর ও অভঙ্গুর বর্জ্য, 4R পদ্ধতি, মৃত্তিকা ক্ষয় ও সংরক্ষণ, বহুমুখী নদী পরিকল্পনা, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প, জিওস্টেশনারি ও সান-সিঙ্ক্রোনাস উপগ্রহ
ম্যাপ পয়েন্টিং (মান ১০) কন্যাকুমারিকা, লাডাক মালভূমি, গোদাবরী নদী, চিল্কা হ্রদ, শিলং (বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল), মরুমৃত্তিকা, ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি, গম উৎপাদক অঞ্চল, জামনগর, কলকাতা K2 / কাঞ্চনজঙ্ঘা, আরাবল্লী / সাতপুরা পর্বত, নর্মদা / কৃষ্ণা / কাবেরী নদী, লোকটাক / পুলিকট হ্রদ, করমণ্ডল / মালাবার উপকূল, কৃষ্ণ মৃত্তিকা, সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ অরণ্য, চা/পাট/কার্পাস উৎপাদক অঞ্চল, দুর্গাপুর/জামশেদপুর, বেঙ্গালুরু, বিশাখাপত্তনম/মুম্বই

২. বিভাগ – ক : বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ মাস্টার ব্যাঙ্ক)

মান ১ • সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (মোট ৪২টি প্রশ্ন)

প্রাকৃতিক ভূগোল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভারতের ভূগোল এবং উপগ্রহ চিত্র থেকে পরীক্ষায় আসার মতো শীর্ষ ৪২টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ এবং তাদের নির্ভুল উত্তর:

১যে প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ভূপৃষ্ঠের ওপর কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কবহির্জাত প্রক্রিয়া
খঅন্তর্জাত প্রক্রিয়া
গগিরিজনি আলোড়ন
ঘমহীভাবক আলোড়ন
উত্তর
কবহির্জাত প্রক্রিয়া
২আরোহণ ও অবরোহণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফল হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কপুঞ্জিত ক্ষয়
খআবহবিকার
গপর্যায়ন
ঘনগ্নীভবন
উত্তর
গপর্যায়ন
৩নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলে তার বহন ক্ষমতা বাড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ক২ গুণ
খ৪ গুণ
গ৩২ গুণ
ঘ৬৪ গুণ
উত্তর
ঘ৬৪ গুণ
৪মরু অঞ্চলে শুষ্ক নদীখাতকে বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কবাজাদা
খওয়াদি
গপ্লায়া
ঘহামাদা
উত্তর
খওয়াদি
৫পাখির পায়ের মতো আকৃতির বদ্বীপ গঠিত হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কনীল নদের মোহনায়
খমিসিসিপি-মিসৌরি নদীর মোহনায়
গগঙ্গা নদীর মোহনায়
ঘহোয়াংহো নদীর মোহনায়
উত্তর
খমিসিসিপি-মিসৌরি নদীর মোহনায়
৬পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কহুবার্ড
খল্যাম্বার্ট
গমালাসপিনা
ঘসিয়াচেন
উত্তর
খল্যাম্বার্ট
৭হিমবাহ ও পর্বতগাত্রের মধ্যে সৃষ্ট সংকীর্ণ ফাঁককে বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কক্রেভাস
খবার্গস্রুন্ড
গএরিটি
ঘকরি
উত্তর
খবার্গস্রুন্ড
৮ডিমের ঝুড়ি ভূমিরূপ (Basket of Egg Topography) গঠিত হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কড্রামলিন দ্বারা
খএসকার দ্বারা
গমোরেন দ্বারা
ঘকেম দ্বারা
উত্তর
কড্রামলিন দ্বারা
৯সাহারায় দুটি সিফ বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী করিডরকে বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কগাসি
খধ্রিয়ান
গকৌম
ঘআর্গ
উত্তর
কগাসি
১০বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে আবহাওয়ার সমস্ত গোলযোগ দেখা যায়, তা হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কট্রপোস্ফিয়ার
খস্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
গমেসোস্ফিয়ার
ঘথার্মোস্ফিয়ার
উত্তর
কট্রপোস্ফিয়ার
১১ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কডেসিবেল
খডবসন
গমিলিবার
ঘকিউসেক
উত্তর
খডবসন (DU)
১২সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত সৌরশক্তির যত শতাংশ মহাশূন্যে সরাসরি প্রতিফলিত হয় (অ্যালবেডো), তা হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ক৩৪%
খ৪৭%
গ৫১%
ঘ৬৬%
উত্তর
ক৩৪%
১৩রকি পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহিত উষ্ণ স্থানীয় বায়ুটি হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কফন
খচিনুক
গসিরক্কো
ঘমিস্ট্রাল
উত্তর
খচিনুক
১৪ক্যারিবিয়ান সাগরে সৃষ্ট প্রবল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতকে বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কটাইফুন
খহ্যারিকেন
গটর্নেডো
ঘউইলি-উইলি
উত্তর
খহ্যারিকেন
১৫আপেক্ষিক আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয় কোন যন্ত্রের সাহায্যে? অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কব্যারোমিটার
খঅ্যানিমোমিটার
গহাইগ্রোমিটার
ঘঅল্টিমিটার
উত্তর
গহাইগ্রোমিটার
১৬ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটে প্রধানত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কগ্রীষ্মকালে
খশীতকালে
গশরৎকালে
ঘসারা বছর
উত্তর
খশীতকালে
১৭একটি শীতল সমুদ্রস্রোতের উদাহরণ হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কউপসাগরীয় স্রোত
খকুরোশিয়ো স্রোত
গল্যাব্রাডর স্রোত
ঘব্রাজিল স্রোত
উত্তর
গল্যাব্রাডর স্রোত
১৮দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ক৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
খ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
গ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
ঘ২৪ ঘণ্টা
উত্তর
গ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
১৯মরা কোটাল বা গৌণ জোয়ার সংঘটিত হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কঅমাবস্যা তিথিতে
খপূর্ণিমা তিথিতে
গশুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে
ঘসংক্রান্তিতে
উত্তর
গশুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে
২০গ্র্যান্ড ব্যাংক মগ্নচড়াটি যে দুটি স্রোতের মিলনস্থলে সৃষ্টি হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কল্যাব্রাডর ও উপসাগরীয় স্রোত
খওয়াশিয়ো ও কুরোশিয়ো স্রোত
গফকল্যান্ড ও ব্রাজিল স্রোত
ঘবেঙ্গুয়েলা ও আগুলহাস স্রোত
উত্তর
কল্যাব্রাডর ও উপসাগরীয় স্রোত
২১জীবাণু দ্বারা বর্জ্যের বিয়োজনকে বলা হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ককম্পোস্টিং
খল্যান্ডফিল
গস্ক্রাবিং
ঘইনসিনারেশন
উত্তর
ককম্পোস্টিং
২২ব্ল্যাকফুট রোগ সৃষ্টি হয় কোন ধাতুর দূষণে? অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কপারদ
খক্যাডমিয়াম
গআর্সেনিক
ঘসিসা
উত্তর
গআর্সেনিক
২৩ভারতের নবীনতম রাজ্যটি হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কছত্তিশগড়
খউত্তরাখণ্ড
গঝাড়খণ্ড
ঘতেলেঙ্গানা
উত্তর
ঘতেলেঙ্গানা
২৪ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্দেশক রেখাটির নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কম্যাকমোহন লাইন
খর‍্যাডক্লিফ লাইন
গডুরান্ড লাইন
ঘলাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল
উত্তর
খর‍্যাডক্লিফ লাইন
২৫ভারতের উচ্চতম গিরিপথ হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কনাথুলা
খজোজিলা
গকারাকোরাম
ঘবানিহাল
উত্তর
গকারাকোরাম (বা মানা পাস)
২৬দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গটি হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কদোদাবেতা
খআনাইমুদি
গমহেন্দ্রগিরি
ঘগুরুশিখর
উত্তর
খআনাইমুদি
২৭মালাবার উপকূলের জলাভূমি বা উপহ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ককয়াল
খতাল
গধান্দ
ঘরান
উত্তর
ককয়াল
২৮ভারতের একটি অন্তর্বাহিনী নদীর নাম হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কনর্মদা
খতাপ্তি
গলুনি
ঘসবরমতী
উত্তর
গলুনি
২৯ভারতের বৃহত্তম বহুমুখী নদী পরিকল্পনাটি হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কদামোদর
খভাকরা-নাঙ্গাল
গহিরাকুঁদ
ঘরিহান্দ
উত্তর
খভাকরা-নাঙ্গাল
৩০আম্রবৃষ্টি দেখা যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কপূর্ব ভারতে
খদক্ষিণ ভারতে
গউত্তর-পশ্চিম ভারতে
ঘমধ্য ভারতে
উত্তর
খদক্ষিণ ভারতে
৩১ভারতে মৃত্তিকা গবেষণাগার অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কদেরাদুনে
খযোধপুরে
গনাগপুরে
ঘকটকে
উত্তর
কদেরাদুনে
৩২কার্পাস চাষের পক্ষে আদর্শ মৃত্তিকা হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কপলি মাটি
খল্যাটেরাইট মাটি
গকৃষ্ণ বা রেগুর মাটি
ঘলোহিত মাটি
উত্তর
গকৃষ্ণ বা রেগুর মাটি
৩৩অরণ্য গবেষণাগারটি অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কশিমলায়
খদেরাদুনে
গকলকাতায়
ঘদিল্লিতে
উত্তর
খদেরাদুনে
৩৪ভারতের কেন্দ্রীয় ধান গবেষণাগারটি অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ককটকে
খপুষায়
গকানপুরে
ঘচিকমাগালুরে
উত্তর
ককটকে
৩৫‘ভারতের ম্যানচেস্টার’ বলা হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কমুম্বইকে
খআমেদাবাদকে
গকোয়েম্বাটুরকে
ঘকানপুরকে
উত্তর
খআমেদাবাদকে
৩৬ভারতের ‘রূঢ়’ বলা হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কজামশেদপুরকে
খদুর্গাপুরকে
গভিলাইকে
ঘরাউরকেল্লাকে
উত্তর
খদুর্গাপুরকে
৩৭ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পকেন্দ্র বা ‘সিলিকন ভ্যালি’ হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কহায়দ্রাবাদ
খবেঙ্গালুরু
গপুনে
ঘচেন্নাই
উত্তর
খবেঙ্গালুরু
৩৮২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের সর্বাধিক জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্য হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কপশ্চিমবঙ্গ
খউত্তরপ্রদেশ
গবিহার
ঘকেরালা
উত্তর
গবিহার
৩৯সোনালি চতুর্ভুজ প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কচারটি প্রধান বন্দরকে
খচারটি মেট্রোপলিটন শহরকে
গচারটি পর্যটন কেন্দ্রকে
ঘচারটি শিল্পাঞ্চলকে
উত্তর
খচারটি মেট্রোপলিটন শহরকে
৪০ভারতের একটি শুল্কমুক্ত বন্দর হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কহলদিয়া
খকান্দালা
গবিশাখাপত্তনম
ঘপারাদ্বীপ
উত্তর
খকান্দালা
৪১ভারত থেকে প্রেরিত প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটি হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
করোহিণী
খআর্যভট্ট
গভাস্কর
ঘঅ্যাপেল
উত্তর
খআর্যভট্ট
৪২১৫' × ১৫' অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত বিস্তারের ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের আর.এফ. (R.F.) স্কেল হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ক১:১০,০০,০০০
খ১:২,৫০,০০০
গ১:৫০,০০০
ঘ১:২৫,০০০
উত্তর
গ১:৫০,০০০

৩. বিভাগ – খ : অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি (VSAQ)

মান ১ • শুদ্ধ/অশুদ্ধ, শূন্যস্থান পূরণ ও এক কথায় উত্তর

শুদ্ধ-অশুদ্ধ নির্বাচন, উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ এবং একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও:

১. শুদ্ধ বা অশুদ্ধ নির্ণয় করো (True / False) T / F মান ১

১শুদ্ধ বা অশুদ্ধ নির্ণয় করো (True / False):১. মরু অঞ্চলে অবশিষ্ট পাহাড়গুলিকে মোনাডনক বলে। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✗ শুদ্ধ বা অশুদ্ধ নির্ণয় (True / False):১. অশুদ্ধ (সঠিক: ইনসেলবার্জ বলে)
২ঝুলন্ত উপত্যকায় নদী প্রবাহিত হলে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✓ শুদ্ধ
৩সিফ বালিয়াড়ি বায়ুর প্রবাহপথের সঙ্গে আড়াআড়িভাবে গড়ে ওঠে। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✗ অশুদ্ধ (সঠিক: সমান্তরালে গড়ে ওঠে)
৪স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরকে ‘শান্তমণ্ডল’ বলা হয়। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✓ শুদ্ধ
৫নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটে। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✗ অশুদ্ধ (সঠিক: পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটে)
৬ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে শীতকালে বরফ জমে। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✓ শুদ্ধ
৭তেজস্ক্রিয় বর্জ্য একটি জৈব ভঙ্গুর বর্জ্যের উদাহরণ। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✗ অশুদ্ধ (সঠিক: জৈব অভঙ্গুর ও তেজস্ক্রিয় বিপজ্জনক বর্জ্য)
৮শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মধ্যবর্তী উপত্যকাকে ‘দুন’ বলে। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✓ শুদ্ধ
৯লুনি নদী কচ্ছের রানে পতিত হয়েছে। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✓ শুদ্ধ
১০রেগুর মৃত্তিকা ব্যসল্ট শিলা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✓ শুদ্ধ
১১পেট্রোরসায়ন শিল্পকে ‘আধুনিক শিল্পদানব’ বলা হয়। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✓ শুদ্ধ
১২উপগ্রহ চিত্রে বনভূমিকে ছদ্ম রঙে (FCC) লাল দেখায়। শুদ্ধ / অশুদ্ধ
উত্তর
✓ শুদ্ধ

২. উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো Fill In Blanks মান ১

২উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো (Fill in the Blanks):১. দুটি নদী অববাহিকাকে যে উচ্চভূমি পৃথক করে, তাকে ________ বলে। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
‘U’
২হিমবাহ সৃষ্ট উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি ________ অক্ষরের মতো হয়। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
‘U’
৩বায়ুর গতিবেগ পরিমাপ করা হয় ________ যন্ত্রের সাহায্যে। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
অ্যানিমোমিটার
৪বায়ুচাপ মাপার একক হলো ________। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
মিলিবার (mb)
৫সমুদ্রস্রোতের প্রধান চালিকাশক্তি হলো ________ বায়ুপ্রবাহ। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
নিয়ত
৬চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর একই সরলরেখায় অবস্থানকে ________ বলে। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
সিজিগি (Syzygy)
৭কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে ________ সার তৈরি হয়। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
জৈব (বা হিউমাস)
৮ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ হলো ________। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
সিয়াচেন
৯________ নদীকে ‘দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা’ (বা বৃদ্ধ গঙ্গা) বলা হয়। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
গোদাবরী
১০ভারতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণে সর্বাধিক অগ্রণী রাজ্য হলো ________। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
তামিলনাড়ু
১১লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো ________। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
আকরিক লোহা
১২ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক হলো ________। শূন্যস্থান পূরণ
উত্তর
NH-44 (পূর্বে NH-7)

৩. একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও (SAQ — মান ১) VSAQ মান ১

৩একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও (SAQ — মান ১):১. সাহারা মরুভূমিতে পাথুরে মরুভূমিকে কী বলে? এক কথায় উত্তর
উত্তর
মেরু অঞ্চলে
২কোন জলপ্রপাতকে ‘ভারতের নায়াগ্রা’ বলা হয়? এক কথায় উত্তর
উত্তর
চিত্রকূট জলপ্রপাত (ছত্তিশগড়ে ইন্দ্রাবতী নদীতে)
৩হিমরেখার উচ্চতা কোন অঞ্চলে শূন্য (সমুদ্রপৃষ্ঠে) হয়? এক কথায় উত্তর
উত্তর
মেরু অঞ্চলে
৪কোন মেঘে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটে? এক কথায় উত্তর
উত্তর
কিউমুলোনিম্বাস মেঘে
৫চিন সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণবাতের নাম কী? এক কথায় উত্তর
উত্তর
টাইফুন
৬পৃথিবীর দ্রুততম সমুদ্রস্রোত কোনটি? এক কথায় উত্তর
উত্তর
উপসাগরীয় স্রোত (Gulf Stream)
৭ক্যাডমিয়াম দূষণের ফলে মানবদেহে কোন রোগ হয়? এক কথায় উত্তর
উত্তর
ইটাই-ইটাই (বা আউচ-আউচ) রোগ
৮একটি ই-বর্জ্যের (E-waste) উদাহরণ দাও। এক কথায় উত্তর
উত্তর
অকেজো মোবাইল ফোন বা ভাঙা কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ
৯ভারতের ক্ষুদ্রতম প্রতিবেশী দেশ কোনটি? এক কথায় উত্তর
উত্তর
মালদ্বীপ (স্থলভাগের সীমানা হিসেবে ভুটান)
১০ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ কোনটি? এক কথায় উত্তর
উত্তর
উলার হ্রদ (জম্মু ও কাশ্মীর)
১১পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়কে অসমে কী বলা হয়? এক কথায় উত্তর
উত্তর
বরদৈছিলা
১২ভারতের কোন রাজ্যে অরণ্যের শতকরা পরিমাণ সর্বাধিক? এক কথায় উত্তর
উত্তর
মিজোরাম (মোট ভৌগোলিক ক্ষেত্রফলের নিরিখে মধ্যপ্রদেশ)
১৩একটি জায়িদ শস্যের উদাহরণ দাও। এক কথায় উত্তর
উত্তর
আউশ ধান / চিনাবাদাম / তরমুজ / শসা
১৪বিশুদ্ধ কাঁচামালের পণ্যসূচক (Material Index) কত? এক কথায় উত্তর
উত্তর
১ (এক)
১৫ভারতের কোন শহরে প্রথম পাতালরেল চালু হয়? এক কথায় উত্তর
উত্তর
কলকাতায় (১৯৮৪ সালে)
১৬ভারতের তৈরি একটি ভূ-সমলয় (Geostationary) উপগ্রহের নাম লেখো। এক কথায় উত্তর
উত্তর
INSAT-3D বা GSAT সিরিজের উপগ্রহ

৪. বিভাগ – গ : সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নাবলি (SAQ — মান ২)

মান ২ • টু-দ্য-পয়েন্ট মডেল উত্তর (মোট ৪২টি প্রশ্ন)

মান ২-এর প্রশ্নের জন্য যথাযথ সংজ্ঞা, ১-২টি প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং উদাহরণ/অবস্থান উল্লেখ করে সংক্ষিপ্ত টু-দ্য-পয়েন্ট উত্তর প্রস্তুত করা হলো:

১পর্যায়ন (Gradation) ও নগ্নীভবন (Denudation) কাকে বলে? মান ২
উত্তর

পর্যায়ন ও নগ্নীভবন : পর্যায়ন (Gradation): ক্ষয় (অবরোহণ) ও সঞ্চয় (আরোহণ) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের উঁচু-নিচু ভূমিরূপ সমতল বা একটি সাধারণ তলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পর্যায়ন বলে।নগ্নীভবন (Denudation): আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় এবং ক্ষয়ীভবন—এই তিনটি প্রক্রিয়ার সম্মিলিত কার্যে ভূপৃষ্ঠের উপরের শিলাস্তর বিচ্ছিন্ন ও অপসারিত হয়ে নিচের শিলাস্তর উন্মুক্ত হওয়াকে নগ্নীভবন বলে।

২ষষ্ঠঘাতের সূত্র কী? মান ২
উত্তর

ষষ্ঠঘাতের সূত্র :

নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলে তার বোঝা বহন করার ক্ষমতা $2^6$ বা ৬৪ গুণ বৃদ্ধি পায়। নদীর গতিবেগের সঙ্গে বহন ক্ষমতার এই গাণিতিক সম্পর্ককে ‘ষষ্ঠঘাতের সূত্র’ (Law of Sixth Power) বলে। ১৮৪২ সালে ডব্লিউ. হপকিন্স এই সূত্রটি প্রবর্তন করেন।

৩নদী অববাহিকা ও জলবিভাজিকা বলতে কী বোঝো? মান ২
উত্তর

নদী অববাহিকা ও জলবিভাজিকা : নদী অববাহিকা: প্রধান নদী এবং তার উপনদী ও শাখানদীসমূহ ভূপৃষ্ঠের যতটুকু অঞ্চলের জলপ্রবাহ বহন করে, সেই সমগ্র অঞ্চলকে নদী অববাহিকা বলে। (যেমন— গঙ্গা অববাহিকা)।জলবিভাজিকা: যে উচ্চভূমি বা পাহাড়-পর্বত পাশাপাশি অবস্থিত দুটি নদী অববাহিকাকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে। (যেমন— বিন্ধ্য পর্বত)।

৪প্রপাতকূপ (Plunge Pool) ও মন্থকূপ (Pothole) কীভাবে সৃষ্টি হয়? মান ২
উত্তর

প্রপাতকূপ ও মন্থকূপ : প্রপাতকূপ (Plunge Pool): জলপ্রপাতের জল প্রচণ্ড বেগে নিচে পতিত হওয়ার সময় জলঘূর্ণি ও বুদ্‌বুদ ক্ষয়ের ফলে জলপ্রপাতের পাদদেশে যে বিশাল হাঁড়ির মতো গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রপাতকূপ বলে।মন্থকূপ (Pothole): পার্বত্য প্রবাহে নদীর জলের ঘূর্ণনের ফলে বাহিত প্রস্তরখণ্ড নদীখাতে ঘুরতে ঘুরতে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় যে ছোটো ছোটো গোলাকার গর্ত সৃষ্টি করে, তাকে মন্থকূপ বলে।

৫পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয়? মান ২
উত্তর

পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ :

নদীর মোহনায় স্রোতের বেগ বেশি থাকলে এবং নদীর জলের ঘনত্ব সমুদ্রের জলের চেয়ে বেশি হলে, শাখানদীগুলি সমুদ্রের বেশ কিছুটা ভেতরে প্রবেশ করে উভয় তীরে পলি সঞ্চয় করে। ফলে পাখির পায়ের আঙুলের মতো আকৃতির যে বদ্বীপ গঠিত হয়, তাকে পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ বলে। উদাহরণ: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি-মিসৌরি নদীর বদ্বীপ।

৬হিমরেখা ও হিমশৈল কাকে বলে? মান ২
উত্তর

হিমরেখা ও হিমশৈল : হিমরেখা (Snowline): পর্বতের গায়ে যে কাল্পনিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে সারা বছর বরফ জমে থাকে এবং নিচে বরফ গলে জলে পরিণত হয়, তাকে হিমরেখা বলে।হিমশৈল (Iceberg): মহাদেশীয় হিমবাহের বিশাল বরফের চাই ভেঙে সমুদ্রের জলে ভেসে বেড়ালে তাকে হিমশৈল বলে। এর মাত্র $\frac{১}{৯}$ অংশ জলের উপরে এবং $\frac{৮}{৯}$ অংশ জলের নিচে ডুবে থাকে।

৭বার্গস্রুন্ড ও ক্রেভাস কী? মান ২
উত্তর

বার্গস্রুন্ড ও ক্রেভাস : বার্গস্রুন্ড (Bergschrund): পার্বত্য অঞ্চলে পর্বতগাত্র এবং গতিশীল হিমবাহের মধ্যবর্তী স্থানে যে গভীর ও সংকীর্ণ ফাটলের সৃষ্টি হয়, তাকে বার্গস্রুন্ড বলে।ক্রেভাস (Crevasse): হিমবাহের উপরিভাগে অসমান টানের ফলে আড়াআড়ি বা লম্বালম্বিভাবে যে অসংখ্য ফাটল সৃষ্টি হয়, সেগুলিকে ক্রেভাস বলে।

৮ঝুলন্ত উপত্যকা ও ফিওর্ড কাকে বলে? মান ২
উত্তর

ঝুলন্ত উপত্যকা ও ফিওর্ড : ঝুলন্ত উপত্যকা: প্রধান হিমবাহ উপত্যকা অধিক গভীর হওয়ায় উপ-হিমবাহের অগভীর উপত্যকাটি প্রধান উপত্যকার ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় অবস্থান করলে তাকে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে। (যেমন— বদ্রীনাথের কাছে ঋষিগঙ্গা)।ফিওর্ড (Fjord): উচ্চ অক্ষাংশে সমুদ্র উপকূলবর্তী হিমবাহ অধ্যুষিত জলমগ্ন গভীর ও সংকীর্ণ ‘U’ আকৃতির উপত্যকাকে ফিওর্ড বলে। (যেমন— নরওয়ের সোজনে ফিওর্ড)।

৯অপসারণ গর্ত (Blowout) ও মরুদ্যান কী? মান ২
উত্তর

অপসারণ গর্ত ও মরুদ্যান : অপসারণ গর্ত (Blowout): মরু অঞ্চলে প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে আলগা বালি এক স্থান থেকে অন্যত্র উড়ে গিয়ে যে সুবিশাল অবনমিত গর্তের সৃষ্টি করে, তাকে অপসারণ গর্ত বা ধান্দ বলে। (যেমন— মিশরের কাতারা)।মরুদ্যান (Oasis): মরুভূমির অপসারণ গর্ত ভৌমজলস্তর পর্যন্ত গভীর হলে সেখানে জল বেরিয়ে আসে এবং গাছপালা ও জনবসতি গড়ে ওঠে; একে মরুদ্যান বলে।

১০পেডিমেন্ট ও বাজাদা কাকে বলে? মান ২
উত্তর

পেডিমেন্ট ও বাজাদা : পেডিমেন্ট: মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশে বায়ু ও জলধারার মিলিত ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত মৃদু ঢালু প্রস্তরময় ভূমিভাগকে পেডিমেন্ট বলে।বাজাদা: পেডিমেন্টের নিম্নভাগে একাধিক পলল ব্যজনী পরস্পর যুক্ত হয়ে যে প্রশস্ত সমভূমি গঠন করে, তাকে বাজাদা বলে।

১১ইনসেলবার্জ ও লোয়েস কী? মান ২
উত্তর

ইনসেলবার্জ ও লোয়েস : ইনসেলবার্জ: মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে কোমল শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কঠিন শিলায় গঠিত যে অনুচ্চ টিলাগুলি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে ইনসেলবার্জ বলে।লোয়েস: মরু অঞ্চলের অতি সূক্ষ্ম বালিকণা বায়ুর মাধ্যমে বহু দূরে বাহিত হয়ে সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস বলে। (যেমন— চিনের হোয়াংহো অববাহিকা)।

১২ট্রপোপজ কাকে বলে? মান ২
উত্তর

ট্রপোপজ :

ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমায় এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচে প্রায় ৩ কিমি বিস্তৃত যে সংযোগকারী স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে উষ্ণতার কোনো পরিবর্তন হয় না (স্থির থাকে), তাকে ট্রপোপজ বলে।

১৩অ্যালবেডো (Albedo) বা কার্যকরী সৌর বিকিরণ বলতে কী বোঝো? মান ২
উত্তর

অ্যালবেডো (Albedo) :

সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত মোট সৌরবিকিরণের ৩৪ শতাংশ বায়ুমণ্ডলের মেঘ, ধূলিকণা ও ভূপৃষ্ঠের তুষার দ্বারা শোষিত না হয়ে সরাসরি মহাশূন্যে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়। এই প্রতিফলিত সৌরশক্তির অনুপাতকে পৃথিবীর অ্যালবেডো বলে।

১৪উষ্ণতার বৈপরীত্য (Inversion of Temperature) কাকে বলে? মান ২
উত্তর

বৈপরীত্য উত্তাপ (Inversion of Temperature) :

সাধারণত উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুর উষ্ণতা হ্রাস পায়; কিন্তু পার্বত্য উপত্যকায় শান্ত ও মেঘমুক্ত শীতের রাতে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পেলে তাকে বৈপরীত্য উত্তাপ বলে।

১৫ফেরেলের সূত্র ও বাইস ব্যালট সূত্রটি লেখো। মান ২
উত্তর

ফেরেলের সূত্র ও বাইস ব্যালট সূত্র : ফেরেলের সূত্র: পৃথিবীর আবর্তনজনিত কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।বাইস ব্যালট সূত্র: উত্তর গোলার্ধে বায়ু যেদিক থেকে প্রবাহিত হয় সেদিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে ডানদিকে উচ্চচাপ এবং বামদিকে নিম্নচাপ অবস্থান করে (দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত ঘটে)।

১৬গর্জনশীল চল্লিশা ও অশ্ব অক্ষাংশ কী? মান ২
উত্তর

গর্জনশীল চল্লিশা ও অশ্ব অক্ষাংশ : গর্জনশীল চল্লিশা: দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° দক্ষিণ অক্ষাংশ বরাবর স্থলভাগের অভাবে পশ্চিমা বায়ু প্রবল বেগে ও গর্জন সহকারে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়; একে গর্জনশীল চল্লিশা বলে।অশ্ব অক্ষাংশ: উভয় গোলার্ধে ২৫° থেকে ৩৫° অক্ষাংশের মধ্যবর্তী কর্কটীয় ও মকরীয় শান্ত বলয়কে (বিশেষত উত্তর গোলার্ধে) অশ্ব অক্ষাংশ বলে।

১৭জেট বায়ু ও মৌসুমি বায়ুর সংজ্ঞা দাও। মান ২
উত্তর

জেট বায়ু ও মৌসুমি বায়ু : জেট বায়ু: ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে (৯-১২ কিমি উচ্চতায়) সংকীর্ণ ফিতের মতো আঁকাবাঁকা পথে পশ্চিম থেকে পূর্বে অত্যন্ত প্রবল বেগে প্রবাহিত বায়ুস্রোতকে জেট বায়ু বলে।মৌসুমি বায়ু: ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ু সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে (১৮০° কোণে) দিক পরিবর্তন করে প্রবাহিত হয়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।

১৮ঘূর্ণবাতের চক্ষু (Eye of Cyclone) ও বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কাকে বলে? মান ২
উত্তর

ঘূর্ণবাতের চক্ষু ও বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল : ঘূর্ণবাতের চক্ষু: শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের একদম কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মেঘমুক্ত, শান্ত ও বৃষ্টিহীন নিম্নচাপ অঞ্চলটিকে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলে।বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর যখন অনুবাত ঢালে পৌঁছায়, তখন বায়ুতে জলীয় বাষ্পের অভাবে সেখানে প্রায় বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। পর্বতের এই স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অনুবাত ঢালকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। (যেমন— শিলং)।

১৯আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও চরম আর্দ্রতার সংজ্ঞা দাও। মান ২
উত্তর

আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও চরম আর্দ্রতা : আপেক্ষিক আর্দ্রতা: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে উপস্থিত প্রকৃত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং ওই উষ্ণতায় ওই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের পরিমাণের অনুপাতকে শতকরা হারে প্রকাশ করলে তাকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।চরম আর্দ্রতা: নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের প্রকৃত ভরকে (গ্রাম/ঘনমিটার এককে) চরম আর্দ্রতা বলে।

২০শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) ও হিমপ্রাচীর কাকে বলে? মান ২
উত্তর

শৈবাল সাগর ও হিমপ্রাচীর : শৈবাল সাগর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উপসাগরীয়, ক্যানারি ও উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের চক্রাকার আবর্তের মাঝখানে স্রোতহীন শান্ত সমুদ্রাঞ্চলে ‘সারগাসাম’ নামক সামুদ্রিক শৈবাল জন্মায়; একে শৈবাল সাগর বলে।হিমপ্রাচীর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলের কাছে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত (সবুজ জল) ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত (নীল জল) যে সুস্পষ্ট সীমারেখা বরাবর মিলিত হয়, তাকে হিমপ্রাচীর বলে।

২১মগ্নচড়া কী এবং এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব কী? মান ২
উত্তর

মগ্নচড়া ও তার অর্থনৈতিক গুরুত্ব :

শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে গেলে হিমশৈলের মধ্যস্থিত নুড়ি, কাঁকর ও পলি সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত হয়ে যে অগভীর চড়ার সৃষ্টি করে, তাকে মগ্নচড়া বলে (যেমন— গ্র্যান্ড ব্যাংক)। গুরুত্ব: এখানে প্রচুর প্ল্যাঙ্কটন জন্মানোর ফলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র গড়ে উঠেছে।

২২সিজিগি (Syzygy), অ্যাপোজি ও পেরিজি বলতে কী বোঝো? মান ২
উত্তর

সিজিগি, অ্যাপোজি ও পেরিজি : সিজিগি: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর একই সরলরেখায় অবস্থানকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় সিজিগি বলে।অ্যাপোজি ও পেরিজি: পৃথিবীর চারদিকে পরিক্রমণকালে চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক দূরত্বকে (৪,০৭,০০০ কিমি) অ্যাপোজি এবং সর্বনিম্ন দূরত্বকে (৩,৫৬,০০০ কিমি) পেরিজি বলে।

২৩বানডাকা কী? মান ২
উত্তর

বানডাকা :

ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল ফানেল আকৃতির নদী মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে ও উঁচু ঢেউয়ের আকারে নদীপ্রবাহের বিপরীত দিকে উজানে প্রবেশ করলে তাকে বানডাকা বা ‘টাইডাল বোর’ (Tidal Bore) বলে। (যেমন— হুগলি নদীতে বানডাকা)।

২৪জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের সংজ্ঞা ও উদাহরণ দাও। মান ২
উত্তর

জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য : জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য: যেসব বর্জ্য পদার্থ ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের দ্বারা সহজেই বিয়োজিত হয়ে মাটির সাথে মিশে যায়, তাকে জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য বলে। (যেমন— আনাজের খোসা, কাগজ)।জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য: যেসব বর্জ্য পদার্থ জীবাণু দ্বারা বিয়োজিত হয় না এবং প্রকৃতিতে দীর্ঘকাল অবিকৃত অবস্থায় থেকে দূষণ ঘটায়, তাকে জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য বলে। (যেমন— প্লাস্টিক, কাচ)।

২৫ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) ও ভরাটকরণ (Landfill) কী? মান ২
উত্তর

ইউট্রোফিকেশন ও ভরাটকরণ (Landfill) : ইউট্রোফিকেশন: কৃষিক্ষেত্রের রাসায়নিক সার ও ডিটারজেন্ট জলাশয়ে মিশলে জলে পুষ্টিমৌল (নাইট্রেট ও ফসফেট) বৃদ্ধি পেয়ে শৈবালের দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং জলে অক্সিজেনের অভাবে জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয়। একে ইউট্রোফিকেশন বলে।ভরাটকরণ: শহরের নিচু বা পরিত্যক্ত গর্তে আবর্জনা ফেলে তার ওপর মাটির স্তর চাপা দিয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত করার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিকে ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিল বলে।

২৬স্ক্রাবার (Scrubber) ও ফ্লাই অ্যাশ (Fly Ash) কী? মান ২
উত্তর

স্ক্রাবার ও ফ্লাই অ্যাশ : স্ক্রাবার: কলকারখানা ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও ধূলিকণাকে জল বা রাসায়নিক দ্রবণের মাধ্যমে শোধন করার যন্ত্রকে স্ক্রাবার বলে।ফ্লাই অ্যাশ: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা দহনের ফলে বাতাসে যে অতি সূক্ষ্ম ছাইকণা ভেসে বেড়ায়, তাকে ফ্লাই অ্যাশ বলে। এটি ইট ও সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

২৭বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘4R’ বা ‘3R’ বলতে কী বোঝো? মান ২
উত্তর

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘4R’ বা ‘3R’ :

বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ কমানো ও পুনর্ব্যবহারের চারটি মূল নীতিকে একত্রে 4R বলা হয়— (১) Reduce (বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস), (২) Reuse (পুনর্ব্যবহার), (৩) Recycle (পুনর্নবীকরণ) এবং (৪) Refuse (দূষণকারী বর্জ্য প্রত্যাখ্যান)।ভারতের ভূগোল ও উপগ্রহ চিত্র

২৮দুন ও কয়াল কাকে বলে? মান ২
উত্তর

দুন ও কয়াল : দুন: শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মধ্যবর্তী অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকাগুলিকে দুন বলে। (যেমন— দেরাদুন)।কয়াল: ভারতের মালাবার উপকূলে (কেরালা) অবস্থিত অগভীর উপহ্রদ বা ব্যাকওয়াটারগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলে। (যেমন— ভেম্বানাদ কয়াল)।

২৯মালনাদ ও ময়দান বলতে কী বোঝো? মান ২
উত্তর

মালনাদ ও ময়দান : মালনাদ: কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিমঘাট পর্বত সংলগ্ন ঢেউখেলানো, ক্ষয়প্রাপ্ত ও অরণ্যাকীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলকে মালনাদ বলে।ময়দান: মালনাদের পূর্বদিকে অবস্থিত তুলনামূলক সমতল ও অনুচ্চ মালভূমি অঞ্চলকে ময়দান বলে।

৩০ভাবর ও তরাই কী? (২০২৬-এ খাদার ও কারেওয়া চলে এসেছে) মান ২
উত্তর

ভাবর ও তরাই : ভাবর: শিবালিক পর্বতের পাদদেশে নুড়ি, পাথর ও কাঁকর সঞ্চিত হয়ে গঠিত রন্ধ্রযুক্ত অঞ্চলকে ভাবর বলে, যেখানে ছোটো নদীগুলি মাটির নিচে অদৃশ্য হয়ে যায়।তরাই: ভাবর অঞ্চলের দক্ষিণে যেখানে অন্তঃসলিলা নদীগুলি পুনরায় ভূপৃষ্ঠে আত্মপ্রকাশ করে এবং স্যাঁতসেঁতে জলাভূমি ও ঘন অরণ্য সৃষ্টি করে, তাকে তরাই বলে।

৩১মৌসুমি বিস্ফোরণ ও আশ্বিনের ঝড় কাকে বলে? মান ২
উত্তর

মৌসুমি বিস্ফোরণ ও আশ্বিনের ঝড় : মৌসুমি বিস্ফোরণ: জুনের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে কেরালার মালাবার উপকূলে পৌঁছালে বজ্রবিদ্যুৎসহ যে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়, তাকে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে।আশ্বিনের ঝড়: শরৎকালে (অক্টোবর-নভেম্বর মাসে) প্রত্যাগমনকারী মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণবাত থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও উপকূল অঞ্চলে যে ঝড়বৃষ্টি হয়, তাকে আশ্বিনের ঝড় বলে।

৩২পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কী? মান ২
উত্তর

পশ্চিমী ঝঞ্ঝা :

শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আগত মৃদু নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও কাশ্মীর অঞ্চলে যে মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত ঘটে, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে। এটি গম চাষের জন্য খুবই উপকারী।

৩৩সামাজিক বনসৃজন ও কৃষি বনসৃজন বলতে কী বোঝো? মান ২
উত্তর

সামাজিক বনসৃজন ও কৃষি বনসৃজন : সামাজিক বনসৃজন: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রামীণ মানুষের জ্বালানি ও কাঠের চাহিদা মেটাতে পতিত জমি, রাস্তার ধার ও খালের পাড়ে জনগণের সহায়তায় বনভূমি গড়ে তোলাকে সামাজিক বনসৃজন বলে।কৃষি বনসৃজন: কৃষকের নিজের জমিতে ফসল চাষের পাশাপাশি আল বা সীমানা বরাবর বাণিজ্যিক ও ফলদায়ী গাছ লাগানোর পদ্ধতিকে কৃষি বনসৃজন বলে।

৩৪ফালি চাষ ও ধাপ চাষ কাকে বলে? মান ২
উত্তর

ফালি চাষ ও ধাপ চাষ : ফালি চাষ: ঢালু জমিতে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধের জন্য ঢালের আড়াআড়িভাবে চওড়া ফিতের মতো ফালি তৈরি করে শস্য ও ডালজাতীয় উদ্ভিদ পর্যায়ক্রমে চাষ করাকে ফালি চাষ বলে।ধাপ চাষ: পার্বত্য অঞ্চলের খাড়া ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে সমতল জমি তৈরি করে মাটি ও জল সংরক্ষণ করে চাষাবাদ করাকে ধাপ চাষ বলে।

৩৫সবুজ বিপ্লব বলতে কী বোঝো? মান ২
উত্তর

সবুজ বিপ্লব :

১৯৬০-এর দশকে ভারতের কৃষিক্ষেত্রে উচ্চফলনশীল বীজ (HYV), রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আধুনিক জলসেচের ব্যবহারের ফলে প্রধানত গম ও ধান উৎপাদনে যে অভাবনীয় বৃদ্ধি ঘটেছিল, তাকে সবুজ বিপ্লব বলে। এর প্রধান রূপকার ছিলেন ড. এম. এস. স্বামীনাথন।

৩৬মিলেট ও বাগিচা ফসল কাকে বলে? উদাহরণ দাও। মান ২
উত্তর

মিলেট ও বাগিচা ফসল : মিলেট: শুষ্ক ও কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে অনুর্বর মাটিতে উৎপন্ন জোয়ার, বাজরা ও রাগি—এই তিনটি ক্ষুদ্র দানাশস্যকে একত্রে মিলেট বলে।বাগিচা ফসল: রপ্তানি ও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিশাল বাগিচায় প্রচুর মূলধন ও দক্ষ শ্রমিকের সাহায্যে যে অর্থকরী ফসল চাষ করা হয়, তাকে বাগিচা ফসল বলে। (যেমন— চা, কফি, রবার)।

৩৭অনুসারী শিল্প (Downstream Industry) ও শিকড়আলগা শিল্প (Footloose Industry) কাকে বলে? মান ২
উত্তর

অনুসারী শিল্প ও শিকড়আলগা শিল্প : অনুসারী শিল্প: বৃহৎ মূল শিল্পের (যেমন— পেট্রোরসায়ন বা লৌহ-ইস্পাত শিল্প) উৎপাদিত দ্রব্য বা উপজাত দ্রব্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে তার আশেপাশে যেসব ছোটো ও মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠে, সেগুলিকে অনুসারী শিল্প বলে। (যেমন— প্লাস্টিক শিল্প)।শিকড়আলগা শিল্প (Footloose Industry): যেসব শিল্পের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট কাঁচামালের উৎসের ওপর নির্ভর করে না, বরং বাজার ও পরিবহণের সুবিধামতো যেকোনো স্থানে গড়ে উঠতে পারে, তাকে শিকড়আলগা শিল্প বলে। (যেমন— কার্পাস বয়ন শিল্প, ইলেকট্রনিক্স শিল্প)।

৩৮ধারণযোগ্য উন্নয়ন (Sustainable Development) ও শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি কী? মান ২
উত্তর

ধারণযোগ্য উন্নয়ন ও শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি : ধারণযোগ্য উন্নয়ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ না করে এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণের উন্নয়নকে ধারণযোগ্য উন্নয়ন বলে।শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি: কোনো দেশে জন্মহার এবং মৃত্যুহার সমান হলে মোট জনসংখ্যার কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না; এই অবস্থাকে শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি বলে।

৩৯সোনালি চতুর্ভুজ ও হীরক চতুর্ভুজ প্রকল্প কী? মান ২
উত্তর

সোনালি চতুর্ভুজ ও হীরক চতুর্ভুজ প্রকল্প : সোনালি চতুর্ভুজ: ভারতের চারটি প্রধান মেট্রোপলিটন শহর— দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই ও কলকাতাকে ৪ থেকে ৬ লেনের দ্রুতগামী জাতীয় সড়ক দ্বারা যুক্ত করার প্রকল্পকে সোনালি চতুর্ভুজ বলে।হীরক চতুর্ভুজ: ভারতের ওই চারটি মেট্রোপলিটন শহরকে উচ্চগতিসম্পন্ন বুলেট ট্রেন বা দ্রুতগামী রেলপথের মাধ্যমে যুক্ত করার প্রস্তাবিত প্রকল্পকে হীরক চতুর্ভুজ বলে।

৪০দূর সংবেদন (Remote Sensing) ও সেন্সর (Sensor) কাকে বলে? মান ২
উত্তর

দূর সংবেদন ও সেন্সর : দূর সংবেদন (Remote Sensing): কোনো বস্তু বা উপাদানের ভৌত সংস্পর্শে না গিয়ে মহাকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহ বা বিমান থেকে তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণের সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করার কৌশলকে দূর সংবেদন বলে।সেন্সর (Sensor): কৃত্রিম উপগ্রহে স্থাপিত যে বিশেষ ক্যামেরা বা যন্ত্র ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত আলোকরশ্মি গ্রহণ করে উপগ্রহ চিত্র তৈরি করে, তাকে সেন্সর বলে। (যেমন— LISS-III)।

৪১জিওস্টেশনারি ও সান-সিঙ্ক্রোনাস উপগ্রহ বলতে কী বোঝো? মান ২
উত্তর

জিওস্টেশনারি ও সান-সিঙ্ক্রোনাস উপগ্রহ : জিওস্টেশনারি উপগ্রহ: নিরক্ষরেখার ওপরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতায় পৃথিবীর আবর্তনের সমান বেগে পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তনকারী উপগ্রহকে জিওস্টেশনারি বা ভূ-সমলয় উপগ্রহ বলে। (যেমন— INSAT)।সান-সিঙ্ক্রোনাস উপগ্রহ: ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭০০–৯০০ কিমি উচ্চতায় উত্তর থেকে দক্ষিণে মেরু কক্ষপথে সূর্যের আপাত গতির সাথে তাল মিলিয়ে প্রদক্ষিণকারী উপগ্রহকে সান-সিঙ্ক্রোনাস বা সূর্য-সমলয় উপগ্রহ বলে। (যেমন— IRS)।

৪২পিক্সেল (Pixel) ও ছদ্ম রং (FCC) কী? মান ২
উত্তর

পিক্সেল ও ছদ্ম রং (FCC) : পিক্সেল (Pixel): উপগ্রহ চিত্রের ক্ষুদ্রতম একক বা বর্গাকার আলোকবিন্দুকে পিক্সেল (Picture Element) বলে।ছদ্ম রং (False Colour Composite - FCC): উপগ্রহ চিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদানকে সহজে চেনার জন্য তাদের প্রকৃত রঙের পরিবর্তে যে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয় (যেমন— সবুজ বনভূমিকে লাল রঙে দেখানো), তাকে ছদ্ম রং বলে।

৫. বিভাগ – ঘ : সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নাবলি (মান ৩)

মান ৩ • পার্থক্য, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও চিত্রভিত্তিক উত্তর (৩৪টি প্রশ্ন)

মান ৩-এর প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩টি সুস্পষ্ট পয়েন্ট, তুলনামূলক পার্থক্য ছক এবং প্রয়োজনমতো প্রাসঙ্গিক রেখাচিত্র দেওয়া হলো:

১গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

গিরিখাত ও ক্যানিয়নের পার্থক্য : বিষয়গিরিখাত (Gorge)ক্যানিয়ন (Canyon)১. অঞ্চল ও জলবায়ুআর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে গড়ে ওঠে।শুষ্ক বা মরুপ্রায় পার্বত্য অঞ্চলে গড়ে ওঠে।২. আকৃতিইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো গভীর ও সংকীর্ণ হয়।ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো অত্যন্ত গভীর ও খাড়া পাড়যুক্ত হয়।৩. উদাহরণসিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্র নদের গিরিখাত।কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

ক্যানিয়ন ও গিরিখাতের রূপরেখা

চিত্র: কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ও শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলের খাড়া গিরিখাত

২সব নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে না কেন? অথবা, সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি প্রভাব লেখো। মান ৩
উত্তর

সব নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে না কেন?প্রবল নদীস্রোত ও সমুদ্রতরঙ্গ: নদীর মোহনায় জলের বেগ খুব বেশি হলে এবং সমুদ্রতরঙ্গ বা জোয়ার-ভাটা প্রবল হলে পলি জমতে না পেরে সমুদ্রে ধুয়ে যায় (যেমন— আমাজন)।নদীবাহিত পলির স্বল্পতা: নদী যদি কঠিন শিলাস্তরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে জলে পলির পরিমাণ খুব কম থাকে (যেমন— নর্মদা ও তাপ্তি)।মোহনায় সমুদ্রের অধিক গভীরতা: নদীর মোহনার কাছে সমুদ্র অত্যন্ত গভীর বা খাড়া ঢালযুক্ত হলে পলি ভরাট হয়ে বদ্বীপ উঠতে পারে না।(অথবা) সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি প্রভাব:

  • দ্বীপের নিমজ্জিত হওয়া : বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বঙ্গোপসাগরের জলতল বৃদ্ধি পাওয়ায় লোহাচরা, নিউমুর ও ঘোড়ামারার মতো দ্বীপগুলি জলের তলায় ডুবে গেছে।
  • ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি : সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বাড়ায় আমফান, ইয়াস বা রিমালের মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • জল ও মাটির লবণতা বৃদ্ধি : নদীবাঁধ ভেঙে নোনা জল কৃষি জমিতে ঢুকে পড়ায় চাষাবাদ ও মিষ্টি জলের মাছ চাষ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্য হ্রাস পাচ্ছে।
৩নদীর ক্ষয় ও বহন কার্যের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগুলি সংক্ষেপে লেখো। মান ৩
উত্তর

নদীর ক্ষয় ও বহন কার্যের প্রক্রিয়া : ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়া: (১) জলপ্রবাহ ক্ষয় (জলের ধাক্কায় শিলার ভাঙন), (২) অবঘর্ষ ক্ষয় (প্রস্তরখণ্ডের সাথে নদীখাতের ঘর্ষণ), (৩) ঘর্ষণ ক্ষয় (প্রস্তরখণ্ডগুলির পারস্পরিক সংঘর্ষে চূর্ণ হওয়া) এবং (৪) দ্রবণ ক্ষয় (চুনাপাথর বা লবণ জলে গলে যাওয়া)।বহনকার্যের প্রক্রিয়া: (১) আকর্ষণ বা টান (বড়ো পাথর গড়িয়ে চলা), (২) লম্ফদান (নুড়ি-পাথর লাফিয়ে চলা), (৩) ভাসমান প্রক্রিয়া (সূক্ষ্ম বালি ও পলি ভেসে চলা) এবং (৪) দ্রবীভূত প্রক্রিয়া।

৪ঝুলন্ত উপত্যকায় জলপ্রপাত সৃষ্টি হয় কেন? মান ৩
উত্তর

ঝুলন্ত উপত্যকায় জলপ্রপাত সৃষ্টি হয় কেন?ক্ষয়ের তারতম্য : প্রধান হিমবাহটি আকারে বিশাল হওয়ায় তার উপত্যকাটিকে অধিক গভীর ও চওড়া করে ক্ষয় করে, কিন্তু ছোটো উপ-হিমবাহগুলি তাদের উপত্যকাকে ততটা গভীর করতে পারে না।ঝুলন্ত অবস্থান: ফলে উপ-হিমবাহের উপত্যকাটি প্রধান হিমবাহ উপত্যকার ওপর উঁচুতে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে।জলপ্রপাত সৃষ্টি: পরবর্তীকালে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলে গেলে ওই উঁচু ঝুলন্ত উপত্যকা থেকে নদীর জল খাড়া ঢাল বেয়ে প্রধান উপত্যকায় প্রবল বেগে ঝাঁপিয়ে পড়ে মনোরম জলপ্রপাতের সৃষ্টি করে।

৫‘U’ আকৃতির উপত্যকা ও ‘V’ আকৃতির উপত্যকার পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

‘U’ আকৃতির উপত্যকা ও ‘V’ আকৃতির উপত্যকার পার্থক্য : বিষয়‘U’ আকৃতির উপত্যকা (হিমদ্রোণী)‘V’ আকৃতির উপত্যকা১. সৃষ্টিকারী শক্তিপার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হয়।পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হয়।২. ক্ষয়ের প্রকৃতিনিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয় সমানভাবে ঘটে।পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে নিম্নক্ষয় অনেক বেশি হয়।৩. আকৃতিতলদেশ প্রশস্ত এবং দুই পাশের দেওয়াল খাড়া হওয়ায় ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো দেখায়।তলদেশ সংকীর্ণ ও গভীর হওয়ায় ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো দেখায়।

৬রসে মতানে ও ড্রামলিন-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো। মান ৩
উত্তর

রসে মতানে ও ড্রামলিনের পার্থক্য : বিষয়রসে মতানেড্রামলিন১. উৎপত্তিহিমবাহের ক্ষয়কার্যের (উৎপাটন ও অবঘর্ষ) ফলে গঠিত হয়।হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত হয়।২. আকৃতিদেখতে অনেকটা শুয়ে থাকা ভেড়ার পিঠের মতো।দেখতে উলটানো নৌকা বা চামচের মতো।৩. ঢালের প্রকৃতিহিমবাহের প্রবাহের দিকটি (প্রতিবাত ঢাল) মসৃণ ও মৃদু ঢালু এবং বিপরীত দিকটি এবড়োখেবড়ো ও খাড়া হয়।হিমবাহের প্রবাহের দিকটি খাড়া ও অমসৃণ এবং বিপরীত দিকটি মৃদু ঢালু ও মসৃণ হয়।

৭বার্খান ও সিফ বালিয়াড়ির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

বার্খান ও সিফ বালিয়াড়ির পার্থক্য : বিষয়বার্খান বালিয়াড়িসিফ বালিয়াড়ি১. অবস্থানবায়ুর প্রবাহপথের সঙ্গে আড়াআড়িভাবে (অনুপ্রস্থে) গড়ে ওঠে।বায়ুর প্রবাহপথের সঙ্গে সমান্তরালে (অনুদৈর্ঘ্যে) গড়ে ওঠে।২. আকৃতিদেখতে আধখানা চাঁদের মতো (অর্ধচন্দ্রাকার)।দেখতে তলোয়ার বা খড়গের মতো লম্বা ও সংকীর্ণ।৩. শৃঙ্গ বা শিংএর দুই প্রান্তে দুটি শিং বা শৃঙ্গ থাকে।এতে কোনো শিং থাকে না, শৈলশিরার মতো বিস্তৃত থাকে।

বার্খান বা অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি

চিত্র: মরু অঞ্চলে বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট অর্ধচন্দ্রাকার বার্খান বালিয়াড়ি

৮মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্য দেখা যায় কেন? মান ৩
উত্তর

মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্য দেখা যায় কেন?

  • উদ্ভিদের অভাব : বৃষ্টিপাতের অভাবে মরু অঞ্চলে গাছপালা প্রায় জন্মায় না। ফলে মাটির কণাগুলি আলগা থাকে এবং বায়ু প্রবাহে কোনো বাধা পায় না।
  • যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রাবল্য : দিন ও রাতের উষ্ণতার চরম পার্থক্যের কারণে শিলাস্তর প্রসারিত ও সংকুচিত হয়ে ভেঙে টুকরো টুকরো বালিকণায় পরিণত হয়।
  • শুষ্কতা ও প্রবল বায়ুবেগ : বাতাসে জলীয় বাষ্প না থাকায় বালিকণাগুলি পরস্পর জমাট বাঁধে না এবং দিগন্তবিস্তৃত ফাঁকা মরুভূমিতে বায়ু বাধাহীনভাবে প্রবল বেগে ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্য চালায়।
গৌর বা মাশরুম রক

চিত্র ১: গৌর (Mushroom Rock)

ইয়ারদাং ভূমিরূপ

চিত্র ২: ইয়ারদাং (Yardang)

৯ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের পার্থক্য : বিষয়ট্রপোস্ফিয়ারস্ট্র্যাটোস্ফিয়ার১. অবস্থান ও নামবায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর; একে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলে।ট্রপোস্ফিয়ারের ঠিক উপরের স্তর; একে ‘শান্তমণ্ডল’ বলে।২. উচ্চতা ও উষ্ণতাউচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতি কিমিতে $6.4^\circ\text{C}$ হারে উষ্ণতা হ্রাস পায়।উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।৩. আবহাওয়াজলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা থাকায় মেঘ, বৃষ্টি ও ঝড়ের সৃষ্টি হয়।জলীয় বাষ্প না থাকায় মেঘ-বৃষ্টি হয় না এবং জেট বিমান চলাচল করে।

১০ওজোন স্তর বিনাশের কারণ ও ফলাফল সংক্ষেপে আলোচনা করো। মান ৩
উত্তর

ওজোন স্তর বিনাশের কারণ ও ফলাফল : কারণ: রেফ্রিজারেটর, এসি ও স্প্রে ক্যান থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), হ্যালন গ্যাস, নাইট্রাস অক্সাইড এবং সুপারসনিক জেট বিমানের ধোঁয়া স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে ওজোন অণুকে ($O_3$) ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে।ফলাফল: (১) সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray) পৃথিবীতে এসে মানুষের ত্বকের ক্যানসার ও চোখে ছানি সৃষ্টি করে, (২) উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত হয় এবং সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটন ধ্বংস হয়, (৩) পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।

১১ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য : বিষয়ঘূর্ণবাত (Cyclone)প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone)১. বায়ুচাপকেন্দ্রে গভীর নিম্নচাপ এবং বাইরে উচ্চচাপ থাকে।কেন্দ্রে উচ্চচাপ এবং বাইরে নিম্নচাপ থাকে।২. বায়ুর গতিবায়ু বাইরে থেকে কুণ্ডলীর আকারে কেন্দ্রের দিকে প্রবেশ করে ও ঊর্ধ্বমুখী হয়।বায়ু কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে ও নিম্নমুখী হয়।৩. আবহাওয়াআকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়।আকাশ মেঘমুক্ত, শান্ত ও পরিষ্কার থাকে।

১২শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কীভাবে ঘটে তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। মান ৩
উত্তর

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) : পদ্ধতি: সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু প্রবাহপথে কোনো উঁচু পর্বতে বাধা পেলে পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে।ঘনীভবন ও বৃষ্টিপাত: উপরে ওঠার ফলে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং পর্বতের যে ঢালে বায়ু বাধা পায় (প্রতিবাত ঢালে), সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল: বায়ুটি পর্বত অতিক্রম করে বিপরীত ঢালে (অনুবাত ঢালে) নামলে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং জলীয় বাষ্পের অভাবে সেখানে প্রায় বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। উদাহরণ: খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে মৌসিনরামে প্রবল বৃষ্টি হয়, কিন্তু উত্তর ঢালে শিলং বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে অবস্থিত।

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ও বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল রেখাচিত্র

চিত্র: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (প্রতিবাত ঢাল, ঘনীভবন মেঘ ও বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল)

১৩সমুদ্রস্রোত ও সমুদ্রতরঙ্গের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

সমুদ্রস্রোত ও সমুদ্রতরঙ্গের পার্থক্য : বিষয়সমুদ্রস্রোত (Ocean Current)সমুদ্রতরঙ্গ (Ocean Wave)১. প্রকৃতিসমুদ্রের জলরাশি নির্দিষ্ট দিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়।সমুদ্রের জলরাশি স্থান পরিবর্তন না করে একই স্থানে ওঠানামা করে।২. উৎপত্তির কারণনিয়ত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন এবং জলের উষ্ণতা ও লবণতার তারতম্য।সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুর ধাক্কা বা ভূমিকম্প।৩. প্রভাবউপকূলবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু ও বাণিজ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।উপকূলভাগের ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যে প্রধান ভূমিকা নেয়।

১৪উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে কুয়াশা ও মৎস্যক্ষেত্র গড়ে ওঠার কারণ কী? মান ৩
উত্তর

নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে কুয়াশা ও মৎস্যক্ষেত্র গড়ে ওঠার কারণ :

  • ঘন কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টি : উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে সুমেরু থেকে আগত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত এবং দক্ষিণের উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত পরস্পর মিলিত হয়। এই দুই বিপরীত ধর্মী স্রোতের মিলনের ফলে বায়ুর উষ্ণতার পার্থক্যে সারা বছর ঘন কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টির সৃষ্টি হয়।
  • মগ্নচড়া সৃষ্টি : শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে গিয়ে বাহিত নুড়ি-পলি সমুদ্রবক্ষে জমা হয়ে ‘গ্র্যান্ড ব্যাংক’ নামক অগভীর মগ্নচড়া গঠন করেছে।
  • প্ল্যাঙ্কটন বৃদ্ধি : এই অগভীর জলে সূর্যালোক সহজে প্রবেশ করায় মাছের প্রধান খাদ্য ‘প্ল্যাঙ্কটন’ প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যার আকর্ষণে প্রচুর কড ও হেরিং মাছের সমাগম ঘটে।
১৫মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের পার্থক্য লেখো। অথবা, ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের পার্থক্য : বিষয়মুখ্য জোয়ার (চন্দ্রজোয়ার)গৌণ জোয়ার১. অবস্থানপৃথিবীর যে অংশ চাঁদের ঠিক সামনে অবস্থান করে সেখানে ঘটে।মুখ্য জোয়ারের ঠিক বিপরীত দিকে (প্রতিপাদ স্থানে) ঘটে।২. উৎপত্তির কারণচাঁদের প্রবল মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে সৃষ্টি হয়।পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে সৃষ্টি হয়।৩. প্রাবল্যএই জোয়ারে জলস্ফীতি অপেক্ষাকৃত বেশি হয়।এই জোয়ারে জলস্ফীতি তুলনামূলক কম হয়।

১৬জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) ও জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) বর্জ্যের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের পার্থক্য : বিষয়জৈব ভঙ্গুর বর্জ্যজৈব অভঙ্গুর বর্জ্য১. বিয়োজনব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্বারা সহজেই পচে মাটির সাথে মিশে যায়।জীবাণু দ্বারা বিয়োজিত হয় না, দীর্ঘকাল অবিকৃত থাকে।২. ব্যবহারকম্পোস্টিং পদ্ধতিতে উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরি করা যায়।রিসাইক্লিং বা পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে নতুন দ্রব্য তৈরি করা হয়।৩. উদাহরণশাকসবজির খোসা, খাবারের অবশিষ্টাংশ, কাগজ, পাতা।প্লাস্টিক, পলিথিন, কাচ, ধাতব টিন, ই-বর্জ্য।

১৭পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর বর্জ্য পদার্থের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো। মান ৩
উত্তর

পরিবেশের ওপর বর্জ্য পদার্থের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব :

  • জলদূষণ ও রোগব্যাধি : কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও শহরের নর্দমার জল নদীতে মিশে জলকে বিষাক্ত করে এবং কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ও ব্ল্যাকফুট রোগ ছড়ায়।
  • মৃত্তিকা দূষণ ও জলনিকাশি বাধা : অপচনশীল প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটির নিচে জল প্রবেশে বাধা দেয়, মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং নর্দমা আটকে শহরে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করে।
  • বায়ুদূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন : আবর্জনা পচে মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস নির্গত হয় এবং বর্জ্য পোড়ানোর ফলে কার্বন মনোক্সাইড বাতাসে মিশে শ্বাসকষ্ট ও বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটায়।
১৮বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব আলোচনা করো। মান ৩
উত্তর

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব :

  • দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ রক্ষা : বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বর্জ্য অপসারণ ও শোধন করলে জল, মাটি ও বায়ুদূষণ রোধ করা যায়।
  • রোগজীবাণু বিস্তার রোধ : বর্জ্য পদার্থকে খোলা জায়গায় না ফেলে ল্যান্ডফিল বা কম্পোস্টিং করলে মশা-মাছির বংশবৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও কলেরার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব কমে।
  • সম্পদের সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার : কাগজ, কাচ ও ধাতব বর্জ্য পুনর্নবীকরণ (Recycle) করলে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমে এবং জৈব বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা যায়।
১৯বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘4R’ (Reduce, Reuse, Recycle, Refuse) পদ্ধতির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। মান ৩
উত্তর

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘4R’ পদ্ধতির ভূমিকা : Reduce (হ্রাস করা): দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যবহার কমিয়ে বর্জ্য সৃষ্টির পরিমাণ কমানো (যেমন— একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন)।Reuse (পুনর্ব্যবহার): কোনো জিনিস ফেলে না দিয়ে বারবার ব্যবহার করা (যেমন— কাচের শিশি বা কাপড়ের থলি বারবার ব্যবহার করা)।Recycle (পুনর্নবীকরণ): বাতিল কাগজ, প্লাস্টিক বা লোহাকে কারখানায় গলিয়ে নতুন ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী তৈরি করা।Refuse (প্রত্যাখ্যান): পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর জৈব অভঙ্গুর দ্রব্য (যেমন— পলিথিন ক্যারিবাগ বা থার্মোকল) ব্যবহার করতে সরাসরি অস্বীকার করা।

২০পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির পার্থক্য : বিষয়পূর্ব উপকূলীয় সমভূমিপশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি১. অবস্থানপূর্বঘাট পর্বত ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।পশ্চিমঘাট পর্বত ও আরব সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।২. বিস্তার ও প্রকৃতিএটি বেশ চওড়া (গড়ে ১০০-১২০ কিমি) এবং মৃদু ঢালু।এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ (গড়ে ৫০-৬৫ কিমি) এবং ভগ্ন প্রকৃতির।৩. বদ্বীপ ও উপহ্রদমহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর মোহনায় বৃহৎ বদ্বীপ গড়ে উঠেছে।নদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় কোনো বদ্বীপ নেই, তবে কয়াল বা উপহ্রদ বেশি দেখা যায়।

২১উত্তর ভারতের নদনদী ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

উত্তর ভারতের নদী ও দক্ষিণ ভারতের নদীর পার্থক্য : বিষয়উত্তর ভারতের নদীদক্ষিণ ভারতের নদী১. জলের উৎসহিমালয়ের বরফগলা জল ও বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় নদীগুলি নিত্যবহ (সারা বছর জল থাকে)।কেবল বর্ষার বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় নদীগুলি অনিত্যবহ (গ্রীষ্মে শুকিয়ে যায়)।২. তিনটি গতিএই নদীগুলিতে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন—তিনটি গতিই স্পষ্ট দেখা যায়।মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিনটি গতি স্পষ্ট নয়।৩. নাব্যতা ও জলবিদ্যুৎসমভূমির ওপর দিয়ে মৃদু ঢালে প্রবাহিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণের উপযুক্ত।খরস্রোতা ও জলপ্রপাতযুক্ত হওয়ায় নৌপরিবহণের অনুপযুক্ত, কিন্তু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে আদর্শ।

২২নর্মদা ও তাপ্তি নদী পশ্চিমবাহিনী হওয়ার কারণ কী? মান ৩
উত্তর

নর্মদা ও তাপ্তি নদী পশ্চিমবাহিনী কেন এবং এদের মোহনায় বদ্বীপ নেই কেন?পশ্চিমবাহিনী হওয়ার কারণ: দাক্ষিণাত্য মালভূমি পশ্চিম থেকে পূর্বে ঢালু হওয়া সত্ত্বেও নর্মদা ও তাপ্তি নদী দুটি বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মধ্যবর্তী গ্রস্ত উপত্যকার (Rift Valley) চ্যুতিরেখা বরাবর প্রবাহিত হয়েছে। এই চ্যুতি উপত্যকার ঢাল পূর্ব থেকে পশ্চিমে হওয়ায় নদী দুটি পশ্চিমে আরব সাগরে পতিত হয়েছে।বদ্বীপ না থাকার কারণ: (১) কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জলে পলির পরিমাণ খুব কম থাকে, (২) গ্রস্ত উপত্যকার খাড়া ঢালে নদীর স্রোত অত্যন্ত প্রবল এবং (৩) মোহনায় খাম্বাত উপসাগর গভীর হওয়ায় পলি জমতে পারে না।

২৩বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা কাকে বলে? এর দুটি প্রধান উদ্দেশ্য লেখো। মান ৩
উত্তর

বহুমুখী নদী পরিকল্পনা ও তার উদ্দেশ্য : সংজ্ঞা: নদী উপত্যকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে একসাথে বহুবিধ উদ্দেশ্য সাধনের পরিকল্পনাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে। (যেমন— দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা DVC)।তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য: (১) বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল জলাধারে আটকে রেখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা, (২) খালের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে সারা বছর জলসেচের ব্যবস্থা করা এবং (৩) বাঁধের জলের স্রোতকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।

২৪ভারতে মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ ও মৃত্তিকা সংরক্ষণের তিনটি উপায় লেখো। মান ৩
উত্তর

ভারতে মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ ও সংরক্ষণের উপায় : মৃত্তিকা ক্ষয়ের তিনটি কারণ: (১) নির্বিচারে অরণ্য ছেদন ও ঝুম চাষ, (২) তৃণভূমিতে অতিরিক্ত পশুচারণ এবং (৩) প্রবল বৃষ্টিপাত ও অবৈজ্ঞানিক প্রথায় চাষাবাদ।মৃত্তিকা সংরক্ষণের তিনটি উপায়: (১) ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনসৃজন, (২) পার্বত্য ঢালে ধাপ চাষ ও সমন্বিত রেখা বরাবর চাষ (Contour Ploughing) এবং (৩) পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ ও নদীবাঁধ নির্মাণ।

২৫ভারতের জলবায়ু ও অর্থনীতিতে মৌসুমি বায়ুর তিনটি প্রধান প্রভাব লেখো। মান ৩
উত্তর

ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর তিনটি প্রভাব :

  • ঋতুচক্রের নিয়ন্ত্রণ : মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর ভিত্তি করেই ভারতে চারটি প্রধান ঋতু (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত) আবর্তিত হয়।
  • বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন : ভারতের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০-৯০% দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঘটে; যার ফলে মেঘালয়ে সর্বাধিক বৃষ্টি হয় এবং রাজস্থানে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
  • কৃষি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক : ভারতের কৃষি মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল (মৌসুমি বায়ুকে ভারতের অর্থনীতির জুয়াখেলা বলা হয়)। খরা বা বন্যা মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনারই ফল।
২৬ভারতে অরণ্য সংরক্ষণের তিনটি প্রধান উপায় লেখো। মান ৩
উত্তর

অরণ্য সংরক্ষণের তিনটি প্রধান উপায় :

  • ব্যাপক বৃক্ষরোপণ : যে পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণে চারাগাছ রোপণ এবং সামাজিক ও কৃষি বনসৃজন প্রসারিত করা।
  • বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার : গ্রামীণ অঞ্চলে জ্বালানি কাঠের পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস ও রান্নার গ্যাসের (LPG) ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
  • দাবানল ও চোরাচালান রোধ : বনের আগুন (দাবানল) নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা রুখতে কঠোর বন আইন প্রয়োগ করা।
২৭পাঞ্জাব-হরিয়ানা রাজ্যে কৃষির অভাবনীয় উন্নতির তিনটি প্রধান কারণ আলোচনা করো। মান ৩
উত্তর

পাঞ্জাব-হরিয়ানার কৃষি সমৃদ্ধির তিনটি কারণ :

  • উন্নত জলসেচ ব্যবস্থা : শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদী থেকে কাটা অসংখ্য নিত্যবহ খাল (ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প) ও নলকূপের মাধ্যমে সারা বছর জলসেচের সুবিধা।
  • সবুজ বিপ্লবের সাফল্য : উচ্চফলনশীল গম ও ধানের বীজ, রাসায়নিক সার এবং ট্রাক্টর-হারভেস্টারের মতো আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সর্বাধিক ব্যবহার।
  • উর্বর পলি মাটি ও পরিশ্রমী কৃষক : সিন্ধু উপত্যকার উর্বর পলি মাটি এবং স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক ও পরিশ্রমী মানসিকতা।
২৮ভারতীয় কৃষির প্রধান তিনটি সমস্যা ও সমাধানের উপায় লেখো। মান ৩
উত্তর

ভারতের কৃষির সমস্যা ও সমাধান : তিনটি সমস্যা: (১) মৌসুমি বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা ও জলসেচের অভাব, (২) উত্তরাধিকার সূত্রে জমির ক্ষুদ্রাকৃতি বা খণ্ডবিখণ্ড হওয়া এবং (৩) কৃষকদের দারিদ্র্য ও মহাজনি ঋণের বোঝা।সমাধানের উপায়: সারা বছর জলসেচের প্রসার ঘটানো, সমবায় প্রথায় যৌথ কৃষি ব্যবস্থা চালু করা এবং কৃষকদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও ফসলের ন্যায্য সহায়ক মূল্য (MSP) প্রদান করা।

২৯হুগলি নদীর উভয় তীরে পাটশিল্পের কেন্দ্রীভবনের তিনটি প্রধান কারণ লেখো। মান ৩
উত্তর

হুগলি নদীর উভয় তীরে পাট শিল্পের একদেশীভবনের কারণ :

  • কাঁচামালের সহজলভ্যতা : পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার উর্বর পলি মাটিতে ভারতের সর্বাধিক কাঁচা পাট উৎপন্ন হয়।
  • জল ও শক্তি সম্পদ : পাট পচানো ও ধোয়ার জন্য হুগলি নদীর প্রচুর জল এবং রানীগঞ্জের কয়লা ও ডিভিসি-র তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সুলভ বিদ্যুতের জোগান।
  • পরিবহণ ও বন্দর সুবিধা : সস্তা জলপথ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথ এবং চটজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানির জন্য কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের নৈকট্য।
৩০ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের (IT Industry) দ্রুত বিকাশের তিনটি প্রধান কারণ লেখো। মান ৩
উত্তর

ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের (IT Industry) দ্রুত বিকাশের কারণ:

  • দক্ষ ও সুলভ মেধা : ভারতে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও সফটওয়্যার কর্মী তৈরি হচ্ছে, যাঁদের পারিশ্রমিক উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম।
  • সরকারি নীতি ও আইটি পার্ক : কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উদার করনীতি এবং বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে ও কলকাতার সল্টলেকে বিশেষ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (STPI) ও সেজ (SEZ) গঠন।
  • বিশ্বায়ন ও আউটসোর্সিং : আমেরিকা ও ইউরোপের বহুজাতিক সংস্থাগুলির আউটসোর্সিং ও ডেটা প্রসেসিংয়ের বিশাল আন্তর্জাতিক বাজার।
৩১ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় রেলপথ ও সড়কপথের গুরুত্ব বা সুবিধাগুলি লেখো। মান ৩
উত্তর

ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় রেলপথ ও সড়কপথের গুরুত্ব :

  • কৃষি ও শিল্পের বিকাশ : খনি ও কৃষিক্ষেত্র থেকে কাঁচামাল কারখানায় পৌঁছানো এবং উৎপাদিত শিল্পদ্রব্য দেশের সর্বত্র ও বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো রেল ও সড়কপথ।
  • সড়কপথের বিশেষ সুবিধা (Door-to-Door Service) : সড়কপথ একেবারে ঘরের দরজা থেকে গন্তব্যে পণ্য ও যাত্রী পৌঁছে দিতে পারে এবং দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলেও সড়ক নির্মাণ সহজ।
  • জাতীয় সংহতি ও বিপর্যয় মোকাবিলা : ভারতের মতো বিশাল দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং বন্যা, খরা বা যুদ্ধের সময় দ্রুত ত্রাণ ও সেনা পাঠাতে রেলপথকে ‘ভারতের জীবনরেখা’ বলা হয়।
৩২জিওস্টেশনারি (ভূ-সমলয়) উপগ্রহ এবং সান-সিঙ্ক্রোনাস (সূর্য-সমলয়) উপগ্রহের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। মান ৩
উত্তর

জিওস্টেশনারি ও সান-সিঙ্ক্রোনাস উপগ্রহের পার্থক্য : বিষয়জিওস্টেশনারি (ভূ-সমলয়) উপগ্রহসান-সিঙ্ক্রোনাস (সূর্য-সমলয়) উপগ্রহ১. উচ্চতা ও কক্ষপথভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতায় নিরক্ষীয় কক্ষপথে ঘোরে।ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭০০–৯০০ কিমি উচ্চতায় মেরু কক্ষপথে (উত্তর-দক্ষিণে) ঘোরে।২. আবর্তনকালপৃথিবীর আবর্তনের সমান সময় নেয় (২৪ ঘণ্টা), তাই ভূপৃষ্ঠ থেকে স্থির মনে হয়।দিনে প্রায় ১৪ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।৩. কাজ ও উদাহরণআবহাওয়ার পূর্বাভাস ও টেলিযোগাযোগে ব্যবহৃত হয় (যেমন— INSAT)।প্রাকৃতিক সম্পদ সমীক্ষা ও মানচিত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয় (যেমন— IRS)।

৩৩উপগ্রহ চিত্রের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ও তিনটি ব্যবহার বা গুরুত্ব লেখো। মান ৩
উত্তর

উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার : তিনটি বৈশিষ্ট্য: (১) এটি ডিজিটাল বা সংখ্যাত্মক তথ্যের (Pixel) মাধ্যমে গঠিত হয়, (২) এতে প্রকৃত রঙের বদলে ছদ্ম রং (FCC) ব্যবহৃত হয় এবং (৩) একই স্থানের চিত্র বারবার তোলা যায় (পুনরাবৃত্তি ক্ষমতা)।তিনটি ব্যবহার: (১) ঝড়, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের আগাম পূর্বাভাস প্রদান, (২) বনভূমি, খনিজ সম্পদ ও ভৌমজলের অবস্থান নির্ণয় এবং (৩) প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত নজরদারিতে সাহায্য করা।

৩৪ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র পাঠে স্কেলের গুরুত্ব কী? বিভিন্ন প্রকার ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের স্কেল উল্লেখ করো। মান ৩
উত্তর

ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে স্কেলের গুরুত্ব ও প্রকারভেদ : গুরুত্ব: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে (Topographical Map) ভূপৃষ্ঠের প্রকৃত দূরত্ব ও ক্ষেত্রফলকে একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে ছোটো করে কাগজে আঁকা হয়। স্কেল ছাড়া মানচিত্রের দুটি স্থানের মধ্যে প্রকৃত দূরত্ব বা নদীর দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা অসম্ভব।বিভিন্ন সিরিজের স্কেল:

  • মিলিয়ন শিট ($4^\circ \times 4^\circ$) : R.F. ১:১০,০০,০০০ (১ সেমি = ১০ কিমি)।
  • ডিগ্রি শিট ($1^\circ \times 1^\circ$) : R.F. ১:২,৫০,০০০ (১ সেমি = ২.৫ কিমি)।
  • ১৫ মিনিট শিট ($15' \times 15'$) : R.F. ১:৫০,০০০ (১ সেমি = ৫০০ মিটার বা ২ সেমি = ১ কিমি)।

৬. বিভাগ – ঙ : রচনাধর্মী প্রশ্নাবলি (মান ৫ — ১০০% কমন জোন)

মান ৫ • পরীক্ষায় ৪টি লিখতে হবে (৫ × ৪ = ২০)

প্রাকৃতিক ভূগোল (৫.১) থেকে ৪টির মধ্যে যে-কোনো ২টি এবং ভারতের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক ভূগোল (৫.২) থেকে ৪টির মধ্যে যে-কোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। প্রতিটি প্রশ্নের সম্পূর্ণ নিখুঁত পয়েন্টভিত্তিক মডেল উত্তর নিচে উপস্থাপন করা হলো:

৫.১ প্রাকৃতিক ভূগোল (মান ৫ — যে-কোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

১হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপের চিত্রসহ বর্ণনা দাও। (অথবা, হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয়কার্যের ভূমিরূপগুলি বর্ণনা করো) মান ৫ • নিশ্চিত কমন
উত্তর

ভূমিকা : পার্বত্য অঞ্চলে গতিশীল হিমবাহ প্রধানত উৎপাটন (Plucking) এবং অবঘর্ষ (Abrasion) প্রক্রিয়ায় প্রবল ক্ষয়কার্য করে। এর ফলে সৃষ্ট প্রধান তিনটি ভূমিরূপ নিম্নরূপ:

হিমবাহের সার্ক ও করি ভূমিরূপ

চিত্র: হিমবাহের উৎপাটন ক্ষয়ের ফলে পর্বতের গায়ে সৃষ্ট ডেকচেয়ার আকৃতির সার্ক বা করি

  • ১. করি বা সার্ক (Corrie or Cirque) ও পিরামিড চূড়া :
    উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের উৎসস্থলে বরফের চাপে এবং উৎপাটন ও অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে পর্বতের গায়ে হাতলওয়ালা ডেকচেয়ার বা চামচের গর্তের মতো যে খাড়া দেওয়ালযুক্ত অর্ধগোলাকার ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে ফরাসি ভাষায় ‘সার্ক’ এবং স্কটল্যান্ডে ‘করি’ বলে।
    হিমবাহ গলে গেলে করির মধ্যভাগে জল জমে ‘করি হ্রদ’ বা ‘টার্ন’ গঠিত হয়। পাশাপাশি দুটি করির মধ্যবর্তী তীক্ষ্ণ শৈলশিরাকে ‘এরিটি’ (Arête) এবং তিন বা ততোধিক করি পেছন দিক থেকে ক্ষয় করলে মাঝের শৃঙ্গটি পিরামিডের মতো খাড়া হয়ে ‘পিরামিড চূড়া’ বা হর্ন গঠন করে (যেমন— আল্পসের ম্যাটারহর্ন ও ভারতের নীলকণ্ঠ শৃঙ্গ)।
  • ২. ‘U’ আকৃতির উপত্যকা বা হিমদ্রোণী (Glacial Trough) :
    পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার মধ্য দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় তার তলদেশে প্রবল অবঘর্ষ এবং দুই পাশের দেওয়ালে উৎপাটন প্রক্রিয়ায় নিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয় সমান তালে চালায়। এর ফলে পূর্বের সংকীর্ণ ‘V’ আকৃতির নদী উপত্যকাটি পরিবর্তিত হয়ে তলদেশ চওড়া ও সমতল এবং পার্শ্বদেওয়াল খাড়া ও মসৃণ হয়ে ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো উপত্যকা গঠন করে। একে ‘হিমদ্রোণী’ বলে।
    উদাহরণ : হিমালয়ের রূপকুণ্ড উপত্যকা এবং নরওয়ের ফিয়র্ড অঞ্চল।
  • ৩. ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley) :
    হিমালয় অঞ্চলে প্রধান নদী উপত্যকার সাথে যেমন ছোটো উপনদী মিলিত হয়, তেমনি প্রধান হিমবাহ উপত্যকার সাথে ছোটো ছোটো উপহিমবাহ উপত্যকা মিলিত হয়। প্রধান হিমবাহের বরফের পরিমাণ ও বেগ বেশি থাকায় তার উপত্যকা অনেক বেশি গভীর হয়; কিন্তু উপহিমবাহের ক্ষয়ক্ষমতা কম থাকায় তার উপত্যকা অগভীর থাকে।
    হিমযুগ শেষে বরফ গলে গেলে মনে হয় অগভীর উপহিমবাহ উপত্যকাটি গভীর প্রধান উপত্যকার ওপর শূন্যে ঝুলে রয়েছে। একে ‘ঝুলন্ত উপত্যকা’ বলে। এখান দিয়ে নদী প্রবাহিত হলে ভয়ংকর সুন্দর জলপ্রপাত সৃষ্টি হয় (যেমন— বদ্রীনাথের কাছে ঋষিগঙ্গা ঝুলন্ত উপত্যকা)।

ব্যাকআপ প্রস্তুতি (হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয়কার্য) :

(১) ড্রামলিন : উলটানো নৌকা বা চামচের মতো স্তূপীকৃত টিলা (ডিমের ঝুড়ি ভূমিরূপ), (২) এসকার : দীর্ঘ আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো বালুকা-বাঁধ, (৩) বহিঃবিধৌত সমভূমি (Outwash Plain) : পর্বতের পাদদেশে হিমবাহগলা জলে বালু-নুড়ি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্ট বিস্তীর্ণ সমভূমি।

২শুষ্ক বা মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের (অথবা সঞ্চয়কার্যের) ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপের সচিত্র বিবরণ দাও। মান ৫ • অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর

ভূমিকা : মরুভূমি অঞ্চলে গাছপালার অভাব ও চরম শুষ্কতার কারণে বায়ু প্রধানত অবঘর্ষ (Abrasion), অপসারণ (Deflation) ও ঘর্ষণ (Attrition) প্রক্রিয়ায় ভূমিরূপ পরিবর্তন করে। বায়ুর ক্ষয়কার্যের তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হলো:

গৌর বা ব্যাঙের ছাতা

চিত্র: গৌর বা মাশরুম রক (Mushroom Rock)

ইয়ারদাং ভূমিরূপ

চিত্র: ইয়ারদাং (Yardang)

  • ১. গৌর বা গারা (Gour / Mushroom Rock) :
    মরুভূমিতে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি (১ থেকে ২ মিটার উচ্চতায়) বালুকণার ঘনত্ব ও অবঘর্ষ ক্ষয়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। ফলে কোনো একক বৃহৎ শিলাস্তম্ভের নিচের অংশ দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সরু ডাঁটার মতো হয় এবং ওপরের অংশ কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিশালাকার ব্যাঙের ছাতার মতো অবস্থান করে। একে জার্মানিতে ‘পিলজফেলসেন’ এবং সাহারায় ‘গৌর’ বলে।
    উদাহরণ : সাহারা মরুভূমি ও ইরানের মরু অঞ্চলে অসংখ্য গৌর দেখা যায়।
  • ২. জুগ্যান (Zeugen) :
    মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর যখন একে অপরের ওপর অনুভূমিকভাবে বা সমান্তরালে অবস্থান করে, তখন যান্ত্রিক আবহবিকারের ফলে কঠিন শিলার ফাটল দিয়ে বায়ু প্রবেশ করে নিচের কোমল শিলাকে দ্রুত ক্ষয় করে। এর ফলে চ্যাপ্টা মাথা ও খাড়া দেওয়ালযুক্ত দোয়াত বা টেবিলের মতো যে ভূমিরূপ গঠিত হয়, তাকে ‘জুগ্যান’ বলে।
    উদাহরণ : আমেরিকার মরুভূমি ও সাহারা মরুভূমিতে জুগ্যান দেখা যায়।
  • ৩. ইয়ার্দাং (Yardang) :
    কঠিন ও কোমল শিলাস্তর যখন বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে উল্লম্বভাবে বা আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে, তখন বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয় পেয়ে দীর্ঘ সংকীর্ণ খাদ বা নালির সৃষ্টি করে এবং কঠিন শিলাগুলি শৈলশিরার মতো উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এই তীক্ষ্ণ খাড়া খাঁজযুক্ত ভূমিরূপকে ‘ইয়ার্দাং’ বলে।
    উদাহরণ : চিলির আটাকামা মরুভূমি ও মধ্য এশিয়ার তাকলামাকান মরুভূমিতে বহু ইয়ার্দাং রয়েছে।

বিকল্প বায়ুর সঞ্চয়কার্যের তিনটি ভূমিরূপ :

(১) বার্খান বালিয়াড়ি : বায়ুপ্রবাহের আড়াআড়ি গঠিত অর্ধচন্দ্রাকার বালির টিলা যার দুটি অগ্রবর্তী শিং থাকে, (২) সিফ বালিয়াড়ি : বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে গড়ে ওঠা সোজা তরবারির মতো সংকীর্ণ দীর্ঘ বালির শৈলশিরা, (৩) লোয়েস সমভূমি : দূরবর্তী অঞ্চল থেকে অতিসূক্ষ্ম হলুদ ধূলিকণা বাহিত হয়ে সঞ্চিত হওয়া উর্বর সমভূমি (যেমন— চিনের হোয়াংহো অববাহিকার লোয়েস সমভূমি)।

৩নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপের সচিত্র বর্ণনা দাও। মান ৫
উত্তর

ভূমিকা : নদীর উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে ভূমির ঢাল ও জলের তীব্র বেগ বেশি থাকায় নদী প্রধানত জলপ্রবাহ ক্ষয়, অবঘর্ষ ও ঘর্ষণ প্রক্রিয়ায় নিম্নক্ষয় করে। প্রধান তিনটি ভূমিরূপ হলো:

  • ১. ‘I’ ও ‘V’ আকৃতির উপত্যকা (গিরিখাত ও ক্যানিয়ন) :
    উচ্চগতিতে নদীর নিম্নক্ষয় ক্ষমতা পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি হয়। আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টির জলে নদী উপত্যকার দুই পাড় ক্ষয় হয়ে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো সংকীর্ণ ও গভীর উপত্যকা গড়ে তোলে। কিন্তু শুষ্ক মরুপ্রায় অঞ্চলে বৃষ্টির অভাব ও কঠিন শিলাস্তরের কারণে কেবল নিম্নক্ষয় ঘটে এবং দুই পাড় খাড়া দেওয়ালের মতো দাঁড়িয়ে থেকে ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো যে অতি গভীর ও অপ্রশস্ত উপত্যকা গঠন করে, তাকে ‘ক্যানিয়ন’ বলে।
    উদাহরণ : পেরুর এল ক্যানন দ্য কলকা পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত এবং আমেরিকার কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর বৃহত্তম ক্যানিয়ন।
  • ২. জলপ্রপাত ও প্রপাতকূপ (Waterfall & Plunge Pool) :
    নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর আড়াআড়ি বা লম্বালম্বিভাবে অবস্থান করলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং কঠিন শিলা অসমতলে উঁচু হয়ে থাকে। এর ফলে নদীর জল খাড়া ঢাল বরাবর ওপর থেকে তীব্র বেগে নিচে আছড়ে পড়ে জলপ্রপাতের সৃষ্টি করে।
    জলপ্রপাতের জল যেখানে প্রচণ্ড শক্তিতে নিচে পড়ে, সেই তলদেশে জলপ্রবাহ ও শিলাখণ্ডের ঘর্ষণে বিশালাকার যে গোলাকার গর্ত সৃষ্টি হয়, তাকে ‘প্রপাতকূপ’ (Plunge Pool) বলে।
    উদাহরণ : কর্ণাটকের শরাবতী নদীর যোগ বা গেরসোপ্পা জলপ্রপাত (মহাত্মা গান্ধী প্রপাত)।
  • ৩. শৃঙ্খলিত শৈলশিরা (Interlocking Spurs) ও মন্থকূপ :
    পার্বত্য অঞ্চলে নদীর গতিপথে কঠিন শিলাযুক্ত পাহাড়ের খাঁজ বা অভিক্ষিপ্তাংশ বাধা হয়ে দাঁড়ালে নদী পাহাড়ের বাধা কাটাতে এঁকেবেঁকে অগ্রসর হয়। ফলে দূর থেকে দেখলে মনে হয় পাহাড়ের শৈলশিরাগুলি নদীর গতিপথকে শেকলের মতো আবদ্ধ করে রেখেছে। একে শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলে।
    নদীগর্ভে পাথরের ছোটো ছোটো টুকরো জলের ঘূর্ণির সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে যে গোলাকার ছোটো ছোটো গর্ত সৃষ্টি করে, তাকে মন্থকূপ (Pothole) বলে।
৪পৃথিবীর প্রধান বায়ুচাপ বলয়গুলির সাথে নিয়ত বায়ুপ্রবাহের সম্পর্ক চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। মান ৫ • নিশ্চিত কমন
উত্তর

ভূমিকা : ভূপৃষ্ঠে উষ্ণতার তারতম্য এবং পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে মোট ৭টি প্রধান বায়ুচাপ বলয় গড়ে উঠেছে। উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর নির্দিষ্ট দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত বায়ুকে নিয়ত বায়ুপ্রবাহ বলে। ফ্যারেলের সূত্রানুসারে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয় ও নিয়ত বায়ুপ্রবাহের রেখাচিত্র

চিত্র: পৃথিবীর ৭টি বায়ুচাপ বলয় এবং ৩ জোড়া নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (ফ্যারেলের সূত্রানুসারে বিক্ষেপ)

  • ১. আয়ন বায়ু (Trade Winds) ও কর্কটীয়-মকরীয় উচ্চচাপ বলয় :
    কর্কটীয় ও মকরীয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় ($25^\circ - 35^\circ$ উঃ ও দঃ) থেকে ভারী ও শীতল বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের ($0^\circ - 5^\circ$) দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে করিওলিস বলের প্রভাবে ডানদিকে বেঁকে ‘উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু’ এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে ‘দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু’ রূপে বয়। প্রাচীনকালে পালতোলা বাণিজ্য জাহাজ এই বায়ুর ওপর নির্ভর করে চলত বলে একে ‘বাণিজ্য বায়ু’ বলে। দুই আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় শান্ত বলয় বা ITCZ-তে মিলিত হয়ে ঊর্ধ্বগামী হয়।
  • ২. পশ্চিমা বায়ু (Westerlies) ও উপমেরুবৃত্তীয় নিম্নচাপ বলয় :
    কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে বায়ু উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের ($60^\circ - 70^\circ$) দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে পশ্চিমা বায়ু বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি ‘দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু’ এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ‘উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু’ নামে পরিচিত।
    দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগের অভাবে এই বায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়ে $40^\circ$ দক্ষিণ অক্ষাংশে ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ (Roaring Forties) এবং $50^\circ$ দক্ষিণে ‘ক্রুদ্ধ পঞ্চাশা’ (Furious Fifties) সৃষ্টি করে।
  • ৩. মেরু বায়ু (Polar Winds) :
    উত্তর ও দক্ষিণ মেরুদেশীয় চরম শীতল ও ভারী উচ্চচাপ বলয় থেকে যে তীব্র বরফশীতল বায়ু উপমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে ধাবিত হয়, তাকে মেরু বায়ু বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি ‘উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু’ এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ‘দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু’ নামে পরিচিত। এই বায়ু মেরু অঞ্চলে ভয়ংকর তুষারঝড় (Blizzard) সৃষ্টি করে।
৫বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কী? পৃথিবীর পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর বিশ্ব উষ্ণায়নের পাঁচটি ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা করো। মান ৫
উত্তর

সংজ্ঞা : জীবাশ্ম জ্বালানি দহন ও নির্বিচারে বৃক্ষছেদনের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ($CO_2$, $CH_4$, $CFC$, $N_2O$) ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) বলে।

পরিবেশের ওপর পাঁচটি প্রধান প্রভাব :

  • ১. মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহের দ্রুত গলন :
    উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফের চাদর এবং হিমালয় ও আল্পসের মতো পার্বত্য হিমবাহগুলি আশঙ্কাজনক হারে গলে যাচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মকালে নদীতে জলপ্রবাহ কমে গিয়ে পানীয় জলসংকট দেখা দিচ্ছে।
  • ২. সমুদ্রজলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় দ্বীপের নিমজ্জন :
    হিমবাহের গলিত জল সমুদ্রে আসায় এবং জলের তাপীয় প্রসারণের ফলে প্রতি বছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের ঘোড়ামারা, নিউমুর ও লোহাচরা দ্বীপ ইতিমধ্যেই সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হয়েছে এবং মালদ্বীপ, বাংলাদেশ ও কলকাতার মতো নিম্নাঞ্চল প্লাবনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • ৩. জলবায়ু ও ঋতুচক্রের চরম বিপর্যয় :
    বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর চরমভাব দেখা দিচ্ছে— কোথাও ভয়াবহ অনাবৃষ্টি ও খরা, আবার কোথাও বিধ্বংসী অতিবৃষ্টি ও হড়পা বান। এছাড়া বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে আমফান, মোখা বা রিমালের মতো অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের (Super Cyclone) পুনরাবৃত্তি বাড়ছে।
  • ৪. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও প্রবাল প্রাচীরের বিরঞ্জন (Coral Bleaching) :
    সমুদ্রজলের তাপমাত্রা ও অম্লতা বাড়ায় বিশ্বের বৃহত্তম গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ সহ ক্রান্তীয় সমুদ্রের রঙিন প্রবাল প্রাচীর শ্বেতবর্ণ ধারণ করে মারা যাচ্ছে (Coral Bleaching)। মেরু ভাল্লুক, পেঙ্গুইন ও বহু বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী বাসস্থান হারিয়ে বিলুপ্তির মুখে।
  • ৫. কৃষিকাজে ক্ষতি ও রোগব্যাধির বিস্তার :
    উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে কৃষিজমির আর্দ্রতা শুকিয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদন মারাত্মক হ্রাস পাচ্ছে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও কালাজ্বরের মতো মশাবাহিত জীবাণুর ভৌগোলিক বিস্তার শীতল অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে।
৬জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির কারণগুলি চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো এবং জোয়ার-ভাটার সুফল ও কুফলগুলি সংক্ষেপে লেখো। মান ৫
উত্তর

ভূমিকা : প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমুদ্র ও মোহনার জলরাশির ছন্দময় স্ফীতিকে ‘জোয়ার’ এবং নেমে যাওয়াকে ‘ভাটা’ বলে। জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির দুটি মূল কারণ হলো:

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের সিজিগি অবস্থান রেখাচিত্র

চিত্র: অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় ভরা কোটাল (সিজিগি) এবং অষ্টমীতে মরা কোটাল (সমকোণ)

  • ১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ :
    নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রানুসারে প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। সূর্যের ভর চাঁদের চেয়ে বহুগুণ বেশি হলেও সূর্য পৃথিবী থেকে অনেক দূরে (প্রায় ১৫ কোটি কিমি) অবস্থিত; কিন্তু চাঁদ পৃথিবীর অত্যন্ত কাছে (প্রায় ৩.৮৪ লক্ষ কিমি) থাকায় পৃথিবীর জলরাশির ওপর চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্যের চেয়ে প্রায় ২.১৭ গুণ বেশি। চাঁদের সম্মুখবর্তী স্থানে প্রবল আকর্ষণে যে জোয়ার হয় তাকে মুখ্য জোয়ার বলে।
  • ২. পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force) :
    পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর অবিরাম ঘূর্ণনের ফলে যে বহির্মুখী কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়, তার প্রভাবে মুখ্য জোয়ারের ঠিক বিপরীত দিকে (প্রতিপাদ স্থানে) জলরাশি বাইরের দিকে ছিটকে ওঠে গৌণ জোয়ার সৃষ্টি করে।

জোয়ার-ভাটার সুফল ও কুফল :

  • সুফল : (১) জোয়ারের সময় অগভীর নদী ও খাঁড়িতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় কলকাতা বা হলদিয়ার মতো নদী বন্দরে সমুদ্রগামী বড়ো জাহাজ সহজে প্রবেশ করতে পারে। (২) ভাটার টানে নদীর আবর্জনা সমুদ্রে ধুয়ে গিয়ে মোহনা পলিযুক্ত ও নাব্য থাকে। (৩) জোয়ারের জল আবদ্ধ করে লবণ উৎপাদন ও টারবাইন ঘুরিয়ে জোয়ার-ভাটা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
  • কুফল : বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় নদীতে হঠাৎ জলস্ফীতি ঘটে ‘বান ডাকা’ বা ‘বানভাসি’ বন্যা সৃষ্টি করে নদীবাঁধ ভেঙে বহু গ্রাম প্লাবিত করে।
৭সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি বিস্তৃতভাবে আলোচনা করো। মান ৫
উত্তর

ভূমিকা : মহাসাগরের বিশাল জলরাশি যখন নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট দিকে নদীর স্রোতের মতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে। সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান পাঁচটি কারণ হলো:

  • ১. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (প্রধান চালিকাশক্তি) :
    সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধানতম নিয়ন্ত্রক হলো নিয়ত বায়ু (আয়ন, পশ্চিমা ও মেরু বায়ু)। এই বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রপৃষ্ঠে ঘর্ষণের মাধ্যমে জলরাশিকে নিজের গতিপথের দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। যেমন— আয়ন বায়ুর প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় উষ্ণ স্রোত পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়।
  • ২. পৃথিবীর আবর্তন গতি ও কোরিওলিস বল :
    পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে অবিরাম আবর্তন করার ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সোজা পথে না গিয়ে ফ্যারেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে কুণ্ডলী বা গায়র (Gyre) আকারে ঘোরে।
  • ৩. সমুদ্রজলের উষ্ণতার তারতম্য :
    নিরক্ষীয় অঞ্চলের জল প্রখর সূর্যতাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে বহিঃস্রোতরূপে মেরু অঞ্চলের দিকে যায়; অপরপক্ষে মেরু অঞ্চলের অতিরিক্ত শীতল ও ভারী জল সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষরেখার দিকে ফিরে আসে।
  • ৪. সমুদ্রজলের লবণতা ও ঘনত্বের তারতম্য :
    যে জলের লবণতা বেশি তা ভারী ও ঘন হয়ে নিচে নেমে অন্তঃস্রোতরূপে কম লবণাক্ত অঞ্চলের দিকে যায় এবং কম লবণাক্ত হালকা জল উপরিভাগ দিয়ে বহিঃস্রোতরূপে প্রবাহিত হয় (যেমন— আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের স্রোত)।
  • ৫. উপকূলের আকৃতি ও ভূখণ্ডের অবস্থান :
    চলমান সমুদ্রস্রোতের গতিপথে কোনো দ্বীপ বা মহাদেশীয় অন্তরীপ বাধা দিলে স্রোতের দিক পরিবর্তিত হয় বা তা শাখায় বিভক্ত হয় (যেমন— সেন্ট রক অন্তরীপে বাধা পেয়ে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত দুভাগে ভাগ হয়ে ব্রাজিল স্রোত সৃষ্টি করেছে)।

৫.২ ভারতের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক ভূগোল (মান ৫ — যে-কোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

১ভারতের প্রস্থ বরাবর (উত্তর থেকে দক্ষিণে) হিমালয় পর্বতের ভূপ্রাকৃতিক শ্রেণিবিভাগ করে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। মান ৫ • নিশ্চিত কমন
উত্তর

ভূমিকা : উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রস্থ বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে ভূপ্রকৃতি ও উচ্চতার ভিত্তিতে চারটি প্রধান সমান্তরাল পর্বতশ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

  • ১. টেথিস বা ট্রান্স হিমালয় (উত্তরের অংশ) :
    হিমাদ্রি হিমালয়ের উত্তরে তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত প্রাচীনতম অংশ। এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩,০০০-৪,০০০ মিটার এবং গড় বিস্তার ৪০ কিমি। এই অংশের প্রধান পর্বতশ্রেণি হলো জাস্কর, লাডাক ও কৈলাস। ভারতের উচ্চতম শৃঙ্গ গডউইন অস্টিন বা K2 (৮,৬১১ মি.) কারাকোরাম পর্বতশ্রেণিতে অবস্থিত।
  • ২. হিমাদ্রি বা গ্রেটার হিমালয় (সর্বোচ্চ অংশ) :
    হিমালয়ের সর্বাপেক্ষা উচ্চতম ও বরফাবৃত কেন্দ্রীয় প্রাচীর। গড় উচ্চতা প্রায় ৬,১০০ মিটার। পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মি.) এবং ভারতের দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৮৬ মি.), মাকালু, ধবলগিরি ও নন্দাদেবী এই অংশে অবস্থিত। গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী হিমবাহ এখান থেকেই উৎপন্ন।
  • ৩. হিমাচল বা মধ্য হিমালয় :
    হিমাদ্রির দক্ষিণে অবস্থিত অংশ যার গড় উচ্চতা ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ মিটার এবং বিস্তার ৬০-৮০ কিমি। পীরপাঞ্জাল ও ধৌলাধর এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণি। হিমাদ্রি ও হিমাচলের মাঝে কাশ্মীর উপত্যকা, কুলু ও কাংড়া উপত্যকা অবস্থিত। সিমলা, দার্জিলিং, মুসৌরি ও নৈনিতালের মতো মনোরম শৈলশহর এখানে রয়েছে।
  • ৪. শিবালিক বা বহিঃহিমালয় (সর্বদক্ষিণের নবীন অংশ) :
    হিমালয়ের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত সবচেয়ে কম উচ্চতাবিশিষ্ট (গড় উচ্চতা ৬০০-১,৫০০ মি.) নবীন ভঙ্গিল শৈলশ্রেণি। হিমাচল ও শিবালিকের মধ্যবর্তী অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকাগুলিকে ‘দুন’ বলে (যেমন— দেরাদুন)। শিবালিকের পাদদেশে নুড়ি-কাঁকড়যুক্ত অঞ্চলকে ‘ভাবর’ এবং দক্ষিণের স্যাঁতসেঁতে বনভূমিময় অঞ্চলকে ‘তরাই’ বলে।
২ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির তুলনামূলক আলোচনা করো। মান ৫
উত্তর

দাক্ষিণাত্য উপদ্বীপের দুই পাশে অবস্থিত পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির তুলনামূলক পার্থক্য নিচে ছকের মাধ্যমে আলোচনা করা হলো:

তুলনার বিষয় পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি
১. অবস্থান ও বিস্তার পূর্বঘাট পর্বত ও বঙ্গোপসাগরের মাঝে অবস্থিত। এটি গড়ে ৮০-১২০ কিমি বেশ চওড়া ও মৃদু ঢালু। পশ্চিমঘাট পর্বত ও আরব সাগরের মাঝে অবস্থিত। এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ (গড়ে ৫০-৬৫ কিমি) ও ভগ্ন।
২. নদী ও বদ্বীপ মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীগুলি ধীরগতিতে বয়ে গিয়ে মোহনায় বৃহৎ উর্বর বদ্বীপ গড়ে তুলেছে। নর্মদা, তাপ্তি ও শরাবতী নদীগুলি তীব্র খরস্রোতা হওয়ায় কোনো বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি; কেবল খাঁড়ি দেখা যায়।
৩. উপকূলীয় হ্রদ ও কয়াল উপহ্রদের সংখ্যা কম; তবে চিল্কা ও পুলিকটের মতো বিশাল অগভীর লেগুন দেখা যায়। বালিয়াড়ি কম। কেরালার মালাবার উপকূলে বহুসংখ্যক লবণাক্ত জলাভূমি বা কয়াল (যেমন— ভেম্বানাদ) দেখা যায়।
৪. স্বাভাবিক বন্দর উপকূল সোজা ও অগভীর হওয়ায় স্বাভাবিক পোতাশ্রয় কম (যেমন— কৃত্রিম বন্দর চেন্নাই, বিশাখাপত্তনম)। উপকূল খাড়া ও ভগ্ন হওয়ায় বহু চমৎকার প্রাকৃতিক গভীর বন্দর গড়ে উঠেছে (যেমন— মুম্বই, মার্মাগাঁও, কোচি)।
৩ভারতে ধান অথবা গম চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশের (প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক) বিবরণ দাও। মান ৫ • নিশ্চিত কমন
উত্তর

ক. ভারতে ধান চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ :

  • প্রাকৃতিক পরিবেশ :
    • উষ্ণতা : ধানের চারা বৃদ্ধির জন্য গড়ে $২০^\circ - ৩০^\circ ext{C}$ তাপমাত্রা এবং ধান পাকার সময় শুষ্ক রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া প্রয়োজন।
    • বৃষ্টিপাত : প্রচুর বৃষ্টিপাত আবশ্যক (বার্ষিক গড়ে ১০০-২০০ সেমি)। ধান গাছের গোড়ায় অন্তত ২-৩ সপ্তাহ জল জমে থাকা দরকার।
    • মৃত্তিকা : নদী অববাহিকার উর্বর কাদাযুক্ত পলি মাটি এবং দোআঁশ মাটি ধান চাষের জন্য শ্রেষ্ঠ।
    • ভূমির প্রকৃতি : জল দাঁড়িয়ে থাকার উপযোগী সমতল প্লাবনভূমি বা বদ্বীপ অঞ্চল আদর্শ।
  • অর্থনৈতিক পরিবেশ : জমি তৈরি, চারা রোপণ ও ফসল কাটার জন্য প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক, পর্যাপ্ত সার-কীটনাশক এবং উন্নত পরিবহণ ও বাজার ব্যবস্থা।
  • প্রধান উৎপাদক অঞ্চল : পশ্চিমবঙ্গ (ভারতে প্রথম), উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পাঞ্জাব।

খ. ভারতে গম চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ :

  • প্রাকৃতিক পরিবেশ :
    • উষ্ণতা : গম মূলত শীতকালীন (রবি) শস্য। বৃদ্ধির সময় শীতল মৃদু আবহাওয়া ($১০^\circ - ১৫^\circ ext{C}$) এবং কাটার সময় রৌদ্রকরোজ্জ্বল উষ্ণতা ($২০^\circ - ২৫^\circ ext{C}$) দরকার।
    • বৃষ্টিপাত : ৫০ থেকে ১০০ সেমি পরিমিত বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। অতিরিক্ত বৃষ্টি গম চাষের মারাত্মক ক্ষতি করে। বৃষ্টির অভাব জলসেচের মাধ্যমে মেটানো হয়।
    • মৃত্তিকা : চুনযুক্ত উর্বর দোআঁশ ও হালকা পলিমাটি গমের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট।
    • ভূমির প্রকৃতি : জমিতে যাতে জল জমে না থাকে এমন মৃদু ঢালু উর্বর সমতল ভূমি।
  • প্রধান উৎপাদক অঞ্চল : উত্তরপ্রদেশ (ভারতে প্রথম), পাঞ্জাব ও হরিয়ানা (হেক্টর প্রতি উৎপাদনে প্রথম)।
৪ভারতে কার্পাস (তুলো) অথবা ইক্ষু (আখ) উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ আলোচনা করো। মান ৫
উত্তর

ক. কার্পাস (তুলো) চাষের অনুকূল পরিবেশ :

  • ১. উষ্ণতা : তুলা মূলত ক্রান্তীয় শস্য। বৃদ্ধির জন্য $২০^\circ - ৩৫^\circ ext{C}$ উষ্ণতা প্রয়োজন। গাছে গুটি ধরার সময় অন্তত ২১০টি তুষারহীন দিন (Frost-free days) একান্ত প্রয়োজন।
  • ২. বৃষ্টিপাত : ৫০-১০০ সেমি পরিমিত বৃষ্টিপাত আবশ্যক। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি ক্ষতিকর।
  • ৩. মৃত্তিকা : চুন ও টাইটানিয়ামযুক্ত জলধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মাটি (Black Soil) তুলা চাষের জন্য শ্রেষ্ঠ।
  • ৪. সামুদ্রিক আর্দ্র বাতাস ও রোদ : সমুদ্রের আর্দ্র বাতাস তুলোর আঁশ লম্বা ও নরম করে।
  • প্রধান উৎপাদক : গুজরাট (ভারতে প্রথম), মহারাষ্ট্র ও তেলঙ্গানা।

খ. ইক্ষু (আখ) চাষের অনুকূল পরিবেশ :

  • ১. উষ্ণতা : গড় উষ্ণতা $২১^\circ - ২৭^\circ ext{C}$। বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘ সময় প্রখর রোদ দরকার।
  • ২. বৃষ্টিপাত : ১০০-১৫০ সেমি বৃষ্টিপাত বা পর্যাপ্ত জলসেচ প্রয়োজন।
  • ৩. মাটি : চুন, ফসফরাস ও পটাশযুক্ত গভীর উর্বর দোআঁশ ও পলিমাটি।
  • প্রধান উৎপাদক : উত্তরপ্রদেশ (ভারতের 'চিনির বাটি'), মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু।
৫পশ্চিম ভারতে (মুম্বই ও আমেদাবাদ অঞ্চলে) কার্পাস বয়ন শিল্পের একদেশীভবন বা কেন্দ্রীভবনের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো। মান ৫ • নিশ্চিত কমন
উত্তর

ভূমিকা : ভারতের মোট বস্ত্রশিল্পের সিংহভাগ মহারাষ্ট্রের মুম্বই এবং গুজরাটের আমেদাবাদ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। মুম্বইকে ‘ভারতের বস্ত্রের রাজধানী’ (Cottonopolis) এবং আমেদাবাদকে ‘ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার’ বলা হয়। এই কেন্দ্রীভবনের প্রধান পাঁচটি কারণ হলো:

  • ১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা : পার্শ্ববর্তী মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের দাক্ষিণাত্য ট্র্যাপের উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা (রেগুর) অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে উন্নতমানের উৎকৃষ্ট দীর্ঘ আঁশের তুলো উৎপন্ন হয়, যা এই অঞ্চলের কারখানাগুলিতে কাঁচামালের নিয়মিত জোগান সুনিশ্চিত করে।
  • ২. আর্দ্র সামুদ্রিক জলবায়ু : আরব সাগরের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার বাতাস সারা বছর আর্দ্র থাকে। আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে সুতো কাটার সময় সহজে ছিঁড়ে যায় না এবং সূক্ষ্ম ও মজবুত সুতো তৈরি করা সম্ভব হয়।
  • ৩. শক্তি সম্পদের প্রাচুর্য : পশ্চিমঘাট পর্বতের জলপ্রপাত থেকে উৎপন্ন টাটা হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রজেক্টের সস্তা জলবিদ্যুৎ এবং ট্রম্বে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তারাপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়।
  • ৪. উন্নত পরিবহণ ও মুম্বই বন্দরের সুবিধা : মধ্য ও পশ্চিম রেলওয়ে এবং জাতীয় সড়কপথের মাধ্যমে ভারতের সমস্ত বড়ো বাজারের সাথে চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া মুম্বই ও কান্দালা বন্দরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উৎকৃষ্ট মিশরীয় তুলো আমদানি এবং উৎপাদিত বস্ত্র বিদেশে রপ্তানি করা সহজ হয়।
  • ৫. মূলধন ও সুলভ শ্রমিক : পারসি, গুজরাটি ও ভাটিয়া ধনী শিল্পপতিদের প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ এবং পার্শ্ববর্তী কোঙ্কন ও উত্তরপ্রদেশ-বিহার থেকে আগত বিপুল সংখ্যক সুলভ ও কর্মঠ শ্রমিকের সহজলভ্যতা।
৬ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের দ্রুত বিকাশের কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। মান ৫
উত্তর

ভূমিকা : খনিজ তেল শোধনাগারের উপজাত ন্যাপথা ও প্রাকৃতিক গ্যাসকে প্রক্রিয়াকরণ করে প্লাস্টিক, কৃত্রিম তন্তু, কৃত্রিম রবার, কীটনাশক ও রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনের শিল্পকে পেট্রোরসায়ন শিল্প বলে। একে সমস্ত আধুনিক শিল্পের অগ্রদূত বা ‘আধুনিক শিল্পদানব’ (Sunrise Industry) বলা হয়। ভারতে এর দ্রুত বিকাশের পাঁচটি কারণ:

  • ১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা : ভারতের বোম্বে হাই খনিজ তেলক্ষেত্র এবং উপকূলের বৃহৎ তেল শোধনাগারগুলি (জামনগর, ট্রম্বে, হলদিয়া, বিশাখাপত্তনম) থেকে প্রচুর পরিমাণে ন্যাপথা ও হাইড্রোকার্বন উপজাত দ্রব্য সস্তায় পাওয়া যায়। গুজরাটের জামনগরে বিশ্বের বৃহত্তম রিফাইনারি অবস্থিত।
  • ২. বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার ও ব্যাপক চাহিদা : আধুনিক যুগে কাঠ, লোহা ও কাচের বিকল্প হিসেবে হালকা, সস্তা ও টেকসই প্লাস্টিক পাইপ, পলিথিন, কৃত্রিম তন্তু (পলিয়েস্টার) ও সিন্থেটিক রবারের চাহিদা ভারতে দিন দিন আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • ৩. অনুসারী শিল্পের বিকাশ : একটি প্রধান পেট্রোরসায়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ছোটো-বড়ো ডাউনস্ট্রিম বা অনুসারী প্লাস্টিক খেলনা, প্যাকেজিং ও ওষুধ কারখানা গড়ে তোলার বিপুল সুযোগ রয়েছে।
  • ৪. উন্নত বন্দর ও পরিবহণ : বেশিরভাগ পেট্রোকেমিক্যাল হাব উপকূলের সমুদ্রবন্দরের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় অশোধিত তেল আমদানি এবং প্রক্রিয়াজাত দ্রব্য রপ্তানিতে অত্যন্ত সুবিধা হয়।
  • ৫. সরকারি উদারনীতি ও বিপুল বিনিয়োগ : কেন্দ্রীয় সরকারের উদারীকরণ নীতি এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আইওসিএল (IOCL) ও হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের মতো বহুজাতিক সংস্থার বিপুল মূলধন বিনিয়োগ এই শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটিয়েছে।
৭ভারতে নগরায়ণের প্রধান সমস্যাগুলি কী কী? এই সমস্যা সমাধানের প্রধান উপায়গুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। মান ৫ • অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর

ভূমিকা : জীবিকা, শিক্ষা ও উন্নত জীবনযাত্রার টানে গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ শহরে চলে আসায় ভারতে অপরিকল্পিত ও দ্রুত নগরায়ন ঘটছে। এর ফলে সৃষ্ট প্রধান পাঁচটি সমস্যা হলো:

  • ১. অপরিকল্পিত বসতি ও বস্তি সমস্যা : জনসংখ্যার চাপে শহরে তীব্র বাসস্থান সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে মুম্বইয়ের ধারাভি বা কলকাতার মতো অস্বাস্থ্যকর, ঘিঞ্জি ও আলো-বাতাসহীন বস্তি (Slum) গড়ে উঠেছে যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেই।
  • ২. যানজট ও দূষণ সমস্যা : জনসংখ্যার অনুপাতে রাস্তাঘাট অপ্রশস্ত থাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। যানবাহনের ধোঁয়া থেকে বিষাক্ত গ্যাস ($CO, SO_2$) বাতাসে মিশে শহরগুলিকে গ্যাস চেম্বারে পরিণত করছে।
  • ৩. জলনিকাশি ও পানীয় জলের সংকট : অপরিকল্পিত নিকাশি ও প্লাস্টিক জমার কারণে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই কলকাতা বা মুম্বইয়ের মতো শহর জলমগ্ন হয়ে কৃত্রিম বন্যা দেখা দেয়। ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে পানীয় জলের তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে।
  • ৪. কঠিন বর্জ্য অপসারণ সংকট : প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টন কঠিন বর্জ্য জমে শহরের বাইরে আবর্জনার স্তূপ গড়ে উঠছে (যেমন— কলকাতার ধাপার মাঠ), যা সংক্রামক রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে।
  • ৫. কর্মসংস্থানের অভাব ও সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি : বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় কাজের অভাব থাকায় শহরে বেকারত্ব ও অপরাধমূলক কাজকর্ম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নগরায়ণের সমস্যা সমাধানের তিনটি প্রধান উপায় :

  • ১. পরিকল্পিত উপগ্রহ শহর (Satellite Town) নির্মাণ : মূল শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে শহরের উপকণ্ঠে স্বনির্ভর উপনগরী গড়ে তোলা (যেমন— কলকাতার পাশে সল্টলেক ও রাজারহাট-নিউটাউন, দিল্লির পাশে নয়ডা ও গুরগাঁও)।
  • ২. গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও পরিব্রাজন রোধ : গ্রামীণ অঞ্চলে কুটির শিল্প, উন্নত শিক্ষা, হাসপাতাল ও পরিকাঠামো তৈরি করা যাতে মানুষ কাজের জন্য শহরে ভিড় না করে।
  • ৩. স্মার্ট সিটি ও উন্নত গণপরিবহণ ব্যবস্থা : দ্রুতগামী মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার এবং আধুনিক ভূগর্ভস্থ নিকাশি ও বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য পুনর্ব্যবহার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।

৭. বিভাগ – চ : ভারতের রেখা-মানচিত্রে চিহ্নিতকরণ নির্দেশিকা (Map Pointing — মান ১০)

১০ নম্বরে ১০ পাওয়ার ১০০% গ্যারান্টি গাইড

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সাথে ভারতের একটি রেখা-মানচিত্র দেওয়া থাকে যেখানে ১০টি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থান উপযুক্ত প্রতীকচিহ্ন ও নামসহ চিহ্নিত করতে হয়। ২০২৭ মাধ্যমিকের জন্য সম্ভাব্য ২৫টি শীর্ষ স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান সূত্র ও পূর্ণাঙ্গ চিহ্নিতকরণ মানচিত্র নিচে দেওয়া হলো:

মাধ্যমিক ২০২৭ ভূগোল ম্যাপ পয়েন্টিং চিহ্নিতকরণ পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা মানচিত্র

মাধ্যমিক ২০২৭ ভূগোল : শীর্ষ ২৫টি স্থান চিহ্নিতকরণ মানচিত্র (India Map Pointing)

ক্রম মানচিত্রে চিহ্নিতকরণের বিষয় মানচিত্রে ঠিক কোথায় চিহ্নিত করবে (অবস্থান সূত্র) উপযুক্ত প্রতীক
১ গডউইন অস্টিন বা K2 শৃঙ্গ ভারতের একদম শীর্ষে লাডাক/কাশ্মীরের উত্তর খাঁজের ঠিক ডানদিকে নির্দেশ করবে। ▲
২ কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ সিকিম রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম সীমানায় নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। ▲
৩ আরাবল্লী পর্বত গুজরাটের উত্তর সীমান্ত থেকে রাজস্থানের মাঝখান দিয়ে দিল্লি পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বে বাঁকা রেখা। ════
৪ বিন্ধ্য বা সাতপুরা পর্বত নর্মদা নদীর ঠিক উত্তরে বিন্ধ্য পর্বত এবং নর্মদা ও তাপ্তি নদীর মাঝে সাতপুরা পর্বত অনুভূমিকভাবে টানবে। ════
৫ নীলগিরি পর্বত (দোদাবেতা) দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ু ও কেরালা সীমান্তে যেখানে পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা মিলিত হয়েছে। ▲
৬ নর্মদা নদী / তাপ্তি নদী মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টক থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিমবাহিনী হয়ে গুজরাটের খাম্বাত উপসাগরে পড়েছে। ~~~~
৭ কৃষ্ণা নদী / কাবেরী নদী পশ্চিমঘাট থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ববাহিনী হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে কৃষ্ণা এবং তামিলনাড়ু উপকূলে কাবেরী নদী বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। ~~~~
৮ মহানদী / লুনি নদী ওড়িশার কটকের কাছে বঙ্গোপসাগরে মহানদী; রাজস্থানের আরাবল্লী থেকে কচ্ছের রণে পড়েছে লুনি নদী। ~~~~
৯ চিল্কা হ্রদ / লোকটাক হ্রদ ওড়িশা উপকূলে মহানদীর মোহনার ঠিক দক্ষিণে চিল্কা; উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুরে লোকটাক হ্রদ। ⬬
১০ করমণ্ডল উপকূল (বছরে ২ বার বৃষ্টি) ভারতের দক্ষিণ-পূর্বে তামিলনাড়ু রাজ্যের সমগ্র উপকূলরেখা নির্দেশ করবে। ━━━
১১ মালাবার উপকূল (কয়াল অঞ্চল) ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমে কেরালা রাজ্যের উপকূলরেখা। ━━━
১২ কৃষ্ণ বা রেগুর মৃত্তিকা অঞ্চল মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের দাক্ষিণাত্য ট্র্যাপ লাভা মালভূমি অঞ্চলটি ছায়াবৃত করে দেখাবে। ░░░
১৩ মরু মৃত্তিকা অঞ্চল / থর মরুভূমি পশ্চিম রাজস্থানের জোধপুর, জয়সলমির ও বিকানির অঞ্চল। ░░░
১৪ সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ অরণ্য পশ্চিমবঙ্গের একদম দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন গঙ্গা বদ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চল। 🌲🌲
১৫ ভারতের প্রধান চা উৎপাদক অঞ্চল উত্তর-পূর্ব ভারতের অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা অথবা পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা। 🌿🌿
১৬ প্রধান কার্পাস উৎপাদক অঞ্চল গুজরাটের সৌরাষ্ট্র বা মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চল। 🧶
১৭ মুম্বই (অর্থনৈতিক রাজধানী ও বন্দর) মহারাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের মাঝবরাবর খাঁজের ঠিক মুখে একটি বিন্দু দেবে। ●
১৮ জামনগর (পেট্রোরসায়ন শিল্প) গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরের ঠিক দক্ষিণ উপকূলে সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে। ●
১৯ বেঙ্গালুরু (ভারতের সিলিকন ভ্যালি) কর্ণাটকের দক্ষিণভাগে তামিলনাড়ু সীমান্তের কাছাকাছি অভ্যন্তরীণ মালভূমিতে। ●
২০ দুর্গাপুর (ভারতের রূঢ় অঞ্চল) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় দামোদর নদীর তীরে। ●
২১ কলকাতা (পূর্ব ভারতের মহানগর) পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে হুগলি নদীর পূর্ব তীরে বদ্বীপের প্রবেশদ্বারে। ●
২২ বিশাখাপত্তনম (গভীরতম বন্দর) অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের উত্তরভাগে অবস্থিত প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়। ⚓
২৩ চেন্নাই (ভারতের ডেট্রয়েট) তামিলনাড়ুর উত্তর-পূর্ব উপকূলে করমণ্ডল উপকূল বরাবর। ●
২৪ শিলং (বৃষ্টিচ্ছায় মালভূমি অঞ্চল) মেঘালয় মালভূমির খাসি পাহাড়ের উত্তর ঢালে (মৌসিনরামের ঠিক বিপরীতে)। ■
২৫ লাডাক মালভূমি (শীতলতম মরুভূমি) ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাডাকের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে কারাকোরাম ও হিমালয়ের মাঝে। ░░░
ম্যাপ পয়েন্টিং-এ ১০-এ ১০ পাওয়ার ৩টি গোপন নিয়ম :
  • ১. উপযুক্ত প্রতীকচিহ্ন ব্যবহার : পর্বতের জন্য ত্রিভুজ (▲), পর্বতশ্রেণির জন্য ড্যাশ বা দাঁতের মতো দাগ (═), নদীর জন্য নীল আঁকাবাঁকা রেখা এবং তীরের মুখে তিরচিহ্ন, শহরের জন্য গোল ফুটকি (●), এবং অঞ্চলভিত্তিক (মৃত্তিকা, বনভূমি, শস্য) চিহ্নিতকরণের জন্য শেড বা ক্রস দাগ ব্যবহার করবে।
  • ২. দাগ নম্বর ও নাম অবশ্যই লিখবে : শুধু চিহ্ন দিলে পরীক্ষক নম্বর দেবেন না। চিহ্নের ঠিক পাশে বা তীরের দাগ দিয়ে প্রশ্নপত্রের দাগ নম্বর (যেমন: ৬.১, ৬.২...) এবং স্থানটির নাম স্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।
  • ৩. পেন্সিল বা কালো বল পেন : ম্যাপ পয়েন্টিং স্পষ্ট করার জন্য 2B বা HB পেন্সিল অথবা স্পষ্ট কালো ডট পেন ব্যবহার করবে। কোনো অপ্রয়োজনীয় দাগ টানবে না।
মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষায় ৯০+ নম্বর পাওয়ার সেরা গোপন কৌশল
  • ১. প্রতিটি ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নে রেখাচিত্র (Diagram) আবশ্যক : ভূগোল এমন একটি বিজ্ঞানসম্মত বিষয় যেখানে নিখুঁত উত্তরের সাথে পেনসিল দিয়ে আঁকা ছোটো রেখাচিত্র (Diagram) থাকলে পরীক্ষক পুরো ৫-এ ৫ বা ৩-এ ৩ নম্বর দেন। যেমন— শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত, ঝুলন্ত উপত্যকা, বার্খান, বায়ুচাপ বলয় বা জোয়ার-ভাটার উত্তর লেখার সময় ডানপাশে বা নিচে অবশ্যই রেখাচিত্র আঁকবে।
  • ২. পয়েন্ট ও সাব-হেডিং ভিত্তিক উপস্থাপনা : ৪-৫টি ঢালাও প্যারাগ্রাফের বদলে সুস্পষ্ট বুলেট পয়েন্ট ও রঙিন বা কালো কালির সাব-হেডিং ব্যবহার করবে। ভূমিকা, মূল বক্তব্য ও উপসংহার আলাদাভাবে স্পষ্ট রাখবে।
  • ৩. পার্থক্যভিত্তিক প্রশ্নে বিষয় ও ৩টি সুস্পষ্ট দিক : যে-কোনো পার্থক্যের প্রশ্নে (যেমন— গিরিখাত ও ক্যানিয়ন, ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল) বামপাশে ‘তুলনার বিষয়’ কলাম রেখে কমপক্ষে ৩টি সুস্পষ্ট ও বিপরীতধর্মী পয়েন্ট লিখবে।
  • ৪. ম্যাপ পয়েন্টিং আগে সম্পন্ন করো : পরীক্ষার প্রথম ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় ম্যাপ পয়েন্টের ১০টি স্থান চিহ্নিত করে প্রধান উত্তরপত্রের সাথে ভালো করে সুতো দিয়ে বেঁধে নাও। শেষে তাড়াহুড়োয় ভুল স্থান চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
  • ৫. সময়ের সঠিক বণ্টন (Time Management) : পরীক্ষার প্রথম ১৫ মিনিটে প্রশ্ন নির্বাচন করো। বিভাগ ক (MCQ) ও বিভাগ খ (VSAQ) ৩৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করবে। মান ২ ও মান ৩-এর জন্য ১ ঘণ্টা এবং মান ৫-এর জন্য ৪৫ মিনিট বরাদ্দ রেখে শেষের ১৫ মিনিট সম্পূর্ণ খাতা রিভিশন করবে।